ইউজার লগইন

মাসব্যাপী কার্ণিভাল ১২

বই মেলা শেষে টিএসসি থেকে শাহবাগের দিকে হেঁটে আসবার সময় বুঝি আমরা ত্যাগে বিশ্বাসী, রাস্তার দুপাশেই মানুষ সারি বেধে প্রসাব করে রেখেছে, তার গন্ধে মৌ মৌ করছে চা্রপাশ, সাবধানী পা ফেলে এই অব্যহত স্রোত এড়িয়ে শাহবাগ পর্যন্ত হেঁটে আসবার কৌশলের কাছে যেকোনো কমান্ডো ট্রেনিং শিশুতোষ মনে হবে।

বইমেলার ব্যারিকেড থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ পথটাতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সহায়তা আর সহযোগিতার আহ্বান সম্বলিত বাক্স এবং ব্যানারের সামনে আগ্রহ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের উপলব্ধি ভিন্ন রকম, তারা বেশ স্পষ্টই বুঝে মলমুত্র ব্যতিত বাঙালী অন্য কিছু এত সহজে ত্যাগ করে না।

দীর্ঘ লড়াই শেষে স্বজনের জীবন রক্ষার লড়াইয়ে হাল ছেড়ে দেওয়া মানুষদের মরিয়া চেষ্টা কিংবা বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা থেকে যারা এমন ব্যানার হাতে রাস্তায় দাড়াচ্ছে তাদের প্রত্যাশার শেষ কোথায়? একজন অসুস্থ মানুষকে যদি বলা যায় তোমার চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহের ক্ষমতা তোমার নেই , তুমি অযথা বেঁচে কি করবে? তার চেয়ে বরং তসবি জপো আর আল্লাহ আল্লাহ করো। এইসব মানুষের কাছে হাত পেতে তাদের অনুগ্রহে যৎকিঞ্চিত জীবন পেয়ে তুমি কি করবে? এই নির্মমতার বিপরীতে সেইসব মানুষের ভালোবাসা কি পরিচয়ে প্রতিরোধ করবে?

আমরা স্বজনদের ভালোবাসি, নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও আমরা চাই আরও কিছু দিন, আরও কিছুক্ষণ তারা আমাদের সঙ্গে থাকুক, আরও একটু হাসি, আরও একটু আনন্দ, আরও একটু আশ্বাস। আমরা অলৌকিক কিছুর প্রত্যাশায় থাকি। সেই অলৌকিক কিছুর প্রত্যাশা করছে মেডিক্যাল স্টুডেন্ট, আই ই আরের শিক্ষার্থীর মা, সাংবাদিকতা বিভাগের একজন ছাত্র, দুটি শিশু, একটি কিশোর, সবার পরিবারই তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, অবশেষে চিকিৎসার বিপুল ভার বহনে ব্যর্থ হয়ে সবার সহযোগিতা চাইছে। মেলায় আগত মানুষদের একাংশও যদি তাদের বইয়ের কমিশনগুলো তাদের দিয়ে যায়, হয়তো তাদের এক মাসের চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহ হবে। এই পরিবারগুলো আরও একমাস তাদের প্রিয়জনের সান্নিধ্য পাবে।

এইসব মানুষদের মুখের উপর দিয়ে প্রতিদিন হেঁটে যেতে কষ্ট লাগে। আমাদের হাসপাতালগুলোতে তেমন জটিল রোগের চিকিৎসা হয় না, রাস্তায় লিফলেট বিলিয়ে জটিল ও কুটিল সকল রোগের চিকিৎসা করছে মঘা ইউনানীর কবিরাজেরা, আর যৌবনশক্তি এবং দীর্ঘস্থায়ী সঙ্গমের প্রতিশ্রুতি দেওয়া এইসব লিফলেটের মোহ ভুলে মানুষ বিদেশে যাচ্ছে বিভিন্ন রোগের অপারেশন করতে। আমাদের হাসপাতালগুলোর অভিজ্ঞ ডাক্তারেরা ডায়ারিয়া, কলেরা, খোস পাঁচরা আর কৃমির ঔষধ দিতে দিতে মাথার চুল পাকিয়ে ফেললেন।

আজ বইমেলায় তেমন দমবন্ধ ভীড় ছিলো না, যতটুকু ভীড় সেটুকু সহনীয় এবং উপভোগ্য, চলতি রাস্তায় হঠাৎ একজন গায়ের উপর পরে যাওয়া ব্যতিত অন্য কোনো বিড়ম্বনার শিকার হই নি আজ, ভদ্রমহিলা আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে্ন। তবে শেষ বার যেদিন বইমেলায় আসলাম, একুশে ফেব্রুয়ারীতে, সেদিন মানুষের চলন্ত দেয়ালে আমাকে পিষতে পিষতে একজন তার এবং আমার ফাঁকে তার স্ত্রীকে ঢুকানোর চেষ্টা করছিলেন, আমি একজনের পিঠের সাথে লেপ্টে দেখলাম কিভাবে তিনি তার স্ত্রীর শরীর নিরাপদ রাখবার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, কি্ন্তু তাকে আসতেই হবে বইমেলায়। প্রাণের মেলায় তিনি এভাবেই আমাকে লেপ্টে দিতে চেয়েছিলেন ভীড়ের দেয়ালে। তবে তার এই সচেতনতার কারণ কি ছিলো সেটা উপলব্ধি করলাম মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানেই।

বইমেলার ভীড়ের চাপে অস্থির হয়ে কোনো মতে যখন বইমেলা থেকে পালাচ্ছিলাম, তখন মানুষের দীর্ঘ সারি দাঁড়িয়ে ছিলো, এক এক সারিতে অসংখ্য মানুষ, যেমন সারি বেধে ঢুকছে ভিতরে তেমনই বের হয়ে আসছে , বইমেলার তীব্র ভীড়ে যদি সামনের মহিলার পাছা আর পিঠ চটকে লাল করতে ব্যর্থ হলো যুবক তাহলে তার মঘা ইউনানী যৌবনের অবমূল্যায়ন হবে এমন ভাবনা থেকেই সম্ভবত যুথবদ্ধ যুবকেরা বেশ দীর্ঘ সময় তাদের সামনে দাঁড়ানো মহিলা দলের সদস্যাদের চটকাচ্ছিলেন পরম আমোদে। দী্র্ঘ সময়ের শারীরিক লাঞ্ছনার চাপ নিতে পারেন নি তারা, প্রায় উন্মত্তের মতো তারা যখন ভীড়ের মাঝখানেই লাফিয়ে লাফিয়ে পার হচ্ছিলেন তীব্র আতংকিত চোখে সে দৃশ্যের ভেতরে একটা করুন হাস্যরস ছিলো, শুনলাম উপস্থিত একজন তার পাশের কিশোরকে বলছে বুঝলি এমন জোরে চাপ দিছি মাইয়াটা বলে ভাই একটু আস্তে।

বজ্রমুষ্ঠি তরুণের তুলনায় এই আমাদের অন্তর্জালিক তারুণ্য অনেক ভালো, তারা কিবোর্ড ফাটিয়ে যা করতে পারে সামনা সামনি যদি তার কিয়দংশও দেখাতে পারতো তাহলে রক্তে সয়লাব হয়ে যেতে দেশ। শীৎকারের মতো বরাহশিকারের আনন্দে তোপধ্বনি করা মানুষদের বাখোয়াজি শুনে কেউ কেউ ভীত হয়ে যায় । বাকী বলছিলো ফারুক ওয়াসিফ না কি চিন্তিত বই মেলায় তাকে লাঞ্ছনা করতে পারে কেউ কেউ তার মেহেরজানজনিত অবস্থানের কারণে, কিন্তু ফারুক ওয়াসিফকে দেখলাম সবান্ধব ঘুরছে বইমেলায়, অবশেষে ভীতি অতিক্রম করে সে বইমেলায় পৌঁছাতে পেরেছে। যদি তার সাথে রুবাইয়াতও থাকতো সেও এই বইমেলায় নির্বিঘ্নে ঘুরতে পারতো, খড়্গহস্ত ব্লগারদের কিবোর্ডের তোপ সাইবার ওয়ার্ল্ডে কম্পিউটার স্ক্রীনেই আটকে যায়।

আজ ব্লগার্স কর্ণার ছিল পরিপূর্ণ, ক্যামেরাম্যান, কালপুরুষ এবং আরও অনেক ব্লগারদের আড্ডা দেখলাম দূরে দাঁড়িয়ে, আমরা বন্ধুর টুটুল, জয়িতা, নাজ, রায়হান ভাই, মাসুম ভাই আর মুক্তবয়ানের সাথে দেখা হলো, মাসুম ভাইয়ের বইয়ের দ্বিতীয় মুদ্রন এসেছে মেলায়, শুনলাম শিপনের বইএর প্রথম মুদ্রনও না কি শেষের পথে। অভিনন্দন শিপনকে।

ব্যাচেলরস কোয়ার্টারের চায়ের দোকান থেকে চা সিগারেট শেষ করে মেলায় ঢুকবার পর টুটুল, জয়িতা আর নাজ চলে গেলো সবান্ধবে, আমি আর রায়হান ভাই হাঁটতে হাঁটতে গেলাম অন্য প্রকাশের স্টলে, হুমায়ুন আহমেদের বই বেচেই যারা সারা বছরের খোরাকি জুগিয়ে নেন, এবারও তাদের প্রকাশনা থেকে হুমায়ুন আহমেদের বই প্রকাশিত হয়েছে, প্রকাশনীটির সত্ত্বাধিকারী মনজুরুল, তার সুযোগ্য সম্পাদনায় এবার ৪টি রেসিপি বই প্রকাশিত হয়েছে, ১০০ পদের গরুর মাংস নামের একটি যার অন্যতম।

হুমায়ুন আহমেদের বিভিন্ন নামের মোড়ক বানিয়ে তারা বিক্রী করছেন, হুমায়ুন আহমেদের প্রেমের ৫টি উপন্যাস , হুমায়ুন আহমেদের ভ্রমন, হুমায়ুন আহমেদের এই, সেই, তবে এবার ভালো লাগলো লেবেল লাগিয়ে সমগ্র বিক্রয়ের পদ্ধতি। সেই সময় ১৯০১ ১৯৭১

মোড়কটা দেখে আগ্রহী হয়েই বইটি হাতে নেওয়ার সময় বিক্রেতারা বেশ প্রতিবাদী হয়ে উঠতে চাইছিলো, যেকোনো ভাবেই হোক না কেনো তারা চুরি ঠেকাতে আগ্রহী সম্ভবত। আমিও পালটা ঐ মিয়া দেখতাছি দেখেন না বলবার পর তারা নরম স্বরে বললো ঠিক আছে ভাই দেখেন।
খুলে দেখলাম মধ্যাহ্ণ নামের একটা সময় ধারণ করা উপন্যাস কিংবা ঘটনা লিখবার অপচেষ্টা করেছিলেন হুমায়ুন মিয়া, সেই মধ্যাহ্ণ এবং জোছনা ও জননীর গল্প এক মলাটে আটকে তারা হুমায়ুন আহমেদের সেই সময় সমগ্র বাজারে এনেছেন। বাদশাহ হুমায়ুনের জীবনি অবলম্বনে হুমায়ুন আহমেদের লেখা বইটির নাম না জানা একজন অন্য প্রকাশের স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে হুমায়ুন মামা চাইছে, হয়তো তার চাওয়ার বইটি ছিলো হুমায়ুন নামা, কিন্তু ভীড়ের হট্টগোলে শুনলাম তিনি হুমায়ুন মামা খুজছেন, আমিও হুমায়ুন মামা হেঁকে হেঁকে বললাম তিনি বাদশাহ নামদার লিখেছেন।

সে চক্কর শেষে আবারও ধুমপানের বিরতি, রায়হান ভাইয়ের সাথে বেশ লম্বা সময় ধরে উপন্যাস নিয়ে আলোচনা হলো, এপার বাংলার লেখকদের উপন্যাসের ভেতরে এখন সেই মন অবশ করে দেওয়া বিষয়টাই নেই, তারা অনেক লিখছে, বই মেলায় প্রকাশিত অসংখ্য কবিতা এবং উপন্যাসের ভীড়ে তেমন কোনো উপন্যাস নেই যা নিয়ে মাতামাতি হবে এবং যে বইটা পড়ে দীর্ঘ একটা সপ্তাহ মনটা উদাস হয়ে থাকবে। উপন্যাসের চরিত্রগুলো মাথার ভেতরে ঘুরবে, তাদের কষ্ট আর জীবনবোধ, তাদের পরাজয় এবং আনন্দে এলোমেলো হয়ে থাকা সম্পূর্ণ সপ্তাহটাই উপন্যাসটা বিশ্লেষণ করে কাটবে, মনে হবে এমনটা না হয়ে অন্য রকম হলে ভালো হতো। এই উদাস হয়ে যাওয়া উপন্যাসগুলো গত কয়েক বছরে লেখা হয় নি। বেশীর ভাগ বইয়ের প্রভাবই আসলে পড়বার কয়েক মিনিটের ভেতরেই উবে যায়।

তারপরও উপন্যাস প্রকাশিত হচ্ছে। উপন্যাসের কাছে আমাদের চাহিদা কি? কেনো কোনো উপন্যাসকে ভালো বলি? কেনো বলি উপন্যাস উপন্যাস হয়ে উঠছে না? এটা নিয়ে শাপলুর সাথেও একদিন দীর্ঘ আলোচনা হলো, মহাকাব্যের যুগ শেষ হয়ে যাওয়ার পর গদ্যের যুগে মহাকাব্যের রুপান্তর হয়েছিলো উপন্যাসে, এমনটাই প্রচলিত ধারণা। মহাকাব্য একটা চরিত্রের সম্পূর্ণ জীবন কিংবা একটা নগরের সম্পূর্ণ ব্যপ্তি নিয়ে বিস্তৃত ছিলো, সেখানে বিবৃত ব্যক্তির জীবনের বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ সম্ভব, কোনো একটি বিশ্লেষণই চুড়ান্ত নয়, ব্যক্তির জীবন আদতে এমনই, একজনের জীবন কয়েকটা স্কেচে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব না, কিন্তু আমাদের প্রেমের উপন্যাস, সামাজিক উপন্যাস এবং সিরিয়াস উপন্যাসে ব্যক্তির জীবন কতটুকু সম্পূর্ণ ?

হুমায়ুন আহমেদের ব্যক্তিজীবনের বেশ বড় একটা অংশ প্রকাশ্য আমাদের কাছে, তিনি তার বিভিন্ন বইয়ে তার পরিবারের বিভিন্ন আনন্দ বেদনার কাব্য আমাদের জানিয়েছেন, তার ব্যক্তিজীবন কিংবা তার রোমান্টিক চিত্রায়ন আমাদের মহাকাব্যিক প্রেমিকযুগলে শিরি ফরহাদ, লাইলী মজনু, দেবদাস পার্বতীর সাথে হুমায়ুন গুলতেকিনের নামও সংযুক্ত করেছিলো , হঠাৎ গুলতেকিনএর সাথে বিবাহবিচ্ছেদ এবং শাওনকে বিবাহ করার ফলশ্রুতিতে তার প্রেমময়মুরতি ভেঙে পড়েছে।
সে কারণে তাকে নিন্দা করবার মানুষের অভাব নেই। সম্ভবত প্রেম মিলনে মলিন হয় বিরহে উজ্জ্বল বাক্যে আমাদের বিশ্বাস প্রগাঢ় , সে কারণেই যদি নিছক কামের বশবর্তী হয়ে লাইলী অন্য কারো সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলে কিংবা যদি মজনু ধুশ শালী এত কষ্ট পোষায় না বলে অন্য কোনো মেয়ের ঘাগড়া ধরে চলে যায় কোথাও তাহলে প্রেমের পবিত্রতাবোধ ভেঙে পড়বে ।
আমাদের ইউরোপিয় ঘারানার মনোগ্যামির আধুনিক ভাবনা আমাদের এমনই বিপর্যস্ত করেছে, আমরা এর বাইরে ভাবতে পারি না। আমরা ধরেই নিয়েছি এটাই আমাদের জীবনের গন্তব্য, একটি প্রেম , একটি বিবাহ, বিবাহিত প্রেম মরে যাওয়ার পরও আত্মত্যাগ করে, নিজের সকল সাধা আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে সংসারের স্থিরতার দিকে তাকিয়ে নিজের চাওয়া পাওয়া দমিয়ে একটা সুস্থ সমাজ সংস্কার অনুসারী জীবন যাপনই আদর্শ জীবন যাপন , এর বাইরে যেকোনো জীবন যাপনই অনৈতিক, অগ্রহনযোগ্য।

সে কারণেই প্রভাকে নিয়ে এত হাহাকার, রাজীব কিংবা অপুর্বপর্ব শেষ হওয়ার পর উৎসুক মানুষের নতুন কিছু প্রাপ্ত বয়স্ক বিনোদনের অপেক্ষায় আছে।

রাইসুর কাছে শুনলাম ফরহাদ মজহারের এবাদতনামার নতুন সংস্করণ এসেছে, নতুন সংস্করণে বই কিনলে চাদর আর তসবি ফ্রি। রাইসুর সাথে আগামী প্রকাশনীর স্টলে গেলাম, ফরহাদ মজহারের এবাদতনামা দেখলাম, একটা সুদৃশ্য কাগজের মোড়কে একটা চাদর, একটা কাঠের তসবি আর পুরোনো আমসিপারা স্টাইলে ফটোপেপারে ছাপানো এবাদাতনামা। ফরহাদ মজহার এবাদতনামার সাথে এইসব ফ্রি দিচ্ছেন না কি এটা আগামী প্রকাশনীর ব্যবসাকৌশল সেটা নিশ্চিত না, তবে যদি এটা আগামী প্রকাশনীর ব্যবসায়িক কৌশল হয় তাহলেও আমি নিশ্চিত এর সাথে যে চাদর আর তসবিহ যাচ্ছে সেটার উৎসও ফরিদা আপার বাটিক বুটিকের দোকান, সেখানে জায়নামাজ বানালে হয়তো বইটির পবিত্রতা বজায় রাখবার জন্য হলেও একটি জায়নামাজ আর একটি তসবিহ দিতো। বলা যায় না পরবর্তী সংস্করণে হয়তো এটার সাথে ওজুর বদনাও ফ্রি দেওয়া হবে। পবিত্র গ্রন্থ বদহজম হয়ে যদি বায়ুনির্গত হয় তখন ওজু করে পবিত্র হতে হবে।

আমি রাইসুর পাশে দাঁড়িয়ে বললাম ও এবার চাদর দিছে, আরও ভালো হইতো যদি মজহার এইটার সাথে একটা লুঙ্গি দিতো, হাজার হোক লুঙ্গি আমাদের জাতীয় পোশাক। আমার চপল মতি বক্তব্য আগামী প্রকাশনীতে বসে থাকা মানুষের পছন্দ হলো না , তিনি ক্রুর চোখে আমার দিকে তাকালেন, আমি ভয়ে ভেগে গেলাম এলাকা থেকে।

আর তার পরপরই বইমেলার প্রদীপ নির্বপিত হলো, আজকের মতো বইমেলা সমাপ্ত, গুটি গুটি পায়ে ব্লগারস কর্নারে গিয়ে সিগারেট ধরালাম , সেখান থেকে ঝেটিয়ে বিদায় করলো আমাদের, বর্ধমান হাউসের সিড়ি আর বটতলা থেকে আস্তে আস্তে যখন বইমেলার বাইরে আসছিলাম তখন মনে পড়লো এতগুলো স্টলের বই তারা স্টলে রেখেই চলে যাচ্ছে, এইবইগুলো স্টলেই থাকবে, আমাদের মহান নেতানেত্রীরা এবং তাদের পরিচিতজনের সবাই ছোটোবড় চোর, চোরের অভাব নেই দেশে কিন্তু এইসব চোরেরা সবাই জানে বাংলাদেশে বইয়ের মূল্য এতকম যে বই চু্রি কওরে মান খোয়াতে রাজি না তারা। তাই সারা রাত প্রায় নিরাপত্তাবিহীন পরে থাকলেও বইমেলার মাঠ থেকে বই চুরি হয় না , আমাদের চোরেরা জানে বই চুরি করে কোনো লাভ হয় না।

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

তানবীরা's picture


আমাদের চোরেরা জানে বই চুরি করে কোনো লাভ হয় না।

মোড়কটা দেখে আগ্রহী হয়েই বইটি হাতে নেওয়ার সময় বিক্রেতারা বেশ প্রতিবাদী হয়ে উঠতে চাইছিলো, যেকোনো ভাবেই হোক না কেনো তারা চুরি ঠেকাতে আগ্রহী সম্ভবত।

Glasses

রাসেল's picture


বই চোর আর এমনি চোরের তফাত আছে

উলটচন্ডাল's picture


চমৎকার স্কেচ। মনোলগে আপনার হাত খেলে ভালো, যাকে বলে পইড়া টাশকি লেগে যায়। Smile

আবদুর রাজ্জাক শিপন's picture


'ভাই আস্তে'

--না বইলা, এইসব ক্ষেত্রে পাছা-পিঠ চটকে আমোদ পাওয়া বিকৃত লোলপুরুষটিকে, নারী নরম হাতে জোর একখানা চড় বসায়া দিলে ফলাফল কিরম হইতে পারে বইলা আপনি ধারণা করেন ?

আমার মতে , নরম হাতের শক্ত চড়-ই কার্যকরী !

মামুন হক's picture


শীৎকারের মতো বরাহশিকারের আনন্দে তোপধ্বনি করা মানুষদের বাখোয়াজি শুনে কেউ কেউ ভীত হয়ে যায় । বাকী বলছিলো ফারুক ওয়াসিফ না কি চিন্তিত বই মেলায় তাকে লাঞ্ছনা করতে পারে কেউ কেউ তার মেহেরজানজনিত অবস্থানের কারণে, কিন্তু ফারুক ওয়াসিফকে দেখলাম সবান্ধব ঘুরছে বইমেলায়, অবশেষে ভীতি অতিক্রম করে সে বইমেলায় পৌঁছাতে পেরেছে। যদি তার সাথে রুবাইয়াতও থাকতো সেও এই বইমেলায় নির্বিঘ্নে ঘুরতে পারতো, খড়্গহস্ত ব্লগারদের কিবোর্ডের তোপ সাইবার ওয়ার্ল্ডে কম্পিউটার স্ক্রীনেই আটকে যায়।

---এই বক্রোক্তিগুলো খুব বিরক্তিকর লাগলো, আপনি নিজেওতো একজন খড়গহস্ত ব্লগার সমাজের নানা অসঙ্গতির বিরুদ্ধে। একটা অন্যায়ের প্রতিবাদ যে যার অবস্থানে দাঁড়িয়ে করার অধিকার প্রতিটা মানুষেরই আছে। ফারুক ওয়াসিফের লেখা আমি পছন্দ করি, একটা মাত্র বিতর্কিত লেখার কারণে তাকে ঝেড়ে ফেলে দেয়া আমার পক্ষে অসম্ভব। কিন্তু তার সাথে রুবাইয়াতের তুলনা কেন টানলেন বুঝতে পারলাম না। মেহেরজানের মতো আবর্জনা প্রসবকারী রুবাইয়াতের জন্য আপনার এত দরদ কেন? মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আমাদের অগণিত পূর্ব নারীদের উপরে নারকীয় অত্যাচার চালানো পাকিদানব এবং তাদের দেশী দালালদের অবর্ণনীয় নৃশংসতার প্রসঙ্গ এড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধের মুভির নামে এইসব পেম পেম খেলা বিবমিষাউদ্রেককারী, অবমাননাকর, অসংবেদনশীল অযাচার- যতই তা শিল্পের খোলসে চালিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চালানো হোক।

রাসেল's picture


রুবাইয়াতের সাথে ফারুক ওয়াসিফের তুলনা করার কিছু নাই, রুবাইয়াত আর ওয়াসিফের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ এবং গতকাল তারা সদলবলে বইমেলা ঘুরে যাওয়াটাও তেমন অসম্ভব কিছু না। আমার ধারণা রুবাইয়াত গতকাল বইমেলায় এসেছিলো।

সাহাদাত উদরাজী's picture


অবশেষে গতকাল বাপ ছেলে বই মেলায় গিয়েছিলাম। নানা কারনে এবং টাকা পয়সার টানা টানিতে যেতে চাইছিলাম না! ছেলে বলল, না গেলে নাকি ওর মান সন্মান যাবে!

সময়াভাবে ও টিভিতে ট্রাইনেশন দেখার জন্য তাড়াহুড়া করে চলে এসেছিলাম। আমিও একটা পোষ্ট দিব ভাবছি! আপনার পোষ্ট গুলো পড়ে পড়ে দাতে দাঁত আটকে গেছে!

শওকত মাসুম's picture


আবারো দারুণ।
আমার বইয়ের দ্বিতীয় সংস্করণ না, দ্বিতীয় মুদ্রন বলা যায়। আর এরা একসাথে খুব বেশি বই ছাপে না মনে হয়। Smile

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.