ইউজার লগইন

নাজমুল হুদা'এর ব্লগ

শুধুই ছবি- ভাল বা মন্দ

কোনদিন ভাল একটা ছবি তুলতে পেরেছি বলে মনে পড়েনা । তবু ক্যামেরা চালাই- কোন কিছু না ভেবেই । আবার ছবি আপলোড-ডাউনলোড বা সাইজ-রিসাইজ মাথায় ঢোকেনা । যদিবা কোন গুতোগাতা খেয়ে ঢুকে পড়ে, তা বের হয়ে যেতে সময় লাগেনা মোটেও ।

এবারের পিকনিকের ছবি সবার দেখা হয়ে গেছে ইতিমধ্যে । তবু আমারও ইচ্ছা হলো ডানা মেলবার ।
এই সেই বাস, যা এবার সবাই পছন্দ করেছে -

1

রাজধানী স্কুলের সামনে দীর্ঘ প্রতীক্ষা-
1

স্বাস্থ্য রক্ষায় হাসির কোন বিকল্প নাই

আমরা বন্ধু পিকনিক ২০১০

যে সকল বন্ধুরা ২৪ তারিখের পিকনিকে গিয়েছিলেন তাদের অনেকেই ইতিমধ্যে ব্লগে ছবিসহ পোস্ট দিয়েছেন, বা ছবি দেখেছেন । দেখেছেন আর স্মৃতিকাতর হয়েছেন । আবার কবে পিকনিকে যাবেন আর এমন মজা করবেন তা নিয়ে বিস্তর গবেষণাও করেছেন অনেকে । অনেকে পিকনিকে যান নাই, কেউ বা চাঁদা দিয়েও যেতে পারেন নাই, আবার দেশে না-থাকার কারণে অনেকেই অংশ নিতে পারেন নাই । এমন অনেকে হয়তো আছেন যাদের সময় ছিল, সুযোগ ছিল কিন্তু ছুটির দিনে দিবানিদ্রার মায়া ত্যাগ করতে ইচ্ছা না-করায় যাওয়া হয়ে ওঠেনি ।
পিকনিক নিয়ে বেশ কয়েকটি পোস্ট প্রকাশিত হয়েছে ইতিমধ্যে । আশা করা যাচ্ছে যে, আরো রসালো ও জ্ঞানগর্ভ পোস্ট অল্পদিনের মধ্যে পড়বার সুযোগ হবে । এসকল পোস্ট সব সময়ই উপাদেয় হয়ে থাকে, কখনো পুষ্টিকরও । দেহের পুষ্টি বা মনের পুষ্টি তা অবশ্য পুষ্টিবিদগণ গবেষণা করে নতুন নতুন তথ্য দিতে পারবেন ।

বিড়ম্বনার শেষ কোথায়

নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে শীত পড়ে বেশ । এই শীতের মধ্যে পরীক্ষা দিতে যায় ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা । আমরা মনে করি তাদের না-জানি কত কষ্ট হয় ! আসলে কিন্তু তারা থাকে আনন্দে – পরীক্ষা শেষ হলেই ছুটি, ছুটিতে কোথাও বেড়াতে যাওয়া আর সবচেয়ে আনন্দ যেটা সেটা হচ্ছে নতুন ক্লাশ-নতুন বইয়ের ঘ্রাণ পাবার আহ্বান । আর যারা আরও ছোট, তারা তো থাকে মহা মহাআনন্দে । তাদের স্বপ্ন স্কুলে ভর্তি হওয়া – বাবা-মা বলেছে আর ক’টাদিন পরেই তাকে স্কুলে ভর্তি করে দেবে ।

ঘড়ি

বাড়ির পাশেই স্কুল । রাস্তার সমান্তরালে পূর্ব-পশ্চিম লম্বা একটা সেমিপাকা ভবন ।ইটের দেয়ালের উপর টিনের চাল । প্রাইমারী স্কুল আর হাই স্কুল দুই-ই এই একই ভবনে । একেবারে পূর্ব দিকের পাঁচটি কক্ষ প্রাইমারী স্কুলের জন্য নির্ধারিত । সেখানে ক্লাশ ওয়ান থেকে ক্লাশ ফাইভ পর্যন্ত পড়ানো হতো । আর বাকী অংশে সিক্স থেকে নাইন পর্যন্ত । পশ্চিম দিকে উত্তর-দক্ষিণ লম্বা অন্য একটি পাকা দালান (যেটিতে ছাদ ছিল, টিনের চাল দেওয়া বেশ চওড়া বারান্দাও ছিল) । সে দালানে হেডমাস্টার, অন্যান্য শিক্ষক এবং ক্লাশ টেনের জন্য ছিল একটা করে কক্ষ । এই বিল্ডিংয়ের আরও কয়েকটি কক্ষ লাইব্রেরী ও হেডমাস্টারসহ কয়েকজন শিক্ষকের আবাসিক কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হতো । এই স্কুলে একটানা দশ বছর পড়ার পর স্কুল জীবন সমাপ্ত হয়েছিল ।

মুক্তিযুদ্ধের আগে

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আর মহান বিজয় দিবসকে সামনে রেখে আজ কেন যেন বারবার মনে পড়ছে আনোয়ারা ফেরদৌসীর কথা । আমাদের সহপাঠী ছিল আনোয়ারা ফেরদৌসী । দশটি মেয়ের মধ্যে সে ছিল ব্যাতিক্রম । আমাদের ক্লাশে একমাত্র সে-ই বোরকা পরে আসতো । তখন তো ইউনিভার্সিটিতে বোরকার প্রচলন প্রায় ছিলই না । আমরা ঠাট্টাচ্ছলে বলতাম আনোয়ারা ফেরদৌসী অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবার জন্য বোরকা পরে ক্লাশে আসে, অবশ্যই আড়ালে । মেয়েদের সাথে সেসময় আমরা বেশ খানিকটা দূরত্ব বজায় রেখে চলতাম । ‘তুই-তুমি’ বলার মত ঘনিষ্ঠতা হতোই না প্রায় । আমরা একে অপরকে প্রয়োজনে নাম ধরেই ডাকতাম, কিন্তু কথা চলতো ‘আপনি’ বলে । হ্যাঁ, আনোয়ারা য়েরদৌসীকে একদিন দেখেছিলাম বোরকাবিহীন । ক্লাশের সবাই গিয়েছিলাম পিকনিকে মধুপুর । তখন পিকনিক বলতাম না আমরা, বলতাম ‘স্টাডিট্যুর’। তো, সেই স্টাডিট্যুরে যেয়ে সবাইকেই দেখতে পাচ্ছিলাম, কিন্তু বোরকা পরিহিতা কাউকে না দেখে এক সহপাঠিনীকে জিজ্

সালিশ

আমার বাল্যকাল কেটেছে ছবির মত সুন্দর একটা গ্রামে । মাথাভাঙ্গা নদীতীরের সে গ্রামটির দৈর্ঘ্য নদীর তীর ঘেসে উত্তর-দক্ষিণে প্রায় মাইল দুয়েক । প্রস্থ কত আর হবে ! হয়তোবা আধা মাইলেরও কম । গ্রামটির একপ্রান্তে সমৃদ্ধ বাজার, গ্রামের বাজারের মত নয় মোটেই, তার আবহ ছিল অনেকটাই শহুরে । সেই পঞ্চাশ-ষাট বছর আগেও সেখানে চায়ের দোকান ছিল, ছিল চা পান করবার মত আয়েশী লোকজনও, যাদের কেউই কম বয়েসী নয় । সে সময় ছোটদের চা পানে মনে হয় কিছুটা অলিখিত নিষেধাজ্ঞা বলবৎ ছিল ।

ভালো মানুষ

১৯৭০ সাল । ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাস । অনেকদিন পরে দেশে সাধারণ নির্বাচন নিয়ে জোরেসোরে আলোচনা চলছে । কে কোন দলকে বা কেমন প্রার্থীকে ভোট দেবে সর্বত্রই সে আলাপ জোরদার হচ্ছে ক্রমশ । নির্বাচন নিয়ে জল্পনা-কল্পনার ধরাবাঁধা নিয়ম নেই । সাধারণ নির্বাচনের ওয়াদা ইয়াহিয়া খানের ধাপ্পাবাজী কিনা তা নিয়েও নানান কথাবার্তা হচ্ছে । লেখাপড়ার পাট চুকিয়ে গ্রামের বাড়ীতে বেকার জীবন কাটাচ্ছি । লেখাপড়ার চাপ নেই, চিন্তাও নেই । বাড়ীতে খাই, আর সারাদিন বাইরে বাইরে টোটো কোম্পানির ম্যানেজারী করে বেড়াই ।

অনুভূতির প্রকাশ

এই তো মাত্র ক’দিন আগে ‘আমার বন্ধু’র সাথে পরিচয়, অচেনা এক বন্ধুর হাত ধরে এ আঙিনায় আমার প্রথম পদার্পণ । আমার আসবার পথে পুষ্প বর্ষণ আমাকে আপ্লুত করে । চোখে না দেখা বন্ধুদের সাথে দৃষ্টির আড়ালেই অন্তরঙ্গতা বাড়তে থাকে । বন্ধুদের সাদর সম্ভাষণ ও সহাস্য হস্ত প্রসারণ, আন্তরিকতাপূর্ণ মতবিনিময় আর আগ্রহে অনুপ্রাণিত হয়ে অনভ্যস্ত হাতে কয়েকটি পোস্ট দেই । উৎসাহিত করেন বন্ধুরা, ভাল না লাগলেও ‘ভাল হয়েছে’ মন্তব্য করে আমাকে উদ্দীপিত করার সেকি আন্তরিক প্রয়াস তাদের!

হঠাৎ পড়লো মনে

পুষির কথা মনে পড়লো হঠাৎ। না, না, আমার পুষি বিড়ালের কথা না । যদিও আমার ধবধবে সাদা পুষি বিড়ালটা ছিল বিড়ালকূলের গর্ব এক অনন্য ব্যতিক্রম । তাকে মনে পড়ে প্রায়ই । এত বাধ্য একটা বিড়াল নিয়ে যে কেউ গর্ব করতেই পারে, কারণ সে কথনও চুরি করে খেতনা । বরং অন্য বিড়াল, এমনকি কুকুরকেও সে আটকে দিত আমার কোন খাবার চুরি করা হতে । উঠোনে বসে খাবার খেলেও সে কাক বা হাঁস-মুরগীদের কাছে ভিড়তে দিত না । তার নির্দিষ্ট পাত্র ছাড়া অন্য কোন পাত্রের খাবারের দিকে সে ফিরেও তাকাতোনা । তবু আজ তার কথা নয় । সেই ছোট্টবেলায় তার অকাল প্রস্থানে ধূলায় গড়াগড়ি দিয়ে কত যে কান্নাকাটি করেছিলাম, সে কথাও আজ নয় । আজ অন্য এক পুষির কথা হঠাৎ করে মনে পড়লো । এই পুষিটা হচ্ছে একটা মেয়ে, আমাদেরই প্রতিবেশী ।

সঙ্গীতের বাস্তব প্রয়োগ

শচীনদেব বর্মনের গান কেমন লাগে আপনার? তার “ডাকাতিয়া বাঁশী” শুনেছেন? গানটা আমি শুনেছি অনেকবার, কখনো অনেক ভাল লেগেছে, আবার কখনওবা তেমন একটা আবেদন সৃষ্টি করতে পারেনি । মনের খেয়াল, কখন কোনটা ভাল লাগবে তা মনই ভাল বলতে পারে । তা’ছাড়া, যে জিনিষটাকে আমরা যেখানে যেমনভাবে দেখতে অভ্যস্ত, অথবা ইচ্ছুক তেমনভাবে দেখা পেলে ভাল লাগাটা উপচে ওঠে । তবে অন্য রকম কি আর হয় না ! তাও হয় । আশা করি আপনারাও শুনেছেন এ বিখ্যাত গানটি । তবে, দেখেছেন কখনও এ গানের অপরূপ বাস্তব প্রয়োগ? না, আমিও দেখিনি, তবে বাস্তব প্রয়োগের চমকপ্রদ এক কাহিনী শুনেছি । যদিও সময় ও সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দেখবার সৌভাগ্য (?) হয়নি ।

বিস্মৃত স্মৃতি

সেই কবেকার কথা । কিন্তু কিছুতেই তা ভুলতে পারা যায়না । আর কিই বা এমন বিষয়! ব্যাপারটাতো মাত্র চারআনার (পচিঁশ পয়সা) । কত টাকা, কত শতটাকা, এমনকি কত হাজারটাকা চলে গেছে কত ভাবে! সেসব নিয়ে কখনও-সখনও একটু দুঃখবোধ জাগলেও ঐ চারআনার কথা কোনমতেই ভুলতে পারেননা জামিল আহমেদ ।

পদ্মার ঢেউরে .....

এখন আমি পদ্মার বুকে । কিন্তু কোথায় সে ঢেউ ! কোথায় সে ঘূর্ণাবর্ত আর কাদা গোলা ঘোলা পানি ! টলটলে সবুজাভ শান্ত নীর, স্পীড বোটে বন্ধুদের নিরাপদ নৌবিহার । আরও ঘন্টা খানিক পরে মাওয়া ঘাটে ফেরী ভিড়বে বলে সময় মাপছিলাম । কি যেন কি হল, টেনে বের করলাম এই ম্যাজিক বক্স । আমার কাছে এখনও পর্যন্ত এটা তাই-ই ।

ফেরী তো নয়, নয়রে ভাই, এ যে দেখছি গাদা বোট ! যে কোন দূরপাল্লার যাত্রায় অতি প্রয়োজনীয় টয়লেট এতে আছে কিনা তা নিয়ে দ্বিধায় ছিলাম - খোঁজ করে পাওয়া গেল । ইউরিয়ার গন্ধসমৃদ্ধ অতিক্ষুদ্র পানিবিহীন অত্যান্ধকার একটি পিচ্ছিল প্রকোষ্ঠ । প্রয়োজনে সেটিই মনে হল সকলকে স্বর্গসুখ দিচ্ছে । বাস, কার, পিকআপ, মোটর সাইকেল, রিক্সা, রিক্সাভ্যান, বিভিন্ন জাতের ফেরিওয়ালা, ডাব-আপেল বিক্রেতা আর জনতার ভিড়ে এ এক অন্য জগৎ ।

অনাদি আদি

আনন্দ অন্তহীন অসীম, বিস্তৃত আদিগন্ত
উথাল-পাথাল দুঃখ অনন্ত সীমাহীন,
পারেনা কেউ আটকাতে কোন কিছু দিয়ে -
কমাতে পারে যে সময়, তা বহে নিরন্তর ।

অন্তর অনন্তর দুমড়ে মুচড়ে হয় ঝুরঝুরে,
ভাঙেনা তবু্ও, যদি তা ভেঙেও হয় চুরমার ।
বারবার আসে ধেয়ে বর্বর বর্বরতা ,
ধেয়ে আসে, আর যায় ফিরে বারবার,
নিয়ে আসে দিয়ে যায় রেখে যায় অজস্র সংঘাত ।

সদানন্দ হাসিমুখ আর বেদনা বিধুর হৃদয়
আবেগ আর বেগ দিয়ে একত্রিত একাকার,
শান্ত-অশান্ত মিশেল - দূরন্ত-দুর্মর
গোঁজামিল নহে তাহা মিল-অমিলের;
তবে যে তা কি, বুঝাবে তা’ কে, কিবা দিয়ে ।

এক বোকা নানার বোকামী - ৩

(পাঁচ)
প্রতীক্ষার প্রহর আর শেষ হয়না । দুঃখের সুদীর্ঘ নিশি শেষ হয়ে প্রভাতের আলোর অপেক্ষায় সময় অতিবাহিত হতে থাকে । এরই মধ্যে নানা খোঁজ পায় Walk for Life নামের একটি বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের । এ প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তার কাছে নানা পাঠায় তার অশ্রুভেজা বার্তা আরীবের ছবিসহ ।
“সুহৃদয়েষু সাকিনা সুলতানা, একটি মহৎ দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন সে জন্য আপনাকে এবং আপনার প্রতিষ্ঠানকে আন্তরিক অভিনন্দন । অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী ডাঃ কোবাইদুর রহমানের কাছে আপনাদের মহতী কর্মযজ্ঞের বিষয় জানতে পেরে আপনাকে বিরক্ত করা অযৌক্তিক হবে না বলে মনে হলো । শিশুর কান্না স্বর্গীয় ও সুষমামন্ডিত, কিন্তু বৃদ্ধের কান্না বড্ড অশোভন ও অসুন্দর । তাই আপনার মোবাইল নম্বর জানা সত্ত্বেও কথা বলতে ভরসা পাচ্ছিনা । কানেও তো ভাল শুনতে পাইনা, তাই সামনাসামনি কথা বলতেও দ্বিধা আমার ।
এবার কাজের কথা । একটি শিশু, তার নাম আরীব (AREEB) । আজ তার বয়স ১ বছর ৮ মাস ১৮ দিন । জন্ম অবধি সে পৃথিবীর আলো দেখেনি । বাতাস তাকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন দিতে ব্যর্থ হয়েছে । এখন তার ওজন ১০ কেজি । ছেলেটির হাত ও পা যথাযথ কাজ করেনা । খাবার চলে যায় শ্বাসনালীতে । এ বয়সে ৪ বার নিউমোনিয়ায় ভুগেছে । মাথাটি ছোট । অর্থহীন শব্দ ছাড়া কোন কথা মুখে আসে না । আরীবের মেরুদন্ড ও ঘাড় শক্ত হয়নি, সে বসতে পারেনা, হাঁটার তো প্রশ্নই ওঠেনা । শ্রবণযন্ত্র ব্যতীত তার কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্বাভাবিক নয় । এমন একটা শিশুকে এ পৃথিবীর সম্পদে পরিণত করা কি সম্ভব ? Walk for Life কি তার জন্য কিছু করতে পারে ?
তাকে নিয়ে আমার একমাত্র মেয়ের জীবনটা ব্যর্থ হতে চলেছে । সাংসারিক, সামাজিক, আর্থিক, মানসিক সব কিছুতে আরীবের অস্তিত্বের ছাপ পড়ে সব কিছু ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে । আমি শুরু থেকে আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছি । ফল হয়নি কিছুই । আমি ব্যর্থ ; আমার অক্ষমতা সীমাহীন । আপনি কি আপনার মূল্যবান সময়ের কিছুটা আমাকে দিবেন ? উত্তরের প্রত্যাশায় রইলাম।”
নানার এ প্রত্যাশাও পূরণ হয়না, কোন উত্তর আসেনা ।

এক বোকা নানার বোকামী -২

(দুই)
নানা তার ফেসবুকে ‘I am Areeb’ শিরোনামে একটি এ্যালবাম তৈরী করল । সেখানে আরীবের হয়ে নানা লিখল –“আমার নাম আরীব । এ নামটি রেখেছে আমার লিজি নানি । বাবা আমার নাম রেখেছে অদ্বয় । ১৯ জুলাই আমার বয়স দেড় বছর পূর্ণ হবে । মানুষের মত সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আমার আছে । আমি এখনও বসতে পারি না । হাটতে পারি না । আমার হাত দুটো দিয়ে আমি কিছু ধরতে পারি না । প্রয়োজনীয় অক্সিজেন বাতাস থেকে নিতে পারি না বলে সব সময় আমার শ্বাস কষ্ট । আমার মেরুদন্ড শক্ত হয়নি, তাই ঘাড় ও পিঠ সোজা রাখতে পারি না । খাবার প্রায়ই শ্বাসনালীতে চলে যায় বলে খেতে আমার কষ্ট হয় । পানিও খেতে পারিনা ঠিক মত । আমার ডান পায়ের পাতা কেমন যেন, আমি হয়তো হাটা শিখতে পারব না । আমি সব শব্দ শুনতে পাই, সকলের কথাও শুনি, কিন্তু আমি তো কথা বলতে পারিনা । আর জানো, আমি এত বড় হয়ে গেলাম, আলো কি তা বুঝতে পারলাম না । আমার দুটো সুন্দর চোখ আছে, তা আমার কোন কাজে লাগেনা । আমি কিছুই দেখতে পাইনা । তোমরাও কি সবাই আমার মত ? আমি যেমন তোমাদের দেখতে পাইনা, তেমনই তোমরাও কি আমাকে দেখতে পাওনা ? তা'হলে আমাকে তোমাদের মত করে দাও না কেন ? মানুষের অসাধ্য নাকি কিছুই নাই ! আমি তো কোন অন্যায় করিনি, তা'হলে আমাকে কেন এত কষ্ট পেতে হচ্ছে । বিধাতারও কি সাধ্য নাই আমাকে তোমাদের মত করে দেবার ? আমি তোমাদের দেখতে চাই. তোমাদের মত হতে চাই, আমি একটা সাধারণ ও স্বাভাবিক ছেলে হতে চাই । তোমরা কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছো ?”

ফেসবুকে আরীবের আকুলতা ও আকাঙ্খা পড়ে অষ্ট্রেলিয়া থেকে নানার এক ভাগ্নীজামাই (ডাক্তার) ফোন করল ।আরীবের চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র মেইল করে পাঠালে কিছু করা যাবে বলে আশা দিল । খুলনার তৃষ্ঞা ও কৃষ্ঞা, যাদের কেউ কোথাও নাই, তাদের আধুনিক চিকিৎসা জুটল, অথচ আরীবকে এ পৃথিবীর অবহেলা সইতে হচ্ছে । তারা অস্ট্রেলিয়াতে উপভোগ করছে তাদের শৈশব, সেখানেই তারা মানুষ হবে । আরীবের জন্য এমন ব্যাবস্থাও করা যেতে পারে বলে সে জানালো । বোকা নানা আশায় বুক বাঁধে । সব ডকুমেন্টস পাঠায় তার ভাগ্নীজামাইয়ের কাছে । আর পাঠায় একটা মেইল --
“স্নেহভাজন স্বপন,