দিনের অভিজ্ঞতা
সকাল ৮:১৫ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান(প্রাক্তন ভাসানি) নভোথিয়েটারের গেটে দাঁড়িয়ে আছি,
সাড়ে ৮টায় মহাকাশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মহাকাশ শিক্ষার উপযোগিতা নামের একটা সেমিনার শুরু হওয়ার কথা, দুর্ভাগ্য কিংবা সৌভাগ্যক্রমে আমারও সেখানে অংশগ্রহন করবার কথা। গেটের সামনে শীতের রোদ্দুর উপভোগ করছে কয়েকজন পুলিশ এবং কয়েকজন মানুষ, যাদের কাউকে দেখেই মনে হচ্ছে না এরা সেমিনার উপলক্ষে এখানে এসেছেন।
ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছি, উদ্যোক্তা বাংলাদেশ এস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি, উদ্যোক্তাদের কাউকেই দেখছি না, অবশ্য আমি উদ্যোক্তাদের কাউকেই চিনি না। আমার ধারণা ছিলো এরা সবাই বছরের প্রথম সূর্যোদয় দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে উপস্থিত হয় বিশাল কাফেলা নিয়ে।
ঘড়িতে ৮টা ৩০ বাজবার পরে আমি নিজ উদ্যোগেই ঢুকে গেলাম নভোথিয়েটারের গেট দিয়ে, যথারীতি কর্তব্যপরায়ন পুলিশ আমাকে আটকে দিলো, আমার চেহারার ভেতরে কোনো না কোনো সমস্যা আছে এটা আমি নিশ্চিত, দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা থেকেই আমি জানি ব্যক্তিত্ববান মানুষ যাদের পুলিশ-আর্মি- টহল পুলিশ এমন কি আবাসন প্রকল্পের দারোয়ান আটকায় না, আমার চেহারা ঠিক তাদের মতো নয়, এমন কি মুদি দোকানের কর্মচারীও আমার চেহারা দেখলে আইডি কার্ড চেয়ে বসে। এমন চেহারা নিয়ে কোথাও যাওয়া মুশকিল। পুলিশকে নম্র-ভদ্র ভাবে বললাম একটা সেমিনার হওয়ার কথা এখানে, সেটা কোথায় হচ্ছে বলতে পারবেন?
পুলিশ ভদ্রতার মর্যাদা রেখে জানালো আপনি সামনের গেট দিয়ে ভেতরে যান
আমি সামনের গেট দিয়ে ঢুকবার সময় পুনরায় সেখানের পোশাকী দারোয়ান আটকে দিয়ে বললো কই যাইবেন?
বললান আগমনের হেতু, তিনি বললেন আমি যে এখানে দাঁড়িয়ে আছি আমাকে জিজ্ঞাসা করে তো যাবেন, না বলে চলে যান কেনো? তিনি দয়াপরবশ হয়ে আমাকে যাওয়ার অনুমতি দিয়ে বাধিত করলেন
জায়গামতো পৌঁছে দেখি অসংখ্য অপরিচিতের ভীড়ে একলা পড়ে আছি, আশেপাশের কাউকেই চিনি না। উদ্যোক্তাকে চিনলাম তার হাতের ফর্দ দেখে, সেখানে বিভিন্ন অংশগ্রহনকারীর তালিকা, তিনি আন্তরিক ক্ষমা চেয়ে বললেন মাননীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করবেন, তিনি এসে পৌঁছালেই আমাদের অনুষ্ঠান শুরু হবে।
সকাল৯টা, মন্ত্রী তখনও উপস্থিত হতে পারেন নি, সাভার গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষয়ত্রী ক্ষুব্ধ, অন্য একজন উদ্যোক্তার অনুমতি নিয়ে প্রসাধন কক্ষে গেলেন। হঠাৎ করেই একজন উপস্থিত হয়ে রোল কল করা শুরু করলেন। আবারও সংশয়ে পড়লাম, আনুষ্ঠানিক ক্লাশ এবং রোল কলের যন্ত্রনা কি এখানেও!!
অবশেষে নিশ্চিত হলাম তারা সবাই এসেছেন টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে, তাদের শ্রেণীকক্ষ রোল এবং তালিকা মিলিয়ে দেখা হচ্ছে- আমি পাশের আরেকজন নিরব অংশগ্রহনকারীকে বললাম আমাদের নাম কি তালিকায় আছে? সেটা জানবার উপায় কি?
বিদেশে খুচরা আলাপের প্রধান অংশ না কি আবহাওয়ার সংবাদ, আজকের রৌদ্রটা কি চমৎকার, কি ভয়ংকর বৃষ্টি স্যাঁতস্যাঁতে জঘন্য একটা দিন, এ বছর শীতটা ভোগাবে মনে হয়, এভাবেই নাকি বিদেশের অধিকাংশ ইনফর্মাল আলোচনা এবং পাবলিক প্লেসে অপরিচিতের সাথে গালগল্প শুরু হয়। বাংলায় এমন কোনো মাপা ও পরীক্ষিত তরিকা নেই। সুতরাং এসব ক্ষেত্রে কোনো একটা কিছু দিয়ে শুরু করলেই হয়, সেমিনারে উপস্থিত হওয়ার কারণেই আলাপ শুরুর একটা হেতু পাওয়া গেলো, এখন কথার পিঠে কথা চাপিয়ে যাওয়াটাই কর্তব্য।
বিকেল ৫টা পর্যন্ত এখানেই আটকা পড়ে থাকতে হবে, সুতরাং এতসব অপরিচিতের ভীড়ে একজনকে টার্গেট করে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ। রাজনীতিবিদদের গালি দিলে আলোচনা যেকোনো দিকেই গতি পায়, শালার নবাবের বাচ্চা এত দেরি করতেছে আসতে এমন প্রাঞ্জল সূচনার প্রয়োজন হয় নি, বরং আক্ষেপ নিয়েই বললাম ইনারা কখনই সঠিক সময়ে উপস্থিত হতে পারেন না।
আমাকে আশ্চর্য করে দিয়ে সঙ্গী জানালো মন্ত্রী বেশ সময় সচেতন, অন্যান্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি সঠিক সময়েই পৌঁছান, আজই তিনি দেরি করছেন। অংশগ্রহনকারীদের ক্ষোভের পারদ ক্রমশ উর্ধ্বমুখী, এর ভেতরেই ১ ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকবার পর প্রবেশের অনুমতি পাওয়া গেলো, একেবারে প্রথম পাতায় জ্বলজ্বল করছে আমার নাম।
১২৫ জনের সেমিনার, উদ্দেশ্য বাংলাদেশের বিদ্যালয়গুলোতে মহাকাশ বিদ্যা পাঠ্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শিক্ষায় উৎসাহিত করতে মহাকাশ শিক্ষার গুরুত্ব এবং উপযোগিতা। মূলত মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের আমন্ত্রন জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানটিতে সহযোগিতা করছেন জাপানের মহাকাশ বিষয়ক সংস্থা। সে সংস্থার মহাকাশ শিক্ষা কার্যক্রমের প্রধান উপস্থিত হয়েছেন এখানে। তিনি এবং আরও ৫ জন এসেছেন সম্মেলন উপলক্ষে। একই সাথে উপস্থিত হয়েছেন ইউনেস্কোর এশিয়া বিষয়ক প্রধান এবং বাংলাদেশের ইউনেস্কোর প্রধান কর্মকর্তা, কিন্তু মন্ত্রীর দেখা নেই।
অবশেষে তিনি উপস্থিত হলেন, এসে আসন গ্রহন করলেন। ডায়াস এবং সামনে উপবিষ্ট দর্শক ও অংশগ্রহনকারীদের যোগসূত্র মনির হাসান এবং বুয়েটের একজন শিক্ষক। অধ্যাপক এফ আর খান এবং আলী আসগর এসেছেন অনুষ্ঠান উপলক্ষে, তারাই আলোচনার সূত্রধর।
সূচনা বক্তব্য, উদ্বোধনী বক্তব্য শেষে বক্তব্য রাখলেন তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী, তিনি সুরসিক, কবিভাবাপন্ন এবং বক্তব্যের মাঝেই তিনটি স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করলেন, অনেকটা শায়েরী বলবার ছলেই, প্রথমে সূচনার লাইনটি দুইবার বলে কবিতা সম্পন্ন করবার আগে তিনি বলেন যেটাকে আমি কাব্য করেই বলি........
আমি মন্ত্রীর নির্বাচনী বক্তৃতা শুনতে আগ্রহী হয়ে উঠলাম এবং তিনি দুর্নীতিবিরোধী চরম একটি কবিতা উপস্থাপন করলেন যার শেষ লাইন কাফনের কোনো পকেট থাকে না।
মন্ত্রীর বক্তব্যের পর আরও কিছুক্ষণ গেলো, এরপর মন্ত্রীর চলে যাওয়ার আগেই ফটোসেশন। বাঙ্গালী ক্ষমতাবানের আশেপাশে থাকলে ছবি তুলতে ব্যাগ্র হয়ে উঠে,সাথে মন্ত্রীত্বেরপতাকা থাকলে এ নেশা মাস হিস্টেরিয়ায় পরিণত হয়। সে কারণেই অনেক উৎসাহীকে পাওয়া গেলো যারা পারলে মন্ত্রীর কোলে বসে ছবি তুলতে আগ্রহী। এমন আগ্রহীরা যখন ছবি তোলার প্রতিযোগিতা করছে আমি নির্বিবাদে বিড়ু ফুঁকতে বের হয়ে গেলাম।
বিড়ি শেষ করে ফিরে এসে দেখলাম সভার পরবর্তী অংশ শুরু হয়েছে, কেনো এই অনুষ্ঠান, এটার উপযোগিতা, ইউনেস্কোর প্রধান নির্বাহীর বিভিন্ন পূঁজিবাদী অপমানসূচক কথাবার্তা হজম করে বুঝলাম এনজিও মার্কা উন্নয়নের তাগিদ মূলত দাতা সংস্থার অর্থের লোভ, এবং এই অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে তারা যে নির্ধারিত ফর্মায় বাতচিত করে তার ভেতরে অবশ্যপ্রয়োজনীয় শব্দ হলো "ক্যাপাসিটি বিল্ডিং" "এওয়ারনেস বিল্ডিং" এবং সেসব দাফতরিক নিয়ম মেনে চলতে হবে, তারা অন্য কোনো পদ্ধতিতে সহায়তা দিতে আগ্রহী নয়। এর ভেতরেই একজনের পার্স হারিয়ে গেলো, ঘোষক হিসেবে বুয়েটের শিক্ষক বললেন আমাদের সম্মানিত অতিথির পার্স হারানো গিয়েছে কিংবা চুরি গিয়েছে, যদি কেউ খুঁজে পান তাহলে জানাবেন, এবং পার্সটি খুঁজে পাওয়া গেলো, ছবি তুলতে যাওয়ার সময় পার্স তার কোল থেকে চেয়ারের তলে পড়ে গিয়েছিলো। উপস্থিত আত্মমর্যাদা ও আত্মঅংহকারে পরিপূর্ণ শিক্ষকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে, অপমানিত বোধ করে শোরগোল তুললেন, দাবি করলেন উপস্থাপককে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।
বুয়েটের শিক্ষক, সরকারের কর্তাব্যক্তি এবং হোমরা চোমড়াদের ভেতরে একটা উচ্চমন্যতা আছে। তারা অকারণেই নিজেদের এই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ভেবে অন্য সবাইকে "বাল-ছাল" ভেবে সে রকমই ব্যবহার করেন। বুয়েট শিক্ষকও তার ব্যতিক্রম নয়, তিনি বর্তমানের জিপিএ ৫ প্রাপ্ত সকল শিক্ষার্থীরাই যাচ্ছে তাই, তাদের পড়াতে অনেক সমস্যা হয়, তারা কেউই নিজেদের বিশ্লেষণী ক্ষমতা ব্যবহার করে না এমন অভিযোগে ডায়াস ভরে তুললেন। সভার মাঝপথে শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার্থীদের পাঠপ্রদানে কি কি সমস্যা ও সংকট তৈরি হয় সেসব নিয়ে ১ ঘন্টার আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো, মুক্ত আলোচনা , মুনির হাসান, যিনি এই সরকারের শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের কোনো পরামর্শদাতা সম্ভবত, তিনি সূত্রধর, আলোচনা নিজের মতো ডালপালা মেললো, একজন বললেন শিক্ষকদের নৈতিক চরিত্র গঠন করতে হবে, একজন আবেগী শিক্ষক, যিনি সনাতন ধর্মাবলম্বী তিনি বেশ জোর দিয়ে দাবি করলেন মহাবিশ্ব সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করলে আল্লাহকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
আলোচনা হঠাৎ করেই বিতর্কে পরিণত হলো যখন আমাদের সমসাময়িক সময়ে মাধ্যমিক পড়ে আসা একজন বললেন বিজ্ঞান বইয়ের ' এসো নিজে করি' অংশটুকু তুলে দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা হাতে কলমে শিখবার উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে, এমন কি বিজ্ঞান শিক্ষায় অনাগ্রহী হয়ে উঠছে। টিচার্স ট্রেনিং কলেজের একজন জোর প্রতিবাদ জানিয়ে বললেন, সরকার এ নীতি পরিবর্তন করেছে, এখন সরকারী শিক্ষানীতি পারস্পরিক অংশগ্রহনের ভিত্তিতে শিক্ষা প্রদান, এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ শ্লোগান দেওয়া সরকার নতুন ভাবে ঘোষণা করেছে প্রয়োজনে শিক্ষাঙ্গনে আইসিটির ব্যবহার হবে, এবস্ট্রাক্ট বিষয়গুলো ডিজিটাল ইমেজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখানো হবে, এবং সরকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার সরবরাহ করবে।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা সবসময়ই গিনিপিগ, তাদের বিভিন্ন ভাবে শিক্ষা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং কোন পদ্ধতি কার্যকর এ বিষয়ে জরিপের জন্য কোনো সংস্থা নিয়োজিত এমনটা আমার জানা নেই। কিন্তু সরকারের খেয়লাখুশী মতো পাঠপ্রদানব্যবস্থা পরিবর্তিত হয়,
আবারও কিছু তত্ত্বালোচনা, এবং জাপানের মহাকাশ প্রকল্পের সচিত্র বর্ণনা শেষে সভার আকর্ষণীয় অংশে চলে আসলাম, একটু পরেি সভার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে, এই সময়ে নৈতিকতা বৃদ্ধির পরামর্শ দেওয়া শিক্ষক বললেন ডিসকভারী চ্যানেলের একটি ডকুমেন্টারীতে বলেছে মানুষ চাঁদে যায় নি, ডকুমেন্টারীর বিভিন্ন অংশে হয়তো এমনটা বলা হয়েছে, এটা নিয়েএখনও কুতর্ক বিতর্ক চলছে, কিন্তু বিজ্ঞান শিক্ষক হিসেবে এমন কুতর্ক উপস্থাপন করতে পারে কেউ সেটা আশা করি নি।
তবে আস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির প্রধান যা বললেন তাতে একটা বিষয়ই পরিস্কার হলো মানুষ শুধুমাত্র কতিপয় ধারণার সমষ্টি, এবং ধারণাগুলো কত বিচিত্র এবং বিচিত্র বিষয়াভিমুখী হয়ে উঠতে পারে তার কোনো পূর্বানুমান সম্ভব না।
তিনি বাংলাদেশ এস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির সভ্য হওয়ার সুবাদে বিভিন্ন দেশে এমন সেমিনারে অংশগ্রহন করেছেন, যিনি সুস্পষ্ট ঘোষণা দিলেন সরকারের মহাকাশ ও রিমোট সেন্সিং এজেন্সি অবসরপ্রাপ্ত কতিপয় উজবুকের শেষ আশ্রয়স্থল এবং সেখানে রিমোট সেন্সিং এবং ইমেজিং এর নামে গুগল আর্থ থেকে ছবি নামিয়ে আবহাওয়ার ভবিষ্যতবানী করার বাইরে অন্য কোনো গবেষণা হয় না। তিনি বলে বসলেন মঙ্গলে সভ্যতা ছিলো।
মঙ্গলের বায়ুমন্ডলের অধিকাংশই কার্বন ডাই অক্সাইড, তিনি সুসভ্য এবং বিবেচক মানুষ,তাই তিনি দাবি করেন নি যে মঙ্গলেরউন্নততর সভ্যতার " জীবেরা" খনিজ তৈলচালিত শকট ব্যবহার করে পরিবেশ দুষণের মাত্রা বাড়িয়ে সেখানে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে। তিনি আরও সচেতন হয়ে বললেন সেখানে অতীতে সভ্যতার অস্তিত্ব ছিলো কারণ মঙ্গলে খাল পাওয়া গেছে। সেখানে পানি আছে।
হঠাৎ মনে হলো এই লোকের ধারণা কোনো এক আশ্চর্য কারণে ৭০এর দশকে আটকে আছে, যে সময় মঙ্গলের আগন্তুকদের হামলায় পৃথিবী বিপর্যস্ত হওয়ার সিনেমা বানানো হয়েছে, একজন "মঙ্গল অধিবাসীদের আক্রমন" নামের একটি রেডিও নাটিকা প্রচারের সময় নিু জার্সির অধিকাংশ মানুষ না কি ভয়ে পালিয়ে গিয়েছিলো, এই ব্যক্তি সে সময়ে স্ট্যামপিডে নিহত হতেন।
তার পরবর্তী বক্তব্য হলো মঙ্গলে চৌকোনা পাথর পাওয়া গিয়েছে, কোনো সভ্য জীব ছাড়া কেউতো পাথর চৌকোণা করবে না, এবং সে পাথর পাওয়া গিয়েছে পর্বত থেকে অনেক দুরে, আরও কিছুক্ষণ বলবার সুযোগ পেলে হয়তো তিনি বলতেন মঙ্গলের সভ্যতা পাথরের হাতিয়ার বানানোর ভেতরেই থেমে গিয়েছিলো, মঙ্গলের সভ্য জীবেরা পৃথিবী দখল করে নি কিংবা পৃথিবী দখল করবার সময় হয়তো তাদের যন্ত্রযুগের সমস্ত নিদর্শনই মাটির অনেক গভীরে লুকিয়ে রেখে এসেছিলেন, তবে বিজ্ঞানীরা মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব অস্বীকার করেন নি। তারা ক্ষীণ কণ্ঠে বলেছেন মঙ্গলে হয়তো এক কোষী প্রাণীর বিকাশ সম্ভব, তবে সেইসব এক কোষী প্রাণী বেশ সভ্য- তারা পর্বত থেকে পাথর টেনে এনে কোনো এক অদ্ভুত খেয়ালে চৌকানা করে ফেলে রাখে।
সভার শেষ আকর্ষণ ছিলো চা চক্র- তবে চায়ের ফ্ল্যাস্কের পাশে সংগ্রামি জনতাদের দেখে আর সেখানে সামিল হওয়ার আগ্রহ পেলাম না, দিব্যি গ্যাটগ্যাটিয়ে বের হয়ে আসলাম। কিন্তু আসবার সময়ও একটা বিষয়ে খটকা লেগে থাকলো- ভাসানী নভোথিয়েটারকে বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার করায় কে বেশী অপমানিত হলো? ভাসানী না কি শেখ মুজিবর রহমান। স্বৈরাচারী এরশাদ সাংবাদিকদের বলেছেন' আমার লজ্জা লাগে যখন দেখি আমাদের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ দেশের মহান নেতাদের নামে কুৎসা রটনা করেন। তাদের এ আচরণ আমার কাছে রাজনৈতিক অসভ্যতা মনে হয়। আমি আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এবং স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের নামে কোনো অশালীন কথা বলেছি এমন উদাহরণ কেউ দিতে পারবেন না।
আমাকে লোকজন স্বৈরাচারী বলে-
এরশাদ লাম্পট্য, ক্ষমতার অবৈধ দখল এবং দুর্নীতি করলেও এমন অশোভন আচরণ করেন নি, হয়তো আমাদের প্রধান দুই যুযুদ্ধ্যামন গণতান্ত্রিক দলের জন্য এটা একটা লজ্জ্বাস্কর ঘটনা যে তাদের গণতান্ত্রিক সবক দিচ্ছেন স্বৈরাচারী এরশাদ, যাকে উৎখাতের জন্য একদা দুই প্রধান নেত্রী একত্রিত হয়ে রাজপথে লড়াই করেছে।





সবই তো হইলো, কিন্তু, সর্বশেষ ফলাফলটা কি হইল, সেইটা তো কইলেন না?
ফলাফল হবে কালকে, কালকে হয়তো মজা হবে আশা করা যায়।
শুভ কামনা।
আপনার পোস্টের প্রথম লাইন পড়েই অনুমান করেছিলাম আপনি নামকরণ নিয়ে কিছু লিখবেন শেষে এসে দেখলাম লিখেছেনও।
আমার জানামতে এই নভোথিয়েটার গত আলীগের আমলে তৈরী শুরু হয়ছিলো এবং সেটা যথারীতি বংগবন্ধুর নামে নামকরন হইয়েছিলো কিন্তু ঐ যে যাদের কোন অপমান বোধই নায় তারা এসে নাম পাল্টিয়ে একজন মহান নেতা কে অপমান করেছে। আর এবার এসে আরেক দল আরেক মহান কে অপমান করেছে।এইভাবেই চলছে এইভাবেই চলবে।
অফটপিকঃ আপনার নামের সাথে আমার নামের মিল থাকার কারনে আপনার এই ধরনের পোস্ট পড়লে দু-চারটা ভালো কথা শুনতে পারছি।কেও কেও আমাকে জ্ঞানী উপাধি দিচ্ছে।ভালোই লাগছে মিতা।চালিয়ে যান।

চাকরির কারণেই এই জীবনে আমি হাজারের বেশি সেমিনারে গেছি। আপনার মতো করে ভাবলে কতো লেখা লিখতে পারতাম। এবার থেকে সচেতন থাকতে হবে
তোমার অবস্থা দেখি আমার মত।
রায়হান ভাই আপনিই বুঝবেন কি জটিলতার মধ্যে থাকি, রিকশায় বইয়া থাকলে পুলিশ নামায় বিভিন্ন জায়গায় বেজায়গায় হাতাহাতি করে, রিকশার সীট উল্টায়া দেখে তারপর বলে যান উঠেন।
শান্তিপ্রিয় আইনানুসারী ভদ্রলোকের মতো আমি সকল তল্লাশীতেই সহযোগিতা করি।
মঙ্গলে চৌকোণা পাথর... আজকে পেপারে দেখলাম চৌকোণা বালতির বিজ্ঞাপন
লেখাটা ভালো লাগলো
চুপচাপ পড়ে গেলাম।
আপনি তাইলে কি ?


লেখা মজার এবং শিক্ষনীয় হইছে । মঙ্গলে সভ্যতা ছিল !! ভাবা যায়?
রোদ্দুর উপভোগ করা গ্রুপের সদস্য না, নেহায়েত ওখানে উপস্থিত হওয়া অতিথি।
পরের দিনের ঘটনা জানবার জন্য আগ্রহান্বিত ।
পরের দিনের ঘটনা জানবার জন্য আগ্রহান্বিত ।
আমার চেহারাও সুবিধার না। আমি জীবনে কয়েকবার পুলিশ চেকিং এর মুখোমুখি হৈছি। অথচ আমার সাথের সুন্দর চেহারার বন্ধুটারে পুলিশ কিছুই কয় নাই!
মন্তব্য করুন