ইউজার লগইন

শাপলা'এর ব্লগ

চন্দ্রালোকের ছায়া-৩

kintai-bridge-yamaguchi-prefecture-japan.jpg


নদীর উপরে চওড়া সাদা ব্রীজটা আমাদের শহরটাকে যেন মেপে মেপে দুভাগে ভাগ করেছে। নদীর কাছে পৌঁছতে আমার মিনিট বিশেক লাগে। আমি জায়গাটা প্রচন্ড ভালোবাসতাম। কারণ হিতোশি থাকতো নদীর ঐ পারে, আর আমাদের এখানেই দেখা হত।হিতোশি মারা যাবার পরও তাই, জায়গাটাকে আমি এখনও অনেক ভালোবাসি।

চন্দ্রালোকের ছায়া-২

SadCryingAnimeGirl[1].jpg


আমার মতে, একজন প্রেমিকের পাওয়া উচিত দীর্ঘজীবন। আমি যখন হিতোশিকে হারালাম, তখন আমি ২০। ওকে হারিয়ে এতটা কষ্ট পাব, কখনই বুঝতে পারিনি। আমার মনে হচ্ছিল, যেন ওর জীবন নয়, থেমে গেছে আমার জীবন।
যে রাতে হিতোশি মারা গেল, মনে হল এ মৃত্যু যেন আমার। আমি নিজেকে হারিয়ে ফেল্লাম। যেন আমার প্রাণ পাখিটা উড়ে গেল শূন্যে চিরতরে।
দিনগুলো কাটছিল, যেন আমি মরে বেঁচে আছি। সব কিছু ছিল বিষন্ন আর অর্থহীন।

চন্দ্রালোকের ছায়া- ১ (ব্যানানা ইয়োশিমোতো)

Eureka7_movie[1].png

হিতোশি যখন যেখানেই যাক না কেন, আমার দেওয়া ছোট্ট ঘন্টাটা সব সময়ই ওর কাছেই থাকতো মানে ওর ওয়ালেটেই রাখা থকত । এই ছোট্ট তুচ্ছ জিনিষটা আমি ওকে দিয়েছিলাম, আমাদের সম্পর্কটা হবার আগে।
ছোট্ট ঘন্টাটা শেষ পর্যন্ত হিতোশির সঙ্গে থাকবে, এটাই যেন ওর নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

আমরা দুজন এক ক্লাসে পড়লেও, আমাদের সেকশন ছিল আলাদ.। আমাদের দেখা বা কথাবার্তা হত খুব কম।
আমি প্রথম ওকে ভালো করে দেখি, আমাদের "শিক্ষাসফর পরিচালনা" কমিটিতে। ঐ কমিটিতে অনেকের সাথে আমরা দুজন এক সঙ্গে কাজ করেছিলাম। এছাড়া আমাদের কখনই বিশেষ কথা এবং দেখা হয়নি।

আমার আধুনিক ভাষা শিক্ষা

আজকাল আমার পদ্য লিখতে মঞ্চায়(মন চায়)। অনেক ভেবে চিন্তে কাল একটা পদ্যের দু লাইন লিখে ফেলেছি।
"আমি বুড়ো হচ্ছি এ যুগে, আমার অবস্থা টোয়েন্টি টাইট
আমি বয়স্ক শিক্ষা স্কুলে ভর্তি হইতাম চাই।"
আজকাল বড্ড বেকায়দার মধ্যে আছি। চারিদিকে সব সংক্ষিপ্ত। কিছুই বুঝিনা। বন্ধু 'ক' 'খ' এর সঙ্গে কি সব ভাষায় কথা বলে, প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকালেই,সংক্ষিপ্ত জবাব- WZF. (উই আর যাষ্ট ফ্রেন্ড)। 'গ' আর 'ঘ' রা বলে, ব্যাটা লুল আর ব্র্যাকেটে বসায় (LOL)। আমার এন্টেনার উপর দিয়া যায়।

যে মৃত্যু ভালোবাসাহীনতায়

যে প্রেমিক বলে ঈশ্বর আমাকে ঘুম দাও, অনন্ত ঘুম। সে হয়তো বিশ্বাস করে--একমাত্র মৃত্যুই তার সব দুঃখ ঘোচাতে পারে। আসলে কি তাই? মৃত্যু কি আর শেষ করতে পারে একটা সম্পর্ককে? মৃত্যু তো আরেকটা জীবনের শুরু মাত্র। জীবনে যখন ভালোবাসার মৃত্যু ঘটে, তখন ভালোবাসাহীনতার মৃত্যু একটা নরকের সূচনা করেনা কি? ভালোবাসাহীনতা এমনই এক মৃত্যু-- একবার যে মরে, তার সাথে সহমরনে যায় পৃথিবীর তাবৎ সৌন্দর্য। " এক জীবনের সুখস্মৃতি, গল্প-গান, সাজানো বাগান। স্বপ্নেরা ততদিনে হয়ে যায় মৃত পাখি"।
প্রতিদিন এমনি করে কত প্রেমিক যে মরে! যখন সে একটা সম্পর্কের অনুষঙ্গে থাকে, তখন তার একটা নাম থাকে, পরিচয় থাকে-- যে জীবন ভালোবাসাহীন, তার কোন নাম থাকে না। থাকে না কোন বর্ণ- গন্ধ। নিজের মৃতদেহ নিজেকেই বয়ে নিয়ে বেড়াতে হয় দীর্ঘকাল।

জোনাকি ও জোনাকি

সে রীতিমত একটা দস্যুই বটে! এক মিনিটও চুপ থাকে না। কথা বলে কম, কাজ করে অনেক বেশী। ছোট্ট ছোট্ট দুটো হাত খুব সচল। ছোট্ট মাথাটায় বেজায় সব বুদ্ধি সারাক্ষণ আপডেট হচ্ছে, প্রতিটাই নতুন। ঝাঁ চকচকে। একটার সাথে আগেরটার কোন মিলই নেই।
কাল চেয়ার টেনে উঠে, অনেক উঁচু থেকে ওর মায়ের ফেইস ওয়াশ নামিয়ে; অর্দ্ধেকটা খেল, তারপর অসাধারণ ভঙ্গিতে দু আঙ্গুলে ওটা ঝুলাতে ঝুলাতে এনে আমাকে বল্লো, বাবা খাবে?
ওর মায়ের ধারণা চার বছর বয়স মানে, অনেক বড়। এই বয়সে নাকি মুনিয়া ওর দুবছরের বড় বোনের সাথে অলরেডী শেয়ার করতে শিখে গেছে। টুটলুকে সামলাতে মুনিয়ার চোখে মুখে একটু দুঃখী দুঃখী ভাব চলে এসেছে।
মা'র সব কাজ লন্ডভন্ড করাই টুটলুর সবচাইতে প্রিয় কাজ। ছুটির দিন বাসায় থাকলে--"আমার বাড়িটাকে ঢাকার ব্যস্ত রাজপথ মনে হয়। মা ছেলের চিৎকার হট্টোগোলে বাসায় টেকা দায়!"
আমার সকালের প্রিয় ছুটিঘুম বাদ পড়েছে আজ দীর্ঘকাল হল।

কি করে তার কাছে যাই?

বুকের গহীনে ঝরণা তলায়
কে যেন গায় কাঁচ ভাঙ্গা গান
তার কাঁখের কলসের ঠম ঠম ঠুমরিতে
উড়ে উড়ে যায় অন্ধকারের চাঁদে ভেজা
ঘুম ঘুম মেঘ।

আমি ইট তোলা দেওয়ালের ভাঙ্গাচোড়া
নকশায় সে গানের সুর খুলে খুলে
দুঃখ ফুলে পথ সাজাই-
সে যদি আসে।
উদাসী শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে
গাঢ় উষ্ণতা জমিয়ে রাখি
সে যদি জল নিয়ে ফেরে,
আমি তার গাঢ় অপেক্ষায় থাকি।
আমি ফিনিক্স পাখির মত বেঁচে থাকি
নিয়তি কি বদলানো যায়?
শূন্যে তড়িৎ পাখা মৃদু কান্নায় বেদনা ছড়ায়।
আমি অন্ধকারের ফোঁকড় গলে টেনে নেই ম্লান জোৎস্নার অলস ঘ্রাণ
মাঝ রাতে আমার চোখের ভেতর
ডানা ঝাপটায় থোকা থোকা শূন্যতা ।
সে কি ভুলে গেছে?
আমার দিন যায় রাত্রি যায়
আমি অরুন্ধুতি তারার বুকের ওমে
অপেক্ষা করি
এই পথে সে গিয়েছে কি?
তার অস্তিত্ব থেকে
খুঁজে নেই বেঁচে থাকার একবিন্দু নাকছাবি।
গান তার বড় প্রিয়।
হাতে আমার বিরহী বাঁশি
সে বাঁশির নৈশব্দকে
হরণ করে