ইহা আমাদের "হীরক রাজার দেশ"
১.
আহা যদি সত্যজিৎ রায় বেঁচে থাকতেন, তিনি দেখতে পেতেন তার পার্শ্ববর্তী দেশটি এখন তার বানানো ছবির মতোই একটি "হীরক রাজার দেশ"..
লিখবো কি না ভাবছি..! আবার না আমার বাড়িতে পুলিশ হানা দেয়! হায় রে..! ভেবেছিলাম আজ একটি চমৎকার জায়গার ছবিসহ ব্লগ লিখবো..কিন্তু দেশে ফিরেই দেখি, যার মাধ্যমে দেশ বিদেশে আমার বেড়ানোর ছবি আর বর্ণনা ছড়িয়ে যাবে, সেই ফেসবুকই বন্ধ।
২.
আমাদের স্বভাব বরাবরই একটু খারাপ। (ইচ্ছে করেই "আমি" সম্বোধনে এলাম.."তারা" বললে আবার না জানি কি হয়!) আমরা সবসময় একটা ভালো জিনিষের অপব্যবহার করি, তারপর যে করছে তাকে কিছ না বলে ঐ জিনিষটিকে দোষারোপ করি।
এই ধরুন ফেসবুক।
কে কি করলো, সে জন্য সারাদেশের ফেসবুক বন্ধ! তার অ্যাকাউন্ট কেন জব্দ না করে এতো গুলো মানুষকে সূচের গোড়ায় রেখে খোঁচা মারা হচ্ছে সেই প্রশ্নে পরে আসছি।
৩.
মালয়শিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে ৫৫ মিনিট ফ্লাইট ধরে, এক ঘণ্টা পয়ত্রিশ মিনিট ট্যাক্সিতে বসে জেটি, তারপর মোটামুটি ঘণ্টা ক্ষানেকের স্পিডবোট যাত্রা শেষে, ওয়াটার ট্যাক্সিতে ৫ মিনিট পর পারহেনশিয়ান আইল্যান্ড। সেখানে জেনারেটরে বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। জনবসতী তো অনেক দূরের..পর্যটকের সংখ্যাও কম। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটকও নেই। পশ্চিমা দেশের অ্যাডভেঞ্চারাস কিছু মানুষ সেখানে গিয়ে অবসর কাটায়। উহু, মোটেই ভ্রমণ কাহিনী শুরু করিনি। বলছি তাদের অবসর কাটানোর কথা। সেখানে আছে ইন্টারনেট সুবিধা। সন্ধার পর বাংলাদেশী টাকায় প্রায় দু'শতাধিক টাকা ব্যয় করে তারা ফেসবুক ব্যবহার করে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বন্ধু, আত্মীয়কে জানায় তারা কেমন আছে। কি করছে। ছবি আপলোড করছে।..
শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা পৃথিবীর মানুষ যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক ব্যবহার করে।
আমার ছোট্ট বেলার ছবি বা বিভিন্ন ট্যুরের ছবি দেখে বা একটি স্ট্যাটাস দেখে অামেরিকা প্রবাসী খালা কমেন্ট করে বসে, যার সাথে এর আগে ১০ বছর কোন যোগাযোগই ছিল না।
সেটাও ছেড়ে দেই। আমি ভাবছি যেই বিদেশী পর্যটকগুলো এদেশে এখন বেড়াতে এসেছে, তারা কি ভাবছে! তারা কি পরে আর বাংলাদেশে আসবে? নাকি ঘুড়ে চলে যাবে বাংলাদেশের সীমানা থেকে।
যেমন চলে গেছে দুই পর্তুগিজ পর্যটক। নয় মাসের ভ্রমণ কালে ভারত, ভুটান, শ্রীলংকা এমনকি নেপালেও ঘুড়েছেন তারা। এমন নয় যে বাংলাদেশ সম্বন্ধে তারা জানে না। জানে সবই। কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, সুন্দরবন, সবই জানে, তাও আসেনি! আর হ্যাঁ, তারা যায়নি পাকিস্তানেও। আহা চল্লিশ বছর পরও পাকিস্তানের সাথে একই কাতারে(!) আছে বাংলাদেশ! দুই দেশেই উগ্র মৌলবাদীরা আছে..। তাই না!
৪.
কেনো ফেসবুক বন্ধ হলো তা নিয়ে অনেক ধরনের গল্প হচ্ছে। প্রথমত, নবীজি মোহাম্মদ (সঃ) এর অবমাননা, দ্বিতীয়ত প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলীয় নেত্রীকে নিয়ে কার্টুন আঁকা।
আমি একজন ধার্মিক মানুষ। ধর্ম নিয়ে আমার কোন দ্বিমত নেই। এক্ষেত্রে আমার প্রশ্ন হলো, এই কারণে সারাদেশের ফেসবুক বন্ধ কেন হবে। ফেসবুক ব্যবহার করাই কি "কাফের' হওয়ার লক্ষণ! আমার বিশ্বাস যে সকল মুসলিম ফেসবুক ব্যবহার করে, তারা অধার্মিক কেউ নন। তাহলে এটা কেন করা!
আমাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বন্ধ করে "তালেবান' হওয়ার পথে ঠেলে দেয়ার মানে কি!
কেনো ঐ মানুষগুলোকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে না যারা অপব্যবহারটুকু করেছে। ঐ মানুষ বা গ্রুপটিকে ব্লক করে দিলেই তো হতো!
ফেসবুক বন্ধ হওয়ার আরেকটা কারণ হলো, প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলীয় নেত্রীর কার্টুন আঁকা। দেশটি যখন হীরক রাজ্যের মতন, এমনটি হওয়া কোন বিষয়ই নয়। যদিও বিশ্বব্যাপী বুশের মতোও ক্ষমতাধারীর কার্টুন আঁকার রেকর্ড আছে।
মানলাম, এটি ঘোরতর অন্যায়, তাহলে তাকে আচ্ছা মতো ডাণ্ডাপেটা করলে ক্ষতি কি! কার্টুন করার দোষে! আমাদের বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে যাওয়া ভাষা বন্ধ করে কি প্রমাণ করলো সরকার। আমরা সম্মোহনী ভাষায় বলবো, "হীরকের রাজা ভগবান'..!
৫.
স্বৈরাচারী শব্দটির অর্থ জানতে ইচ্ছা করছে..
৬.
অপব্যবহারের উদাহরণ শুধু ফেসবুক দিয়ে গুনলে চলবে না। অধিকাংশ কম্পিউটারে নীলছবি চলে, ইন্টারনেটে নগ্ন ছবি আপলোড হয়। প্রতিটা ঘর থেকে কম্পিউটার বের করে ধ্বংস করে দিক। বাংলাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাক..ধর্মের নামে রাজনীতি না করে এগুলো করুক। ইসলাম ধর্ম আর যাই হোক সহিংস নয়। একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম হিসেবে আমার বুকে ক্ষত তৈরি হয় যখন দেখি ধর্মের দোহাই দিয়ে পিছিয়ে যাওয়া, ধর্মের অপব্যবহার।
৭.
এই ব্লগের একজন, নজরুল ভাই আমাকে ইদানিং বলেন, কেন আমি হঠাৎ দেশের বাইরে স্যাটল হতে চাই। যেখানে আমার আশের পাশের সবাই জানে আমি একজন দেশপ্রেমিক। হ্যাঁ নজরুল ভাই, নিজের দেশে কাঠের পুতুল হয়ে না থেকে আমি বিদেশে গিয়ে স্বাধীনভাবে নড়তে চড়তে চাই..





আসলেই ইহা হীরক রাজার দেশ।
আর বইলো না... যা শুরু হইছে দেশে...
অদ্ভুত উটের পিঠে দেশ
ভুল কইলেন-হীরক রাণীদের দেশ
কইয়া কি জেলে যামু!
কিছু বলার নাই, সব শিয়াল পন্ডিতের দেশে আছি ,
জাব্বার ভাই, জিন্দাবাদ!
প্রথমত, নবীজি মোহাম্মদ (সঃ) এর অবমাননা, দ্বিতীয়ত প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলীয় নেত্রীকে নিয়ে কার্টুন আঁকা।
নেত্রীরাও কি নবুওত পেলেন নাকি?

বেদ্দপ সরকার মুখবইয়ের মুখ বন্ধ করে দিয়ে আমাদের মুখও বন্ধ করে তব মনে হয়। ভয়ে আছি কখন না আবার বলে দেশে ইন্টানেটেরও দরকার নাই । সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশ ।
মন্তব্য করুন