ইউজার লগইন

তসলিমা নাসরিন

তসলিমা নাসরিনের সাক্ষাৎকার পড়ে ভীষন অসস্তিকর অনুভুতি হলো , মনে হলো পুরুষের বিরুদ্ধে তসলিমার বিদ্রোহ অবসান হলো, তিনি নিজেই তার পরাজয় মেনে নিয়ে পুরুষতন্ত্রের পতাকা উড়িয়েছেন তার ভাবনায়।
এই সাক্ষাৎকারটিও নতুন কোনো সাক্ষাৎকার নয়, বরং অনেক পুরোনো জঞ্জাল নতুন করে সামনে আনা।

সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে যা লিখেছিলাম সেটুকু মুছে ফেলছি।

তার স্মৃতিচারণে খোলামেলা কথার চেয়ে বেশী স্পষ্ট হয়ে থাকা কামনাকাতরতা অসস্তি তৈরি করে। সম্ভবত বাংলাদেশের উপন্যাসে নারীর শরীরময় উপস্থিতির বয়ান শুরু হয় তসলিমা নাসরিনের হাতে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর- শরৎ চাটুজ্জ্যের উপন্যাসের কোমল স্নেহপরায়ন নারীরাও কামনামদির হতে পারে সেটা মানিক ততটা স্পষ্ট উল্লেখ করেন নি, কিংবা অল্প-বিস্তর যাদের উপন্যাস পড়া হয়েছে তারা কেউই নারী ও যৌনতা প্রশ্নে নারীর শরীরিচাহিদাকে ততটা ব্যক্ত করেন নি, মানিকের একটা গল্পে নারীর তীব্র কামেচ্ছার প্রতি প্রধান নারী চরিত্রের স্পষ্ট বক্রোক্তি মানিকের পুরুষবাদীতার প্রকাশ হিসেবে গণ্য করলে বলতে হবে তসলিমা নাসরিন যেভাবে নারীকে উপস্থিত করতে চেয়েছেন সেটা হুমায়ুন আজাদের অভিধায় বাঙালী পুরুষদের প্রধানতম কামনা, নারী পুরুষের উপস্থিতিতে সলাজ কোমল হবে, পুরুষকে দেবে অগাধ প্রশ্রয় আর স্নেহপরায়ন হবে, আর বিছানায় হবে রম্ভা উর্বশী। হুমায়ুন আজাদের ভাবনা ধারায় অগ্রসর হলে পুরুষ একই সাথে নারীর কাছে সন্তানসূলভ প্রশ্রয় চায়, চায় নিরংকুশ আধিপত্য এবং একই সাথে যৌনকামনায় কেঁপে ওঠা নারীকে বাহুতে ধারণ করতে চায়। তসলিমার নারীরা স্নেহপরায়না না হয়ে শুধু রম্ভা উর্বশী হয়ে উঠতে চায়।

তসলিমা নাসরিন তার উপন্যাসের জন্যে ততটা আলোচিত হতে পারেন নি, যদিও আলোচিত সমালোচিত হয়ে ওঠার তীব্র বাসনা তার আছে, তিনি সবচেয়ে বেশী আলোচিত হয়ে উঠেন তার আত্মজীবনিমুলক বইগুলোর সুবাদে, আমার মেয়েবেলা, উতল হাওয়া, ক, দ্বিখন্ডিত, এবং এরপরে সম্ভবত তার প্রবাসজীবন এবং অন্যান্য অনুভুতি নিয়ে আরও কিছু স্মৃতিকথা সংকলন প্রকাশিত হয়েছে, যৌনতা বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি, তার কামনা এবং পুরুষসঙ্গ নিয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছে এইসব জীবনিগ্রন্থে। বিশেষত বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলার শিল্পরসিক শিল্পবোদ্ধা এবং কবি লেখকদের সাহিত্যপ্রতিভার চেয়ে তসলিমার লেখায় তাদের যৌনদক্ষতা এবং যৌন চাহিদা খোলামেলা আলোচিত হয়েছে। আমার মাঝে মাঝে মনে হয় তসলিমা জীবনকে বিছানার উপরে উদোম শুয়েই দেখলেন একটু বিছানে থেকে নেমে পায়ে চটি গলিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখলেন না পৃথিবীতে শাররীক কামনার বাইরেও অনেক বড় বড় ঘটনা ঘটছে। প্রতিটি পুরুষই তার দিকে কামনার আঙ্গুল বাড়াচ্ছে এবং তসলিমা নিজের আগ্রহে তাদের সক্ষমতা কিংবা অক্ষমতার পরীক্ষা নিচ্ছেন বিষয়টা একঘেয়ে, বিরক্তিকর এবং পাঠ্যতালিকায় থাকাটা নেহায়েত অপ্রয়োজনীয়। আমি "ক" এ এসে খান্ত দিয়েছি।

ফরাসী বিপ্লবের সময়ে মার্কুইজ ডি সাদ যৌনকামনা এবং মর্ষকামী যৌনউত্তেজনা নিয়ে বিস্তর উপন্যাস লিখেছেন , ভাবনায় মর্ষকামী এমন কি ব্যক্তিজীবনেও মর্ষকামী " সাদ" তার একাধিক সঙ্গীনির উপরে এমন নির্যাতন চালিয়েছেন এবং নারীরা এমন নির্যাতন উপভোগ করে এমন সিদ্ধান্তেও এসেছেন। পৌরুষের দাপট দেখানো মার্কুইজ ডি সাদের সাথে তসলিমার তফাত যৌনক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপিত ব্যক্তির লৈঙ্গিক বৈষম্যের ভেতরে। তসলিমা নারীর প্রতি পুরুষের কামণা এক ধরণের দুর্বলতা ধারণা করে যৌনতার অস্ত্রে পুরুষবধ করা সম্ভব এমন একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন। তবে তসলিমার বিস্তারিত পড়ে অন্তত অনুভব করা যায় তিনি শাররীক সম্পর্ক উপভোগ করেন।

তার ব্যক্তিগত ব্লগ, তার ব্যক্তিগত ওয়েব সাইটে গিয়ে বুঝা গেলো এই ভুঁয়া সাক্ষাৎকার বিষয়ে তার অবগতি সামান্য। অবশ্য আগ্রহ নিয়ে ময়লা ঘাঁটার স্বভাবে অভ্যস্ত না হওয়াটাই ভালো।

পোস্টটি ৮ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

লীনা দিলরুবা's picture


এই সাক্ষাৎকার পুরোটা পড়ার রুচি হয়নি। এটা যে পুরোই বানোয়াট তা প্রশ্নের আর উত্তরের ধরন দেখলেই বোঝা যায়। বিকৃতরুচির কোনো বীর পুঙ্গব নিজের বিকৃতির কাজ সেরেছে। করূণা অনুভব করি এদের জন্য।

রাসেল's picture


সেটা হওয়াটা অধিক সংগত। কিন্তু বিষয়টা ভালো গনপ্রিয়তা পেয়েছে।

রাসেল's picture


এটা পুরোনো জঞ্জাল নতুন করে সামনে আনা।

সেখানেও আরও একটা আজগুবি পত্রিকার নাম আছে।

আরাফাত শান্ত's picture


খুব আনন্দিত হবো যদি তসলিমা তার ব্লগে এই সাক্ষাৎকার দেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন এটা বানোয়াট, সাক্ষাৎকারের এমন পারাজিত মানুষকে পিষে সামনে এগিয়ে যাবে সময় এই পরাজিত ভেজা চোখ কোনো প্রশ্রয় পাবে না

আমিও এইটাই বিশ্বাস করি!

সাঈদ's picture


ধুর , এটা বানানো ইন্টারভিউ।

মাহবুব সুমন's picture


মিথ্যা ও বানানো এই সাক্ষাতকারটা যে নিয়েছে তার কাছে এর রেকর্ড থাকলে সে সেটা প্রকাশ করুক।

শওকত মাসুম's picture


কাল আমি্ও এটা পড়েছিলাম। বিশ্বাস হয়নি আমারও

আহসান হাবীব's picture


পৃথিবীতে কিছু মানুষ আছে তারা সব সময় নিজেকে আলোচনায় রাখতে চায়। হবে হয়ত তাই তসলিমার আবার নতুন রূপে আগমন।

তানবীরা's picture


এ ধরনের সাক্ষাতকার দেয়ার মতো বেককল কেউ না। সবই নেগেটিভ লেখা এর মধ্যে

১০

রুমন's picture


সাক্ষাতকারটা যে বানানো তা নিয়ে সন্দেহ নাই।

তার স্মৃতিচারণে খোলামেলা কথার চেয়ে বেশী স্পষ্ট হয়ে থাকা কামনাকাতরতা অসস্তি তৈরি করে। সম্ভবত বাংলাদেশের উপন্যাসে নারীর শরীরময় উপস্থিতির বয়ান শুরু হয় তসলিমা নাসরিনের হাতে।

(কা)পুরুষের কামনাকাতরতা বেশিরভাগ সময় নারীকে বিপন্ন করে তোলে। শরীরে, মনে। আর বেশিরভাগ সময় নারী তা হজম করে নেয় সামাজিকভাবে আরো বিপন্ন হওয়া থেকে বাঁচতে। সেই কামনা কাতরতা প্রকাশ করে দেওয়াটা এক ধরনের প্রতিবাদ হতে পারে হয়তো।

১১

অভিযাত্রী মন's picture


সাক্ষাৎকারটি যে আগাগোড়া ভূয়া একথা তসলিমা অসংখ্যবার তার টুইটার একাউন্টে বলেছেন।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

রাসেল's picture

নিজের সম্পর্কে

আপাতত বলবার মতো কিছু নাই,