হালচাল
বছরের এই সময়টা বই মেলার মৌসুম। ঢাকায় বসবাসের গত দুই যুগে বই কেনা হোক আর নাই হোক নিয়মিতই বই মেলায় হানা দিয়েছি, কখনও একা কখনও বন্ধুদের সাথে। সময়ের সাথে পছন্দের বইয়ের ধরণ বদলেছে, গত কয়েক বছরে খুব বেশী উপন্যাস কবিতার বই কেনা হয় নি। ফেসবুকে দেখলাম একজনের বই প্রকাশিত হয়েছে, খুব উৎসাহ নিয়ে তাকে বললাম
ভাই তোর বই প্রকাশিত হইলো, বইয়ের একটা সফট কপি মেইলে না পাঠায় বই প্রকাশ করে ফেললি এইটা কোনো কথা হইলো
বইয়ের সফট কপি পাঠানোর কোনো কথা ছিলো না কি? এমন পালটা প্রশ্ন দেখে আর কথা বাড়ানোর সাহস পাইলাম না।
বই মেলার প্রথম সপ্তাহ শেষ। হরতাল অবরোধে পর্যুদস্ত শহরে বই মেলার ভীড় কমবে না, কিন্তু যেকোনো প্রকাশককে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেই বলবে গত বইমেলার চেয়েও বিক্রী এখনও ডাউন-
প্রতিটা বই মেলায় আগের বই মেলার চেয়ে কম বই বিক্রী হচ্ছে যদি এমনটা সত্য হয় তবে নিশ্চিত বলা যায় আমাদের বাংলা বইয়ের পাঠক কমছে তবে কিভাবে সফল হবেন- কিভাবে মেয়ে পটাবেন কিভাবে ফেসবুকের বন্ধুতালিকা বাড়াবেন জাতীয় পরামর্শমূলক জীবনঘনিষ্ঠ বইয়ের বিক্রী বাড়ছে। বন্ধু তালিকায় যেসব প্রকাশক মননশীল বই প্রকাশ করে পথে বসেছেন তারা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ৩০ দিনে আরবী ভাষা শিক্ষা, এক সপ্তাহে চীনা ভাষা জয়, তিব্বতে কি বলবেন কি খাবেন, মুখের কথায় স্প্যানীশ নারী বশ শিরোণামের ৩০ টাকা দামের নিউজপ্রিন্ট বই ছাপাতে পারেন, আরবী ভাষা শিক্ষা বইয়ের কভারে হিজাবী নারীর মেক আপ করা চোখ, অন্যান্য ভাষা শিক্ষা বইতে রহস্যময়ী, লাস্যময়ী তরুনীর ছবি দিলে বিক্রীর পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে যাবে। দেশের পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে লোকজন উগান্ডা লাইবেরিয়া ফিজিতেও প্রয়োজনে মাইগ্রেশন করবে।
ক্যালেন্ডার না দেখলে বুঝতে পারতাম না বই মেলার মাস চলে আসলো। বইমেলা নিয়ে বিরহকাতর হওয়ার অবসরও পাচ্ছি না। এখনও বইমেলা ফটোসেশন শুরু হয় নি, গুরুত্বপূর্ণ বহুপ্রজ কবিদের বন্ধুতালিকায় থাকার সৌভাগ্য হয় নি বলে সদ্যপ্রকাশিত বইয়ের সুসংবাদ পাচ্ছি না।
এখানে আসার পর প্রথম যে কাজটা করার কথা ছিলো, সে কাজে তেমন উৎসাহ পাই নি, মনে হয়েছিলো একটা বাঁদরকে প্রশিক্ষণ দিলে সেও এই কাজ করে ফেলতে পারবে, এখনও কেনো তেমন বাঁদর প্রশিক্ষিত হলো না বিষয়টা ভেবে অবাক হচ্ছিলাম। কাজ শুরু করার ৫ মাস পরে অসংখ্য ব্যর্থ উদ্যোগ শেষে মনে হচ্ছে কাজটা খুব বেশী সহজ হবে না। গবেষণা যন্ত্রপাতির কাঠামো এখনও চুড়ান্ত হয় নি, বিভিন্ন ধরণের আকার আকৃতি নিয়ে ঠেকার কাজ চলছে- একটা মাত্র সীমিত সাফল্যের পর আশা করছি আগামী মাসেই দুটো যন্ত্রকাঠামো ডিজাইন করে ফেলবো তবে প্রধান সমস্যা আসলে আমি যা করতে চাই, যেভাবে করতে চাই সেটা কাগজে এঁকে ফেলা। কাগজে সঠিক মাপে একটা যন্ত্রের কাঠামো এঁকে দেওয়াটা আমার দক্ষতায় নিতান্তই অসম্ভব কাজ মনে হচ্ছে।





পোষ্টটা মজাদার কীনা জানি না কিন্তু আমার মজা লেগেছে
ইহা মনে হয় বাঙালি আনা বৈশিষ্টের আরেকটু স্পষ্ট রূপ। আমরা অতীতকে খুব বেশী ভালবাসি!!! বানিজ্য মেলার ক্ষেত্রে এর উদাহরণ খাটে ! স্টল মালিকদের হাহাকার শুনলাম, 'আগের মেলার তুলনায় এবার বিক্রি প্রায় অর্ধেক'
এবার বইমেলা নিয়ে আপনার সিরিজ মিস করবো
এটাই লেখতে চাইছিলাম।
মন্তব্য করুন