ইউজার লগইন

রিপোষ্ট কবিতা প্রথম পর্ব

এইটা মুকুলের জন্য রিপোষ্ট করলাম, মুকুল কইলো অনেক দিন ধইরা সে আমার কবিতাওউবিতা পড়ে না, লিখা হয় নাই কইয়া পুরানা মাল গছায়া দিলাম

ভালোবাসা সর্বগ্রাসী

০১.
ভালোবাসা সর্বগ্রাসী, অস্তিত্ব গিলে খেতে চায়
ডাঙ্গার প্রাণী ডুবে অগাধ জলে ,প্রেমের বরশী গিলে বৃথা তড়পায়।

০২.

আমি কীটস হলে ভালো হতো, বলতাম "আমার নাম লেখা ছিলো জলে"

আমি হারিয়ে নিজের নাম ঘুরছি শহরে
তুমিহীনা এ নগর পোড়ে বিরহ অঙ্গারে ।

০৩.
তোমার দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছি, আসবো?
নিছক আবেগ বক্ষে ধরে
নিকষ কালো অন্ধকারে
একলা একাই দাঁড়িয়ে আছি, আসবো?

উপড়ে নেওয়া শেকড়ে এখনও লেগে আছে রক্ত আর অশ্রুকণা
সারাদিনের সঞ্চিত খড়কুটোয় এলোমেলো ঘুমায়াছে ক্লান্ত চড়াই
কড়া নেড়ে নেড়ে নিস্তব্ধ মহল্লার সবকটা জানালায় জ্বলে উঠলো আলো,
অসময়ে চলে যাওয়া ভালো।

শিশির দু পায়ে পিষে আমি ফিরে যাই...

০৪.
আমি সমস্ত পৃথিবী পেছনে রেখে বললাম, "আসো।"
তুমি আসলে না
আমার অনেক কিছুই দেওয়ার ছিলো , দেওয়া হলো না।

হাত বাড়ালেই তোমার হাত আর পাবো না হাতে
পথ পেরুনো পথের বাঁকে অন্য কারো অপেক্ষাতে
দিন কাটবে তোমার
তারপরও এই খারাপ লাগার অর্থ বলতে পারো?

ফেরার পথটা সহজ কিন্তু ফেরা সহজ নয়
যাবেই যদি দুরে তবে যেতে কিসের ভয়।।

ডিলেরিয়াম-

কোনো কোনো দিন সকালেই রবি বুড়ো মাথার ভেতরে ঢুকে যায়, সারাদিন গান গায়, তখন অন্য কিছুই ভালো লাগে না। সকাল বেলা রবি বাবু তার তানপুরা নিয়ে মাথার ভেতরে বসত গড়েছেন, আমি তার টুংটাং শুনে রাস্তায় নামলাম। নেমেই আশ্চর্য হয়ে দেখলাম, কি চমৎকার অদ্ভুত ঝকঝকে একটা দিন। রৌদ্রের চনমনের গন্ধ ভাসছে বাতাসে। এমন দিনে শহরের সবকটা নোংরা ডাস্টবিনের পাশে অলৌকিক চন্দ্রমল্লিকা ফুটে উঠে থরে থরে- আমার রোজকার পথ ভুলে হারিয়ে যেতে ইচ্ছা করে তোমাকে নিয়ে।

অদ্ভুত উপভোগ্য দিনটাকে নিজের মতো ভোগ করতে ইচ্ছা করে আমার, যে উজবুক সকালে বালিশটা গুছিয়ে জানালা দিয়ে আকাশ দেখে বললো বাহ কি চমৎকার দিনটা এসো আরো কিছুক্ষণ পাশাপাশি শুয়ে থাকা যাক, তার কথা না বলি, বরং এমন অদ্ভুত দিনে রোদ্দুরে চামড়া সেঁকে আমরাও বুনো হয়ে যেতে পারি, উদাম শুয়ে থাকতে পারি কোনো নদীর চরায়।

হাওয়ার নৌকায় ভেসে ভেসে তোমার দরজায় পৌঁছাবো? তোমার ব্যস্ততা সাঙ্গ হলে বুঝলে মেয়ে, ঠিকই একদিন তোমাকে ইলোপ করে নিয়ে যাবো অজানায়, তোমার এপয়ন্টমেন্ট বুকের সবকটা পাতা অদৃশ্য কালিতে মুছে দিয়ে ঠিকই একদিন সারাদিন তোমার হাত ধরে পাশাপাশি হাঁটবো নিজের সীমানা ভুলে ততদুর যতদুর একদিনে হেঁটে যাওয়া যায়, তারপরতো অনিবার্য গন্তব্যে ফেরার সময় হয়ে যাবে।

ভালোবাসা জ্বরের মতো ঘোর, প্রবল জ্বরের ঘোরে আচ্ছন্ন সারাদিন, আর তুমি ক্ষীণকায়া স্রোতস্বীনি, ভীষণ তৃষ্ণার্ত হয়ে তীরে বসে আছি, দিগন্ত থেকে ভেসে আসে তোমার কণ্ঠস্বর আর আমি তোমার দিকে ছুটতে থাকি, দিকচিহ্নহীন আমার দুচোখের সীমানা জুড়ে শুধু তোমার মুখ, মেয়ে তুমি আমাকে অন্ধ করে দিয়েছো-
আর তখনই নিজেকে আবিস্কার করলাম হাসপাতালের বারান্দায়, শুয়ে আছি, সাদা এপ্রোন পড়ে তুমি হাসি মুখে গল্প করছো, জানো প্রেমিকের বুক জুড়ে শুধু না দেখা হওয়ার হাহাকার আর মিলনের দীর্ঘশ্বাস।

আমার মৃত্যু হলো ভালোবাসার জ্বরে মৃত্যুসঞ্জীবনি সুধা অধরে তোমার, তুমি স্পর্শ্ব করলে না বলেই আমাকে টেনে নিয়ে গেলো ওরা লাশ কাটা ঘরে আর তুমি ছুড়ি হাতে আমার সামনে দাঁড়লে,
দেখি তোমার বুকের ভেতরে কতটুকু জুড়ে আমি।

তোমার ফোন বেজে উঠলো, তুমি চলে গেলে আর তোমার ছায়ার নৃত্য দেখি চারপাশে-
আমি সেই কবে থেকে প্রতীক্ষায় আছি কবে তুমি নিপূন অস্ত্রোপচারে ভেতরে থেকে মুছে দিবে না পাওয়ার দীর্ঘশ্বাসগুলো। তুমি হাওয়ায় আঁচল উড়িয়ে দিলে আমি ঠিকই ভালোবাসার ডান ধরে উড়ে যেতে পারি মেঘের কাছাকাছি।

সেই থেকেই আমাকে ঘিরে আছে অনন্ত শীত

হিমাগারে শুয়ে আছি মাথার কসম
মৃতদেহ চায় তোর শরীরের ওম।

পোস্টটি ৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

ভাস্কর's picture


শেষ লাইন দুইটা ভালো লাগলো,

হিমাগারে শুয়ে আছি মাথার কসম
মৃতদেহ চায় তোর শরীরের ওম।

এইগুলিতো মনে হয় সামুতে পড়ছিলাম...

রাসেল's picture


সেই জন্যই রিপোষ্ট করলাম, দৈনিক কবিতা লিখা সোজা কথা না , মাসে দুই মাসে একটা লিখতে পারাও বড় জিনিষ, আমার জন্য বছরে একটা দুইটা,

কবিরাই নিয়মিত কবিতা লিখতে পারে

ফারজানা's picture


নিপূন অস্ত্রোপচারে ভেতরে থেকে মুছে দিবে না পাওয়ার দীর্ঘশ্বাসগুলো

আমাকেও জানাইয়েন এইরম অস্ত্রোপচার কই থেকে করা যাবে ... Puzzled

মামুন ম. আজিজ's picture


ভালো লাগলো কবতে গুলো।

জ্যোতি's picture


ভালোবাসা জ্বরের মতো ঘোর, প্রবল জ্বরের ঘোরে আচ্ছন্ন সারাদিন, আর তুমি ক্ষীণকায়া স্রোতস্বীনি, ভীষণ তৃষ্ণার্ত হয়ে তীরে বসে আছি, দিগন্ত থেকে ভেসে আসে তোমার কণ্ঠস্বর আর আমি তোমার দিকে ছুটতে থাকি, দিকচিহ্নহীন আমার দুচোখের সীমানা জুড়ে শুধু তোমার মুখ, মেয়ে তুমি আমাকে অন্ধ করে দিয়েছো-

অসাধারণ।কেমনে লিখেন এসব?
প্রত্যেকটা কবিতা খুব সুন্দর। খুব। এমন কবিতা আরো চাই। বারবার।

তানবীরা's picture


ডিলেরিয়াম অপূর্ব লাগলো। আপনি এমন চমৎকার লিখেন, জানতামই না

লীনা দিলরুবা's picture


তোমার দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছি, আসবো?
নিছক আবেগ বক্ষে ধরে
নিকষ কালো অন্ধকারে
একলা একাই দাঁড়িয়ে আছি, আসবো?

আর তখনই নিজেকে আবিস্কার করলাম হাসপাতালের বারান্দায়, শুয়ে আছি, সাদা এপ্রোন পড়ে তুমি হাসি মুখে গল্প করছো, জানো প্রেমিকের বুক জুড়ে শুধু না দেখা হওয়ার হাহাকার আর মিলনের দীর্ঘশ্বাস।

এভাবে তুলে আনলে পুরো লেখাটাই কোটেশনের ভেতর আবদ্ধ করে ফেলা যায়!

আহা! কি সুন্দর করে লিখেন আপনি!!

মুকুল's picture


a
আপনার মাসে অনন্ত ৫টা কবিতা লেখা উচিৎ। বছরে নূন্যতম ৬০ টা। Smile

শওকত মাসুম's picture


নতুন কবিতা চাই। চাই চাই

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.