আমরা যাদের মৃত্যুকে মহীয়ান করতে চাই , আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে যাদের আহার্য হরণ করি
জোনাথন সুইফটের ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প ডাবলিন উপকণ্ঠে শুরু হওয়ার প্রায় তিন শতাব্দী পরে জুতা আবিস্কারের মতো মুহাম্মদ ইউনুস আবিস্কার করলেন গ্রামীণ ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প, প্রায় তিন শতাব্দী প্রাচীন এই ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের মৌলিক কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আসে নি। সাপ্তাহিক ঋণ পরিশোধ ব্যবস্থা, কোনো রকম বন্ধক ছাড়া ঋণ প্রদান এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে হলেও ঋণের কিস্তি উত্তোলনের পন্থাটা পরিবর্তিত হয় নি।
গত তিনশ বছরে পৃথিবী বদলে গিয়েছে, প্রাচীন পশুচালিত গাড়ীর বদলে মানুষ যান্ত্রিক যোগাযোগে অভ্যস্ত হয়েছে, মানুষ টেলিস্কোপে চাঁদ দেখছে না এখন, মানুষ নিজেই চাঁদের পিঠে সওয়ার হয়েছে, পায়রার পায়ে বেধে যোগাযোগের প্রাচীন পদ্ধতি বদলেছে, এখন যন্ত্রউৎপাদিত বস্তুর কদর কমেছে, উৎপাদকের পেটে ভাত থাকুক আর নাই থাকুক তার হাতের ছোঁয়ায় উৎপাদিত পণ্যের গ্রহনযোগ্যতা বেড়েছে। ড্রইং রুমে সাজানোর জন্য এখন হ্যান্ডিক্রাফটের কদর বেড়েছে অনেকগুণ আর যারা নিরন্তর আমাদের সাজানো ড্রইং রুমের শৈখিন বিলাসিতার উপকরণ যোগাচ্ছে তাদের নিয়মিত জীবন যাপনে আমাদের নির্লিপ্তও সাংঘাতিক ভাবে বেড়েছে, আমরা নগরায়নের কল্যানে দারিদ্রের এ চিত্র কখনই সামনা সামনি দেখছি না।
উৎপাদনে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়লেও এইসব দরিদ্র মানুষের কায়িক শ্রম কিংবা পরিশ্রমলব্ধ দক্ষতার মূল্যা্যনে আমাদের অনীহা সবচেয়ে বেশী, এরা এখনও নিজের ঘামে আর রক্তে নিজের জীবনযাপনের ধারা বদলাতে চাইছে। তারা দৈনিক যে পরিমাণ দ্রব্য উৎপাদন করছে তার লাভের এক দশমাংশও যদি তাদের প্রাপ্য হতো তাহলেও দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ১০ শতাংশের নীচে নেমে যেতো, কিন্তু তেমন কোনো আমূল পরিবর্তন হয় নি।
অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তিত হওয়ার সাথে সাথে উদ্ভাবনী পর্যায়ে গুণগত পরিবর্তন আসলেও বাংলাদেশে এখনও ক্ষুদ্র ঋণ মূলত দারিদ্রের সামাজিক ব্যবসার পরিসর ছেড়ে খুব বেশী অগ্রসর হতে পারে নি। যেকোনো অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দুটো ধাপ থাকে, উৎপাদন এবং বিপণন, ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের বিশেষত বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের দারিদ্র নিরসণে ব্যর্থতার অন্যতম কারণ এর উৎপাদন ব্যবস্থার সাথে বিপণনের সমন্বয়হীনতা।
স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত পণ্যের ভোক্তা নির্মাণ কিংবা ভোক্তাদের কাছে পণ্যকে কিভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে সে সংক্রা্ন্ত কোনো বিশদ ধারণা নেই এখানে। স্থানীয় পর্যায়ে যেকোনো পণ্যের ভোক্তা সীমিত, অসীম উৎপাদনের পরেও ভোগ করবার সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা অর্থনৈতিক চক্রকে স্থবির করে দিতে পারে।
এখানে অধিকাংশ ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের পরিকল্পনাপত্র প্রণয়নের সময় অনেক ভারী ভারী কথা লেখা হলেও সেটা আদতে কতটুকু ফলপ্রসু হবে এটা নিয়ে বিন্দুমাত্র আশংকা থাকে না কারোই। নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র নিরসন, প্রান্তিক দারিদ্র দুরীকরণ, সামাজিক নিরাপত্তা বলয় বৃদ্ধি, অর্থনীতিতে ব্যপক অংশগ্রহনের মতো পরিচিত এবং আকর্ষণীয় এনজিও শব্দের ভেতরে অর্থনীতিতে ব্যপক অংশগ্রহনের প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতাটুকু উল্লেখ না করা হলে সকল প্রকল্পই দারিদ্রের কষাঘাত থেকে নিরন্তর মুক্তি দিয়ে যাবে মানুষকে, কিন্তু বাস্তবে প্রায় দুই কোটি মানুষ এই ক্ষুদ্র ঋণদাতা গোষ্ঠীর সাথে সংশ্লিষ্ট হলেও সেটা দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমাতে খুব বেশী উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রাখতে পারে নি। এ বছর পরিসংখ্যান অনুসারে দেশে দারিদ্রের হার কমেছে, এখন দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র রেখার নীচে বসবাস করে, এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করবার ৫ বছর আগে একই সংস্থা ভোগ্যপণ্য ক্রয়ক্ষমতা অনুসারে দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা নিরূপণ করেছিলো ৪০ শতাংশ, গত ৫ বছরে সরকারী হিসেবে দেশে দরিদ্র মানুষের শতকরা সংখ্যা কমে নি সত্য কিন্তু গত ৫ বছরে দেশের জন সংখ্যা বেড়েছে এক কোটি, সে হিসেবে গত পাঁচ বছরে প্রায় ২০০০ এনজিও দিনরাত পরিশ্রম করে দেশের দরিদ্র জনসংখ্যার পরিমাণ বাড়িয়েছে অন্তত ৫০ লক্ষ, আর বাংলাদেশের বর্তমাণ জনসংখ্যার পরিমাণ বিবেচনা করলে দেশে বর্তমানে যে পরিমাণ দরিদ্র মানুষের বসবাস, স্বাধীনতার পরপর বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিলো তার সমান কিংবা সামান্য কম। আমাদের স্বাধীনতার চল্লিশ বর্ষ পুর্তি হয়েছে কিন্তু আমাদের সর্বমোট জনসংখ্যার বেশ বড় একটা অংশ এখনও প্রান্তিক দারিদ্র সীমার কাছাকাছি বসবাস করে।
দারিদ্র নিরসণের এই প্রকল্পে সরকারী হিসেব ছিলো ক্যালরী ইনটেকভিত্তিক, অর্থাৎ যে ব্যক্তি কিংবা পরিবারকে বিবেচনা করা হচ্ছে তারা নিয়মিত সুষম খাদ্য খেতে পারছে কি না, দৈনিক ১৮০০ ক্যালরী গ্রহন করা পরিবারের সকল সদস্যই আসলে দারিদ্র রেখার উপরে বসবাস করে।
সরোকার দারিদ্রের এ নিম্নমাণ নির্ধারণ করে মাঠ পর্যায়ে পরিসংখ্যানবিদ পাঠিয়ে নিয়ন্ত্রিত জরিপ করে যা খুজে বের করেছে সেটা সরকারী সত্য বলা যেতে পারে কিন্তু সরোকার নির্ধারিত নিম্নসীমার নীচে বসবাসকারী কতজন নিজেকে দরিদ্র ভাবে, এ প্রশ্ন যদি উত্থাপন করা যা্য তাহলে দেখা যাবে দেশের মোট জনসংখ্যার দুই তৃতীয়াংশই নিজেকে দরিদ্র মনে করে এবং তাদের এই উপলব্ধি ন্যায় সংগত, তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য সেবা গ্রহনের অধিকার নেই, তাদের বিনোদনবাবদ কোনো বরাদ্দ নেই, তাদের শিক্ষা উপকরণ, শিশুদের শিক্ষা কিংবা আব্রু রক্ষা করে নিয়মিত পরিধেয় বস্ত্র নেই, এবং একই সাথে দারিদ্রের ধারণাটা ভোগলিপ্সার সমানুপাতিক, আকাশ সংস্কৃতির আনুভুমিক বিস্তারে চাইলেই স্থানীয় চায়ের দোকানে বসে স্যাটেলাইট চ্যানেল দেখা মানুষদের ভালোভাবে জীবনযাপনের ধারণা বদলে গেছে, একই সাথে সেই ভালোভাবে জীবনযাপন করতে না পারার তুলনামূলক চিত্রে আসলেই মানুষ নিজেকে দরিদ্র মনে করছে।
স্যাটেলাইট চ্যানেল মানুষের ভোগলিপ্সা বাড়াচ্ছে বিজ্ঞাপনে, দিনরাত এক হাজার পণ্যের বিজ্ঞাপনে আকাশে আকাশে বহুজাতিক এবং স্থানীয় উৎপাদকদের ভেতর যে নিরন্তর আকাশ দখলের লড়াই চলছে, সেখানে মানুষের স্বস্তি খুন হচ্ছে অবলীলায়। মানুষ হয়তো প্রতিবেশীকে দেখে নিজেকে তুলনামূলক দরিদ্র ধারণা করতেই পারে, নিজের সন্তান কয়েক ক্লাশ পাশ দিয়ে অন্যসব বাবুদের বাড়ীর ছেলে মেয়েদের মতো শিক্ষিত হয়ে পয়সা উপার্জন করুক এমন ধারণা মানুষের আছে, তারা তাদের সীমিত সামর্থে যতটুকু সম্ভব এই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, রাষ্ট্র ছাত্রলীগের সোনার ছেলেদের হাতে শিক্ষা বিস্তারের দায়িত্ব তুলে দিয়ে সেইসব নেতা কর্মীদের নিশ্চিত ভাবেই দারিদ্র রেখার অন্য পাশে নিয়ে যাওয়ার বন্দোবস্ত করেছে কিন্তু যা্দের কল্যানে এই নেতা কর্মীদের অর্থ উপার্জনের সুযোগ তৈরি হয়েছে সেইসব মানুষের ছেলে মেয়েরা ক্লাশফাইভে যাওয়ার আগেই ঝড়ে যাচ্ছে। সকল শিশুকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার সংকট থেকে বাংলাদেশ মুক্ত হলেও তাদের মানসম্মত নিয়মিত ন্যুনতম শিক্ষা প্রদানের সংকট দূর হয় নি।
তারা অসুখে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহন করতে পারে না, বসতিভিটা বেচে যারা চিকিৎসা অব্যাহত রাখে তাদের অধিকাংশই প্রান্তিক দারিদ্র সীমা থেকে পতিত হয়ে ভুমিহীন দরিদ্র হয়ে যেতে বাধ্য হয়, তাদের ঠিকানা হয় শহরের ফুটপাতে।
ক্ষুদ্র ঋণ এ মিছিলে মানুষের সারি বাড়িয়েছে, আমাদের কৌশলী কথার মারপ্যাঁচে আমরা বিভিন্ন রকম ভাবে কাগজে কলমে দারিদ্রকে যাদুঘরে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি প্রদান করলেও সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের অভাবে সেটা ফলপ্রসু হয় নি।
নিজের সাফল্যের লিপ্সা কিংবা বৈশ্বিক দারিদ্রের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবার জন্য কৃতজ্ঞ ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বিভিন্ন দেশের "ইমোশন্যান ক্যারিশম্যাটিক" ধনী রাজনীতিবিদ এবং রাষ্ট্রনায়কদের কাছে ইউনুস তার বাগাড়ম্বরে স্মরণীয়, বাংলাদেশকে ক্ষুদ্র ঋণের সাফল্যের দেশ হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে মুহাম্মদ ইউনুস, তেমন মৌলিক কোনো আবিস্কার না বলে অর্থনীতিতে তার নোবেল পাওয়া সম্ভব হয় নি, কিন্তু এই সোনার মেডেল গলায় ঝুলানোয় আমাদের সুশীল সমাজে ইউনুস ভক্তের পরিমাণ বেড়েছে লক্ষ্যণীয় ভাবে, বাংলাদেশের মিডিওকার রাজনীতিবিদ, মাঝারি মাপের কর্পোরেট ব্যবসায়ী এবং ভবিষ্যত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা পদপ্রার্থী বিভিন্ন মানুষ ইউনুস ইস্যুতে মাঠ গরম করছেন।
গণমাধ্যম স্বীয় প্রয়োজনে কিংবা নিজেকে প্রচারের পাদপ্রদীপে রাখবার জন্য হলেও মুহাম্মদ ইউনুসে নিজেদের দারিদ্র বিনাশী পয়গম্বর হিসেবে উপস্থাপিত করেছেন, তিনি গণমাধ্যমের সামনে মুচকি হেসে বিভিন্ন উচ্চাকাঙ্খী শ্লোগান দিয়ে নিজেকে ক্ষুদ্র ঋণের অন্যতম সমঝদার, পরিবেশক হিসেবে উপস্থাপিত করেছেন, এবং ক্ষুদ্র ঋণের সকল ব্যর্থতার দায়ও এ কারণেই তাকেই বহন করতে হচ্ছে, এটা সামষ্টিক কোনো প্রকল্প নয়, ইউনুস মডেলে দারিদ্র নিরসন প্রকল্পের যত ব্যধি সবই ইউনুসের নাজুক কাঁধেই সওয়ার হয়েছে।
ইউনুসের গ্রামীণ ব্যাঙ্ক থেকে বরখাস্ত হওয়া কিংবা না হওয়ায় আসলে এইসব ঋণগ্রহীতার গলা থেকে ক্ষুদ্র ঋণের ফাঁস ছুটে যায় না , কর্মচারী পরিষদের প্রাক্তন সভাপতির হুংকারে তাদের সাপ্তাহিক কিস্তি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি মিলে না।
৩০০ বছরের ধারাবাহিক প্রয়োগে ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প এবং প্রান্তিক দারিদ্রের যে সম্পর্ক আবিস্কৃত হয়েছিলো সেটাই গত কয়েক বছরে পুনরুৎপাদিত হয়েছে, বিভিন্ন গবেষক এবং অর্থনীতিবিদ পুনরায় আবিস্কার করেছেন প্রান্তিক দারিদ্র নিরসনে ক্ষুদ্র ঋণ সহযোগিতা করলেও করতে পারে কিন্তু তাদের দারিদ্র বিমোচন ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের একক দায়িত্বে সম্ভব নয়। এখানে সরকারী বেসরকারী উদ্যোগের সমন্বয় হতে হবে,
যদি ঋণউত্তোলনে নৃশংস না হয় তাহলে পরিচলন ব্যয় মিটিয়ে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর টিকে থাকা সম্ভব না। ৩০০ বছরের পরীক্ষা নিরীক্ষায় ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর এ গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ঠ্য প্রকাশিত হয়েছে গবেষণায়।
অর্থনীতিবিদগণ আবিস্কার করেছেন যেকোনো প্রাকৃতিক কিংবা মানুষ সৃষ্ট দুর্যোগে প্রান্তিক দারিদ্রের হার বাড়ে, অতীতেও পরিস্থিতি এমনই ছিলো, সে সময় যদিও উৎপাদন ব্যবস্থায় ভিন্নতা ছিলো কিন্তু দারিদ্রের ধরণ ছিলো একই রকম। প্রান্তিক দারিদ্র একইভাবে একটা বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে অক্টোপাসের মতো আঁকড়ে ধরে ছিলো, তাদের সীমিত উপযোগ, সীমিত উৎপাদন ক্ষমতায় বৃহৎ পূঁজির সাথে লড়বার ক্ষমতা ছিলো না, যেকোনো দুর্যোগের ধাক্কায় তারাই আক্রান্ত হয় বেশী, তাদের কায়িক শ্রমের ক্ষমতা ধ্বংস না হলেও তাদের মূলধন নেই হয়ে যায়।
ক্ষুদ্র ঋণের লাইফ্ লাইনে কোনো মতে নাক উচু করে দারিদ্রের সমুদ্রে হাবুডুবু খাওয়া মানুষ যেকোনো দুর্যোগে একেবারেই ডুবে যায়, তারা ফেরারী হয় এবং ক্ষেত্রে বিশেষে আত্মহত্যা করে, তারা দরিদ্র অবস্থায় নিজের ন্যুনতম চাহিদা পুরণ করতে না পারলেও তাদের সাধ আকাঙ্খা পুরণ না হলেও তাদের ভেতরে আত্মগরিমা ছিলো, ক্ষুদ্র ঋণ সে আত্মগরিমাকে কলংকিত করে, তারাদরিদ্র অবস্থায় জন্মগ্রহন করে ঋণখেলাপী মৃত্যু বরণ করে।





বিকল্প কী? এগুলোতো ইদানীং অনেক শুনছি, একপেশে এই ধরণের বক্তব্যর সাথে একমত নই। ব্র্যাক-গ্রামীন ব্যাংক-শক্তি ফাউন্ডেশন এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের কার্যকলাপ সরাসরি দেখবার সুযোগ হয়েছিল, দূর থেকে অনেক কথাই বলা যায় প্রকৃত পরিস্থিতি গৌরবেরই।
অধিকাংশ প্রতিক্রিয়াই আমি বুঝতে পারি না, একপেশে বক্তব্য প্রদানের বিষয়টাতে আমার কিছু বলার নেই, আমি ক্ষুদ্র ঋণ ভোক্তা নই, ক্ষুদ্র ঋণ দাতা প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্কিত নই, সুতরাং একেবারে ঘরের খবর জানবার সুযোগ আমার সীমিত।
পশু পালনের মাধ্যমে দারিদ্র নিরসন, হাত পাখা বানিয়ে দারিদ্র নিরসন, অন্যান্য হাতে বানানো জিনিষ বাজারে বিক্রি করে দারিদ্র নিরসনের প্রকল্পগুলোর পাতা খুঁজে পাচ্ছি না বলে আপনাকে দেখানো সম্ভব হচ্ছে না এইসব প্রকল্প অনেকগুলো অনুমানের উপরে দাঁড়িয়ে আছে, সেসব অনুমানের যেকোনো একটা যদি ভুল হয় তাহলে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে, এবং অনেক ক্ষেত্রেই বিকল্প অনুমান এবং সে অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা নিতে না পারার অদক্ষতায় এইসব ঘটে।
এই যেমন আশা, তারা বড় মাপের ব্যবসায়ী, তারা তাদের ক্লায়েন্টদের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হলে দুই হাজার টাকা ঋণ প্রদান করে, সেটা তাদের এক বছরের ভেতরে শোধ করতে হবে, এটা স্পেশ্যাল স্কীম,
যে মানুষটার প্রাকৃতিক দুর্যোগে মুলধন নিঃশেষ হলো তাকে প্রাক্তন ঋণ পরিশোধের দায় থেকে মুক্তি দেওয়ার মতো সোশ্যাল কর্পোরেট রেসপনসিবিলিটি এটার হয় নি, কারণ এটা সামাজিক ব্যবসা, কর্পোরেট পূঁজি এখানে নেই। আইলা' পরবর্তী সময়ে সেখানে কর্মরত এনজিওগুলো মহান সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো তারা এক মাস সাপ্তাহিক ঋণ পরিশোদের দায় থেকে মুক্তি দিয়েছিলো তাদের গ্রাহককে। এটাও আমি জেনেছি পত্রিকা মারফত।
পরিস্থিতি অবশ্যই গৌরবের, সেটা অস্বীকার করা যায় না, কিংবা আত্মতৃপ্তি অহংকারের গৌরবও হতে পারে, আপনি ব্রাক, গ্রামীন শক্তি দই দেখেছেন, ব্রাকের প্রধান কর্মকর্তা একটা মন্তব্য করেছেন আশা করি সেটাও পড়েছেন , আমার বক্তব্য হয়তো অস্পষ্ট হতে পারে, কিন্তু আমি যা যা বলেছি সেটার সারাংশ
ক্ষুদ্র ঋণের উদ্যোক্তা হিসেবে মুহাম্মদ ইউনুস সে মিডিয়া এক্সপোজার পাচ্ছে এবং নিজেকে ক্ষুদ্র ঋণ পয়গম্বর অভিহিত করছে সেটা তার অসাবধানী পাবলিসিটি স্ট্যান্ট, কারণ তিনি পয়গম্বর হয়ে উঠবার আগেও এই ফর্মাটে বিভিন্ন স্থানে দারিদ্র নিরসন প্রকল্প চলছিলো, একটা ব্যংক বানিয়ে সেটা দিয়ে সামাজিক দারিদ্র ব্যবসা শুরু করবার প্রধান পুরুষও তিনি নন, এর আগেও এমন প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব ছিলো।
দ্বিতীয়ত এখানে যে দারিদ্র নিরসন পরিকল্পনাগুলো থাকে সেগুলো অতিরিক্তমাত্রায় সরলীকরণদোষে দুষ্ট, এখানে যা যা বিষয়কে ধ্রুব ধরে আগানো হয় সেগুলোর যেকোনো একটি ভেঙে পড়লে দারিদ্র নিরসনের সম্পূর্ণ বিষয়টাই ভেস্তে যায়
তৃতীয়ত ব্রাক গ্রামীণ শক্তি দই পরিকল্পনায় আপনার উপস্থিতি কিংবা অংশ গ্রহন হয়তো আপনার জন্য গৌরবের কিন্তু ঋণের দায়ে ফেরার এবং আত্মহত্যাউদ্যতা মানুষের জন্য বিষয়টা কেনো গৌরবজনক হবে, যদি আপনি মনে করেন ঋণী অবস্থায়, ঋণ খেলাপি অবস্থায় মৃত্যু বরণ করা ব্যক্তির জন্য গৌরবের তবে সেটা ভিন্ন আলোচনার প্রেক্ষিত তৈরি করবে
বিপণন না লিখে সরবরাহ লেখা উচিত। বিপণন সরবরাহের একটি ধাপ মাত্র।
"ইউনূস" - বানানটা ঠিক করে দিন।
আমি অর্থনীতির ছাত্র না সুতরাং আমার ধারণা ছিলো বিপণন উৎপাদিত পণ্যকে ভোক্তার কাছে পৌছানোর সবগুলো ধাপকেই অন্তর্ভুক্ত করে,
উৎপাদিত পণ্য সরবরাহের বিষয় কিংবা পন্থাগুলো নির্ধারণ করা কিংবা প্রয়োজনে তৈরি করবার বিষয়টা বিপণনের অন্তর্ভুক্ত ধরে নিচ্ছি, আমার কাছে পণ্য আছে আমি বিক্রী করতে চাই এই ধারণা থেকে শুরু করছি আমি, সেখানে বিক্রী করবার বাধাগুলো অতিক্রম করা এবং ভোক্তার কাছাকাছি পৌছানোর বিষয়টা আমার অনুমাণে বিপণন
ইউনুসের নামের বানান কি ভুল, 'ইউনুস' কি 'ইউনুস' নন
ধরেন বাংলাদেশে কোন ক্ষুদ্রঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান নাই.... ছিলও না কোন কালে... তাইলে কি হইতো? মহাজনী ব্যবসাটা থাইকা যাইত... বাৎসরিক ১২০% সুদে/আগাম ফসল বিক্রি/জমি বন্ধক... এই চক্রটা ভেঙ্গে বের হয়ে আসার মত কোন তরিকাতো আমাদের হাতে ছিল না... ব্যাংকগুলোর অবস্থা তে জানেনই... তবে ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে দেশ উদ্ধার হয় না.. হবেও না... এটা ক্ষুদ্রঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং এর বাইরের সকরেই জানে। আমার কাছে মনে হয় ক্ষুদ্রঋণ মন্দের ভাল টাইপ...
একটা প্রশ্ন হঠাৎ মাথায় ঢুকল... এইটা দিয়েই শুরু করি...
"বাংলাদেশের যতটুকু শিল্পায়ন হইছে তাতে ব্যাংকের অবদান অনেক/অনস্বীকার্য"
বিষয়টা আপনি কিভাবে দেখেন?
ক্ষুদ্র ঋণের সামাজিক ব্যবসাটা আমার কাছে ঘোমটা পইড়া পতিতাবৃত্তি মনে হয়, শেষ পর্যন্ত তোমার লক্ষ্য যদি হয় মুনাফা তাহলে বিভিন্ন ট্যাগ লাইন লাগিয়ে ব্যবসা করবার প্রয়োজন নেই, কল্যানের কথা বলে, সেমিনার সিম্পোজিয়াম করে এই ব্যবসা সম্প্রসারণ , এটার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কয়েক হাজার পাতা সাফাই লেখা, আসলেই সেটা পরিবর্তন এনেছে বলা, এইসব প্রচারণা বিজ্ঞাপণ নিমিত্তে, অল ক্যারেক্টার প্রেসেন্টেড হিয়ার আর ফিকটিশাস, এই রকম একটা ট্যাগ লাইন লাগিয়ে যদি এ ব্যবসা শুরু হতো সেটা মেনে নেওয়া যেতো, বাংলা লিংকে শখ নিরব লাফিয়ে যা করছে গ্লামারবিহিন একজন নিরন্ন মানুষ নামী ফটোগ্রাফারের সামনে পাজরের হাড় বের করে একই কাজ করছে, ব্যবসা সম্প্রসারিত হচ্ছে।
সুদের কারবারী আর মহাজনদের চক্র ভেঙে নতুন একটা মহাজনী চক্র তৈরিতে সাফল্য খুব বেশী পাওয়া বলে মনে হয় না আমার কাছে। বাংলাদেশের শিল্পায়নের অভিঘাত কতটুকু, আমাদের ক্ষুদ্র মাঝারি বৃহৎ শিল্প দেশের অর্থনীতিতে কতটুকু অবদান রাখে, কতজনকে তাদের শ্রমিক হিসেবে নিয়োজিত রাখে, আমাদের রপ্তানীমূখীতা দর্জীর দোকানেই সীমাবদ্ধ।
ব্যাংক এসব খাতে প্রচুর অর্থ লগ্নী করেছে, আমদানী নির্ভরতা কমিয়েছে এবং ব্যাংকের হাতে সাধারণ নাগরিকের প্রচুর অর্থ জমা না পড়লে হয়তো শিল্পায়ন ঘটতো কিন্তু এটা প্রসারিত হতো নির্দিষ্ট কয়েকটি পরিবারকে কেন্দ্র করে
একটা ব্যক্তিগত ঘটনা কই... এক রিক্সাওয়ালার রিক্সায় রেগুলার উঠতাম... কোন এক সময় তারে একটা রিক্সা কিনে দিলাম... এর পর তারে বৈলা দিলাম প্রতিদিন জমার টাকার পরিমান টাকা দিতে... এবং একটা সময় রিক্সার দাম উঠে গেলে আর জমা দিতে হবে না। লোকটা একটা সময় পর সফল হলো... এর পর এই টাকাটা এমন ভাবে অন্য আরেকটা রিক্সাওয়ালাকে দেয়া হলো... কিন্তু সে ব্যর্থ হলো...
এখন বলেন এই সমস্যটা কোথায়?
প্রথমেই টুটুলের মন্তব্যের সাথে একমত পোষন করছি।
এখন প্রশ্ন , ক্ষুদ্র ঋন খারাপ , মানলাম , কিন্তু এর থেকে ভালো কোন ফর্মূলা কি আবিষ্কার হয়েছে ? যতদূর জানি , এরকম কোন ফর্মূলা এখনো আবিষ্কার হয়নাই যেটা ক্ষুদ্র ঋন থেকে অধিক কার্যকরী।
ইউনুস সাহেব ব্যক্তিগত ভাবে কি দূর্নীতি করেছেন, সেটা নিয়ে আমি প্রশ্ন তুলছি না কিন্তু তার ক্ষুদ্র ঋন কি সমাজে কোনই প্রভাব ফেলে নাই ?
দারিদ্র থেকে মুক্তি পাওয়া মানে এই নয় যে ধনী হওয়া - সবাই এই বিষয় টা গুলিয়ে ফেলছে। যেখানে তারা ১/২ বেলা উপোস কাটাতো সেখানে অন্ততঃ ২ বেলা অন্ন সংস্থানের ব্যবস্থা করতে পেরেছে। সেটাই বোঝাতে চেয়েছে ইউনুস।
আর প্রতিটা নিজিসেরই সুবিধার পাশা পাশি অসুবিধাও থাকবে । ক্ষুদ্র ঋনের ক্ষত্রেও প্রযোজ্য।
খারাপ বিষয় গুলো বার বার না কচলিয়ে এর থেকে ভালো কোন ফর্মূলা বের করেন, যদি সত্যিই দরিদ্র জনগোষ্ঠী নিয়ে চিন্তা করে থাকেন।
"ইউনুস, ক্ষুদ্র ঋণ এবং ঋণের ফাঁদ " এইসব কি ওয়ার্ড দেখলেই সেইটা ইউনুসের দুর্নীতি বিষয়ক বক্তব্য হয়ে যায় না, এই পার্সেপশন থেকে বের হয়ে আসতে পারলে আলোচনার অগ্রগতি হতে পারে, নইলে আমি যাই বলবো সেটাকে বিকল্প ভাবনা কিংবা প্রয়োজনীয় মনে হবে না।
প্রথমত আমি যা বলতে চেয়েছি, মহামতি ইউনুস ক্ষুদ্র ঋণের পয়গম্বর এই বাণিজ্যিক প্রচারণাটা সঠিক নয়, ইউনুস জোহরা গ্রামে প্রথম ঋণ দেওয়ার আরও তিন শতাব্দী আগেই জোনাথন সুইফট এমন ঋণ প্রদান করা শুরু করেছিলো ডাবলিনে,
পর্যায়ক্রমে সেখানে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যায়।
এ পর্যন্ত কি পরিস্কার বুঝা গেছে। আমরা কি পরবর্তী পর্যায়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত এখন।
কোনোমতে বেঁচে থাকো আর রেভিনিউ জেনারেট করো এই যদি কোনো অর্থনীতির মূল লক্ষ্য হয় সেটা সাধারণের কল্যান বয়ে আনবে এমন ভাববার কোনো অবকাশ কি আছে
ক্ষুদ্র ঋণের সুদ এবং সুদ আদায়ের কৌশল বিতর্কিত, সেটা যদি সরকার নিয়ন্ত্রন করতো তাহলে হয়তো পত্রিকায় এত খবর আসতো না, আমাদেরও কোনো রাজনৈতিক এবং আদর্শিক অবস্থান গ্রহনের তাড়না থাকতো না।
ক্ষুদ্র ঋণের বিকল্প হতে পারতো যৌথ খামার ব্যবস্থা, সেটা স্থানীয় পর্যায়ে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বোধ বাড়াতো, একই সাথে রাজনৈতিক দু্বৃত্তায়ন ঠেকাতে পারতো, এমন ছোটো বড় মাপের বেশ কিছু যৌথ খামারের উদ্যোগ রাজনৈতিক নেতাদের ভোটের রাজনীতিতে ধ্বংস হয়েছে।
ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের টেস্ট রান হয়েছিলো পাকিস্তানের সময়, সেটাও সরকারের হস্তক্ষেপে সাফল্যের মুখ দেখে নি, পরবর্তীতে সেই একই ব্যক্তি করাচীর বস্তি এলাকায় একই প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের এবং সাফল্যের মুখ দেখেছেন, তিনি সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরী করতে পেরেছেন সেখানে, তাকে বাংলাদেশে কাজ করবার আহবান জানিয়েছিলেন এরশাদ তবে তিনি আগ্রহী হন নি তেমন।
আমিও মোদ্দা কথা মানে এটাই বুঝি
সমস্যা হচ্ছে কোন ফর্মূলা যদি খারাপ হয়, সেটার ভাল কোন বিকল্প তৈরী না হলেও সেটা বাদ দেয়া উচিৎ। ক্ষুদ্র-ঋন তো কোন অংশেই কার্যকরী না, তাই এর থেকে বেশি কার্যকরী কোন কিছু বের না হলেও এটা বাদ দেয়া উচিৎ। এটা দারিদ্র্য কোন অংশেই কমাচ্ছেনা।
দু'বেলা অন্ন সংস্থানের কথা বলছেন, সেটা খুব কম লোকই পারতেছে, আর এদেরকেই এসব ক্ষুদ্র-ঋন সংস্থা সবাইকে দেখিয়ে বেড়াচ্ছে, আদতে বেশিরভাগ লোকের অবস্থা একই অথবা আরো খারাপ, মোট কল্যান নেগেটিভ।
আমি বর্তামনে প্রচলিত ক্ষুদ্র-ঋন ব্যবস্থার কথা বলছি, ক্ষুদ্র-ঋন নিজেই দোষী না, এর বাস্তবায়নই দোষী।
সমস্যা নিয়ে অনেক আলাপ চারিতা দেখি / পড়ি বুদ্ধিজীবি মহলে যাদের ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবস্থার সাথে তেমন যুক্ততা নেই বা যাদের আদৌ স্টেকহোল্ডার বলা যায় না। সমালোচনা করার অধিকার সবার আছে তবে সেই সমালোচনায় যদি কোনো দিক নির্দেশনা না থাকে, না থাকে কোনো রকম সমাধান বাতলে দেবার চেস্টা তবে সেই সমালোচনা বা পর্যালোচনাকে একপেশে কি বলতে পারি না?
মাইক্রো ক্রেডিট নিয়ে যারা লিখেন তারা তৃনমুল পর্যায়ে কতটুকু সংস্পর্শতা রাখেন সেটা প্রশ্ন করাই যায়। গ্রামীন ও শহুরে ক্ষুদ্র ঋণের ভোক্তা পর্যায়ে যাদের কোনো রকমই অংশগ্রহন নেই সেই মধ্যবিত্ত বা উচ্চ মধ্যবিত্ত দের ডেস্কে বসে থিউরি কপচিয়ে সমালোচনা পড়তে ভালো লাগলেও ক্ষুদ্রঋণের স্টেকহোল্ডারদের মনোভাব কি এ বিষয়ে তা মুললধারা তেমন আসে না।
সমস্যা সমাধানের পথ তৈরি হয় যখন কেউ সমস্যাকে সমস্যা চিহ্নিত করতে বাধ্য হয় তখন, কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষিতে কেউ ক্ষুদ্র ঋণকে কিংবা এর দারিদ্র নিরসনের অক্ষমতাকে সমস্যা স্বীকার করছে না।
সে কারণে বুদ্ধিজীবী মহলের পরামর্শ কিংবা উন্নয়ন ভাবনার কোনো প্রভাব পড়ছে না অর্থনৈতিক পরিকল্পনায়, সরকারের সীমিত উদ্যোগ বৈদেশিক অনুদান এবং প্রোজেক্ট পেপারে লাল নীল হরফে দারিদ্রকে নির্বাসনে পাঠানোর অঙ্গীকার লিখতেও এখন ডিপ্লোমা লাগে, এটা মানুষের প্রতি মানুষের সহমর্মিতা বোধের কারণে সম্প্রসারিত হচ্ছে না বরং এটাও বাজার দখলের লড়াই, সেখানে প্রতিটা এনজিও আপাব্রাদার এক একজন যোদ্ধা, তাদের সামনে যে চোথা সাজানো সেখানে কিছু প্লানের কথা আছে, সেটা যদি ঘটে যায় দারিদ্র নির্মূল হবে, কিন্তু পরিস্থিতি নির্মাণের বিষয়টা ঘটছে না, সেটা করবার দায়ি্ত্ব সরকারের , সে যদি এটা না করে তাকে বাধ্য করতে হবে, প্রয়োজনে সরকারী কর্মচারীর মতো এনজিওর কর্মীরাও বেতন পাবে সরকারের তরফ থেকে ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফার নীতি বদলে যেতে পারে।
http://www.thedailystar.net/newDesign/news-details.php?nid=184644
সরকারের পরিকল্পনা
এখানে অনেক গুরুগম্ভীর আলোচনা হচ্ছে, যদি ভুল কিছু বলে থাকি তবে সবাই নিজগুণে ক্ষমা করবেন -
মোটা দাগে ঋণ বিষয়ে কথা বলি -
ব্যাংক দেয় ছোট ও মাঝারী ঋণ আর এনজিও দেয় ক্ষুদ্র ঋণ।
যারা ছোট ঋণ নেয়, মনে করেন একটা মুদি দোকানদার, সে ২১% রেটে ৩বছরের জন্য ৩ লাখ টাকা ঋণ নিলো। এখন আমাকে বলেন মুদির দোকানে কি ৩লাখ টাকা খাটিয়ে মুনাফা করে ২১% হারে কিস্তি শোধ করা সম্ভব? একদম সাদা চোখে দেখলে হিসেব করলে আপনি দেখবেন সম্ভব না। গত অথর্বছরে ছোট ও মাঝারী খাতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ২৪হাজার কোটি টাকা বিতরণ করেছে। এবছরের লক্ষ্যমাত্রা ৬০হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে কারা কিস্তি চালাতে পারছে আর কারা পারছে না তার হিসেব নেই। ২৪হাজার কোটি টাকার অধিকাংশ টাকা ঢুকেছে শেয়ার মার্কেটে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে হু হু করে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। কারণ শেয়ার মার্কেটের ধ্বস। বৃহত শিল্পায়নের জন্য যে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রযোজ্য , সে ঋণ ছোট ব্যবসার জন্য প্রযোজ্য না। এ ফরমেট না বুঝাতেই আমাদের সব গোলমাল মনে হয়।
চীনে ঋণে সুদের হার সর্বোচ্চ ২শতাংশ, আমাদের বাবা-মা নেই সুদের হারের।
এনজিও বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বলেন এগুলো এখন এক একটা ইন্ডাস্ট্রি। এদের জন্য ইউনিক এবং যুগোপযোগী নিয়ম তৈরী না হলে "মুনাফা" ই শেষ কথা হবে, দারিদ্র্য হবে ব্যবসার হাতিয়ার।
আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষুদ্র ঋণের বিকল্প ভাবার চাইতে এর অবকাঠামোগত দিক পরিবর্তনের প্রতি আগ্রহী।
আপনি ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ফেরত দেবেন না, তার খেসারত আরেকজন গ্রাহক কেন দেবে? এ দায় তো ব্যাংকের তারা সঠিক গ্রাহক নির্ধারণ করতে পারেনি। কিন্তু তাই হয়ে আসছে। যে যত বড় খেলাপি সে ততো বড়লোক, ব্যাংকের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ঋণ গ্রাহক।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগীতা আমাদের ঋণ গ্রাহকদের স্বভাব নষ্ট করছে, তদুপরী পুরো আর্থিক সেক্টরে তৈরী করছে অহেতুক অস্থিরতার।
মাইক্র-ক্রেডিট নিয়ে তৃণমূল এলাকায় পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ হয়েছিল। কিছুদিন আগে এটা নিয়ে লিখেছিলাম। http://tinyurl.com/6zzp2qt
মন্তব্য করুন