১
গতকাল সারাদিন " আইডেন্টিটি ক্রাইসিস" সংক্রান্ত ঝঞ্ঝাট পোহাতে হলো। এয়ারপোর্টে ঠিক সময়ে পৌঁছালে ঠিক প্লেনে ওঠা সম্ভব, টিকেট নাম্বার, ফ্লাইট নাম্বার এবং অন্তত ৫টা মানুষ সব সময় যাত্রাপথ ঠিক করে দেয়। সমস্যা হলো ঠিক সময়ে এয়ারপোর্টে পৌঁছানো, গত পরশু অন্তত সঠিক সময়ে এয়ারপোর্টে পৌঁছেছি, টিকেটের নাম, পাসপোর্ট ভিসা মিলিয়ে দেখে কোনো ঝঞ্ঝাট ছাড়াই প্লেনে উঠেছি। আশা ছিলো শেষ পর্যন্ত কোনো অঘটন ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ভ্রমন হবে, তবে ঝঞ্ঝাট এড়ানোর সকল চেষ্টা আসলে ঝঞ্ঝাটের পরিমাণ বাড়ায়।
টোকিও থেকে সন্ধ্যা ৭টায় প্লেনে উঠলে তুমি হাওয়াই পৌঁছাবে সকাল ৭টায়। প্রফেসরের কথা শুনে মনে হলো এয়ারপোর্ট, ইমিগ্রেশন শেষ করে হোটেলে পৌঁছাতে পৌঁছাতে ৯টা। তারপর বিশ্রাম নিয়ে একটু শহরের আনাচে কানাচে ঘুরে রাতের খাওয়ার খেয়ে ঘুম, ঘুম থেকে উঠে কনফারেন্সের বোলচাল শুনবো, ১ সপ্তাহের জন্যে হোটেল নেওয়া আছে, যাবো রিজার্ভেশন দেখিয়ে সোজা রুমে ঢুকবো।
পৃথিবী খুব অদ্ভুত হয়ে যাচ্ছে ইদানিং, ধুমপায়ীরা পৃথিবীর সব মানুষকে অসুস্থ করে ফেলছে, তাই এদের গণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখো। এয়ারপোর্টে বসে আয়েশ করে মদের বোতলে চুমুক দেওয়া যাবে, বীয়ার হাতে নিয়ে, পেট ভর্তি মদ নিয়ে এয়ারপোর্টের এই মাথা ঐ মাথা দৌঁড়ানো যাবে, কিন্তু নির্ধারিত কাঁচের বাক্সের দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরানো যাবে না। প্লেনের দরজায়, টয়লেটে বড় বড় করে লেখা নো স্মোকিং এলাওড, আর সেটার পাশে এসট্রে সাজানো, বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি। এত হয়রানির বদলে ১০ ঘন্টা সিগারেট ছাড়া থাকা তেমন কঠিন কিছু না।





মন্তব্য করুন