পাগলের দিনলিপি (আঠারো)
আজ রাতে নিজেকে নদীর মতো লাগে
জলে জলে জ্বলছি চলছি একই দিকে
দূরে কোথাও সমুদ্র আছে ভিন গাঁয়ে।
আঙুল ডুবিয়ে স্রোত আঁকি নিজ গায়ে
ঢেউয়ে ঢেউয়ে বয়ে যায় আমাদের
ইতিউতি বহু বয়সী বৃক্ষের মতো ইতিহাস।
আমার শরীরে সব একই জল
ঘুরেফিরে আবদ্ধ জলেরাই খেলে
স্রোতধারা কিম্বা মৌনতায় আমৃত্যু চলেছে।
একই জলে আমার অবগাহন চলেছে আমৃত্যু...
সমুদ্রবিলাসে বাউন্ডুলে.. [কাব্য লগ!]
#
রাতের ট্রেন..
জানলার অন্ধকারে;
তারা হয়ে পথ দেখায়,
প্রিয় কোন স্বপ্ন..।
আড্ডামুখর পথচলার কথকতায়;
ভুল সুরে গাওয়া প্রিয় গানে,
মৃদু হাসিতে ছুঁয়ে যায় বিষাদ..
অস্বাদিত কোন উচ্ছ্বাসে,
বুকে বেঁজে উঠে অবাক আক্ষেপ..
আর গাওয়া হবে না-
‘আমি শুনেছি সেদিন তুমি…’।
#
অপেক্ষার রাত শেষ হয়ে আসে..
চোখ খুলতেই,
নতুন দিনের আলো..
কল্পনার অনুভূতিতে;
মিছিমিছি-
দোলা দিয়ে যায়,
লোনা জল হাওয়া..।
গুনগুন গুঞ্জনে গুঞ্জরিত গান,
সাগর ডাকে..আয়..আয়..আয়..।
#
বিষণ্ণ দুপুর,
কিছু রোদ্দুর..
অলস হাওয়ায়;
ভেসে আসে ঘ্রাণ,
বহুদূরের সমুদ্দুর..
কালান্তক সময় আজ,
নির্বিষের বিষে নীল..
জলে তার ছায়া..
সমুদ্দুর ডুবে যায়,
আকাশনীলায়...।
#
চিরচেনা বিকেল হাওয়ার গান,
বদলে গেছে আজ..
তপ্ত ধুলির বাঁধ পেরুতেই;
অপার্থিব জলরাশি,
স্বপ্নছোঁয়া আবেশের সমুদ্দুর..
শুধুই চেয়ে থাকা,
পেরেশানীময় জীবন-যাপন
বহুত পেরেশানীর মধ্যে আছি। এতটাই পেরেশানী যে, এবার ঘুড়ি উৎসবেও যেতে পারছিনা। এটি আমাদের ছবির হাটের ৮ম ঘুড়ি উৎসব। প্রতিটি উৎসবের সাথে আমার সম্পৃক্ততা থাকে। সেটা এক্কেবারে এ.এম/ পি.এম। আরে মশাই, এ.এম/ পি.এম বুঝলেন না ? এ.এম মানে হচ্ছে- আপাদমস্তক। আর পি.এম মানে- পা থেকে মাথা। মানে ঘুড়ি উৎসবের সব পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের সাথে আমি থাকি। এবারও ছিলাম। শেষের দিকে এসে পারিবারিক ঝামেলায় এতটাই আস্টে-পৃষ্ঠে জড়িয়ে গেলাম যে, যেতেই পারছিনা আর।
এক সকালে..
-মুকু, এই মুকু..শুনে যা তো একটু..
বাসা থেকে বের হতে গিয়ে-ও দাড়িয়ে গেল মুকু, ভাইয়া ডাকছে ভেতরের ঘর থেকে।
ওর ভার্সিটি পড়ুয়া একমাত্র ভাই স্নিগ্ধ'র ঘরে ঢুকতে ঢুকতে ভ্রু কুঁচকে গেল মুকুর। ঘর অগোছালো রাখা মুকুর একদম সহ্য হয়না।
সকাল দশটা বাজে, এখনও বিছানাই ছাড়া হয়নি!
- কীরে, এক কাপ চা করে দে না..
- কলেজ যাচ্ছি তো ভাইয়া, এখন তো একদম সময় নেই।
তাড়াহুড়া করে বের হয়ে এলো মুকু।
ফার্স্ট পিরিয়ডে আজ ওর প্রিয় রাবেয়া মিস্ এর বাংলা ক্লাস।
এত্ত সুন্দর করে কবিতা গুলা পড়েন মিস্, প্রেমে পড়ে যেতে ইচ্ছে করে!
বাসার গেইট টা খুলতেই - একটা লেজ ফোলা লাল সাদা বেড়াল হেটে যাচ্ছে, সাথে দু'টা পুচকি ছানা।
ইস্, কি সুন্দর দেখতে! সকাল সকাল এত্ত সুন্দর কিছু দেখলে কার না মন ভাল হয়ে যায়?!
কি ভেবে আবার বাসায় ঢুকল মুকু।
ধীরে সুস্থে এক কাপ চা বানিয়ে ঢুকল ভাইয়া'র ঘরে।
এক্টি অতীন্দ্রীয় প্রতুত্তরাধুনিক কাইব্য
বাসের থিকা পইড়া যাওয়া ডিমটা
ট্যাঁ ট্যাঁ কৈরা কাইন্দা দিলেই
হেল্পারের মুবাইলে ওয়াজের সুরে নাইচা ওঠে সিরিয়াস স্বাস্থ্যবান পুলিশের ভুড়ি।
গল্প: একটা সাধারণ ছেলের গল্প
১.
মধ্যরাত আজকাল এত দ্রুত পার হয়ে যায় যে, পুরো রাতটাকেই কিঞ্চিৎ একটা সময়ের গণ্ডির মতো লাগে আমার কাছে। মানুষ বাস করে একটা দ্বিধার ভেতর। ভালো-খারাপের দ্বন্দ। এর কোনোটাই গ্রহণের ক্ষমতা তার নেই। খারাপ ও ভালো কোনোটাই ধারণ করতে পারে না সে। তাই যখন মানুষের ভালো সময় যায়, তখন সে শঙ্কিত থাকে। আবার যখন খারাপ সময় চলে, তখন তার মনের একটা অংশ সান্তনাস্বরূপ এই ভেবে খুশি হয় যে, মেঘ দেখে কেউ করিস নে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে। মানুষ শুধু সবসময় চায় একটা ভিন্ন কোনোকিছু। কিন্তু সেই ভিন্ন কোনোকিছুটা কি, সেটা সে জানে না।
একটি প্রেমের কবিতা কষছি
একটি প্রেমের কবিতা কষছি মনে মনে
এমন হবে
যে ভালোবাসা - অন্ধ অথবা আলোকিত নয়
যে আবেগ - প্রকট কিংবা প্রচ্ছন্ন নয়
যে স্বপ্ন - ঘুমিয়ে নয় , জেগে জেগে ও নয়
যে বাস্তবতা - স্বপ্নহীন নয় , কুসুমাস্তীর্ণও নয় ।
আমি সেই প্রেমের কবিতা লিখতে যাচ্ছি
যে প্রেমে - দুই এক এ দুই নয় , এক হয় ।
যে প্রেমের সমীকরন তুমি ছাড়া সিদ্ধ নয়
যে প্রেমের স্বতস্ফূরণ তুমিহীনা সম্ভব নয়
যে প্রেমের অনুসঙ্গে তুমিই পুরো শব্দভান্ডার
সে প্রেমের কবিতা লেখা
আজ আর হলোনা আমার ।
আমি ঘরের হইনি বাহির আমায় টানে!
এমনিতেই কচ্ছপ গতির ইন্টারনেটে দিন চলে না তার ভিতরে জিপির মডেমও কানেক্ট হয় না। কি দিনকালে আছি আজ নিতান্তই কপালগুনে জিপি মডেম কানেক্ট হলো। তাই ভাবলাম পোষ্টটা লিখে ফেলি। কিন্তু জিপির নেট তাই ২০ মিনিটে পেজ লোড হলো। কি যে ধৈর্য নিয়ে থাকি তা পাবলিকরে কেমনে বুঝাই!
কেন এসেছিলে
বসন্ত তুমি কেন এসেছিলে
কোকিলের কুহু ডাকে ,
মুকুলের ঘ্রাণে , শিমুলের ডালে ,
কাদাজল নদী বাঁকে ।
দাঁড়কাক এক উঠোনের কোনে
সারাদিন কাচ্ছিল আনমনে ।
কোথা থেকে উড়ে এসে হেসে ওঠে
কোকিল ধুরন্ধর ।
ভুলে যায় কাক মানায়না তার
কোকিলের মধুস্বর ।
কুশিয়ারা ও একজন লেখকের গল্প
ফেব্রুয়ারি মাস শেষ হতে চলল। বইমেলায় যেতে পারিনি। চট্টগ্রাম থেকে দু’এক দিনের জন্য ঢাকা যাওয়া খুব যে কঠিন তা নয়। তার ওপর আমার একটা উপন্যাস এসেছে মেলায়। কিন্তু আমি একা তো আর যেতে পারি না। মেয়ের বায়না- সেও যাবে। মেলা থেকে বই কিনবে। আমার স্ত্রী একটা স্কুলে চাকরি করেন। তাঁর আর আমার ছুটির সময়টা মেলেনি বলে যাওয়া হয়নি।
কিন্তু মেয়েকে কী করে সামলাই? তার বই চাই। নিয়ে গেলাম আন্দরকিল্লা। লাভ কিছু হয়নি। মেয়ে বইমেলা থেকেই বই কিনবে।
পাগলের দিনলিপি (ষোল)
দিকভ্রান্ত হয়ে যে পথিক চলেছে কোথাও
তার সাথে কথা হলে মনে হয়
বাস্তবতঃ দিকে কোনো ভ্রান্তি নাই
দিনে দিনে কেবল নতুন সত্য তৈরী হতে থাকে।
কেবল বিশ্বাসী বকেরা অভ্যাসে উড়ে যায়
অবিশ্বাসে তাদের বিপত্তি আসবে বলে ভেবে নিয়ে।
পথ ভালোবেসে পথের সৌরভে
পৌছবার তাড়া অথবা আলসেমি ভুলে যেতে হয়
পথ কখনো প্রতারণার গোলকধাঁধাঁ আঁকে নাই
তার শরীরে রয়েছে সহজ স্বচ্ছতা...
আমি সেই ট্রাক চালকের বন্ধুত্ব বরণ করি
যে বোঝে না উদ্বেগের দেহরেখা,
যার কখনো ফেরার তাড়া নাই...
পথে নেমে পথের বিভ্রান্তি ভুলের বিলক্ষণ মন্ত্র
তার শেখা আছে...
নিরবচ্ছিন্ন পাখিসমূহ: ঐশ্বরিক গন্ধ
খুব ভোরে সূর্য উঠার আগে একবার নিজস্ব ভুলে অনেক দূর পথ হেঁটে গিয়েছিলাম একাকী। অনেক পথ হেঁটে যাবার পরে মনে হয় এখনো শুরু হয়নি পথচলা। তাই ফি পথে পথচলার শুরু ফি-বার! এভাবে, এভাবেই হয়তো কোন একদিন পথের দেখা পাওয়া হবে বলে জেনেছিলাম কেউ কোন একজনের কাছ থেকে! কে, কখন আর কেনই বা বলেছিল তা আমি মনে করতে পারছিনা মোটেও!
এখানে যেখানে একবার তুমুল পদক্ষেপ ফেলেছিলাম সেখানে আজ দেখি কিম্ভূত পদচিহ্ন। এ আমার নয় বলে খানিক অবিশ্বাস্য চোখে বলেছিলাম কেউ কোন একজনকে। একান্ত সময়ে ভেবে দেখি এ আমার ভুল ছিল; খুব চোখে পড়া ভুলই! তাই ভুলের ফেরে নিজেকে জড়ানো হবেনা বলে সাক্ষী রেখেছিলাম একটা অবিশ্রান্ত পাখিকে। এ পাখি ডানা মেলতে জানে। তাই পুনর্বার ডানা মেলে বাতাসে; ফুড়ুৎ!
সোহেল ভাই ০১২
এইটা কি পড়ছোস তুই?
ক্যান কি হইছে?
না জিনিষটা কি সেইটা বুঝায়া ক?
তোর সমস্যাটা না কইলে ক্যামনে বুঝবো কি পড়লাম।
না যেইটা পইরা আছোস ঐটারে কি বলে?
এইটা টি শার্ট আর এইটা প্যান্ট
ও সেইটা তো বুঝায়া কইবি যে এই জিনিষটা প্যান্ট, আমি ভাবছিলাম তুই কাপর কিন্যা আইকা দিয়া পায়ের সাথে লাগায়া রাখছিস। তো এইটা পইরা হাঁটতে সমস্যা হয় না?
ক্যান দেখলি তো হাইটাই এইখানে আইলাম
না মানেএই জিনিষ পইরা তো হাঁটাহাঁটি করার নিয়ম নাই, কোনো শোরুম থেইক্যা কিনলে ঐখানে গিয়া আবার তুই ইউজার গাইড দেখিস, দেখবি লিখা আছে শুধুমাত্র প্রদর্শণীর জন্য, সর্বসাধারণের ব্যবহার্য নহে।
হাজার হাজার পোলা এই জিনিষ পইরা ঘুরতেছে, রাস্তায় গিয়া দেখ, তোর তো ফ্যাশনসেন্স বইলা কিছু নাই, তুই এইসবের কি বুঝবি শালা উজবুক।
এবারের বই মেলায় যে বই কিনলাম
১. আরজ আলী মাতুব্বর রচনাসমগ্র-পাঠক সমাবেশ
২. অপৌরুষের ১৯৭১-অদিতি ফাল্গুনী-শুদ্ধস্বর
৩. গল্প, অগল্প না-গল্প সংগ্রহ-শাহাদুজ্জামান, পাঠক সমাবেশ
৪. প্রবাদের উৎস সন্ধান-সমর পাল, শোভা প্রকাশন
৫. শতবন্দনা-জিয়াউদ্দিন সাইমুম, দিব্যপ্রকাশ
৭. যখন ক্রীতদাশ:স্মৃতি ১৯৭১-নাজিম মাহমুদ, মুক্তধারা
৮. সত্তর দশকে-আনু মুহাম্মদ.একুশে বাংলা প্রকাশন
৯. হায়েনার খাঁচায় অদম্য জীবন-মন্টু খান, মুক্তধারা
১০. আমার একাত্তর-আনিসুজ্জামান, সাহিত্য প্রকাশ
১১. একাত্তরের মুজিবনগর-বি বি বিশ্বাস, আগামী
১২. সেদিন অনন্ত মধ্যরাতে-মোস্তাক শরীফ, অ্যাডর্ণ
১৩. জেগে উঠেছে ইরান-শিরিন এবাদি (অনুবাদ), সন্দেশ
১৪. কান্নাপর্ব-আহমাদ মোস্তফা কামাল, শুদ্ধস্বর
১৫. ইন্তাম্বুল, একটি শহরের স্মৃতিচারণ-ওরহান পামুক (অনুবাদ), সন্দেশ
১৬. ঘুমের ভিতর নিদ্রহীন-আবদুল মান্নান সৈয়দ, শুদ্ধস্বর
বইমেলা-২০১২(টুকিটাকি-৩)
রোজ ই ভাবি বইমেলায় কয়েকদিন আর আসব না। এই ভাবতে ভাবতে বইমেলা প্রায় শেষ হয়ে আসলো। একাকী মানুষের অনেকগুলো দিন ভালো কাটলো। দিনশেষে বইমেলায় যাওয়া, কখনো কিছু বই নেড়েচেড়ে দেখা, কেনা..আবার কখনও হয়ত লিটল ম্যাগ চত্বরে বাঁশের বেঞ্চিতে অকারণেই বসে থাকা--মানুষের আনাগোণা দেখা, গান শোনা।মন শান্ত-স্নিগ্ধ থাকার এক অনুভূতি। বই এর ভিড়ে আর বইপ্রেমীদের মিলনমেলায় মনের খোরাক যোগানোর লোভটা সামলাতে পারি না একদমই। কোন না কোন উছিলায় তাই রোজ যাওয়া।