ইউজার লগইন

সোহেল ভাই ০১৭

ঘুমটা ভাঙলো মোবাইলের আওয়াজে, বিকট শব্দে মোবাইল বাজছে, ঘড়িতে বাজে পৌনে দুইটা, রফিক ফোন করছে।

কি রে শালা এত রাইতে ঘুম ভাঙাইলি ক্যান?

দোস্তো আম্মাকে নিয়ে বারডেমে যাচ্ছি, অসুস্থ।

ড্রাইভার পাইছিস না কি এম্বুলেন্সে নিয়ে যাচ্ছিস।

না গাড়ীতেই যাচ্ছি।

ঠিক আছে দোস্তো আমি পৌঁছাচ্ছি একটু পরেই।

চোখে-মুখে পানি দিয়ে ট্রাউজারে ঢুকে মারুফকে ফোন দিলাম।
মারুফ মনে হয় জেগেই ছিলো, দোস্তো বার্সেলোনা ফাটায়া ফেলতেছে, মেসী ইজ গড।
ঐ শুন, রফিক ফোন দিছিলো, আন্টিকে নিয়ে বারডেমে যাচ্ছে, তুই কি যাইতে পারবি?
তুই কোথায় এখন?
বাসা থেকে বের হচ্ছি এখনই।
তুই বাসার নীচে দাঁড়া এসে আমি নামতেছি এখনই।

বারডেমের ইমার্জেন্সীর বাইরে রফিক শুকনা মুখে দাঁড়িয়ে আছে, আমাদের দেখে কাষ্টহাসি দিলো, আমরা ওর পাশে দাঁড়ালাম, সব পরিস্থিতিতে কথা বলার দরকার হয় না। ইনস্যুলিন লেভেল অনেক নীচে নেমে গিয়েছিলো, এখন ইঞ্জেকশন দিয়ে অবজার্ভেশনে রাখবে। ১৩ তলার কেবিনে নিয়ে যাবে।

রফিক তুই আন্টির সাথে উপরে যা আমরা আসতেছি ক্যান্টিন থেকে।

ক্যান্টিনে চা নেই, নীচে যখন নামলামই তখন পিজির গেটের সামনেই যাই, গভীর রাতের ঢাকা শহরের আলাদা আবেদন আছে, এইচএসসি দেওয়ার পর আর তেমন করে রাতের ঢাকা দেখা হয় নি। রাতের শহরে জ্যাম নেই, ফুটপাতে মানুষের ভীড় আর হকার নেই, প্রায় নিস্তব্ধ কিন্তু জীবন্ত একটা শহর। রাত ১২টা বাজলেই মেট্রোপলিটন ঢাকা দুপুরের মফস্বল হয়ে যায়। আমরা ওভারব্রীজের নীচে দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকছি, টহল পুলিশগুলো ঘুমঘুম চোখে তাকিয়ে আছে, সামনে একজন ভ্যানের উপরে পরোটা ভাজছে, ডিমের গন্ধে পেটের ভেতরটা মোচর দিলো, কি রে মারুফ হবে না কি একটা?

চল।

একটা কাজ করি, নান্নুকে ফোন দেই এখন।
এখন রাত বাজে আড়াইটা, ও মোবাইলের ভিতর দিয়েই কানে কামড় দিবে,
সেইটাই তো মজা হবে, দাঁড়া শালাকে একটা ফোন দেই।

ফোন বাজছে, ওপাশ থেকে কেউ ধরতেছে না।
আবার ফোন দিলো মারুফ

কয়েকবার রিং হওয়ার পর নান্নুর ভাঙাচোড়া গলা পাওয়া গেলো, হ্যাল্লো- কে?

আমি

আমিটা আবার কে?
চিনতে পারিস নাই, শালা ঘুম থেকে উঠে ডিসপ্লেতে দেখ, আমার নাম আছে
চুতমারানি শয়তান কি কান্ধে উইঠ্যা বীচিতে চাপ দিছে? এত রাইতে ফোন চোদাইছো ক্যান?
আরে শালা রফিক
ওর আবার কি হইছে, আলকাতরা খায়া সুইসাইড করতে চাইছিলো?
নাহ, আন্টি বারডেমে।
সেই কথাটা তা প্রথমে কইবা, সোনা কি মুখের ভিতরে ভইরা রাখছিলা।
কইতে তো চাইছিলামই, কোনো সুযোগ দিছোস তুই?
আমি আইতাছি, দাঁড়া কল্লোলকে একটা ফোন লাগাই, ও ঐখানের স্টুডেন্ট। ইন্টার্নিতে থাকলেও থাকতে পারে।
১৩ তলার কেবিন নাম্বার ১৩০৮, আমরা ঐখানেই আছি।

আমরা আস্তে ধীরে কেবিনে গেলাম। দুই বেডের কেবিন, রফিক শুকনা মুখে বসে আছে, আন্টি ঘুমাচ্ছে। কেবিনের পেছনেই বিশাল টানা বারান্দা, বারান্দা থেকে দুরে অন্ধকার সোহওয়ার্দি উদ্যান আর কার্জন হল দেখা যাচ্ছে, তার অন্যপাশে শহরটা এখন ঘুমন্ত।
বারান্দায় কয়েকজন বসে আছে, একজন চায়ের কাপে পাউরুটি ডুবিয়ে খাচ্ছে, আর বারান্দায় কাঁথার উপরে শুয়ে আছে একটা বাচ্চা ছেলে। জেনারেল ওয়ার্ডের ভেতরের কোনো রোগীর ছেলে-মেয়ে হয়তো।

নান্নু এসে গেছে, ও আসা মানেই একটা বিশাল হুলুস্থুল, এইসব হাসপাতালে না কি দাপট না দেখাইলে কোনো কাজ হয় না। ও হাসপাতালে আসলেই এক ধরণের দাপট দেখানোর চেষ্টা করে, ওর ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি শরীরটা একটু ফুলিয়ে এইদিকে ঐদিকে দ্রুতগতিতে হাঁটে নার্সস্টেশনে গিয়ে হম্বিতম্বি করে, অবশ্য এখন ও শান্ত হয়ে মোবাইলে গুতাচ্ছে।

আমাদের দিকে তাকিয়ে বললো নাহ কল্লোল শালা তো ফোন ধরতেছে না। ওকে এই পর্যন্ত ৩বার রিং দিলাম। ডাক্তার এখনও হইতে পারে নাই, এখনই শালা ফোন ধরতে চায় না। ওরে আমি প্রতি পাঁচ মিনিট পর পর ফোন দিবো।

নান্নুর গলা শুনে রফিক হন্তদন্ত হয়ে বাইরে আসলো। দোস্তো একটু আস্তে কথা বল, আম্মা ঘুমাচ্ছে।
ও আচ্ছা আচ্ছা, ঠিক আছে এই দেখ গলার ভল্যুম নামায়া দিলাম।

কল্লোল কল ব্যাক করেছে, নান্নু মোবাইল তুলে দেখালো, শালাকে যদি একটা শিক্ষা না দিছি এখন

কি শালা নার্সের কোলে বইয়া ছিলা এতক্ষণ? ফোন দিতাছি ফোন ধরো না।

কে?
আবার জিগায় কে? তোর বাপ শালা, আমারে চিনো না?
দেখেন ভাই-
আবার ভাই বলে, ঐ শালা আমি তোমার কোন মায়ের পেটের ভাই, নার্সের কোল থেইক্যা নাইম্যা কি মাথাই আউলায়া গেছে পুরা?
আপনাকে চিনতে পারছি না।

নান্নু আরও কয়েকটা গালি দিয়ে ফোনের লাইন কেটে দিলো, তারপর বললো দোস্তো একটা জট্টিল কৌতুক শুনছি, তোগোরে এখনই শুনাই

নান্নুর কৌতুকের স্টক ভালো,

গ্রামে যাত্রা হাচ্ছে, প্রিন্সেস স্টেজে গান গাচ্ছে, গান গাইতে গাইতে ওড়নাটা ছুড়ে মারলো দর্শকদের দিকে
হাততালির শব্দে পুরা মাঠ কাঁপে গেলো

তারপর গান গাইতে গাইতে জামা খুলে ফেললো
হাততালির পরিমাণ কমে গেলো

ব্রেসিয়ার খুলে ফেললো প্রিন্সেস

হাততালির পরিমাণ আরও কমে গেলো

তারপর সব খুলে দর্শকদের দিকে উড়িয়ে মারলো প্রিন্সেস, কিন্তু কেউ হাত তালি দেয় না।

কারণটা কি?

মনে হয় প্রিন্সেসকে এই রকম করতে দেখে সবাই অবাক হইছে
রফিক, তোর শরীরের সাথে সাথে তোর মাথাটাও মোটা হচ্ছে, আমি কৌতুক কইলে এরপর তুই কোনো কথাই বলবি না।
এখন তোরা বল, কারণটা কি?
আমরা এইদিক ঐদিক মাথা নাড়াই, কোনো উত্তর নাই মাথার ভিতরে।

বুঝলি না, এক হাতে তো তালি বাজে না।

পোস্টটি ৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

রায়েহাত শুভ's picture


ইয়ে মানে আমি কৌতুকটা বুঝি নাই Tongue

আহমাদ মোস্তফা কামাল's picture


আপনার এই সিরিজটা নিয়মিত পড়া হয় নাই, তবে যে কয়টা পড়লাম - ভালো লাগলো। বন্ধুত্বের দারুণ বর্ণনা আছে, বর্ণনায় চমৎকার একটা স্বতঃস্ফূর্ততা আছে, পড়তে ভালো লাগে। এই লেখাটা নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কি? উপন্যাস?

রাসেল's picture


কামাল ভাই, এইটা আমার রাইটিং ফর ফান সিরিজের লেখা। এইটার কোনো লক্ষ্য নাই, আমি গত বছর ভাবছিলাম এইগুলা দিয়া একটা ই-বুক করবো। গত বছর পর্যন্ত সম্ভবত যা লেখা হয়েছিলো সবগুলোর একটা ওয়ার্ড কপি আছে- সেইগুলা দিয়া কেউ ই বুক বানাবে এমন মনে হয় না। আপনার জন্য একটা বানায়া ফেলতে পারি আমি।

আহমাদ মোস্তফা কামাল's picture


বানায়া ফেলেন। পড়ার আগ্রহ রইলো।

তানবীরা's picture


পড়লাম

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

রাসেল's picture

নিজের সম্পর্কে

আপাতত বলবার মতো কিছু নাই,