আমাদের সাংবাদিকতা
মানুষ সাংবাদিকদের শ্রদ্ধা করে না বরং অধিকাংশ সাংবাদিকদের মানুষ ভয় পায়, ভয় পাওয়ার যুক্তিসংগত কারণও রয়েছে, মানুষের নিজস্ব জীবনযাপনের গল্প, নিজস্ব অপরাধ এবং গোপনীয়তার আড়াল যা মানুষ রেখে দিতে চায় সেসব তথ্য সাংবাদিকদের সংগ্রহে থাকলে মানুষ নিতান্তই অসহায়। একটি সংবাদপত্র প্রকাশিত তথ্য মানুষের এই গোপনীয়তার আড়াল ভেঙে যা সে সযতনে অন্য মানুষের চোখের আড়ালে রেখে দিতে চায় সেসব গোপনীয়তার আড়াল ভেঙে ফেলতে পারে, স্পর্শ্বকাতর তথ্যসংগ্রহ করে সেটা সংবাদপত্রে ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিলাসিতার জীবনযাপন করা সাংবাদিকদের সংখ্যাও কম নয় পৃথিবীতে।
হয়তো কোনো এক সময় আদর্শিক মোহে মানুষ সাংবাদিকতা করতো তবে বাংলা ভাষায় সাংবাদিকতার সূচনা মূলত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করবার বাসনা, ব্যবসায়িক গোলোযোগ কিংবা তৎকালীন ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানীর কর্তাব্যক্তিদের এক হাত দেখে নেওয়ার বাসনায় হিকি সংবাদপত্র প্রকাশ করেছিলেন, সেখানে বিভিন্ন সংবাদ ও গুজব প্রকাশের দায়ে তাকে বিভিন্ন সময় কারাবাস করতে হয়েছে, ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানীর হেস্টিংস এবং তৎকালীন বিচারপতির নামে ন্যায্য অন্যায্য সংবাদপ্রকাশের দায়ে হিকিকে গ্রেফতার করা হলে হিকি জেলখানার ভেতর থেকেই তার সংবাদপত্র প্রকাশ করেছেন। অশোভনতা, অশালীনতা কিংবা মিথ্যা তথ্য প্রকাশের দায়ে সে সময়ে হিকিকে গ্রেফতার করা হলেও ইদানিং সেসবের প্রচলন উঠে গিয়েছে, এখন সংবাদপত্র এবং সংবাদপত্র মালিক নিজেদের স্বার্থপুরণের দায়ে অর্ধসত্য তথ্য কৌশলে উপস্থাপন করেন নিজেদের সংবাদপত্রে।
সংবাদপত্র বিভিন্ন শ্লোগান নিয়ে যাত্র শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত তারা নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ অক্ষুন্ন রাখতে চায়, স্বার্থে আঘাত লাগলে তারা কি ধরণের আচরণ করতে পারে তার বিভিন্ন নুমনা প্রকাশিত দৈনিকগুলোতে আছে, যুগান্তর বিভিন্ন সময়ে তার মালিকের ব্যবসায়িক প্রতিদন্ডী কিংবা যার বিরুদ্ধাচারণ করতে হবে সেসব ব্যক্তির নামে বিভিন্ন বিবৃতি পাতাজুড়ে প্রকাশ করতো, যায় যায় দিন যখন বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকের কব্জায় আসলো সে পত্রিকাও এমনই আচরণ করেছে, দৈনিক কালের কণ্ঠ প্রকাশিত হয়েছিলো আবেদ খানের সম্পাদনায়, প্রথম আলো যে সময়ে অবৈধ জমি দখল এবং আবাসন ব্যবসার বিরোধিতা করছিলো, ড্যাপ বাস্তবায়ন, জমি দখল, নদী হত্যা, সবুজ হত্যা বিভিন্ন শিরোনামে প্রথম আলোতে পরিবেশ আন্দোলন এবং সুজনের বিভিন্ন ব্যক্তি বক্তৃতা দিয়েছিলো, সেসবের প্রতিরোধ করতে পারে নি বসুন্ধরা গ্রুপ, তাদের নদী ও জলাশয় দখল করে কোটি কোটি টাকা উপার্জনের উৎসটা কালিমালিপ্ত হয়েছে, তারা মতিউর রহমানকে জঙ্গী সম্পৃক্ততার দায়ে অভিযুক্ত করতে চেয়েছে, সেসব প্রচেষ্টা বৃথা হয়েছে অবশেষে, কিন্তু পরিবেশ আন্দোলন ও বেলার বিরুদ্ধে আবাসন মালিকদের ক্ষোভের পরিমাণ তাতে কমে নি।
বসুন্ধরা গ্রুপের কালের কণ্ঠ দৈনিকের চেয়ে দুটাকা দামের বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকাটা বাজারে বেশী চলে, সেখানে গত পরশুদিন দেখলাম বাপা আর বেলার বিরুদ্ধে অভিযোগের ডালা খুলেছেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদক, তিনি দক্ষ গোয়েন্দার মতো বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেছেন, আজ পড়লাম সৈয়দা রেজওয়ানার পরিবারের গোপন কথা।
সৈয়দা রেজওয়ানার ব্যক্তিগত কিংবা পারিবারিক জীবন আমার আগ্রহের বিষয় নয়, কিন্তু তার একক সংগ্রাম আমার পছন্দ, বেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হওয়ার আগে থেকেই রেজওয়ানা বিভিন্ন নাগরিক ও সামাজিক ইস্যু নিয়ে আদালতের সহযোগিতা চেয়েছেন, যা কিছু সামাজিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশ দুষণ করছে সেসব নিয়ে রেজওয়ানা লড়াই করেছেন, সেসবের স্বীকৃতিও পেয়েছেন তিনি।
তার বাবা-মা, স্বামী কিংবা সন্তানের নিজস্ব ত্রুটিবিচ্যুতি থাকতেই পারে, সেসব ত্রুটিবিচ্যুতি রেজওয়ানাকে বিব্রতও করতে পারে, হয়তো রেজওয়ানা এইসব রাষ্ট্র হোক, কেউ ঢেঁরা পিটিয়ে তার পারিবারিক কুৎসা গাইবে এমনটা নাও চাইতে পারেন, কিন্তু সাংবাদিক যখন মালিকের স্বর্থ রক্ষায় নিজের বিবেচনাবোধ শিকেয় তুলে রাখেন তখন দেখা যাবে সাংবাদিকের জিহ্বা মালিকের বীচি চাটছে, তার হাত মালিকের গোপনাঙ্গে ব্যতিব্যস্ত, শিশ্নতোষণ এবং মুখমেহনে তারা নিজের ভবিষ্যত গুছিয়ে নিচ্ছেন ঠিকই কিন্তু একই সাথে সার্বিক প্রকাশনা শিল্প কিংবা সংবাদপত্র শিল্পকে কলুষিত করছেন তারা। তাদের ক্ষুদ্রতার অনেক গল্প অনেকের কাছে আছে, কোন ব্যবসায়ীর ছেলের গোপন অভিসার, কোন ব্যবসায়ীর গোপন অভিসার, কোন ব্যবসায়ীর গুম খুন ধারণ করে মাসোহারা আদায় করছে কোন কোন সাংবাদিক সেসব ইন হাউজ সাংবাদিকদের জানা, তাদের সুবাদে অনেকেই এইসব সাংবাদিকদের জানেন।
নিজস্ব কৃতকর্মের জন্য মানুষ লজ্জিত হয় না, কিন্তু সেটার সামাজিক প্রতিক্রিয়াকে মানুষ ভয় পায়, সে কারণেই কারো সাথে সঙ্গমলিপ্ত হওয়া, পয়সার বিনিময়ে কিংবা অন্য কোনো দাপট দেখিয়ে কারো সাথে শাররীক সম্পর্ক স্থাপন করা আপত্তিকর নয়, পয়সার বিনিময়ে অনেকেই শাররীক সম্পর্ক স্থাপন করে, এটা প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই চলে আসা রীতি কিন্তু এরপরও মানুষ এইসব সম্পর্ককে ইদানিং আপত্তিকর মনে করে, সেই সামাজিক ইনহিবিশনকে পূঁজি করে পয়সা উপার্জনের নোংরামিটা কারা করে সেটা প্রকাশ্য কেউই বলতে চায় না, সাংবাদিকদের ভেতরে একটা অলিখিত ভদ্রলোকী চুক্তি আছে, তারা নিজেদের গু নিজেরা ঘাঁটাঘাটি করলেও অন্য সবাইকে সেটা দেখাতে চায় না,
বেলার রেজওয়ানার নিজস্ব দুর্বলতা হয়তো এখনও খুঁজে পায় নি এইসব সাংবাদিকেরা, তার প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকান্ড কিংবা তার জীবনযাপনের লড়াইটাকে স্তব্ধ করতে তার বাবার প্রেমের জীবনকে উপজীব্য করে কোনো মুখরোচক গল্প রচনার প্রতিক্রিয়ায় রেজওয়ানা হয়তো আইনী জবাবদিহিতা চাইতে পারেন কিংবা যেহেতু প্রকাশিত তথ্যের সত্যতা আছে সুতরাং তা মেনে নিতেই পারেন, সেটা রেজওয়ানার বিবেচনা, তার কারণে জাহাজ ভাঙা শিল্প ধ্বংসের মুখোমুখি এটা সম্ভবত শিক্ষিত ব্যক্তিরা মেনে নিতে রাজী হবে না, পারমাণবিক বর্জ্য ও রাসায়নিক বর্জ্যবহনকারী জাহাজ ভাঙতে গিয়ে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, পরিবেশগত ছাড়পত্র না পেলে এখন এইসব বিষাক্ত ও দুষিত জাহাজ বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে না, যদিও পয়সার বিনিময়ে সবই সম্ভব হয় কিন্ত এখন অন্তত এদের আইনী বাধ্যবাধকতার কারণে হলেও এইসব লাইসেন্স প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহের কষ্ট করতে হয়, সেসব দুষিত বিষাক্ত স্ক্রাপ মেটাল গলিয়ে স্টীল মিল চলছে, হাজার কোটি টাকা মুনাফা হচ্ছে , কিন্তু এত এত সস্তা দুষিত জাহাজ গলানো যাচ্ছে না, সেসব বিনামূল্যেই পাওয়া যেতো, এখন সেসব কিনতে হচ্ছে, এই কষ্ট ভুলতে পারছে না সেসব ব্যবসায়ী তাদের সবার লক্ষ্য বাপা এবং বেলা,
আজ জনৈক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে, সে ছাত্রীকে ধর্ষণের আগে তার বিবস্ত্র ছবি তুলে রেখেছিলো অভিজ্ঞ শিক্ষক, এই ছবি প্রকাশিত হলে ছাত্রী এবং তার পরিবারের মানসম্মানহানী হবে, সেই ভয়ে ছাত্রী চুপ করে থাকবে, সেও নিজের মর্জিমতো ভোগ করতে পারবে- সে পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে, ছাত্রী নিরবতা ভেঙে প্রতিবাদী হয়েছে, নিজের দুর্বলতা ঢাকতে অন্য মানুষের দুর্বলতা খোঁচানের মানসিকতা শুধু এই ধর্ষক শিক্ষকের নেই বরং একদল সাংবাদিকেরও এমন ভাবেই মানুষের দুর্বলতাপূঁজি করে ব্যবসা করার মানসিকতা রয়েছে, আজ যদি সে শিক্ষকের বিচার দাবি করে মানুষ, সেই নৈতিক অবস্থান থেকেই এই সাংবাদিকদের বিচার দাবি করা প্রয়োজন এবং আমার ধারণা এমন সাংবাদিকদের সংখ্যা হাজারে গুণতে হবে।
সার্বিক শোধন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যেতে হবে রাষ্ট্রকে, অনেক জায়গাই পরিবর্তন প্রয়োজন, বদলে দিতে হবে অনেক কিছুই, বদলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া মিডিয়া জায়ান্ট নিজের ইন হাউজে থেকে যাওয়া কীটগুলোকে পরিচ্ছন্ন করুক, যারা এমনভাবে দেশের মানুষের নৈতিকতার এজেন্ট সাজছেন সেইসব পত্রিকার মালিকেরা নিজেদের ঘর পরিস্কার করে অন্য কারো ঘরের জানালায়া সার্চ লাইটের আলো ফেলে তল্লাশী করলে সেটা সবার জন্যই মঙ্গলজনক হবে।





বেশ জোরালোভাবে একমত পোষণ করছি
পোস্টে একমত। সোবহান মিয়া সংবাদপত্র শিল্পটাকে, মানুষের পক্ষে যতটুকু সম্ভব নোংরামির চরম সীমায় নিয়ে গেছে।
সে কি একাই এতটা করতে পারছে, তাকে সহযোগিতা করতেছে অন্তত ৫০০ জন, এই ৫০০ জনের সবাই পেটের ভাতের দোহাই দিবে,
সুবান সাবের পত্রিকায় কয়জন ব্লগার ছিলো ও বর্তমানে আছে
পোস্টের মনোভাবের সাথে একমত।
এই ধরনের শব্দ কি ব্যবহার না করলেই নয়?আপনার দৃষ্টি আকর্ষন করছি।
তা করা যায়,
সাধু সংস্কৃত ভাষায় না লিখে প্রাকৃততেও গালি দেওয়া যায়, সেটা অনেক বেশী আপন আপন লাগে, সাংবাদিক মালিকের ধন মালিশ করতেছে, তার কষ্ট হবে বইলা নিজে যতন কইরা মালিকের হাত মাইরা দিতাছে এইসবও লেখা যায়, সেইটা পড়লে বুঝতে কষ্ট হবে কম।
আর যদি গালি কিংবা ভাষাবিষয়ক কোনো সংকট সংশয় থাকে তাহলে বিপদ, আমার এইসব লেখা বাইডিফল্ট ২১+ ট্যাগে থাকে, আমি কষ্ট কইরা লিখি না এই যা, আমি ভাবতেছি শোভনতার মাকে না চুদে নিজের মতো লিখে যাবো, লোকজনের কোমল মনের কথা বিবেচনা করে যতটা সম্ভব কম গালাগালির যে পথ অনুসরণ করতেছি এইটা বাদ দিয়ে দেওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়া দিলেন আপনে।
রাসেল আশরাফের মন্তব্যের সাথে সহমত প্রকাশ করছি। মন্তব্যের প্রতি উত্তরে মার্জিতভাব কাম্য। পাঠকের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা না থাকলে লেখা কেন?
রাজনীতিবিদের জনগনের পরোয়া নাই
মালিকের শ্রমিকের পরোয়া নাই
ডাক্তারের রুগীর পরোয়া নাই
লেখকের পাঠকের পরোয়া নাই
অন্যের সমালোচনা করা সহজ আবার নিজেরটা মানা কষ্ট। জগত জোড়া সমস্যা একটাই।
আমার মনে হয় সমালোচনা বিষয়টা নিয়ে আপনার এবং আমার দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা, রাসেল আশরাফের শব্দবিষয়কশুঁচিবায়িতা আছে, সেটা আমার কাছে বিরক্তিকর মনে হয়,
আমার নিজের ধারণা শব্দ ব্যবহার ও বাক্য গঠনের স্বাধীনতা লেখকের থাকবে,এবং সে স্বাধীনতা কোনোভাবেই "আমার শালীনতাবোধের সাথে যায় না" " এখানে মা বোন ভাইবেরাদার আসে, তাদের সামনে নিজেকে ছোটোমনে হয়" কিংবা এইজাতীয় আরও অনেক ধরণের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত ইনহিবিশন যা যা আছে সেসব উপস্থাপন করে ভাষা বদলানোর উপদেশ দিয়ে ক্ষুন্ন করা যাবে না।
যদি এটা সমালোচনা হতো তাহলে সেটা নিয়ে পাল্টা দু চার কথা শুনানোর বিষয় থাকতো। আপনি এটাকে সমালোচনা বলে মহিমান্বিত করছেন কি তরিকায় এটা বুঝতে পারি নি আমি। এটা রাসেল আশরাফ এবং একই রকম ভাবে আরও অনেক শালীনতাবাদীদের শব্দ পড়ে একলা ঘরে লজ্জিত হওয়ার বিষয়, সে লজ্জাটা তার নিজের ভেতর থেকে আসছে, এটার দায়দায়িত্ব আমি নিতে যাবো কেনো?
বিরক্ত লাগাই স্বাভাবিক। আমার কাছে যেমন আপনার কিছু কিছু শব্দচয়ন বিরক্ত লাগে।
তাইতো আপনি নিতে যাবেন কেন? স্বাধীন দেশের স্বাধীন লেখক আপনি যা মনে আসবে তাই লিখবেন। এতে আমাদের মতো আম জনতার বা তথাকথিত শালীনতাবাদী দের কথা শুনবেন কেন?
তানবীরাপু@ বাদ দেন কখন আবার শালীনতার মা কে না ** আমাদের বা তথাকথিত শালীনতবাদীদের কে লেখক ** দিবেন তখন কিন্তু দায়ভার আমাদেরকেই নিতে হবে।
আমার শব্দ চয়নে আপনার বিরক্তি নেই অসস্তি আছে, অসস্তি এবং বিরক্তি দুটো ভিন্ন অনুভব, আমি স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক, ভাবার এবং সে ভাবনা প্রকাশের নিজস্ব স্বাধীনতা ভোগ করি এবং সে স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখতে চাই।
যেকোনো ধরণের পরিশুদ্ধতাবাদীতা আমার অপছন্দ, সেটা পরিচিত অপরিচিত সবার জন্যই একই, আপনার চামড়ার রং, আপনার চেহারা কিংবা জন্মস্থানের সাথে এইটার যোগাযোগ নাই কোনো।
আমি আপনার ব্যক্তিগত বিষয়, ভাবনা নিয়া চিন্তিত না, সেইটা আপনে কেমনে প্রকাশ করেন সেইটা নিয়াও চিন্তিত না, আমি আপনেরে কিভাবে লেখা উচিত , কি ভাবনা প্রকাশ করা উচিত জাতীয় নসিহতের রাস্তায় যাই নাই, আপনি নসিহত দিতে আসছেন, আমি সে নসিহত মানতে অসম্মতি জানাইছি, এইটা তানভীরা সমালোচনা হিসাবে দেখতেছে, আমি দেখতেছি না, কিন্তু ট্যাগ টিম স্টাইলে চলে আসেন তানভীরা আপু বইলা লাফানোর মানে কি, যদি আপনের কথায় তেমন জোর থাকে সেইটা নিজের বক্তব্যের ক্ষমতায় দাঁড়ানোর কথা, এইটার জন্য আশেপশের মানুষরে অন্তর্ভুক্ত করন অপ্রয়োজনীয়।
ফেরদৌস ওয়াহিদ সানগ্লাস পরে
এস আই টুটুল রুমাল বান্ধে মাথায়
রোনাল্ডো মাথা কামায়
ক্রিকেটাররা মুখে ডিজাইন আঁকে
ব্লগাররা লেখায় স্ল্যাং ব্যবহার করে
সবই হলো স্টাইলের খেলা। নিজেকে অন্য সবার থেকে আলাদা প্রমানের চেষ্টা। এ্যটেনশন ড্র করা। দেখো, আমি তোমাদের থেকে আলাদা। সাধারণ থাকাই দেখি আজকাল অসাধারণ কাজ।
মানুষের নাম অশুদ্ধ করে লিখাটাও বোধহয় আপনার আর একটা স্টাইল
নসিহতে আমি যাই নাই সেটা আপনিই গেছেন।আমি আমার প্রথম কমেন্টে আপনার লেখার কন্টেটে একমত জানিয়ে আপনার কিছু শব্দের ব্যাপারে আপনার দৃষ্টি আকর্ষন করেছিলাম । কারন আমার ভালোলাগা লেখাটা কিছু শব্দের কারনে আমার মতো কিছু শালীনতাবাদীদের কাছে অসস্তি বোধ করবে। কিন্তু তার উত্তরে আপনি সাধু এবং প্রাকৃত ভাষায় কেমন হয় সেটা আমাকে বুঝিয়েছেন।আপনি একটু খেয়াল করবেন আমার কমেন্টের উত্তর পাওয়ার পরেও আপনার উত্তরের উত্তর আমি দিতে যাইনি।
তানবীরাপুর কমেন্টের পরেও আবার আপনি কোনটা সমালোচনা,কোনটা একান্তই লজ্জা পাওয়ার বিষয় তা বুঝিয়েছেন। একান্ত বাধ্য হয়ে উত্তর দিয়েছিলাম।এখন আবার অসস্তি,নিজের ভাবনা বিষয়ক নসিহত দিলেন। নসিহত দেয়ার প্যাটেন্ট কি নিজের নামে করে নিয়েছেন? না ব্লগের সবাইকে আপনার ছাত্র মনে হয়?
আর আপনার দুটো কমেন্টের উত্তরে(আমার এবং তানবীরাপু) যা উত্তর পেয়েছি তাতে আমি উনাকে সতর্ক করেছি।কারন আপনাকে বললেও আপনি বুঝবেন না এটা নিশ্চিত।সেটা যদি ট্যাগ টিম স্ট্যাইল হয় তাহলে বলার কিছু নাই।
ভালো থাকবেন।
আপনি নেলসন ম্যান্ডেলা, আপনি মহারাণী ভিক্টোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজে মিডিয়া নিয়ে হতাশ। শুধু বসুন্ধরা না, বর্তমানে মালিকপক্ষ সৎ, অন্যের টাকা মেরে খায় না কিংবা দূর্নীতিগ্রস্থ না .... এমন একটা মিডিয়া হাউসের নাম কি বলতে পারবেন?
যেসব সম্পাদকেরা বিভিন্ন প্রোগ্রামে সুন্দর চেহারা নিয়ে বড় বড় কথা বলে, নিজেদের মানবাধিকারের ধারক ও বাহক ভাবতে পছন্দ করে তারা নিজের অফিসে অন্যদের কিভাবে ঠকায় বললে তাদের গুণমুগ্ধরা বিশ্বাস করবে না
পুরোপুরি একমত।
সহমত পোষণ করলাম।
এক মালিক গতকাল বৈঠক করে সবাইকে বলে দিয়েছে, তাদের ইচ্ছামতো পত্রিকা চলবে, পছন্দ না হলে যে কেউ চলে যেতে পারে।
রাসেল ভাই তোমার লেখাটা পড়ার আগে, একটা বিষয় বলে নেই- কালকে রাফি নিকের এক সহব্লগারের লেখা পড়ে, খুব ব্যাক্তিগত একটা কষ্টের কথা লিখে ফেলেছিলাম, সেখানে অনেকেই তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন এবং মতামত দিয়েছেন। কিন্তু রাসেল নামের এই সহ ব্লগার স্(যে তোমার ব্লগেও)স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের নামে, মন্তব্যে যে ধরণের ভাষা ব্যবহার করেছে.. তাতে পাশাপাশি ব্লগিং করতে নিজেকে ভীষন অসভ্য মনে হচ্ছে।
এই অতি সভ্য ব্লগার ব্লগে থাকলে...আমাদের মত অসভ্যদের আর জায়গা কই?
না আমরাবন্ধু ব্লগ বোধ হয় ছাড়তেই হবে..
বোনডি, এইটা সেই লোকেরই ব্লগ। রাসেল আশরাফের না।
শাপলা আপা@ একটু ভুল হয়েছে বোধহয়।আমি(রাসেল আশরাফ) আমি রাসেল নই।

আপনার সাথে আমার কোনো বাতচিত হয়েছে বলে মনে হয় না, আমি আপনাকে উদ্দেশ্য করে কোনো বাক্য ব্যয় করেছি এমনটাও স্মরণে আসছে না ।
বাংলা ভাষায় শব্দের সীমাবদ্ধতা কখনোই ছিল না। পারিবারিক আড্ডা/আলোচনায় আমরা অনেক শব্দই পরিহার করি। ঠিক তেমনি, আপনি যখন পত্রিকায় লেখা জমা দেন সেখানে অনেক শব্দই পরিহার করেন। কেন?
লেখক যখন পাঠকদের কিছু বলতে চায় তখন সকলেই নির্ধারিত একটা মাত্রার শালীনতা মান্য করে চলে। আপনি বলতেই পারেন যে আমি এইসব মানি না। সেই অধিকার আপনার আছে। আবার আপনি বলতে পারেন, আমি লেখক নই আমি ব্লগার। যেভাবেই নিজেকে উপস্থাপন করেন না কেন শেষ পর্যন্ত লেখাটা পাঠকের জন্যই। আপনি আপনার লেখা আপনার পাতায় রাখলে কেউ কিছু মনে করবে না। কোন একটা লেখা যখন পাঠকের বরাবর পেশ করা হয় তখন পাঠককুল বিবেচনায় রেখেই লেখাটা তৈরী হয়। লেখকের ইচ্ছা অনিচ্ছার মূল্য সেখানে অনেক কম থাকে। পাঠকের ভাললাগা মন্দ লাগার বিষয়টা ভাবনায় রাখাটা দোষেরও নয়।
আপনি যথেষ্ট ভাল বোঝেন। আশা করছি বিষয়টা খেয়াল রাখবেন।
মাননীয় মডারেটর বিভিন্ন স্থানে আমাকে একই কথাই বলতে হয়েছে, এখানেও আসলে পুরোনো কথাই বলতে হবে আমাকে, একই প্রতিক্রিয়ার জন্য নতুন কোনো বক্তব্য উপস্থাপন করা কঠিন।
সম্ভবত এর পরের লেখাটাই শেষ লেখা যেটা আমি প্রথম পাতার প্রকাশ করবো। পরবর্তীতে কোনো শালীনতাবাদি উজবুক যেনো এসে বাগড়া না বাধায় সেটা ঠিক করবার দায়িত্ব মাননীয় মডারেটরের।
মান্যবর রাসেল আশরাফ এসে বলেছিলেন আমাকে শব্দ ব্যবহারে শালিন হতে, সেটা আমার পছন্দ হয় নি, কিন্তু আমরা বন্ধু ভদ্রলোকদের জায়গা যারা অনেক কিছুই চাদরের নীচে লুকিয়ে রাখতে চায়, এইসব আমার ধাতে পোষায় না, সুতরাং আমি অপরাগ আমার ধরণ বদলাতে, বলতে পারেন যে কিছু একান্ত ব্যক্তিগত অনুভব সেসব একান্ত ব্যক্তিগত অনুভব কিভাবে উপস্থাপন করবো সেটার স্বাধীনতা আমার থাকবে এবং আমার কাছে সেটাই বাঞ্ছিত মনে হয়।
ব্লগীয় ইতিহাস থেকে অনেক কথাই হয়তো বলা যেতো, সেসব তিক্ততা ঘেঁটে তোলা অপ্রয়োজনীয় বলেই বিরত থাকলাম, ধন্যবাদ সবাইকে
মন্তব্য করুন