ইতিহাসবোধ
ইতিহাসবিদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা তিনি তথ্যকে পূর্বানুমান এবং যুক্তিকে আবেগের আগে স্থান দিবেন- বাংলাদেশে সে প্রত্যাশা অধিকাংশ সময়ই পূর্ণ হয় নি, হয়তো বাঙালি অত্যাধিক আবেগী কিংবা নিরাবেগ যৌক্তিকতায় অভ্যস্ত নয় তারা। দীর্ঘ গবেষণার ঐতিহ্য না থাকলেও ভাববাদী বিশ্লেষণের দীর্ঘ অতীত এ সভ্যতার অংশ।
ব্যক্তিগত অহং এখানে প্রকাশিত সত্যের চেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ, ইতিহাস অধিকাংশ সময়ই আবেগ, অহং, পূর্বানুমানের পিচ্ছিল পথে পথ হারিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বয়ান হয়ে দাঁড়ায়। ব্যক্তিগত উপলব্ধির সাথে তথ্যের সুষম সংমিশ্রন হয়তো স্বচ্ছ ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে সহায়ক হতে পারতো কিন্তু আবেগে ঘোলা চোখ অধিকাংশ সময়ই সেইসব দিকচহ্নকে পাঠ করতে পারে না।
অহেতুক বিতর্ক জড়িয়ে পরার বদাভ্যাস ধীরে ধীরে ত্যাগ করার চেষ্টা করলেও মাঝে মাঝে অতীতজড়তায় অহেতুক বিতর্কে জড়িয়ে পরি। তেমনই সাম্প্রতিক একটি বিতর্কে জড়িয়ে বুঝলাম ঐতিহাসিকের নির্মোহতা কিংবা নিছক একাডেমিক পারস্যুইট প্রশিক্ষিত ঐতিহাসিকদের নেই যেখানে সেখানে অপ্রশিক্ষিত ঐতিহাসিকের কাছে সেটা আশা করা অনুচিত। কিংবা ঐতিহাসিকের বিশ্লেষণ পদ্ধতির সাথে আমার বিশ্লেষণ পদ্ধতি এবং অনুসিদ্ধান্তে কিংবা উপসংহারে পৌঁছানোর পথে বিস্তর ব্যবধান।
নিজেকে ঐতিহাসক দাবি করবার মতো মুর্খ আমি না, ইতিহাস পাঠ এবং ইতিহাস বিশ্লেষণেরএকটা অভ্যাস তৈরি হয়েছে , হয়তো ধীরে ধীরে বিজ্ঞানপাঠে অভ্যস্ত হওয়ার কারণেই- বিজ্ঞানের কার্যকরণ সূত্রের মতো কোনো প্রণোদনা কিংবা নেপথ্য প্ররোচনাব্যতিরকে কোনো পরিবর্তন ঘটে না পৃথিবীতে- নিউটনের ডিটারমিনিস্টিক সায়েন্সের পথ থেকে উদ্ভুত হিস্টোরিক্যাল ডায়ালেক্টিকসে মার্ক্স-এঙ্গেলস এমনই উপলব্ধিতে পৌঁছেছিলেন-
প্রতিটি পরিবর্তনের পেছনে এক ধরণের প্রণোদনা থাকে - একটি সাম্ভাব্য পরিস্থিতিতে অনেক ধরণের ঘটনা ঘটবার সম্ভবনা তৈরি হয়, সামস্টিকভাবে কিংবা যুথবদ্ধতায় এসবের কোনো একটি ঘটে যায়- সমাজ বিশ্লেষণের এই দ্বান্দ্বিক পথ অপরাপর সমাজবিশ্লেষণ মাধ্যমের চেয়ে অধিকতর উপযোগী-
সমাজ বিশ্লেষণের পর্যায় ধরেই সমাজের উপযুক্ততা নির্ধারণ করা যায়- সমাজ কার্যকরী ভাবে যৌক্তিক হয়ে উঠলে সে সমাজকে পরিচালনা করা অনেক বেশী সহজ কিন্তু সমাজে শুধু যুক্তির উপস্থিতি থাকে না, বরং সমাজ মমত্ববোধ- স্নেহ ,করুণা, আবেগ , প্রয়োজনীয়তা এবং অর্থনৈতিক উপযোগিতার ভিন্ন ভিন্ন সংমিশ্রনে পরিচালিত হয়। ব্যক্তিগত সম্পর্ক , ব্যক্তিগত বিবেচনা যৌক্তিকতার উর্ধে স্থান পায়। পৌরুষ, অহং এমনতর বোধগুলোর অযৌক্তিক প্রক্ষেপন ঘটে পরিস্থিতিতে- নিশ্চিত আত্মহত্যা জেনেও পৌরুষ আর অহংবোধ তাড়িত মানুষ অসম লড়াইয়ে জড়িয়ে যায়।





খাঁটি কথা
দূঃখের বিষয় হ্ল, সেই ফরাসী-বিপ্লব থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত যতগুলি পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছে তাতে প্রত্যেকবারই পরিবর্তনবাদীদের পরিবর্তনের স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত ছিনতাই হয়ে গেছে, পরিবর্তনবাদীদের ব্যবহার করে পরিবর্তনের সুফল সব সময়ই ভোগ করেছে স্বার্থান্বেষী তৃতীয় পক্ষ!
~
একটু তাড়াহুড়ায় শেষ করে দিলেন কি?!
একটু অসম্পূর্ন মনে হলো লেখাটাকে
মন্তব্য করুন