মরতে মরতে এবারও বেঁচে গেলাম
৩ জুন কোলকাতা যাবার প্ল্যান আমাদের তিন জনের। এটা পুরোনো গল্প। গত মাসের শেষের দিকে টিকেট করে রেখেছে এক বন্ধু। জিপি ব্যবহারের বদৌলতে ১০% ছাড়ের অফার ছিলো সৌদিয়া বাসে। বন্ধুকে বললাম। সে পাত্তা দিলো না। টিকেট কাটলো গ্রিণলাইন বাসের। পান্থপথ থেকে বাসে উঠলাম রাত ১১.৩০ এ। ছাড়ার সময় ছিলো ১১.১৫। গোড়ায় গলদ। ভয়াবহ গরম। বাসে উঠে টের পেলাম- এসিটা ঠিকমত কাজ করছে না। কী আর করা। আল্লার নাম নিয়ে রওয়ানা দিলাম।
রাষ্ট্র ২
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে নিবন্ধিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিবছর ইংল্যান্ডে তাদের শেয়ার মালিকদের বাৎসরিক প্রতিবেদন এবং লভ্যাংশের হিসেবে বুঝিয়ে দিতো। সামুদ্রিক বাণিজ্য লেনদেন নিয়ন্ত্রনের ক্ষমতা অর্জন করে ইংল্যান্ড ধীরে ধীরে নিজের উপনিবেশসীমানা বাড়িয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এবং মানবতাবাদী ধ্যান ধারণার বিকাশের ফলে ইংল্যান্ডে ঈশ্বরবিমূখ শ্রমিক শ্রেণীর সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিলো। খ্রীষ্টান ধর্মযাজকেরা এইসব ঈশ্বরবিমুখ মানুষদের ঈশ্বর অভিমুখী করে তোলার চেষ্টা করছিলেন। কেম্ব্রীজ- অক্সফোর্ড শিক্ষিত ধর্মযাজকেরা নিজস্ব ধর্ম প্রতিষ্ঠানের নির্দেশে বন্দর এলাকায় চার্চ প্রতিষ্ঠা করে এইসব হৈ-হুল্লুড়ে বেহদ্দ মাতালদের যীশুর ভালোবাসার পথে নিয়ে আসতে চাচ্ছিলেন।
এসএসসি নিয়ে কিছু ভাবনা... এবং বাস্তবতা
দু দিন আগেই এসএসসির পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। পত্রিকায় পড়লাম পরীক্ষায় পাশ করা এক ছাত্রীর মা বলছে "সাফল্যের পেছনে কৃতিত্ব স্কুলের নয়, আমাদের"। বিষয়টা অনেকেই কিন্তু গুরুত্ব দিয়ে দেখে নাই। হাজার হাজার এপ্লাসের ভীড়ে এই সংবাদটা অনেকেরই চোখে পরে নাই।
আমার বাচ্চাটা (ঋহান) মাত্র স্কুলে যাওয়া শুরু করছে। এই শুরুতেই কিছু বিষয় আমি দেখেছি। সামনে হয়তো আরো অনেক কিছু দেখতে হবে। সে মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই ঋহানকে নিয়ে আমরা মাঠে নেমেছি। স্কুল শুরুর এই সময়টাতেই আমরা যা দেখেছি...
১. ভালো স্কুলে ভর্তির জন্য দুই বছরের কোচিং করতে হবে (ওই স্কুলের নির্ধারিত কোচিং সেন্টারে);
২. ভর্তি পরীক্ষায় না টিকলে পরের বছর বয়স কমিয়ে আবার পরীক্ষা দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে;
৩. পরীক্ষায় যদি চান্সও পায় ভর্তির সময় ডোনেশন নামের এককালীন টাকা দিতে হবে;
আমার মহানায়ক
প্রত্যেক মানুষের জীবনে তার কিশোর যৌবন কালে প্রিয় সিনেমার নায়ক, রাষ্ট্রপ্রধান,শিক্ষক থাকেন। আমি কিশোর ও যৌবন বললাম এ জন্যই যে এই সময়কার ভাললাগা বা ভালবাসাই প্রকৃত ভাললাগা ও ভালবাসা। তার পরে যা হয় তা অনেকটা শঙ্কর জাতীয়। এটা আমার মতামত। অনেকে আমার সাথে একমত নাও হতে পারেন।
আমি যখন ক্লাস এইটে পড়ি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এলেন, ঠাকুরগাও এর সাসালা পেয়ালা খাল খনন করতে। আমরা সালন্দর হাইস্কুলসহ সকল স্কুলের ছেলেমেয়ে শিক্ষক শিক্ষিকা দল বেঁধে গেলাম সেই খাল খনন অনুষ্ঠানে।
আমরা যখন পৌছলাম তখন উনি অনুষ্ঠানে উপবিষ্ট, খাল খনন এর উপর একজন শিল্পী গান গাচ্ছিলেন। এই প্রথম প্রেসিডেন্ট জিয়াকে সামনা সামনি দেখি।
সবকিছু বরং অসাড় করে রাখি
বোঝার চেষ্টা ছেঁড়ে দিয়েছি বছর কয়েক আগে
শিশুসুলভ কৌতূহল আমার
দিনে দিনে বিলুপ্ত হয়ে গেছে ঘাতকের নীরব আক্রমণে;
আজকাল তাই আর বোঝার চেষ্টা করি না কিছু-
সম্পদের অপচয়,
অপরাধী, প্রধানমন্ত্রী কিংবা নিছক বুদ্ধিজীবীদের মনস্তত্ত্ব।
একটা ধর্ষণ অথবা খুন,
অ্যামেচার ক্রাইম, আমার দুর্বিনীত আলসেমি, বেয়াদবি
বোঝার চেষ্টা করি না কোন আগামী অপেক্ষা করছে সাদা জামায়
কলেজের কিশোর কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবুঝ তরুণীটির জন্য ;
বুঝতে চাই না, খুঁজতে যাই না আমার ও আমাদের জ্ঞান, শক্তি
আমার কালো ফুসফুস-হৃদযন্ত্র, স্বদেশী বাজার, খাবারের স্বাদ;
কাঁঠালচাঁপার রঙ, রহস্য, প্রেম-
এ সমাজে সবকিছু বোঝার সামর্থ্য হারিয়েছি
প্রেম আর স্বপ্নের পোস্টমর্টেম
করতে গেলে আঙুলের নখে জমা হয় কালের আবর্জনা
দাপাদাপি করে হতাশ হরমোন
ওরা আমার দেহমন বিষাক্ত করে রাখে
শুকিয়ে শুন্য হয়ে আসে মস্তিস্ক,
নাড়ির টান
ক্লাস শুরু হওয়ার পর থেকে গ্রামের বাড়ি যায় নি।বাড়ি থেকে ফোন আসছে "বাবু কবে আসবি"?তারাতারি চলে আয়। আম সব পেঁকে গেছে,লিচু গুলো বাদুড়ে খাচ্ছে,জাম গুলো রং হওয়ার আগেই বদমাইশ ছেলেপিলে পেড়ে নিয়ে যাচ্ছে, ৪ টা কাঁঠাল চুরি হয়ে গেছে!আরো কতশত অভিযোগ!
কাউকে কিছু না বলে হুট করে ভোর সাড়ে ছটায় চোখ দুটো দুহাতে কচলাতে কচলাতে কমলাপুর হাজির!
হ্যাঁ, বাড়ি যাচ্ছি নাড়ির টানে।তোমাদের এই ইট কাঠ, ধুলোবালির আর মিথ্যে কথার শহর ছেড়ে যাচ্ছি বুনোফুল আর কর্দমাক্ত মাটির ঘ্রাণ নেব বলে।খোলামাঠ আর মেঘ রৌদ্দুর আকাশটা দেখিয়ে বলব "এই দেখ আকাশটা আমার"
তোমাদের এই সুড়কি আর চুনাপাথরের শহরে সব কিছুই কেমন জানি মেকি মেকি লাগে এবং আকাশটাও।বাড়ি যাচ্ছি ট্রেনে চেপে! বাড়ি যাওয়া উপলক্ষে মনে
হয় মেঘ গুলো খুশি হয়েছে!ট্রেনের গতির সাথে
পাল্লা দিয়ে ছুটে চলেছে পিছু পিছু!
স্বপ্নহীন জীবনে যখন
আমি ঢাকার যে এলাকায় বড় হয়েছি সেখানে আমরা চার পুরুষ ধরে আছি হয়তো এখন পাঁচ পুরুষে পৌঁছে গেছি, কে জানে। আমাদের এলাকাতে আরো অনেকেই আছেন যারা কয়েক জেনারেশান ধরে এখানে আছেন। বাবাদের কাছে গল্প শুনেছি ছোট বেলায় বাতিওয়ালা এসে রাস্তায় বাতি জ্বেলে দিয়ে যেতো। গ্রাম থেকে লঞ্চে সদরঘাট এসে অনেকেই মাথায় বোঝা নিয়ে ধানমন্ডি, গ্রীনরোড পর্যন্ত হেঁটে আসতো। অনেক এলাকাতেই দিনের বেলায় শেয়াল ডাকতো, ঘন জঙ্গল ছিলো। আমি নিজেও ছোট বেলায় অনেক ফাঁকা ঢাকা দেখেছি। এখন ঢাকা অনেক ব্যস্ত, আমরা যে এলাকার বাসিন্দা সেতো মহাব্যস্ত।
অসুখের রাত
এরকম রাত অসহ্য লাগে
বন বন ঘোরে বিদ্যুতের পাখা
কানে বিরক্তি ঢালে হিন্দি চ্যানেলের সুর
বাতাসে উড়ে যায়
সস্তা বিড়ির ছাই
উড়ে আসে চোখের পাতার নীচে
যন্ত্রণা দেয় ভীষণ
কষ্ট দেয় তোমার অবিশ্বাস,
সঙ্কোচ আর অনর্থক ভয়-
আমাদের বন্ধুত্ব-ভালোলাগার নিবিড় পরিচয়
এ সব কিছু নিশ্চয়ই নিষ্ফল হবার নয়।
এরকম রাত অপার্থিব মনে হয়
মানবিক সন্দেহ আর দৈব ষড়যন্ত্র
ভারী করে দেয় বাতাস
হারিয়ে দেয় মানুষদের
বিষে ভরিয়ে দেয় নিঃশ্বাস
বালিশে, পেন্সিলে, টাইপ-রাইটারে
স্বস্তি খুঁজতে থাকি
শেষ কবে ঘুমিয়েছিলাম পেট পুরে খেয়ে -
মনে পড়ে না, এ অস্বস্তি পিছু ছাড়ে না
বাতাস বয় না, গাছের ডাল আর পাতারা নড়ে না
দীর্ঘশ্বাস অনুভবে; আবদ্ধ অন্ধকারে চেয়ে।
এরকম রাত নিঃস্ব করে দেয়
আমাদের যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা
সম্পদ আর সুযোগের অভাব
আরও কয়েকগুণ বাড়ায় অস্থিরতা
শব্দে শব্দে মুহূর্তরা বলে শুধু- নাই
আমাদের ভবিষ্যত
শেখার সাথে মেধার সম্পর্কহীন শিক্ষাচর্চায় বিদ্যালয় নেহায়েত একটা যন্ত্র যার সদর দরজা দিয়ে উজ্জ্বল, উচ্ছ্বল শিক্ষার্থী প্রবেশ করে বিদ্যায়াতনে আর খিড়কি দুয়ার দিয়ে সার্টিফিকেটধারী মুর্খ জীবিকার সন্ধানে শ্রমবাজারে নেমে যায়। মুখস্তবিদ্যার উপরে অধিকতর নির্ভরতা বিদ্যার্জনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিকেই যান্ত্রিক করে ফেলেছে। শিক্ষার্থীরা না বুঝে মুখস্ত করে নিজেদের বিদ্যা উগড়ে দিচ্ছে পরীক্ষায় খাতায়। এই প্রবনতা কি খুবই সাম্প্রতিক কোনো প্রবনতা?
অল দা বেস্ট ফর ইউ
দেখ তুমি কতদুর এগিয়েছো-
পাওয়া হয়নি নিশ্চয়ই অনেক কিছু-
খুঁজতে থাকো
জীবনের হীরে মুক্ত।
আমি বহু দিন ধরে ওসব খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত হয়েছি;
জেনে গেছি- সব বিলুপ্ত হয়ে গেছে কচ্ছপের মত নিঃশব্দে
তবু আমি কিছুই বলতে যাবো না-
বলতে যাবো না যে তুমি বহু আগেই পথ হারিয়েছ
পথ হারিয়েছে তোমার সাথীরাও
পথ হারিয়েছে তোমার সাজসজ্জা
বেশভূষা, অঙ্গভঙ্গি, মস্তিস্ক।
সহস্র দালানের ইট আর প্রেমিকার হাত
উল্টে পাল্টে সর্বস্বান্ত হয়েছি-
খুঁজে পাইনি এক ফোঁটা শীতল শান্তি;
তবু তোমাকে কিছুই বলার নেই- খুঁজতে থাকো
যা যা এখনো মহামূল্যবান-
জৌলুশ, আয়েশ, সুসন্তান
আমি বলতে আসবো না যে বহু আগে তোমার রক্ত নষ্ট হয়েছে
তাই ভ্রষ্ট হয়েছে তোমার সন্তান।
বলতে আসবো না যে এই অন্ধকারে
অর্থহীন তোমার জ্ঞান ও গনতন্ত্রচর্চা,
পেপার পড়া, টিভি দেখা, বেড়াতে যাওয়া এবং ছবি তোলা;
তুমি বরং এগিয়ে যাও-
কোথা হে মহাকাল
তোমার সৃষ্টি তোমারে পুজিতে সেজদায় পড়িছে লুটি
রক্তের বন্যায় প্রাণ বায়ু উবে যায় দেহ হয় কুটিকুটি।।
দেহ কোথা দেহ কোথা এ যে রক্ত মাংসের পুটলি
বাঘ ভাল্লুক নয়রে হতভাগা, ভাইয়ের পাপ মেটাতে
ভাই মেরেছে ভাইকে ছড়রা গুলি।।
মানব সৃষ্টি করেছ তুমি তব ইবাদতের আশে
তব দুনিয়ায় জায়গা নাহি তার সাগরে সাগরে ভাসে।
অনিদ্রা অনাহার দিন যায় মাস যায় সাগরে চলে ফেরাফেরি
যেমন বেড়াল ঈদুর ধরিছে মারব তো জানি, খানিক খেলা করি।।
যেথায় যার জোড় বেশী সেথায় সে ধর্ম বড়
হয় মান, নয়ত দেখেছ দা ছুড়ি তলোয়ার জাহান্নামের পথ ধর।
কেউ গনিমতের মাল, কেউ রাজ্যহীনা এই কি অপরাধ
স্বামী সন্তান সমুখে ইজ্জত নেয় লুটে, লুটেরা অট্টহাসিতে উন্মাদ।
ডিজিটাল পোলাপাইন

ফুল সে যার বাগানেই ফুটুক না কেন,সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হল ভাল লাগার,এর প্রতি ভালবাসা আমার মনে হয় সৃষ্টি কর্তার থেকেই ঐশী দান হিসেবে প্রদত্ত। কি ফুল নাম জানি বা না জানি সেটা বড় কথা না। তার রুপ ও গন্ধ চক্ষুস্মান তো বটেই একজন অন্ধকেও আকর্ষন করে।
আমার পাশের ফ্লাটের ভাড়াটে। দিন দশেক হল উঠেছেন। ভদ্রলোক, ভদ্রমহিলা আর দুটি ছোট্ট ফুটফুটে ছেলেসহ এই হিন্দু পরিবারটি এসেছেন চিটাগাং থেকে। ভদ্রমহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ভদ্রলোক গার্মেন্টস ব্যবসায়ী।
আমি গত তিন বছর এই ফ্লাটে আছি কিন্তু এই বিল্ডিংয়ের কোন ফ্লাটের কারো সাথে পরিচয় হয় নি।তবে আমার বউ বাচ্চাদের সবাই চেনে।শুধু চেনেই না। খাবার দাবার ও প্রয়োজনে নিত্য ব্যবহার্য অনেক কিছুই রিতিমত আদান প্রদান হয়।
পুষ্টি কি জিনিস
পুষ্টি হল পরিবেশ থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্যবস্তু আহরন করে খাদ্যবস্তুকে পরিপাক ও শোষণ করা এবং আত্তীকরন দ্বারা দেহের শক্তির চাহিদা পূরণ , রোগ প্রতিরোধ , বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ করা ৷ অর্থ্যাৎ দেহ সুস্থ ও সবল রাখার প্রক্রিয়াকে পুষ্টি বলে৷ পুষ্টির ইংরেজি শব্দ (Nutrition)। অপরদিকে খাদ্যের যেসব জৈব অথবা অজৈব উপাদান জীবের জীবনীশক্তির যোগান দেয় , তাদের একসঙ্গে পরিপেষক বা নিউট্রিয়েন্টস (Nutrients) বলে ৷ যেমন :— গ্লুকোজ , খনিজ লবণ , ভিটামিন ইত্যাদি ৷
সূত্র : উইকিপিডিয়া
সমুদ্দুরের গ্রাম দেখা
অনেকদিন গ্রামের বাড়ি যাওয়া হয় না। শেষ গিয়েছিলাম তাও বছর খানেক আগে। সমুদ্দুরের বয়স এখন ৫ বছর ৩ মাস। বেশ কিছুদিন ধরে জ্বালাচ্ছিলো, গ্রামে যাবার জন্য। যদিও এর পেছনে তার মায়ের ইন্দন ছিলো স্পষ্টত। তাই প্ল্যান ছিলো রোজার ঈদের পরদিন বাড়ি যাবো। সপ্তাহ খানেকের জন্য।
আকাশে বাতাসে প্রচন্ড গরম। তারপরও হঠাৎ করে গ্রামে যেতে হলো। ২৪ তারিখ বাড়ি থেকে খবর এলো, একমাত্র ফুপুর অবস্থা খারাপ। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম, বাড়ি যাবো। ২৪ তারিখ বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটের বাসে চড়লাম। সায়েদাবাদ থেকে বাস। মাঝে কুমিল্লায় চা বিরতি ৪৫ মিনিট। তেল নিলো বাসে, আরো ১৫ মিনিট। ঢাকা থেকে বাড়ি যেতে সময় লাগে ৬ ঘন্টার মত। যদি যানজটে না পড়ে।
ভালোবাসার এক অদ্ভুত কাহিনী!
-কাল বিকেলে আমার সাথে যেতে পারবি?
-কোথায় ?
-আগে বল পারবি কিনা ?
-হ্যা পারবো ।
ভার্সিটি থেকে ফেরার পথে সাবিহা প্রায়ই এমন বায়না ঘরে ।তানিম কখনো না বলতে পারে না হয়ত পারবেও না ।সাবিহাকে সে ভালবাসে তবে বলতে পারে না ।সেই কলেজ থেকে তারা একে অপরের বন্ধু ।
.
তানিম জানে কোথায় দেখা করতে হবে ।তাই পরদিন সেই বকুল গাছের নিচে সাবিহার সাথে দেখা করে ।
.
সাজলে তাকে বেশ সুন্দর লাগে, কিন্তু মুখ ফুটে প্রশংসাটা করতে পারেনা তানিম ।
তারা যখন একসাথে থাকে তখন সাবিহার হাসিখুশি মুখের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তানিম।
এভাবে যেন হাজার বছর কাটিয়ে দেয়া যায় ।
তবে আজ পরিবেশটা কেমন যেন থমথমে ।দেশের পরিস্থিতি ভালো না তাই তারা দুজন সেদিন বাড়ি ফিরে যায় ।
.
.
.
বেশ কিছুদিন হল ভার্সিটি বন্ধ, সেই রাতের পর থেকে দেশটা যেন কেমন হয়ে গেছে ।সন্ধ্যা হলেই মিছিলের আওয়াজ শোনে সাবিহা ।অনেকদিন তানিমের সাথেও দেখা নেই ।
.