সোহেল ভাই ০১৬
ফারুকের বাসার দরজায় দাঁড়িয়ে আমরা ক'জন, এর মধ্যেই হাজির হলো নান্টু,
আজকে একটা কান্ডই হইছে, বুঝলি, বাসের জন্য দাঁড়ায় আছি, সুন্দর মতো একটা মেয়ে এসে বললো কেমন আছেন? আপনাকে অনেক দিন পর দেখলাম।
আমি তো পুরাই তব্ধা খায়া গেলাম, মাইয়ার দিকে তাকাই, হাসি দিয়া কি কমু বুঝি না। ভাবলাম কিছু একটা কওন দরকার, কইলাম হুমম, অনেক দিন দেখা হয় নাই, ভালো আছো তুমি?
মাইয়া আমার দিকে তাকায়া বললো আসি ভাইয়া।
তোর তো হয়ে গেলো বন্ধু, মেয়ের নাম কি?
আরে বাল গত ২ ঘন্টা ধরে তো সেইটাই মনে করার চেষ্টা করতেছিলাম জ্যামে বইয়া বইয়া।
কোথায় দেখা হইলো?
কই আবার ইউনির সামনে দেখা হইলো, এইখানে আসবার আগে আগে
রাশেদ বললো , কোন বাসে উঠছিলো খেয়াল আছে?
বিআরটিসি
আমার কি মনে হয় জানিস? আমার মনে হয় ও তোর আগের মহল্লার কোনো বাসার ভাড়াটিয়া হবে, এখন তো প্রতি বছরই মানুষ মহল্লা বদলাচ্ছে, মহল্লার রাস্তায় যাদের সাথে নিয়মিত দেখা হয়, নাম জানি কিংবা না জানি ওদের কিন্তু পরিচিতই মনে হয়। হঠাৎ করে রাস্তায় দেখলে মনে হয় নামটা মনে করি মনে করি করেও মনে পড়তেছে না।
কিন্তু ধর মাইয়ার চেহারা ছবি ভালো, এই রকম একটা মাইয়া মহল্লায় থাকবে আর আমার ঐ মাইয়ার নাম মনে থাকবে না? এইটা কোনো কথা কইলি তুই?
মানুষের চেহারা কত বদলায় তোর কোনো ধারণা আছে? একটু চুলটা কাটলে, একটু মেকআপ করলে তুই আয়নায় নিজেকে চিনতে পারবি না, আর মেয়েদের চেহারা
তো তুই কি চুল কাটাইছিস?
মারুফ কোথা থেকে বাম হাত ঢুকিয়ে প্রশ্নটা করলো?
ক্যান, আমার চুল কাটার কথা আইলো ক্যান? আমার চেহারা দেইখ্যা কি চিনা যায় নাই?
না একটু কেমন করে জানি কাটছে, মনে হচ্ছে তুই নাপিতের কাছে না যায়া চুল কাটাইতে গেছিলি দর্জির কাছে, পিছন দিকে সোজা কাইট্যা ফেলছে। অবশ্য খারাপ করে নি, তোর চেহারাটা এখনও আরও স্পষ্ট হইছে। আর একটা প্রশ্ন শুধু
আমরা সবাই প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে মারুফের দিকে তাকিয়ে আছি
আচ্ছা জ্ঞানের পাহার একটা কথা বল চুল-দাড়ির মতো মানুষের কানও কি বড় হয়?
কান নিয়া টানাটানি ক্যান দোস্তো?
নাহ আমার মনে হচ্ছে তোর কানটা আরও বড় হইছে, ইন্দুরের শরীরে হাতির কান লাগাইলে যেমন হইবো তোর চেহারাটা হইছে সেই রকম
হ, আমার চেহারা তো ঐ রকমই, তুমি তো ব্রাড পিট, সুপারস্টার।
নাহ দোস্তো, আমি ভাইবা দেখলাম, ধরো তোমার কানে যদি তুমি একটা ইঞ্জিন লাগায়া নাও তাহলে মনে করো তোমার কাছে কিন্তু ঢাকা শহরের জ্যাম কিছু না। কান নাড়ায়া তুমি আকাশে উড়তে পারবা।
হ, তা তো পারুমই, তোর যে চোপার জোড়, তোর চোপার সাথে একটা জেনারেটর লাগায়া দিলে তুই জাতীয় গ্রীডের কয়েক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিতে পারবি। তুই কইলে আমি একটা ডিজাইন চিন্তা করি, তোর চোপার জোরে তো কাইত হয়ে গেলাম।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে মারুফ বললো, এই এখন সব ক্লিয়ার, ঐদিন রিকশাওয়ালা তোকে আমাদের রিকশা থেকে নামায়া দিলো মনে আছে?
আমারও মনে পড়লো কথাটা। বেশীদিন আগে না, ইউনিভার্সিটি থেকে গুলশান মোড়ে আসবো, রিকশায় উঠছি, অর্ধেক রাস্তায় এসে রিকশাওয়ালা বললো, মামা একজন নামেন এই দুপুর বেলা ৩ জন নিয়া টানতে পারতেছি না, হাসফাস লাগতেছে।
রাস্তার অন্য পাশেই রাশেদের বাস থামবে, ও ওখানেই নেমে গেলো, আমরা গুলশান পর্যন্ত আসলাম
কি ক্লিয়ার হইলো?
আমার মনে হয় তোর কানের জন্য রিকশা টানতে কষ্ট হচ্ছিলো ওর। তোরটাতো কান না এখন ঐটা প্যারাশ্যুটের কাজ করে, তোকে যদি কেউ প্লেন থেকে ফেলায় দেয়, তুই কিন্তু কান ধরে প্যারাশ্যুটের মতো গ্লাইড করে নামতে পারবি।
আমি তো পারুমই, তয় তুই মহল্লায় জেনারেটরের ব্যবসা দেখ, ময়না ভাইয়ের দোকান থেকে লাইন টানবি, আর ঐখানে বইসা চোপাবাজি করবি, মহল্লার সব বাসায় ২৪ ঘন্টা কারেন্ট থাকবে।
ফারুক ধীরে সুস্থে দরজা খুলে বললো ভিতরে আয়া বস। কি খাবি তোরা?
তখনও ফারুক সোহেল ভাইকে দেখে নি, সোহেল ভাইকে দেখে বললো, আররে বস, আপনি না কি। আসেন আসেন মিয়া, ভিতরে আসেন। আপনি তো আমাদের ভুলেই গেলেন।
আরে কি যে বলো না তোমরা। এখন কি আর ইচ্ছা করলেই আসা যায় না কি। কাজের চাপ আছে না
আমরা খুকখুক করে কাশলাম কিছুক্ষণ, সোহেল ভাই কাজের চাপে ঢাকায় আসতে পারে না।
তো বস কি খাবেন বলেন?
আমি কিছু খাবো না, বিকালে বাসা থেকে খেয়ে বের হলাম। তুমি অন্যদের জিজ্ঞাসা করো ওরা কি খাবে?
রফিক আয়োজন করে একটা বাটিতে নুডলস নিয়ে বসে বসে খাচ্ছে, ওর খাওয়াটাও একটা দেখার মতো দৃশ্য, এর মাঝে নান্নু বললো রফিক তোকে একটা বিনা পয়সায় বুদ্ধি দেই শুন, এরপর থেকে তুই ঘুমানোর সময় একটা সুতা দিয়া তোর পা'টা বিছানার সাথে বান্ধে ঘুমাবি, তুই যেইভাবে ফুলতেছিস দোস্তো একদিন দেখবি ফ্যানের সাথে ধাক্কা লাগছে তোর ঘুমের সময়।
যথারীতি ময়না ভাইয়ের দোকানে বসে আছি, সোহেল ভাই একটু পরে আসবে, দুর থেকে দেখলাম ফারুক আসতেছে। গলির মাথা থেকে হাঁটলেও ময়না ভাইয়ের দোকানটা পৌঁছাতে লাগে ৫ মিনিট। রফিক আসতে আসতে সিগারেট শেষ হয়ে গেলো,
কি রে কি হইছে তোর?
নাহ তোর চলে আসবার পর ডাক্তারের কাছে গেছলাম, ডাক্তার সব শুনে ওজন মেপে বললো আমার বিএমআই ৩৫। আমাকে ওজন কমাইতে হবে, একটা চার্ট করে দিছে আর দৌড়াইতে বলছে, সেই জন্য দৌড়াচ্ছি।
তুই তাহলে দৌড়াচ্ছিলো!!!
মারুফের গলাটা আরও এক ধাপ উঁচুতে উঠে গেলো, তোরে দেইখ্যা মনে হচ্ছিলো তুই স্লো-মোশনে হাঁটতেছিস, তুই কি পিঁপড়ার সাথে রেস করতেছিলি?
না একটু কষ্ট হচ্ছে, প্রথম দিন তো, ঠিক হয়ে যাবে দোস্তো।
শালা তোমার যে অবস্থা তোমার তো হোগার লগে কুত্তা বাইন্ধা দৌঁড়ানোর কাম , তুমি এই দুপুর বেলা ফাঁকা রাস্তায় পিঁপড়ার লগে রেস খেলো।





মজা লাগে সোহেল ভাই। তয়, এক যায়গায় রফিক আর ফারুকে আউলায়া গেছি।
৪ বছরে বিভিন্ন ব্যবধানে বিভিন্ন উপলক্ষ্যে কিংবা নিছক লেখার আনন্দে এই জিনিষ লিখতেছি, সামহোয়্যার ইনে সম্ভবত কে বুঝে মাওলার আঙ্গুলবাজি কিংবা তার আগের কোনো সময়ে এটার জন্ম হইছিলো। তখন যে কয়জন চরিত্র ছিলো এখনও তারাই আছে এমনটাও আমার মনে হয় না। রফিক/ফারুক, নান্নু, নান্টু, রাশেদ, মারুফ, সোহেল ভাই- এর সাথে আরও কেউ থাকতে পারে, সে সম্ভবনাও উড়ায়া দেওয়া যায় না। যেহেতু দীর্ঘ সময় ধইরা জিনিষটা চলতেছে এমনও হইতে পারে রফিককে যেমন ভাবছিলাম সেইটা এখন ফারুকের উপরে চাপায়া দিছি।
মজা পাই সোহেল ভাই পইড়া, চলুক
মন্তব্য করুন