ইউজার লগইন

অযথা প্যাঁচাল

১।।
রগীর মৃত্যুর পর ক্ষিপ্ত স্বজনেরা হাসপাতাল ভাঙচুর করেছে, ডাক্তারকে আক্রমন করেছে, ইন্টার্ণদের অপমান করেছে, আমি এইসব আবেগাক্রান্ত রোগীর স্বজনদের প্রতি প্রসন্ন ছিলাম না কখনও, তাদের অতিরিক্ত আবেগে তারা ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ আনে, হয়তো নিজেদের অবহেলা কিংবা উপেক্ষায় যার মৃত্যু নিশ্চিত ছিলো তাকে একেবারে শেষ সময়ে ডাক্তারের কাছে নিয়ে আসায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে এমনটাই ভাবতাম একটা সময়। তবে আমার সে ধারণা বদলেছে, আমি এখন এইসব রোগীর স্বজনদের দুঃখটা উপলব্ধি করতে পারি, উচ্চমন্য ডাক্তারের ছাওয়ালেরা রোগী এবং তাদের স্বজনদের যে উপেক্ষা, অনাদর, অবহেলা উপহার দেন তাতে যেকোনো স্বাভাবিক মানুষই ক্ষিপ্ত হতে পারে,
ইন্টার্ণ ধর্মঘট, ডাক্তারের চেম্বার ভাঙচুড় এবং হাসপাতাল আর ক্লিনিক ভাঙচুড়ের সংবাদ পড়লে এখন আর রোগীর স্বজনদের দোষারোপ করি না আমি বরং সংশ্লিষ্ট ডাক্তারকেই অপরাধী মনে হয়।

যদি কোনো জরিপ করা হয় তাহলে দেখা যাবে কোন দেশের ডাক্তারেরা সম্পূর্ণ অকারণে এবং অপ্রয়োজনে এন্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করে তাহলে শীর্ষে আসবে বাংলাদেশের নাম।
কোন দেশের ডাক্তারেরা রুগীদের নিতান্ত উজবুক মনে করে এবং তাদের সাথে পরামর্শ না করেই বিভিন্ন ঔষধের নাম লিখে প্রেসক্রিপশনের পাতা ভরে ফেলে- সে দেশের নামও হবে বাংলাদেশ। দেশে ডাক্তারের চাহিদা প্রচুর, দেশের মেধাবী সন্তানেরাই বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিয়ে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়, তারা যে দেশের সোনালী সন্তান এবং অন্য সবাই যে বালছাল বোকাচোদা আমপাবলিক, এই ধারণাটা ডাক্তারদের ভেতরে প্রবল।

অন্য কোনো উপায় যদি থাকতো তাহলে এ দেশের মানুষেরা ডাক্তারের কাছে কিংবা কোনো চিকিৎসালয়েই যেতো না, কিন্তু নিতান্ত বাধ্য হয়েই মানুষ ডাক্তারের কাছে যায় এবং সেখানে দৈবজ্ঞ ডাক্তারেরা বসেন, তাদের নামের আগে পিছে অনেকগুলো বর্ণ সাজানো, তারা রোগীর চেহারা দেখেই অসুখ বুঝে যান, এবং ব্লাড, ইউরিন, এক্স রে, ইসিজি লিখে ফেলেন প্রেসক্রিপশনে, এসব রেফার্ড কেস থেকে তারা নির্দিষ্ট অংকের মাসোহারাও পান নিয়মিত। তারপর তারা রোগীর নাম শুনেই হাত তুলে থামিয়ে দিয়ে ঔষধ লেখা শুরু করেন, সেই ঔষধের তালিকায় নিশ্চিত ভাবে একটা এন্টিবায়োটিক থাকবে, সাবধানের মার নেই, ভাইরাল ফিভারের কোনো এন্টিবায়োটিক নেই, ভাইরাল ইনফেকশনের এন্টিবায়োটিক নেই, কিন্তু ভাইরাল ইনফেকশনের কথা বলে এন্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করেছে ডাক্তার এ অভিজ্ঞতা আমার আছে।

রোগী হিসেবে কিংবা রোগী নিয়ে আমি যখন ডাক্তারের কাছে যাই প্রত্যাশা করি ডাক্তার অন্তত প্রেসক্রিপশনে লিখবার জন্য নাম, বয়েস ওজন জিজ্ঞাসা না করে আন্তরিক ভাবে আমার কথাটা শুনবেন, আমার কাছে রোগের উপসর্গ শুনে নিজে কিছুটা যাচাই করে বলবেন তার অভিমত, তিনি কেনো মনে করছেন এই অসুখটা হয়েছে সেটা যদি আমি জানতে চাই তাহলে তিনি আমার এই চাওয়াটা পুরণ করবেন, শুধুমাত্র প্রেসক্রিপশ লিখে টাকা রাখার থালাটা সামনে তুলে ধরবেন না, আমি তার কাছে যে সমস্যা নিয়ে উপস্থিত হয়েছি সে সমস্যা সম্পর্কে আমার যেসব অনুসন্ধিৎসা, উৎসুক্য, সেসব তিনি পুরণ করবেন, তারপর তিনি আমাকে সম্ভাব্য চিকিৎসাগুলো জানিয়ে তার কাছে কোনটা সবচেয়ে ভালো মনে হয় সেটা জানাবেন এবং আমাকে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দিবেন। আমি গাঁটের পয়সা খরচ করে তার কাছে গিয়েছি, তার সেবা কিনছি নগদ অর্থে, এই সেবাটুকু তাদের দিতে এত অনীহা কেনো সেটাও আমি জানি না।

উচ্চমন্য ডাক্তারের দরজা খুলে বের হতে না হতেই ঝাপিয়ে পড়ে এম আরের দল, তারা প্রেসক্রিপশন ছিনিয়ে নিয়ে ঔষধ দেখেন, তারা বিভিন্ন ঔপঢৌকন দেন ডাক্তারদের, নিজেদের কোম্পানীর ঔষধ প্রেসক্রাইব করছে কি না ডাক্তারেরা সেসব দেখা তাদের কর্তব্য কিংবা আমাদের চুতমারানী ব্যবসায়ীরা তাদের এমন অশোভন আচরণ করতে বাধ্য করছে, বাস্তবতা যাই হোক না কেনো, তারা বিভিন্ন ফার্মেসী থেকেই তাদের ঔষধের বেচাবিক্রী সম্পর্কে তথ্য জানতে পারেন, রোগীর বুকের উপর লাফিয়ে সেটা তাদের জানতে চাইতে হয় না। কিন্তু অসুস্থ মানুষের প্রতি মানবিক আচরণ দেশের কেউই করে না। আমার অভিজ্ঞতা সেরকমই, সামান্য অসহায় মনে হলে সবাই গলা কাটতে লাফিয়ে আসে, সেটা ২০ টাকায় খরিদ করা যাবে এমন রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকায় খরিদ করা ডাক্তার যেকেউই হতে পারে।
আমি পারতপক্ষে হাসপাতালে যেতে চাই না, সেখানকার পরিবেশ নিয়ে আমার অনেক ধরণের মানসিক সমস্যা আছে, আমার এই অসস্তিটুকু আমি নিজের ভেতরেই রাখতে বাধ্য হই, নিতান্ত অনিচ্ছায় আমাকে মাঝে মাঝেই হাসপাতালের দিকে যেতে হয়, ডাক্তারের উপর আস্থাহীনতা এবং দেশের খাদ্যের মাণ নিয়ে নিজের সংশয়ে আমি প্রবাসী হতে চাই, এ দেশ ছাড়ার অন্য কোনো কারণ আমার নেই,আমি দেশকে ভালোবাসি কিন্তু দেশকে ভালোবাসে আত্মহত্যা করার মতো নির্বোধ আমি না।

আজ একজনের ফেসবুক নোট পড়ে পুনরায় মনে হলো এ দেশে থাকবার কোনো মানেই হয় না। তার মেয়ে ইউনাইটেড হাসপাতালে অপচিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করেছে, ১০ মাস বয়েসী মেয়েটা এইসব পাষন্ড ডাক্তারের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ আলোচনার ফাঁকে মৃত্যু বরণ করার পরো ন্যুনত্ম মানবিক সহানুভুতিটুকু তারা দেখান নি এটা আমি নিশ্চিত বলতে পারি, প্রিয়জনের মৃত্যু কতটা ভয়াবহ মানসিক পীড়ন সেটা উপলব্ধি করার ন্যুনতম বোধবুদ্ধি এইসব মানুষের নেই। এই ভদ্রমহিলা সভ্য মানুষের মতো ফিরে এসেছেন তার কন্যার মৃতদেহ নিয়ে, তিনি ভাঙচুড় করেন নি, তিনি সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের ডাক্তারের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ আনেন নি, মারাত্মক অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হলে ডাক্তারের এমন কি মেডিক্যাল প্রাকটিশনার সার্টিফিকেট বাতিল হয়ে যাওয়ার নজির বাইরের দেশে থাকলেও এখানে ডাক্তাররাই ইশ্বর, তাদের ভুল চিকিৎসার মাসুল দিতে হয় না, আমাদের আইনী কাঠামোতে ভুল চিকিৎসার বীমা নেই, ক্ষতিপুরণের ব্যবস্থা নেই, একটা শিশুকে হাসতে হাসতে খুন করে ফেলা ডাক্তারগুলোর কেউই হত্যার অভিযোগে জেলহাজতে যাবে না। এটা আমি জানি। কিন্তু তারপরও সে শিশুর জন্য আমার মনটা বিষন্ন হয়।

২।।
আমার মাঝে মাঝে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে ইচ্ছা করে, তার সাথে দুপুরের খাওয়ার খেতে খেতে কিঞ্চিৎ বাতচিত করতে ইচ্ছা করে, তাকে বলতে ইচ্ছা করে একটা হাড়ের টুকরো নিয়ে ফুটপাতের কুকুরের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রীত্ব নিয়ে দুই মহিলার ঝগড়া আমার ভালো লাগে না, আমাদের রাজনীতিতে ব্যক্তিগত নোংরামি এবং অসম্মানের সংস্কৃতিটুকু আমার ভালো লাগে না,

তাকে দুপুরের খাওয়ার খেতে খেতে আমি সেসব কথাই বলতাম। বলতাম মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী যদি সামান্য শোভনতা আপনারা দেখাতে পারতেন তাহলে আমাদের এমন দুরাবস্থার মুখোমুখি হতে হতো না। আপনারা যে দুটো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের দিকেই আশা আশংকা নিয়ে তাকিয়ে আছে দেশের মানুষ, যদিও ব্যক্তিগতভাবে কেউই দুর্নীতিপরায়ন ছিলেন না তারপরও সামগ্রীক অব্যবস্থা ও অরাজকতার প্রতিক্রিয়ায় আপনার বাবা নিহত হয়েছেন, ক্ষমতার হানাহানিতে নিহত হয়েছেন আপনার প্রতিপক্ষের স্বামী, তিনিও সৎ বলেই খ্যাত ছিলেন। আপনারা স্বজন হারানোর কষ্ট বুঝেন কিন্তু আপনাদের ক্ষমতার কুকুর লড়াইয়ে আরও অনেকের স্বজন খুন হয়, এইসব খুনের সংস্কৃতির পৃষ্টপোষকতা করছেন আপনারা, আপনারা যদি সৈজন্যতা আর পারস্পরিক সম্মানের সংস্কৃতিটা সবার সামনে তুলে ধরতেন তবে রাজনৈতিক হানাহানি কমে যেতো।

আমি জানি আপনি আপনার জন্য বরাদ্দ বিশেষ সিকিউরিটি ফোর্স নিয়েই শহরের রাস্তায় ঘুরেন, তারাই আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, কিন্তু যদি আপনি একদিন আপনার দপ্তর ছেড়ে একটু এগিয়ে গিয়ে বিএনপির গুলশানের কার্যালয়ে গিয়ে খালেদা জিয়ার সাথে কথা বলে, সামান্য সৈজন্যতা বিনিময় করেন তাতে আপনার বিন্দুমাত্র অসম্মান হবে না, আপনাদের বৈরিতার আগুণে পুড়ছে দেশের সবকয়টা শিক্ষাঙ্গন, সব কয়টা সেবাদানকেন্দ্র, চিকিৎসকেরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে রাজনীতি করছে, ইঞ্জিনিয়াররা রাজনীতি করছে, সাংস্কৃতিক কর্মীরা রাজনীতি করছে, ছাত্র নামের সন্ত্রাসীরাও আপনাদের বৈরিতাকে পূঁজি করে রাজনীতি করছে,

যে হানাহানির রাজনীতির ধারাবাহিকতা এ দেশে এই সন্ত্রাসের উস্কানী দাতা হিসেবে নাম আসবে আওয়ামী লীগের, তারা স্বাধীন বাংলাদেশে এইসব রাজনৈতিক শোধনবাদের নামে হত্যার সংস্কৃতির সূচনা করেছিলো। হকিস্টিক, ছুড়ি, রাম দা, এইসবের পর্যায় পার হয়ে এখন রাইফেল, কাটা রাইফেল রিভলবার নিয়ে ঘুরছে আপনাদের বিষবৃক্ষেরা, আপনারা যদি একদি একত্রিত হয়ে বলেন আমরা এতার বিলুপ্তি ঘোষনা করলাম তাহলেই সব বদলে যাবে।

অথচ আমার সাথে প্রধানমন্ত্রীর দেখাই হচ্ছে না। তবে রাজনৈতিক বৈরিতার মাত্রাটা বাড়ছে, আজ সংবাদপত্রে এসেছে সংবাদটা একই গ্রামের একই নদীর উপরে দুইটা সাঁকো , একটা দিয়ে নদী পার হবে বিএনপিপন্থী মানুষেরা অন্যটা দিয়ে নদী পারাপার করবে আওয়ামী পন্থী মানুষেরা ,এটা সূচনা মাত্র, হয়তো এরপর বিএনপিপন্থী স্কুল, আওয়ামী পন্থী স্কুল চালু হবে, বিএনপি সমর্থকদের মসজিদ মন্দির গীর্জা আর আওয়ামী গীর্জা মসজিদ মন্দির সংস্কৃতি শুরু হবে, জেলার রাস্তাগুলোও ভাগ হয়ে যাবে, উচু পর্যায়ের সুবিধাবাদী নেতারা ছাড়া অন্য কেউই বিরোধী রাজনৈতিক মতবাদের মানুষের সাথে সামাজিক যোগাযোগ বন্ধ করে দিবে তখন চুড়ান্ত বিভাজনরেখা টানা শেষ হবে।

২১শে আগস্ট শেখ হাসিনার উপরে যে হামলা হয়েছিলো সেটার চার্জশীটে তারেক রহমানের নাম নেওয়া হয়েছে, বাবর, হারিছ চৌধুরী, মুজাহিদীর নামও এসেছে চার্জশীটে, হয়তো এদের কেউ কেউ অপরাধী, গতকাল সকল দৈনিকের পাতায় পুনরায় এইসব বীভৎস দৃশ্যগুলো প্রকাশিত হয়েছে, আওয়ামীপন্থী হতে চাওয়া পত্রিকাগুলো দৈনিকের প্রথম পাতায় বেশ বড় করে গ্রেনেড হামলার দৃশ্য প্রকাশ করেছে, যদিও পত্রিকার প্রথম পাতায় এইসব বীভৎস দৃশ্য প্রকাশের বিরুদ্ধে একটা নৈতিক বাধা আছে কিন্তু রাজনৈতিক লেঙুরবাজীর সুযোগ পেলে এইসব নৈতিক বাধা ভুলে যায় পাচাটা মানুষেরা।

বিএনপি ১৪ টুকরা লাশ নিয়ে ২০০১ এর নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলো, আওয়ামী লীগ ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ছবি সাজিয়ে রাজনীতি করবে এটা আশ্চর্য কিছু নয়, এসব বীভৎস দৃশ্য রাজপথে সাজানো কিংবা দৈনিকের প্রথম পাতায় প্রকাশের ক্ষেত্রে যেসব বিধিনিষেধ আছে সেসব অমান্যের অভিযোগে সম্পাদকদের বিরুদ্ধে মামলা করার উদাহরণও তৈরি করা প্রয়োজন।

সকালে পত্রিকায় বীভৎস লাশের দৃশ্য দেখে আমি নিজেই পত্রিকা পড়া শুরু করি নি, আমি এইসব বীভৎস দৃশ্য থেকে আমার ছেলেকে আমি আড়ালে রাখতে চাই, ওর সামনে কোনো ভায়োলেন্স ঘটুক এমনটা আমি চাই না, স্যাটেলাইট চ্যানেল যখন মহাউৎসাহে বিডিআর বিদ্রোহ আর লাশের ছবি প্রচার করেছে, সেটা দেখার পর থেকে ইউনিফর্মের প্রতি আলাদা ভীতি তৈরি হয়েছে ওর। এ ভীতি অযৌক্তিক, তারা মানুষের কল্যানে নিয়োজিত, এই শিক্ষাটুকু আমি ওকে দিতে পারছি না, র‍্যাব আর পুলিশ যেভাবে আইনকে কাঁচকলা দেখিয়ে নিজেদের আইন ও আদালতের উর্ধ্বে রেখে স্বেচ্ছাচারী আচরণ করছে তাতে ওকে এইসব ফালতু ঝামেলা থেকে দূরে সরে থাকার উপদেশ দিতে পারি আমি এখন। কিন্তু সকালের পত্রিকার পাতা খুলেই রক্তাক্ত মৃত দেহ দেখতে হবে ওকে এমন রাষ্ট্রীয় প্রচারণা আমার পছন্দ না।

অশিক্ষিত রাজনৈতিক দলের পাচাটা সম্পাদকদের অবিবেচক আচরণের জন্য তারা ক্ষমাপ্রার্থনা করেন নি পাঠকদের কাছে কিন্তু কাল সন্ধ্যায় আমি এইসব নির্বোধদের আচরণের জন্য ছেলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছি, আমাকে বলতে হয়েছে এই পত্রিকা বাসায় এসেছে এবং সেখানে এমন বীভৎস দৃশ্য আছে সেটার দায় সম্পূর্ণ আমার। আমি ভুল স্বীকার করেছি, হয়তো ছেলেও ভুলে যাবে একদিন, এই মৃতদেহ তার মানসিক বিষাদের কারণ হবে না, কোনোরকম ট্রমার ভেতর দিয়ে যাবে না ও এমন আশা আমি করতে পারি কিন্তু সেটা নিশ্চিত করতে পারি না।

এইসব বীভৎসতার দৃশ্য দেখে দেখে যারা অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে , যাদের এখন এইসব অপরাধ বিন্দুমাত্র বিচলিত করে না, যারা খুন করে লাশ টুকরো টুকরো করে ছড়িয়ে দেয় ডাস্টবীনে তারাও একদিন আমার ছেলের মতো রক্তের দৃশ্য দেখে আঁতকে উঠতো, এদেরই আমরা এমন ভাবে ভায়োলেন্সপ্রুফ বানিয়েছি, এখন আমাদের ভেতরে কোনো বিকার নেই, আমরা মানুষের গলা দুটুকরো করে দিব্যি রক্ত মেখে ভাত খেতে পারবো, আমাদের কোনো সমস্যা হবে না, কিন্তু মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী এই সংস্কৃতির অবসান ঘটানো আপনার দায়িত্ব, আপনারা যারা রাজনীতি করছেন তাদের দলীয় ভাবে এসব প্রতিহত করতে হবে, একটা সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ আপনারা তৈরি করবেন, রাজনীতিবিমুখ ভালোমানুষদের জনকল্যানে রাজনীতিতে মনোযোগী হতে উদ্বুদ্ধ করবেন আপনারা,

নিজের ছেলে মেয়ে আর বোনের ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়ানো টেন্ডারবাজী চর্চা না করে আপনি একটু দেশের প্রশানমন্ত্রী হয়ে ভাবেন, নিজের সন্তান নয় আরও অনেক মায়ের সন্তানদের নিয়ে ভাবেন, আমরা পরিত্রান চাই। এইসব বীভৎসতা দেখে আমরা ক্লান্ত আমাদের একটু রেহাই দেন, কিংবা আপনারা দুজন ঢাকা স্টেডিয়ামে অনুগত কর্মীদের নিয়ে আদিম কায়দায় সংঘাতে লিপ্ত হন, আমরা পয়সা দিয়ে টিকেট কেটে আপনাদের চুলাচুলি খুনোখুনী উপভোগ করবো, তারপর বিজয়ীদের সম্রাট ভেবে যা কিছু ঘটবে ভবিতব্য মেনে জীবনযাপন করবো।

আপনারা জনগণের ভোটের অধিকার, গণতন্ত্র নিয়ে গলাবাজি করে কান ঝালাপালা করছেন দিনরাত অথচ আপনারা বিবাদী হয়েই বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের দরবারে গিয়ে একে অন্যের নামে নালিশ ঠুকেন, দেশের জনগণ কিংবা সাধারণ মানুষের মতামতের চেয়ে আপনাদের কাছে অন্য কোনো দেশের রাষ্ট্রদুতদের পরামর্শ অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, আপনারা উভয়েই একই সংস্কৃতির ঐতিহ্য বহন করে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী না করে বিদেশী পর্যবেক্ষকদের চোখের সামনে নির্বাচন করতে চান, চান জাতিসংঘ এসে আমাদের নির্বাচনের তদারকি করুক, প্লীজ আপনারা আর ভোট, নির্বাচনী প্রচারণা করে পয়সা নষ্ট করবেন না, আপনারা ঝাড়ু নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমার স্টেডিয়ামে গিয়ে রিং বানিয়ে চুলোচুলি করেন

আপনারা সামান্য অসন্তোষেও জাতিসংঘে ছুটে যান, আপনার বিগতযৌবনা দুই মহিলা জাতিসংঘে কিংবা অন্য কোনো নিরপেক্ষ দেশে গিয়ে অন্য সব রাষ্ট্রপ্রধানদের সামনে আধানাঙ্গা হয়ে চুলোচুলি করেন , নিশ্চিত জানবেন সেটা দেখে জাতিসংঘের সাধারণ কক্ষ বমির দুর্গন্ধে ভরে যাবে, তখন বুঝবেন আমাদের ভেতরে কি পরিমান ঘৃণা আর বমি জমে আছে, আপনি ৪ জীপ এসএসএফ নিয়ে ঘুরাঘুরি না করলে সেসব বমি আপনার শরীরে আর গাড়ীর বহরেই পড়তো, আপনি যখন রাস্তায় ৪টা জীপ নিয়াপত্তা প্রহরী নিয়ে ঘুরেন সবাই আপনার গাড়ী বহরে অদৃশ্য বমি করতে থাকে, আপনি সেসব গায়ে মেখে যান বিদেশ সফরে, আপনার গায়ের দুর্গন্ধ সবাই বুঝতে পারে, শুধু বোধশক্তিশূণ্য আপনি বুঝেন না সেসব। আপনারা দেশের মানুষের কথা বলেন গলা ফাটিয়ে অথচ আপনারা জানেন না একজন সাধারণ মানুষ কি চায়। তারা অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনে ভোট দিয়ে শোষক বানানোর অধিকার চায় না, জনগণ ভোটের অধিকার চায় না তারা দু বেলা ভাত খেতে চায়, তাদের কাছে ভোটের চেয়ে ভাতের অধিকার বেশী গুরুত্ববহ, তারা নিয়মিত তাদের থালায় ভাত দেখতে চায়।

পোস্টটি ৫ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মাহবুব সুমন's picture


কি আর বলবো Puzzled

নরাধম's picture


কি বলবো। ফেবু'তে শেয়ারড।

একজন মায়াবতী's picture


আজকেও ৩০ মিনিটের রাস্তা ২ ঘন্টা ৩০ মিনিটে আসতে হইসে। Sad

তানবীরা's picture


একবার বাংলাদেশে আমার অসুখ হলে নানাবিধ পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট ডাক্তারকে দেখানো হলো। আমি আমার নিজের রিপোর্টটা দেখতে চাইতেই এসিস্ট্যান্ট আমাকে তার স্বভাবসুলভ ধমক দিলেন। পরে আমার এ্যটিচুড দেখে কনফিউজ হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আমি কি পড়ি বা কি করি। এই একই কথা একবার আমার প্রশ্নের কারণে ধানমন্ডি থানার ওসিও আমায় জিজ্ঞেস করেছিলেন। প্রশ্ন না করে মেনে নেয়া স্বভাবের বাঙ্গালী যখন প্রশ্ন করে তখন প্রশ্ন শুনতে অনভ্যস্ত এসব প্রভু শ্রেণীর লোকজন অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে, আপনে কে? কি করেন? কি পড়েন?

আমি দেশে এলে প্রতিবার দুটো জিনিসে আক্রান্ত হই। ফুড পয়জনিং আর ফ্লু। এ দেশে এ দুটোরই কোন ওষুধ নেই। ফুড পয়জনিং এ ডাক্তার বলে, শুধু পানি আর কালো চা খেতে। যতোক্ষণ ভিতর থেকে জার্মটা না বেরোবে ততোক্ষণ বমি হবে। জার্মটা বেরিয়ে গেলেই শরীর ঠিক হতে থাকবে আর তখন স্যুপ খেতে। একবার একজন অতি উৎসাহী আমাকে ক্লিনিকে ভর্তি হয়ে স্যালাইন নিতে বললেন। আর পুরো এক পৃষ্ঠা জুড়ে ইকরি মিকরি ওষুধ লিখলেন। আমি জিজ্ঞেস এবং পরে তর্কে উনি বললেন, বিদেশের পানি অনেক সলিড, খাবার ভিটামিনে পরিপূর্ন। ওখানে তাই এতো ওষুধের দরকার হয় না। ঢাকায় অনেক ভেজাল তাই সাপ্লিমেন্টারী ওষুধের দরকার আছে।

রোমের কলোসিয়ামের ভিতর বিগত দিনের এই দুই ইতিহাসকে মল্লযুদ্ধে লাগিয়ে দিতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু লানত হলো বাংলদেশের মানুষের ওপর, তারা কেন যোগ্য প্রতিনিধির অভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকে না।

মেসবাহ য়াযাদ's picture


লানত হলো বাংলদেশের মানুষের ওপর, তারা কেন যোগ্য প্রতিনিধির অভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকে না।

ভালো বলেছেন ক্যাপ্টেন।
রাসেল, আপনার এ লেখাটা আমার মনের কথা যে ! থ্যাংকু...

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

রাসেল's picture

নিজের সম্পর্কে

আপাতত বলবার মতো কিছু নাই,