ইউজার লগইন

অহেতুক বিতর্কের পরের ভাবনা

বিডিনিউজ২৪ ব্লগে জনৈকা পুষ্পিতার সাথে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিষয়ে অহেতুক অপ্রয়োজনীয় একটা বিতর্কে লিপ্ত হওয়ার পর প্রথমত পুরোনো বন্ধুদের অভাব অনুভব করলাম। দ্বিতীয়ত মনে হলো আমাদের একটা অন লাইন আর্কাইভ প্রয়োজন, যেকোনো রেফারেন্সের জন্য কিংবা যেকোনো মূহুর্তে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে আনবার জন্য একটা অন লাইন আর্কাইভ থাকা জরুরী। ডিজিটাল আর্কাইভের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু সেটা উপলব্ধি করলাম এই বিতর্কের সবটুকু সময় জুড়েই।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর যেভাবে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের হাস্যকর এবং ভিত্তিহীন একটি মামলায় আটক করা হয়েছিলো সেটার পেছনে রাজনৈতিক হয়রানির নোংরা গন্ধটা লুকানো সম্ভব হয় নি। আমার এ অভিমত সে সময় অনেকের পছন্দ হয় নি সে সময় এখনও যে এই অভিমত জনপ্রিয় হয়ে উঠবে এমন ভাববার কোনো কারণ নেই।

সে সময়ের ঘটনার প্রেক্ষিতে আমার অন্য যে অভিমত ছিলো আমরা নিয়মতান্ত্রিক ঘৃণাকে আমাদের জাতীয়তাবাদী সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ করে ফেলেছি সেটার বিভিন্ন প্রমাণ উঠে আসছে এবং ক্ষেত্র বিশেষে তা মতাদর্শিক দ্বিমতের গন্ডী ছাড়িয়ে ব্যক্তিগত নোংরামি চর্চার ক্ষেত্রে হয়ে উঠেছে।এমন নিয়মতান্ত্রিক ঘৃণার সংস্কৃতির ভেতরে দ্বিমত প্রকাশের অবকাশ কম, কিছুটা ঝুকিপূর্ণ এবং খানিকটা নোংরামি গায়ে লাগবেই এইসব পরিবেশে,

এইসব ঘটনার মায়াকান্নায় এবং উন্নত বিশ্বে সামাজিক বিচ্ছিন্নতাবোধে আক্রান্ত ক্রমশ মুসলীম হয়ে ওঠা একদল ইভানজেলিক্যাল মুসলীমের ভেতরে জামায়াত ও ইসলামকে গুলিয়ে ফেলবার যে সংকট দেখা দিয়েছে, তারই ফলশ্রুতিতে এবং যেহেতু জামায়াতে ইসলামীর বেশ বড় একটা মসজিদভিত্তিক সমর্থক গোষ্ঠী প্রবাসী সমাজে ইসলাম রক্ষক ও ইসলামী শরীয়ত ব্যাখ্যায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান গ্রহন করায় তাদের চাপে ও প্রভাবে সেসব দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক চিহ্নিত করা সহজ হয়েছে।

তারই প্রকাশ দেখছি হয়তো এ দেশে গত দুই বছরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি এসে যখন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা সম্পর্কে কয়েক ছত্র জ্ঞাণ প্রদান করে চলে যান বাইরে। গত বছর দেশে একটা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সম্মেলনে প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছিলো ১৯৭৩ এর আন্তর্জাতিক আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হয়রানি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি। গতকাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধিও এসে জ্ঞান দিয়ে বলেছেন ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক আইনে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের সংজ্ঞা ততটা স্পষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মানবতাবিরোধী অপরাধকে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয় সেটা হুবহু তুলে দেওয়ার পরও কেনো এই অস্পষ্টতা তা স্পষ্ট করতে পারেন নি মার্কিন যুদ্ধাপরাধ বিশেষজ্ঞ।

অনুমান করা হয় বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী হত্যার পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকেরা বেশ গুরুত্বপূর্ণ নেপথ্য ভুমিকা পালন করেছিলো। সে কারণে বেছে বেছে প্রাক্তন ও বর্তমাণ বামপন্থী এবং সাম্যবাদী ধারণায় উদ্বুদ্ধ বুদ্ধিজীবী ও দার্শণিকদের হত্যা করা হয়, এর একটা নজির হিসেবে আমরা মূনির চৌধুরীকে স্মরণ করতে পারি, ১৯৫৬ সালে গ্রেফতার হওয়ার পর মূনির চৌধুরী সরাসরি রাজনীতি থেকে বিযুক্ত হয়ে যান, তিনি কারো সাতে পাঁচে ছিলেন না পরবর্তী ১৪ বছর, কিন্তু প্রাক্তন কম্যুনিস্ট হিসেবেই আল বদরের কিলিং স্কোয়াড হয়তো তাকে হত্যা করে স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্তিম মূহুর্তে,

অমি রহমান পিয়াল এ বিষয়ে ব্যপক তথ্যভিত্তিক লেখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কিন্তু আমার ব্লগ রিসার্চ ফাউন্ডেশন এবং আমার প্রকাশনী থেকে তার এ বিষয়ক প্রকাশিতব্য বইটি বই মেলায় প্রকাশিত হয় নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় স্পর্শ্বকাতর হয়ে উঠবার কারণ হয়তো এটা নয় কিন্তু একটা সংশয় রয়েই যায়। বাংলাদেশের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় যারা অভিযুক্ত হয়েছেন এদের অনেকের সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদুতের সৌহার্দ বিদ্যমান, ১৯৫৩ সাল থেকেই সাম্যবাদ বিরোধী জনমত গঠনের জন্য পাকিস্তানকে আদর্শিক ও আর্থিক সহযোগিতা করছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউসিস এবং এর সহযোগী প্রকাশনা যেমন এ বিরোধিতা লিপ্ত ছিলো তেমন ভাবেই এদেশের ইসলামপছন্দ দলগুলোকেও তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কম্যুনিজম বিরোধী প্রচারণা চালাতে দেখা গিয়েছে, সেসবের স্মৃতি এখনও কম্যুনিজম বিরোধী বক্তব্যে পাওয়া যায়, ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে ধর্ম হীনতা, কম্যুনিস্টরা ধর্ম মানে না তারা দেশ থেকে ধর্ম তুলে দিতে চায়, সেক্যুলারিজম পক্ষান্তরে দেশকে ধর্মহীন করবে এ দেশ থেকে মন্দির মসজিদ উঠে যাবে প্রচারণাগুলোর জন্ম ষাটের দশকে হলেও এখনও বেশ বলিষ্ঠ ভাবেই এটা বাংলাদেশের ইসলামপসন্দ মানুষের মানসিকতায় ঢুকে আছে।

পুষ্পিতার মানসিকতা বুঝতে হলে এতসব কিছু বুঝবার কোনো প্রয়োজন নেই আসলে, অন লাইনে ইসলামী মানসিকতাসম্পন্ন বুদ্ধিজীবী যারা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিরোধী তাদের বেশ কিছু সাধারণ ঐক্য আছে, একই রাজনৈতিক মানসিকতার প্রভাবেই হয়তো তাদের যুক্তিগুলো একটা নির্দিষ্ট ধারায় প্রবাহিত হয়, এসব ক্ষেত্রে বিতর্ক অপ্রয়োজনীয় বিলাস হয়ে যায়, নতুন কিছু শেষ পর্যন্ত জানবার কিংবা জানাবার থাকে না। তারা তাদের ভাবনার ধারা বদলাবে না ধরে নিয়েই আলোচনায় অগ্রসর হতে হয়।

যুদ্ধাপরাধীদের বিশেষত পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সদস্য এবং তাদের সহযোগীদের বিচারের জন্যই আন্তর্জাতিক আইন তৈরী হয়েছিলো এদেশীয় দালালদের জন্য ঘোষিত হয়েছিলো দালাল আইন এবং এই বক্তব্যের ভিত্তিতে যখন কোনো আলোচনা আগাতে থাকে তখন পরবর্তী ধাপে আসে বঙ্গবন্ধু সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার মাধ্যমে বিষয়টির নিস্পত্তি করেছেন সুতরাং এটা নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করা ঠিক না।

তারপরবর্তী পর্যায় হলো ৭২ থেকে ৭৫ এর একদলীয় শাসন এবং রক্ষীবাহিনীর নির্যাতনের বিষয়াদি, কিভাবে তা ইসলামী তমুদ্দীনদের আক্রান্ত করেছিলো, কিভাবে এদেশের মাওলানা এবং আলেমগণ তথাকথিত সেক্যুলারদের হাতে নির্যাতিত এবং খুন হয়েছেন এটার লোমহর্ষক বর্ণনার সাথে সস হিসেবে যুক্ত হয় আসলেই কি ত্রিশ লক্ষ নিহত হয়েছিলেন স্বাধীনতা যুদ্ধে।

আলোচনার যৌক্তিকতা এখানেই হারিয়ে যায়, তখন একে একে যুক্তি আসে যেহেতু জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগের সাথে রাজনীতি করে নি সে কারণেই তাদের রাজনৈতিক ভাবে নিশ্চিহ্ন করতে এই বিচারের নামে প্রহসন ঘটছে।

বিষয়টা বেশ বিরক্তিকর পুনারাবৃত্তির দোষে দুষ্ট , আঙ্গুলের ডগায় গালি চলে আসলেও বিষয়টা থামিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে হয় অনেকটা সময় যেহেতু যৌক্তিক আলোচনা করবো বলেই মনস্থ করেছি।

স্বাধীনতা যুদ্ধ পরবর্তী সময়ের প্রতিহিংসামূলক ঘটনাগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ ছিলো এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে এটাকে ট্যাগ করা যায় সহজেই, যুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়ার পর নির্ধারিত বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিবাদ মীমাংসার রীতি না মেনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা আদর্শিক ভিন্নতার জন্য কোনো একটি রাজনৈতিক মতাদর্শধারী মানুষদের বিরুদ্ধে যেকোনো নিপীড়ন মানবতাবিরোধী অপরাধ।

সকল রাজাকারদের কিংবা স্বাধীনতাবিরোধীদের বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয় নি, লুটতরাজ এবং দালালির অভিযোগে অভিযুক্ত অনেকের পক্ষেই সুপারিশ করেছে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা এবং আওয়ামী লীগের নেতা, পারিবারিক পরিচয় এবং যুদ্ধকালীন সময়ের পরিস্থিতি বিবেচনায় অনেক ক্ষেত্রেই এমন সুপারিশ এবং দালালদের নিরাপত্তা প্রদানে কাছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অংশগ্রহন ছিলো।

রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সব সময়ই নির্বাচনমুখী দল ছিলো এবং নির্বাচনমুখী দল হওয়ার কারণে দলীয় আদর্শ কিংবা আদর্শিক আনুগত্যের বদলে অনেক সময়ই স্থানীয় ক্ষমতা বিবেচনায় এসেছে, এর ফলে ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের সময় সেসব প্রার্থীকেই বিবেচনা করা হয়েছিল যারা নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারবে, তারা আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন কি না এটা কখনও বিবেচ্য ছিলো না বলেই ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী এমএলএ এবং এমএনএ'র এক পঞ্চমাংশ ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে অংশ করেন নি সক্রিয় ভাবে।

মানুষের লোভ লালসা এবং অর্থনৈতিক অনাচারের মানসিকতা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বদলে গিয়েছিলো এমন সাধারণ বর্ননা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না আমার। যেকোনো প্রাকৃতিক কিংবা মানবসৃষ্ট দুর্যোগে একদল মানুষের অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধি পায়, তারা লুটপাটে সক্রিয় অংশগ্রহন করে এবং তাদের এই মানসিক প্রবৃত্তি কোনো আদর্শিক বয়ানে বদলে যায় না। সুতরাং স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং তার পরের সময়ে লুটপাট এবং লুণ্ঠনে অংশগ্রহন করা অনেকেই আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন এটাও বাস্তবতা।

এদের রক্ষা করেছিলো স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা এই অভিযোগ কিংবা আশংকা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু স্থানীয় জনরোষ কিংবা জিঘাংসা শুধুমাত্র এদের জন্য প্রযোজ্য ছিলো এমন না, বরং শান্তিবাহিনী, রেজাকার বাহিনী আল বদর এবং আল শামসের সাথে যুক্ত অনেকের বিরুদ্ধেই এমন জনরোষ ও জিঘাংসাবোধ ছিলো সাধারণ মানুষের।

জামায়াতে ইসলামীর নেতারা সক্রিয় ভাবেই পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সাথে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো , তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই মামলা হয়েছিলো এবং তারা কারান্তরীন ছিলেন, এই সময়ে তাদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা দায়ের করা হয়েছিলো সেসবের নথি প্রতুল হলেও একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে এমন না। সরকার আগ্রহী হয়ে সেসব মামলাকে পুনর্জীবিত করতে পারতেন না, কারণ স্থানীয় রেজাকার আল বদর আল শামসের বিরুদ্ধে অধিকাংশ মামলাই দায়ের করা হয়েছিলো দালাল আইনে। আন্তর্জাতিক আইনে এদের মামলা স্থানান্তরিত করবার নির্দেশনা হয়তো ছিলো, কারণ যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত এরা সবাই, এরা সবাই পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর অর্ডিন্যান্সের বদৌলতে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সহযোগী, সংশোধিত আইনে এদের যেকোনো সদস্য এবং প্রয়োজনে যেকোনো ব্যক্তি কিংবা ব্যক্তিবর্গের বিচার করা যাবে আন্তর্জাতিক আইনের ধারা বলে।

আলাদা করে নতুন আইন করে হয়তো এই বিতর্কটা এড়ানো যেতো, ব্যপক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে আওয়ামী লীগ সরকার চাইলেই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য নতুন একটি আইন সংসদে অনুমোদন করিয়ে নিতে পারতেন এবং সেটাতে এই অহেতুক বিতর্ক এড়ানো সম্ভব ছিলো, কেনো তারা এই সহজ পদক্ষেপটি নিয়ে বিতর্কের উৎস বোধ করলেন না সেটা একটা রহস্য।

তদন্ত কমিটির হাতে পর্যাপ্ত নথি থাকলেও কাউকে অভিযুক্ত করবার মতো যথেষ্ট শক্ত দলিল নেই সম্ভবত সে কারণেই এদের কারো বিরুদ্ধে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে মামলা দায়ের করা সম্ভব হয় নি। সে সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদপত্রের নিবন্ধে রাজাকার বাহিনীর কার্যকলাপের কিংবা সাফল্যের বিবরণ থাকলেও বেসামরিক জনগণের উপরে এরা যে অত্যাচার চালিয়েছে সেটার ভাষ্য সংবাদ পত্রে আসে নি, সে কারণে সে সময়ে প্রকাশিত সংবাদপত্রে এদের বিরুদ্ধে প্রমাণ অনুসন্ধান করা ঝুকিপূর্ণ। ১৯৭২ সালে দেশের বিভিন্ন পত্রিকায় যেসব সংবাদ ভাষ্য কিংবা নির্যাতনের বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্রের অষ্টম খন্ডে এর সামান্য বিবরণ আছে, সেখানেও অভিযুক্তের নাম সরাসরি লেখা হয় নি। সেসব পড়ে হয়তো খানিকটা আন্দাজ করা যাবে কিন্তু স্পষ্ট কাউকে অভিযুক্ত করা হয়তো সম্ভব হবে না।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে কাজ করছেন যারা তাদের সহযোগিতার জন্য অনেকেই উদগ্রীব, যদি তাদের তথ্যানুসন্ধানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তবে জনবলের অভাব হবে না। স্বেচ্ছাসেবী এ সব আন্তরিক তরুণদের দিয়ে অনেক তথ্য প্রমাণই অনুসন্ধান করা সম্ভব কিন্তু আবেগী তরুণদের এ সুযোগ প্রদান করছে না কোনো প্রতিষ্ঠানই।

এই বৃদ্ধতন্ত্রে তরুণদের অন্তর্ভুক্ত করবার বিভিন্ন দাবী যদি সব মহল থেকে উত্থাপিত হয় তাহলে বিচার প্রক্রিয়া ত্বরাণিত হবে এবং একই সাথে অন লাইন আর্কাইভ সম্ভবপর হলে ২৬শে মার্চ সকালে মেসওয়াক হাতে মর্নিং ওয়াকে বের হওয়া গোলাম আযমের একাত্তরনামা পড়ে গণহত্যার বাস্তবতা বুঝতে চাওয়া একটা প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে অবহিত করা যাবে। এরা ইতিহাসবিমূখ কিংবা স্বেচ্ছায় ইতিহাস বিকৃত করে এমন অনুমান থাকলেও বেনিফিট অফ ডাউট দিতে আগ্রহী আমি কারণ গেরিলায় মুক্তিযুদ্ধের চিত্রায়ন দেখে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের একজন সমর্থক সচেতন ভাবেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। ইতিহাস সামনে খোলা থাকলে পৌরুষ আর সৈন্দর্য্য কারো মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট না।

পোস্টটি ৮ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

নরাধম's picture


দারুন লেখা। প্রিয়তে।

এই মানবতাবিরোধী/যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বিএনপি এবং বিএনপিপন্থীদের সংযোগ করা না গেলে আদৌ বিচার করা যাবে কিনা সে ব্যাপারে সন্দেহ থেকে যায়, কিন্তু এদেরকে সংশ্লিষ্ঠ করার কোন উপায়ও আছে বলে মনে হয়না।

শওকত মাসুম's picture


শেষ কথা একটাই, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে হবে।

মাহবুব সুমন's picture


পুস্পিতার স্টাইল ত্রুিভুজ টাইপের Smile নতুন নিক আর কি।

তানবীরা's picture


টিপ সই

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.