একটা নোবেল প্রাপ্তির সুখবর
যেকোনো দিন বাংলাদেশের দৈনিক পত্রিকার পাতা খুলে পড়লেই আঁতকে উঠি, মনে হয় ক্রাইম থ্রিলার পড়ছি, গুমখুন, গুপ্তহত্যা, ষড়যন্ত্রের নীলনকশা, বিদেশী শক্তির উস্কানি আর বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার স্বদেশী এজেন্টদের পারস্পরিক সংঘর্ষ আর এদের মুখোশ উন্মোচনে নিবেদিতপ্রাণ সংবাদপত্রকর্মীদের দেশপ্রেম দেখে মুগ্ধ হয়ে যাই।
দেশের দুটো গোয়েন্দা সংস্থা বিশেষ মন্তব্য প্রতিবেদনের উপসংহারে বলেছে " দেশের গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংস করবার চক্রান্তে লিপ্ত আছে বিদেশী রাষ্ট্রের এজেন্টগণ।" তবে আমাদের মাননীয় মন্ত্রী বলেছেন 'কোনো চক্রান্তেই এ দেশের গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংস করা সম্ভব হবে না।'
আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিগণ 'জনকল্যানে নিবেদিত প্রাণ', তাদের একাংশ পেশাজীবী রাজনীতিবিদ, অর্থ্যাৎ রাজনীতিই তাদের রুটি রুজির উৎস, তারা জনকল্যানের কথা ভেবে এত সময় ব্যয় করেন যে অন্য কোনো পেশায় মনোনিবেশ করে তারা নিজেদের গ্রাসাচ্ছাদনের ব্যবস্থা করে উঠতে পারেন না।
তারা যখন বিবৃতি দেন তখন তারা পরস্পরকে দোষারোপ করেন, রাজনীতিবিদগণ পরস্পরকে সেলসম্যান মনে করেন, তাদের জীবনের একটাই উদ্দেশ্য, এই দেশটাকে বিক্রী করে দেওয়া, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দালাল এবং ভারতের উদ্দেশ্যসফল করতে ব্যতিব্যস্ত রাষ্ট্রবিরোধী চক্রের সাথে পাকিস্তানের দালালদের পরিচয়ও আমরা জানি, আমরা প্রতিদিনই তথ্য অবমুক্তি আন্দোলনের সুবাদে জানতে পারি কোনো রাজনৈতিক দলই আসলে বিশ্বাসযোগ্য নয়, আমাদের দেশটা যেকোনো সময়ই বিদেশী কোনো দেশের কাছে বিক্রী হয়ে যেতে পারে, সাবঅল্টার্ন পোমো মানুষেরা চাইছে দেশটা যদি বিক্রী হয়ে যায় তাহলে সেটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রী হলে ভালো, সেখানে যেতে ভিসার বাধ্যবাধকতা থাকবে না তখন।
আমাদের সমাজতন্ত্রী রাজনীতিবিদদের পূত্র-কন্যারা কেউই এখন সমাজতান্ত্রিক রাশিয়ায় কিংবা চীনে যাচ্ছেন না, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করছেন কিংবা তাদের জীবিকা ও বসতি সেখানে। হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন কিংবা সাবেক সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ, সবারই পূত্র-কন্যাদের বসতি আটলান্টিকের ওপারে, এপারে ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন রাজনীতিবিদগণের পূত্র-কন্যারা। প্রাক্তন বিলাতের বিভিন্ন শহরেও তারা আছেন, ইঙ্গ-মার্কিনীদের কাছে দেশটা বিক্রী হয়ে গেলে সবচেয়ে ভালো থাকবেন তারাই, তাদের পূত্র-কন্যার সাথে মোলাকাতের জন্য তখন আর ভিসার আবেদন করতে হবে না।
এইসব রাজনীতিবিদগণের চোখ এয়ারপোর্টের স্ক্যানিং মেশিনের চেয়ে শক্তিশালী, তারা অনেক সাধারণ ঘটনার ভেতরেও ষড়যন্ত্রের নীলনকশা খুঁজে পান, তারা যেকোনো বক্তব্যেই রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্তের গন্ধ পান, গত ২ বছর ধরে আওয়ামি লীগের নেতা-কর্মীদের নাকে শুধু একটাই গন্ধ আসে, তাদের চোকহ মেললেই তারা দেখেন রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, তাদের শরীর ও চেতনা একলক্ষ্যেই নিবেদিত, যেকোনো মূল্যে স্বাধীনতার চেতনা রক্ষা করতে হবে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে বিরোধী দল, জামায়াত যার অন্যতম সহযোগী গত ২ বছরে যা যা করেছে তার বিভিন্ন তালিকা আমাদের সরকারী দলের নেতাকর্মীরা প্রদান করেছেন, তারা খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করে, সিন্ডিকেট করে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে, তারা শেয়ারবাজার হস্তক্ষেপ করে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে, তারা সীমান্তে গিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে, এবং সেসব ষড়যন্ত্রের গন্ধ আমাদের স্বদেশপ্রেমীদের নাকের ফুটো এঁড়াতে পারে নি। তারা ঠিকই কুকুরের মতো গন্ধ শুঁকে বুঝে ফেলেছেন কার বক্তব্যের নেপথ্য কি গন্ধ লুকানো।
আজ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সূত্র ধরে ডেইলি স্টার লিখেছে, প্রধানমন্ত্রী দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেয়েছেন, মনে হলো আমাদের রাজনীতিবিদদের প্রতিভার অবমূল্যায়ন করছি আমরা, আমাদের উচিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে তাদের মানবকল্যানমূলক কোনো পেশায় নিয়োজিত করা।
ইসলামী জঙ্গী গোষ্ঠির উত্থানের ফলে বিশ্বের প্রতিটি দেশের নিরাপত্তাই বিঘ্নিত হচ্ছে প্রতিদিন, প্রতিদিনই আত্মঘাতী বোমা হামলায় প্রাণ হারাচ্ছে নিরীহ মানুষ, আর আমরা আমাদের প্রধানতম নিরাপত্তা বলয়ের সমুচিত ব্যবহারে কার্পন্য করছি, তাদের বিনা বেতনের পেশাজীবী রাজনীতিবিদ হিসেবে স্বদেশ পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত রেখে বিশ্বের অকল্যান ডেকে আনছি, অথচ তাদের এই সহজাত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আমরা অনেক বেশী বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করতে পারতাম।
আমাদের বিশেষ রাষ্ট্রীয় কমিটি গঠন করে এইসব গন্ধশুঁকিয়ে দক্ষ মানুষদের বৈশ্বিক মানবতার কল্যানে নিয়োগ করা উচিত। আমাদের তীক্ষ্ণ ঘ্রাণশক্তির অধিকারী এইসব রাজনীতিবিদদের আমরা এয়ারপো্র্টে নিয়োগ দিবো, এদের নিয়োগ দিবো বিশ্বের বিভিন্ন কনটেইনার সার্ভিস প্রদানকারী সংস্থার কেরানী হিসেবে, তাদের দিয়েই এয়ারপোর্টে স্ক্যানিং করবো, আকাশপথে যাতায়তের নিরাপত্তাহীনতায় প্রতিটি ট্রান্স আটলান্টিক ফ্লাইটেই দুজন নিরাপত্তা রক্ষীকে বহন করতে হয়, এমন অসংখ্য মুল্যবান অপচয় একেবারেই কমিয়ে ফেলা সম্ভব আমাদের রাজনীতিবিদদের এইসব কাজে নিয়োগ দিলে।
তারা গন্ধ শুঁকেই বলে দিতে পারবেন কোন কার্গোটাতে বিস্ফোরক লুকানো, কোন মানুষটার ভেতরে বিমান হামলার ক্ষীণ ভাবনা চলমান সেটাও তারা বলে দিতে পারেন, তারা রাস্তায় নেমে দু দিকে দৃষ্টি দিলেই বলে দিতে পারেন কারা কারা মানবতাবিরোধী চক্রান্ত লিপ্ত, এইসব সুপারম্যানদের দেশের অকল্যানে নিয়োজিত না রেখে আমরা যদি বিদেশে পাঠিয়ে দিতে পারি তাহলে আমাদের বৈদেশিক মূদ্রা ও সম্মানের অভাব কখনও হবে না।
আমাদের প্রধানমন্ত্রী, যিনি গত দু বছর ধরেই বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের গন্ধ শুঁকে শুঁকে নিদ্রাবিহীন রাত্রিযাপন করছেন তাকে প্রধানমন্ত্রীত্বের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দিয়ে যদি আমরা বোমাহমলাপ্রবন যেকোনো দেশের নিরাপত্তাবাহিনীর সহযোগী করে ফেলতে পারি তাহলে সেসব দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে, এমন কি মানবকল্যানে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবার জন্য তিনি প্রার্থিত নোবেলও পেয়ে যেতে পারেন। ইউনুসের মতো দরিদ্র মানুষকে ক্রমশ খুন করে নয় বরং অসংখ্য সাধারণ মানুষের প্রাণ বাঁচিয়ে পাওয়া এই নোবেল আমাদের অত্যন্ত সম্মানজনক অর্জন হবে , আসুন আমরা দলে দলে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে ইলেক্ট্রনিক এবং বেয়ারিং চিঠিতে আবেদন জানাই, তিনি এইসব গন্ধ শুঁকতে শুঁকতে প্রধানমন্ত্রীত্বে অব্যহতি দিয়ে আমাদের নোবেলপ্রাপ্তির সম্ভবনা বৃদ্ধি করুন। সবাইকে সহযোগিতার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।





অত্যন্ত উমদা গবেষণা । গবেষণালব্ধ এমন মারাত্মক গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলের যে আরও মারাত্মক ফল লাভ হতে পারে, তা কিন্তু মনে রাখা দরকার । ৭২, ৭৩,৭৪, ৭৫ সালের ইতিহাস থেকে এখন শিক্ষা নিতে হবে সকলকে ।
ইলেক্ট্রনিক এবং বেয়ারিং চিঠিতে আমিও আবেদন জানাতে চাই।
(আপনার লেখা পড়ে সহমত জানিয়ে গেলাম)
আমাদের কত সমস্যা! 'মশা' আর 'পানি' নিয়ে এখন আর কোথায়ও তেমন একটা আলোচনাও হয় না! আমরা সয়ে গেছি! ঢাকার সাপ্লাইয়ের পানিতে এখন কি পরিমান গন্দ তা যদি আমি আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাহাদুর (স্ত্রীবাচক শব্দ জানি না) কে দেখাতে পারতাম! রামপুরাতে এলেই চলবে! একটা দিন সন্ধ্যায় মিনিট দশেক যদি তিনি আমাদের এলাকার দাঁড়াতেন! মশারা করে গান গায় তা তিনি নিজেই জেনে নিতে পারতেন!
ওরে বাবা বলেন কি ! মশা পলেটিশিয়ানদের দেখে থাকবে ভেবেছেন ?
ভাল বলছেন। কত কিছু মন্তব্য করতে ইচ্ছা করছে......
মন্তব্য করুন