আজো তোমার সন্তান কাঁদতে কাঁদতে রাস্তায় হাঁটে
আব্বাজান,
১.
তখন শিশু শ্রেণীর ক্লাস। তোমার চাকরিও নাই। তাই স্কুলের জুতা নাই। কখনো কখনো টিফিন নাই।বছর শেষে নতুন ক্লাসে ভর্তি হওয়ার পয়সা থাকাও স্বপ্ন। স্কুলে যাওয়ার পথে কান্না। স্কুলে চুপচাপ বসে থাকা.. একপর্যায়ে স্কুল থেকে নাম কাটানো... তখন আমি খুব ভাব ধরলাম- এ স্কুল পছন্দ না.. এই তো কিছুদিন পর নতুন স্কুলে কম বেতনে নতুন ক্লাসে ভর্তি হবো! যেখানে বেতন বকেয়া থাকলেও নাম কাটবে না। বাসা থেকে হাসিমুখে বের হলাম, স্কুলে গেলাম হাসিমুখে..কাঁদলাম রাস্তায়...
২.
এইচএসসি পরীক্ষার আগে। বই নেই। কোচিং-এ পড়ার পয়সা নেই। বই কেনার সামর্থ্য নেই। উচ্চাশাটাই সম্বল। কোন রকমে পরীক্ষার ফিস দিতে পারা। তাও কত কাহিনী। ততদিনে নিজের জায়গাটা ঠিকই তৈরি করছো বাপু। এজন্য আমি এখনও অনেক রাগ। সে কথা না হয় অন্য সময়। যাই হোক পরীক্ষাটা দিলাম..বাসা থেকে রেজাল্ট নিতে বের হলাম হাসতে হাসতে..মনে ভয়,যে বিষয়ের বই ছিল না সেই বিষয়ের কি অবস্থা কে জানে!! কলেজে গিয়ে রেজাল্ট নিলাম হাসিমুখে। ভালো হয়েছে, কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়ার সুযোগ মিলবেনা জানতাম..কাঁদলাম, ঘরে ফিরে আসার পথে..
৩.
প্রথম চাকুরী জীবনে, ভালো জামা তিনটে..ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পড়া। কোন সেট কাপড় নেই।এ জামার সাথে ঐ পাজামা তো সেই ওড়না। ফিটফাট থাকা দূর কি বাত। তোমার তোহ এখন নতুন জামার তাগিদ নেই! তুমি কি বুঝতে সেই কম বয়সী একটা মেয়ের ছেড়া জুতো আর রংচটা জামা গায়ে চড়ানোর দুঃখ! বস কোন অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলতে দুইবার ভাবতো.. কোন প্রোগ্রামে না পারতে যেতে বলা..পদোন্নতি, বেতন বাড়া সব কেতাদুরস্তদের...হাসিমুখে অফিস করা..বাসায় হেসে ঢুকা..কাঁদার অবসর রাস্তায়..
৪.
জীবনে অনেক বছর এমনি এমনি কেটে গেলো..কপালে কাটা দাগের মতো দরিদ্রতা আজো কোন কোন অংশে দগদগ করে জেগে আছে..ধরো কোন মানুষ একদল মানুষকে নিমন্ত্রণ করছে, তোমার বাচ্চাদের ছাড়া..কারন তারা দরিদ্র। কেউ আমাদের নাজেহাল হওয়া সময়গুলো ভুলতে দেয় না। বারবার খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে আরো তাজা করে। আজো আনন্দমহলে তারাই আসে যারা অতিশয় তৈলাক্ত। এসব দেখি, হাসি মুখে..না চাইতেও অংশ নেয়া যত মন খারাপ করা আয়োজনে।..আয়োজনের প্রবেশ দ্বারে চোখের পানিটা মুছে নেই..আর রাতে তা তাজা করি নিশ্চুপ কোন কোণে..
৫.
পনের বছর!! তুমি কি পারো আমাকে তোমার কাছে ঠাঁই দিতে? আরো কতদিন এভাবে তুমি সব দেখে দেখে সময় কাটাবে! তুমি কি বুঝতে পারো না, আজো তোমার সন্তান কাঁদতে কাঁদতে রাস্তায় হাঁটে?? এই রাস্তার কোন সীমানায় তুমি দাঁড়ানো?
তোমার অবাধ্য এক সন্তান
তোমার ডাকের অপেক্ষায়
(সব চরিত্র ___________ )





এক নিঃশ্বাসে পড়ে নিলাম। অসম্ভব ভাল হয়েছে। এইরকম আরো চাই।
আবার বছর ক্ষাণেক পরে এমনটা হবে...
পৃথিবীর সব মানুষ তার শৈশবকালকে পছন্দ করে, সম্ভব হলে তারা সবাই শৈশবে ফিরে যেতে চায়। কিন্তু আমি আমার শৈশবকে কখনোই ফেরত চাই না- অসম্ভব নোংরা-দারিদ্র্যে কেটেছে যে শৈশব, পিতামাতার উদয়াস্ত কষ্টের পরও যে শৈশব কেবল অনটনে ভরা- সেই শৈশব ফেরত চাই না কোনোভাবেই। - লেখাটা পড়ে এটুকু অনুভূতি হলো, কোনো কারণ ছাড়াই।
কিন্তু মনে মনে আমি আমার শৈশব ফিরে পেতে চাই...
আপনার বাবার আত্মার শান্তি কামনা করছি
আমিও..
এটাই বোধহয় দুনিয়ার নির্মম বাস্তবতা, নাজেহাল হওয়া সময় ভুলতে চাইলেও অতি শুভাকাঙ্খী মানুষ তা ভুলতে দেবেনা ... লেখাটা পড়ে চোখে পানি চলে আসলো....
একারণেই কোন কোন মানুষ "অমানুষ"..পশুদের কখনো "অপশু" হতে শুনিনি..
মনটা খারাপ হয়ে গেল ।
পড়তে পড়তে চোখে পানি চলে আসছিল বারবার..অনেক এলোমেলো কিছু স্মৃতি উঁকি দিচ্ছিল...মন ছুঁয়ে গেল লিখাটা......।
salute to the person behind the story !
কষ্টময়, স্মৃতিময়, দুঃখ ভরা অতীত। তবু সে অতীতটাই যদি আবার ফিরে পেতাম ?
অনেক ভালোভাবে বর্ণনাটা দিতে পেরেছো। থ্যাংকু রুম্পা।
কেনো যে এত কম লেখো ?
এরকম অতীত থাকা ভালো.. অভিজ্ঞতা বাড়ে..
মনটা খারাপ হয়ে গেল।
কালকেই The Barbarian Invasion ছবিটা দেখছিলাম আর ভাবছিলাম ..ইস্ আমি যদি আমার বাবার জন্য এই রকম করতে পারতাম!!! কিন্তু তা হবার নয় .. ১৮ বছর আগেই সে সুযোগ শেষ হয়ে গেছে
~
কেন যে আমরা সেই সুযোগটা পাই না..
রুম্পা যে কেন এতো কম লেখেন?
রুম্পা, ভালো থাকবেন। এর বেশী কিছু বলার নেই
থাকবো ইনশাল্লাহ..
হৃদয় ছোঁয়া লেখা। আপনার ব্লগ ঘেঁটে জানতে পারলাম ৩০ এপ্রিল আপনার বাবার মৃত্যূবার্ষিকী। সমবেদনা আপু। ভালো থাকবেন।
ধন্যবাদ ভাইয়া..
ভালো থাকবেন।
ভালো থাকবেন।
জানি আপনি ভালো থাকবেন । জীবনে যাদের অনেক কষ্ট দিয়েছে, কিভাবে কিভাবে যেন তারাই ভালো থাকে, প্রশান্তিতে থাকে, আমি জানি । এটা বোধ হয় ঈশ্বরের আশির্বাদ ।
আপনার বাবার আত্মার শান্তি কামনা করছি ।
হমম ইশ্বরের আশীর্বাদে ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ... দেখা যা আশেপাশের কীটগুলো আর কতদিন যন্ত্রণা দেয়..
ভালো থাকবেন আপু
মন্তব্য করুন