ইউজার লগইন

পরাজিত মানুষের ইতিহাস থাকে না

পরাজিত মানুষদের ইতিহাস থাকে না, তারা ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে প্রতিনিয়ত আত্মাহুতি দেয়, প্রচন্ড নির্যাতন সহ্য করে, প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে, গণমাধ্যমের সহানুভুতি -ঘৃণা পায়, তাদের মানবেতর জীবনযাপন ও লড়াই মানবাধিকার সংস্থার স্বীকৃতি পায় কিন্তু বিজয়ের আস্বাদ তারা পায় না।

পূর্বপুরুষের পাপের জের টানা এবং নিত্যনির্যাতিত হওয়ার গল্পগুলোর একপেশে উপস্থাপন থাকে বিজয়ীর গাঁথায় কিন্তু পরাজিতের জবানীতে তার আত্মঅধিকার এবং স্বীকৃতির লড়াইয়ের গল্প ততটা প্রচারিত হয় না।

যেমন ধরা যাক রোহিঙ্গাদের কথা, আমাদের সীমান্তবর্তী রোসাঙ্গ রাজ্যের বাসিন্দা তারা, রোসাঙ্গ রাজাদের রাজসভা আলোকিত করেছে চট্টগ্রামের কবিরা, তারা সেখানে মধ্যযুগের বাঙলা সাহিত্যের স্বর্ণযুগের সূচনা করেছিলো, চট্টগ্রামের আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ তার জীবনের দীর্ঘ একটা সময় এইসব কবিদের সাহিত্য সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে অতিবাহিত করেছেন।

সিরাজউদদৌলা যখন কোলকাতা অবরোধ করলেন তখন একজন ইংরেজ সেনাপতির চট্টগ্রাম অভিমুখে আরকান রাজ্য দখল করতে যান, তাদের ধারাবাহিক আক্রমণে অবশেষে আরকান রাজ্য ব্রিটিশ উপনিবেশের অংশভুক্ত হয়।

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সময়ে রেঙ্গুন বাঙালীদের প্রধানতম কর্মক্ষেত্র হয়ে উঠেছিলো, সেখানে কাঠের ব্যবসা, খনিজ তেলের ব্যবসা করেছে বাঙালী উচ্চাকাঙ্খী যুবকেরা, উদ্যোক্তা এবং মধ্যসত্ত্বভোগী হিসেবে তারা স্থানীয় নাগরিকদের সাথে বঞ্চনাও করেছে, তখনও বার্মায় ধর্মীয় গোষ্ঠীগত সংঘাত ততটা তীব্র ছিলো না। ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি পেতে বার্মার যুবকেরা বাঙালী যুবকদের মতোই স্বদেশী আন্দোলন করেছে।

সারদাও ইউ উত্তম মহাত্মা গান্ধির আদর্শে অনুপ্রাণীত হয়ে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন বার্মায়, তবে একই সাথে অভিজাত আরকানীদের একাংশ সরাসরি ব্রিটিশদের সহযোগিতার পক্ষপাতি ছিলেন, বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং উনবিংশ শতাব্দীর হিন্দু বুদ্ধিজীবীগণ এবং বিংশ শতাব্দীতে উপমহাদেশের মুসলমান অভিজাত রাজনীতিবিদগণ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরোধিতার বদলে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সহযোগী হিসেবে স্বধর্মাবলম্বীদের অধিকতর সুযোগ সুবিধা আদায়ের পক্ষপাতী ছিলেন।

রাজনীতিতে মধ্যবিত্ত পেশাজীবী সম্প্রদায়ের অধিকার সচেতনতা তৈরি না হলে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন পরিপুষ্ট হয় না, বার্মায় মধ্যবিত্ত সমাজ ও শিক্ষিত সমাজের বিস্তারের সাথে সাথে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রকোপ বৃদ্ধি পায় এবং উপমহাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো এখানেও জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ধর্মীয় পরিচয়ে বিভাজিত হয়ে যায়।

অবিভক্ত বাংলার রাজনীতিতে কংগ্রেস ও হিন্দু মহাসভার সমঝোতামূলক স্বাধীকার লড়াইয়ের বিপরীতে সুভাষ চন্দ্র বসুর সামরিক প্রতিঘাতের ভাবনা, একই সাথে হিন্দু অভিজাত ও মধ্যবিত্তের স্বার্থের সাথে পূর্ব বাংলার কৃষিজীবী ও অভিজাত মুসলমানদের স্বার্থের সংঘাত অহিংস অসহযোগ এবং সশস্ত্র স্বদেশী আন্দোলনে বিভাজিত হওয়ার সাথে সাথে হিন্দু মুসলমান প্রশ্নেও বিভাজিত হয়ে যায় বিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকে। জিন্নাহ স্বেচ্ছা অবসর থেকে পুনরায় রাজনীতিতে ফিরে আসেন মুসলীম লীগের প্রধান হিসেবে, পূর্ব বাংলায় কৃষক প্রজা সমিতির স্বার্থকে ধ্বংস করে ক্ষমতা লোভী শের এ বাংলা পদবীর মতো নিজেও উর্দুওয়ালাদের স্বার্থ রক্ষাতেই অধিক মনোযোগী হলেন এবং এই ক্ষমতার লড়াইয়ে তিনি শুধুমাত্র মন্ত্রীত্বের লোভে আদর্শ বিসর্জন দিয়ে কৃষকপ্রজাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলেও বৃহত্তর বাংলার জনগণের কাছে তার গ্রহনযোগ্যতা কমে নি।

আরকানী মুসলমান সমাজের রাজনীতিবিদগণ এ সময়ে জিন্নাহর আনুগত্য মেনে নিয়ে প্রাক্তন আকরান রাজ্যকে পাকিস্তান ফেডারেল রাষ্ট্র কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করতে চান, পূর্ব বাংলার সীমান্তবর্তি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট অঞ্চল পাকিস্তান প্রস্তাবের অধীনে পূর্ব বাংলার অন্তর্ভুক্ত হবে এমন প্রত্যাশা তাদের ছিলো।

বার্মার নোবেল বিজয়ী নেত্রী অং সাং সুকির বাবা অং সাং নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর মতোই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের সহযোগিতায় বার্মাকে স্বাধীন করার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তিনি জাপানে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে আরও কিছু সৈন্য নিয়ে জাপানী সেনাবাহিনীর সহযোগী হিসেবে মিত্রবাহীনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং বার্মা জাপানের অধিকারে যাওয়ার পর উপলব্ধি করেন আদতে জাপানের কাছে তিনি যে ধরণের স্বাধীনতা প্রত্যাশা করেছিলেন জাপান ঠিক বার্মাকে সেভাবে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে আগ্রহী নয়। সুতরাং ১৯৪৪ সাল থেকে তিনি জাপানী সেনাবাহিনীর হাত থেকে বার্মাকে মুক্ত করার লড়াই শুরু করেন।

একই সময়ে কংগ্রেস ব্রিটিশ হটাও আন্দোলন শুরু করে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্র বাহিনীকে সহযোগিতার ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করে তবে মুসলিম লীগ মিত্র বাহিনীকে নি:শর্ত সমর্থন দেয়। জিন্নাহর ব্রিটিশ সরকারকে সহযোগিতার নীতি আরকানের মুসলিম রাজনৈতিক নেতারাও গ্রহন করেন। বার্মার স্বাধীনতার লড়াইয়ে যখন সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীগণ জাপানী সৈন্যদের সাথে ও সহযোগিতায় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সাথে লড়াই করছে সে সময়ে স্থানীয় মুসলমানেরা উপমহাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের মুসলমানদের মতো ব্রিটিশদের সহযোগিতার নীতি গ্রহন করেছেন।

ফলে ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত তারা মূলত বার্মা ন্যাশনাল আর্মির বিরোধিতা করেছে, এবং যখন অং সাং জাপানীদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুললেন ১৯৪৪ সালে তখন আরকান মুসলমানেরা প্রথমে এই প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশগ্রহন করে কিন্তু যখন মিত্র বাহিনীর বিজয় নিশ্চিত তখন তারা সুযোগ বুঝে পুনরায় মিত্র বাহিনীর পক্ষে চলে যান।

তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে নিশ্চিত হয়ে যায় ইংল্যান্ডের পক্ষে তার উপনিবেশ ধরে রাখা সম্ভব না, সে সময়ে বার্মার স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় স্বশাসন ও ফেডারেল রাষ্ট্রের দাবীতে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৪ পর্যন্ত আরকানীদের এই সংগ্রাম নির্মম ভাবে দমন করা হয় এবং ১৯৬২ সালের ভেতরেই এইসব পরাজিত মুসলিম রোহিঙ্গাদের বার্মার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়।

মূলত এই উপনিবেশবিরোধী আন্দোলনে তাদের নেতাদের ভূমিকার কারণে ধর্মীয় সংখ্যালঘু আরকানী মুসলমানেরা স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী শক্তি হিসেবেই চিহ্নিত হয় এবং কতিপয় নেতাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের দায়ভার বহন করে একটি জতি হিসেবে তারা ১৯৪৮ থেকেই নিপীড়িত ও নির্যাতিত হচ্ছে, তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে, যদিও তারা বার্মার অভ্যন্তরে বসবাস করছে কিন্তু সংখ্যাগুরু বৌদ্ধদের ভেতরে এখনও পুরোনো বিশ্বাসঘাতকতার স্মৃতি জাগরুক, তারা ক্ষমা করছে না।

১৯৪৮ সালে বার্মা স্বাধীনতা লাভ করার পরে আরও ৬৪ বছর কেটে গেছে, এর ভেতরে দুইটি প্রজন্ম পরিবর্তিত হয়েছে, ১৯৩০ থেকে ১৯৪৫ সালে যেসব মুসলিম নেতা বার্মার স্বাধীনতা প্রশ্নে ব্রিটিশদের সমর্থন করেছিলেন তাদের নাতিরাও এখন যুবক হয়েছে , তৃতীয় প্রজন্মের শিশুরাও এখনও তাদের ভ্রান্তির জের টানছে।

তাদের অতীত ভূমিকার জন্যে পৃথক রাষ্ট্র কিংবা স্বাধীকারের দাবীতে গড়ে ওঠা আরকানীদের সংগ্রামও বার্মার সামরিক শাসকদের মনোপুত হয় নি, এভাবে কয়েকজন ব্যক্তির কিংবা নেতার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের দায় যখন একটি সম্প্রদায় কিংবা একটি গোত্রকে বহন করতে হয়, সেখানে ক্রমাগত মানবাধিকার লঙ্ঘিত হতে থাকে,মানবতা ও শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধের উর্বর ক্ষেত্রে পরিণত হয় সে অঞ্চল।

নাগরিক অধিকারবিচ্যুত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে প্রাণ বাঁচাতে, আমরা অপরাধী হিসেবে তাদের ঠেলে দিচ্ছি সীমান্তের ওপারে, যেখানে ওরা ব্রাত্য এবং স্বাধীনতাবিরোধী বিশ্বাসঘাতকদের সন্তান সন্ততি হিসেবেই পরিচিত এবং এই অপরাধে তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

আমরা যখন মানবিক রাষ্ট্রের কথা ভাবি, আমরা যখন ন্যায়ের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত কোনো শাসনব্যবস্থার কথা চিন্তা করি আমরা নিশ্চিত হয়েই বলি সে রাষ্ট্রে ব্যক্তির অপরাধের দায়ভার তার সন্তান কিংবা তার সম্প্রদায় বহন করবে না। আমরা ১৯৭১এ যখন মুজিবনগর ঘোষণার মাধ্যমে স্বাধীনতার চেতনা প্রকাশ করেছিলাম তখনও আমরা একটা বৈষম্যহীন মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছিলাম কিন্তু আমরা আমাদের পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভুত তাড়াতে পারি নি, আমরা আমাদের পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি রক্ষা ও তাদের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তাদের অধিকারের দাবীকে মেনে নিতে পারি নি, তারা ১৯৪৫ এ পাকিস্তান রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হতে চায় নি সুতরাং পাকিস্তান তাদের দাবীগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলো না, আমরাও আসলে তাদের ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিচয় বিষয়ে যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল ছিলাম না।

আমরা মানবিকতা সুশাসন প্রশ্নে নিজেদের অর্জন নিয়ে বিস্তর কলম পিষছি কিন্তু এই আমরাই নিজেদের দেশে বিহারী সম্প্রদায়ের তৃতীয় প্রজন্মকেও নাগরিক অধিকার দিতে নারাজ আবার প্রাণভয়ে ভীত একদল মানুষকেও মানবিকতার খাতিরে বাংলাদেশে বসবাসের অধিকার দিতে নারাজ। আমরা এই দেশবিহীন মানুষগুলোকে সাগরে ভাসিয়ে দিচ্ছি, বিস্তৃত সাগরে ভাসমান নৌকাই তাদের স্বাধীন স্বদেশভূমি, সাইক্লোন তাদের স্বদেশভুমি ডুবিয়ে দিচ্ছে আর স্বাধীন মানুষের লাশ ভেসে আসছে আমাদের উপকূলে আমরা তাদের দাফন করছি।

তারা কয়েক প্রজন্ম ধরেই উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে একখন্ড স্বদেশ চেয়েছে, চেয়েছে ঘুরে দাঁড়াবার জমিন, চেয়েছে সামান্য স্বচ্ছলতা, তারা লড়াই করেছে, পরাজিত হয়েছে এবং যেহেতু পরাজিত মানুষের লাঞ্ছনার স্মৃতির বাইরে অন্য কোনো ইতিহাস থাকে না তাই তাদের লাঞ্ছিত লাশ ভাসছে সাগরে।

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

অতিথি's picture


শেরে বাংলার অংশটুকু নিরপেক্ষ লাগেনি, বাকি অংশটুকু যৌক্তিক। উত্তর ভারতীয় আশরাফদের বাইরে তিনি ই কিন্তু প্রথম সর্বভারতীয় বাঙালি মুসলিম আতরাফ যিনি বাংলাদেশের মুসলিমদের কণ্ঠস্বর দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছে দিতেন।

এ টি এম কাদের's picture


শেরে বাংলার অংটুকু একশভাগ সঠিক । তার ক্ষমতা-লুলুপতা আর নীতিচ্যূতির কথা সর্বজন বিদিত । ক্ষমতার জন্য তিনি উগ্র সামপ্রদায়ক শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি বা তার একসময়ের অধস্থন মোহাম্মদ আলী বোগড়ার মন্তিরী সভায় যোগ দিতেও দ্বিধাবোধ করেননি। নীতিচ্যূতির ব্যাপারে তার অবস্থান একেবারে পরিস্কার । তার নীতি ছল সব সময় সরকারে থাকা । সরকারের পার্টি বদলে গলে দল পাল্টান ছাড়া তার করার আর কি থাকে !

টুটুল's picture


মানবিকতার সংজ্ঞা মনে হয় সময়ে সময়ে পাল্টে যায়... কারো কাছে রোহিঙ্গাদের দায় ভার আমাদের না ... আবার কারো কারো কাছে বিষয়টা অন্য রকম... বিভিন্ন মত পথের অমিলটা দিন দিন প্রকট হয়ে যাচ্ছে। দিন দিন আমরা উগ্র হয়ে উঠছি...

তানবীরা's picture


মানবিকতার সংজ্ঞা মনে হয় সময়ে সময়ে পাল্টে যায়... কারো কাছে রোহিঙ্গাদের দায় ভার আমাদের না ... আবার কারো কারো কাছে বিষয়টা অন্য রকম... বিভিন্ন মত পথের অমিলটা দিন দিন প্রকট হয়ে যাচ্ছে। দিন দিন আমরা উগ্র হয়ে উঠছি...

একদম ঠিক। টাকাপয়সা আর স্বারথ আজকাল মানবিকতা নিয়নতরন করছে

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


তারা কয়েক প্রজন্ম ধরেই উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে একখন্ড স্বদেশ চেয়েছে, চেয়েছে ঘুরে দাঁড়াবার জমিন, চেয়েছে সামান্য স্বচ্ছলতা, তারা লড়াই করেছে, পরাজিত হয়েছে এবং যেহেতু পরাজিত মানুষের লাঞ্ছনার স্মৃতির বাইরে অন্য কোনো ইতিহাস থাকে না তাই তাদের লাঞ্ছিত লাশ ভাসছে সাগরে।

আমরা দিন দিন অনুভূতিশূন্য হয়ে যাচ্ছি। Sad Sad Sad

এ টি এম কাদের's picture


পরাজিতেরও ইতিহাস হয় রাসেল ভাই । কর্ণেলের কথা ধরুন । স্বভুমে স্বগোত্রীয় ভাইদের খুনের ইন্দন যোগিয়েও আজ তিনি মহান জাতীয় বীর ।

আহসান হাবীব's picture


তারা কয়েক প্রজন্ম ধরেই উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে একখন্ড স্বদেশ চেয়েছে, চেয়েছে ঘুরে দাঁড়াবার জমিন, চেয়েছে সামান্য স্বচ্ছলতা, তারা লড়াই করেছে, পরাজিত হয়েছে এবং যেহেতু পরাজিত মানুষের লাঞ্ছনার স্মৃতির বাইরে অন্য কোনো ইতিহাস থাকে না তাই তাদের লাঞ্ছিত লাশ ভাসছে সাগরে। @ অসাধারন

@ আমি কি মন্তব্য করব ভেবে পাই না, সাহস ও পাই না। তবে আমার মনে হয় কেউ পরাজিত হয় বলেই যারা জয়ী হয় তাদের ইতিহাস থাকে। একটা অপরটার পরিপূরক।

নাজনীন খলিল's picture


তারা কয়েক প্রজন্ম ধরেই উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে একখন্ড স্বদেশ চেয়েছে, চেয়েছে ঘুরে দাঁড়াবার জমিন, চেয়েছে সামান্য স্বচ্ছলতা, তারা লড়াই করেছে, পরাজিত হয়েছে এবং যেহেতু পরাজিত মানুষের লাঞ্ছনার স্মৃতির বাইরে অন্য কোনো ইতিহাস থাকে না তাই তাদের লাঞ্ছিত লাশ ভাসছে সাগরে।

পরাজিত মানুষেরও ইতিহাস থাকে সেটা হলো পরাজয় আর বঞ্চনার ইতিহাস। কিন্তু এই ইতিহাসও বদলে যাবে। ওদের বিজয়ের ইতিহাস একদিন না একদিন লিখা হবে। হবেই।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.