ইউজার লগইন

মাসব্যাপী কার্ণিভাল ১৪

নিজের জন্য লেখা, পাঠকের জন্য লেখা
একটা সময় ছিলো যখন পয়সার অভাবে বই কিনতে পারি নি, তখন আলাদা আলাদা বই না কিনে সংকলন কেনার আগ্রহ ছিলো, একই মলাটে অসংখ্য বই, গরীব মানুষের বইবিলাসী হওয়ার সুযোগ কম, বেকারত্বের ধকল কাটিয়ে যখন নিজের বই কেনার পয়সা হলো তখন ফেব্রুয়ারীর বইমেলা ভীষণ দুরের বিষয়, তখন বইমেলার ধুলাটাকেও ভালোবাসতে ইচ্ছা করে, সপ্তাহে একদিন পরিচিত কারো সাথে বাংলায় কথা হয়, ফোনের রিসিভার কথা বলে আগুণ বানিয়ে ফেলছি পরিস্থিতিতে শুনলাম বইমেলায় কেউ একজন হুমায়ুন আজাদকে হত্যার চেষ্টা করেছে, বাংলাদেশী মানুষদের ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, পরমতসহিষ্ণুতা কিংবা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে বহুলউচ্চারিত বাণীগুলো কখনই ততটা সত্য ছিলো না যতটা আমাদের বিশ্বাস, কিন্তু হুমায়ুন আজাদকে লেখক নয় বরং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন পরিচিত চরিত্র হিসেবেই পরিচিত মনে হতো, সুতরাং বন্ধুর আবেগ কিংবা লেখকের উপরে আক্রমণের বদলে মনে হলো আমার পরিচিত কেউ আহত হয়েছে।

পরের ফেব্রুয়ারীও বিষন্ন কেটেছিলো, তারপরের ফেব্রুয়ারীতে বাংলা ব্লগের উদ্বোধন হয়ে যাওয়ার পর অন্তত বাংলা লিখতে সমস্যা ছিলো না, নিজের আবেগেই লিখতাম ব্লগে। নিছক নিজের আনন্দের জন্য লেখা, পাঠককে আলোড়িত করবার অনাগ্রহে নিজের যা ভালো লেগেছে লিখেছি, যখন যা বলা প্রয়োজন মনে হয়েছে লিখেছি, সব শালীনতার নিয়ম মেনে ভদ্রপাঠকের জন্য লিখিত এমনও না।

সেই কয়েকটি বই মেলার পর বইমেলায় স্বশরীরে উপস্থিত হওয়ার আনন্দটাই ছিলো অন্যরকম। সে সময় থেকে প্রতিবারই বইমেলা নিয়ে লিখেছি ব্লগে। এমন সিরিজ হিসেবে লেখা হয় নি, কিংবা কেউ বইমেলার মাঠে হঠাৎ ডেকে নিয়ে বলে নি আজকে বইমেলা নিয়ে কি লিখবেন,

মাসব্যাপী কার্নিভালের একটা অংশ সেইসব পাঠকদের জন্য, যাদের কারণে গত চার সপ্তাহ একটানা মোটামুটি একই বিষয়েই লিখছি, এবং তালছাড়া লেখাগুলোও লেখা হয়েছে পাঠকদের কথা বিবেচনা করে। বইমেলায় গেলাম আর কিছু না লিখে ঘুমিয়ে পড়বো এই দুঃখবোধ থেকেও লিখেছি, কিন্তু মাসব্যাপী কার্ণিভালের প্রথম পাচটা লিখবার পর বিষয়টা অব্যাহত থেকেছে পাঠকদের জন্যই, সেইসব পাঠকদের অভিবাদন, পেশাদার লেখকদের মতো আমিও পাঠকদের কোথা ভেবে ব্লগিং করেছি।

পেছন ফিরে দেখাঃ

এবার বইমেলা খারাপ কেটেছে, মাসের প্রথমার্ধেই বইকেনার টাকা শেষ হয়ে যাওয়ার পরে বইকেনা হয় নি আর, বইয়ের তালিকাও করা হয় নি, গত এক বছর ধরে একটা বই লিখবার মাল মশলাই জোগাড় করছি, গত বইমেলার প্রথম সপ্তাহে ভেবেছিলাম বাংলা ভাষা আন্দোলন নিয়ে একটা সিরিজ লিখবো, তা আর লেখা হয় নি, ভাষা আন্দোলন নিয়ে বই লেখা হয়েছে, প্রতিবছর দৈনিকের পাতায় স্মৃতিচারণে ক্লিশে হোয়ে যাওয়া ভাষা আন্দোলন, সেখানেও নতুন কিছু নেই। ভাষা আন্দোলন একুশে ফেব্রুয়ারীর মিছিলে গুলিবর্ষণ আর কয়েকজন মানুষের মৃত্যুবরণের ইতিহাস নয়। একটি জাতির জাতি হিসেবে গড়ে উঠবার পথপরিক্রমায় একটি বড় ধরণের মাইল ফলক ভাষা আন্দোলন।

স্বাধীনতার পরপর মুক্তধারার চিত্তরঞ্জন সাহা যখন বই সাজিয়ে বসেছিলেন বর্ধমান হাউসের সামনে তখন কেউ কল্পনাও করে নি ছত্রিশ বছর পর এই জায়গাতেই বইপ্রেমী মানুষের ভীড়ে পথ হারাবে অন্য মানুষ। কেউ কল্পনা করে নি শুধুমাত্র এই মাস উপলক্ষ্যেই দেশে প্রতিবছর অন্তত পাচ হাজার বই ছাপানো হবে, কেউ কল্পনা করে নি বাংলা একাডেমীর সাপ্তাহিক একুশ বরণ অনুষ্ঠান একদিন মাসব্যাপী কার্নিভালে রূপান্তরিত হয়ে যাবে, অথচ এই এক মাসে বইমেলা চত্ত্বরে অসংখ্য মানুষ বই কিনে দেউলিয়া হতে আসে আনন্দিত মুখে, বই কিনে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া এইসব মানুষের চোখে মুখে থাকে বিজয়ের আনন্দ।

একটা ভাষার, একটা সংস্কৃতির অস্তিত্বের লড়াই এভাবেই অনুপ্রাণীত করেছে অসংখ্য মানুষকে, সে ভাষার জন্ম ইতিহাস মীমাংসিত ইতিহাস নয়, ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ইংরেজ শিক্ষকেরা যখন নিজেদের আগ্রহে বাংলাকে সংস্কৃত ভাষার কন্যা স্বীকৃতি দিয়েছিলেন সাদা চামড়ার মানুষের সাথে তাল মিলিয়ে বাঙ্গালী বুদ্ধিজীবীরাও বাংলাকে সংস্কৃতকন্যার স্বীকৃতি দিতে প্রাণপন প্রচেষ্টা করেছেন, অথচ বাংলা ভাষার শতকরা ষাট ভাগ শব্দের উৎস সংস্কৃত নয়। যেকোনো সময়ের বাংলা ভাষার ইতিহাসের ক্ষেত্রেই এটা সত্য, আমাদের সাধুভাষায় লেখা গদ্যের সব শব্দও সংস্কৃতজাত নয়, বাংলা অনার্জ দ্রাবিড়দের উত্তরাধিকার, পাহাড় ডিঙিয়ে আসা অশ্বারোহী আর্য আর সমুদ্র পথে আসা সুবর্ণ বণিকেরা নয় বরং এই ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছে স্থানীয় অনার্যেরা।

কর্পোরেট পূঁজির দাপটে 'দুনিয়া কাঁপানো ত্রিশ মিনিট' প্রযোজনা করা উচ্চতর সুশীলদের অনেকেই হয়তো জানেন না ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার লড়াইটার সূচনা আরও আগেই, বিংশ শতাব্দীতেই এটা শুরু হয় নি, এর আগেও নিজের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার, ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনার লড়াই শুরু হয়েছে পৃথিবীতে, অর্থনৈতিক কারণে ভাষা বিকশিত হয়েছে, ভাষা পরিবর্তিত হয়েছে, ভাষা সমৃদ্ধ হয়েছে, অনার্য দ্রাবিড়দের ভাষাও আর্য আগ্রাসনে পরিবর্তিত হয়ে জগাখিচুড়ি সংস্কৃত ভাষার জন্ম হয়েছে বিশুদ্ধতাবাদীদের কল্যানে।

এই চিরন্তন লড়াইয়ের একটা পর্যায়ে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পাকিস্তানী শাসকের বৈরিতায় পূর্ব বাংলায় ভাষা আন্দোলন রাষ্ট্রভাষার দাবিতে পরিণত হয়, সে দাবীর নেপথ্যেও একটা ঐতিহ্য ছিলো, "দুনিয়া কাঁপানো ত্রিশ মিনিট" এর পশ্চাতপটে দীর্ঘ মেয়াদী একটা সংগ্রামের রক্তাক্ত ইতিহাস আছে। প্রতিটি নিষ্পেশিত ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার লড়াইয়ের ইতিহাসে্র রক্তাক্ত পরিসমাপ্তি ঘটেছে, সেসব দেশের ভাষা ও ঐতিহ্য রক্ষার লড়াইয়ের রাজনৈতিক ইতিহাস লেখা হলেও বাংলা ভাষার রাজনৈতিক ইতিহাস লেখা হয় নি, সেই রাজনৈতিক ইতিহাস লিখবার ভুত মাথায়, তাই গত এক বছরে আসলে পড়ার বিষয়বস্তু, আগ্রহ আর উৎসাহ একমুখী, বাংলা ভাষার রাজনৈতিক ইতিহাস কিংবা রাজনীতিতে বাংলা ভাষার অবদান নিয়ে একটা গোছানো বই লিখবার আগ্রহ এখনও আছে।

ভুলে যাওয়া মুখ, ভুলে যাওয়া হাসিঃ

প্রতিদিনই বইমেলায় গিয়ে আকর্ষনীয় বিষয়বস্তু খুজেছি, লিখবার উপকরণ ছিলো না সবদিন, ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ানো মানুষদের ভীড়ে হাটতে হাটতে কখনও পরিচিত ব্লগারের সাথে দেখা হয়েছে, কখনও একলাই হেটে হেটে ফিরে এসেছি। প্রতিদিনই বইমেলার গেটের কাছে দেখেছি কমলা পুলিশের দল। ডিএমপি, র‍্যাব আর বিডিয়ারের পাশ কমলা পোশাকের পুলিশদের দেখে আগ্রহ হলেও তাদের সাকিন খুজে পেলাম না।

বইমেলার মাঠেই শুনলাম গিয়াস ভাইকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। গিয়াস ভাইয়ের মতো মানুষের বিরুদ্ধে পুলিশের অস্ত্র ছিনতাই, পুলিশের কর্ত্যব্যে বিঘ্ন সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে, এই সংবাদটাই যেকোনো দৈনিকের হেডলাইন হতে পারতো। গিয়াস ভাই পুলিশ কর্মকর্তার সাথে দুর্বিনীত ব্যবহার করছে এটা দেখে যেতে পারলেও আনন্দিত হতাম।

পাঠক ফোরামের বন্ধুরা সবাই গিয়াস ভাইয়ের জন্য ব্যতিব্যাস্ত সময় কাটিয়েছে, আমি তাদের ভাতৃত্ববোধ দেখেছি বসে বসে, আর ভেবেছি পুলিশের অস্ত্র ছিনতাইয়ের বিষয়টার সাথে গিয়াস ভাইয়ের সম্পর্ক কেমন হবে, গিয়াস ভাই হয়তো পুলিশের 'অস্ত্রে' হাত দিয়েছে, নিজেদের যন্ত্রপাতিতে বেমওকা হাতানো পছন্দ হয় নি বলে বসে বসে বাল চুলকে হয়রান পুলিশ নিজেদের ' কর্মকান্ডে' বিঘ্ন ঘটায় হামলে পড়েছিলো। পুলিশের যন্ত্র হাতানো গিয়াস ভাইকে দেখতে যাওয়া হয় নি।

যখন ভাঙলো মিলনমেলাঃ

আজ বইমেলার সর্বশেষ দিনে বইমেলা জমজমাট ছিলো, আর আমরা রাস্তায় নামলেই ভিভিয়াইপি মানুষেরাও রাস্তায় নেমে যান, তাদের নিরাপত্তাপ্রদানে ব্যস্ত পুলিশ ও ট্রাফিক ভাইয়েরা ভুলে যান আমাদের মতো নগন্য মানুষেরা রাস্তায় নামে, তাদেরও কোথাও না কোথাও পৌছানোর তাড়া থাকে, তাই মিনিটের পথ পারি দিতে প্রায় এক ঘন্টা বাসে বসে বসে ঘুমিয়ে ক্লান্ত আমি যখন বই মেলায় পৌছালাম, সারাদিনের ক্লান্তি মুছে গিয়ে আমি তখন তরতাজা মানুষ। ঢাকার জ্যামে বিরক্ত মানুষেরা জ্যামের কল্যানে কর্মঘন্টার কতক্ষণ নির্ভেজাল বিশ্রামে ঘুমিয়ে অতিবাহিত করতে পারে এই পরিসংখ্যান নেয় নি কেউই। কোনো গবেষক জ্যামের এই উপকারী দিক নিয়ে গবেষণা করেন নি, একটি কর্মক্লা্ন্ত দিনে অফিস থেকে কোনো জরুরী কাগজ অন্য অফিসে পৌছাতে বাসে উঠা কেরানীর সকালের অবশিষ্ট ঘুমটুকু পুরণ হয় বাসের সীটে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে।

মানুষ হাটছে, মানুষ বইয়ের ব্যাগ হাতে ফিরে যাচ্ছে, মানুষ আনন্দিত, আনন্দিত ফুটপাতের দোকানীরাও, তাদেরো বেচাবিক্রী ভালো। বইমেলায় ঢুকেও দেখলাম দোকানগুলোর সামনে প্রচন্ড ভীর, আমার বই কেনার পয়সা নেই, তবে কামাল ভাই মাহবুবুল আলমের একটা বইয়ের কথা বলেছে বারবার, সেই বইটা দেখবার জন্য অনুপম প্রকাশনীর স্টলের সামনে দাড়ালাম। সেখানেও প্রচন্ড ভীড়, জোবাইদা নাসরিনের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ নারী বইটি নেড়েচেড়ে দেখলাম, যতটা প্রত্যাশা করেছিলাম ততটা ভালো মনে হলো না। কিন্তু মাহবুবুল আ্লমের বইটি চোখে পড়লো না, হয়তো পরবর্তীতে অন্য কোনো জায়গা থেকে সংগ্রহ করতে হবে বইটা।

সেখান থেকে হেটে ব্লগার্স কর্নারে গিয়ে দেখলাম প্রচুর ব্লগার এসেছে বইমেলায়। চারপাশেই পরিচিত মুখ, একদিকে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ' যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে সাক্ষর' কর্মসুচীর স্বেচ্ছাসেবী সবাই, তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে সচলায়তনের একদল ব্লগার, তার সামনে সামহোয়ার ইনের ব্লগারেরা, গাছের তলায় বেদীতে দাঁড়ানো আমরা বন্ধুর অনেকে, টুটুল, নাজ, মুরাদ, মাসুম ভাই, শুভ, লীনা দিলরুবা আর লীনা ফেরদৌস, সাথে মেসবাহ ইয়াজাদ ভাই, শরৎ জাকার্তার ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশন সেমিনার থেকে ফিরে এসেছে, ওর সাথেও দেখা হলো, ও এখন ক্যামেরার ভেতর দিয়ে দেখে সব, কৌশিকের সাথে একটা বিশাল আলোচনা করতে হবে, নজরুলের সাথে একটা আলাপ আছে , মাসুম ভাইয়ের কাছে কিছু জিনিষ জানতে হবে, অসংখ্য বইয়ের নাম মনে আসছে এগুলোর কোনটা যে দরকারী আর কোনটা ফালতু বিনিয়োগ এসবও জানতে হবে, কিন্তু কারো সাথে আলাপ করবার পরিস্থিতি নেই, সবাই ব্যস্ত, সবাই শেষ মুহূর্তটুকু উপভোগ করছে।

মেলার মাঠে দাঁড়িয়ে গোল হয়ে আড্ডা দিচ্ছে সবাই, সবাই হয়তো বলছে দেখা হবে পরের বইমেলায় এখানেই এভাবেই। যদি দেশে থাকি তাহলে দেখা হবে বন্ধুরা, বইমেলার ধুলায় পা রাখবো। এখানে যারা যারা বইয়ের টানে দাঁড়িয়ে, তাদের অর্ধেকই হয়তো ভবিষ্যতে প্রবাসী হোয়ে যাবে, পুরোদস্তুর স্বদেশী কেউ নেই এখানে। দেশটার বাস্তব পরিস্থিতিতে বিরক্ত মানুষেরা অধিকাংশই দেশত্যাগে আগ্রহী। এদের অনেককেই পরবর্তী বইমেলায় দেখা যাবে না

কৌশিকের সাথে কোথা শুরু হওয়ার আগেই কৌশিক বললো তোমার মোবাইল কই মিয়া, কোনো নাম্বার জোগার হইছে তোমার, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ ডিজিটাল একটাই মানুষ, সেটা একমাত্র আমি, কিন্তু আমার এই ডিজিটাল পরিবর্তন কারো মনঃপুত হচ্ছে না। সবাই এখনও এনালগ যোগাযোগ পদ্ধতিতে অভ্যস্ত। ই মেইলে আর চ্যাট রুমে আলাপন আর পরিকল্পনাপ্রণয়নের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে এক একটা স্বৈরাচারী সরকারের পতন হোয়ে গেলো, আর আমরা এখনও মোবাইলের কল রেট আর ফ্রি এস এম এসের হিসাব মেলাতে ব্যস্ত , এভাবে বিপ্লব হবে না ভাইটি, আমাদের মাঠে নেমে যেতে হবে।

টুটুলকে দেখলাম ঋহানকে কোথা শিখাছে, বাবা বলো লুল লুল, বাংলা শব্দে ব্লগারদের কতিপয় অবদানের একটা লুল, টুটুল ঋহানকে শিখাচ্ছে বাবা বলো লুল লুল, টুটলুল টুটলুল, টুটুল টুটুল, ছেলে লুল শিখলেই টুটুল শিখবে, বাপের নাম ভুলানো সম্ভব হবে না ওর।

লীনা ফেরদৌসের হাইব্রীড ছাগল এখনও জন্মায় নি, জেনেটিক্যালী মডিফাইড ছাগলের কাচ্চি খাওয়ার আশায় গত দেড় বছর অপেক্ষা করছি, টেস্ট টিউবে জন্মানো ছাগলের মা ঠিক করতে পারে নি বলে আমাদের কাচ্চির দাওয়াতটা এখনও ঝুলে আছে।

বইমেলায় করণীয় কম, আড্ডা দেওয়া, গল্পের ফাকে ফোকরে এক দুইকাপ চা দিয়ে গলা ভেজানো, আবার ফিরে এসে আড্ডা, এই নিয়মের ব্যতিক্রম নেই, তবে আজ শাহ আলমের দোকানে কিছু নেই, চায়ের কাপের চেয়ে মানুষ বেশী, সবাই অপেক্ষা করছে, কাপ খালি হওয়া মাত্রই ভর্তি করে নিয়ে যাচ্ছে অন্য কেঊ, কোনো পানপাত্রই খালি নেই। ্সিমু নাসেরকে দেখলাম অনেক দিন পর। বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন প্রসিদ্ধ আইডিয়াবাজদের একজন ও, ওর সেন্স অফ হিউমার আর উপস্থাপনা চমৎকার। মোড়ক উন্মোচ্চনের সময় বগলে মোরগ ঝুলিয়ে স্টেজে উঠে যাওয়া ওর পক্ষেই সম্ভব।

খালি চায়ের কাপ নিয়ে যাচ্ছি ভর্তি করবো, শাহ আলমের চায়ের দোকানের সামনে দাড়ানো পুলিশকে বললাম দিদার ভাই একটু জায়গা দেন, পুলিশ মুগ্ধ হয়ে জায়গা কওরে দিল, আমি তাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় ধন্যবাদ দিলাম, তিনি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলেন কিছুক্ষণ, আমি যখন ফিরে আসছি তখন তিনি নিশ্চিত তিনি আমাকে চিনেন না, তিনি তার বুকে সাঁটানো ব্যাজ দেখে আবার আমার দিকে তাকালেন।

বইমেলায় পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের লেখা কবিতা সমগ্র প্রকাশিত হয়েছে গত পরশু, ডিএমপি পুলিশ ক্যামেরা নিয়ে সেখানে হাজির ছিলো, পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের ভেতরেও কবিতা লিখবার মানুষ আছে, দেখলাম আকাশ প্রকাশনীর প্রকাশক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তাদের লেখককে পুরস্কৃত করায়, কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিকে পুরস্কৃত না করায় আমরাও এ বছর বাংলা একাডেমীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি। একুশে পদক রাজনৈতিক বিবেচনা মাথায় রেখে প্রদান করা হয়, সেখানে পুরস্কৃত ব্যক্তির কাজের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে তার রাজনৈতিক আনতি। হয়তো পরবর্তী কোনো এক সময়ে আসলাম সানী আর বাবু একুশে পদক পাবে শিশু সাহিত্যে আর উপস্থাপনায় তাদের অবদানের জন্য। ওনুপম প্রকাশনীতে দেখলাম রিটনের ছড়ার বই শেখ মুজিবর রহমান, তিনিও বাংলা সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবার জন্য একুশে পদকের দাবিদার হোয়ে উঠছেন, তার নামে রিটন মেলা শুরু হয়েছে, রুদ্র মেলায় রুদ্র স্বশরীরে উপস্থিত হতে পারেন নি কিন্তু রিটন নিজের নামাঙ্কিত মেলা নিজে উদ্বোধন করবার কৃতিত্ব অর্জন করতে পারবেন।

ভাসানের দিনঃ

দুর্গা পূজা ভাসানের দিনে সবাই দল বেধে উৎসব কওরে, আজ বইমেলার শেষ দিনের পরিস্থিতি অনেকটা ভাসানের মতো, যখন বই মেলা শেষ করে বাসার দিকে ফিরছি দেখলাম মেলার এক পাশের স্টল ভাঙছে মানুষ আনন্দিত মুখে, অবশেষে সমাপ্ত হলো বই মেলা ।

পোস্টটি ১৬ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

নাজমুল হুদা's picture


কার্নিভাল নিয়ে শেষ লেখাটা আগেরগুলোর চেয়ে উত্তম হয়েছে এ কথা বলে আগেরগুলোকে খারাপ বলতে চাচ্ছিনা।
বাংলা ভাষার রাজনৈতিক ইতিহাস কিংবা রাজনীতিতে বাংলা ভাষার অবদান নিয়ে একটা গোছানো বই লিখবার আগ্রহ যেন বজায় থাকে এবং তা অচিরেই বাস্তবায়িত হবে এ আশায় অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করে থাকলাম।

টুটুল's picture


অবশেষে সমাপ্ত হলো বই মেলা।

Sad Sad Sad Sad

হাসান রায়হান's picture


চমৎকার একটা সিরিজ হল। ধন্যবাদ লেখককে।

তথ্যে কিছু ভুল আছে। লীনা ফেদৌসের হাউব্রীড ছাগু জন্ম নিয়ে ফেলছে। এই মাসেই জবাই হবে ইনশাল্লাহ।

আরেকটা কথা, তোমার উপন্যাসের জন্য অধীর অপেক্ষায়। বাংলাদেশের উপন্যাস নিয়া আমার যে আক্ষেপ তা কিছুটা লাঘব হবে আশাকরি।

জ্যোতি's picture


রায়হান ভাই, লীনাপা যখন আসলো তখন আপনি ছিলেন না। ব্যাপক আড্ডাবাজি, মজা, হৈ চৈ হইছে। দাওয়াতের লিস্ট থেকে উনি কাউকে কাউকে বাদ দিয়েছেন। সেখানে মেসবাহ ভাই, বিমা, টুটুল ও আছে। Big smile

নাজ's picture


টুটুল'রে বাদ দিছে, আমি কিন্তুক সপরিবারে আমন্ত্রিত Big smile

মাহবুব সুমন's picture


Cool

নাজ's picture


যদিও মাত্র ৩দিন গিয়েছি, তবুও এটা মনেহয় আমার জীবনের রেকর্ড! আমি কখনই একবছরে একবারের বেশি বইমেলায় যাইনাই Sad
এবার আমার বেশ ভালো লাগলো বলেই হয়তো, মনে হলো যে দেখতে দেখতে বইমেলা শেষ হয়ে গেলো।

নুরুজ্জামান মানিক's picture


এবার রেকর্ড করেছি আমি কারণ আমি একবারও যাইনি

নাজমুল হুদা's picture


মিছিল, শ্লোগানঃ মানিক ভাই, মানিক ভাই, -- একবারও যায় নাই।

১০

তানবীরা's picture


আমি ২০০৯ - ১১ যাই নাই। আমার রেকর্ড ভাংগতো Puzzled

১১

লীনা দিলরুবা's picture


কার্ণিভাল সিরিজ এর জন্য আপনাকে অনেক থ্যাঙ্কস।

এবার বিশ্বকাপ ক্রিকেট নিয়ে সিরিজ টেনে নিন- শুক্রবারের খেলা নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ জানতে ইচ্ছে করছে, অন্যদেরও।

১২

গৌতম's picture


এবার অন্য কোনো বিষয় নিয়ে কার্নিভাল শুরু করেন। তবে নামে ণ-এর বদলে ন দিয়েন। Smile

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.