মাসব্যাপী কার্ণিভাল ১৩
বিশ্বকাপে নিজের দেশ প্রতিনিধিত্ব করলে কিছুটা বিড়ম্বনা হয়, তখন অন্য সকল অগুরুত্বপূর্ণ খেলার বিষয়ে পরিপূর্ণ মনোযোগ থাকে না, এবার ক্রিকেট বিশ্বকাপে তাই হচ্ছে, আমার খেলা দেখবার আগ্রহে কমতি পড়েছে, ফুটবল বিশ্বকাপ যতটা আগ্রহ নিয়ে দেখেছি, ক্রিকেট বিশ্বকাপের অন্যদলগুলোর খেলা নিয়ে আমার তেমন আগ্রহ নেই। বন্ধুদের সাথে খেলা বাদ দিলে এমনি কোনো দলের হয়ে কিংবা নিজের ডিপার্টমেন্টের হয়ে যতদিন ক্রিকেট খেলতাম তখন এইসব ম্যাচগুলো ছিলো গুরুত্বপূর্ণ, আমি নিজে বোলার হওয়ার কারণে বোলারদের প্রতি নির্মম হয়ে উঠা টিটুয়েন্টি আর ওয়ান ডে ভালো লাগে না, কিন্তু এখন এইসব দেখে শিখবার কিছু নেই, স্লোয়ার দেওয়া, রিভার্স সুইং কিংবা ব্যাটসম্যানকে বুঝবার প্রয়োজন এখন আমার নেই, আমি সে পর্যায়ে খেলছি না, বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবার আশায় পানি ঢেলে আমি অনেক আগেই প্রথম বিভাগে খেলার সুযোগ হাতছাড়া করেছি, এখন সেটা তেমন গুরুত্ব বহন করে না।
কিন্তু বইমেলা থেকে ফিরবার সময় দেখলাম চীনের তৈরি ভুভুজালা বিক্রী হচ্ছে, বিকট শব্দ এবং বাংলাদেশের গতকালের বিজয়ের পর রাস্তায় সবাই এই বিকট বাদ্যযন্ত্র নিয়ে কানের পোকা ফাটিয়ে ফেলেছে আমার। একটা দেখলাম সাইজে মধ্যম কিন্তু সাথে পতাকা লাগানো, সেখানে বাংলাদেশের পতাকা লাগানো মাত্র একটা ভুভুজালা দেখলাম, অন্য যে কয়টা আছে তাতে পাকিস্তান আর অস্ট্রেলিয়ার পতাকা লাগানো। বিশ্বকাপের ফিক্সচারে অস্ট্রেলিয়া এবং পাকিস্তান অন্য গ্রুপে, বাংলাদেশের মাটিতে তাদের খেলা হওয়ার সম্ভবনা কম, কিন্তু ব্যবসায়িক দিক বিবেচনা করলে এই দুই দেশের বিশ্বকাপে ভালো করবার সমুহ সম্ভবনা।
পাকিস্তান বাংলাদেশের পর সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে কিন্তু তারা কি পাকিস্তানের পতাকা লাগানো ভুভুজালা নিয়ে খেলা দেখবে না কি স্টেডিয়ামে যাওয়ার প্রত্যাশা করবে। পাকিস্তান যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় তাহলে পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের একটা খেলা হওয়ার সম্ভবনা আছে, বাংলাদেশের মাটিতে সম্ভবত অন্য গ্রুপ চ্যাম্পিয়ানের সাথে এই গ্রুপের চতুর্থ দলের কোয়ার্টার ফাইনাল হবে, কিন্তু সে দিন এই ভুভুজালা নিয়ে এরা খেলা দেখতে যাবে । অনেকগুলো সম্ভবনার ভীড়ে একটা উপমাই মনে আসলো ভবিষ্যতে কোন একদিন ছেলে বিয়ে করে সন্তান জন্ম দিতে পারে এমন আশংকা থেকে বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ে চিন্তিত বাবা শিশু সন্তানকে ডায়াপারের সাথে কন্ডম পড়িয়ে নিরাপদে রাখছেন।
আজ বইমেলায় যাওয়ার অন্যতম কারণ ছিলো শুভ, তার আসবার কথা, আমি সম্পূর্ণ ডিজিটাল হওয়ায় তার সংকট বেড়েছে, তিনি আমাকে ইমেইল করেছেন, ঢাকায় আসবেন , আমিও ফিরতি মেইলে জবাব দিলাম আসেন, বইমেলায় দেখা হবে। সে কারণেই তিনটা থেকে গুটি গুটি পায়ে বই মেলায় ঘুরছি, লিপি আর ঋক সাথে ছিলো, ওরা শিশু একাডেমীর দিকে চলে যাওয়ার পর নির্ভার হয়ে বইমেলায় ঢুকে পড়েছিলাম। ্নজরুল মঞ্চের কাছেই দেখা হোয়ে গেলো নজরুল, নূপুর,রেজওয়ান ভাই আর সিমনের সাথে। কোনো একজনের বইয়ের মোডক উন্মোচিত হবে, আমি তাকে চিনি না কিন্তু অন্য সবার পরিচিত তিনি। রিটন মোড়ক উন্মোচনে থাকবেন কিন্তু তিনি তখনও এসে পৌছান নি, সেখানেই নজরুলের সাথে কথা হচ্ছিলো মুক্তিযুদ্ধের আত্মস্মৃতিনির্ভর ইতিহাসের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে।
্স্বাধীনতার পরের দিন থেকেই মনে হয় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা লেখা শুরু হয়েছে, অসংখ্য বই প্রকাশিত হয়েছে এই চল্লিশ বছরে কিন্তু সেইসব বইয়ের ভীড় থেকে ভালো মানের বই খুজতে হলে সেটা খড়ের গাদায় সুই খুজতে যাওয়ার মতো বিড়ম্বনা হয়ে যাবে, েকজনের প্রদত্ত তথ্যের সাথে অন্য জনের তথ্য মিলে না, গুজব এবং তথ্যের ভেতরে তফাত করা কঠিন। অনেক ব্যক্তির ব্যক্তিগত গ্রহনযোগ্যতা আমার কাছে নেই , তার প্রদত্ত তথ্য আমি সরল মনে মেনে নিতে পারবো এমনও না। আমার ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে সেসব করা কঠিন।
একাত্তরের দিনগুলোর মতো পরিশ্রমী বই আর কে কে লিখেছেন আমি জানি না, আমি ব্যক্তিবিবেচনায় বই পড়ছি, যাদের চরিত্র আমার কাছে এখনও গ্রহনযোগ্য মনে হচ্ছে তাদের ভাষ্যকে গুরুত্ব দিচ্ছি, সে কারণেই গোলাম মুরশিদের বই কিংবা নুরুল ইসলামের বইকে গ্রহনযোগ্য মনে হয়েছে, সেই একই কারণে হয়তো অনেক বই শুরু করবার পর শেষ করা হয় নি।
কিন্তু আমাদের চোখের সামনে যাদের রাজনৈতিক ভাবনার বিবর্তন হলো তাদের গ্রহনযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে না আরও দুই প্রজন্ম পরের মানুষ পরিশ্রমী গ্রন্থ ও উপযুক্ত গবেষণা গ্রন্থের অভাবে এইসব স্মৃতিকথা নির্ভর ইতিহাস রচনা করবে এবং সেটাই ইতিহাস বিবেচিত হবে। এই সংকট কাটাতে উদ্যমী হয়ে উঠবার বাইরে অন্য কিছু করণীয় নেই।
এই আলোচনা স্থগিত রেখে ছুটলাম ব্লগার্স কর্নারে, সেখানে শুভ উপস্থিত হলেও হতে পারে, গিয়ে দেখলাম আমার ব্লগের বেশ অনেকজন সেখানে দাঁড়ানো, স্বপ্নময় ফারজানা, শাহনাজ, অনুলেখা, দাদুভাই, আব্দুল আলীম, ্মার্শাল এর সাথে দাঁড়ানো রুবেলকে ডেকে বললাম শুভকে দেখলে বলিস আমি আশে পাশেই আছি। তার আসবার কথা এখানে। রুবেল বললো ও যেকোনো মুহুর্তেই স্টেশন ছেড়ে যেতে পারে, আর আমি ফুললি ডিজিটাল সুতরাং আমার কাছে শুভর সাথে যোগাযোগের কোনো ব্যবস্থাই নেই এটা ওকে বুঝানোর পর ও বললো তাহলে আপনি আপনার নাম্বার দিয়ে যান স্টলে ওরা আপনাকে ফোনে খবর দিবে। বললাম আমার সমস্যা হইলো আমার নিজের কোনো মোবাইল নাই, সুতরাং আমাকে পুরোনো দিনের কায়দায় ফিরে যাইতে হচ্ছে।
সেখান থেকে গেলাম শুধুই মুক্তিযুদ্ধের বইএর স্টলে, কামরুল ইসলাম ভুইঞার সাথে কথা বলতে। বাংলাদেশের বিদেশী বীরপ্রতীক ঔডারল্যান্ড বিষয়ে তার কাছে কিছু জানতে চাইবো এমনটাই আমার আশা ছিলো তবে অন্য সবাইকে ক্ষেপিয়ে তুলবার অসম্ভব ক্ষমতার কারণে আজ পুনরায় তার কাছে ঝাড়ি খেলাম।
তার কাছে জানতে চাইলাম ঔডারল্যান্ডকে নিয়ে লেখা কোনো বইয়ের সন্ধান কি তিনি দিতে পারবেন। তিনি তার জনযুদ্ধের গণযোদ্ধা বইটি এগিয়ে দিয়ে বললেন এখানে, বললাম সেটার চেয়ে বিস্তারিত কিছু জানতে আগ্রহী আমি, তিনি কোথায় কিভাবে যুদ্ধ করেছেন এবং কিভাবে সহায়তা করেছেন, বললেন তাকে নিয়ে বাংলাদেশে তেমন কাজ হয় নি।
ঔডারল্যান্ডকে নিয়ে একটা জীবনিগ্রন্থ লেখা হয়েছে, সেটা কোথাও না কোথাও আমার চোখেও পড়েছে কিন্তু সেই লেখকের লেখার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আমার নিজস্ব সংশয়ের কারণে বইটি খুজতে যাওয়ার আগে তার পরামর্শ চাওয়ার জন্যই জানতে চাইলাম তিনি এমন কোনো আত্মজীবনির কোথা স্মরণ করতে পারেন কি না। তিনি বললেন ঔডারল্যান্ডের সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল, যুদ্ধকালীন সময়ে প্রায় নিয়মিতই তার সাথে ঔডারল্যান্ডের যোগাযোগ ছিলো কিন্তু সেই জীবনি লেখক তার সাথে কথা বলবার প্রয়োজন বোধ করেন নি।
্সুতরাং তাই জীবনিগ্রন্থকে কতটুকু বিশ্বাস করতে পারবো তা আমাকে জানান নি তিনি। বরং অন্য সবার হয়ে ফরজে কিফিয়া গালিগুলো আমার উপরেই পড়লো। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সিরিয়াস কাজ হয়েছে কম এবং যারা নিজেদের একাত্তরনামা লিখছে তাদের অধিকাংশের সাথেই মুক্তিযুদ্ধের দুরবর্তী সংশ্রবও ছিলো না, কিন্তু ব্যবসায়িক প্রয়োজনেই এইসব লেখা হচ্ছে।
জনপ্রিয় প্রকাশকেরা এইসব পান্ডুলিপি ছাপানোর আগে সম্পাদনা কিংবা তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন বোধ করেন না সে কারণে অসম্পূর্ণ কিংবা ভুল তথ্য সম্বলিত বইগুলো আমাদের হাতে চলে আসছে।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে এই বাণিজ্যিক খেলায় আহত হচ্ছি আমরা যারা একটা নির্ভরযোগ্য ইতিহাস খুজছি, আমার আক্ষেপ জানানোর পর তার ক্ষোভ কমলো। সেই সুযোগে জানতে চাইলাম যদি তার সাথে আমি ভবিষ্যতে যোগাযোগ করতে চাই সেটা সম্ভব কি না, এই বইমেলায় অন্য সবাই উৎসুক হয়ে য়ামাদের আলচনা শুনে সে আলোচনা কোন বইয়ের অংশ সেটা জানতে চাইছে, এই পরিস্থিতিতে আলোচনা অব্যহত রাখা বিপদজনক। তিনি বললেন আমার সাথে কথা বলবার প্রয়োজন কি, আমি কারো সাথে যোগাযোগ করি না। এইসব নিয়া আলোচনা করতে চাই না।
তার পর কোনো অজানা কারণে প্রসন্ন হোয়ে বললেন ঠিক আছে নাম্বার নিয়ে যাও। দোকানটা পার হয়ে আসবার সময় শুনলাম বছর পচিশের এক যুবক অন্য এক যুবককে বলছে আমি নিজেই একটা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লিখে ফেলবো ভাবতেছি , বই পড়ে আর ইতিহাস শিখবো না।
সেখান থেকে পুনরায় নজরুল মঞ্চে গিয়ে দেখলাম ছোট চাচা দাঁড়িয়ে আছে, তাকে বইমেলায় নজরুল মঞ্চে কোনো বইয়ের উদ্বোধনীতে দেখবো এমনটা আশা করি নি, জিজ্ঞাসা করলো বৌমা কোথায়, বিয়ের ছয় বছর পরেও চাচাদের বৌমা শব্দের সাথে মানিয়ে নিতে পারি নি নিজেকে, বললাম ওরা শিশু একাডেমীর দিকে চলে গেলো, আর মনে হয় না আসবে। রায়হান ভাইয়ের কাছে শুনলাম মেঘদলের কনসার্ট আছে সন্ধ্যায় চারুকলায়, পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তনে জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মেলনের ব্যানার দেখে ভাবছিলাম সেখানে গিয়ে একটু সুশীলতা দেখাবো, কিন্তু মেঘদল তার চেয়ে ভালো, ওখানেও যাওয়া যায়।
চাচার সাথে কোথা শেষ কওরে নীচে নামবার সময় দেখলাম লিপি আর ঋক এসেছে, ওদের সাথে চাচার দেখা করিয়ে দিয়ে আবার গেলাম শুভকে খুজতে। তিনি তখনও এসে পৌছান নি।
চারুকলা যাওয়ার আগে সিগারেট টানতে গিয়ে দেখা হলো কামাল ভাইয়ের সাথে, তিনিও একই কাজে ব্যাচেলার্স কোয়ার্টারে এসেছেন, সেখানেই দেখা হলো ছন্নছাড়ার পেন্সিল আর উৎশৃঙ্খল ঝড়কন্যার সাথে, তাদের কাছে বিদায় নিয়ে বইমেলায় ঢুকতে ঢুকতে সন্ধ্যা, লিপি আর ঋককে নিয়ে চারুকলায় গেলাম চুপচাপ। সেখানে ওদের বসিয়ে মনে হলো শুভ চলে আসলে বিপদ, তাকে কথা দিয়েছি থাকবো, না থাকলে কেমন দেখায়। ্মেঘদলের কনসার্ট ফেলে আবার বইমেলায়, আরিফ জেবতিকের সাথে জুলফিকার রাসেল ছিলো, তার কাছেই নাম্বার নিয়ে জানলাম শুভ অনেকক্ষণ ধরেই শহীদ মিনারে, সেখানে গিয়ে তাকে নিয়ে আসলাম বইমেলায়।
কামাল ভাইয়ের সাথে শুভর লেখক সম্মানী বিষয়ক আলাপনের আমি নিরীহ দর্শক, আমি অনলাইনে লিখি আর সেখানে লিখবার জন্য উলটো গঞ্জনা সইতে হয়, অপ্রকাশিত লেখক বলে এই যন্ত্রনার সাথে আমার পরিচয় নেই।
মাসব্যাপী কার্নিভালের নিয়মিত পাঠক কামাল ভাই গত লেখা নিয়ে আপত্তি জানালেন, তার মতো আপাদমস্তক ভদ্রলোককেও কোন যাদুমন্ত্রে ক্ষিপ্ত করতে পারলাম জানি না, মাসব্যাপী কার্ণিভালে হুমায়ুন আহমেদের দ্বিতীয় বিবাহ নিয়ে লিখবার সময় আমার বেশকিছু ভুল ছিলো, অবস্থানগত ভুল, কিংবা আমি যে জায়গা থেকে বিষয়টা দেখছিলাম সেখানে অবশ্য অন্য অবস্থানটা দেখানোর সুযোগও ছিলো না।
আমার কাছে হুমায়ুন আহমেদ এবং তার কলমে নির্মিত গুলতেকিনের প্রেমের গল্প এবং সেই প্রেমের করুণ সমাপ্তিতে হুমায়ুন পাঠকদের বিক্ষোভের বিষয়টাই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো কিন্তু একই সাথে হুমায়ুন আহমেদ কিভাবে তা্র প্রেমের সৌধ ভেঙেছেন সেটা নিয়ে কোনো কথাই ছিলো না।
হুমায়ুন আহমেদ এবং গুলতেকিনের সাথে দ্বন্দ্ব কিংবা বিবাহবিচ্ছেদজনিত ঝামেলায় ভিক্টিম গুলতেকিনই, তাকে নিয়ে হুমায়ুন আহমেদ যখন প্রথম আলোর প্রথম পাতায় বিশাল কলাম লিখলেন নিজের আচরণকে সঠিক প্রমাণ করতে চেয়ে, তখন সেটা একজন নিভৃতচারী গুলতেকিনের সামাজিক জীবনকে বিপর্যস্ত করেছিলো, কিন্তু হুমায়ুন আহমেদের পারিবারিক জীবন অনেক দিন থেকেই তার কল্যানেই পাবলিক প্রপার্টি, সেই পা্বলিক প্রপার্টির প্রেমময় অংশটুকুর বদলে কদর্য অংশটুকু তিনি যখন নিলামে তুললেন তখন সেটা গুলতেকিনের জন্য অপমানজনক ছিলো। গুলতেকিন তার মতো প্রতিবাদ করেছিলেন যায় যায় দিনের পেছনের পাতায় কিংবা অন্য কোনো দৈনিকে, এখন মনে পড়ছে না, হুমায়ুন আহমেদের সাথে বিবাহিত জীবন নিয়ে গুলতেকিনের আত্মজীবনি প্রকাশিত হচ্ছে না, কোনো প্রকাশকই সেটা প্রকাশের সাহস রাখেন না, সেটা স্বীয় ক্ষমতায় প্রকাশ অযোগ্য ঘোষণা করেছেন হুমায়ুন। এই তথ্যগুলো দেওয়ার কিংবা তার কিশোরীফেটিশ নিয়ে বেশী কিছু বলবার অবকাশ ছিলো না গত লেখায়। কিন্তু সেটা আমি হুমায়ুন আহমেদের প্রতি সহানুভুতিশীল এ কারণে না, বরং লেখার যে অংশটা ফোকাস করেছিলাম সেখানে এইসব তথ্য নিছক অগুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং গুলতেকিনের পান্ডুলিপি অপ্রকাশিত রাখতে যে প্রেশার সেটা সম্পর্কে অনবগত থাকবার কারণে ঘটেছে।
শুভ অনেক দিন থেকেই বলছে বাংলাদেশের বইয়ের ফ্ল্যাপে লেখক কবিদের গালে হাত দেওয়া ছবি তুলবার কারণ কি, বাংলাদেশের অধিকাংশ প্রধান লেখকদের ফ্ল্যাপে নাসির আল মামুনের তোলা ছবি থাকে , কামাল ভাইয়ের অভিমত এটা তার অবচেতন মনে্র প্রভাব, তার প্রায় প্রতিটা লেখক কবিচিত্রে এটার স্বাভাবিক উপস্থিতি।
তবে সেটার অন্য রকম একটা ব্যাখ্যাও সম্ভব, এটা নাসির আল মামুনের লেখকের অদৃশ্য সামাজিক চড় খাওয়ার রুপায়নও হতে পারে, লেখক এবং কবিরা এই সমাজে এখনও তেমন গ্রহনযোগ্য হতে পারেন নি, তাদের সৃষ্টিশীলতা কিংবা তাদের নিজস্ব ভাবনার কদর করে না সমাজ, প্রচলিত সামাজিক মূল্যবোধের সাথে তাদের ভাবনার দুরত্বের কারণে লেখকের চরিত্রের মতো লেখক অতিসহজে সামাজিক স্বীকৃতি পান না।
সমাজের এই অদৃশ্য চটকানার প্রতিক্রিয়ায় লেখক অবাক হয়ে গালে হাত দিয়ে ভাবছেন " হালায় চটকানাটা দিলো ক্যাঠায়"
বইমেলায় এইসব আড্ডাবাজিতে আর মেঘদলের কনসার্ট দেখা হয় নি, লিপি ঋককে নিয়ে সেখানে ছিলো, পরে বইমেলা শেষে যখন ফোন দিলাম তখন শুনলাম পিচ্চি আরও আগেই ঘুমিয়ে পড়েছে আর ও পিচ্চিকে কোলে নিয়ে এই কনসার্টে বসে আছে আমার অপেক্ষায়। বিষয়টা বিড়ম্বনার এবং আপত্তিকরও বটে কিন্তু ডিজিটাল আমার সাথে ওর যোগাযোগের উপায় ছিলো না। আমি যদি জানতাম এই কনসার্টে পিচ্চি ঘুমিয়ে পড়বে তাহলে হয়তো আমি আড্ডাবাজী বাদ দিয়ে ওখানে থাকতাম কিন্তু গতস্য শোচনা নাস্তি, এখন যা ঘটবার ঘটে গেছে, আমার আপাদমস্তক দায়িত্বজ্ঞানহীনতার নতুন একটা উদাহরণ তৈরী হলো, সেটার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া কি ঘটবে জানি না, কিন্তু অতীতের দায়িত্বজ্ঞানহীনতাগুলোর মতো এই সদ্য দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের আরও অনেক পুনঃআবৃত্তি শুনতে হবে পরবর্তী দশ বছর।





চুপচাপ পড়ে গেলাম।
গুলতেকিনের লেখা পড়ার আগ্রহ খুব আমার। কেন যে বই আকারে প্রকাশ হচ্ছে না!
মন্তব্য করুন