বুক পকেটে টুকে রাখা স্বরলিপি, পেছনের পকেটে রাখা সুর
অনেক দিন এমনও হয়, প্যান্টের পেছনের পকেটে এক টুকরো পাতায় একটা সুর নিয়ে ঘুরছি, সারা দিন কয়েকটা শব্দ ওলোট-পালোট করছি, ঘরে ফিরছি, দিন রাত বদল হচ্ছে, দৈনন্দিন কাজের তালিকার সারি দীর্ঘ হচ্ছে, ক্যালেন্ডারের পাতা বদলাচ্ছে, প্যান্টের পেছনের পকেট থেকে খসখস আওয়াজ শুনে বের করে দেখছি- একটা টুকরো সুরের রঙ বদলে গেছে।
কিছু তাৎক্ষণিক বিচ্ছিন্ন অনুভব ধরে রাখা আলাদা আলাদা অনেকগুলো শব্দ, পারস্পর্য্যহীন, হয়তো অনেকটাই এলেমেলো, একটা সুরের বরশীতে গেঁথে ফেললে নিজস্ব অর্থ খুঁজে পায়। শব্দগুলোতে আলাদা স্বর থাকে, সুর থাকে না কোনো। হয়তো সুরের প্রত্যাশাও থাকে না সেভাবে।
হঠাৎ শীত নেমে আসলে পুরোনো দোরাজ ঘেঁটে শাল- সোয়েটার নামানো, ছুঁয়ে দেখা সময়টাতেও নরোম- মোলায়েম উষ্ণতার প্রত্যাশা থাকে কিন্তু সব অনুভব সুরপ্রত্যাশী শব্দ ধারণ করে না। তেমনই কোনো একটা শীতের সন্ধ্যায়, প্রায় একা সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময়, মনে হলো আসন্ন শীতের বাতাসে গাঢ় বিষন্নতা।
প্রতিরাতে পুরোনো গোরোস্তানের পাশ দিয়ে হেঁটে ঘরে ফিরতে হয়। উৎকীর্ণ এপিটাফে কোন শুণ্যতার অনুভুতি লেখা আছে, আমি পড়তে পারি না। ব্যস্ত জীবনে মৃতদিন গুণে রাখা আন্তরিকতা নেই, তবু কেউ কেউ হঠাৎ, হয়তো নিজস্ব অন্ধকার দিনে একগুচ্ছ উজ্জ্বল ফুল হাতে পুরোনো গোরস্তানে আসে। চিহ্নিত কবরফলকের পাশে ফুলের গুচ্ছ সাজিয়ে ফিরে যায়। সেসব দিনে রাতে ঘরে ফেরার সময় মৃদু সুগন্ধ ভেসে থাকে সংলগ্ন সড়কে।
এমনই কোনো শীতের সন্ধ্যায় প্রায় শোকাচ্ছন্ন গাঢ় অন্ধকার ঠেলে সিঁড়ি কেটে উপরে ওঠার সময় অতর্কিতে একটা বাক্য সংহতি জানিয়ে বললো
" জ্বেলে দাও আলো, মুছে যাক শোক, ইচ্ছে হাওয়ায় দুলছে নোলক, এ অন্ধকার সবটুকু নয়, বাসনার বসন জ্বালিয়ে সময়, অপেক্ষায় থাকে, কবে হবে ভোর,
এই অন্ধকার কেটে কেটে যাও, বুকে সুর গেঁথে ভাসাও এ নাও, অন্য পারে, অল্প দুরেই রাতের শেষ, খুঁজছে আলো অন্ধ নজর"
খর রোদে পুড়ে শহর, উচ্ছও হাসিতে ভেসে যায় বিষন্ন দিনগুলো, বৃষ্টির প্রতীক্ষা করে, সমস্ত শহরকে তৃষ্ণার্ত রেখে বোকা বৃষ্টিতে ভেসে যায় ক্যালেন্ডারের পাতা।





মন্তব্য করুন