ইউজার লগইন

মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ২য় পর্ব

ঘোড়ায় চেপে যতদুর যাওয়া যায়, খ্রীষ্টীয় সপ্তম-অষ্টম শতাব্দীতেই ইসলাম ধর্মাবলম্বী শাসকেরা ততটুকু ভূখন্ডই দখল করে ফেলেছিলেন এমন কি সমুদ্র অভিযান চাপিয়ে তারা স্পেনও দখল করে নেন। দখলকৃত ভূখন্ডগুলোর ভেতরে প্রাচীন সভ্যতার ঐতিহ্যধারী ইরাক এবং ইরান। রোমান সম্রাজ্যের অধীনস্ত সিরিয়া, মিশর, প্যালেস্টাইন, মরোক্কোর মতো দেশগুলোও ছিলো। নববিজিত রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা দখলে সমর্থ হলেও এই বিপূল সম্রাজ্যের সবাইকে ইসলাম গ্রহনে বাধ্য করানোর সামর্থ্য কিংবা উদ্যোগ মুসলিম শাসকদের ছিলো না। আসমানী কেতাবধারী নাগরিকদের সাথে সাথে বিজিত দেশে মুর্তি ও অগ্নিপূজারী নাগরিকদের অস্তিত্বও মেনে নিতে হয়েছে মুসলিম শাসকদের। ধর্মের ভিত্তিতে শাসক এবং শাসিতের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিৎ এই প্রশ্নে ইসলামী চিন্তাবিদদের ভেতরে মতপার্থক্য এমন কি বৈরিতাও ছিলো। এমন মত পার্থক্য শাস্ত্রনিষ্ট বিতর্ক থেকে অস্ত্রনির্ভর সংঘাতে সমাপ্ত হয়েছে।

অমুসলিম, মুর্তিপূজারী এবং অগ্নি উপাসকদের অস্ত্রের জোরে ধর্ম পরিবর্তনে বাধ্য করা, তাদের রাষ্ট্র থেকে বহিস্কৃত করে দেওয়ার মতো কট্টরপন্থী মতবাদের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ভূখন্ডে বসবাসরত সকল নাগরিককে ন্যায়সম্মত উপায়ে শাসন করার মতো ইহজাগতিক মতবাদের অস্তিত্বও ছিলো। রাষ্ট্রের শাসকদের মূল উদ্দেশ্য ছিলো অহেতুক বিদ্রোহ উস্কে না দিয়ে নির্বিবাদে শাসন পরিচালনা, স্থিতিশীল রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রায়োগিক প্রয়োজন পুরণ হতে পারে যদি রাষ্ট্র নাগরিকের ধর্ম বিষয়ে কট্টর অবস্থান গ্রহন না করে সকল নাগরিককে সন্তুষ্ট করতে পারে- এই মতবাদ কট্টরপন্থীদের সন্তুষ্ট না করলেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে দুরের মুসলিম শাসিত ভূখন্ডের শাসকেরা এই মতবাদকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। যদিও মিশর এবং তুরস্কের শাসকের কাছে আনুষ্ঠানিক খিলাফত কিংবা শাসনতান্ত্রিক বৈধ্যতা অর্জনের জন্যে উপঢৌকন পাঠানোর রীতি অনুসরণ করতো এইসব শাসকেরা কিন্তু মূলত রাষ্ট্র পরিচালনায় তারা ছিলেন সম্পূর্ণ স্বাধীন।

উপমহাদেশের ধর্মবৈচিত্র বিবেচনা করেই উপমহাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষা পাঠ্যক্রমের পরিবর্তন এবং বিকশিত হয়েছে। ফলে এখানে এক ধরণের পরধর্ম সহনশীল এবং অগ্নিউপাসক এবং মুর্তিপূজারীদের প্রতি সহানুভুতীশীল শাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। অহেতুক বিদ্রোহ যেনো দানা বাধতে না পারে সে কারণে স্থানীয় শাসনকাঠামোতে খুব বেশী রদবদল করা হয় নি। রাজস্ব উত্তোলন এবং রাজস্ব নিরীক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের চূঁড়ায় অমুসলিম কর্মকর্তাদের নিয়মিত নিয়োগ দিয়েছেন কেন্দ্রের মুসলীম শাসকেরা। [State Building under the Mughals: Religion, Culture and Politics
Muzaffar Alam] [The Making of a Munshi MUZAFFAR ALAM & SANJAY SUBRAHMANYAM]

বাণিজ্যিক কারণেই উপমহাদেশে আরবী ভাষার আগমন ঘটেছিলো। পরবর্তীতে উপমহাদেশ বিজয়ী মুসলিম শাসকদের কারোই মাতৃভাষা আরবী ছিলো না। প্রাথমিক পর্যায়ে তুর্কী এবং পরবর্তীতে ফার্সী এই দেশের প্রশাসনিক ভাষায় পরিণত হয়। উপমহাদেশে প্রচলিত আরবী ভাষা এবং বর্ণমালা বিকশিত হয়েছে অনারব শাসক ও শিক্ষকদের সহযোগিতায়। মুসলিম শাসকেরা অধিক সংখ্যক অমুসলিমদের প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দেওয়ার ফলে উপমহাদেশের অমুসলিমদের ভেতরেও ফার্সী শেখার প্রবনতা বৃদ্ধি পায় এবং ফার্সী সাহিত্যে- ইতিহাসে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। [ Arabic in India: A Survey and Classification of Its Uses, Compared with Persian TAHERA QUTBUDDIN ]

প্রশ্নবিহীন স্মৃতিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষকের নির্ধারিত পাঠ্যপুস্তক মুখস্ত করে সনদ অর্জন করলেই কি একজনকে শিক্ষিত বলা হবে না কি শিক্ষা সমাপ্ত করে আত্ম বিশ্লেষণে দক্ষতা অর্জন করে প্রতিটি পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহন করার সক্ষমতা অর্জন করলে একজনকে শিক্ষিত বলা হবে- এই প্রশ্নের মীমাংসা এখনও হয় নি। বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলোতে এমন কোনো বিতর্কের উপস্থিতি আছে এমনটা অনুমাণ করা কঠিন। এখানে মাদ্রাসা পরিচালকেরা অনুধাবনের দক্ষতা অর্জনের চেয়ে স্মৃতিচারণের দক্ষতাকে বেশী গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। মাদ্রাসা শিক্ষার উন্মেষকালে প্রায়োগিক প্রয়োজন পূরণে যেভাবে শাসকেরা মাদ্রাসা শিক্ষা পাঠ্যক্রমকে পরোক্ষ নিয়ন্ত্রন করতেন কিংবা পাঠ্যক্রম নির্ধারণে মনোনীত বিশেষজ্ঞের সহায়তা গ্রহন করতেন গত ২০০ বছরে তা অনুসরণ করা সম্ভব হয় নি।

মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের প্রতিটি উদ্যোগেই মাদ্রাসাকে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার সহায়ক একটি প্রতিষ্ঠান হিশেবে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। সেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইসলাম ধর্মের খুটিনাটি বিষয়ে বেশী গুরুত্ব দেওয়া হবে এমনটা ধরে নিয়েই শিক্ষা সংস্কারের সকল উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। প্রচলিত সাধারণ ধারার শিক্ষা ব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থী যেসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে পড়বে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সেসবের পরিবর্তে আলাদা কয়েকটা বিষয় পড়বে মেনে নিয়েও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যেনো মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সাধারণ ধারার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি পড়তে পারে সেটুকু নিশ্চিত করতেই মাদ্রাসা শিক্ষা পাঠ্যক্রম সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো। মাদ্রাসা শিক্ষা আধুনিকায়নের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগগুলোর পেছনে যতই আন্তরিকতা থাকুক না কেনো তা খুব কম সময়েই মাদ্রাসা পরিচালকদের আকৃষ্ট করতে পেরেছে।

তাই মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার সূচনালগ্নে( ত্রয়োদশ শতক থেকে সপ্তদশ শতক পর্যন্ত) [The Independent Madrasas of India: Dar al-‘Ulum, Deoband and Nadvat al-‘Ulama, Lucknow David Emmanuel Singh ] , [ HILAL AHMAD WANI
MadrasahEducation in India: A Need for Reformation ], যেভাবে রাষ্ট্রীয় প্রয়োজন পুরনে হাদিস, কোরানের তাফসীর, ফিকাহ শাস্ত্র, পড়ানো হতো ঠিক তেমন ভাবেই যুক্তিবিদ্যা( মূলত গ্রীক দার্শণিকদের দার্শণিক মতবাদ এবং ইসলামী চিন্তাবিদদের ভাষ্য) , বিজ্ঞান, গণিত, মহাকাশবিদ্যা, রাষ্ট্র বিজ্ঞানও শেখানো হতো শিক্ষার্থীদের। যেহেতু প্রাথমিক পর্যায়ে এই মাদ্রাসাগুলোর মূল লক্ষ্য ছিলো রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জনবল সরবরাহ করা তাই তারা মুখস্ত করার চেয়ে শিক্ষার্থীর অনুধাবনকে বেশী গুরুত্ব দিতো। মাদ্রাসা শিক্ষায় এমন দুনিয়াবী বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে এমন ধারণা থেকে ভিন্ন ধারার মাদ্রাসাও তৈরি হয়েছে সেখানে শুধুমাত্র ধর্মীয় বিষয়গুলোকেই অধিকতর গুরুত্ব দেওয়া হতো।
আমাদের বর্তমাণ মাদ্রাসা শিক্ষা পাঠ্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পছন্দের তালিকা অনুযায়ী অধীত বিষয়গুলোকে সাজালে মনে হবে " যৌক্তিক বিবেচনা ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা অর্জনে সম্রাট আকবরের সময়ে ফাতাহ আল্লাহ সিরাজী যেভাবে মাদ্রাসা শিক্ষা পাঠ্যক্রমের আধুনিকায়ন করেছিলেন তার বদলে প্রতিক্রিয়াশীল যেসব মাদ্রাসা পাঠ্যক্রম সে সময়ে তৈরি হয়েছিলো বাংলাদেশে সেসব প্রতিক্রিয়াশীল মাদ্রাসা পাঠ্যক্রমই গুরুত্বের সাথে অনুসৃত হচ্ছে।

রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত আলীয়া মাদ্রাসা এবং ক্বাওমী মাদ্রাসা উভয় ক্ষেত্রেই একই বক্তব্য প্রযোজ্য হবে। বিষয় হিশেবে শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে হাদিস, তারপর তাফসীর, তারপর ফিকাহ শাস্ত্র এরপরের স্থানেই আছে আরবী ভাষা ও সাহিত্য। ক্বাওমী মাদ্রাসাগুলোতে গণিত, বিজ্ঞান, ভুগোল, অর্থনীতি, সামাজিক বিজ্ঞান পড়ানো হয় না। আলীয়া মাদ্রাসাগুলোতে ধর্ম নির্ভর বিষয়ের বাইরে ইসলামের ইতিহাস ছাত্রদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। শুধুমাত্র রাষ্ট্র কিংবা শিক্ষা বোর্ড বাধ্য করছে বলেই আলীয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ইংরেজী পড়ছে।

কারা পড়ছে মাদ্রাসায়?

পরিবারের একজন ধর্ম শিক্ষায় শিক্ষিত হলে পরকালে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে এমন মতবাদের অনুসারী স্বচ্ছল পরিবারের সন্তানদের বাইরে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। এদের শতকরা ৩০ ভাগ প্রান্তিক দরিদ্র, ৬০ শতাংশ দরিদ্র এবং নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান। শিক্ষার সাথে পারিবারিক সামর্থ্যের যোগাযোগটুকু মাদ্রাসায় স্পষ্ট অনুভব করা যায়। দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো আমাদের প্রচলিতর শিক্ষা ব্যবস্থার শিক্ষার ব্যয় বহনের সামর্থ্য এখনও অর্জন করে নি। ২০০৮ সালের জরিপ অনুসারে ঢাকা শহরের বস্তিগুলোতে বসবাসরত পরিবারের একজন শিক্ষার্থীর মাসিক শিক্ষা ব্যয় ছিলো ৪০০ টাকা। বস্তিবাসী শিশুদের অধিকাংশই অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত হওয়ার সাথে সাথে স্কুল ছেড়ে দেয়। নারী শিক্ষায় রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে নারী শিক্ষার্থীদের ঝরে পরার হার কম। ছেলেরা প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ চুকিয়ে শিশু শ্রমিক হিশেবে জীবনযুদ্ধে নেমে যায়, পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিতে পরিণত হয়। [EDUCATION DECISIONS IN SLUMS OF DHAKA, Stuart Cameron, University of Sussex, UK]

গত ৫ বছরে শিক্ষা ব্যয় আরও বেড়েছে। অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠানোর আর্থিক সংগতি কমেছে অনেক পরিবারের। হত দরিদ্র পরিবারের সার্বিক উপার্জনের ২০% এইসব ছেলে মেয়েদের পড়াশোনার জন্যে ব্যয় হয়ে যায়। অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষার পরের অংশে গিয়ে অধিকাংশ পরিবারেরই পড়াশোনার বাড়তি খরচ দেওয়ার সামর্থ্য থাকে না। বাংলাদেশের জনসংখ্যার সাথে তাল মিলিয়ে সরকারী অনুদানভুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিমাণ বাড়ে নি, ফলে এইসব পরিবারের ভরসা বাসার কাছের মাদ্রাসা।

একই সাথে এই দরিদ্র পরিবারের কর্মজীবী মায়েরা কন্যা শিশুর নিরাপত্তা বিষয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে মাদ্রাসায় তাদের পড়তে পাঠান। যদিও মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের লৈঙ্গিক বৈষম্য প্রকট( প্রতি ৪ জন শিক্ষার্থীর একজন নারী এবং ক্বাওমী মাদ্রাসায় প্রতি ১২ জন শিক্ষার্থীর একজন নারী] তারপর দরিদ্র পরিবারের কন্যা শিশুটির নিরাপত্তার প্রশ্নে উদ্বিগ্ন পিতা-মাতা তার কন্যা সন্তানকে মাদ্রাসায় পাঠিয়ে নিশ্চিত বোধ করেন।
আবাসিক, অবৈতনিক ক্বাওমী মাদ্রাসায় শিশুকে পড়তে পাঠানোর অন্যতম কারণ পারিবারিক দারিদ্র। সন্তানের মুখে ভাত তুলে দিতে ব্যর্থ পিতা মাতা শিশুকে ক্বাওমী মাদ্রাসায় পাঠিয়ে দেন কারণ সেখানে শিশুটি অপুষ্টিকর হলেও নিয়মিত খেতে পারবে এবং মোটামুটি নিরাপদে বসবাস করতে পারবে। অপরাপর ধনাঢ্য ব্যক্তির অনুদান এবং যাকাত ও কোরবানীর চামড়া বেচা টাকায় এইসব শিক্ষার্থীরা কোনোমতে বেচে থাকে। তারপরও তারা উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখে।

আলীয়া মাদ্রাসা সনদের সরকারী স্বীকৃতি থাকায় আলীয়া মাদ্রাসার ছাত্রেরা দেশেই উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করার স্বপ্ন দেখলেও সরকারী স্বীকৃতিবিহীন ক্বাওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিত সম্পূর্ণ আলাদা। যেহেতু পাকিস্তান ভারত এবং মধ্যপ্রাচ্যের কিছু কিছু দেশে ক্বাওমী মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি আছে তাই তাদের অধিকাংশই বিদেশে উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করতে আগ্রহী।

আত্মপরিচয় নির্মাণ এবং স্বাধীন পেশায় আত্মমর্যাদা অক্ষুন্ন রেখে বেচে থাকা, শিক্ষার এই প্রায়োগিক উদ্দেশ্য বিবেচনা করে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাধীন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত কি হবে? মাদ্রাসা পরিচালকের দুনিয়াবী কুফরী শিক্ষার প্রতি মাত্রাতিরিক্ত ঘৃণা তাদের বিশ্লেষণী ক্ষমতাকে প্রায় নিঃশেষ করে দেয়। স্বশিক্ষিত হয়ে ওঠার তীব্র অনুপ্রেরণা নিজের ভেতরে না থাকলে এরা মূলত অস্টাদশ শতকেই পুরোনো হয়ে যাওয়া পুস্তকের পাতার ভেতরেই ভবিষ্যত নির্মাণের স্বপ্ন দেখে। " বাদ যাবে না একটি শিশুও" শ্লোগান সামনে রেখে রাষ্ট্র নিজেই অনুদানের ভিত্তিতে প্রাথমিক শিক্ষা সম্প্রসারণ করছে তারপরও রাষ্ট্রের শিশুদের ৮ ভাগের ১ ভাগ কোনো ভাবেই বৈদেশিক অনুদান নির্ভর প্রচলিত শিক্ষা কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হতে পারছে না। রাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছে শতভাগ শিশুই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায়, কিন্তু প্রতি ৮ জনে ১ জন শিশু যে সরকারস্বীকৃত শিক্ষা সনদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে না পারা এই ১ জন শিশুর জন্যে রাষ্ট্র কি উদ্যোগ নিয়েছে?

পোস্টটি ৯ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

আরাফাত শান্ত's picture


লিখতে থাকেন ভাইয়া! দারুণ হচ্ছে সিরিজটা!

তানবীরা's picture


দারুণ হচ্ছে সিরিজটা! পড়ছি

রাসেল's picture


মাদ্রাসা শিক্ষা কারিকুল্যামের খোঁজে এদিক ওদিক ঘুরলাম কিছুক্ষণ।
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এখনও তাদের পাঠ্যক্রম সংশোধন করে নি। ২০০ নম্বরের বাংলা এবং ২০০ নম্বরের ইংরেজী পড়ানো হয় না বলে মাদ্রাসার ছাত্রদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুবিধা কতৃপক্ষ রদ করেছিলো।
ক্বাওমী মাদ্রাসার কোনো কতৃপক্ষ নেই, একটি মাত্র মাদ্রাসায় প্রাথমিক পর্যায়ের সিলেবাস দেখলাম, আরবিতে লেখা। বাংলা ইংরেজী কিছু আছে কিন্তু মূলত জোরটা আরবীতেই।
পাঠ্যসূচীর বইগুলোর পরিচিতি থাকলে সেসবের ক্রিটিক পাওয়া যেতো হয়তো।

তানবীরা's picture


আপনার এই লেখাগুলোর মূল্য অনেক। আপনার এই গবেষনা অনেকেই রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে উপকৃত হবেন। আপনি সিরিজটি শেষ করুন, এর প্রয়োজনীয়তা আর গুরুত্ব দুটোই অপরিসীম ---- আজকের প্রেক্ষাপটেতো বটেই ---- ভবিষ্যতের জন্যও

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

রাসেল's picture

নিজের সম্পর্কে

আপাতত বলবার মতো কিছু নাই,