ইউজার লগইন

rape as genocide

This is not rape out of control. It is rape under control. It is also rape unto death, rape as massacre, rape to kill and to make the victims wish they were dead. It is rape as an instrument of forced exile, rape to make you leave your home and never want to go back. It is rape to be seen and heard and watched and told to others; rape as spectacle. It is rape to drive a wedge through a community, to shatter a society, to destroy a people. It is rape as genocide. In this genocide through war, mass rape is a tool, a tactic, a policy, a plan, a strategy, and an instrumentality, as well as a practice.
Catharine A. MacKinnon, Rape, Genocide, and Women's Human Rights, 17 HARV. WOMEN'S L. J. 5, 11-12 (1994).

বসনিয়ায় সার্বিয় আগ্রাসন এবং সার্বীয়দের গণধর্ষণ এবং গণধর্ষণের নিমিত্তে তৈরি হওয়া ক্যাম্পগুলোতে বন্দী নারীদের নিয়মতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রিত গণধর্ষণের বাস্তবতায় ম্যাককিনোন যে সময়ে প্রবন্ধটি লিখেছেন সে সময়ে যুদ্ধক্ষেত্রে নারী ধর্ষণ মানবতাবিরোধী অপরাধ কিংবা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতো না। শুধুমাত্র বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে প্রণীত আন্তর্জাতিক আইনে ধর্ষণকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছিলো।

একাত্তরের বীরাঙ্গনাদের কেন মুক্তিযোদ্ধাদের মতো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে না- সরকারের কাছে তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট।
২৬ মার্চের মধ্যে বীরাঙ্গনাদের তালিকা করে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না এবং গত ৪২ বছর ধরে বীরাঙ্গনাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়ার বিষয়ে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও নিরবতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে আরো দুটি রুল জারি করেছে আদালত।

মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র কথ্য ইতিহাস প্রকল্পের অংশ হিশেবে প্রায় হাজার মানুষের সাক্ষাৎকার গ্রহন করেছিলো সেখান থেকে ১১৩জন নারীর নিজস্ব অভিজ্ঞতার বিবরণ তারা প্রকাশ করেছেন “বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ –নারী প্রত্যক্ষদর্শী ও অংশগ্রহনকারীর বিবরণ” শীর্ষক গ্রন্থের ৩টি খন্ডে।
কথ্য ইতিহাস প্রকল্পের অংশ হিশেবে যেসব তৃণমূল নারীর মৌখিক বিবরণ সংকলিত হয়েছে সেসব বিবরণেও নারীরা খুব বেশী সরব নন। সে তুলনায় শিক্ষিত শহুরে নারীরা অনেক বিস্তারিত ভাবে নিজেদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন তবে অধিকাংশই ব্যক্তিগত লাঞ্ছনার বিবরণ দেন নি। স্বজন হারানোর বেদনা, আতংকিত জীবনযাপন, আশ্রয়হীনতা, অসহায়ত্ব তাদের যুদ্ধকালীন সঙ্গী ছিলো। সামাজিক সম্ভ্রম রক্ষার তাগিদে তারা অনেকেই শোকগ্রস্ত হওয়ার সুযোগও পান নি, পিতা-স্বামী-সন্তান- স্বজনের লাশ পেছনে ফেলে, প্রিয়জনের রক্তাক্ত শরীর ডিঙিয়ে তারা ছুটেছেন অনিশ্চিত। জলা-জংগলে লুকিয়ে মুখে আঁচল চাপা দিয়ে উদগত কান্না দমিয়ে তারা নির্মম অমানবিক হত্যাযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেছেন। শহুরে শিক্ষিত মানুষ যেমন ভাবে স্বাধীনতাপরবর্তী বাংলাদেশকে মূল্যায়ন করেছেন তাদের সাক্ষাৎকারে, অন্ত্যজ জনের পক্ষে তেমন মূল্যায়ন করা সম্ভব হয় নি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তীব্র অনটনে জীবিকার সংগ্রামে লিপ্ত এইসব নারীরা “এই স্বাধীন দেশে তাদের আকাঙ্খা পূর্ণ হলো কি না” কখনও নিজেকে এমন প্রশ্ন করার অবসর পান নি?


মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র দীর্ঘ দিন মুক্তিযুদ্ধের কথ্য ইতিহাস প্রকল্পের অধীনে যুদ্ধকালীন সময় আক্রান্ত, ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশী নাগরিকদের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের ভাষ্য সংগ্রহের কাজ করছে। প্রকল্পের সদস্য-পরিচালক মঈদুল হাসান “কুমিল্লা ১৯৭১ অংশগ্রহনকারী ও প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান” গ্রন্থের ভূমিকায় লিখেছেন
“ যখন কোনো ঐতিহাসিক আন্দোলন বা রূপান্তরের সঙ্গে সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক মানুষ যুক্ত হয়ে পড়ে, তখন তাদের সাক্ষ্য ও প্রতিবেদন সংগ্রহ করা যথার্থ ইতিহাস রচনার জন্য প্রয়োজনীয় পন্থা হিশেবে স্বীকৃত” তবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস রচনায় এমন উদ্যোগ গৃহীত হয় নি। সে সময়ের সংবাদপত্রগুলোতে প্রায় নিয়মিতই মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের দুঃখ-কষ্ট নিয়ে প্রতিবেদন লেখা হয়েছে। সেসব প্রতিবেদন পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্রে প্রয়োজন অনুসারে সংকলিত হয়েছে।
ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ ব্যক্তিগত বিবেচনা, রাজনৈতিক উপলব্ধি এবং জীবনবোধে সিক্ত বলে ইতিহাসের অংশ হিশেবে তার সবটুকু গ্রহন করা সম্ভব হয় না। এসব স্মৃতিচারণে তথ্যগত অসংগতি থাকে। স্মৃতিচারণ ব্যক্তিগত অনুভুতির উপস্থাপন বলে এইসব স্মৃতিচারণে ব্যক্তির ভুমিকার নিরাসক্ত উপস্থাপন সম্ভব হয় না। ফলে সেসব ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণের ভিত্তিতে ইতিহাস রচনা সম্ভব কিন্তু কোনো একক ব্যক্তির ভাষ্যকে বাস্তবতার সঠিক উপস্থাপন হিশেবে গণ্য করা কঠিন।
স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র নিঃসন্দেহে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের পর্যায়কাল, স্বাধীনতা যুদ্ধের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজস্ব উপলব্ধি এবং পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বর্বরতার দলিল তবে ১৫ খন্ডে সংকলিত এই বিপূলায়তন গ্রন্থে সাধারণ মানুষের ভাষ্য অনুপস্থিত। সংবাদপত্রের প্রতিবেদন যুদ্ধের ক্ষত যতটুকু উপস্থাপিত হয়েছিলো সেনাবাহিনীর বর্বরতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের উপস্থিতি ঠিক সেটুকুই। যে পরিমাণ দলিল সংকলিত হয়েছে তারচেয়েও বেশী পরিমাণ দলিল অসংকলিত অবস্থায় ছিলো। আমাদের অসাড় ইতিহাস চেতনা্য সেই দলিল দস্তাবেজ ধ্বংস হয়েছে।
মঈদুল হাসান জানিয়েছেন প্রবাসী সরকারের কাজের দলিল-দস্তাবেজ স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ঢাকায় আনার পরও কোনো আর্কাইভে সংরক্ষিত হয় নি। কিন্তু তারপরও “ নেতৃত্বের বন্দনার বিরাম ঘটে নি কখনো। ক্ষমতার দৃশ্যপট পরিবর্তনের সঙ্গে এক অথবা আরেকজনের নেতৃত্বের মাহত্ম্য প্রচারিত হয়, যার সঙ্গে ইতিহাসের বাস্তবতার মিল অতি সামান্যই।”
ইতিহাস সংরক্ষণে শৈথিল্য কিংবা রাষ্ট্রীয় অনাগ্রহ অবশ্য ইতিহাসচর্চাকে নিবৃত করতে পারে নি। স্বাধীনতার ৪ দশক পরেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখনও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিষয়ে উল্লেখযোগ্য গবেষণা হচ্ছে না। নিয়মতান্ত্রিক ইতিহাসের নির্মোহ বিশ্লেষণ হয় নি। মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক কাঠামো এবং ব্যক্তির আকাঙ্খা , প্রত্যাশা, দুর্দশা এবং আত্মত্যাগের ইতিহাস মাত্র ৩টি বাক্যে লিখে ফেলা সম্ভব- “৩০ লক্ষ শহীদ, ২ লক্ষ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বিপূল আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতার রাঙা সুর্যোদয় ছিনিয়ে এনেছে। আমরা তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।” ১ কোটি শরনার্থী এবং সাড়ে ৬ কোটি যুদ্ধ অবরুদ্ধ মানুষের দুর্দশা, বর্বরতা, নৃশংসতার ভেতরে প্রতিদিনের আতংকিত জীবনযাপনের বাস্তবতা এই তিনটি বাক্যে বন্দী।
রাষ্ট্রীয় কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ কিংবা উৎসাহের বাইরে ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের কথা উঠে এসেছে। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের স্মৃতিচারণমুলক গ্রন্থের প্রতিটিই অবশ্য কিছুটা উঁচুতলার মানুষদের লেখা। বিশিষ্টজনের সহায়তাকারীর ভূমিকায় লিপিবদ্ধ হওয়ার বাইরে অন্ত্যজজনের উপস্থিতিবিবর্জিত এইসব স্মৃতিচারণ। তারা গণের অংশ হিশেবে এইসব বিশিষ্টজনদের আশ্রয় দিয়েছেন, পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হামলার সময় তাদের পাশেপাশে প্রাণভয়ে ছুটেছেন, রাজাকারদের সাথে আলোচনা করেছেন, কখনও নির্যাতিত হয়েছেন। প্রতিটি দিন যখন একই রকম অনিশ্চয়তায় বসবাস, যখন প্রচন্ড ভয়ে দিন-কাল- সময়ের বোধ লুপ্ত, যখন মেলিটারি আসছে শব্দটা শুনেই প্রাণভয়ে উৎকণ্ঠিত মানুষ ছুটছে, বিভিন্ন আড়ালে নিরাপত্তা খুঁজছে, তাদের শিশু সন্তান, পিতা মাতাকে পেছনে ফেলে তারা নিজেদের মতো পালাচ্ছে আবার উত্তেজনা থিতিয়ে গেলে ফিরে আসছে, কখনও নিরাপদ গৃহে কখনও ফিরে এসে দেখছে তাদের বসতভিটা লুট করে রেখে গেছে রাজাকার। পাকিস্তানী সেনাবাহিনী এবং রাজাকার বসতভিটায় আগুণ জ্বালিয়েছে। জনশূণ্য সন্ত্রস্ত গ্রামে অতীতের জীবনযাপনের স্মৃতিমাখা বসতভিটা পুড়ে ছাই হতে দেখেছেন তারা। সে আগুণে কখনও তাদের স্বজন পুড়েছে। কখনও তাদের স্বজনের গুলিবিদ্ধ খুন হওয়া লাশটা দরজার কাছেই অবহেলায় পরে ছিলো, সৎকারের মানুষ খুঁজে না পেয়ে কোনোমতে গর্তে ফেলে কষ্ট লুকিয়ে অনাগত জীবনকে মোকাবেলা করেছেন তারা। আশাহীন সময়ে তারা স্বাধীনতার অপেক্ষা করেছেন। একবার স্বাধীনতা আসলে প্রতিদিনের সন্ত্রস্ত জীবনযাপনের ভয়ার্ত বাস্তবতা বিলুপ্ত হয়ে যাবে, দুঃখময় হলেও এক ধরণের স্বস্তিদায়ক জীবনযাপন সম্ভব হবে।

যুদ্ধক্ষেত্রের ভেতরে আরেকটি জীবন্ত যুদ্ধক্ষেত্র নারীর শরীর। জাতিগত বিদ্বেষ, প্রতিশোধ স্পৃহা এবং পরাজয়ের ক্ষোভ সে শরীরে আঘাত করে। নারীর শরীর কখনও বিজয়ীর দম্ভ আবার কখনও নিছক কামনার উল্লাসে পিষ্ট হয়। যুদ্ধাপরাধের সংজ্ঞায় বেসামরিক স্থাপনা, নারী , শিশু এবং নিরস্ত্র নাগরিক হত্যার মতো অপরাধগুলো যুদ্ধাপরাধের সংজ্ঞায় থাকলেও প্রতিটি যুদ্ধ নারীদের জন্যে দ্বিগুণ দুর্ভোগ বয়ে আনে।
ব্যপক ধ্বংসের ভেতরে, অসংখ্য মানবাধিকার লংঘনের ইতিহাসে নারীর শরীর আক্রান্ত হয়েছিলো, বিভিন্ন মাত্রায় তা নারীর শরীর জুড়ে যুদ্ধের সহিংস ছাপ রেখে গেছে। যুদ্ধপরবর্তী সময়ে যুদ্ধকালীন নির্যাতনে গর্ভবতী নারী ও কিশোরীদের গর্ভপাত করানো হয়েছে, অনেকের ক্ষেত্রেই সেটা সম্ভব হয় নি, এইসব শিশুদের রেডক্রস ও অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থার সহযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পোস্টটি ১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.