ইউজার লগইন

এলেমেলো ভাবনা

বিজ্ঞানচর্চার জন্যে বিজ্ঞানের দার্শণিক ভিত্তি জানার প্রয়োজন সামান্যই। " বিজ্ঞান কি?" প্রশ্নের উত্তর না জেনেও বিজ্ঞানচর্চা করা সম্ভব। সবাই মেনেই নিয়েছে সকল জ্ঞানচর্চা প্রক্রিয়ার ভেতরে বিজ্ঞান শ্রেষ্ঠ। কিন্তু কেনো বিজ্ঞান জ্ঞান উৎপাদনী প্রক্রিয়াগুলোর মধ্যে সেরা এ প্রশ্নের কোনো মীমাংসা হয় নি।

গত শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার একটা খসরা ফ্লো চার্ট তৈরী করা হয়েছিলো, মোটা দাগে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের প্রক্রিয়ায় পূর্বাণুমান, পরীক্ষণ, ফলাফল যাচাই, উপসংহার এবং সেই উপসংহারের ভিত্তিতে পুনরায় নতুন একটি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান- পূর্বাণুমানগুলোর সংশোধন - সমাজ বিজ্ঞানীরা বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুসরণ করেছেন, গবেষণা চলাকালীন সময়ে বিজ্ঞানীদের অভিমত, অনুমান জেনেছেন, গবেষণার প্রতিটি ধাপে তারা জানতে চেয়েছেন কেনো অসংখ্য সাম্ভাব্য প্রক্রিয়ার ভেতরে বিশেষ একটি প্রক্রিয়া তারা অনুসরণ করছেন? এমন কয়েকটি পর্যালোচনার শেষে সমাজবিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন তেমন ধরাবাধা কোনো বৈজ্ঞানিক কর্মপদ্ধতি নেই। প্রতিটি গবেষক নিজের মতো গবেষণার বিষয়বস্তু খুঁজে নেন, কখনও সেই গবেষণাক্ষেত্র বেছে নেওয়ার পেছনে অর্থনৈতিক কারণ থাকে, কখনও সামাজিক মর্যাদা, কখনও পদোন্নতি কখনও নিছক কৌতুহল-
অর্থনৈতিক সচ্ছলতা, ভবিষ্যত চাকুরির নিশ্চয়তা, স্বীকৃতি কিংবা পুরস্কারের স্বপ্ন- প্রতিটি গবেষকের পেছনে একটা আলাদা গল্প আছে। এমন পর্যালোচনা শেষে একজন নৃবিজ্ঞানী মন্তব্য করেছেন " প্রতিটা গবেষণাপত্র আদতে কৌশলী মিথ্যা। সেখানে যেভাবে সমস্যার অবতারণা করা হয়, যেভাবে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সমস্যা সমাধান করা হয়, বাস্তবের গবেষণাক্ষেত্রে এমন সুনির্দিষ্ট কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় না।" বরং যখন গবেষণার ফলাফল জার্ণালে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তখন প্রাপ্ত ফলাফলগুলোর ভেতরে একটি নির্দিষ্ট থিম খুঁজে সেটার যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা করা হয়। গবেষণা ফলাফল প্রকাশের আগে এই যৌক্তিক সম্পর্ক অনুসন্ধানের কোনো তাগিদ গবেষকদের থাকে না। যেহেতু গবেষণা জার্ণালের প্রকাশিত নিবন্ধগুলো পিয়াররিভিউড- তাই জার্নালে পাঠানোর আগে গবেষণার সাথে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তির মতামত গ্রহন করা হয়- প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন অভিমত, সারাংশ টীকা এবং সংযোজন বিয়োজনগুলো একত্রে জুড়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি গবেষণা পত্রের খসরা চুড়ান্ত হয়। নেপথ্যের প্রক্রিয়াটা গবেষণাপত্রের শরীরের কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না।

সমাজবিজ্ঞানের যেকোনো বিষয়ে গবেষণার আগে একজন গবেষক যেভাবে নমুনা বাছাই করেন, যেভাবে প্রশ্ন সাজান বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে এমন সতর্কতার কোনো নজির খুঁজে পাওয়া যায় না। লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারের মতো বিশাল মাপের গবেষণা প্রকল্পে যেখানে প্রতি দিন হাজার হাজার গিগা বাইট ডাটা তৈরী হচ্ছে- সেসব ডাটার অধিকাংশই অনুৎপাদনশীল গবেষণাখাত। শতাধিক দেশের শত সহস্রাধিক বিজ্ঞানী এই গবেষণার সাথে যুক্ত কিন্তু এত এত গবেষকও আসলে সংকলিত ডাটার খুব সামান্য একটা অংশ নিজেদের গবেষণার কাজে ব্যবহার করেন।

গত কয়েক দশকে বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহ কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে শিক্ষাবিদরা বিজ্ঞাননিরাসক্তির বিভিন্ন কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করেছেন। গবেষণা ফলাফলের ভিত্তিতে তারা বিভিন্ন সুপারিশ করেছেন, সুপারিশগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে সংযুক্ত সকল বিষয় ( শিক্ষক, পাঠ্যপুস্তক, শ্রেণী অবকাঠামো, পরীক্ষাগার এবং আনুসাঙ্গিক সকল বিষয়) শিক্ষার্থীর বিজ্ঞান শিক্ষায় কি কি ভূমিকা রাখতে পারে সেসব আলোচিত হয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন বিয়োজনের কথা বলা হয়েছে। পাঠ্যপুস্তকে এবং শ্রেণীকক্ষে কিভাবে বৈজ্ঞানিক তথ্য উপস্থাপন করলে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানের প্রতি আকর্ষিত হবে, শিক্ষা অবকাঠামোতে ধাপে ধাপে বৈজ্ঞানিক তথ্যগুলো কিভাবে উপস্থাপন করা হবে, শিক্ষা পাঠ্যক্রমে বিজ্ঞান বিষয়টা কিভাবে উপস্থাপন করা উচিত- শিক্ষার্থীর কাছে বিজ্ঞানের কোন বিষয়গুলোর গুরুত্ব সবচেয়ে বেশী- বিভিন্ন ধরণের জরিপ এবং গবেষণা হয়েছে এবং হচ্ছে।

বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষকদের বিজ্ঞানবিষয়ক ধারণাগুলো নির্দিষ্ট প্রশ্নমালার ভিত্তিতে যাচাইয়ের পর দেখা গেলো বিজ্ঞান গবেষণায় জড়িত অনেক ব্যক্তির বিজ্ঞান সম্পর্কিত ধারণাগুলো স্পষ্ট না। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষক, পাঠ্যক্রম, শ্রেণীকক্ষে সরঞ্জামহীনতা এবং অন্যান্য বিষয়ে যথাযথ আপত্তি উপস্থাপন করা সম্ভব হলেও গবেষক এবং বৈজ্ঞানিকদের বিজ্ঞাননিশ্চেতনার কারণ কি? সরাসরি সাক্ষাৎকারের পর স্পষ্ট হলো শিক্ষাবিদরা যেভাবে বিজ্ঞানকে দেখেন, যেভাবে বিজ্ঞান শেখানো উচিত মনে করেন, তারা বিজ্ঞানের ধারণা বলতে যেসব বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন, কর্মক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা হয়তো সেসব বিষয় নিয়ে খুব বেশী চিন্তিত না। বিজ্ঞানের দর্শণগত অবস্থান থেকে শ্রেণীকক্ষে বৈজ্ঞানিক তথ্য উপস্থাপনের যে প্রক্রিয়া শিক্ষাবিদরা অনুসরণ করতে চাচ্ছেন- সেটা শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞান সম্পর্কে একজন ব্যক্তির ধারণা মাত্র।
সমাজবিজ্ঞানীদের অবস্থান থেকে বিবেচনা করলে বৈজ্ঞানিক গবেষণা " যত মত তত পথ" এর অনুসন্ধান। দুজন বিজ্ঞানী কখনও একটি বিষয়ের সকল ধারণার সাথে একমত হবেন না। তারা নির্দিষ্ট কোনো প্রথা কিংবা প্রক্রিয়ার ভেতরে থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয় অনুসন্ধান করেন না। এমন কোনো কাঠামোগত ধারণা গবেষণাগারে খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু তারপরও এই কাঠামোবিহীন, সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়াবিহীন, জিজ্ঞাসাবিহীন অনুসন্ধান জ্ঞান উৎপাদন প্রক্রিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে গবেষক এবং সমাজের কোথাও কোনো বিতর্ক নেই। বৈজ্ঞানিকরা গবেষণার কারণেই সামাজিক এলিট শ্রেণীর পর্যায়ভুক্ত। সহজপাচ্য বিজ্ঞান বক্তৃতা কিংবা সহজপাঠ্য বিজ্ঞান বিষয়ক বইয়ের কল্যানে অনেকেই সুপারস্টার বিজ্ঞানী।

বিজ্ঞানের দার্শণিক ভিত্তি অনুসন্ধান করতে গিয়ে মোটা দাগে ৪টা মত খুঁজে পাওয়া যায়- পর্যবেক্ষণ এবং তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক সত্য খুঁজে পাওয়া যাবে। একটি নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে যত বেশী তথ্য আমাদের হাতে থাকবে, বৈজ্ঞানিক সত্য নির্মাণে আমরা তত বেশী সফল হবো।

এই প্রক্রিয়াটা সব সময়ই কাজ করে না। একই তথ্য ১০ জনকে দিলে ১০ জন ১০টা ভিন্ন ব্যাখ্যা নিয়ে হাজির হতে পারে, এবং সেই একই তথ্য ১১তম ব্যক্তিকে দিলে সে হয়তো ১০টা ব্যাখ্যার একটা অনুসরণ করতে পারে, কিংবা ১১তম একটা ব্যাখ্যা হাজির করতে পারে। এমন অসংখ্য ব্যাখ্যার ভেতরে একটি নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক সত্যের উপস্থিতি খুঁজে পাওয়া কঠিন।
এর বিকল্প হিসেবে কার্ল পপারের ফলসিফিকেশন হাইপোথেসিস বৈজ্ঞানিক সত্য নির্মাণে খুব বেশী সহায়ক হয়ে উঠে নি। কোনো তত্ত্ব যদি একটি নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণকে সঠিকভাবে ব্যখ্যা করতে ব্যর্থ হয় কিংবা তত্ত্বের সিদ্ধান্ত যদি পর্যবেক্ষণে ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়, তবে সেই তত্ত্বকে বাতিল ঘোষণা করতে হবে- এমন কঠোর অবস্থান বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এগিয়ে নিতে খুব বেশী কার্যকর ভূমিকা রাখে না।
টমাস কুনের অবস্থান অনেকটাই সরল। তার বক্তব্য একটা তাত্ত্বিক কাঠামোকে ভিত্তি ধরে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান পরিচালিত হয়। সেই তাত্ত্বিক কাঠামো অনুসন্ধানের প্রেক্ষাপট নির্ধারণ করে। তাত্ত্বিক কাঠামোর ভেতরে যেসব বিষয়কে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে- সেসব বিষয়ের একটিকে অস্বীকার করলে গবেষক আসলে সেই তাত্ত্বিক কাঠামোর ভেতরে থাকেন না। পিয়ার রিভিউ জার্নাল আসলে এমন তাত্ত্বিক কাঠামোর গুরুত্ব প্রমাণ করে। বিদ্যমান সময়ে জার্নাল রিভিউ কমিটির সদস্যরা যে বিষয়গুলোকে গুরুত্বপূর্ণ এবং অবশ্যমান্য মনে করেন- সেসব বিষয়গুলোকে অস্বীকার করে নতুন ধাঁচের গবেষণা অন্তত জার্ণাল রিভিউ কমিটির অনুমোদন পাবে না।
এমন তাত্ত্বিক কাঠামোর দাসত্ব অনেক সময়ই সামষ্টিক অন্ধত্ব তৈরী করে, অনেক ক্ষেত্রেই গবেষণার সীমানা সংকূচিত করে ফেলে, কিন্তু সর্বজনস্বীকৃত কাঠামো বিধায় সকলেই এই কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার সাথে মানিয়ে নেয়। পরবর্তী কোনো এক সময়ে নতুন একটি মতবাদ এসে পুরোনো কাঠামোর দেয়াল ভেঙে ফেলে, পুরোনো কাঠামো অস্বীকার করতে না চাওয়া প্রবীন গবেষক এবং নতুন তত্ত্ব অনুসারী নবীন গবেষকদের দ্বন্দ্ব- বিতর্ক অবশেষে মীমাংসিত হয়- আমাদের তাত্ত্বিক কাঠামোতে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে যায়।
এই প্রচলিত কাঠামোর অস্তিত্ব অস্বীকার করে Paul Feyerabend যখন তার Against Method: Outline of an Anarchistic Theory of Knowledge প্রকাশ করলেন, যেখানে তিনি যুক্তি তথ্যে প্রমাণ করলেন বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির তেমন সুনির্দিষ্ট কাঠামো নেই। তার How to Defend Society Against Science বক্তৃতায় বললেন ""Truth" is such a nicely neutral word. Nobody would deny that it is commendable to speak the truth and wicked to tell lies. Nobody would deny that_-and yet nobody knows what such an attitude amounts to. So it is easy to twist matters and to change allegiance to truth in one's everyday affairs into allegiance to the Truth of an ideology which is nothing but the dogmatic defence of that ideology. And it is of course not true that we have to follow the truth. Human life is guided by many ideas. Truth is one of them. Freedom and mental independence are others. If Truth, as conceived by some ideologists, conflicts with freedom, then we have a choice. We may abandon freedom. But we may also abandon Truth."

তার এই বক্তব্য ভীষণ আলোড়ন তুলেছিলো। ব্যক্তিস্বাতন্ত্রততাবাদের চুড়ান্ত ব্যক্তির স্বাধীন ইচ্ছার মর্যাদা। ব্যক্তি তার বক্তব্য প্রকাশে স্বাধীন। বাক স্বাধীনতা- চিন্তার স্বাধীনতা , সত্য স্বীকার এবং অস্বীকারের স্বাধীনতা যেকোনো পথ অনুসরণের স্বাধীনতা তার আছে। রাষ্ট্র কাঠামো কেনো গুরুত্ব দিয়ে শুধুমাত্র বিজ্ঞান শেখাবে? কেনো বৈজ্ঞানিক সত্যকেই সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দিবে? সমাজের একজন ব্যক্তি, ক্লাশের একজন শিক্ষার্থী যদি মনে করে এই বিজ্ঞান শিক্ষার কোনো গুরুত্ব নেই, তাকে কেনো বিজ্ঞানের কচকচানি শোনাতে হবে? যদি ধর্মের অবাস্তব গল্পই সে সত্য মেনে নেয় কেনো সমাজ- রাষ্ট্রকে তার সে ভাবনা পরিবর্তনে ব্যাগ্র হতে হবে। কেউ যদি ইউনিকর্ণের অস্তিত্বে নিঃশ্চিত হয়ে জলাভুমির পাশে বসে সময় কাটাতে চায়- রাষ্ট্র কেনো তার ইউনিকর্ণের খোঁজে নিয়মিত মাসোহারা দিবে না?

"Cultivation of individuality which alone produces or can produce well developed human being" ব্যক্তিস্বাতন্ত্রতাবাদ যদি ব্যক্তি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে তবে ব্যক্তির অবদানের গুরুত্ব বিবেচনার আলাদা সামাজিক-রাষ্ট্রীয় নিক্তির প্রয়োজন কি আদৌ আছে?

বিশ্বের সবখানে যখন বৈজ্ঞানিক সত্যের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নেওয়া হয়েছে, আমাদের সমাজটা কোনো এক অদ্ভুত কারণে বৈজ্ঞানিক সত্যকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে নি। তারা একেশ্বরবাদী ধর্মীয় মতবাদকেই সকল সত্যের উৎস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। রাষ্ট্র তার সকল অবকাঠামো নিয়ে সেই সামাজিক মতবাদকে গুরুত্বপূর্ণ মেনে নিয়েছে এবং একেশ্বরবাদী ধর্মের কাঠামোর সাথে সমন্বয় করেই রাষ্ট্রের আইনী কাঠামো, প্রশাসনিক কাঠামো নির্মাণের চেষ্টা করছে। এখানে ব্যক্তির স্বাধীন অস্তিত্ব বিকশিত হওয়ার খুব বেশী সহায়ক পরিবেশ নেই। যেকোনো ধরণের প্রশ্ন উত্থাপন এখানে এক ধরণের ঔদ্ধত্বের প্রকাশ। বিনয়ে মাথা নীচু করে সকল সংশয় গিলে ফেলে অনুগত জীবনযাপনকারী ব্যক্তি এখানে ভালো মানুষ হিসেবে গ্রহনযোগ্য।

এই সমাজে একজন ব্যক্তি অনায়াসে বলতে পারেন তিনি শুধুমাত্র তার ধর্মীয় পরিচয়ে পরিচিত হতে চান না, কিন্তু একই সাথে অপর এক দল মানুষের ধর্মাচরণ তার বিশ্বাসের সাথে না মিললে সেই ব্যতিচারকেও তিনি অগ্রহনযোগ্য মনে করে তাদের মতাদর্শ সংশোধনের দাবী জানান। তিনি অপরের কাছে প্রত্যাশা করেন তাকে যাচাই করার সময় তার ব্যক্তিগত ধর্মবিশ্বাসকে প্রাধান্য দেওয়া হবে না এবং তিনি অপরের ধর্মবিশ্বাস এবং ধর্মাচারনকে প্রাধান্য দিয়ে তার অভিমত প্রকাশ করেন- এই দ্বিচারিতায় তিনি অবাক হন না বরং নিজের চিন্তার সাফল্যে তিনি গর্বিত ।

পোস্টটি ১১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

তানবীরা's picture


বিশ্বের সবখানে যখন বৈজ্ঞানিক সত্যের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নেওয়া হয়েছে, আমাদের সমাজটা কোনো এক অদ্ভুত কারণে বৈজ্ঞানিক সত্যকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে নি।

অদ্ভূদ কারণ কোথায়? অশিক্ষা, রাজনীতি আর সংস্কারী মন

বিষাক্ত মানুষ's picture


টিপসই দিয়া গেলাম

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.