সিগারেট
রাস্তার ওপার থেকে হাকিম সাহেব হাত নাড়তে লাগলেন। হাত নাড়ারও একটা ধরণ থাকে। উনি দুহাত তুলে এমন কিম্ভূতকিমাকার ভঙ্গিতে লাফাচ্ছেন, যেন স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে ছিলেন আর এইমাত্র জায়ান্ট স্ক্রীনে উনার বদনখানি দেখানোতে লাফিয়ে উঠেছেন। আশেপাশের মানুষ কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। একবার তার দিকে তাকায়, আরেকবার আমার দিকে। আমি যারপরনাই বিরক্ত হলাম। ব্যাংক থেকে মাত্রই বেরিয়েছি। যাব সেগুনবাগিচা। সুরুজের মেসে। যে কয়জন বন্ধু এখনো সংসারজীবনে লটকাইনি, বৃহস্পতিবারগুলোয় তারা এসে জমায়েত হই সুরুজের মেসে। আড্ডা অনেক রাত পর্যন্ত জমে, সে আড্ডায় ধোঁয়ার আসর হয়, কিঞ্চিৎ তরল গলাধকরণ হয়...মধ্যে মধ্যে আদিরসাত্মক হাস্যরসের সঞ্চারও হয়। সে আদিরস কখনো ওমুকের বউ এর সাথে তমুকের ভাবভালোবাসার গীবত গাওয়াতে গিয়ে ঠেকে। রাত গড়ায়, সুরুজের মেসে ঘুম নামে না। সকাল হতেই ঘুমঘুম চোখে যে যার গর্তের দিকে পা বাড়াই। বাকি সারাটা সপ্তাহ গর্ত থেকে অফিস, অফিস থেকে আবার গর্তে...এম্নি করে চলে। সুরুজের মেসটা তাই এই বিশাল শহরে আমরা কজন একলা মানুষদের এক রাতের জন্য হারিয়ে যাওয়া।
বৃহস্পতিবার বিকেলগুলোতে তাই আগে আগে বের হওয়ার ফন্দি আঁটি, সবসময় হয়ে ওঠে না। হাকিম সাহেব প্রায় প্রতি বৃহস্পতিবারই পান খাওয়া লাল দাঁত বের করে বলে, "অরূপ সাহেব তো আছেন নাকি? আমি আজকে যাই। হেহে...এখনো তো সংসার শুরু করেন নাই...বুঝবেন কতো জ্বালা। ইয়ে...আপনি একটু হিসাবগুলো গুছায় নিয়েন।" মাঝে মাঝে আপত্তি করার চেষ্টা করি, উনি যেন কানেই নেন না," আরে ইয়াং ম্যান, এটাই তো কাজ শেখার বয়স। করেন করেন, আমরাও আপনার মতোই ছিলাম।" আমার বিরক্তির উপরে এক পরত রাগ জমে। কিছু বলি না। মুখের ওপর না বলতে পারাটা নিম্ন-মধ্যবিত্তদের হয়ে ওঠে না।
সংসারী মানুষগুলো অদ্ভূত। সারা বছর হাকিম সাহেব ঘ্যান ঘ্যান করতে থাকেন। বউ নিয়ে অভিযোগ, সংসারের নিত্যিদিনকার ঝগড়া নিয়ে অভিযোগ, অভাব আর ভালোবাসার টানাপোড়েন নিয়ে আফসোস...মাঝে মাঝে সংসার নরকের মতো লাগে... অফিসে এসে নাকি উনি হাঁপ ছেড়ে বাঁচেন। শুধু বৃহস্পতিবার উনার নরক একটু আগেভাগে যেতে ইচ্ছে হয় কেন উনিই ভালো বলতে পারবেন! গত সপ্তাহে এমনি করে আমার সন্ধ্যেটা মেরে দিয়েছিলেন। উনার হিসেব মিলছে না বলে আগেভাগে তো বেরুতে দিলেনই না, সন্ধ্যে নামার পরে যখন বের হতে যাব, তখন বলতে গেলে জোর করেই ধরে নিয়ে গেলেন তার বাসায়। কি না কি সীমের বিচি দিয়ে শোল মাছের তরকারি ঝাল দিয়ে রান্না করেছেন উনার স্ত্রী , চেখে দেখতে আমাকে নিয়ে যাবেন। মুখের উপর না বলতে পারলাম না, যেতেই হলো। ক্ষীণ একটা সন্দেহ হলো উনার কালোমতো ধুমসী শালী আমার ঘাড়ে গছিয়ে দেবার মতলবেই দাওয়াত দিয়েছিলেন কিনা! তবে সেদিনকার আড্ডায় সুরুজের মেসে লোকমান এসেছিল- এ খবর যখন হিরু পরদিন সকালে দিল, তখন রাগে পারলে নিজের চুল ছিঁড়ি। লোকমানের সমান আদিরসের ভান্ডার এ বঙ্গে কারও আছে কিনা সন্দেহ! যেকোন আড্ডায় লোকমানের আসা মানে হাসির জন্য দুদিন পেটে ব্যাথা থাকবে। আর আমি এরকম একটা সুযোগ হারিয়েছিলাম শুধু হাকিম সাহেবের ফাঁদে পড়ে। আজ তাই আগেভাগেই কেটে পড়ছিলাম। অফিস থেকে বেরিয়ে রাস্তা পেরিয়ে বিড়িটা সবে ধরালাম, আর তখুনি উনার এই হাত নাড়ানাড়ি। না দেখার ভান করে চলে যাব ভেবেও পারলাম না। আশেপাশের মানুষজন যেন সার্কাস দেখছে। আমি অনেক কষ্টে মুখে এক টুকরা হাসি ফুটালাম, এটাকেই কি কাষ্ঠহাসি বলে? আমার সে হাসি দেখে হাকিম সাহেব হাত নাড়ানো থামালেন। রাস্তা পেরিয়ে এপারে আসতে লাগলেন। আর আমি মনে মনে উনার চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করতে লাগলাম!
"যাচ্ছিলেন নাকি কোথাও?" ভুরু দুটো নাচিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আমি ভাবলাম সুযোগ পেয়েছি। মেসে যাব বললে তো হবে না, ফেরানো যাবে না এমন কিছু বলতে হবে! সবে কি গুলটা মারবো ঠিক করে বলতে গেলাম, সে সময়টুকু দিলেন না হাকিম সাহেব। পিঠ চাপড়ে বললেন, "আর কোথায় যাবেন! মেসেই ত ফিরবেন। ভালো মন্দ কি খান না খান। আসেন, আমার বাড়ীতে দুটো খেয়ে যান।" আমি বিনয়ের ভাব নিয়ে কাটতে চেষ্টা করলাম, হাকিম সাহেবও চীনা জোঁক! ছাড়লেনই না, "বুঝলেন কিনা...মেয়েমানুষকে একদমই পাত্তা দিবেন না। আমাকে তো চেনেনই। বউকে রাখি ঠ্যাঙ্গানির উপরে... সেদিন আর কি খেয়েছেন! তার কয়েকদিন আগে কাচকি মাছ টমেটো দিয়ে যা রেঁধেছিল না! সেইরকম ! ! খেয়ে আমি বলি কিসব ছাইপাঁশ রাঁধো! বাপের বাড়ি থেকে এই শিখায় পাঠাইছে? অফিসের বড় সাহেবের বাড়ির কাজের বুয়াও তো তোমার চাইতে ভাল রাঁধে! বুঝলেন! সেই ঠেলাতেই গত সপ্তাহের শোল মাছটা দারুণ হলো। সেদিন যে আপনি বলে এলেন না খেতে খুব ভাল হয়েছে... উনি এখন উনার রান্নার বিশাল ভক্ত পেয়ে গেছেন আর কি! বায়না করেছে, আপনাকে নিয়ে যেতেই হবে।"
হাকিম সাহেবের স্ত্রীর রান্নার হাত ভাল একথা বলতেই হবে, কিন্তু হাকিম সাহেবের কন্টিনিউয়াস ভটরভটর মেশিনে মাথাটা এমন ধরে... আজও কিছুই বলতে পারলাম না। যেতেই হলো তার সাথে। আর মনের ভেতর উনার শালী বিষয়ক সন্দেহটা আরও একটু পোক্ত হলো।
রিকশার জন্য কিছুটা দূর হেঁটে সেগুনবাগিচার মোড়ে আসলাম। হাকিম সাহেব রিকশা দরদাম করতে শুরু করলেন। আমি এদিক সেদিক তাকালাম। সিগারেটের নেশা চেপেছে। একটু দূরেই ফেরি করে সিগারেট বিক্রি করছিল এক ছেলে। হাতের ইশারায় ডাকলাম। একটা গোল্ডলীফ ধরাতে যাব, হাকিম সাহেব ডাক দিলেন, "অরূপ, আসেন।" আমি আসছি বলে পিচ্চিকে বললাম দুটা গোল্ডলীফ দিতে। হাকিম সাহেব এগিয়ে এলেন, "কিসব ছাইপাঁশ যে খান না! আরে খাইলে খাবেন বেনসন। এইসব খাইয়া শরীর নষ্ট করার মানে আছে? ঐ পিচ্চি। এক প্যাকেট বেনসন দে।" আমি কিছুটা চমকিত হলাম। বেনসন...তাও আবার পুরো প্যাকেট! এই প্রথম হাকিম সাহেবের সাথে আসাটা খুব লস হয়েছে বলে মনে হলো না। প্যাকেট হাতে নিয়ে আমি রিকশায় উঠলাম। হাকিম সাহেবও ভাংতি বুঝে নিয়ে রিকশায় উঠলেন। সিগারেট একটা ধরাতেই মনটা বেশ ফুরেফুরে হয়ে গেল। উনাকেও একটা সাধলাম। জিভ কেটে হাসতে হাসতে মাথা নাড়লেন! "সেই কবে ছেড়েছি আর ধরছি না... আপনার ভাবি আবার এইটা নিয়া হাউকাউ লাগায় দেয়।" আমার ভেতর কিছুটা কৃতজ্ঞ ভাব কাজ করছিল, এক প্যাকেট বেনসন এর বিনিময়ে হাকিম সাহেবের ঘ্যানঘ্যানও বেশ মধুর লাগতে লাগলো। শালী বিষয়ক কুৎসিত চিন্তাটাও কিছুক্ষণের জন্য ঝেড়ে ফেললাম। যা হয় হবে, পরে দেখা যাবে নে। একেবারেই কিছু না বললে কেমন দেখা যায় ভেবে আমিই কথা শুরু করলাম,"দুপুরে দেখলাম বেশ গম্ভীর। কাহিনীটা কি? আজকেও ভাবীর সাথে ঝগড়া হয়েছিল নাকি?" ভুরু কুঁচকে মনে করার চেষ্টা করলেন কিছুক্ষণ, তারপর হো হো করে হেসে দিলেন, "আরে নাহ...বউয়ের সাথে ঝগড়া করে মুখ কালা করে বসে থাকবো আমি! ওইরকম ম্যানম্যানে পুরুষ আমি না রে ভাই! মেজাজটা আরেক কারণে খারাপ ছিল।" আমি কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলাম। উনি খুব গোপন কথা ফাঁস করছেন এমন ভঙ্গিতে বললেন, "বুঝলেন, সকাল থেকে ক্যাশ নিতাছি। দুপুরের দিকে ক্যাশ মিলাইয়া জমা দিতে যাব। এইসময় বড় সাহেবের এপিএস বান্ডিল থেইকা বাইর করলো তিনটা নোট জাল। বলেন মেজাজটা কেমন লাগে! সারা দিন এতো নোট হ্যান্ডেল করি, কোন ফাঁকে তিনটা জাল আইসা পড়ছে। এপিএস হারামজাদা রসাইয়া রসাইয়া বলে, হাকিম সাব, কালকে পর্যন্ত আমি বড় সাহেবরে বুঝ দিয়া রাখবো, যেমনেই পারেন এই দেড় হাজার টাকা ভইরা দিয়েন। নাইলে কিন্তু সমস্যা হবে। আমার তো মাথা আউলা, কেমনে কি করি! লেনদেনের টাইম শেষ। আমার ঘরের অবস্থা তো জানেনই, মাসের শেষ... দেড় হাজার টাকা ভইরা দিতে হবে, কেমনে কি করি!" আমার একটু খারাপই লাগতে লাগলো। বেচারা... এতো কিছুর পরেও হাসিমুখে দাওয়াত করে খাওয়াচ্ছে। জিজ্ঞেস করলাম," তারপর? এখন কি করবেন?" উনি ফিচকে হাসি দিয়ে বললেন, "কি করব মানে! নোট তো চালায় দিছি।" আমি অবাক হয়ে গেলাম! দুপুরের পরে আমার পাশেই বসে হিসাব মিলালেন, লেনদেনও শেষ। চালালো কোথায় ব্যাটা? "অডিটের বিমল বাবু আসছিল না? উনার কাছ থেকে হিসাব মিলানোর কথা বইলা এক হাজার টাকা ভাঙ্গায় নিছি," বলেই একটা চোখ টিপি দিলেন। আমি উনার ধূর্ততায় অবাক হলাম না। রিকশা আমতলা এসে পড়েছে। আমি মনে মনে ভাবছিলাম বাকি একটা নোট চালালো কোথায়? হাকিম সাহেবও যেন মনের কথা বুঝতে পারলেন, ভাড়া চুকাতে চুকাতে বললেন, "বাকি নোটটা তো আপনার সামনেই চালালাম, টের পান নাই?" আমি দ্রুত মনে করার চেষ্টা করলাম, আমাকেই আবার গছায়া দেয় নাই তো! নাহ, আজকে কোনো টাকা নেই নাই উনার কাছ থেকে। "আরে মিয়া আপনি দেখি কিছুই খেয়াল করেন না...ঐ যে পিচ্চির কাছ থেকে বেনসনের প্যাকেট নিলাম না! পুরা প্যাকেট না নিলে ভাংতি দিত নাকি শালায়?" বলেই খ্যাকখ্যাক করে হাসতে লাগলেন। আমি একমুহূর্তের জন্য থমকে গেলাম! খুব করে পিচ্চিটার চেহারা মনে করতে চেষ্টা করলাম। বয়স কি দশ পেরুবে? মনে হয় না! এই ছেলে ৫০০ টাকার নোটটা চালাবে কিভাবে?! আমি একটু আহত স্বরে বললাম, "এটা কি করলেন!" "কি করলেন মানে! আপনি আমারে বলেন আমি দেড় হাজার টাকা কই থেকে দিব? আমি তো জাল টাকাটা বানাই নাই। বলেন, আমি বানাইছি? এইটা জাস্ট ফ্লো। আমারে বোকাচোদা পাইইয়া কোনো শালার পুত ধরায় দিছে, আমিও আরেকজনরে ধরায় দিলাম। এমনে কইরাই তো চলতে থাকবে। ওই ছ্যামড়াও কারো না কারো কাছে দিয়া দিবে।" আমার মনটা একটু খারাপ হলো, যুক্তি ঠিক আছে। কিন্তু তারপরেও একটু খুঁতখুঁত মনে রয়েই গেল, "এতোটুকু ছেলে, পারবে চালাতে এই নোট?" উড়িয়ে দেয়ার ভঙ্গিতে হাত নাচিয়ে হাকিম সাহেব বললেন, " আরে মিয়া, আপনি চিনেন না। এগুলা বাইত্যা ইন্দুরের মতো।আপনারে দশবার বেইচা দশবার কিনতে পারবে। আপনি টেনশন কইরেন না তো ! " আমার মনটাকে এক অদ্ভূত অপরাধবোধ ঘিরে ধরলো, কিছুটা উদ্বেগও। ওইটুক বয়সী ছোট্ট এক সিগারেটওয়ালা...দিন শেষে কতোই লাভ থাকে? ১০০? ২০০? ৫০০ টাকার একটা জালনোট, বেচারার হয়তো আজ রাতে খাওয়াটাও হবে না...আর আমি লতি দিয়ে ইলিশ মাছ রসিয়ে রসিয়ে খাচ্ছি! "ওকি ভাই! নিচ্ছেন না যে...লতি আরেকটু নেন। তরকারি ভালো হয় নাই?" হাকিম সাহেবের স্ত্রীর কন্ঠ, আমি হ্যাঁ-না কিছুই বললাম না। চুপচাপ খেয়ে গেলাম। হাকিম সাহেবের ঘ্যানঘ্যান আর কানে ঢুকলো না, উনার শালীর লাজুক দৃষ্টিও নজরে পড়লো না। কি এক অদ্ভূত ঘোরে বেরিয়ে এলাম রাস্তায়।
সেরাতে আরেকবার সেগুনবাগিচা যাবার সাহস হলো না আমার। পরদিন অফিস শেষে অনেক সাহস করে বেরিয়ে পড়লাম। সেগুনবাগিচার মোড়ের থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে খুঁজতে লাগলাম ক্ষুদে সিগারেটওয়ালাকে। ভেবেছিলাম চোখে পড়বে না, তবে গুলিস্তানের দিকের রাস্তাটায় সিগনাল পড়তেই চোখে পড়লো ছেলেটাকে। না পড়লেই হয়তো ভাল হতো। হাতে সেই কালকের কাঠের বাক্স, তাতে লাল-নীল-সোনালিরঙা রকমারি সিগারেট প্যাকেট। চোখে কালসিটে, ডান চোখটা প্রায় বুজে আছে... আর ঠোঁটের কোণায় শুকিয়ে যাওয়া রক্তের দাগ। এ নিয়ে তার নিষ্পাপ মুখটায় কোনো ক্ষোভ নেই, অভিযোগ নেই। জ্যামে আটকে পড়া গাড়ির ফাঁকে ছুটে বেড়াচ্ছে সেই আগের মতো চিৎকার করতে করতে, "সিগারেট, সিগারেট!" আমি আরেকবার পালিয়ে গেলাম।





চমৎকার লেখনি... এক টানে শেষ ...
শুকরিয়া জনাব
দারুন লেখনী...
টুটুল্ভাইয়ের মতোন বললাম "শুকরিয়া জনাব
"
ভাইয়া তানিম, আমি বোধহয় তোমার সব লেখাই পড়েছি। আমার ধারণা এখন পর্যন্ত তোমার লেখা সেরা গল্প এটা। তুমি ক্রমাগত নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে থাকবে, এই আশা রাখি। প্রচুর পড়ো, আর নিয়মিত লেখো- অনুরোধ রইলো।
আপু আপনার মন্তব্যটা পড়ার পরে আরেকবার নিজের লেখা পড়লাম। তাও নিজের সেরা মনে হইলো না
আমার এখনো ধারণা আমার অবাক হওয়ার বাকি আমার সেরা লেখা
"আমার অবাক হওয়া বাকি" অবশ্যই একটা চমৎকার লেখা (স্বপ্নবাজ, স্বর্গ ওগুলোও আমার খুব প্রিয়)। কিন্তু ওটা কি গল্প হিসেবে লিখেছো তুমি? আমার মনে হয়নি।
গল্পের মধ্যে "গল্প"টা কী, সেটার একটা আকর্ষণ থাকেই। সেই "গল্প" যদি চেনাজানা ছকে পড়েও যায়, তারপরও বিশেষ কোন বৈশিষ্ট্য থাকলে সেটা পাঠকের চোখ এড়ায় না। এই গল্পটাতে ঘটনাক্রমগুলো সাবলীলভাবে এসেছে। একটা চরিত্রের বয়ানে অন্য চরিত্রগুলো, পারিপার্শ্বিকতা নিয়ে তার পর্যবেক্ষণগুলো- ঠিক যতোটা গুরুত্ব পাবার কথা, ততটুকুই পেয়েছে, একটার সঙ্গে আরেকটা মসৃণভাবে মিশেছে। আছে কিছু যুতসই বর্ণনা। পরিমিতি আর সাবলীলতার গুণে চেনাজানা ফরম্যাট সত্ত্বেও গল্পটা চমৎকার হয়েছে। তোমার অন্য গল্পগুলোর চেয়ে এসব দিক থেকে "সিগারেট"কে আমি এগিয়েই রাখবো।
এতোগুলা দিক অবশ্য ভেবে দেখিনি... তবে এই গল্পে প্রথমবারের মতো আমি কিছুটা ডিসট্রাকশন তৈরি করার চেষ্টা করেছি।
চেষ্টা অবশ্যই সফল হয়েছে।
অ. ট. ওই লেখাগুলো (মুক্তগদ্য টার্মটা খুব চলছে আজকাল) দিয়ে দাওনা এখানে। আর ছবিসহ ভ্রমণ্থনগুলোও।
শাব্বাশ....পৈড়া মজা পাইলাম....ভালো লাগছে.......(থীম টা একটু পুরানা লাগছে, এই আরকি...)
হুমম, থীমটা পুরানাই
হ এই অচল টাকা চালানির থিমে জাফর ইকবালের একটা নাটক দেখছিলাম ম্যালা আগে
খালি আমিই দেখি নাই
আমার টিভি দেখা হয় না
নাম ভুলে গেসি নইলে আপনারে দেখতে সাজেস্ট করতাম; হুমায়ূন ফরিদী জটিল অভিনয় করসে; এক কোটিপতিরে কেউ একজন জাল ৫০০ টাকার নোট দেয় ; সে খুবি আপসেট হয় টাকাটা ব্যাপার না কিন্তু তারে একজন জাল নোট গছাইছে এইটা সে মাইনা নিতে পারে না তারপর সে বিভিন্নজনেরে সেই জালনোট গছানোর চেষ্টা কইরা অবেশেষে কিভাবে এক রিক্সাওয়ালারে গছায় সেই কাহিনী; সাথে আরো কিছু বোনাস কাহিনী আছে
দারুণ!!! যদিও মন খারাপ করা গল্প।
কিপ ইট আপ!
সত্যি দারুন।
কিন্তু শেষটা আমার পছন্দ হৈ নাই।
জাল নোটের লাইগ্যা ওই বিচ্ছুরা মাইর খাবার মত মোটেও না।
গল্পটা সত্য ঘটনার ছায়া অবলম্বনে
চমৎকার লেখনি...
গল্প ভালো লাগলো ভাঙা
ধইন্যা
মন ছুঁয়ে দেয়া লেখা। অপূর্ব।
লেখা ভাল্লাগছে...
ধন্যবাদ
আপনার লেখার স্টাইলটা দারুণ, একটানে শেষ করে ফেললাম। ভাল লাগলো।
অনেক ধন্যবাদ শেষ করার জন্য
পাঠকমনে ছোট্ট একটা জিজ্ঞাস্য - গল্পের নাম সিগারেট কেন? সিগারেট তো প্রধান না ...
গল্পটা বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লেখা। আর সে ঘটনাটা সিগারেট কেনা নিয়ে। গল্প হিসাবে সিগারেট নামকরণের হয়তো সার্থকতা নেই, লেখাটাকে atonement বলা যায়। কাপুরুষের স্বস্তি।
ভাঙ্গা যত সরলভাবেই বলুক না কেন, আমার মনে হয়েছে অন্তর্দহনের বিষয়টা তুলে ধরতে এই শিরোনামটা যথাযথ।
এত বড় একটা লেখা, এত ঝরঝরে! বিষয়বস্তু নিয়ে কিছু বললাম না, আমি গদ্যে মুগ্ধ হলাম।
বিষয়বস্তু নিয়েও বলেন, ক্ষতি কি!
লেখার স্টাইলটা চমৎকার। সাবজেক্টটা নিয়া কেউ একজন আগে লিখছে তাতে কি! দেশে জাল টাকা বেশি বইলা এর ঘটনা বেশি হউনই স্বাভাবিক
বস, কমন জিনিস নিয়া লেখার একটা দুর্নাম আমার সবসময় আছে
আনকমন অনেক লেখা আধাহাত আগাইয়া শেষে আমার খাতার পাতায় হারায় গেছে। সেগুলারে কোনোভাবেই সাইজ করতে পারি নাই।
তোমার লেখা কম পড়ি। কমেন্ট করি আরো কম। কিন্তু তুমি যে খুব ভালো লেখ এটা স্বীকার করি বারবার।
ঘটনা পুরানো হলে-ও বর্ণনা ও প্রকাশ-কাঠামো মুগ্ধ করল।
আপনাকে মুগ্ধ করতে পেরে ভাল লাগছে
মন্তব্য করুন