ইউজার লগইন

আব্দুল কালামের আলোকিত মনের পাঠানুভুতি

ভারতীয় রাষ্ট্রপতি APJ ABDUL KALAM IGNITED MINDS লিখেছেন। অনুপ্রেরণাদায়ী বই হিসেবে ভারতের ভবিষ্যত নাগরিকেরা এই বই পড়ে আত্মমর্যাদাবোধে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ভারতকে ভবিষ্যতে বিশ্বে একটি পরাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলবে।
গভীর ভাবে ধার্মিক আব্দুল কালাম শিক্ষার সাথে আত্মিক উৎকর্ষতা সংযুক্ত করে ভবিষ্যত নাগরিকদের মানসিক জগতকে ঋষিঅধ্যুষিত ভারতের মর্যাদায় নিয়ে যেতে চান। জাতি গঠনের প্রক্রিয়ায় নাগরিক রাষ্ট্রের অতীত ঐতিহ্য বুকে ধারণ করে, অতীতের দৃষ্টান্ত সামনে এনে ভবিষ্যতের গৌরবোজ্জল জাতি নির্মাণে আগ্রহী হয়ে উঠবে visionary person হিসেবে আব্দুল কালামের এমন একটা রাজনৈতিক লক্ষ্য এই বইয়ে স্পষ্ট। এমন আগ্রহ থাকাটা তেমন দোষনীয় নয় , বরং দেশের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক কর্মসূচিতে দক্ষ নেতৃত্ব দেওয়া একজন সফল ব্যক্তির এমন লক্ষ্য থাকাটাই বাঞ্ছনীয়। এভাবেই গভীর দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আব্দুল কালাম ভারতের মিসাইল নির্মাণ এবং উপগ্রহ নির্মাণ প্রক্রিয়ার সাথে গভীর ভাবে সংযুক্ত ছিলেন এবং ইগনাইটেড মাইন্ডস বইয়ে সেসব বিষয়ে দীর্ঘ বস্তুনিষ্ট স্মৃতিচারণও আছে। একজন ব্যক্তি নিজের ব্যক্তিগত অর্জন দিয়ে কিভাবে দেশ ও জাতিকে ভবিষ্যতের দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারে তার উদাহরণ হিসেবেই তিনি নিজের জীবনের সেসব অধ্যায় এখানে উপস্থাপন করেছেন।

একক ব্যক্তির অবদানে সমাজ অগ্রসর হতে পারে, এভাবেই প্রতিটি বিচ্ছিন্ন মানুষ স্ব স্ব অবস্থানে নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে উদ্যোগ নিলে, আন্তরিক চেষ্টা করলে সমাজ বদলাবে, দেশ উন্নত হবে, বইটি এমন পূঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায় পূঁজিবাদী অর্থনীতি মাথায় ও চেতনায় ধারণ করা একজনের উন্নত সমাজ কল্পনার উদাহরণ। সামষ্টিকতা এবং ব্যক্তির ভেতরে উন্নয়ন পরিকল্পনায় কোনটি অধিক প্রাধান্য পাওয়ার দাবীদার এই নৈতিক প্রশ্নের বাইরে সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং পূঁজিবাদী দৃষ্টিভঙ্গির ভেতরে তেমন বড় মাপের পার্থক্য কোথায়? জনকল্যানমুলক রাষ্ট্রে ব্যক্তি কতটুকু বিকশিত হতে পারবে, ব্যক্তি বেড়ে উঠলে রাষ্ট্র তার কাঁধে চেপে অনন্য উচ্চতায় উঠতে পারবে না কি সমাজসচেতন নাগরিকদের সামাজিক বোধ তাদের আত্মউপলব্ধি তৈরি করে রাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট মাত্রার উন্নয়নের দিকে টেনে নিয়ে যাবে?

ভারতীয়রা সবাই নেংটি পরা সাধু, গাছতলায় বসে বাতাস আর সূর্যালোক থেকে শক্তি সংগ্রহ করে উচ্চমার্গীয় জ্ঞান বিতরণ করেন, দীর্ঘদিন প্রাচীন ভারতীয় ঋষিদের সম্পর্কে এমন ধরণা পশ্চিমা বিশ্বে ছিলো। আত্মিক শুদ্ধতা, আধ্যাত্মিকতা, মানসিক শক্তি কিংবা যোগবলে ধ্যানে অসাধ্য সাধনের ক্ষমতা ছিলো তাদের। প্রাচীন ভারতের তপোবনের ধ্যনস্থ ঋষির গৌরব এখন ভারতীয়দের মানসিক তৃপ্তির কারণ। "শূণ্য" আধুনিক বিজ্ঞানে ভারতীয়দের সবচেয়ে বড় অবদান,আঙ্গুল গুণে চিহ্ন দিয়ে " দশমিক" ব্যবস্থায় গাণিতিক সমীকরণ মেলানোর সুযোগ ও পদ্ধতি সম্ভবত সব প্রাচীন সভ্যতায় উপস্থিত ছিলো তবে সেসব উপস্থাপন সামান্য জটিল ছিলো। শূণ্যের জন্যে আলাদা একটি চিহ্নের ধারণা করার চেয়ের বৈপ্লবিক ধারণা সম্ভবত এই শূণ্যের ব্যবহার, সংখ্যার ডানপাশে বসালে সংখ্যার মাণ দশ গুণ বেড়ে যায় এই সংখ্যা গণনার প্রক্রিয়াটুকু বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সংকেতে সংখ্যা সংক্ষেপে উপস্থাপনের সুযোগ ও কৌশল হয়তো মধ্যযুগে অনায়াসে উপস্থিত হতো, সভ্যতার ইতিহাস সে রকমই ইংগিত দেয় কিন্তু ভারতীয় ঋষিগন সভ্যতাকে সে বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে দেন নি।

আব্দুল কালাম সাধুসঙ্গেই উদীয়মান ভারতের ভবিষ্যত অর্জন নিশ্চিত করতে পার্থিক জ্ঞানের সাথে আত্মিক শুদ্ধতার সংযোগ চেয়েছেন, সেখানেই তার গভীর বিশ্বাসের শেকড় পরিচিত পুষ্টি খুঁজে পায়। নৈতিক চরিত্রের উৎকর্ষতা উৎকৃষ্ট মানুষ, উৎকৃষ্ট সমাজ গড়ে তুলতে পারে, ধর্ম ও আধ্যাত্মবাদ এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এ সংবেদ কিংবা নৈতিক উন্নতি বটিকার বাইরে এমন কিছু বৈজ্ঞানিক বিশ্বাস এখন চর্চিত হচ্ছে, যেমন শরীরের উপরে ভাবনার নিয়ন্ত্রন কিংবা যোগাসনে রোগ নিরাময়, এসব বিশ্বাসের বাস্তবতা কতটুক?

পরিকল্পিত যোগাসন শরীরের পেশীগুলোতে প্রয়োজনীয় রক্ত সঞ্চালন, নিয়মিত পুষ্টির প্রাচুর্যতা নিশ্চিত করা এক ধরণের শাররীক কসরত, সেখানে ভাবনার গুরুত্ব কতটুকু? মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রন করলে অকালে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে, অহেতুক উৎকণ্ঠা, ভীতিজনিত শাররীক প্রতিক্রিয়া শরীরকে প্রতিকূলতা প্রতিরোধে প্রস্তুত করতে গিয়ে হৃদপিন্ডে প্রয়োজনাতিরিক্ত চাপ তৈরি করে ।সেই চাপ কিংবা মানসিক উদ্বেগ নিয়ন্ত্রনের বাইরে ধ্যাণ কতটুকু সহায়তা করতে পারে? ধ্যানে কি মরণব্যাধি রোধ করা সম্ভব? দুর্বল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, জীবানু সংক্রামণ কি ইচ্ছাশক্তি দিয়ে রোধ কিংবা নিয়ন্ত্রন করা যায়?

পদার্থ বিজ্ঞানের স্বাভাবিক যৌক্তিকতা ইচ্ছাশক্তির এন কোনো প্রতিরোধী ক্ষমতার অস্তিত্বের স্বীকৃতি দেয় না। জীবাণু সংক্রামণ রোধ এক ধরণের শরীরবৃত্তীয় রাসায়নিক প্রক্রিয়া এবং উপযুক্ত ধ্যান কি শরীরের বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রন করতে সক্ষম? এ প্রশ্নের কোনো সরল উত্তর দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না, তবে আব্দুল কালাম কিংবা ভারত ও বিশ্নের একদল মানুষ ধ্যান, যোগাসন এবং মনোসংযোগের ভেতরে এমন একটা সরল সম্পর্ক বিষয়ে আস্থাবান এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এই যৌগিক পদ্ধতির চিকিৎসাব্যবস্থাও চালু আছে। মানসিক প্রশান্তির বাইরে কিংবা অনাগত ভবিষ্যতকে প্রসন্ন চিত্তে মেনে নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে এমন ধ্যান যোগাসন হয়তো গুরুত্ববহন করে এবং মৃত্যুপথযাত্রী মানুষগুলোর ভেতরে এক ধরণের প্রফুল্লতা নিয়ে আসে। মৃত্যুপরবর্তী জীবনের ভীতি, সংশয়, অনিশ্চয়তা কেটে গেলে মানুষ মৃত্যুকে সহজে মেনে নিতে পারে। টার্মিন্যাল ক্যান্সারের রোগিরা কেমোর ধকল কাটিয়ে হয়তো এ কারণেই ধ্যানে প্রশান্তি পান।

আমরা আমাদের অনভ্যস্ততায় চোখের সামনে পাহাড়ের উপস্থিতি অনবগত হতে পারি, আবার গভীর মনোনিবেশের একাগ্রতায় শরীরের অন্যান্য অংশের সংবেদন বোধ লুপ্ত হতে পারি, সেটার প্রচন্ডতা কিংবা সচেতন উপেক্ষা এমন কি দহণের মতো তীব্র স্নায়বিক সংবেদনও অনুভুতিগ্রাহ্য হতে দেয় না। এই মানসিক অনুভুতিবিচ্ছিন্নতা কি কোনোভাবে জীবাণুসংক্রামণের পীড়া কমাতে সক্ষম? ক্যান্সারের মতো কোষীয় বিকৃতি হ্রাসে কোনোভাবে কার্যকর? দীর্ঘ ৪০ বছরের বিজ্ঞান চর্চায় আব্দুল কালাম যেভাবে এই মনোদৈহিক ঐন্দ্রজালের কথা বর্ননা করলেন সেখানে গিয়ে হোঁচট খেলাম। যে মানুষটা আন্ত:মহাদেশীয় মিসাইল তৈরি করেছে সে যখন তাবিজে রোগ সারে এমন বিশ্বাস ধারণ করে তখন সেটা মেনে নেওয়া কঠিন কিন্তু একই সাথে মনে রাখতে হবে মানুষ নিজের জীবনে এমন অনেক কিছুই বিশ্বাস করে যা তার বৈজ্ঞানিক অনুধাবন কিংবা বৈজ্ঞানিক বিবেচনাবোধের বিরোধী। সেটা মানসিক প্রশান্তি কিংবা আত্মবিশ্বাস ও আত্মপ্রত্যয় বৃদ্ধি করে। তবে নতুন প্রজন্মকে আধ্যাত্মবাদী তপোবনের ঋষি এবং আধুনিক বিজ্ঞানের সেবক হয়ে নতুন ভারত নির্মাণের অনুপ্রেরণাদায়ী বই লেখার বিষয়টা কিছুটা মানসিক দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে।

আব্দুল কালাম ব্যক্তির বিকাশ চান, প্রতিটি ব্যক্তি স্বদেশ প্রেম উদ্বুদ্ধ হয়ে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় উৎকর্ষতার সীমারেখা উপরে টেনে তুললে রাষ্ট্র অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে ভাবনাতাড়িত হয়ে তিনি ব্যক্তিকে সামাজিক পরিবর্তনের একক ধরেছেন, ব্যক্তির আত্মিক উৎকর্ষতা বেশী কাম্য, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এভাবেই বিকশিত হবে এমনটা অনুমাণ করে নিয়েছেন।

সমাজ অনগ্রসর হলে কিংবা সামাজিক বৈষম্য পাহাড়প্রমাণ হলে প্রতিটি ব্যক্তি তার সর্বোচ্চ মাপে পৌঁছাতে ব্যর্থ হবে, হয়তো অদম্য অনুকরণীয় কেউ কেউ পরিপার্শ্বিকতার বাধা উপেক্ষা করে নিজের দীপ্তিতে রাষ্ট্র আলোকিত করবে কিন্তু একজনের ব্যক্তিগত অর্জন কি সামষ্টিকের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অর্জনের সামগ্রীক পরিমাণের তুলনায় বেশী হতে পারে? বিজ্ঞান সামষ্টিক উদ্যোগে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অসংখ্য মানুষের সহযোগিতায় যেটুকু জনকল্যানমুখী অবদান রেখেছে বা রাখতে পেরেছে একক ব্যক্তির অর্জন কি ততটা সামাজিক ভূমিকা রাখতে সক্ষম?

বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপট ভারতের থেকে সামান্য ভিন্ন, একটি প্রায় বিস্তৃত সমতলে কিছু ক্ষুদ্র সাংস্কৃতিক ভাবে ভিন্ন নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীকে বাদ দিলে মূলত মিশ্র একটি জনগোষ্ঠী যাদের অধিকাংশই মুসলিম ধর্মাবলম্বী এবং এই মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষদের একাংশ ব্যক্তিগত লোভ-লালসায় রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভাবে ক্ষমতাবান অংশের সহযোগিতায় এইসব ভিন্ন সংস্কৃতির অনুসারী মানুষদের ক্রমশ: নির্জীব নিশ্চিহ্ন করে ফেলছে। উত্তরের সাঁওতাল , উত্তর পূর্বের হাজং, পাহাড়ের মনিপুরী, চাকমা, ম্রো, বোমাং সবাই ক্রমশঃই ভিন্ন সাংস্কৃতিক নৃতাত্তিক গোষ্ঠীর স্বীকৃতি না পেয়ে বরং সংখ্যালঘু হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে এবং রাষ্ট্র এক ধরণের আদিবাসী!!! চিড়িয়াখানা বানানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

ব্যক্তির বিকাশেই সমাজের উন্নতি, উদ্যমী মানুষেরাই সামাজিক পরিবর্তন এনেছে, সামন্ততন্ত্রের অবসানের সময় সামাজিক দ্রোহের পতাকা তুলছিলো ব্যক্তি, তারাই নিজ উদ্যোগে নিজের বোধ বুদ্ধি সৃষ্টিশীলতা দিয়ে একটি সমাজ পরিবর্তনের ঢেউ তুলেছিলেন ইউরোপে যাকে এখন রেঁনেসা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছি আমরা। সামন্তবাদী সমাজ ব্যবস্থা থেকে প্রথমিক পূঁজিবাদী ব্যবস্থায় এক ধরণের দুর্বল রাষ্ট্র নির্মিত হচ্ছিলো, জাতীয়তাবোধ, নাগরিক অধিকার এইসব ধারণাগুলো তখনও ততটা প্রবল ছিলো না। সেখান থেকে নানা ধরণের পরিবর্তন পরিবর্ধনের ভেতর দিয়ে রাষ্ট্র নিজেই তার আদর্শকে মানবিক অধিকারমূখী করতে বাধ্য হয়েছে, দুর্বলদের অধিকার বিষয়ে রাষ্ট্র সচেতন হয়েছে কিন্তু মুক্ত বাজার অনুসরণকারী পূঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলো মানবিক অধিকার সূচকে জনকল্যানমুখী রাষ্ট্রের চেয়ে ক্রমশ: পিছিয়ে পরছে। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ব্যক্তিগত উদ্যোগ একক প্রতিষ্ঠান অনেক ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রীয় দুর্বলতায় দুর্নীতির আখড়া হয়ে উঠতে পারে। যেমনটা ঘটেছে হলমার্কের ক্ষেত্রে, যেমনটা ঘটেছে বিসমিল্লাহ গ্রুপের ক্ষেত্রে, এমন অপরাধপ্রবণ ব্যক্তির একক উলম্ফন কোনো ভাবেই সার্বিক জীবনযাত্রার মাণ উন্নয়নে কোনো ভূমিকা রাখছে না।

একই ভাবে বলা যায় আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তাদের রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে যতটুকু অবদানই থাকুক না কেনো সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মাণে তেমন তারতম্য হয় নি, তাদের জীবনবোধ ততটা উন্নত হতে পারে নি অর্থনৈতিক চাপে, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাংলাদেশের মতো স্বার্থপর ভূখন্ডে সার্বিক জীবনযাপনের মাণোন্নয়নে ততটা প্রবল ভূমিকা রাখে নি।

তারপরও মনে হলো যদি আমরা কেউ এমন উদ্দীপনামূলক বই লিখতে চাই আমাদের সেই বইয়ে কি কি অতীত অবদান আমরা রাখবো? আমাদের অতীত ঐতিহ্যের অধিকাংশই তো আসলে এখানে বসবাসরত ভিন্ন ধর্মের মানুষদের অবদান, যাদের আমরা ঠেলতে ঠেলতে সীমান্তের অন্য পাশে পাঠিয়ে দিতে পারলে আনন্দিত হই। অতীশ দিপঙ্কর, কিংবা অন্যন্য বৌদ্ধ ভিক্ষু যারা একটা সময় নৈব্যক্তিক দর্শণের বিকাশ ঘটিয়েছিলেন, এই ভূখন্ডকে জ্ঞান বিজ্ঞানে অগ্রসর একটি উদাহরণে পরিণত করেছিলেন, যার সহযোগিতা নিতে সুদুর নেপাল তিব্বতের রাজারাও আগ্রহী ছিলো সেই উচ্চতায় আমরা কি আর পৌঁছাতে পেরেছি?

আমাদের গৌরবোজ্জল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রাজনৈতিক ভাবে দখলের প্রচেষ্টায় যত ধরণের বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছে তাতে মুক্তিযুদ্ধের যেকোনো তথ্যে সন্দিহান হয়ে ওঠা একটা প্রজন্মের ভ্রান্তি কাটিয়ে তাদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতেই প্রাণান্ত হতে হচ্ছে এই পরিস্থিতিতে আগামী ২০ বছরে আমরা বিশাল একটা অর্জন করে ফেলবো এমন রাজনৈতিক রূপরেখার বছর ওয়ারী অর্জনের কোনো লক্ষ্যমাত্রা আমাদের সামনে নেই কিংবা সেটা সেভাবে আলোচিতও হয় নি।

আমাদের সমস্যাগুলো যতই প্রকট হোক না কেনো আমাদের উদ্যমী আত্মপ্রত্যয়ী লড়াকু জনগণ তাদের সকল সীমাবদ্ধতা পিছে ঠেলে নিজের উদ্যোগেই সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, তাদের জন্য ভাববাদী কোনো গ্রন্থ রচনার বদলে আপাতত তাদের লড়াইয়ে আইনী সহায়তা দেওয়া এবং তাদের অধিকার সচেতন করার বাইরে তেমন কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি কি আমরা দিতে পারি এখন? আমি আশা করি বাংলাদেশের কোনো বিজ্ঞানী দশ বছর পরে তার ব্যক্তিগত অর্জন ও সাফল্যের স্মৃতিচারণসমেত ভবিষ্যত বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য এমন অনুপ্রেরণাদায়ী বই লিখবে কিন্তু সে জন্য যেমন রাষ্ট্র নায়ক ও রাষ্ট্র পরিকল্পক প্রয়োজন এমন কয়েক ডজন স্বপ্নদ্রষ্টা মানুষ খুঁজে পেলেই হয়।

পোস্টটি ১১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


এই লেখা প্রথম পাতায় নাই কেন?!

মাহবুব সুমন's picture


ভাবনার জোগান দেয়া লেখা, বেশ কবার মনোযোগ দিয়ে পড়লাম।

আরাফাত শান্ত's picture


পড়ছি নিয়ে ভাবছিও আগে তা জানিয়ে গেলাম!

তানবীরা's picture


ভাবনার জোগান দেয়া লেখা।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

রাসেল's picture

নিজের সম্পর্কে

আপাতত বলবার মতো কিছু নাই,