ইউজার লগইন

মাসব্যাপী কার্নিভাল ১১

কারওয়ান বাজারে মানবজমিনের অফিসের সামনে বিশালাকৃতির একটা গরিলার ব্যাটে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাফল্য কামনা করা হয়েছে, ঢাকা শহরের সৈন্দর্যবর্ধন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কিংবা ক্রিকেট বিশ্বকাপে নিজেদের অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে কে কিংবা কারা গরিলার ধারণাটা সামনে নিয়ে এসেছেন আমি জানি না, অবশ্য আফ্রিকার তিনটি দেশ এবার বিশ্বকাপে অংশগ্রহন করছে, সে কারণে গরিলা বাংলাদেশে আসতেই পারে, কিন্তু সেই সাথে বাংলাদেশের বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকদের কোনো ল্যাম্পপোষ্টে ঝুলিয়ে প্রদর্শন করলে আমাদের অংশগ্রহনটা আরও সুন্দর হতে পারতো।
বইমেলায় পৌঁছানোর আগেই, রাজু ভাস্কর্যের সামনে দেখলাম অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে চিৎকার করছে, বিশ্বকাপের উদ্বোধনের সাথে কিভাবে জড়িয়ে আছে ঢাকার মানুষেরা এতা বুঝতে পেরেছিলাম গতকাল রাতেই, শহরের বিভিন্ন অংশের মানুষেরা বিশ্বকাপ উপলক্ষে শহরসজ্জ্বা দেখতে উপস্থিত হয়েছিলেন বাসার সামনে, সেই মানুষেরা আজ স্টেডিয়ামে গিয়েছেন কিংবা টিভিসেটের সামনে বসে উপভোগ করেছেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

এই বইমেলায় আমার সামান্য অংশগ্রহন অপরবাস্তবের সুবাদে, সামহোয়ার ইনের ২০১০ সালে প্রকাশিত লেখাগুলো থেকে বাছাই করে একটা সংকলন করা হয়েছে, সেটার সুচনা অংশটুকু সম্পাদনা পরিষদের সদস্য হিসেবে আমি লিখেছি, অন্য সবার অংশগ্রহনও আছে সেখানে, সেই বই প্রকাশিত হয়েছে শুদ্ধস্বর থেকে, আজ বইমেলায় গিয়ে নিজের লেখা সম্পাদকীয় নিজেই পড়লাম। হুট করে লেখা এই সামান্য সম্পাদকীয় দেখলাম ছাপার অক্ষরে ৩ পাতা
বইমেলায় তেমন ভীড় ছিলো না। নিশ্চিত মনে হাঁটবার সময় দেখলাম হাইওয়ে পুলিশের পেট্রল কার এসে হাজির হয়েছে বইমেলার সামনে। তারা পুলিশ ব্লাড ক্যাম্পের সামনে এসে থেমে গেলেন, বইমেলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তারা এসেছেন এমন ভাবনা ভেবে নিশ্চিত মনেই আমি হাঁটলাম বইমেলায়।
স্টলে ঘুরে ঘুরে বই নেড়েচেড়ে দেখছিলাম, সেখানেই দেখলাম আরিফ জেবতিক, নূপুর বইমেলায় ঘুরছে, তবে যখন অনুষ্ঠান শুরু হলো তার আগেই তারা বইমেলা থেকে নিজের বাসার উদ্দেশ্যে চলে গিয়েছিলো। আর যারা বাসায় যেতে পারেন নি তারা হাজির হয়েছিলেন টোনাটুনির স্টলের সামনে। জনবিরল বইমেলার অধিকাংশ মানুষই টেলিভিশনের আকর্ষণী শক্তির কাছে পরাজিত হয়ে মাটিতে বসে কিংবা ফুটপাত আর রাস্তায় দাঁড়িয়ে উপভোগ করেছেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

বিশ্বকাপ উদ্বোধনের ছোঁয়া লেগেছিলো আজকের বইমেলায়, বইমেলার থিমসং বাজছিলো নিজের মতোই, অমর একুশে গ্রন্থ মেলা, লেখক পাঠকের মিলন মেলা, প্রাণের মেলা গ্রন্থ মেলা, তবে বইমেলায় লেখকেরা ছিলেন, পাঠকেরা ছিলেন, তারা বিভিন্ন স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে বই নাড়াচাড়া করবার বিরল সুযোগও পেয়েছিলেন কিন্তু ঘড়িতে ৭টা বাজবার পর বিশেষত যখন শেখ হাসিনা বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করলেন, এরপর থেকেই বইমেলার স্টলের ঝাঁপ নামিয়ে সবাই মনোযোগী দর্শক।
শেখ হাসিনা অবশ্য একই বক্তব্য দুইবার বলেছেন, ১৬কোটি বাঙ্গালীর জন্য বাংলায় এবং ৬০০ কোটি মর্ত্যবাসীর জন্য সেই একই বক্তব্য দিয়েছেন ইংরেজীতে। সুতরাং তিনি বাংলায় বললেন আমি আনুষ্ঠানিক ভাবে বিশ্বকাপের উদ্বোধন করলাম বলে ইংরেজীতে বললেন I hereby declare ICC worldcup 2011 আমি ভাবলাম নতুন কিছু আসছে বোধ হয়, হঠাৎ করেই তিনি বললেন open

ওপারের দাদারাঃ

শুধুই মুক্তিযুদ্ধের বইয়ের স্টলে বসেছিলেন কামরুল ইসলাম ভুঁইঞা, ১৯৭১ সালে সম্ভবত ক্যাপ্টেন হিসেবেই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিলেন তিনি, বর্তমানে তিনি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণা করেন, অনেকগুলো বই লিখেছেন তিনি, অধিকাংশই স্মৃতিকথা। সেখানে গিয়েছিলাম নূরল কাদেরের স্মৃতিকথা একাত্তর আমার খুঁজতে, বেশ কয়েকদিন আগে দেখেছিলাম স্টলে বইটা আছে, আজ খুঁজে না পেয়ে বললাম বইটি কি এখানে পাওয়া যাবে?
কামরুল ইসলাম ভুঁইঞা জিজ্ঞাসা করলেন আমি তার নাম জানলাম কিভাবে? তিনি মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ব্যক্তিগত ব্যবসায় জড়িয়েছেন এবং ব্যবসায়ী হিসেবে তার বিভিন্ন পদক্ষেপ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, সে কারণে তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উপেক্ষিত কিংবা আমাদের প্রথাগত ইতিহাস রচনা প্রকল্পে তার উপস্থিতি কম।
আমি বললাম তার কথা এইচ টি ইমামের বইয়ে আছে, তিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনি স্বেচ্ছায় নিজের পদবী থেকে খান বিসর্জন দিয়েছেন। সম্মুখসমরে অংশগ্রহনকারী গুটিকয়েক সরকারী কর্মকর্তার একজন তিনি, যারা ভুমিকা কখনই অস্বীকার করা যাবে না।
কামরুল ইসলাম বললেন তিনি পরবর্তীতে বিতর্কিত হলেও ১৯৭১ এ তার অবদান ম্লান হয়ে যায় না।
প্রায় মৃদু কণ্ঠে বললাম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বইগুলোর দাম অত্যাধিক বেশী, এটা কম হলে ভালো হতো।
বাঘের লেজে আগুণ ধরিয়ে দিলাম এমনভাবেই হুঙ্কার দিলেন তিনি, দাম বেশী মানে? মিনমিন করে বললাম সা’দাত হুসেইনের স্মৃতিকথা আছে, ১২০ পাতার বইয়ের দাম লিখে রেখেছে ২০০ টাকা, এটা অত্যাধিক মনে হয়।
তিনি বললেন আমরা প্রকাশকের ঠিক করেছি প্রতি ফর্মা বইয়ের দাম হবে ২০টাকা, ১ ফর্মা ১৬ পৃষ্টা, যিনি লিখছেন তিনি গবেষণা করে লিখছেন, তার পরিশ্রমের মূল্য আছে, বইয়ের পাতা আর ছাপার মান উন্নত, সেটাও বিবেচনা করতে হবে। বিদেশে একটা বইয়ের দাম ২৫ ডলারের কম হবে না। কিভাবে তুমি বল বইয়ের দাম বেশী।
তারপর আমি যখন অর্থমন্ত্রী মুহিতের স্মৃতিতে অম্লান ১৯৭১ কিনলাম, তিনি বইটির ফর্মা হিসেব করে বললেন এই ২৫ ফর্মার বইয়ের দাম হওয়ার কথা ৫০০ টাকা তুমি সেটা কিনতে পারতেছো ২৫০ টাকায় কারণ এটা ছাপা হয়েছিলো ২০০১ সালে।
তাকে বলতে পারলাম না ২০০১ সালে প্রতি ফর্মা হিসেবে বইটার দাম কি ২৫০ টাকা হওয়া যুক্তিযুক্ত ছিলো।
প্রতিটি বইয়ের পৃষ্টা আর ফর্মা হিসেব করে দাম জানালেন, বইটার এখনকার বাজারমূল্য কত হওয়া উচিত, আমরা ২৫% ছাড় পেয়েছি আরও ছাড় দাবি করি কেনো।
জিজ্ঞাসা করলাম আপনাদের গবেষণানির্ভর কোনো বই প্রকাশিত হয় নি, অনেক দিন ধরেই হচ্ছে না। জিজ্ঞাসা করলাম ১৯৭১ আর ১৯৭২ সালে ভারত থেকে বেশ কিছু বই প্রকাশিত হয়েছিলো, বিভিন্ন গবেষণার বইয়ে সেসব বইয়ের নামের তালিকা পাই কিন্তু বইগুলো হাতে পাই না। সেসব বই কোথায় পাওয়া যাবে?
বললেন বইগুলো সংগ্রহ করতে হবে ব্যক্তিগত ভাবে, ৪০ বছর আগে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ ভারতের কাছে নেহায়েত একটি ইন্দোপাক ওয়ার, সেটার গুরুত্ব তাদের কাছে তেমন নেই, সে কারণেই তারা বইগুলো রিপ্রিন্ট করবে না। আর তারা বিভিন্ন প্রকাশকের কাছে সে বইগুলো বাংলাদেশে প্রকাশ করবার অনুমতি চেয়েছিলেন তবে প্রকাশকেরা রাজী হয় নি।
বললাম তাদের আপত্তির কারণ কি?
বললেন ওপারের দাদাদের খেয়াল

নিজের লেখাঃ

এক বন্ধুর সাথে দেখা হলো বইমেলায়, বললো তুই ব্লগে লেখালাখি করিস, এখনও লিখিস?
আমি অধিকাংশ সময়ই এই প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি, ব্লগ লেখা আর বই লেখার ভেতরের তফাতটুকু আমার কাছে স্পষ্ট, তাই বললাম, আমি লিখি না তেমন
বললো তোর লেখা নিয়ে একটা বই করতে চাই, তুই ব্লগ থেকে আমাকে লেখা দে।
গত ৫ বছরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্লগে অন্তত হাজারটা পোষ্ট করেছি, বিভিন্ন ঘটনার প্রতিক্রিয়ায়, নিজের ক্ষোভ কিংবা আক্ষেপ প্রকাশ করতে গিয়ে কিংবা চলমান সময়ের উপরে নিজের ভাবনা প্রকাশ করতে গিয়ে কিন্তু সেইসব লেখার ৯৫% একেবারে রাবিশ। হয়তো এই ১০০০ লেখার ভেতরে ২৫ কিংবা ৫০টা লেখা নিয়ে অন্তত আনন্দিত হওয়ার কারণ আছে, সেসব লেখা হয়তো ১০ বছর পর পড়লে মনে হবে না সেটা লেখা উচিত হয় নি। অধিকাংশ প্রতিক্রিয়ার লেখার স্থায়িত্বই খুব বেশী হলে ২৪ ঘন্টা, দৈনিক সংবাদপত্রের মতো দিনের আলো নিভে গেলেই সেসবের গুরুত্ব হারিয়ে যায়, দীর্ঘ সময়ের জন্য লেখা তেমন কিছু ব্লগে নেই, হয়তো খুজতে গেলে আন্দালিফকে নিয়ে একটা উপন্যাস লিখবার ব্যর্থ চেষ্টা, সুশীল বঙ্গ সুশীল রঙ্গ কিংবা বেশ কয়েকটি কবিতার বাইরে আসলেই আমি গত ৫ বছরে কিছু লিখি নি।
লেখা হয়ে উঠে নি কিংবা আমার লিখবার যোগ্যতা নেই, যে ভাবেই দেখা হোক না কেনো আমার বই প্রকাশিত করবার মতো লেখা নেই, বন্ধুকে সরাসরি বলা যায় এ কথা কিন্তু বন্ধু মানতে রাজী না। এইসব বালছাল প্রকাশিত হওয়ার মতো কিছু না।
বললাম দেখ খুঁজে, ঐগুলা ওপেনসোর্স, যদি তোর মনে হয় গালাগালির বাইরে প্রকাশ করবার মতো কিছু আছ, নিয়ে ছাপায় ফেল, আমার সমস্যা নাই। তবে আমাকে যদি বাছাই করতে বলিস তাহলে আমি বলবো আমার বই প্রকাশ করবার মতো তেমন লেখা নাই।
টুটুল ভাইকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম গত বছর একটা বই লিখবো, লিখে শেষ করবোই। অথচ বইমেলার দিন তারিখ ধরে লেখার অভ্যাস নাই আমার। আমার লেখার অভ্যাস কিংবা বইয়ের জন্য লেখার অভ্যাস চলে গেছে ৩ বছর আগেই। এখন নিজের সান্তনার জন্য একটা বই লিখবার উপকরণ সংগ্রহের বাইরে আসলে তেমন কিছু লিখছি না। যা লিখছি, সেসব সময় কাটানোর অভ্যাস থেকে লেখা। কিছুটা নিজের লেখার অভ্যাসটুকু বজায় রাখতে লেখা। টুটুল ভাইয়ের সাথে বইমেলায় দেখা হওয়ার আগেই ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি , নিজের অক্ষমতার জন্য লজ্জিত হওয়ার বাইরে আসলে তেমন কিছু করা যায় না।

৫ কোটি মানুষের সাক্ষরের আব্দারঃ
বইমেলায় ঢুকবার মুখেই প্রতিদিন শুনি, জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে কোনো একটি সংস্থা ৫ কোটি মানুষের গণসাক্ষর সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশী মানুষের সাক্ষর সম্বলিত এই দাবি প্রদান করা হবে জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে।
ইংরেজী, ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশ কিংবা জার্মান ভাষায় জাতিসংঘের দাপ্তরিক কার্যক্রম চলে, সেখানে বাংলার অন্তর্ভুক্তি বাংলা ভাষার সম্মান বৃদ্ধি করবে না। বিশ্বের ২৫ কোটি মানুষ বাংলায় কথা বলে, পৃথিবীর সপ্তম কিংবা অষ্টম ভাষা বাংলা, সেটাতে অবশ্যই জাতিসংঘের দাপ্তরিক কার্যক্রম চলতে পারে। কিন্তু ক্ষমতা বিবেচনা করলে বাংলাভাষাভাষিদের প্রজনন ক্ষমতার বাইরে অন্য কোনো ক্ষমতা কি তেমন প্রকাশ্য?
আমাদের খরগোশের মতো প্রজননক্ষমতার নিদর্শন হিসেবে আমাদের দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটির কাছাকাছি, পার্শ্ববর্তী পশ্চিম বাংলায় সে সংখ্যাটা ৯ কোটির কাছাকাছি হবে, আমরা আমাদের দেশ থেকে ৫ কোটি মানুষের সাক্ষর হয়তো সংগ্রহ করে ফেলতে পারবো, আমাদের বয়স্ক শিক্ষার হার ৩৯%, আমাদের সকল শিক্ষিত ব্যক্তি দাবিনামায় সাক্ষর করলেই এই লক্ষ্য অর্জিত হওয়া সম্ভব কিন্তু আমরা আমাদের প্রতিটি শিক্ষিত মানুষের সাক্ষর সংগ্রহ করবো শুধুমাত্র এ কারণেই? এমন উচ্চাভিলাষী পাগলামির বাইরে গিয়ে অন্য কোনো পন্থা কি অবলম্বন করা যায় না?

পাঠকের বইমেলাঃ

আজ মাঘি পুর্ণিমার চাঁদের আলোয় আলোকিত বইমেলার ব্লগার চত্ত্বরে পরিচিত কাউকেই খুঁজে পাই নি। তবে আহমাদ মোস্তফা কামাল, বিবিয়ানা মুভি ক্লাবের সম্পাদকের সাথে বইমেলার আড্ডাটা ছিলো উপভোগ্য, লেখালেখির জগতের বিভিন্ন জনের সাথে কামাল ভাইয়ের পরিচয় আছে, সেসব পরিচিত মানুষের বিভিন্ন কার্যকলাপের বিবরণ শুনলাম।
লিটোলম্যাগ চত্ত্বরে আজ ব্লগারের উপস্থিতি ছিলো না তেমন, সবাই টিভি সেটের সামনে বসে হিন্দী বাংলা আর ইংরেজী গানের জন্য বরাদ্দ সময়ের তুলনা করছিলো। উপস্থিত একজন বললো, বিশ্বকাপের জন্য বিসিবি ইসলামী ব্যাংকের অর্থায়নে শহরশোভা বর্ধনের কাজ করছে, সে কারণেই শহরের সজ্জ্বা ঠিক বিশ্বকাপ উপযোগী না হয়ে হয়েছে ওরস উপলক্ষ্যে শহর সাজানো প্রক্রিয়া,
একজন পাঠক বইমেলার বাইরের গেটের কাছে নিজের বইমেলার অভিজ্ঞতার বয়ান করলেন, বইমেলা ভালো যাচ্ছে না, একটা বইও চুরি করতে পারলাম না এ বছর। বই চুরি করতে বইমেলায় ঢুকে পরা পাঠকেরাই বইমেলার প্রাণ।

তথ্যকেন্দ্রের টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, নিরাপত্তাকর্মীরা হাতের রাইফেল পাশে রেখে দেখেছেন হিন্দী গান, আর টোনাটুনির স্টলের সামনে মাটিতে বসে কিংবা ফুটপাতে দাঁড়িয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপভোগ করা মানুষের ভেতরে উল্লাসের কমতি ছিলো না।
বইমেলার গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে মানুষের মাথার ফাঁক দিয়ে দেখলাম ব্রায়ান এডামসের সামার অফ সিক্সটি নাইন আর এইটিন টিল আই ডাই, তারপর কামাল ভাইয়ের সাথে চা খেতে খেতে দেখলাম আতশবাজি। টাকা পুড়িয়ে উড়িয়ে দেওয়ার আনন্দ বলা যায় এটাকে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জাঁকজমকে কমতি ছিলো না, উপভোগ্য হয়েছে সেটাও বুঝলাম। গতকাল স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখেছিলাম চান্দের গায়ে আলো দিচ্ছে সার্চ লাইট, সেদৃশ্য মোবাইল ক্যামেরাবন্দী করছে উৎসাহী বাঙ্গালী, আজ দেখলাম আতশবাজীতে আলোকিত আকাশ, চাঁদের আলোকে ম্লান করে দেওয়া এই রঙ্গীন আতশবাজী দেখে ভালো লাগলো। আর তারপর অনেক দিন পর প্রায় ফাঁকা ঢাকা শহরের ভিআইপি রাস্তায় রিকশা চেপে বাসায় আসলাম

পোস্টটি ৯ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

জ্যোতি's picture


জট্রিল উদ্বোধনী দেখে এসে জট্রিল একটা লেথা পড়লাম।

লীনা দিলরুবা's picture


আপনার লেখা ব্লগ নিয়া বই হতে পারে, কমেন্ট সহ এবং অকৃত্রিম Smile

নুশেরা's picture


I hate the bloggers and the bloggers community-- একজন লেখক বলেছিলেন। উনি ব্লগারও, তবে এখন বোধহয় আর সক্রিয় নন Smile

তানবীরা's picture


হাসিনার বক্তব্য আমারো কানে লাগল, যদিও আমার ইংলিশ তার থেকে খারাপ। উচ্চারনতো কটঠিন যাকে বলে

সাহাদাত উদরাজী's picture


আতশবাজীতে টাকা পুড়ানোর কথা বলেছেন। টাকা পুড়লে পুড়ুক! আমার কাছে পরিবেশ নষ্টের কথা মনে হয়। গত বছর এমন একটা সমাপ্নী অনুষ্টান ষ্টেডিয়ামে বসে দেখেছিলাম। আমার কাছি মনে হয়েছিল, আমরা আমাদের পরিবেশ হাতে ধরে নষ্ট করছি। টানা ৩ ঘণ্টা থেমে থেমে আতশবাজী!

ঈশান মাহমুদ's picture


বই চুরি করতে বইমেলায় ঢুকে পরা পাঠকেরাই বইমেলার প্রাণ।

ঈশান মাহমুদ's picture


বই চুরি করতে বইমেলায় ঢুকে পরা পাঠকেরাই বইমেলার প্রাণ।

সত্যি কি তাই ?

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.