আমার না লেখা গল্পের ডিসক্লেইমার
আগে একটা ব্লগে লিখেছিলাম আমি কাল্পনিক কিছুই লিখতে পারি না। এবি’তে আসার পর থেকে এত সুন্দর সুন্দর গল্প-কবিতা পড়ি আর ভাবি, আমি কেন লিখতে পারি না!!
তারপর ভাবলাম চেষ্টা করে দেখি। ভালো না হোক খারাপ হবে! কিন্তু কি যন্ত্রণা! একটা কিছু চিন্তা করে শুরু করি ঠিকই তারপর রাস্তাঘাট উল্টাপাল্টা করে কি অবস্থা। ব্যাপারটা অনেকটা দাঁড়ায় ধানমন্ডি থেকে মিরপুর যাবো বলে রওনা হই, একটু পর দেখি উত্তরায় চলে আসছি।
এরমধ্যে একদিন তাতা’পুর সাথে কথা হচ্ছে। তাতা’পু বলে নতুন কিছু লিখিস না কেন? বললাম লিখবো। ভূতের গল্প লিখবো ঠিক করছি। এবি’তে তো কেউ ভূতের গল্প লিখে না।
তাতা’পু হেসে বলল, দে তাড়াতাড়ি দে।
আমি ফান করে বললেও তাতা'পু তাড়া দিলো। কই তোর ভূতের গল্প??
কিন্তু কিভাবে!!! নিজে তো কোনোদিন ভূতের সামনে পড়ি নাই। গত কয়েকবছরে এই ব্যাপারে কোনো গল্প, নাটক, সিনেমা পড়ছি বা দেখছি বলেও মনে পরে না। তাই বুঝতে পারছি না ঠিক কতটা ভৌতিক হলে সেটা ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প হতে পারে। কিছুই বুঝলাম না কি করবো।
এরমধ্যে একদিন রাতে পড়তে বসছি আর রেডিও শুনছি। দিনটা ছিল শুক্রবার। হঠাৎ শুনি রেডিও ফুর্তিতে ভূতের গল্প নিয়ে প্রোগ্রাম হচ্ছে। ভূত এফ এম মনে হয় নাম।
আমি নিজে অসম্ভব ভীতু। ভূতের গল্প চিন্তা করার মতো কলিজাও আমার নাই। কিভাবে লিখবো! ঠিক করলাম ভূত এফ এমে যেহেতু সবাই যার যার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তাই ঐটা শুনেই কিছু আইডিয়া নেই ঘাড় মটকায় কিভাবে? ভূত অশরীরী হবে না সশরীরী।
যেই ভাবা সেই কাজ। ভূত এফ এম শুনতে শুরু করলাম। কিন্তু এই কি! প্রথম গল্পটা শুনে আমার হাসি পেল খুব। এই গুলো ভূতের গল্প!!
একছেলে বলছে রোজ একটা নির্দিষ্ট সময়ে তার বাসায় একটা মেয়ে ফোন করে তার সাথে কথা বলতো। একদিন ছেলেটার মা প্যারালাল সেটে ফোন ধরে শুনতে পায় ঐ পাশে কারো শব্দ নেই। ছেলেটা একা একাই কথা বলছে। মা ছেলেকে কথাটা জানানোর পর ছেলেটার প্রচন্ড জ্বর আসলো এবং ফোন আসাও বন্ধ হলো। গল্পের সাথে আমার যুক্তি দিয়ে চিন্তা করতে গেলেই সব কেমন হাস্যকর লাগছে। পরেরটা শুনলাম। ঐটা শুনে আরও বেশী মজা লাগলো।
এরপর প্রোগ্রামের এঙ্কর বলল, রাত যত গভীর হবে গল্প ততোই ভয়ঙ্কর হবে। ভয়ঙ্কর গল্প শোনার জন্য আমিও রেডি। বিরতি থেকে ফিরে আবার প্রোগ্রাম শুরু হতেই কেন যেন হঠাৎ আমার মনে হলো, আমি যে হাসছি এসব শুনে, এখন যদি সত্যিই আমার সামনে এমন কিছু আসে বা এমন কিছু ঘটে যেটাতে আমি বিশ্বাস করতে বাধ্য হবো। তখন আমি কি করবো?
আর যাবি কই!!! রেডিও বন্ধ।
কিন্তু এত ভয় পেলে হবে আমার গল্প লেখার কি হবে? তাই পরের সপ্তাহে আবার শুনতে বসলাম ভূত এফ এম। একটা শুনলাম। দুইটা শুনলাম। তারপর 'ভয় লাগতেসে না, আজকে ঘুমাই, খুব ঘুম ধরসে' এমন একটা ভাব করে আবার রেডিও বন্ধ। ঘুমানোর সময় রুমে ডিম লাইট জ্বালিয়ে, মোবাইল আর টর্চ রাখলাম বালিশের পাশে।
পরের সপ্তাহ। সেদিন পড়া শেষ করে একটু দেরিতেই ভূত এফ এম শোনা শুরু করলাম। ততক্ষণে ভয়ঙ্কর গল্প শুরু হয়ে গেছে। ভাইয়া এসে জিজ্ঞাসা করলো কি শুনিস? বললাম ভূত এফ এম। এদিকে একটা গল্প শুনতে না শুনতেই ভয়ে আমার কলিজার পানি শুকাই গেলো।
রেডিও বন্ধ করে ঘুমানোর জন্য রেডি হচ্ছি। পানি খাওয়ার জন্য বের হবো রুম থেকে, রুমের দরজা খুলে দেখি ডাইনিং রুমের বারান্দার দরজা খোলা। টিভি অফ করে যখন রুমে আসি তখন আমার সামনে ভাইয়া বারান্দার দরজা বন্ধ করছে। দরজা কিভাবে খুলল?? কে খুললো??
প্রথমে আব্বু-আম্মুর ঘুম ভেঙ্গে যাবে ভেবে আস্তে আস্তে বললাম কে এইখানে?? কোনো শব্দ নাই। এরপর চিৎকার করে বললাম কে বারান্দায়???? কেউ শব্দ করে না।
রুম থেকে দু'পা সামনে গিয়ে দেখার সাহস তো আমার নাই বারান্দায় কে। সাথে সাথে মোবাইল হাতে নিয়ে ভাইয়াকে ফোন করলাম। ভাইয়া তাড়াতাড়ি আসো। কে যেন বারান্দার দরজা খুলসে।
ভাইয়া (খুবই ঠান্ডা গলায়) : কে খুলসে?
আমি : জানি না তো। তুমি তাড়াতাড়ি বের হও রুম থেকে।
ভাইয়া : কেন? তুই ভয় পাইসিস?
আমি : হ্যা ভাইয়া। আমার খুব ভয় লাগতিসে।
ভাইয়া (ধমক দিয়ে) : ভয় পাইসিস তো আমাকে ফোন করসিস কেন?
আমি : মানে?? তো কি করবো??
ভাইয়া : ভয় পেয়ে ঐখানেই সেন্সলেস হয়ে পড়ে থাকবি। আমাকে ফোন করবি কেন?
(( বারান্দার দরজা আসলে ভাইয়াই খুলেছিল। ভাতিজির জ্বর আসছিলো বলে ঔষধ কিনতে গিয়েছিল ))





ঠিকই তো।
ঘুমাইছি আর কেও যদি হুদাই কামে ডাকাডাকি করে আমারও মেজাজ খারাপ হয়ে যায় মনে হয় আছাড় দেই অথবা কাঁচা খেয়ে ফেলি।
এই দিন, দিন না, আরো দিন আছে
প্রথম কথা ভাইয়া তখন ঘুমায় নাই। বললাম না ঔষধ কিনতে গেছিলো।
আর আমি মোটেই হুদাই কামে ভাইয়ারে ডাকি নাই
হাহাহা। কেমন ভয় পাইলা যে সেন্সলেস না হইয়া ফোন করলা?
আমি সেন্সলেস হইলে ভাইয়া অজ্ঞান হইয়া যাইত। সেন্সলেস হওয়ার গল্প আর একদিন বলবো।

মজারু। তোমার লেখায় মজা আছে
ভুতের গল্পের ডিসক্লেইমার পৈড়াই আতমখে আমার হাত পা...
আমারও হাত-পা .........................
বেশ ভাল লিখেন আপনি ।
অনেক অনেক ধইন্যা আমার লেখা পড়ার জন্য
সাবধান! ভাবছি, ভূতের চিন্তা করতে করতে নিজেই না আবার ভূত হয়ে যান।
গপটি ভালো হয়েছে, ধন্যবাদ নিয়েন।
স্প্রাইটের বোতলে কোক.....স্বাদটা যেন কেমন, নকল মনে হলো। আসল-নকল যা হোক আপ্যায়নের জন্য ধন্যবাদ, সেই সাথে...
স্বাদ নকল লাগ্লেও লাগতে পারে তবে ফর্মালিন দেই নাই কিন্তু
ফরমালিন মুক্ত শুনে অন্তত আশ্বস্ত হলাম। প্রিজারভেটিভের বিষয়টি কি চেপে গেছেন...
আরে না ভাই। আমার নিজস্ব রেসিপি আসে। তখনই মাত্র বানাইয়া সার্ভ করসিলাম
কোকের রেসিপি, মজার তো! শেখাবেন নাকি..
একটা ভুতের গলপ আছে সত্যিকারের, তিনতলায় আটকা পড়ছিলা যে
ভাইয়া অলওয়েজ রকস
কি মনে করাই দিলেন গো আফা
আপনার গল্প শুনে আমার হাসি পাইছে।
হাইসা ফেলেন ভাই। কোনো ইচ্ছা অপূর্ণ রাখতে নাই।
হাসতে হাসতে পেট ব্যথা করছে, তবে আমিও আপনার টাইপের।
আহারে। দেন ধইরা আমাকে মাইর। কাজের কাজ তো কিছু পারি না। এদিকে আপনার পেট ব্যাথা করাই দিলাম

আমাকে আপনি করে বলেন কেন?
মজাক পাইলাম
লেখা ভালো হইছে 
কমেন্টও ভালো হইসে
পুরাই অস্থির!!!
ভয় পাইলেন্নাকি?
না তো। ঐ ইমোর মানে হইল আমি চোখ কটমট করতিসি। আপনাকে এখন ভয় পেতে হলো
ভুতেফেমে যেসব গল্প কয় সেগ্লা শুইন্যা ভয় ফয় কিস্যু লাগে না।

আপ্নে তাইলে অনেক সাহসী। কারন ভুত এফএম শুনলে রাতে ঘুমাইতে ভয় লাগে।
ভাইয়া সত্যিই রক্স।
ভাই তো পুরা রকস
উনারেও এবিতে নিয়া আসো।
আমার ধারণা ভাইয়া এবি'তে আসে, ব্লগ পড়ে কিন্তু কখনোই কিছু বলে না
শুনেছি অনেক, দেখেনি।
তবে দেখাটা মোটেও সুখকর হবে না মনে হয়।
আপনার অবস্থা তো পুরাই তারে আমি চোখে দেখিনি টাইপ।
ভাইয়া রকস!!!

পুরাই পাত্থর
এইটা একটা ভূতের গল্পের শুরু। জ্বর নাই, মূর্ছা নাই, দাঁত কঁপাঁটিঁ নাই, তাঁই ইঁতাঁ ভূঁতেঁর গঁল্পঁ না।
আইচ্ছা, ভুতেরা নাকি স্বরে কথা কয় -এইটা কে প্রমাণ করলো?
ধুর আমিতো তোর গল্প পইড়া ভয়ে সেন্সলেস হইয়া পইরা থাকমু উল্টা কমেন্ট করতাছি।
তুই আম্নেই কতোদিন পর আসলি। আগে কমেন্ট কর পরে সেন্সলেস হইস
আপনে না লেইখাই ডিসকেলেইমার দেন?! লেখলে কি দিবেন?
ইয়ে ভাইসাব পুরাই পাত্থর, কথাটা সঠিক হয়েছে।
লিখলে তো লেখাই হইয়া গেল। তখন দৌড় দিবো।
একখান ভূত ধইরতে পারলে মন্দ হয়না।ভূতের ঘাড়ে দিয়া পা, যেখানে খুশি সেখানে যা.
:-p
মন্তব্য করুন