ইউজার লগইন

শিক্ষা সংস্কারের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা

সংবাদপত্রে কয়েকদিন আগে দুটো প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে- একটির বিষয়বস্তু ছিলো শিশুদের শিক্ষাজীবন সম্পর্কিত- যেখানে বলা হয়েছে অধিকাংশ শিশুই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা উপভোগ করে না। তাদের শিক্ষাপাঠ্যক্রম কিংবা পাঠদান পদ্ধতিতে তারা আনন্দ পায় না। অন্যটির বিষয়বস্তু ছিলো বিদ্যমান প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় একজন শিশু ক্লাশের পর ক্লাশ পাশ করার পরেও সরকার নির্ধারিত মাণে শিক্ষিত হতে পারছে না। যদিও প্রাথমিক কারিকুলামে বলা হয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থী বানান করে বাংলায় লেখা যেকোনো বক্তব্য পড়তে পারবে এবং তৃতীয় শ্রেণীর পর বানান না করেই বাংলা গল্প ছড়া পড়তে সক্ষম হবে কিন্তু বাস্তবে তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা বানান করেও বাংলা পড়তে পারছে না। অথচ এই শিশুরাই ৯৭% পাশ করছে পিএসসি পরীক্ষায়। কারিক্যুলাম অনুযায়ী পঞ্চম শ্রেণীর পড়াশোনা শেষ করার পর তাদের যেসব বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করার কথা, তারা সেসব দক্ষতা অর্জন করছে না।

বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা শিক্ষার্থীদের মাণসম্মত শিক্ষা প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছে এমন তথ্য যখন বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সমাপ্ত এবং বিশ্বব্যাংকের উদ্যোগে পরিচালিত গবেষণা জরিপে প্রকাশিত হয় আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে রাষ্ট্রের সীমাহীন উদাসীনতা স্পষ্ট হয়ে যায়। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতার নানাবিধ কারণ আমরা খুঁজে বের করতে পারি। শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পরার সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বিভিন্ন কারণ নির্ধারণ করে প্রতিটির তুলনামূলক অবদান নিশ্চিত করা কঠিন। তবে সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক নানাবিধ টানাপোড়েনে প্রতিষ্ঠান ব্যর্থ হতে পারে, আমাদের গুটিকয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাদ দিলে প্রায় অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মোটা দাগে বলতে গেলে সকল সরকার পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যর্থ হচ্ছে।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান সংস্থার ২০১২ সালের তথ্য অনুসারে সারা দেশে ১ লক্ষ ৪ হাজার ১৭টি বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেনী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত বিস্তৃত আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ১ কোটি ৯০ লক্ষের বেশী শিক্ষার্থী শিক্ষাগ্রহণ করছে। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে ১ কোটি ৭ লক্ষ ৫৬ হাজার শিক্ষার্থী। দেশের মোট জনসংখ্যার ১৩% বর্তমানে প্রাইমারী স্কুলের ছাত্র। এদের শিক্ষাজীবন আনন্দবিহীন, এরা মাণসম্মত শিক্ষা পাচ্ছে না।

দেশের ৬০% মানুষের মাসিক উপার্জন ১০ হাজার টাকার কম, এই বিপূল শ্রমজীবী শ্রেণীর মানুষদের ন্যুনতম শিক্ষার চাহিদা পুরণ করে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। গত মাসে একজন রিকশাচালকের সাথে কথা হচ্ছিলো, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মাণ এত নীচে সেও তার ছেলেকে কিন্ডারগার্ডেনে পড়াচ্ছে। ঢাকা শহরে রিকশা চালিয়ে একজন মানুষ তার সন্তানকে যখন দেশের কিন্ডারগার্ডেনে পড়াতে আগ্রহী হয় তখন স্পষ্ট হয়ে যায় সরকারী বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তা পূরণে মোটা দাগে ব্যর্থ। সরকার নিজে উদ্যোগী হয়ে এই ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান করে নি। শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও তারা তাদের নাগরিকদের কি মাণের শিক্ষা প্রদান করছে সে বিষয়ে রাষ্ট্রের কর্ণধারদের বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। তারা জানতেও চায় না তারা দেশের ভবিষ্যতকে কোন শূণ্যতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউট গত ৫০ বছর ধরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ। গত ১৬ বছর শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউট স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করছে। প্রতি বছর গড়ে ১০০ জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে স্নাতক ডিগ্রী নিয়ে জীবিকার সংগ্রামে লিপ্ত হচ্ছে। সুতরাং ১৫ বছরে প্রায় ১৫০০ শিক্ষার্থী শিক্ষা গবেষণার সনদ পেয়েছে দেশের শিক্ষা পরিস্থিতি উন্নয়নের কাজে নিয়োজিত থাকাটাই যাদের মূল কর্মক্ষেত্র। সরকার তাদের জন্য কি কি সুবিধা বরাদ্দ রেখেছে, শিক্ষা গবেষণা স্নাতকেরা সেসব বিষয়ে ওয়াকিবহাল কিন্তু আমি আমার সীমিত পর্যবেক্ষণে শিক্ষা পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিষয়ে তাদের সোচ্চার উদ্বেগ দেখি না। তারা কি নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের অর্জন এবং ব্যর্থতার তালিকা তৈরি করেছেন? তারা কি ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান করেছেন? তাদের মূল কর্মক্ষেত্র কোথায়?

সংকলন পাঠশালা নামক একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা পাঠ্যক্রম নির্মাণ এবং শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানের কাজে সংযুক্ত হওয়ার কারণে গত ২ মাস প্রায়শই প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্যে লেখা পাঠ্যপুস্তক পড়তে হয়। প্রতিটি পুস্তক জাতীয় শিক্ষা শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের অনুমোদিত পাঠ্যপুস্তক এবং প্রতিটি পুস্তকের তৃতীয় পাতায় পরীক্ষামূলক সংস্করণ বাক্যটি স্পষ্ট উল্লেখ করা আছে। পাঠ্যপুস্তক রচয়িতারা সবাই দেশের নামযশওয়ালা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষক, ন্যুনতম পিএইচডি ডিগ্রী না থাকলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তকবোর্ডের পাঠ্যপুস্তক রচনার দায়িত্ব পাওয়া সম্ভব না। সেসব পাঠ্যপুস্তকের প্রুফ রিডিং এর দায়িত্বপ্রাপ্ত একজনের ব্যক্তিগত মন্তব্য এইসব পুস্তকের গুরুতর তথ্যগত এবং তাত্ত্বিক ভ্রান্তি রয়েছে এবং সেসব ভ্রান্তির কারণে সংশোধিত পাঠ্যপুস্তক বাদ দিয়ে পুরোনো সংস্করণই নতুন করে প্রকাশিত হয়েছে।

বাক্যগত ভূল, তথ্যগত বিভ্রান্তিসমেত যে পাঠ্যপুস্তক প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্যে বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয় সেসব পাঠ্যপুস্তক পাঠ করে শিক্ষার্থীরা যে মাণের শিক্ষা লাভে সমর্থ হবে, বিশ্বব্যাংকের গবেষণায় সেই মাণটি স্পষ্ট প্রকাশিত হয়েছে।
গত সপ্তাহে একজন তার সন্তানকে ভর্তি করতে এনেছিলেন সংকলন পাঠশালায়, তিনি বললেন তার কাছে পাঠ্যপুস্তক রয়েছে তবে সেগুলো ২০১৩ সালের। ২০১২ সালের বাংলা পাঠ্যপুস্তক ২০১৩ সালে সংশোধিত হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে বীরশ্রেষ্ঠের আত্মত্যাগের বদলে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণায় উদ্বুদ্ধ বাংলাদেশের একজন মানুষের মৃত্যুবরণের গল্প সেখানে লেখা হয়েছে। এই সামান্য পরিবর্তন- পরিবর্ধন বাদ দিলে পাঠ্যপুস্তকটি মোটামুটি অবিকৃত আছে। শিক্ষার্থীদের সে অংশটুকু না পড়ালেও চলবে বিবেচনা করে বললাম না তেমন সমস্যা নেই।

ব্যক্তিগতভাবে সকল শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাইয়ের পরিকল্পিত পদ্ধতি আমার জানা নেই, আমি কখনও শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ছিলাম না, তবে আমার সামান্য পর্যবেক্ষণ হলো বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন সঠিক। দীর্ঘদিন বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নানাধরণের বিতর্ক করেছি, সরকারের সক্রিয় সচেতন উদ্যোগ কামনা করেছি। সরকার পরিচালিত শিক্ষা বিষয়ক টেরেস্টেরিয়াল চ্যানেলের দাবি জানিয়েছি। সরকারের টিভি লাইসেন্স প্রদানের রাজনৈতিক মচ্ছবে টিভি চ্যানেলের অনুমতিপ্রাপ্ত একজনকে শিক্ষা বিষয়ক চ্যানেল গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছি। অবশ্য আমার মতো অর্বাচীনের প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে তিনি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে ভরপুর চ্যানেল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটা না কি বাণিজ্যিক ভাবে অধিকতর লাভজনক। শিক্ষা বিষয়ক চ্যানেল দিয়ে তিনি যে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করবেন এবং তিনি যদি উদ্যমী হন তবে শিক্ষাবিষয়ক চ্যানেল শূণ্যতায় তিনি শুধুমাত্র বিখ্যাত শিক্ষকদের ক্লাশ লেকচার বেচে কত অর্থ উপার্জন করতে পারবেন সেই রঙ্গীন স্বপ্ন তাকে দেখিয়েছি। সে উদ্যোগ সফল হয় নি।

সংকলন পাঠশালার দায়িত্ব নেওয়ার সময় শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরী হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার সময় থেকে আমি বিশ্বাস করেছি ভালো ভালো কথার কোনো দাম নেই, যদি সংকলন পাঠশালা বিদ্যামান শিক্ষা ব্যবস্থার সংকটকে সঠিকভাবে মোকাবেলা করতে পারে তাহলে প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেটা উদাহরণ হয়ে থাকবে এবং আমাদের প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রম ও পাঠদান কর্মসূচি ধীরে ধীরে অনুসরণ করতে বাধ্য হবে অপরাপর ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত স্কুলগুলো।

শিক্ষার আনন্দদায়ক পটভূমি তৈরি করতে হবে, প্রথাগত ব্ল্যাক বোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে চক ঘঁষে বিদ্যাদান পদ্ধতিকে কিছুটা সংস্কার করে সেখানে আরও বেশী চলচিত্র সংযোজন করতে হবে। মানুষ পাঠ্য বইয়ের তুলনায় সিনেমা নাটকের বিষয়বস্তু বেশীদিন মনে রাখতে পারে। কথা নয় দৃশ্য মানুষকে তথ্য সংরক্ষণে অধিকতর সহযোগিতা করে। কিন্তু বাংলাদেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বৈদেশিক অনুদানে পরিচালিত প্রাথমিক পর্যায়ের পাঠ্যক্রমের প্রয়োজন মেটাতে পারে এমন তথ্যচিত্রের পরিমাণ খুব কম। ১৫০ জন শিক্ষার্থীর জন্যে এমন তথ্যচিত্র বানানোর উদ্যোগ নেওয়াটাও অলাভজনক বিনিয়োগ।
যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় সিসিমপুর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যদিও প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের আনন্দদায়ক শিক্ষা প্রদান এই অনুষ্ঠানের অন্যতম লক্ষ্য কিন্তু সেখানে উপস্থাপিত বিষয়গুলোর সাথে সরাসরি প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাক্রমের নিয়মতান্ত্রিক সংযোগ নেই। ৩০ মিনিটের প্রতিটি আলাদা পর্বের গ্রন্থনা নির্মাতাদের দৃষ্টিকোণ থেকে ঠিক আছে কিন্তু স্কুলের শিক্ষাক্রম পরিচালনার জন্যে সিসিমপুরে উপস্থাপিত বিষয়গুলোকে স্কুলের প্রয়োজন অনুসারে সাজাতে হবে। বিনোদনমূলক শিক্ষা কার্যক্রমে সিসিমপুরের পর্ব এবং সিসিমপুরের চরিত্রদের স্কুলের প্রয়োজন অনুসারে সংকলন করা ভিন্ন দুটো কাজ।

প্রাথমিক পর্যায়ে সিসিমপুরের বিনোদনমূলক চরিত্রটুকু অক্ষুন্ন রেখে শুধুমাত্র বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক বিষয়গুলোই উপস্থাপন করা সম্ভব, তাই আপাতত শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের সংস্কৃতি এবং ঐতিহাসিক পটভূমি সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার জন্যে সিসিমপুরের বিষয়বস্তু স্কুলের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে আগ্রহী আমি। একজন দর্শক হিশেবে সিসিমপুরের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যের ভেতরে বিজ্ঞানভাবনার উপস্থিতি আমার নজরে পরে নি। যদিও শিশুর বিকাশের জন্যে এবং ভবিষ্যতের দুষণমুক্ত পৃথিবী নির্মাণে ন্যুনতম বিজ্ঞানভাবনা সিসিমপুরের অংশ হতে পারতো অনায়াসে কিন্তু সিসিমপুর সে চাহিদা পুরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

কোনো উদ্যোগের অনুপস্থিতিতে বিদ্যমান একটি উদ্যোগকে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে নিজেদের মত সাজিয়ে তোলা সহজসাধ্য বিষয়। ব্যক্তি আমির শিক্ষা সংস্কারের ১৬ আনা উৎসাহ থাকলেও এমন কার্যক্রম পরিচালনার অর্থনৈতিক যোগান নেই। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই ধরণের স্বপ্ন দেখা বিপ্লবীর পরিমাণ কম নেই কিন্তু বাণিজ্যিক পর্যায়ে তেমন কোনো বিপ্লব ঘটে না কারণ বাঙালী অতি অল্পেই উদ্যম হারায় এবং সুনির্দিষ্ট অর্জনবিহীন যেকোনো প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের বদলে ২ বছর ধরে সিঁদ কেটে সোনালী ব্যাংকের ভল্টে হামলা চালানোতে এই দেশের মানুষের উৎসাহ বেশী।

একক উদ্যোগে এইসব সমাপ্ত করা অসম্ভব, এই কাজের জন্যে অন্তত ২০ থেকে ৩০ জন সার্বক্ষণিক কর্মী প্রয়োজন। গবেষণা এবং গ্রন্থনার বিপূল দায়িত্ব সম্পাদনের কাজটা ব্যক্তিগত আগ্রহে করে দেওয়ার মতো মানুষ পাওয়া যাবে কিন্তু এই পরিশ্রমের জন্যে ন্যুনতম একটা পারিশ্রমিক তাদের দিতে হবে। ব্র‌্যাক দীর্ঘদিন শিক্ষা গবেষণার সাথে যুক্ত। তারা নিজেদের বাণিজ্যিক প্রয়োজনে ( যেহেতু তারা প্রাথমিক শিক্ষা সম্প্রসারণের কাজে যুক্ত থেকে বিপূল অংকের টাকা উপার্জন করে) নিজেদের স্কুলের জন্যে আলাদা করে পাঠ্যপুস্তক রচনা করেছে, কিন্তু সম্পূর্নটাই অর্থের নিদারুণ অপচয়। ব্র‌্যাকের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত অর্জন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চেয়ে বাজে। টাদের পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া ছাত্রেরা এখনও ৩ সংখ্যার যোগ বিয়োগ করতে পারে না, বানান করে বাংলা বই পড়তে পারে না।

তারা শিক্ষা গবেষণা এবং পাঠ্যপুস্তক নির্মাণে যে ব্যয় করেছে এনজিওকর্মীদের প্রশিক্ষণে তেমন মনোযোগ দিতে পারে নি। চাকুরী বাঁচানোর প্রয়োজনে ভ্রান্ত রিপোর্ট দিয়ে ব্র‌্যাকের কর্মীরা নিজেদের পেশাগত অর্জনের তালিকা লম্বা করে। শিক্ষার্থীদের পেটানো নিষেধ হলেও ব্র‌্যাকের শিক্ষকদের একটা অংশ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে মানুষ করার উদ্যোগে সক্রিয় অংশগ্রহন করেন। এনজিওভিত্তিক শিক্ষা সংস্কার কর্মসূচি সফল হওয়ার অনেক উদাহরণ হয়তো আছে কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এনজিওবাজী করে সাক্ষরতার হার বাড়ানো এবং শিক্ষার মাণের সন্তোষজনক উন্নতি সম্ভব না।
রাষ্ট্র সাড়ে ৪ লক্ষ শিক্ষককে বর্তমান কাঠামোতে রাতারাতি উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিতে পারবে না। সুতরাং আমাদের বিকল্প হিসেবে কয়েকজন আদর্শ শিক্ষককেই সামনের কাতারে নিয়ে এসে তাদের অনুসরণযোগ্য উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে। সেইসব শিক্ষক সারা দেশ ঘুরে ক্লাশ লেকচার দিবেন এমনটাও সম্ভব হবে না, আমাদের বিষয়ভিত্তিক ক্লাশ লেকচার ভিডিও করে সবার জন্যে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সরবরাহ করার উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে। সরকার প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার মাণ বাড়ানোর জন্যে যদি ৫০০ কোটি টাকা বাড়তি খরচ করতে আগ্রহী হয় তাহলে আইসিটি এনাবল শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহন করে দেশের শিক্ষা পদ্ধতি অতিদ্রুত পরিবর্তিত করা সম্ভব। যদিও বাণিজ্যিক বিবেচনায় আইসিটি এনাবলড শিক্ষা পাঠ্যক্রম উপস্থাপন প্রকল্পের বাণিজ্যিক মূল্য বাৎসরিক হাজার কোটি টাকার বেশী কিন্তু লোকজন কয়েক কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে প্রাইভেট ভার্সিটি করবে । সেই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণে আরও ৫০ কোটি টাকা খরচ করবে কিন্তু দেশের প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাণসম্মত শিক্ষা প্রদানের হাজার কোটি টাকার বাজার ধরতে বছরে ৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে না।

পোস্টটি ১৩ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


হতাশ.. Confused

আরাফাত শান্ত's picture


আমি এক ছেলেকে চিনি ক্লাস সিক্সে পড়ে, দোকানদার বারেকের ছেলে জুয়েল, পিএসসিতে পেয়েছে জিপিএ ৪ এর উপর কিন্তু ইংরেজী তো দূরে থাক বাংলাই লিখতে পারে না, প্রতি শব্দে শব্দে বানান ভুল!

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

রাসেল's picture

নিজের সম্পর্কে

আপাতত বলবার মতো কিছু নাই,