ইউজার লগইন

কত হাজার মরলে পরে মানবে তুমি শেষে?

অদ্ভুতুড়ে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বাংলাদেশে, টিআইবি জরিপে রাষ্ট্রীয় সেবাপ্রদান সংস্থাগুলোর ভেতরে যখন পুলিশ প্রশাসনকে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত অবহিত করা হলো, পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ অস্বীকার করে জরিপে অংশগ্রহনকারীদের তালিকা চেয়ে বসলেন- সরকারের কর্তাব্যক্তিরা তখনও নিজস্ব স্বর্গের অন্ধকারে একটানা মন্ত্র জপছিলেন " দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমশঃ উন্নতি হচ্ছে।"

তাদের মন্ত্রজপে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয় নি, বরং আগারগাঁওয়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে যখন স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি, যিনি স্থানীয় মাদক ব্যবসার অন্যতম পৃষ্টপোষক হিসেবে পরিচিত, তিনি গুলিবিদ্ধ হলেন এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হলেন আমাদের "সুশ্রী" স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে জানালেন " "যারা সন্ত্রাসী ও চক্রান্তকারী তারাই গত দুই বছরে অর্জিত ভালো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যত্যয় ঘটাচ্ছে। গত একমাস ধরে ওই চক্রটিই এরকম পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।"
তবে প্রশাসন নিশ্চুপ বসে নেই, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন "আমরাও তাদের মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেভাবে কাজ করছে" সুতরাং তিনি আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য তৎক্ষণাত শেরেবাংলা নগর থানার ওসিসহ দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।

র‌্যাব-পুলিশের প্রেসনোট, সরকারের প্রেসনোটের ভাষ্য বদল হয় না, "ভদ্রলোকের এক কথা" বলেই সম্ভবত সরকার ও রাষ্ট্রের নির্বাহী বাহিনীর উর্ধ্বতন ব্যক্তিগণ সদাই বিরোধী দলীয় রাজনৈতিকদের দায়ি করে যান। গত ২ বছর ধরে সরকারী মন্ত্র ছিলো " যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করবার বিরোধী দলীয় চক্রান্ত হিসেবে অন্তর্ঘাতমূলক চক্রান্ত হিসেবেই আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো হচ্ছে। " আবেগ কতটা অযৌক্তিক এবং নির্বোধ হতে পারে তার একটা উদাহরণ " যুদ্ধাপরাধীদের বিচার" ইস্যুতে মানুষের আবেগ। যেকোনো অন্যায় এবং অপরাধমূলক আচরণ তথাকথিত " সভ্য এবং বিবেচক" মানুষেরা মেনে নিতে প্রস্তুত যতক্ষণ পর্যন্ত সেটা " তাদের বিবেচনা মতে" যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়াকে সহজসাধ্য করে।

পুলিশ কর্মকর্তার হুমকিতে কিংবা নিজস্ব গবেষণার প্রেক্ষিতেই হয়তো টিআইবি প্রাক্তন বক্তব্য থেকে সরে এসে ঘোষণা করবো রাষ্ট্রীয় সেবাপ্রদানকারী সংস্থাগুলোর ভেতরে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত উচ্চআদালত। আমাদের বিচারকগণ উৎকোচগ্রহনে পারদর্শী হলেও সেসব স্বীকার করবার সৎ সাহস তাদের নেই, সে কারণেই জরিপের ফলাফল পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পরপরই চট্টগ্রাম এবং কুমিল্লায় আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হলো, বিচার বিভাগ জরিপের নথি চাইলো এবং টিআইবি জরিপের নথি দিতে বাধ্য হলো। উর্ধ্বতন আদালত আরও অদ্ভুত একটি জায়গা, স্বীয় ক্ষমতা প্রদর্শণে এই বিভাগ জেলা প্রশাসককে আদালতের কাঠগড়ায় সারাদিন দাঁড়া করিয়ে রেখে শাস্তিপ্রদান করে, আদালত অবমাননার দায়ে সচিবদের তলব করে এবং স্কুলের দুর্বিনীত শিশুদের যেভাবে উপযুক্ত আচরণ শিক্ষা দেওয়া হয় তেমন ভাবেই আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কুটিল স্কুল শিক্ষকের মতো আচরণ করে, সে কারণেই টিআইবি কর্মকর্তারা প্রধানবিচারপতির বাসভবনে গিয়ে জরিপের নথি বুঝিয়ে আসতে বাধ্য হন।

তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয় নি। রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীর বিচারবহির্ভুত হত্যা স্থাগিত হয় নি। হাইকোর্ট তাদের নিস্ক্রিয়তা ও অদক্ষতার সমালোচনাকারী যেকোনো ব্যক্তিকে হেনেস্তা করলেও হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা স্বত্ত্বেও বিচার বহির্ভুত হত্যায় লিপ্ত রাষ্ট্রের পোশাকি বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করে না।

আইন ও শালিশ কেন্দ্র হাইকোর্টে বিচার বহির্ভুত হত্যার বিরুদ্ধে রিট দাখিল করবার পর থেকে পুলিশের ভাষ্য বদলেছে, তারা এখন ক্রস ফায়ার উচ্চারণ করে না প্রেসনোটে। তবে তারা হত্যাবিরত এমন বলা যাবে না। তিতাসের কর্মকর্তার সন্তান কলেজ ছাত্র আবীরকে হত্যা করবার পর তারা গতকাল হত্যা করেছে শ্যামল নামের একজনকে। তার বিরুদ্ধে হয়তো পুলিশ চাইলেই অনেক অভিযোগ লিপিবদ্ধ করতে পারে তবে নিরীহ জুতা কারখানার শ্রমিক শ্যামলের বিরুদ্ধে সাভার থানায় কোনো মামলা নেই।

র‌্যাবের প্রাক্তন মহাপরিচালক পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে বদলী হয়ে আসবার পর থেকে র‌্যাব এবং পুলিশ প্রতিযোগিতা করেই নিরীহ মানুষদের সন্ত্রাসী উপাধি দিয়ে হত্যা করছে। এভাবে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে কোনো সময়ই আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব না, বরং এতে সাধারণ মানুষের উপরে অবিচারের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। তবে পুলিশ এবং র‌্যাব অস্ত্র দিয়ে অপরাধীদের দমন করতে গিয়ে যখন নিরীহ কিংবা প্রকৃত সন্ত্রাসীদের হত্যা করছিলো তখনও রাষ্ট্রের বিবেকবান মানুষেরা বলেছিলো " দেশের স্বার্থেই এমন হত্যাকান্ডকে সমর্থন করা উচিত, আদালতের কাঠগড়া এবং আমাদের দুর্বল আইনী ব্যবস্থা অপরাধি নির্মুল করতে পারছে না।"

বিচার বিভাগ কাগজে কলমে স্বাধীন, তারা যে কাউকে যখন তখন কাঠগড়ায় কান ধরিয়ে দাঁড়া করিয়ে রাখতে পারে, কিন্তু ঢাকার প্রতিটি থানার ওসি, যারা এইসব বিচার বহির্ভুত হত্যাকান্ডকে উৎসাহিত করছেন এবং সম্ভবত একে অন্যের সাথে প্রতিযোগিতা করেই হত্যাযজ্ঞে লিপ্ত হয়েছেন তাদের ডেকে ভৎর্সনা করা কিংবা স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অযোগ্যতার জন্য স্বেচ্ছায় পদত্যাগের উপদেশ প্রদান করছেন না কেনো?

পোস্টটি ১৩ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

নাজমুল হুদা's picture


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী্র দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অযোগ্যতার জন্য স্বেচ্ছায় পদত্যাগের বিষয়টি আমাদের দেশের জন্য বোধহয় খুব বেশী ক্ষতিকর কিছু ? আর তাতেই বা লাভ কী ? তার স্থানে আর একজন আসবেন, অবস্থা থাকবে অপরিবর্তিত ।
সুচিন্তিত ও সুলিখিত সময়োপযোগী পোস্টের জন্য ধন্যবাদ ।

রাসেল আশরাফ's picture


হুদা ভাইয়ের সাথে একমত।

পুলিশ ইচ্ছা করলেই পারে।কিছুদিন আগেই তার অনেক প্রমান রেখেছে।

লীনা দিলরুবা's picture


বাংলাদেশে আর্মি মরলে তিন দিনের শোক পালন করা হয় দশ জন পুলিশ মারা গেল কোন শোক পালন করা হলো না, বাংলাদেশেই কেবল এইটা সম্ভব। দুর্নীতিতে সবাই আকন্ঠ নিমজ্জিত। খালি দোষ হয় পুলিশের। জরুরী অবস্থায় সবুজ কাপড়ের লোকরা যে পরিমাণ দুর্নীতি করেছে তা নিয়া শ্বেতপত্র দেখি নাই। সেই সময়ে প্রকৌশলী-বন বিভাগের কর্মকর্তারা-কাস্টমস এর লোকরা কে কত কালো টাকার মালিক সেইটা জাতি জেনেছে।

রাস্ট্রীয় ভাবে সন্ত্রাস-কালো টাকার লালন হয় যেই দেশে সেখানে কোন সংস্থা কত দুর্নীতিগ্রস্থ সেইটা সবই ফোকাস হওয়া দরকার। প্রথম আলোতে পড়েছিলাম- চট্টগ্রামের একটা থানার এক ডাক্তার (মেডিক্যাল অফিসার) বছরে মাত্র সতের দিন অফিস করেছে মানে রোগীদের সেবা দিতে কর্মস্থলে উপস্থিত থেকেছে অথচ আমাদের পুলিশ সন্তান জন্ম নেয়ার সময় হাসপাতালে স্ত্রীর পাশে থাকতে পারে না-সন্তানের নিউমোনীয়া হলে আটদিন হাসপাতালে থাকলে একবার এসে দেখতে পারে না, মায়ের মৃত্যুর পর তাকে প্রথমে দরখাস্ত করতে হয় তারপর সে ছুটি পায়।

দুর্নীতি নিয়া পুলিশ এর একশোবার বিচার হোক কিন্তু তারে তালিকার প্রথমে রাখার আগে তারে কিভাবে রাখছেন সেইটা একবার বিবেচনা করেন।

দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সাথে দুর্নীতির সম্পর্ক টানার চেষ্টা ঠিক কিনা জানি না, বাংলাদেশের পুলিশের কাছে যে অস্ত্র আছে তারচে' আধুনিক অস্ত্র সন্ত্রাসীদের কাছে আছে। পুলিশ ডিউটি করার জন্য গাড়ী রিকুইজিশন করে। চব্বিশ ঘন্টা টানা ডিউটি করার পর ব্যারাকে গিয়া তারা শুইতে পারে না, বাথরুমে লম্বা লাইন দিতে হয়।

নাজমুল হুদা's picture


অতি সত্য কথা ।
[অঃটঃ নিকটজন কেউ আছে নাকি পুলিশে ?]

ভাস্কর's picture


আকে কামরাঙ্গির চর থানার ওসিরে আদালতে হাজিরা দিতে হইছে, কারণ সে কয়দিন আগে জাতীয় দৈনিকে বক্তব্য দিছিলো নিয়ামুলের সহপাঠিরা তার অঙ্গহানি করছে। অথচ সুলতানগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের আওয়ামি সভাপতি ওমর ফারুক তার দুয়েকদিনের মধ্যেই স্বীকার করছে যে সে খালি নিয়ামুলের অঙ্গহানি না আরো অনেক ধরনের অপরাধের সাথে যূক্ত ছিলো।

আমাগো দেশে বেশ অনেক কাল ধইরাই পুলিশ আর কাস্টমসে দলীয় মদদ ছাড়া নিয়োগ হয় না। এরা চাকরীতে নিয়োগ পাইয়া একই সাথে দলের প্রতি তাগো কৃতজ্ঞতার ভাণ্ডার উপুর কইরা দেয় আর সুযোগে নিজেরাও অপরাধ চক্রের সাথে সহযোগিতা করতে শুরু করে। দুর্নীতি সব সেক্টরেই হয় আর তা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাইতেছে, কিন্তু পুলিশ, কাস্টমস আর বিচার বিভাগে এর প্রকোপ বেশি কারণ এদের শিকার হয় সাধারণ মানুষ। আমাগো দৈনন্দিন জীবনে প্রায় প্রতিদিন পুলিশ, কাস্টমস আর বিচার বিভাগের সম্মুখীন হইতে হয় আর এই বিভাগগুলি এর সুযোগ নিয়া ইচ্ছামতোন হ্যারাস করে মানুষজনরে।

ডাক্তারের দুর্নীতির উল্লেখ কইরা আসলে পুলিশের দুর্নীতিরে জায়েজ করা যায় না...দুর্নীতির রেশিও অনুযায়ী তারে তালিকার শুরুতেই রাখতে হইবো। পুলিশ প্রথার শুরু হইছিলো সেবামূলক সেক্টর হিসাবে। যারা ঐ সেবামূলকতায় অংশ নিতে চায় তারা পুলিশে চাকরী নিবো এই ছিলো শুরুর মোদ্দা কথা। আর এখন পুলিশে তারাই চাকরী নিতে চায় বা পায় যারা অনেক টাকা কামাইতে চায়...

দলীয় প্রভাবে নিয়োগ পাওয়া, পোস্টিং পাওয়া পুলিশরেও তাই সরকারের সাথে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দায় ভাগ কইরা নিতে হইবো।

লীনা দিলরুবা's picture


১)

আমাগো দেশে বেশ অনেক কাল ধইরাই পুলিশ আর কাস্টমসে দলীয় মদদ ছাড়া নিয়োগ হয় না।

দলীয় মদদ? প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা (বিসিএস) দিয়া নিয়োগ হইলে মদদ কেম্নে হয়?

২) দুর্নীতি নিয়া আমার কমেন্ট আগের মতই- আকন্ঠ নিমজ্জিত সব সেক্টরেই ভয়ঙ্কর ভাবে দুর্নীতি হৈতেছে সেখানে পুলিশ এক নাম্বার না দুই নাম্বার এইটা বড় কথা না তাদের আপ্নে কেমনে রাখছেন সেইটা বিবেচনা করেন। মহান মন্ত্রী এমপিরা যদি অঙ্গুলি হেলনে আইন এর প্রয়োগ চায় তাইলে কোন বাপের বেটা পুলিশ সেইটা বাঁধা দেয়। আপ্নে সিস্টেম রাখবেন একরকম আর খালি পুলিশরে গাইল দিবেন এইটা কেমন বিবেচনা? ষোল কোটি লোকের দেশে পুলিশ হৈল এক লাখ চল্লিশ হাজার। রেশিও কৈরা দেখেন পুলিশ কি ডিউটি করে। আধুনিক অস্ত্র নাই-দ্রুতগতির যান নাই- ভালো বেতন নাই- থাকার জায়গা নাই- রাস্তায় ডিউটির সময় প্রাকৃতিক কাজ সম্পাদন করার মানবিক ব্যবস্থা নাই সহ একশো একটা নাই দিয়া আপ্নে তাদের কাছে সেবা চান, জানি তারা চাকরীতে গেছে এই শর্তে সেবা দিতেই হবে কিন্তু বাস্তবতার কাছে পাঁচ ডিগ্রি তাপমাত্রায় একখানা কমদামী পাতলা সোয়েটার গায়ে দিয়ে যে কনস্টেবলটা রাস্তায় দাঁড়ায় ডিউটি করতেছে আপনাদের বই এর যুক্তি দিয়া তার জীবনটারে কুকুরের জীবনই যে বানায় ফেলছেন- সেইটা দেইখেন।

৩) আমার কমেন্ট কোন কিছুরে জায়েজ করা হয় নাই, আমি বলছি রাষ্ট্র যন্ত্র যেখানে সন্ত্রাস লালন করে সেখানে আলাদা ভাবে পুলিশ নিয়া চেঁচানোর কোন মানে নাই। যেখানে বিচারের বাণী নিরবে কাঁদে সেখানে খালি একটা সেবা খাত নিয়া ঢালাও বক্তব্য দেয়া দৃষ্টিকটু লাগে।
সরকার আসে সরকার যায় নিজেদের মত করে তারা প্রশাসন সাজায় এইখানে পুলিশ কি করবে? তারা গোলাম। হুকুম তামিল করে।

মাহবুব সুমন's picture


প্রসংগ নাম্বার ১

পুলিশে কি শুধু এএসপি হিসেবেই নিয়োগ হয় ?

জেলা পর্যায়ে কন্সটেবল পর্যায়ে যখন হয় তখন রাজনৈতিক চাপের সাথে সাথে থাকে টাকার খেলা।

এসআই পর্যায়েও একই অবস্থা। ক্ষমতাশীল নেতারা লিস্ট দিয়ে বলে একে ওকে নিতে হবে ( লিস্ট অবশ্যই হয় দলীয় পরিচয়ে ও টাকার বিনিময়ে ), তার পর সেই লিস্ট অনুসারে নেয়া হয়। টাকার ভাগ পুলিশের উপরের লোকরাও পায় সুন্দর ভাবে।

ভাস্কর's picture


১.বিসিএস বিষয়ে মনে হয় না এখন কিছু বলার আছে। ঐটা নিয়া বেশি কিছু কইতে চাই না কারণ তাইলে হয়তো পুলিশের পাশাপাশি ঐ পরীক্ষার কন্ট্রোলারগো দুর্নীতিরেও আলোচনার বিষয় বানাইয়া ফেলতে হইবো। ৯৫'তে ক্ষমতা থেইকা সইরা যাওয়ার আগের বিসিএসে পাস কইরা পুলিশের সারদা ট্রেনিঙে চইলা যাওয়া পুলিশগো নির্বাচন বাতিল করছিলো আওয়অমি গভর্নমেন্ট আইসা, নিশ্চয়ই মনে আছে বিষয়টা। আবার একই কাজ করছে পরবর্তী বিএনপি সরকার। বিসিএসের পর্দা ঝুলানো থাকলেও পুলিশ আর কাস্টমসে নিয়োগ পাইতে যে টাকা দিতে হয় এইটা তো ওপেন সিক্রেট।

২.বাংলাদেশের পুলিশ তখনি ডিউটি সতর্কতার সাথে দ্যায় যখন তার টাকার দরকার হয়। ঢাকা শহরের জ্যাম বিষয়ে নিশ্চয়ই অভিজ্ঞতা আছে। নিশ্চয়ই পুলিশ সেইখানে কেমনে সামলায় সেইটাও দেখার অভিজ্ঞতা আছে আপনের। জ্যাম লাইগা গেলেও দেখা যায় ট্রাফিক কনস্টেবল দূরে দাঁড়াইয়া থাকে কোনো শেইডের নীচে। কিন্তু ঈদের আগে পুলিশের দাবরানি শুরু হয়। সেইটাও কেনো হয় সেইটাও নিশ্চিত জানেন। আপনের কি মনে হয় পুলিশরে অনেক দামী জ্যাকেট-আধুনিক অস্ত্র-নিজস্ব গাড়ি দিলেই দুর্নীতি কইমা যাইবো? আমার তা মনে হয় না। আর বেতনের ব্যাপারে কোনো কথা কমু না। পুলিশের বেতন বাড়ানোই হোক আর না হোক, কোনো পুলিশ সদস্যের পরিবাররে দেখছেন অসচ্ছল থাকতে? আমি দুই/একজনরে দেখছি। কিন্তু সেইটা দিয়া এক লাখ চল্লিশ হাজার পুলিশের দুর্নীতি জায়েজ হয় না।

৩.আমিতো আগেই কইছি পুলিশে পোস্টিং কেনা নিয়া যেইখানে অকশন হয় আর এমপি মন্ত্রীরা সুপারিশ করে, সেইখানে দলীয় সন্ত্রাসের দায় তাগোও নিতে হইবো। কোহিনুর মিয়া কিম্বা মিজানুর রহমান যেই নামই ক'ন এরা কেমনে চলে তা এখন সবাই জানে...

লীনা দিলরুবা's picture


১) বিসিএস পাশ করতে টাকার ব্যবহার বাংলাদেশে হয় এইটাও রাষ্ট্রযন্ত্রের ব্যর্থতার একটা নমুনা। প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষারে আপ্নে রাস্ট্রই তো নোংরা করলেন। তবে যেভাবে ঢালাও ভাবে বললেন সেই পর্যায়ের নিয়োগ হয় নাই।

২) দুর্নীতি একেবারে কমবে এইটা তখনই হবে যখন জবাবহিদিতার ব্যবস্থা থাকবে । পুলিশ যদি মানবিক সব সুবিধা পায় আর ব্রিটিশ আমলের সিস্টেম থেইকা বাইর হৈতে পারে তাইলে একটু একটু কইরা অবশ্যই দুর্নীতি কমবে। সব কথার শেষ কথা কিন্তু সেই ক্ষমতাশীলদের নীতি আর তাদের চাওয়া। আপ্নে ডিউটিরে ১০০% অসত বানায় ফেলছেন, আপ্নে অন্ধ। আমি নিজে সাফারার আমারে ডিউটির অসততা দেখায়েন্না।

৩) পোস্টিং নিয়া ক্ষমতাশীলরা যদি সততা দেখায় পুলিশের কিচ্ছু করার নাই। সরকার চাইলে পুলিশ ভালো না চাইলে মন্দ এইটা মনে হয় মিথ্যা না।

১০

ভাস্কর's picture


১.
৯৬'তে একলগে সাত জনের নিয়োগ বাতিল হইছিলো এইটা মনে আছে...পরের বার বিএনপি আইসা এর ধারে কাছের নিয়োগ বাতিল করে। রাষ্ট্রযন্ত্রের ব্যর্থতা তো আছেই...তার লেইগাই তো সবখানে এতো দুর্নীতি। কিন্তু পুলিশ যে তার মধ্যে সবচাইতে বেশি এফেকটেড অংশ সেইটাও সত্য।

২.
পুলিশের মানবিক সমস্যার সমাধানগুলি কি সেইটা আমি বুঝতেছি না। তাগো বিশ্রামের জায়গা অপ্রতুল, ইউনিফর্মের কোয়ালিটি খারাপ এইসব কিভাবে তাগো দুর্নীতির জাস্টিফিকেশন হয় আমি বুঝতেছি না। এইসব দিলে তারা আর দুর্নীতি করবো না এমন কিভাবে ভাবতে পারা সম্ভব সেইটাই বুঝতেছি না। আর কন্সটেবলগো এই দূরাবস্থাতো অফিসারগো ভোগ করতে হয় না...তো তারা কেনো দুর্নীতি করে? কন্সটেবলতো ২-৪-১০ টাকাও ঘুষ খায়। আর বিএ পাস অফিসারগুলিতো জোর কইরা ধইরা নিয়া ৫০ হাজার দাবী করে...তাগো বাড়িতে কিসের সমস্যা? ঢাকায় অনেক সমস্যা হয়তো দেখাইতেও পারতে পারেন...কিন্তু ঢাকার বাইরে পুলিশ অফিসাররা অনেক প্রিভিলেজ্ড...

৩.
পুলিশে তো আজকার যোগ দেয় সরকারী পান্ডারাই...এইটাও কিন্তু মাথায় রাখতে হয়। ৯৯ বিসিএসে বাহাউদ্দিন নাসিমের হাত দিয়া নিয়োগ পাওয়া বন্ধু-বান্ধব আছে বইলাই নিশ্চিত ভাবে দাবী করতে পারতেছি...

১১

ভাস্কর's picture


১.
৯৬'তে একলগে সাত জনের নিয়োগ বাতিল হইছিলো এইটা মনে আছে...পরের বার বিএনপি আইসা এর ধারে কাছের নিয়োগ বাতিল করে। রাষ্ট্রযন্ত্রের ব্যর্থতা তো আছেই...তার লেইগাই তো সবখানে এতো দুর্নীতি। কিন্তু পুলিশ যে তার মধ্যে সবচাইতে বেশি এফেকটেড অংশ সেইটাও সত্য।

২.
পুলিশের মানবিক সমস্যার সমাধানগুলি কি সেইটা আমি বুঝতেছি না। তাগো বিশ্রামের জায়গা অপ্রতুল, ইউনিফর্মের কোয়ালিটি খারাপ এইসব কিভাবে তাগো দুর্নীতির জাস্টিফিকেশন হয় আমি বুঝতেছি না। এইসব দিলে তারা আর দুর্নীতি করবো না এমন কিভাবে ভাবতে পারা সম্ভব সেইটাই বুঝতেছি না। আর কন্সটেবলগো এই দূরাবস্থাতো অফিসারগো ভোগ করতে হয় না...তো তারা কেনো দুর্নীতি করে? কন্সটেবলতো ২-৪-১০ টাকাও ঘুষ খায়। আর বিএ পাস অফিসারগুলিতো জোর কইরা ধইরা নিয়া ৫০ হাজার দাবী করে...তাগো বাড়িতে কিসের সমস্যা? ঢাকায় অনেক সমস্যা হয়তো দেখাইতেও পারতে পারেন...কিন্তু ঢাকার বাইরে পুলিশ অফিসাররা অনেক প্রিভিলেজ্ড...

৩.
পুলিশে তো আজকার যোগ দেয় সরকারী পান্ডারাই...এইটাও কিন্তু মাথায় রাখতে হয়। ৯৯ বিসিএসে বাহাউদ্দিন নাসিমের হাত দিয়া নিয়োগ পাওয়া বন্ধু-বান্ধব আছে বইলাই নিশ্চিত ভাবে দাবী করতে পারতেছি...

১২

রাসেল's picture


আপনাকে আজকের পত্রিকার একটা সংবাদ জানাই- ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি মাদ্রাসার ১৩জন শিক্ষক কোনো বেতন পান না, মাদ্রাসাটিতে ২৮০জন শিক্ষার্থী এবং তাদের কেউই প্রতিমাসে নিয়মিত বেতন দিতে পারে না, সম্পূর্ণ ব্যবস্থাটি শেষ পর্যন্ত অবৈতনিক এবং এখানে শিক্ষক পড়ানোর বিনিময়ে কোনো পারিশ্রমিক পান না, শিক্ষার্থী পড়বার জন্য কোনো পয়সা প্রদান করে না, সে মাদ্রাসার ইংরেজীর শিক্ষক মজুর, প্রতিদিন কায়িক শ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করে, যেসব শিক্ষার্থীদের ট্যুইশনি করে পয়সা কামাই করা সম্ভব তারা স্কুলের বেতনই দিতে পারে না, প্রাইভেট ট্যুইশনের খরচা চালাবে কিভাবে?
শিক্ষক কাকভোরে ঘুম থেকে উঠে মাটি কোপাতে যান,১০টায় স্কুলে যান, বিকেল ৪টা পর্যন্ত পড়িয়ে সন্ধ্যা থেকে আবার মুনিষ খাটেন- তিনি সেবা প্রদান করেন এবং তিনি জানেন যদি মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত না হয় তিনি এবং তার সকল সহকর্মীই অবৈতনিক পড়ানোর কাজটা করবেন-
এটা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গল্প- কিশোরগঞ্জেপ্রাইমারী শিক্ষক ক্লাশের ফাঁকে ফাঁকে মিতে বর্গা খাটেন, নিজের জমিতে লাঙল চালান, তার নিজের ও পরিবারের ভরণপোষণের ব্যবস্থা নেই, প্রাথমিক শিক্ষকের বেতন দিয়ে একজন মানুষ ঠিকভাবে বাঁচতে পারবে না, সেখানে পরিবার নিয়ে মাস কাটানোর দুরহ কাজটা দেশের কয়েকলক্ষ প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষকেরা করছেন-
তারা কি শিক্ষার্থীদের গলায় ছুড়ি লাগিয়ে টাকা চাইছেন?
তারা কি গেরস্তের বাসায় গিয়ে ডাকাতি করছেন? চাঁদাবাজি করছেন?
তাদের নিয়মিত রেশন নেই, রাতে ঘুমাতে পারেন হয়তো কিন্তু অর্ধেক মাস আধপেটা খেয়ে তারা কি নিজের দায়িত্ব পালন করছেন না?

পুলিশের এই নেই, সেই নেই, মেনে নিচ্ছি কিন্তু সে কারণে কি তাকে দুর্নীতি করতে হবে? সে কারণেই কি যে মানুষটা সহায়তার জন্য এসেছে তার কাছে পয়সা আদায় করতে হবে? সে কারণেই কি তাকে যাকে তাকে ধরে ক্রস ফায়ারের ভয় দেখাতে হবে?

অবকাঠামোজনিত সংকট শহুরে স্বচ্ছল মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের বাইরে ৭০% বাংলাদেশীর নিত্যদিনের বাস্তবতা- ৫০ শতাংশ দিনে ২০০০ ক্যালরী আহার পায় না, চিকিৎসা সেবা পায় না, স্বাধীনতার সময় বাংলাদেশের সর্বমোট জনসংখ্যা ছিলো সাড়ে সাত কোটি, এখন ৮ কোটি মানুষ প্রতিদিন ভরপেট খেতে পারে না- কিন্তু এই ৮ কোটি মানুষই কি খুন-রাহাজানি-ধর্ষণ-লুণ্ঠনে লিপ্ত? দুর্নীতি দেশের ১% মানুষের অপরাধ, সেই ১% শতাংশ মানুষকে নিয়মিত চারপাশে দেখি আমরা- তাদের জন্য আহা মরি আহা মরি বলবার আহ্লাদ কতটুকু যৌক্তিক?

১৩

রাসেল's picture


শুধুমাত্র পুলিশই দুর্নীতিগ্রস্ত এমন অভিযোগ কেউই করে নি, সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ জন পুলিশ নিহত হওয়া দুঃখজনক ঘটনা কিন্তু আমি যদি একই সাথে বলি লঞ্চ ডুবে ১৩৫ জন, গার্মেন্টসের আগুনে পুড়ে ২০ জন, ভবন ধ্বসে ৬৫জন নিহত হওয়ার ঘটনাগুলোতে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয় নি কেনো?

তুলনা যদি সামরিক বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর ভেতরে হয় তবে পুলিশ দুর্ভাগা, তাদের অমানবিক পরিবেশে কাজ করতে হয়, সামরিক বাহিনীর মতো ঢালঅ রেশন বরাদ্দ কিংবা ব্যারাক নেই তাদের, রাজধানীতে পুলিশ ব্যারাকে সীটের তুলনায় পুলিশের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশী- এইসব সীমাবদ্ধতা এবং খামতি পুরণের জন্য পুলিশ মন্ত্রনালয় ও সচিবের মাধ্যমে সরকারের কাছে আবেদন জানাতে পারে

রাস্তায় নেমে দেখেন পুলিশের চেয়ে অনেক বেশী মানুষ ফুটপাতে শুয়ে থাকে, তারা শীতে কুঁকড়ে থাকে, মাথার উপরে আচ্ছাদন নেই, পর্যাপ্ত শীতের কাপড় নেই, তারা কোনো মন্ত্রনালয়েই তাদের আবেদন পাঠাতে পারে না। আমি সেসব মানুষের দোহাই দিবো না কিংবা আমার নিজের অযোগ্যতা কিংবা অপরাধপ্রবণতার জন্য আমি অন্য কোনো পরিস্থিতিকে দোষারোপ করবো না।

পুলিশ রাস্তায় দাঁড়িয়ে ঘুষ নিচ্ছে, ট্রাফিক পুলিশ, পুলিশ সার্জেন্ট, কনস্টেবল, থানা কর্মকর্তা- এসব প্রয়োজনীয় অবকাঠামোজনিত সংকটের দুর্নীতি নয়, দায়িত্ব পালনে স্বেচ্ছাকৃত অপরাধ- রাতে বিছানায় ঘুমাতে না পারার দুঃখে পুলিশ দুর্নীতিগ্রস্ত নয়, পুলিশের কর্মপরিস্থিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রেশন ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানালেও আমি নিশ্চিত সেইসব সুবিধা বৃদ্ধি করলে পুলিশ দায়িত্বে সচেতন ও দুর্নীতিবিমুখ হবে।

দুটো দুই ধরনের প্রেক্ষিত, দায়িত্ব পালন করতে গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী মানিয়ে নিয়েই সেটা করা প্রয়োজন, বাংলাদেশে দুর্গত এলাকায় হেলিকপ্টার দিয়ে খুব বেশী মানুষকে উদ্ধার করা যাবে না, পর্যাপ্ত এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাবে দুর্ঘটনার মানুষ মারা যাবে কিন্তু নিজের কর্তব্যপালনে অবহেলায় মানুষ মারা যাওয়ার অপরাধটা ব্যক্তিতে নিতে হবে। পুলিশের জন্যও একই কথা প্রযোজ্য।

আইন শৃঙ্খলা নিয়ে রাষ্ট্রের বক্তব্য আছে, সেটা রাষ্ট্র বিবেচনা করে, আমি বিচারবিহীন হত্যাকান্ডের বিরোধী, পুলিশ রাতে ঘুমাতে পারে না এই মানসিক সংকটে খুনী হয়ে উঠলে পুলিশে মনোচিকিৎসকের সরবরাহ বাড়ানো উচিত।

১৪

লীনা দিলরুবা's picture


তুলনা যদি সামরিক বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর ভেতরে হয় তবে পুলিশ দুর্ভাগা, তাদের অমানবিক পরিবেশে কাজ করতে হয়, সামরিক বাহিনীর মতো ঢালঅ রেশন বরাদ্দ কিংবা ব্যারাক নেই তাদের, রাজধানীতে পুলিশ ব্যারাকে সীটের তুলনায় পুলিশের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশী- এইসব সীমাবদ্ধতা এবং খামতি পুরণের জন্য পুলিশ মন্ত্রনালয় ও সচিবের মাধ্যমে সরকারের কাছে আবেদন জানাতে পারে

শিক্ষক ছাত্রকে বেত্রাঘাত করেছে, পড়া শেখোনি কেনো, ছাত্র বলছে, স্যার আমি গরীব আমার বই নেই। শিক্ষক বলছে, আল্লাহর কাছে আবেদন করো, বই মিলিতে পারে। আপনার সচিবের কাছে মন্ত্রনালয়ের কাছে আবেদনের ব্যাপারটি দেখে উপরের বাক্যটিই মনে পড়লো। এই খবর গুলো দেখেন--

http://bangla.irib.ir/index.php/2010-04-21-08-29-09/2010-04-21-08-29-54/6055--------.html

বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া

মঙ্গলবার, 23 সেপ্টেম্বর 2008

সোমবার আইজি নূর মোহাম্মদ দাবি করেন, কোথাও না কোথাও কারও স্বার্থে আঘাত লাগতে পারে বলেই পুলিশ সংস্কার অধ্যাদেশ পাস করা হচ্ছেনা । তিনি দাবি করেন, পুলিশ আইনে সংস্কার হলে আমরা পুলিশেরা ভাল হবার সুযোগ পাবো । ১৮৬১ সালের পুলিশ আইন অনুযায়ী এখনো পুলিশ পরিচালিত হচ্ছে । বর্তমান সরকার এই আইনের সংস্কারের জন্য পুলিশ অধ্যাদেশ ২০০৭ শিরোনামে খসড়া প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে জমা দেয় । তবে প্রশাসনের একটি অংশের অনাগ্রহের কারণে প্রস্তাবিত অধ্যাদেশটির কার্যক্রমে কোন অগ্রগতি হচ্ছেনা । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডক্টর বোরহান উদ্দীন খান বলেন, বর্তমান সময়ে অনেক আধুনিক পন্থায় অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে । এই অবস্থায় আধুনিক পন্থায় অপরাধ দমন করার ব্যবস্থা নিতে হয় । এই অবস্থায় অনেক পুরানো আমলের আইন দিয়ে পুলিশের কার্যক্রম পরিচালনা করায় নানা ধরনের সংকট তৈরি হচ্ছে । অধ্যাপক বোরহানউদ্দিন খান বলেন, বর্তমান সরকার অনেক আইন সংস্কার করেছে । কিন্ত পুলিশ আইন কেন সংস্কার করতে পারলো না তা রহস্যজনক । বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদের প্রধান এএইচ এম নোমান বলেন, শুধু মাত্র পুলিশের আইন সংস্কার করলেই পুলিশ সৎ ও যোগ্য হয়ে যাবে এ ধারণা ঠিক নয় । তিনি বলেন,পুলিশ বাহিনীর কাছ থেকে সর্বোচ্চ সেবা পেতে হলে অবশ্যই রাজনীতিতে সংস্কার আনতে হবে।তিনি বলেন, একদিকে মানবাধিকার লংঘনসহ নানা অপরাধ করবেন, অন্যদিকে পুলিশকে ভাল হবার পরামর্শ দিয়ে যাবেন তা কখনো বাস্তব সম্মত নয় । এম নোমান তারেক আরো বলেন, বর্তমান সরকার নিরপেক্ষ হবার কারণে পুলিশ বাহিনীর আচরণেও অনেকটা নিরপেক্ষ ভাব দেখা যায় । তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীর সংস্কারের পাশাপাশি রাজনীতিবিদরা যদি নিরপেক্ষ আচরণ করেন, তবে পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লংঘন ,ঘুষ গ্রহণ ,মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অভিযোগ অনেকটাই কমে আসবে । তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা পুলিশ প্রধান এ এস এম শাহজাহান বলেন, পুলিশ সদস্যরা যে পরিমাণ বেতন বা সুযোগ সুবিধা পান তা বর্তমান বাজারের তুলনায় অত্যন্ত নগন্য। পাশাপাশি বৃটিশ আমলে প্রণীত আইনটি করা করা হয়েছিল জনগণের উপর খবরদারি করার জন্য। অথচ উন্নত বিশ্বে পুলিশ হচ্ছে জনগণের বন্ধু । সামগ্রীক ভাবে পুলিশের সংস্কারের প্রক্রিয়াটি জটিল হলেও সবাই আন্তরিক হলে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে মনে করি । বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সরকারের আমলে পুলিশের সংস্কার না হলে পরবর্তীতে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসলে তা আদৌ বাস্তবায়িত হবে কিনা সন্দেহের ব্যাপার।

এখনো এটি বাস্তবায়ন হয় নাই।

"পুলিশের সংস্কার আটকে গেছে" শিরোনামের এই খবরটা পড়েন, এইটা ২২ আগস্ট ২০১০ এর, প্রথম আলোতে ছাপা হওয়া নিউজ।

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-08-22/news/88514

শর্ষের মধ্যে ভূত আছে, দ্যাখেন, উত্তর পেয়ে যাবেন। আপনার মন্তব্যের বাদবাকী অংশ নিয়া আগেই বলছি, নতুন কিছু বলার নাই।

১৫

রাসেল's picture


পুলিশের উপরে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বিষয়টা পুরোনো, রাজনৈতিক সংস্কার প্রয়োজন, আমাদের সংস্কৃতি বদলানো প্রয়োজন, নিজস্ব মানসিকতা বদলানোও প্রয়োজন, আপনি পুলিশ কর্মকর্তাকে খুব কাছে থেকে দেখেছেন, কিন্তু তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সীমান্তে বদলি হতে চাওয়া কর্মকর্তা এবং অপরাধপ্রবন কর্মকর্তাদেরও কি কাছ থেকে দেখেন নি?

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী পুলিশ হতে চায়, হতে চায় কাস্টমস অফিসার, কারণ এই দুটো পদে সম্মান না থাকলেও নগদ ঘুষের সুবিধা আছে, আমার যে কয়জন বন্ধু পুলিশ হতে চেয়েছিলো দুঃখী মানুষের সেবা কিংবা অপরাধ নির্মূল নয় বরং তাদের মূল লক্ষ্য ছিলো এই ঘুষের বাণিজ্যের একটা অংশ তার নিজের পকেটে ভরা।

পুলিশের সাবেক আইজি এ এস এম শাহজাহান নিজের কর্মজীবনেও অপরাধ করেছেন, একজনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছেন দায়িত্বে অবহেলা করে, তিনি যখন নীতিকথা শোনান চমৎকার লাগে, রাজনীতিবিদরা অপরাধী, প্রশাসনের কর্মকর্তা রাজনীতিবিদদের তোয়াজ করে পদোন্নতি বাগাচ্ছে, সে তোয়াজটা যে অপরাধ এটা তোয়াজ করবার সময় কি ভুলে থাকছে তারা? দেশের ১% অপরাধীদের জন্য সকল মানুষের অভিযুক্ত হওয়াটা সম্মানজনক না।

১৬

মাহবুব সুমন's picture


এই শাহজাহান যখন বড় বড় কথা বলে তখন হাসি আসে। সে যখন আইজি ছিলো তখন কুকুরের মতো সেই সময়কার স্বরাস্ট্রমন্ত্রি মতিন চৌধুরির পেছনে ঘুড়তো আর ঈদ হলেই সবার কাছে ফোন যেতো শাড়ি - টাকা ইত্যাদি নেবার জন্য।

১৭

লীনা দিলরুবা's picture


জ্বি হুদা ভাই আমার জামাই পুলিশ অফিসার। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

১৮

নাজমুল হুদা's picture


ত্বরিৎ জবাব দেবার জন্য ধন্যবাদ ।
[অঃটঃ এখন তা'হলে পুলিশকে আর ডরাইনা]

১৯

মাহবুব সুমন's picture


সরকার যদি চায় পুলিশ খুনি হয়ে উঠুক আর পুলিশ যদি জানে খুনি হলে শাস্তির বদলে পুরস্কার জোটে তবে ক্রসফায়ার/এককাউন্টার/বন্দুক যুদ্ধের নামে খুন কখনই বন্ধ হবে না।

পুলিশের সমস্যা নতুন কিছু না।
বেতন কম
সুযোগ সুবিধা কম
প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ
রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি
সমস্যার শেষ নাই পুলিশের,
কিন্তু এগুলো দূর্নীতি করাকে জায়েজ করে ফেলে না।

পুলিশে চাকরি পেলে সেই রকম দূর্নীতি করা যাবে এই বিশ্বাস থেকেই পুলিশে ঢোকার স্বপ্ন দেখে। তাই অন্যান্য চাকরি ফেলে পুলিশে চাকরি নেয়। সরকারে যে বেতন দেয় সেই বেতন দিয়ে একজন আইজির বউ যে শাড়ি পরে বা যেই লাইফ লিড করে সেইটা সম্ভব না। অথচ তারা কিন্তু ঠিকই করছে। ৮০% পুলিশই চোর, এবং এই ৮০% প্রাইজ পোস্টিং পায়। হাল গোপালপূরি হলেতো সোনায় সোহাগা

২০

নুশেরা's picture


পুলিশে চাকরি পেলে সেই রকম দূর্নীতি করা যাবে এই বিশ্বাস থেকেই পুলিশে ঢোকার স্বপ্ন দেখে। তাই অন্যান্য চাকরি ফেলে পুলিশে চাকরি নেয়।
৮০% পুলিশই চোর, এবং এই ৮০% প্রাইজ পোস্টিং পায়।

সুমনভাইকে সাধুবাদ; পুলিশ কর্মকর্তার সন্তান হয়ে এই সত্য উচ্চারণের জন্য।

আমি দু্ইটা স্পেসিফিক উদাহরণ দিতে পারি।
হাসিনার পয়লা মেয়াদে একটি বিসি্এসে পুলিশ ক্যাডারে ১ম হ্ওয়া ব্যক্তি জীবনে প্রথম কনস্টেবল (বা সমপর্যায়ের) পদে পুলিসে ঢুকেছিলেন এইচএসসি পাসের পর। ডিগ্রি পরীক্ষা দিয়ে এসআই পদে যান। তারপর বিসি্এসে একটি কোচিং সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত থেকে পিএসসির মেম্বার ও পরীক্ষকদের সেই আমলে ৮ লক্ষ টাকা খরচ করেন (পরবর্তী কয়েকবছর ঐ কোচিং সেন্টারের মিডিয়া হিসেবে কাজ করেন)। ভাইভা বোর্ডের জেরিন জামানের বাড়িতে ডিপ ফ্রিজ ভেট পাঠান। ফলাফল তো শুরুতেই বললাম।

তার ঠিক পরবর্তী বিসিএসে পুলিশের ১ম ব্যক্তি অত্যন্ত মেধাবী। ঢাবির ফার্মেসি বিভাগ থেকে প্রথম হওয়া। বিসি্এসের ফর্মে তাকে নাকি পছন্দের ক্যাডার হিসেবে শুধুমাত্র পুলিসের কথা উল্লেখ করতে হয় তদানীন্তন হবু স্ত্রীর চাপে (মহিলার নিজ মুখে শুনেছি); যার পিতা ছিলেন মালদার দারোগা। এই মেধাবী লোকটির যাবতীয় মেধা ব্যয়িত হচ্ছে দুর্নীতিতে। সেই কিলার আব্বাস কালা ফারুকদের জমানায় মতিঝিলের এসি থাকা অবস্থায় তার স্ত্রী এদের দেয়া হীরাবসানো মোবাইল ব্যবহার করতো। অস্ট্রেলিয়ায় মাস্টার্স করতে গিয়ে ভদ্রলোক যে বিলাসবহুল গাড়ি কিনেছিলেন সুমনভাই হয়তো তার খবর জানেন।

২১

মাহবুব সুমন's picture


আরেকটা জিনিস লক্ষ্য করা যায়,

আগারগাঁও এ হত্যা কান্ডের পর সেই থানার ওসি ও একজন এসআই কে সাসপ্যান্ড করা হয়েছে, সেখানকার পিআই ও ডিসিকে করা হয়েছে বদলি। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে এরকম কোনো ঘটনাতেই ডিসি বা এডিসি বা এসি পর্যায়ের অফিসারদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয় না, যা নেয়া হয় ওসি বা এসআই লেভেলের সাবঅর্ডিনেট লেভেলে। এটা কেনো করা হয় !?

তার পর আসছে রাজনীতিক পর্যায়ে। এতো কিছু করার পরও কিন্তু স্বরাস্ট্র মন্ত্রির মুখ থেকে বের হয় যে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে। তার কাছে সৎ বচন আশা না করি অন্তত লোক দেখানো কিছুতো আশা করবো ! স্থানীয় সংসদ সদস্য বা সাংগঠনিক নেতাদের সম্পর্কে কি আর বলা যাবে। ঐ ওয়ার্ডের সভাপতি হলো একজন চিহ্নিত বড় মাদক ব্যবসায়ী, এতো কিছু জানার পরো ঐ রকম লোককে নেতা হিসেবে রাখার দায় ভার কি আওয়ামী নেতারা এড়াতে পারে ?

২২

লীনা দিলরুবা's picture


রাত বারোটা বাজে। কাল সকালে অফিস আছে। তাই আর সময় দিতে পারলাম না। আগামীকাল নিশ্চয়ই কথা হবে। সবাইকে শুভরাত্রি।

২৩

মীর's picture


সবাই দেখি পুলিশ রে দোষ দেয়! আমি তো সবার মধ্যেই দোষ খুঁইজা পাই। দোষে-গুণে মানুষ, এই বাণী খুঁইজা পাই।
পুলিশের নিয়োগে টাকার খেলা চলে। কাস্টমস্এর নিয়োগেও টাকার খেলা চলে। কথাগুলো একদম ফেলনা না। বড় একটা অংশে অবশ্যই চলে, আবার ক্ষুদ্র একটা অংশ এই খেলার বাইরেও থাকে।
কিন্তু আমি তো আরো দেখি, দেশের সব সেক্টরেই নিয়োগের বেলা চরম থেকে চরমতর খেলা চলে। সরকারী-বেসরকারী-ইউনিভার্সিটি-পত্রিকা-গার্মেন্টস্-মিল-কারখানা সবখানেই। কোথাও টাকার খেলা, কোথাও মামার খেলা, কোথাও তেলের খেলা বা কোথাও অন্য কিছুর খেলা। খেলা ছাড়া নিয়োগ কই হয়? হোটেলে বয় নিয়োগের ক্ষেত্রেও কি নিজের গঞ্জের পোলারে টানাটানির খেলা চলে না? এইখানে শুধু দুইটা সেক্টররে টান দিয়া লাভ কি?
পুলিশের একটা এএসআই/এসআই কয়টাকা বেতন পায়? বেতনের বিবেচনাটা একটু ভিন্নভাবে করা যাক। গ্রামীণ হয়তো কাউরে ২৮ টাকা অফার করলো। সেই একই লোকরে এয়ারটেল অফার করলো ৩৫ টাকা। তো সে কোনখানে যাবে? অধিকাংশ ক্ষেত্রে বেশি অফারটার দিকেই মানুষ মনোযোগী হয়।
এখন, সরকার বেতন অফার করতেসে ৪১০০ টাকার স্কেলে, যেটা সব মিলায়ে গিয়ে আট-সাড়ে আট হাজার টাকায় দাঁড়াচ্ছে। তো যেখানে দুইরুমের একটা ভদ্র বাসার ভাড়াই এর সমান, অন্তত রাজধানী ঢাকায়; সেখানে যেই ব্যটা বউ-বাচ্চা-বাড়িভাড়া আর বাজার খরচ সামলানোর জন্য পুলিশের চাকরী করতেসে সে কি করবে? দুর্নীতি তারে আরো বেশি টাকা অফার করতেসে এয়ারটেলের মতো। সে কি দুর্নীতিতে জয়েন করবে না? কি করে সে তার জীবন ও সংসার সামলাবে?
তাই বলে একেবারে আমাদের মতো গরীব দেশের দুঃখী-সুখী ছাপোষা মানুষগুলোর সঙ্গে দুর্নীতি? তাদের গাড়ি আটকায়ে পুলিশ ঘুষ খাবে? মিথ্যা মামলায় থানায় ধরে নিয়ে নির্যাতন-কোর্টে চালান-হাজতবাসের ভয় দেখিয়ে টাকা খাবে? এক লোকের কাছ থেকে টাকা খেয়ে অন্যয়ভাবে আরেকজনকে দখলী জমি থেকে উঠায়ে দেবে?
না, এই অন্যয় কাজগুলো করার অধিকার পুলিশের কেন, কারোই নাই। তবে সেইটা যেন না হয়, সেজন্য খালি পুলিশকে গালি আর গালি দিলেই কার্যোদ্ধার হয়ে যাবে না। পুলিশ কিন্তু এই সমাজেরই মানুষ। তারা বিচ্ছিন্ন কেউ নয়। যেটা দরকার সেটা হচ্ছে, সবার মধ্যে সদিচ্ছা জাগিয়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া। মানুষকেও যেমন গাড়ির কাগজ-পত্র/ড্রাইভিং লাইসেন্স হাতে নিয়ে গাড়ি বের করতে হবে, সরকারকেও তেমন দু'পক্ষকে সংযত আচরণের নির্দেশ দিতে হবে এবং পুলিশদেরকেও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নয় বরং সবরকম দুর্ঘটনা এড়ানো ও ক্ষয়-ক্ষতি কমানোর জন্য দায়িত্ব পালনে যেতে হবে।
এটা একদিনে হবে না। অনেক অনেক চর্চার মধ্য দিয়ে এরকম সুষম রীতি গড়ে উঠলেও উঠতে পারে। সেজন্য চেষ্টা করা জরুরি, বড় আঙ্গিকে সবাই মিলে চেষ্টা করা জরুরি। এরকম আরো বিভিন্ন খাত আছে। কাস্টমস্ ই বলি, আর যাই বলি না কেন, সব জায়গায় পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব। সবার মধ্যে সদিচ্ছা থাকলে অবশ্যই সম্ভব। আবারো বলি, সেজন্য চেষ্টা থাকা জরুরি।
আর তারচে'ও যেটা জরুরি সেটা হচ্ছে একটা উপলব্ধি। চেষ্টা না করলে কোনদিনও অবস্থার উন্নতি সম্ভব না।
তবে ক্রসফায়ার সমর্থন করি না।

২৪

রাসেল আশরাফ's picture


মীরের সাথে একমত। আমাদের গ্রামে একটা কথা প্রচলিত আছে ''সব মাছে গু খায় ঘাওরা মাছের দোষ হয়''।

আমাদের পুলিশের হয়ছে সেই দশা।

২৫

লিজা's picture


হুম, সেটাই । যত দোষ নন্দ ঘোষ !!

২৬

রাসেল's picture


তরিকাটা "আলোকিত মানুষ" তৈরির তরিকা। প্রথম আলোর শপথের গাড়ী মাটির রাস্তায় নামিয়ে গণশপথের ছলনা করে দেশের নৈতিকতার মাণোন্নয়ন প্রকল্পে পরিবর্তন আসবে এমনটা আশা করা অবশ্যই চমৎকার।
এই সামাজিক বাস্তবতায় বসবাস করে আশাবাদী হয়ে উঠতে পারাটা অবশ্যই প্রশংসনীয় কিন্তু সার্বিক পরিবর্তন আনতে আরও অনেক কিছুই বদলে যেতে হবে। দেশকে "মায়ের" মতো ভালোবেসে "বেশ্যার" মতো ব্যবহার করলে সেটা সম্ভব না।
রাজনৈতিক সরকারের সদিচ্ছা, বিচার বিভাগে নিয়োজিত ব্যক্তি এবং প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের মেরুদন্ড এইসব পরিবর্তনের হাতিয়ার। আপাতত আমাদের সামনে জেলী মাছের মেরুদন্ডের অনেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা আছেন যারা অক্টোপাসের মতো রং বদলে পরিস্থিতি থেকে পালান এবং সরকারের মতে অমত করেন না। বাবর ৫০০ বছরআগে বাঙ্গালী সম্পর্কে একটা চরম মন্তব্য করেছিলেন- এই দেশের মানুষ কোনো নিয়মকে মানে না, বরং দেশের মানুষ সিংহাসনের ভক্ত, সেখানে যেই বসে থাকুক না কেনো সবাই তার আনুগত্য স্বীকার করে নেয়। এমন অনুগত জাতি হিসেবে আমরা যতটুকু গোয়া মারা খাওয়ার কথা তার বেশী খাচ্ছি না এটা নিশ্চিত বলতে পারি।

২৭

তানবীরা's picture


আমার বলার আর কিছু নাই Sad(

২৮

লীনা দিলরুবা's picture


@মাহবুব সুমন, রাসেল এবং ভাস্কর দা..

মীর অনেকগুলো কথা বলছে যে কথা গুলো আমি বাড়তি বলতাম তার পুরোটাই সে বলে দিয়েছে। পুলিশ এর দুর্ণীতিগ্রস্থতা নিয়া আমি শুরুতেই বলছি--

দুর্নীতি নিয়া পুলিশ এর একশোবার বিচার হোক কিন্তু তারে তালিকার প্রথমে রাখার আগে তারে কিভাবে রাখছেন সেইটা একবার বিবেচনা করেন।

পুলিশ সংস্কার নিয়া রাসেল ভাই আপডেট না তাই প্রব্লেম এর কথা সচিব রে বলতে সুপারিশ করেন। ব্রিটিশ আমলের আইন দিয়া পুলিশ চলে সেখানে আধুনিক একটা নীতিমালা ঝুলে আছে দীর্ঘদিন। যুগে যুগে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ পুলিশকে আজকের পুলিশ বানয়েছে।

একটা একটা উদাহরণ আমাদের আলোচনার জায়গাটাকে সীমাবদ্ধ করে ফেলছে। আমি সিস্টেম- এবং মরা দেশটার দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। আর আপ্নে তো তারে ঠিকমত পুলিশীং করতে দেন না, বিশ্বকাপ ক্রিকেট এর টিকিট কিনতে লোকজন ঠিকমত নিয়ম মাইনা একটা সারি বদ্ধ লাইন মানতে পারে না তাদেরকে লাইনে রাখার জন্যও পুলিশ লাগে। এই আমরাই রাস্তার মাঝখান দিয়া দৌড়াই, লেন মেনে গাড়ি চালাই না। যে দেশের বেশিরভাগ মানুষদের সাধারণ নৈতিকতার শিক্ষার চর্চা নাই তাদেরকে পুলিশ ১৬ কোটির জন্য ১৬ কোটি হলেও কিচ্ছু করতে পারবেনা, আছে মোটে ১.৪০ লাখ। উপহাসের হাসিই আসে।

২৯

ভাস্কর's picture


আপনে যখন কইতেছিলেন পুলিশরে কিভাবে রাখা হইছে, বা পুলিশরে সুযোগ-সুবিধা না দিয়া তারে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব দেয়া হইছে, আর তাই পরিপূর্ণ আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করা তার পক্ষে সম্ভব না। বিষয়টা বাস্তবে যা'ই হোক, আইডিয়ালি অন্ততঃ মাইনা নেয়ার কথা মাথায় আসে। কিন্তু আপনি যখন দেশের মানুষের অনিয়মের জীবন যাপনরে পুলিশের অক্ষমতার কারণ হিসাবে নিয়া আসলেন তখন বিষয়টা আর মাইনা নেয়ার জায়গায় থাকে না।

পুলিশিং কনসেপ্টের শুরু হইছিলো জনগণরে সহযোগিতার মধ্য দিয়া আইন সম্পর্কে অবহিত করা আর তারে আইন মানতে সহযোগিতা করা। আর এই দেশে পুলিশ চাইছে আইন মানতে বাধ্য করার রোল। ইতিহাসের কোনো জায়গায়ই সে জনগণের বন্ধু হইতে পারে নাই। জনগণের আইন না জানা বা আইন না মানার যেই চরিত্র সেইটারে পুলিশরা তাগো ভালো থাকার একটা প্রসেসের মধ্যে নিয়া আসছে। লাইন নিয়া মানুষের যখন হুটোপুটি লাগে তখন একজন পুলিশ ঠিকই পাওয়া যায়, যে লাইনে না দাঁড়াইয়াই কিভাবে গন্তব্যে পৌছানো যায় তার ব্যবস্থা কইরা দেয়। জনগণ যতোটা আইন ভাঙে পুলিশ সদস্যরা তার বাড়া হয়। টাকার বিনিময়ে যেহেতু আইন ভাঙাই যায় তাই জনগণও আর এখন পুলিশরে কেয়ার করে না।

আর দোষ সিস্টেমের এইটা মাইনা নিয়াই কওয়া যায় এই সিস্টেমে দূর্বলের উপর অত্যাচার হয় অনেক বেশি, আর এই অত্যাচারে সবচাইতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে পুলিশ ভাইয়েরা। যারা এই ভূমিকা পালন কইরা অন্য যেকোনো জনগণের চাইতে ভালো থাকে। এই ভালো থাকার জন্য তারা অনেক কষ্ট সহ্য করে সেইটা সত্যি হইলেও সেই কষ্টের গুরুত্ব কইমা আসে সাধারণ যেকোনো মানুষের কষ্টের সাথে তুলনায়।

প্রথম আলো

উপরের নিউজটা পইড়েন। এইখানে একজন পুলিশ কর্মকর্তা শীতের ঠাণ্ডার কারনে যে পুলিশের টহল কইমা গেছে আগের চাইতে সেইটা বলতেছেন। বিষয়টা আপনের কালকের একটা ইনফো'র সাথে মিয়ার কন্ট্রাডিক্ট করে বইলাই মনে হইলো...

৩০

লিজা's picture


ভাস্কর'দা পুলিশের উপর মনে হইতেছে মহা ক্ষেপা?
আমরা যারা নিজেদের সাধারণ জনগন বলে মনে করি তারা সব ক্ষেত্রে একটা অজুহাত দাঁড় করাতে পারি নিজেদের অনিয়মের নিজেদের ব্যার্থতার নিজেদের অপরাধের বিপরীতে । আমি পুলিশ না! তো আমি নিরীহ পাবলিক , আমি রাজনীতিক না! তো আমি সাধারণ জনগন ।
অথচ আমাদের দুর ছাইয়ের জন্যই পুলিশে অসত লোকরা চাকরী নেয় । ফেসবুকে কারো ইনফরমেশন পাতায় ঢুকলেই সেখানে পলিটিক্যাল ভিউতে দেখা যায় লেখা আছে , আই ডোন্ট লাইক পলিটিক্স / ইট sucks / এইরকম বহু কথা । কেনরে বাবা! আমি যদি বলি রাজনীতি খারাপ, তুমি যদি বলো রাজনীতি খারাপ, তাইলে তো পাড়ার বখাটে লোকটা রাজনীতি ভালো বলে তা করা শুরু করবে । এমনি করে খারাপ লোকে ভরে যাবে রাজনীতির মাঠ । আর আমরা তথাকথিত ভালো লোকেরা বাইরে বসে বলবো রাজনীতি ভালো নারে , এর মইধ্যে আমি নাই , আমার ছেলেমেয়ে নাই, আমার চৌদ্দ গুস্টিও নাই । পুলিশের ক্ষেত্রেও এমনিই ঘটেছে ।
লোভ মানুষকে অনেক নীচে টেনে নিতে পারে । একজন পুলিশের এস আই কে আট লাখ টাকা দিয়ে চাকরী পেতে হয় । উপরের দিকে আরো বেশী । এখন প্রশ্ন হলো , তাকে কেন পুলিশের চাকরীই পেতে হবে টাকা দিয়ে? তাইলে কি সে ব্যাংকে চাকরী করবে? সেখানেও তো টাকা দিতে হবে । তাইলে কি সে শিক্ষকতা করবে? সেখানেও টাকা দিতে হবে । তাইলে সে বেসরকারী ব্যাংকে চাকরী করবে? সেখানে এম বি এ করা লোক চায়, এটা করতে কত খরচ? তাইলে সে ব্যাবসা করবে বা বিদেশে যাবে । সবাই তো আর এ কাজ করেনা । যেমন সবাই ডাক্তারী করেনা ।
তাইলে সে কি করবে? কৃষিকাজ করতে পারে । আর যদি বাবার অঢেল টাকা পয়সা থাকে তো এমনি বসে বসে সংস্কৃতি চর্চা করতে পারে ।
এখন কথা হলো এই যে যেকোন চাকরীর ক্ষেত্রে টাকা বা ঘুষের ব্যাপারটা এটা কেন । এটা গোড়ার সমস্যা নয়? যাকে বলে সিস্টেমের সমস্যা । সিস্টেমটা ঠিক করবে কে? এটা কোত্থেকে শুরু করতে হবে? সিস্টেম ঠিক থাকলে সব ঠিক । তখন পুলিশও অসত হতে ভয় পাবে । জনগনও সিধা পথে চলবে ।

৩১

ভাস্কর's picture


পুলিশের ভূমিকার কারনে তো অবশ্যই পুলিশের উপর খেপা থাকুম। যেমন মিলিটারীর ভূমিকায় মিলিটারীর উপর খেপা থাকি, ডাক্তারের অবহেলায় ডাক্তারের উপর খেপা থাকা হয়...সবই সিস্টেমের দোষ মাইনা নিলেতো আর কোনো কিছু নিয়া কথা কওনটাই দরকার নাই। আমরা দেশের কোনো বিষয় নিয়া কথা কইতে গেলে খালি একটা লাইন লিখলেই পোস্ট শেষ।কিন্তু পুলিশ এই দেশে ক্ষমতার যতো অন্যায় তার অংশীদারিত্ব নেয়। সেইটা সে বাধ্য হইয়া নেক আর শখেই নেক...বিষয়টা বাস্তবতঃ তা'ই ঘটে...

এই দেশের পুলিশবাহিনী রাজনৈতিক ভাবে চাকরী পায় বইলা তারে রাজনৈতিক অপরাধ নিয়া মিথ্যা বলতে দেখা যায়, মিলিটারী কিম্বা ডাক্তাররাও তা কয় কিন্তু সেইটা পুলিশের তুলনায় কিছুই না। এখন যারা পুলিশে চাকরী নেয় তারা এতোসব জাইনাই পুলিশে চাকরী নেয়। ভাগ্যাহত জনগণ আর কিছু না পাইয়া টাকা দিয়া পুলিশের চাকরী নিছে এমন শুনছেন কোনোদিন?

৩২

হাসান রায়হান's picture


ভাগ্যাহত জনগণ আর কিছু না পাইয়া টাকা দিয়া পুলিশের চাকরী নিছে এমন শুনছেন কোনোদিন?

উপরের লেভেল ছাড়া কি লোকজন শখ করে চাকরি নেয়?

৩৩

রাসেল's picture


সমস্ত দায় " সিস্টেম" এর উপর চাপিয়ে দেওয়ার ফলে কি পরিস্থিতি বদলায়? সমস্যার দায় অন্য কারো কাঁধে স্থাপন করলে সমস্যা সমাধানের তাগিদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এইটুকুই মাত্র সত্য।

রাজনৈতিক পরিস্থিতি পঙ্কিলতাময়, নোংরা এবং অসুস্থ কিন্তু সামন্তবাদী ক্ষমতা চর্চার মোহ কারো কম নয়। কয়েকদিন আগেই সংবাদ শিরোণামে এসেছেন একজন সাংসদ,তিনি এবং তার পূত্র উভয়েই উচ্চ শিক্ষিত- তার মহান পূত্রধন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর সমাপ্ত করেছেন ৩ বছর আগে, তার পুত্রের গত ২ বছরের কর্মকান্ডের একটি হলো তিনি দলবল নিয়ে একজনকে খুন করেছেন

সে ছেলেটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বার সময় কিংবা রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জনের আগে খুনি ছিলো না কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষমতা পেয়ে খুনী হয়ে যাওয়ার কারণ কি রাজনীতি? না বিনা বিচারে অন্যায় করে পার পেয়ে যাওয়ার নিশ্চয়তা?
সম্পূর্ণটাই শেষ পর্যন্ত পুলিশ বাহিনীর দক্ষতা ও বিচার বিভাগের আন্তরিকতার উপরে নির্ভর করে। একজন শিক্ষিত এবং আপাতদৃষ্টিতে নিরপরাধী মানুষ দুর্নিতিমুক্ত এবং স্বচ্ছ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর ২ বছরে তার আজীবনের অর্জিত দর্শণ কিংবা আচরণকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যখন এমন আচরণে লিপ্ত হন তখন অন্য কোথাও এর উত্তর খুঁজতে হয়- সেটা সাধারণ মানুষের ক্ষমতা চর্চার পরিচিত প্যাটার্ন।

বিশ্বের যেকোনো দেশেই মানুষ ক্ষমতার স্বাদ পেলে এবং নিয়ন্ত্রনবিহীন ক্ষমতা চর্চা করতে পারলে প্রথমত যৌনসহিংস হয়ে উঠে এবং একই সাথে স্বেচ্ছাচারী অপরাধী হয়ে উঠে, স্বৈরাচার এবং নির্বাচিত নাগরিক প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রেই এমনটা ঘটছে, সুতরাং আমাদের কি মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ক্ষমতাপ্রাপ্তিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা উচিত? সে ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা কি হবে?

৩৪

সাহাদাত উদরাজী's picture


সহমত জানিয়ে গেলাম।
নূতন আর কি বলার আছে?

৩৫

মুকুল's picture


লেখা পছন্দ হইছে।

৩৬

শওকত মাসুম's picture


মানছি যে সব শ্রেনীই দুর্নীতিগ্রস্ত। আমার কথা হচ্ছে, কোন শ্রেনী দুর্নীতিগ্রস্ত হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেশি।
সাধারণ মানুষের আশ্রয়ের জায়গা দুটি, পুলিশ ও বিচার বিভাগ। এই দুটি গেলে আর যাওয়ার জায়গা থাকবে না।

৩৭

ভাস্কর's picture


একদম প্রথম কমেন্টে এইটাই বলতে চাইছিলাম...ভাষার জটিলতায় মনে হয় কেউ বুঝে নাই। আপনে বিষয়টারে কি সুন্দর দুইলাইনে কইয়া দিলেন...ধন্যবাদ মাসুম ভাই।

৩৮

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


যেই রাষ্ট্রযন্ত্রের সবগুলা পার্টস লক্কর-ঝক্কর করে সেই রাষ্ট্রযন্ত্রে তলানির পার্টস নিয়া গুতাগুতি আজাইরা মনে হয়।

পুলিশে ক্রসফায়ারে আর বন্দুকযুদ্ধে মারে, কারণ উপর থেকে নির্দেশ। আর উপরের নির্দেশ ছাড়াই একসময় মানুষ ছিনতাইকারীদের পেট্রোলে পুড়ায়া মারছিল। এই রকম মানুষদের নিয়াই তো জনতা...আর পুলিশ জনতার ভেতরের কোনো এক জন।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

রাসেল's picture

নিজের সম্পর্কে

আপাতত বলবার মতো কিছু নাই,