ডটকম সাংবাদিকতা
মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং মত সম্প্রচারের স্বাধীনতা কতটা পীড়াদায়ক হতে পারে ক্যামেরাম্যান সাথে নিয়ে মাইক্রোফোন হাতে সংবাদ ধাওয়া করা স্যাটেলাইট টিভির বাংলাদেশী সাংবাদিকদের দেখে উপলব্ধি করতে পারি। মুন্নী সাহার আপনার অনুভুতি!!! প্রশ্নটাও বাকী সবার অমানবিক, অশোভন আচরণের তুলনায় অনেক বেশী সহনীয়, অনেক বেশী শোভন। স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের কল্যানে স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল কাঁপিয়ে সংবাদ উদ্ধারে যাওয়া সাংবাদিকদের বোধ-বুদ্ধি-বিবেচনাহীনতার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ডটকমসংবাদপত্র বিস্ফোরণ। পকেটে সাড়ে তিন হাজার টাকা থাকলেই একটা গণমাধ্যম খুলে ফেলা যায়, ১৬ ফুট ১২ ফুট ব্যানার আর নীলক্ষেত থেকে ৫০০ রঙ্গীন ভিজিটিং কার্ড ছাপিয়ে নেওয়ার পর যেকেউ মহাসাংবাদিক হয়ে যেকোনো ব্যাক্তিকে হয়রানি করতে পারে। আমাদের বর্তমান সাংবাদিকতা মোটা দাগে জনহয়রানি।
আমাদের সমাজে এখনও ব্যক্তি তার নিজস্ব মর্যাদা খুঁজে পায় নি। ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে যথাযথ সম্মান করতে শিখে নি আমাদের সমাজ। এক্সক্লুসিভিটির নামে ব্যক্তিগত জীবনযাপনের কুৎসা রটনাকারী ব্যক্তিরা অন্তর্জালে স্যাটেলাইট টিভিতে সাংবাদিক হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে। এইসব ইতর চরমমাত্রায় প্রতিক্রিয়াশীল। সংবাদ শিরোণাম তৈরী, সংবাদ উপস্থাপন এবং সংবাদ উপযোগী ছবি বাছাই করতে গিয়ে অহেতুক যৌনসুরসুরি তৈরী করে সাইটে হিট আর ভিজিটর বাড়ানো কিংবা স্ট্যাটাসে লাইক কামানোর ধান্দাবাজীতে ব্যস্ত অতিবিজ্ঞ সাংবাদিককূল দেখে আমি বিরক্ত। সাংবাদিক হিসেবে পরিচয়পত্র গ্রহনের আগে যেকোনো ব্যক্তির অন্তত ২ বছর সামাজিক ভব্যতা বোধ, শোভনতা এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে উপযুক্ত শব্দ চয়নের অভিজ্ঞতার সনদ থাকতে হবে- এমন একটা কঠোর নীতিমালা তৈরী না করলে কতিপয় ইতরকেই শুধু ছোটো মাইক্রোবাসে স্যাটেলাইট টিভির মনোগ্রাম লাগানো মাইক্রোফোন হাতে রাস্তাঘাটে ঘুরতে দেখা যাবে।





এই লাইনটা পড়ে হাসতে হাসতে পড়ে গেলাম।
ভাল কথা, এই ধরনের সনদ দেবে কে? তেমন কোনো অথরিটি কি কোথাও আছে? আর একটা বিষয় হলো, বাজারে চাহিদা না থাকলে তো এই ডটকম সংবাদ পোর্টালগুলো চলতো না। অ্যালেক্সার লিস্টে ডটকমগুলা বেশ দাপটের সঙ্গেই টিকে আছে। তার মানে কি সাংবাদিকদের আগে দেশের মানুষকে ঠিক করা দরকার না?
মন্তব্য করুন