ক্রিকেট জিতলো না, দুঃখ এটুকুই
বাংলাদেশ দল নিজেদের দিনে বিশ্বের যেকোনো দলকে হারানোর ক্ষমতা রাখে কিন্তু যেকোনো দিনকে নিজেদের মতো করে নেওয়ার মতো দল বাংলাদেশ এখনও হয়ে উঠতে পারে নি, এই বা্স্তবতাটুকু উপলব্ধি করতে পারে নি আমাদের গণমাধ্যম, যেকোনো ভাবেই নিজেদর পণ্য গছাতে মরিয়া বহুজাতিক কোম্পানিও এই বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারে নি, সে কারণে গণমাধ্যমে বাংলাদেশ দলের প্রায় হয়ে যাওয়া বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশ দলের মানটা পরিস্কার বুঝা গেলো। বাংলাদেশ দল ক্রমাগত উন্নতি করছে, গত ১০ বছর ধরেই উন্নতি করছে বাংলাদেশ কিন্তু এখনও সমীহ জাগানো দল হয়ে উঠতে পারে নি।
গতকাল রাতে যা অনুমাণ করেছিলাম, বাংলাদেশ দল হয়েছে সে রকমই, একজনও উলোটপালোট হয় নি। তামিম, ইমরুল, জুনায়েদ, রকিবুল, সাকিবুল, মুশফিক, মাহামুদুল্লাহ, রাজ্জাক, শফিউল রুবেল, তবে এসব মিলিয়ে যে ১০ জন হয় সেটা বুঝতে পারি নি, বুঝলাম যখন দেখলাম বাংলাদেশ দলের প্রথম একাদশে ছক্কা নাঈম আছে।, আশরাফুলকে দলে নিলে হয়তো নাঈমকে বাদ দিতে হতো। নাঈমের জায়গায় দলে যদি সোহওয়াদি শুভ আসতো তাহলেও হয়তো কিছুটা পরিবর্তিত হতো পরিস্থিতি।
বাংলাদেশ দলের মূল ভরসা বোলিং এ মূলত ৩ জন বোলারের উপস্থিতি ছিলো, সাকিব, রাজ্জাক আর শফিউলের উপরে ভরসা করেছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউই আশাপ্রদ বোলিং করতে পারে নি, তবে রুবেল আশাতীত ভালো বল করেছে।
ভারতীয় ব্যাটিং লাইন আপ অনেক দিন ধরেই বিশ্বের সেরা এবং এই ব্যাটিং লাইন আপের গভীরতা বুঝা যায় এটা দেখলেই যে সুরেশ রায়নার মতো ব্যাটসম্যান দলে জায়গা পাচ্ছে না। প্রথম ৭জন সেরা মানের ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে বোলিং করা বিশ্বের যেকোনো বোলারদের জন্যই দুঃস্বপ্নের মতো তার উপরে বাংলাদেশ দলের এমন লক্ষ্যবিহীন বোলিং।
এ টুড টস টু লুজ:
ধোনীর মন্তব্য হয়তো এমনটাই হবে, রাতের শিশিরে বোলিং এ সমস্যা হবে বলে টসে জিতে প্রথমে বোলিং করবার মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়টা কার উপরে বর্তাবে? ভারতীয় দল এমন নিস্প্রাণ ব্যাটিং উইকেটে নিজেদের ভুল ছাড়া আউট হওয়ার কথা না, এবং হয়েছেও তাই। টেন্ডুলকার আউট হয়েছে শেবাগের সাথে ভুল বুঝাবুঝিতে, গৌতম গাম্ভীর আউট হয়েছে নিজের ভুলে, ক্লান্ত শেবাগ ১৭৫ করবার পর আউট হয়েছে মনোসংযোগের অভাবে, আর ইউসুফ পাটানের আউট নিয়ে তেমন কথা বলা যায় না, শুরু থেকেই বাংলাদেশ দলের বোলিং দেখে আক্ষেপ করেছি, শফিউল অনেক দিন ধরেই বাংলাদেশের সেরা বোলার, এমনটাই আমার ধারণা ছিলো, উইকেটের দুই দিকের বল নড়াতে পারে, স্লগ ওভারে কার্যকর ইয়র্কার দিতে পারে, লাইন লেংথ ভালো রাখতে পারে, ছোটো দলগুলোর জন্য বাঘ হয়ে উঠা বাংলাদেশ ভারতের ব্যাটিং লাইন আপের সামনে সেইসব নিয়মনীতি ভুলে গেলো। শফিউল একের পর এক লক্ষ্যবিহীন বোলিং করে ৭ ওভারে ৭০ রান দিলো, রাজ্জাক তার করা ওভারগুলোতে গড়ে ৭ রানের বেশী দিয়েছে। সাবধানী এবং স্বার্থপর সাকিব দিয়েছে ১০ ওভারে ৬১ রান। রুবেল১০ ওভারে ৬০ রান, মাহমুদুল্লাহ ৪২ বল করেছে, ভালো বল বলা যায় এর মাত্র ১২টিকে। বোলিং ব্যার্থতার কারণে বাংলাদেশ দলের ফিল্ডিং ক্ষমতার কোনো ব্যবহার করা সম্ভব হয় নি।
ইনভিজিবল ডিউ ফ্যাক্টর:
জহির খান ভারতের সেরা বোলার, সেরা সুইং বোলার বলা যায় জহির খানকে, দীর্ঘ দিন ধরে চর্চার পর এখন পরিণত জহির খান ভারতের বোলিং স্তম্ভ হয়ে উঠেছে, উইকেটের দুই দকে বল মুভমেন্ট, বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং এবং একই সাথে মুনাফ প্যাটেলের নিঁখুত লাইন লেংথে শ্রীশান্তের অভাব বুঝা যায় নি। বাংলাদেশ দল বোলিং করবার সময় মনে হচ্ছিল পিচে কোনো মুভমেন্ট নেই, বোলাররা কোনো সহযোগিতা পাচ্ছে না পিচ থেকে, কিন্তউ ভারতের বোলিং এর সময় দেখা গেলো পীচে সীম ফেললে বল দুই দিকেই সরানো সম্ভব। সমস্যাটা দক্ষতার এবং নৈপূণ্যের। সীমের উপরে বল ফেলে বাড়তি বাউন্স এবং সীমের ব্যবহারের দক্ষতাই দুই দলের বোলিং এটাকের প্রধান পার্থক্য।।
হরভজন, যুবরাজ, ইউসুফ পাঠানের বোলিং দেখে মনে হয় নি ইনভিজিবল ডিউ খুব বেশী সমস্যা করছে বোলিং এর। প্রথমর্ধ শেষ হওয়ার পরই ময়াচের পরিণতি নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিলো। হারের ব্যবধান কতটুকু কমানো সম্ভব এটাই ছিলো জিজ্ঞাসা। বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং দেখে মনে হলো এই উইকেটে প্রথমে ব্যাটিং করলে বাংলাদেশ অনায়াসেই ৩০০+ রান করতে পারতো। যদি প্রথমে ব্যাটিং এর সিদ্ধান্ত নিতে সাকিব তালে ম্যাচটা উপভোগ্য হয়ে উঠবার একটা ক্ষীণ সম্ভবনা ছিলো, কিন্তু ভারতকে ব্যাটিং করতে পাঠানোর ফলে এমন ক্লোজ উপভোগ্য ম্যাচ হলো না এটা।
যার যেমন ক্ষমতা তেমনই ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা, সান্তনা একটাই সবাই রান পেয়েছে, আশা করা যায় এমন রানের ভেতরে থাকলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে আইসিসি কাপ খেলে আসা দলগুলোর যম হয়ে উঠবে।
আয়ারল্যান্ডের সাথে ম্যাচ নিয়েই আমাদের ভাবতে হবে। ইংল্যান্ড কিংবা সাউথ আফ্রিকাকে চমকে দেওয়ার আশা বাদ দিতে হবে, আমাদের লক্ষ্য আয়ারল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডকে হারানো। আমাদের ক্ষমতার পরিসীমা এটুকুই, এরবেশী যেকোনো কিছুই হবে অঘটন।





তবু অঘটনের আশাতেই আছি...
সকিব আসলে এমন সিদ্ধান্ত কেন নিল বুঝলাম না।তবে এতে কোচের ভূমিকা আছে মনে হচ্ছে।সাকিব অনেক পরিণত, সে নিশ্চয় ভেবেই এমনটা করেছেন, তরুণদের নিয়ে রান তাড়া করা কঠিন তবুও আমি কোন ভাবেই খেলা চলার মধ্যে মিডিয়াতে সাকিবের সমালোচনা চাইনা।সাংবাদিকদের একটু ছাড় দিতেই হবে, আল্লাহর রহমতে দল ভালোই খেলেছে। সামনে ইংল্যান্ড আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে এমন খেলে অন্তত একটা ম্যাচ বের করতেই হবে আর আয়ারল্যান্ড, হল্যান্ড এর সাথে জিততেই হবে আমাদের। আজ খেলা দেখে মনে হয়েছে ঐ দিন শেষ, যখন বুলবুল, আকরাম খান, পাইলট রা লাইন ধরে আউট হতো । সবাই ভালো খেলেছে , আমরা ওদের পাশে আছি । টাইগাররা ব্যতিক্রমী, টাইগাররা আজ পর্বত শিখরে।
ধন্যবাদ এমন পোস্ট দেয়ার জন্য।ধারাবাহিক লেখা চাই।
প্রথম ম্যাচ বলে বাংলাদেশের বোলাররা একটু চাপে ছিল তাই খারাপ বল করেছে। পরের ম্যাচগুলোতে বোলাররা স্বরূপে ফিরবে বলে আমি আশা করছি।
তবু অঘটনের আশাতেই আছি...
তামিম বা সাকিব যে কেউ যদি সেঞ্চুরী করতে পারতো তাহলে আজকেও আশা ছিল
তানবীরার মত আমারও কষ্ট----
If bangladesh lost the toss, do u think India was going to bat first? NO. So bowling first is the right decession for Sakib. 300+ score is reasonable for India's present batting depth. And yes, still i believe in bangladesh, banglades has the ability to beat England. Let's see.
খেলে হারলে দুঃখ নেই। গতকাল বাংলাদেশ খেলে হেরেছে এবং স্কোরটা সম্মানজনক।
আরে মিয়া সাহস রাখো। ইংল্যান্ডকে হারামু। কয়মাস আগে ওদের মাটিতে হারায় আসছি। এখন নিজের মাটিতে যদি জয়ের মানসিকতা না রাখো তাইলে খেইলা কী লাভ।
আগে ব্যাটিং নিলেও খুব লাভ হইতনা। বরং ইন্ডিয়া ২ তিন উইকেট হারাইয়া ইজি জিততো। পরে ব্যাটিং নিয়া লাভই হইছে। এত বিশাল রান চেইজ করতে গিয়া সাকিব, তামিম, ইমরুলরা না ঘাবড়ায়া বুক উঁচু কইরা চেজ করছে এইটা দেইখা সারা দুনিয়া চমকায়া গেছে।
মুনাফ প্যাটেলের বলে ইনসাইড এজে নিজের স্ট্যাম্প ভাঙবার আগে ইমরুলের ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে ৪ হয়েছে তিনটা, সেটা ওর যোগ্যতায় হয় নি, হি ওয়াজ প্লেয়িং এওয়ে ফ্রম দ্যা বডি, সমস্যাটা টেকনিকের, তামিম জুনায়েদ সবাই এমন খেলা খেলে, যখন রান পায় ব্যাটসম্যান তখন টেকনিক নিয়ে কোনো কথা শোনা যায় না, কিন্তু মুনাফের বলে আউট হওয়ার আগে অন্তত চার বার এমন আউট হওয়ার হাত থেকে বেঁচেছে ইমরুল। সেটা বুক চিতিয়ে লড়াই না, বরং তামিমের ইনিংস কিংবা সাকিবের ইনিংসটা আলোচনায় আসতে পারে। সেটা অনেক বেশী পরিপক্ক ইনিংস ছিলো।
কালকের খেলা দেইখা আমারো মনে হইছে বাংলাদেশ ইংল্যান্ড বা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে জিততে পারে...
ভারতের উইকেট পরছে তাদের দোষেই... এটা ঠিক। এই উইকেটে বোলারদের কিছুই করার নেই। এখানে মাশরাফি মন্তব্য দেখুন.... এবং অলোক কাপালীর মন্তব্যও এমনি ছিল
মন্তব্য করুন