সোহেল ভাই------------
মজনু ভাইয়ের চায়ের দোকানের সামনে অনেক দিন পর আজকে সবাই এসেছে, অবশ্য ফুল হাউস বলা যাবে না ফারুক আর নান্নু এখনও এসে পৌঁছায় নি, তবে সবারই আজকে আসবার কথা। কোনো উপলক্ষ্য নেই কিন্তু অনেক দিনের অদর্শণে সবার ভেতরেই একটা দুরত্ব তৈরি হয়েছে, সেই দুরত্ব ঘোচানোর একটা উপলক্ষ্য সোহেল ভাইয়ের নতুন চাকুরি, সোহেল ভাই অবশেষে বিসিএস পোষ্টিং পেয়েছে, সুদুর মাগুড়ায়, যদিও মাগুড়ায় সোহেল ভাইয়ের কোনো জ্ঞাতিগুষ্ঠি নেই, কিন্তু এবার বিসিএসে কোটায় মাগুড়ার চাকুরির পরিমাণ বেশী ছিলো, সে কারণেই সোহেল ভাই নিজের স্থায়ী ঠিকানা দিয়েছিলেন মাগুড়ার মুন্সী পাড়া। সোহেল ভাইয়ের ভালো পরীক্ষা না কি জেলা কোটায় কোন কারণে এটা সম্ভব হলো বলা কঠিন কিন্তু অবশেষে মাগুড়ায় সোহেল ভাইয়ের পোষ্টির হয়েছে, এসি(ল্যান্ড)। সোহেল ভাই উৎফুল্ল, এত দিনের প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। মজনু ভাইও বেশ আনন্দিত, আমাদের সবাইকে অনেক দিন পর একসাথে দেখে।
দুই দফা চা সিগারেট পর্ব শেষ করেও তখনও মূল আকর্ষণ সোহেল ভাইয়ের দেখা নেই, রফিক এক কোণে টুলের উপরে বসে মোবাইল গুতাচ্ছে, আমরা যে যার মতো গুলতানি মারছি।
কি রে রফিক নতুন মোবাইল?
নান্নু সিগারেট ঠোঁটে নিয়ে প্রশ্ন করলো
হ, ক্যামতে বুঝলি।
দামি মোবাইল ঠিক কইছি না?
হ, নোকিয়ার ১৪ হাজার নিছে।
ময়লায় সমস্যা হয় মোবাইলের, দামি সেনসেটিভ মোবাইল
ক্যান? কি দেইখ্যা কইলি?
না অনেকক্ষণ ধরে মোবাইল চুলকাইতাছোস, ময়লাতে মোবাইলের এলার্জি হইছে?
শালার পুত সারাজীবনে টাচস্ক্রিন মোবাইল ইউজ করছোস তুই? একটা কথা কইতে হয় কইয়া দিলি, বোকাচোদা
ও টাচস্ক্রীন মোবাইল, আগে কইবি না। আমি তো দেখতাছি অনেকক্ষণ ধইরা তুই আদর কইরা মোবাইলের পিঠ চুলকাইতাছোস।
তুই আমার লগে কোনো কথা কইবি না, কইলেই থাবড়া খাবি।
একটা প্রশ্ন, এরপর খোদার কসম তোরে অন্য কোনো কথা জিগামু না
কইয়া ফেলা
তোর ঐ সফিসটিকেটেড গার্লফ্রেন্ড কি এখনও আছে না কি ভাই্গ্যা গেছে?
তুই কোনটার কথা কস?
হ বাঞ্চোত তুমি তো ক্যাসানোভা, তোমার তো গন্ডায় গন্ডায় প্রেমিকা, শালা ঠিক মতো একটা মাইয়া পটাইতে পারো না, এখন ভাব চোদাও, কোনটার কথা জিগাই?
সবাই নিজেদের আলোচনা বাদ দিয়ে নান্নু আর রফিকের কথাবার্তা শুনতেছে। আলোচনার কোন পর্যায়ে রফিক নান্নুকে থাবড়া দিতে পারে এইটা নিয়ে রাশেদ আর মারুফের বাজী হয়ে গেলো। সোহেল ভাই আসবার আগেই রফিক নান্নুকে থাবড়া দিবে, বাজীর দর ১০ টাকায় ৫০ টাকা।
কোনটার কথা জিগাস না কইলে ক্যামনে বলি, তৃণা? ফারুক নান্নুর দিকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে
তৃণা, একটু আল্হাদী ধাঁচের কোমল কোমল ন্যাকা নেয়ে?
তুই কি কইতে চাস?
না জিগাইলাম একটু আহ্লাদী টাইপ মাইয়া না কি তৃণা? তাইলে আমি ঐটার কথাই জিগাইতাছি। ঐ মাইয়ারে একদিন ক্যান্টিনে দেখছি, ক্যান্টিনের টুলের উপরে টিস্যু বিছায়া বইছে। শালার ন্যাকামি, টুলে আমরা বইলে টুল ময়লা হয়্যা যায়?
মামা ফুচকা দিছে এক প্লেট, আর আইসক্রীমের কাপে টক দিছে, মাইয়া মামারে ডাইক্যা বলে আপনি আমার বাটিতে কাইন্ডলী টক দিয়ে যাবেন?
ঢং এর কমতি নাই, আইসক্রীমের বাটিতে তার সমস্যা, ঐটাতেও জার্ম আছে। তুই ঐটার লগে ঘুরিস ক্যামনে?
ফারুকের নাক আর কান লাল হয়ে গেছে, যেকোনো মুহুর্তেই থাবড়াকান্ড ঘটে যেতে পারে, বাজীর দর কমে গেছে, এখন ১০ টাকায় ২০ টাকা রেট চলতেছে।
আব্বে হালায় ওরে চুমাইছোস তুই?
নান্নু তুই কিন্তু এক্সট্রা বাড়াবাড়ি করতাছোস, এইটা ঠিক না।
তুই আমার বন্ধু মানুষ, তোর ভালোর জন্য কইতাছি রে মামা, এইরম ন্যাকা মাইয়া নিয়া রাস্তায় নামাই কঠিন, এক সাথে এক বাসায় থাকবি ক্যামতে।
দেখবি প্রত্যেকবার হাত ধরবার সময় স্যাভলন দিয়া হাত ধুইতে কইতাছে, চুমা দিবি, তার আগে থামায়া কইবো ফারুক, সোনা যাও একটু পেপসোডেন্ট দিয়া দাঁত ব্রাশ কইরা আসো , এইটা আমার প্রব্লেম না হইলে কার প্রব্লেম তুই ক? ঐ মাইয়া কি তোরে লাস্ট ১৫ বছর ধইরা চিনে?
শুন নান্নু, তুই আমার স্কুলের বন্ধু কিন্তু তুই যা কইতাছোস এইটা কিন্তু এক্কেরে বাড়াবাড়ি, এইটা ঠিক না। তুই আমার পার্সোনাল লাইফ নিয়া এইরকম কথা কইতে পারোস না। এইটা কোনো সিস্টেমের মধ্য নাই।
তোর সিস্টেমের মায়েরে বাপ, শালার পুত তোরে জিগাইছি তোর লগে ওর সম্পর্ক এখনও টিক্যা আছে কি নাই। সেইটার উত্তর আগে দিয়া দিলে তো আমারে এক্সপ্লানেশন চোদাইতে হয় না।
মজনু ভাই একটা সিগারেট দেন।
আলোচনা আপাতত থেমে গেছে, ফারুক ফোঁস ফোঁস করে সিগারেট টানতেছে। মারুফ রাশেদকে বললো তুই আমারে ৩০ টাকা দে। ফারুক নান্নুকে থাবড়া দিবো না।
নান্নু নান্টুর দিকে ঘুরে বললো দেখ আমি তোরে আমার অবজার্ভেশন বলি, এই যে মাইয়াটা, এই মাইয়াটার এত সমস্যা, এত ছোঁয়াছুঁয়ির সমস্যা, এই মাইয়্যার লাগে থাকতে হইলে প্লাস্টিক পইড়া থাকতে হবে, ওরে হাত ধরতে হইবো গ্লাভস পইড়া, মাইয়া আবার রাবিন্দ্রীক টাইপ , ক্যামোন ক্যামোন কইরা হাঁটে, নরম নরম কইরা কথা কয়, আর ক্যান্টিনের মামার লগে কথা কইবার আগে পিছে দুইবার প্লীজ কয়, আমি শিউর ধর ঐ মাইয়া সকাল বেলা যদি ফারুকের বাসায় আইসা দেখে ফারুক লুঙ্গী পইড়া আছে, অজ্ঞান হইয়া যাইবো। এইগুলা দেশিফিরিঙ্গী আসল ফিরিঙ্গীর চেয়ে রংঢং বেশী।
তোদের অনেকদিন পর দেখলাম, ভালো লাগতেছে, শুনছিস তো সবাই খবরটা।
সোহেল ভাই কখন পৌঁছালো সেটা বুঝতে পারি নি, সবাই আসলে ফারুক আর নান্নু ইস্যুটেই মশগুল ছিলাম।
হ সোহেল ভাই শুনছি। এখন কি খাওয়াইবেন কন?
কি খাওয়ামু মানে? এখনও বেতন পাইছি না কি, এখনও জয়েন করলাম না। আগে গিয়া জয়েন করি, তারপর ট্রেনিং শুরু করি, পোষ্টিং পাইলেই তো হইবো না।
মিয়া সরকারী চাকরীর চেয়ে সুবিধার চাকরী কি আর আছে, আপনি গেলেন কি গেলেন না, কাজ করলেন কি করলেন না, কেউ কিছুই জিগাইবো না। মাস গেলে বেতন পাইবেন। আপনি যদি আপনের পিওনরে বলে রাখেন, ও আপনার হয়ে হাজিরা খাতায় সই করবে, আপনার এমন কি ঐখানে যাইতেও হইবো না। আপনি এইখানে থাকবেন, ঘুরবেন, আড্ডা দিবেন, মাসে দুই চার বার গিয়া অফিস সামলাইয়া আসবেন।
হ, তোগোর যেমোন কথা, তোরা কি বুঝবি চাকরির, এখনও কোনো চাকরি শুরু করছোস?
না তা করি নাই, কিন্তু আমি সরকারী অফিসে তো গেছি কাজ করাইতে না কি?
হ তা গেছোস, এখন সেই দিন আর নাই, দিন বদলাইতাছে, আগের মতো কিছুই থাকবো না। আমাদের কাজের সংস্কৃতি বদলাতে হবে, আমরাই এইটা বদলাবো বুঝলি
সোহেল ভাই কি দরকার এত কষ্ট কইরা বলেন, সবাই যেমনে চলে আপনিও তেমনেই চলেন না। এইসব হুদা গেজাম করে লাভ আছে, হুদাই ফাপড়ে পড়বেন।
এই ভাবেই তো সবাই হাল ছাইড়া দিতাছে এই জন্যই দেশটার কিছু হইতাছে না।
শুন আমি মাগুড়া যাইতাছি, তোরা আসতে পারিস, বেশী কিছু হয়তো করতে পারবো না, কিন্তু আসলে ভালো লাগবে আমার।
আপনি কিছু খান সোহেল ভাই , খাওয়াবেন না সেইটা ঠিক আছে।
হ চা বল, আর কিছু বলিস না, বাসায় চলে যাবো চা খেয়েই
আমরা কোনো কথা না বলে চুপচাপ চা সাটিয়ে যাই।





দিন বদলে যাক।সুদিন আসুক।
জোস। এই সোহেল পর্বটা আমার প্রিয়। চালু রাইখো।
এক সময় ঠিক করছিলাম প্রতি সপ্তাহে একটা লিখবো, পরে দেখলাম আমার ভিতরে আসলে এই রকম রুটিন কিছু নাই।
সোহেল ভাই সিরিজটা আমারো প্রিয় ।
ভালো লাগবার মত গল্প । কিছু কিছু বানান সংশোধন আবশ্যক । জেলা শহরটির নাম মাগুড়া নয়, মাগুরা ।
সোহেল কেবলমাত্র চাকরি পেয়েছে, এখনও যোগদান করেনি । বিসিএস-এ মনোনীত হলে প্রথমেই এসি ল্যান্ড হিসেবে পোস্টিং হয়না ।
[বন্ধুদের আড্ডায় কথোপকথনে বহুল ব্যবহৃত কিছু শব্দ সংলাপে এসেছে । তবে ঐ শব্দগুলো মনে হয় এখানে অপরিহার্য ছিলনা, অন্য শব্দ দিয়েও ভাব প্রকাশ সম্ভব বলে আমি মনে করি ।]
আপনার মতামতের প্রতি সম্পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি, তাহলে হয়তো ব্লগের মজাটা কিছু হলেও নষ্ট হতো!
আমার লেখা নিয়ে এই অভিযোগ সব সময়ই ছিলো, এটা আড্ডার ছবি, আমি অন্য সকল সুশীল আড্ডার বিষয়ে অবগত না কিন্তু গত ২০ ২২ বছর আমি এবং আমরা এমনই অশ্লীল আড্ডা দিয়েই বড় হইলাম।
আর 'বোকাচোদা' শব্দটা অন্য কোনো শব্দ দিয়া প্রতিস্থাপনযোগ্য এমনটা আমার বিশ্বাস হয় না।
"বোকাচোদা" শব্দটা এতই রেন্ডমলি ব্যবহার করি যে অনেক সময় মুখ ফসকে বের হয়ে ফলস পজিশনেও পরে যাই! কিছুদিন আগে ছোটবোনকে কোচিং থেকে রিক্সায় বাসায় আনার সময় এক টেম্পোওয়ালাকে এই গালিটা দিয়ে ফেলছিলাম, ছোটবোন অবাক হয়ে তাকাই বলে, "ভাইয়া এইটা কি"? ....
দারুণ, এই সিরিজ চলুক।
মাশরুরের সাথে একমত।
হা হা প গে
সব ছেলেদের একটা পার্টিকুলার পোর্শন ভালো লেগেছে
আমার পুরোটাই ভালো লেগেছে
আপত্তি জানাইলাম।
চলুক। পরের পর্ব চাই।
মন্তব্য করুন