দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পর
সময়, পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলায়, আমাদের অনুভুতি অসার হয়ে যায়, বিশেষত আমরা যারা বড় হয়ে গেছি, যাদের নিয়মিত নিজের ধান্দায় ঘুম থেকে উঠে বিভিন্ন পথে অন্য অসংখ্য মানুষের সাথে বিভিন্ন ধরণের লেনদেন করতে হয়, তাদের অনুভুতি ভোঁতা হয়ে যায় সময়ের সাথে।
পথের কোনো দৃশ্যই আকৃষ্ট করে না, পথের কোনো মুখই খেয়াল থাকে না, সকালে ঘরের দরজা খুলে বের হওয়ার পর মাথায় একটাই চিন্তা থাকে, কখন জেলখানায় পৌঁছে নিজের ধান্দাবাজি শুরু হবে- গতরাতে বৃষ্ট হয়েছে, আজ রাস্তায় পানি জমে থাকবে- সাবধানে হাঁটতে হবে- গলিতে পানি জমলে বড় রাস্তায় যেতে বাড়তি রিকশা ভাড়া গুণতে হবে- সকল অনুভুতি একেবারে মানিব্যাগের ভেতরে ঢুকানো। হঠাৎ বাতাসে গন্ধ ভেসে আসলে আর হঠাৎ গাছের পাতা খসে পরলে বুঝি ক্যালেন্ডারের পাতা বদলে গেছে, শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা-শরৎ- কোনো ঋতুই আসলে আলাদা কোনো তাৎপর্য বহন করে না, শুক্রবার সকালের ঘুমের বাইরে কোন বিনোদন নেই- এ জীবন নতুন কিছুকে জায়গা করে দেয় সহজেই, নিজের জায়গাটুকু সংকুচিত হলে একটু ভাঁজ খেয়ে নতুন করে আত্মসমাধিত হয়, এবং নিজের ভেতরেই ডুবে থাকে দিবানিশি।
কথাটা আজকের আগে তেমনভাবে উপলব্ধি করি নি, একটা নিয়মিত ধান্দা আসলেই রোবট বানিয়ে ফেলেছে- নিজের জীবন, নিজের টেবিল নিজের সামান্য অবসরের বাইরে অন্য কিছুর দিকে খেয়াল করা হয় নি।
দশ মাস হলোআমাদের মেয়ে হয়েছে, ঋত- সে হাঁটতেও শিখেছে, কিন্তু মেয়েকে নিয়ে বলবার মতো কোনো স্মৃতি তৈরি হয় নি, এই নিস্প্রাণ শহরে রাস্তায় মানুষের ছায়া ঘুরে- সবাই নিজের ভেতরে আত্মসমাধিত- তাদের েই আত্মপরতা কিংবা স্বার্থপরতা কিংবা নিষ্ঠুরতা ভীষণরকম বেদনাদায়ক। শহরে রাস্তায় নামবার পরিস্থিতি নেই- এক রমনা বাদ দিলে কোনো পাবলিক পার্ক নেই- শহরের ফুটপাত মোটরসাইকেল আর হকারের দখলে, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট নামের কোনো জিনিষের অস্তিত্ব নেই, যেটা ব্যবহার করা যায়- আর রাস্তায় সিএনজি কিংবা রিকশাওয়ালাদের ভাবভঙ্গী অনেকটাই অসহ্যাট্বের সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা। একা রিকশা ভাড়া করলে রিকশাওয়ালা যা চায় সাথে মেয়ে থাকলে চায় তার ১০ টাকা বেশী, আর প্রায় ক্লান্ত একটা বাচ্চা সাথে থাকলে রিকশা ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। এ শহর অধিবাসীদের একে অপরের রক্ত শুষতে শেখায়, এখানে আলাদা করে কাউকেই দোষারোপ করা যাবে না, বেঁচে থাকবার আদিম তাড়নায় শহরের সবাই ড্রাকুলা হয়ে গেছে।
এ শহরেই প্রতিনিয়ত সকল নাগরিক সেবা ব্যবস্থা বিকল হয়ে যাচ্ছে, বিদ্যুৎ, পানি, পয়নিস্কাশন ব্যবস্থা, যাতায়ত ব্যবস্থা, একজন নাগরিক যেসব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের খোঁজে নগর জীবন বেছে নেন প্রতিনয়ত সেসব সুবিধা আরও অপ্রতুল আরও অনির্ভরযোগ্য হয়ে যাচ্ছে। সে শহরে একটা সন্তানের পিতা হয়ে যাওয়া তেমন আনন্দের অনুভুতি আনে না, আনন্দিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই এ শহরে।
সামনে যতদুর চোখ যায় যেখানে সবুজ ঘাসের গালিচা সেটাই সাধারণের অগম্য- পাশে সামরিক যাদুঘরের সুন্দর ছাঁটা মাঠ- সাধারণের প্রবেশ নিষেধ, অন্য পাশে সংসদের বিশাল লন- সেখানটাতেও প্রবেশাধিকার নেই, আর এই যানজট ঠেলে রমনা যাওয়ার কোনো আগ্রহও নেই- রাস্তায় নামলেই চোখের পলকে ঘন্টা হারিয়ে যায় যানজটে।
বিভিন্নমুখী টানাপোড়েনে আসলে ঋতের আগমন এবং ঋকের সাম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া বিষয়টা ততটা খেয়াল করা হয় নি, ভাবনাটা উঁকি দিয়েছে, আমাদের উচ্ছ্বাসে ঋকও উদ্বেলিত হয়েছে, ভেবেছি এভাবেই ও মানিয়ে নিবে, আজ বুঝলাম এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ও মানিয়ে নিতে পারে নি, কিংবা আমরা ব্যর্থ হয়েছি ওর জন্য তেমন পরিবেশ তৈরি করতে। ব্যর্থতার দায় আমাদেরই বেশী, আমাদের দায়িত্ব ছিলো অনেক বেশী, অভিভাবক হিসেবে আমরা ব্যর্থ হয়েছি এবং সে ব্যর্থতার প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে আরও বেশী ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছি, এক ধরণের এলিয়েনেশন তৈরি হয়েছে- সেটা গত কয়েক সপ্তাহ উপলব্ধি করলেও আজ চুড়ান্ত ভাবে প্রকাশিত হলো।
অনেক ধরণের আত্মপক্ষসমর্থনকারী বক্তব্য দেওয়া যায়- অবসর ছিলো না গত ১০ মাসে, সপ্তাহের প্রতিটি দিনই একই রকম গিয়েছে- প্রতিদিনই কোনো না কোনো কাজ ছিলো কিংবা কোনো না কোনো পারিবারিক-রাষ্ট্রীয় ঝামেলা ছিলো- সব মিলিয়ে গত ১৮ মাস আসলেই বিভিন্ন রকমের ঝুটঝামেলায় কেটেছে।
ঋতের প্রায় অনিয়মতান্ত্রিক জীবন আরও বাড়তি চাপ হয়ে এসেছে, তেমন কোনো পরিকল্পনা ছিলো না বলে অনিয়মতান্ত্রীক জীবনের চাপটা সম্পূর্ণ পরিবারের উপরে পরেছে। জীবনে রুটিনের প্রয়োজন আছে- সন্তান লালন পালনের চাপ ভাগ বাটোয়ারা করা হয় নি। আমার ব্যক্তিগত একটা যুক্তি ছিলো কিন্তু ঋকের আজকের প্রতিক্রিয়ার পর সে যুক্তির উপরে আস্থা রাখতে পারছি না।
পরিবারের মেঝো সন্তান মেজাজী হয় , এমনটা গুরুজনেরা বলে, কিন্তু সেটা অকারণে ঘটে না, গন্ডায় গন্ডায় ছেলে-মেয়ে হয়ে যাচ্ছে-কিভাবে কিভাবে তারা বড় হয়ে প্রাইমারি স্কুল- মাধয়মিক স্কুল শেষ করে কলেজ ইউনিভার্সিটিতেও ঢুকে যাচ্ছে- অতীতের বাবা-মাদের কাছে এটা তেমন জটিল কিছু না। শহরের সংকীর্ণ পরিবেশে একটা বাচ্চার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা তৈরি করা কঠিন। ঘর-গেরস্তি- বাইরের জীবন আর জীবিকা, পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা অনুভুতি তৈরি করে- এখানে দ্বিতীয় একজন সন্তান মানে বাড়তি জায়গার চাপ- সে সন্তানের জন্য আরও পৃথক একটা জায়গা তৈরি করে দিতে হয়। ঋকের সংকটের জায়গাটা এখানে- ওর নির্ধারিত কক্ষপথে কিংবা জীবনে ঋতের জন্য আলাদা যেটুকু জায়গা ছিলো, ঋত তার চেয়ে অনেক বেশী জায়গা দখল করে ফেলেছে।
আমরা ঋতের জন্য কোনো জিনিষ কেনার সময় ওর জন্যও কোনো কিছু কেনার চেষ্টা করি- যেনো ওর কখনও মনে না হয় ওর চেয়ে ঋতের গুরুত্ব অনেক বেশী- কিন্তু স্বভাবতই ঋতের দিকেই অধিক মনোযোগ দিতে হয়- বাৎসল্যবোধটা এই ছোটো বয়েসের মানুষদের জন্য যতটা তীব্র- কথা বলতে পারা সন্তানের জন্য ততটা তীব্র থাকে না। ওদের সমস্যা সংকট ওরা মুখে বলবে এই প্রত্যাশা থাকে-
অতিরিক্ত আবেগী- অন্তর্মুখী সন্তানের ক্ষেত্রে এমনটা বলা যায় না, ঋক অন্তর্মুখী এবং অনেক বেশী আবেগী- নরম স্বভাবের ছেলে- তাকে অন্য সবার মতো বড় হয়ে যাওয়া হিসেবে ভাবাটা ঠিক ছিলো না। ওর প্রতি মনোযোগের অভাবটা ও দীর্ঘ দিন থেকেই খেয়াল করছে, আমরাও বিষয়টা উপলব্ধি করলেও ততটা পাত্তা দেই নি, বলেছি একটু মানিয়ে নিতে- ও প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে , আমরা বিরক্ত হয়ে বলেছি- ও তো ছোটো মানুষ ওকে টো বাড়তি কেয়ার দিতে হবে,এ বিরক্তি তাকে আরও বেশী অপাংক্তেয় অনুভুতিই দিয়েছে, আমাদের বিরক্তি- অনীহা যা দেখে বড়রা বুঝবে, সেটা ও বুঝতে পারে নি, অবশ্য ৭ বছরের মানুষের কাছে ততটা পরিপক্কতা আশা করাটা আমাদের মতো বুড়ো ধামড়াদের জন্য একেবারে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।
তার এই মনোযোগের কেন্দ্রে আসতে চাওয়া, তার এই বিচ্ছিন্নতাবোধের প্রতিক্রিয়ায় ও প্রথমে খুব ছোটো হতে চাইতো, ঋতকে অনুকরণ করতো- সেটাকে খেলা হিসেবে নিয়েছিলাম, মনে হয়েছিলো ও ঋতকে গ্রহন করছে ওর জীবনে । পরবর্তীতে ঋতের মাঝে চলে আসার চেষ্টা আরও বেশী বিরক্ত করেছে।
আজ দুপুরেও ঋতকে বিভিন্ন ভাবে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টার মাঝখানেও ঢুকে পরলো, ঋতের পাশেই বালিশে তাকে শুতে হবে, প্রায় ৩০ মিনিটের পরিশ্রমে আনা ঘুমটা চটে গেলো ঋতের, ভীষণ রকম মেজাজ খারাপ হলো, ওর বললাম তুমি কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকবা, যদি আনন্দিতা সারাদিন না ঘুমায় টুমি সারাদিনই কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকবা।
ঋক কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকলো যতক্ষণ ঋত না ঘুমালো- তারপর বললাম এইবার বলো তোমার সমস্যা কি? তুমি এমন করো কেনো?
ফাদার ইয়্যু টুক কেয়ার ওফ মি হোয়েন আই ওয়াজ এ চাইল্ড, ইয়্যু ডোন্ট টেক কেয়ার ওফ মি নাউ? হোয়াই?
ইয়্যু টুক কেয়ার ওফ মি হোয়েন আই এম ফোর ইয়ার্স ওল্ড, নাউ ইয়্যু আর এংরি উইথ মি।
ইয়্যু আর মাই অনলি ফাদার, হোয়াই ইয়্যু মেক মি এংরি?
ধাক্কাটা মারাত্মক ছিলো।
আমাদের এই বস্তুবাদী সমতার ধারণাটা তেমন কার্যকরী হয় নি, আমরা যে ঋতের বিষয়ে অতিরিক্ত মনোযোগী এবং তার ব্যপারে কিঞ্চিৎ উদাসীন এটা উপলব্ধি করতে কষ্ট হয় নি ওর। ওকেও অনেক কিছুর সাথে মানিয়ে চলতে হয়, ওর স্কুল, স্কুলের ট্রোলিং, সব কিছুই ওকে প্রভাবিত করে, দুপুরের খাওয়ার টেবিলে আজকে স্কুলে মজা হলো না কি এই সাধারণ প্রশ্ন আসলে সেইসব অভিজ্ঞতাকে দমন করে ফেলে। স্কুলে মজা হবে এমন েকটা প্রট্যাশা মেটাতে গিয়ে ও ওরস্কুলের অভিজ্ঞতা চেপে যায়।
ওর স্কুল বাসে যারা যায় তারা সবাই ওর সমবয়সী কিংবা ওর চেয়ে সামান্য বড়- তবে ওর মতো চুপচাপ না কেউই, ওরা সোজা বাংলায় বললে স্মার্ট ছেলে মেয়ে- কখন কোনপাশে ছাতা ধরতে হবে সেই সামাজিকতা শিখে গেছে- মানসিক নির্যাতন এক ধরণের সামাজিক প্রতিক্রিয়া- একজনকে মানসিক নির্যাতন কিংবা উত্যাক্ত করা হলে সেটা সমাজের সবার ভেতরেই প্রভাব ফেলে এবংঅধিকাংশ সময়ই সে সামাজিকতার অভ্যস্ততা থেকেই যাকে উত্যক্ত করা হচ্ছে তাকে সবাই উত্যক্ত করে-
এইসব আচরণ নিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যকরী উদ্যোগ থাকে না স্কুলগুলোতে, বিশেষত বাংলাদেশের স্কুলগুলোতে এই ধরণের কাউন্সিলিং নেই। প্রতিদিন ওকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব কিন্তু ওকে স্কুল থেকে নিয়ে আসবার কোনো সুযোগ নেই, ও প্রতিদিন স্কুল বাস ঢুকবার সময় আমাকে বাই বলে যে পরিবেশে ঢুকে সেখানে একজন মাত্র আছে কিংবা একই পরিবারের দুই ছেলে মেয়ে যে ট্রোলিং এর মূল হোতা- তাদের গিয়ে আমি ধমক দিতে পারি- হয়তো সেটা তাদের অনেক বেশী ভীত করবে কিংবা ঋকের জীবনটা আরও দুর্বিষহ করবে। তাদের কাছ থেকে ঋককে রক্ষা করার কোনো কার্যকরী পদ্ধতি আমার জানা নেই-
আমি দীর্ঘ দিন ভাবছি ওর সাথে আলাদ ভাবে সেসব নিয়ে আলোচনা করবো- এইসব বিষয়ে যে আমি উদ্বিগ্ন এবং আমি যে ওকে পছন্দ করি এ বিষয়টা ওর জানা দরকার- কিন্তু সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধান বাধাটা অতিক্রম করা সম্ভব হয় নি। এটা আমার আর ঋকের বিষয়, আমরা কিছুটা সময় একলা কাটাতে চাই- ঘরের বাইরে, কোনো রেস্টুরেন্টে- এটা পারিবারিক কলহ তৈরি করবে- সে কলহ আমার ভালো লাগে না, একেবারে অকারণে যন্ত্রনা টেনে আনার মানে হয় না, এবং আমার ধারণা তার এইসব বুঝবার ক্ষমতাও কম
আজকে বিকেলে আমার পরিকল্পনা ছিলো ওর সাথে এইসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করার- ভীষণ রকমের বিব্রত এবং লজ্জিত অবস্থায় আজকে বিকেলে আমি ওকে বলতে চেয়েছিলাম, বাবা তোমাকে আমি জন্মের প্রথম দিন থেকে যতটা ভালোবাসি, যতটা কেয়ার করি সেটা এত দিনেও এক বিন্দু কমে নি, আই স্টিল লাভ ইয়্যু, এজ মাচ এজ আই লাভড ইয়্যু দ্যা ডে ইয়্যু ওয়্যার বর্ন। কিন্তু বাবা তোমাকে বুঝতে হবে সব সময় সব কিছুর গুরুত্ব এক থাকে না। তবে এরচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিলো এইসব সামাজিক পীড়নকে কিভাবে উপভোগ্য করতে হয়, কিভাবে মোকাবেলা করতে হয় সেটা শেখানো। ও নিজে থেকে শিখতে পারে নি, ওকে কাউকে না কাউকে শেখাতে হবে।
আমার ধারণা আমি এই ট্রোলিং, নেম কলিং এবং এইসব বিভিন্ন উৎপীড়ন কিভাবে প্রতিহত করতে হয় সেটা শেখানোর উপযুক্ত মানুষ





শেষ লাইনে কি কোন টাইপো ছিল বা বাক্য অসমাপ্ত? আপনার বাচ্চাদের নিয়ে পোস্টগুলো ভাল লাগে। ছেলের সাথে বসার পর কি কথা হল, তার প্রতিক্রিয়া কি, এসব নিয়ে জানতে আগ্রহী, সময় পেলে পোস্ট দিয়েন।
আমার মনে হয় ঋকের গায়ে একটা অদৃশ্য ট্যাগ লাগানো আছে, "বুলি মি"- স্কুলবাসে ও অজনপ্রিয়, ওর সাথে যাওয়া আরও ৭জন ওকে বিভিন্নভাবে "বুলি" করে,
রাস্তায় সাবধানে চলতে হবে, গাড়ী সামনে থাকলে রাস্তার এক কোণে দাঁড়াতে হবে, এইসব বিভিন্ন সাবধানতা আমরা শিখিয়েছি ওকে। সেটা ওর নিরাপত্তার প্রয়োজনে- তবে ওর নিরাপত্তার প্রশ্ন কিংবা ওর নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ যে অন্যের অপছন্দ হতে পারে এ ধারণাটা ওর নেই- সুতরাং অন্য কেউ গাড়ীর সামনে গেলে ও সাবধান করে
ওকে কয়েক মাস আগে বলেছি হিন্দি কার্টুর দেখা ভালো না, বাংলাদেশের অপরাপর সব পরিবারেই হিন্দি সিরিয়াল চলছে, হিন্দি গান চলছে, আমার বাসাও ব্যতিক্রম না, কিন্তু ওকে এইসব দেখা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ও মেনে চলে মোটামুটি
ও হিন্দি কার্টুন দেখে না, অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করতে চাইছে- বলছে হিন্দি কার্টুন ভালো না- সেটাও ওর সহযাত্রীরা ভালোভাবে নেয় নি, সহপাঠীরাও ভালোভাবে নেয় নি। এইসব অতিরিক্ত এক্টিভিজম ওকে অজনপ্রিয় করছে- সে দায়টা সম্ভবত আমার। এখন ওর এইসব উপদেশবানী কিংবা আচরণের জন্য ও অগ্রহনযোগ্য এমন কি ওর সহপাঠীরা হয়তো ক্ষিপ্তও, তবে বাসের ভেতরে ওকে খোঁচানোর জন্য কোনটা এককভাবে দায়ী আমি জানি না।
ওকে বলা হয়েছে কারো সাথে সরাসরি মারামারি করবে না, যদি কেউ কিছু করে বড়কে অভিযোগ করবে, অফিসের মিসকে বলবে, যদি তাকেও না পাও সোজা প্রিন্সিপালকে বলবে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই মারামারি করা যাবে না। আমার ধারণা ও এখন সেইসব বাদ দিয়েছে। ওর ক্লাশে ওর চেয়ে ভদ্র আরও একটা ছেলে আছে, ওর বাজাবাজি ওর সাথে।
ও স্কুলবাসে যাবে না, ওকে সবাই খোঁচা দেয়- আমি নিয়ে গেলাম স্কুলে- স্কুলগেটে ওর বন্ধুর সাথে দেখা- ও দুর থেকে দৌড় দিয়ে গেলো- হ্যাল্লো সামিন- সামিন ওর পেটে একটা ঘুষি মারলো- আমি হতভম্ব- সামিনের মা ও হতভম্ব কিংবা বিব্রত।
এই পরিস্থিতিতে আসলে কি করণীয় সেটা বুঝে উঠা কঠিন। আর একটা মাত্র পরীক্ষা আছে, এরপর স্কুল অন্তত এক মাসের জন্য বন্ধ , সে বন্ধে ওকে শিক্ষিত করতে হবে
অনেক কিছু ভাবার আছে
...
আমার নিজের দ্বিতীয় সন্তান আসার পর নিজের সাথে মিলালাম।
ভাবনার বিষয়। ঋক যেন বুঝতে পারে ওর বাবা ওকে ঠিক আগের মতই কেয়ার করে, ভালোবাসে।
খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা পোস্ট।
এই ধারার চিন্তাভাবনা গুলো সিরিজ আকারে লেখা উচিৎ।
আমাদের নিজেদের জীবনের অনেক ঝামেলার স্বীকারই বাচচা হয়। ক্যারিয়ার, যানজট, মানসিক।, পারিবারিক মনোমআলিন্য। দ্বিতীয় সন্তান না থাকা সত্বেও এ ধরনের সময়ের মধ্যে দিয়ে আমি অনেকবার গেছি আর ভবিষ্যতেও হয়তো যাবো
সবচেয়ে কঠিন সম্ভবত বাসার গেটের বাইরে অফিসের ভাবনাটা রেখে আসা। অফিসের বিভিন্ন ঝুটঝামেলা চাপ থাকে- বিভিন্ন বিক্ষোভ জমা থাকে- অফিসিয়াল মুখোশটা খুলে সন্তানের প্যারেন্টাল মুখোশটা পরতে পারাটা এক ধরণের অভ্যাস- বাসা ফেরার ১৫ থেকে ৩০ মিনিটে অফিসের ঝঞ্ঝাট মাথার ভেতরথেকে ঝেড়ে নামাতে পারাটা সব সময় সম্ভব হয় না।
পারিবারিক ঝামেলা মেটানোর জন্য উভয়পক্ষের সচেতনতা জরুরী, সেটা বুঝলেও মাঝেমাঝেই বিষয়টা শোভনতার মাত্রা ছাড়িয়ে যায়।
মন্তব্য করুন