আবোল তাবোল -৩
[ডিসক্লেইমার:
আরেকটা হাবিজাবি টাইপ পোষ্ট। ঘুম ঘুম চোখে; ক্লান্ত মস্তিস্কের হাবিজাবি চিন্তার এলোমেলো উপস্হাপন।]
#বিষয়: ভ্রমন, ঘুরাঘুরি ও অন্যান্য হাবিজাবি।
আমি দুঃখবিলাসি মানুষ। খুব ইচ্ছে করে হারিয়ে যেতে। বাঊন্ডুলের মতন। যখন ইচ্ছা, যেভাবে ইচ্ছা।
পারি না। তাই, বিষণ্ণ লাগে। রয়ে যাই, যে কে সেই। বিষণ্ণ বাউন্ডুলে।
অনেক দিন কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয়না। কোথাও যেতে নিলেই আম্মুর খালি টেনশন। হয় এক্সিডেন্ট হবে আর নয়তো মরে টরে যাব। একটা কিছু হবেই!
কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ,ডুলাহাজরা,হিমছড়ি আরো কত কী জায়গা ভাইয়া ঘুরে এসেছে বন্ধুদের সাথে। তখন কিছু না, আমার বেলাতেই যত আপত্তি।
এত্ত বড় হইয়া গেলাম, এখনো কক্সবাজার-ই দেখা হইল না!
আর বন্ধুগুলাও জানি সব কেমন কেমন! প্ল্যান ট্যান সব ঠিক-ই হয়, কিন্তু শেষে এসে সব হুট্ করে ভন্ডুল।
সমূদ্রে গিয়েছি অবশ্য দুইবার, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায়।
প্রথম বার যখন গেলাম,
বিচে নেমেই সোজা সাগরে।
খালি পায়ে..পায়ের পাতা ভিজিয়ে ছবি তুলছি সূর্যাস্তের।
হঠাত দেখি পানি হাঁটু ছুঁই ছুঁই! আশেপাশে কোথাও কেউ নেই!
ঘড়িতে দেখি, সময় চলে গেছে প্রায় ঘন্টাখানেক! কী অদ্ভুত অপূর্ব মোহ!
একবার মাধবকুন্ড গেলাম আব্বু আম্মুর সাথে, ওদের যন্ত্রনায় পাহাড়টাতেই উঠতে পারলাম না।
কি যে অদ্ভুত সব চিন্তাভাবনা, আমার মত বান্দর নাকী পাহাড় বাইতে গিয়ে পড়ে যাবে!
সেই আফসোস অবশ্য মিটে গেছে ভাইয়া'র সাথে জাফলং এর পাহাড়ে ঘুরে। ইন্ডিয়ার বর্ডার পার হয়ে পাহাড়চুড়া থেকে দেখা নীল আর সবুজের মাখামাখি ল্যান্ডস্কেপ। এক কথায় অসাধারন।
একটা যায়গায় অবশ্য যেতেই হবে। বান্দরবানের নীলগিরি।
পাহাড়চূড়ায় বাংলো।
ভোরের ঘুম ভাঙতেই সূর্যোদয় দেখতে ঘরের বাইরে এলেই
পায়ের নিচে ভেসে যাওয়া আশ্চর্য মেঘদল।
হাত বাড়ালেই ছুঁয়ে যাবে আজন্ম ভালবাসা মেঘ,
চোখের পাতায় চুম খেয়ে যাবে সত্যি স্বপন!
ইদানিং আরেকটা যায়গার খোঁজ পেয়েছি। এটা সিলেটে। আজব নাম, বিছানাকান্দি!
অনেকটা
পিচঢালা কালো রাস্তার মতন,
দুপাশে সবুজ গাছ আর উপরে নীলাকাশ।
শুধু
রাস্তার জায়গায় আঁকাবাঁকা কোন এক নদী,
সবুজ গাছের জায়গায় স্তরে স্তরে
হালকা নীল থেকে নীল হয়ে আঁধার পাহাড়ের দল
আর পুরোটা আকাশ জুড়ে হাজারো রকম মেঘের ঘরবসতি।
বাকি টুকু নিজেই কল্পনা করে নিন!
এখনো পর্যন্ত আমি বোধহয় সবচেয়ে বেশি বার ঘুরতে গিয়েছি সিলেটেই। এই সিলেট শহর থেকে জাফলঙের পথে বাসে ঘন্টা দেড়েক গেলেই সারিঘাট। সেখানে নেমে কাকচক্ষু স্বচ্ছ বরফ শীতল জলের সারি নদীতে নৌকায় ঘন্টাখানেক গেলেই..
সোনারং বালুকাবেলা,দু’ধারে সবুজ পাহাড় আর ছিমছাম চা বাগানের কোল ঘেঁষে..আকাশের সাথে সন্ধি করে অপরূপ নীল পানির লালাখাল। পৃথিবী-তে আমার দেখা সবচাইতে সুন্দর যায়গা। এক কথায় বললে, হ্যাভেন অন আর্থ!
এসব লিখতে লিখতে মনে পরে যায়,
চলার পথে টুকরো টুকরো যত প্রিয় ক্ষণ..
ঢাকা-সিলেট-ঢাকা প্রায় ১৩ ঘণ্টা টানা ট্রেন ভ্রমন, চট্টগ্রামে শাটল ট্রেনে দুর্দান্ত কিছু মুহূর্ত।
অথবা রাজশাহী ভার্সিটিতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে যাবার সময় মাথায় আসা প্রশ্ন, একটা ট্রেন তার যাত্রাপথে প্রায় দেড় ঘণ্টা লেইট করার পরও কিভাবে নির্ধারিত সময়ের মিনিট পাঁচেক আগেই গন্তব্যে পৌঁছে যায়!
অথবা ভার্সিটির পাশেই রেললাইন ধরে হেটে যেতে যেতে, ক্ষেত থেকে ভেঙে নিয়ে খাওয়া আঁখ। কিংবা কাকডাকা ভোরে তীব্র শীতে কাঁপতে কাঁপতে খাওয়া গাছ থেকে সদ্য পাড়া টাটকা গরম খেজুর রস!
রিকশায় ভৈরব থেকে কিশোরগঞ্জ ৫/৬ ঘণ্টার পথ, একটু পর পর রিকশা থামিয়ে রাস্তার পাশের হরেক স্বাদের চা।
আবার ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জ আসার পথে, রিকশায় ঘন্টাখানেকের ঘুম!
আর কী বলব..
ঢাকায় কলেজ জীবনে চরম অপছন্দের ৬ নাম্বার বাসও মাঝে মাঝে মন ভাল করে দেয়। রাস্তায় নামা তার প্রথম ট্রিপ।কমলাপুর থেকে উদ্বোধন। চকচকে ঝকঝকে বাসের তরতাজা নতুন ফ্যানের নিচে বসে, বাসের স্টেরিও-তে মান্না-কিশোর-হেমন্তের গলায় অসাধারণ কিছু গান শুনতে শুনতেই ফার্মগেট।দেড় ঘণ্টা এত তাড়াতাড়ি কিভাবে চলে গেল, এটাই ভাবছিলাম তখন মনে মনে। নামতে ইচ্ছা হয়না, তবু-ও নামতেই হয়।
পথ। সে কিন্তু কিছুতেই থামেনা, চলতেই থাকে।
মনে করিয়ে দেয় বারে বারে,
..অন্তবিহীন পথ চলাই জীবন।।
ভাল থাকুন সবাই।অনেক ভাল।সবসময়।
পথ চলা হোক আনন্দময়।। 





বললে নিজের ঢোল পেটানো হয়- কিন্তু বাংলাদেশে খুব কম মানুষই আছেন যারা ৬৪টি জেলাতেই গিয়েছেন। আমি সেই ভাগ্যবান মানুষদের একজন। যদিও বর্তমানে সেই সুযোগটা অনেক কমে গেছে। সেই ভাগ্যবান দিনগুলো আর নেই।
*
নীলগিরি গেলে আওয়াজ দিবেন।
আসলেই ভাই আপনে অনেক ভাগ্যবান..
ভ্রমণ করা মন্দ নয়, তবে আটোসাঁটো শিডিউল নিয়ে বেড়াতে যাই বলে ভ্রমণ প্রায় সময়ই রুটিনওয়ার্ক মনে হয়, আনন্দ পাই না।
কী জানি!
আমি তো ২ দিনের জন্যেও কোথাও গেলে সব প্ল্যান করে রাখি,
ক্যামনে কী করব। সময় তো দেখি ভালই যায়!
এইসব হাবিজাবি কি সব লিখেছেন?


ঈদের দিন মনটাই খারাপ করে দিলেন।
দারুন লাগলো আপনার লেখা।তবে এর পরে ছবি দিয়েন।না হলে মাইর খাবেন।
মনে রাখার চেষ্টা থাইকবে!
লীনা আপা'র কথাটা ঠিক । আটোসাঁটো শিডিউলের কারনে বেড়ানো'টা এখন আর উপভোগ্য হয়না
আমার বেড়াতে খুব ভাল লাগে। যদিও বেড়ানোর খুব বেশী সুযোগ কখনোই পাইনা। তবে বেড়াতে গেলে প্রত্যেকটা জিনিস উপভোগ করি।

কমেন্টটা আমার বইলা চালাই দেওয়া যায়!!
বেড়ানো সুখি মানুষদের ব্যাপার। আর মানুষের সুখ দেখলেও ছওয়াব হয়
ভাল কথা কইসেন তো আপু..
বড়(!) হইয়া একটা ট্রাবল/ট্রাভেল কোম্পানি খুইলা ফেলুম কি না ভাবতেসি!!
মন্তব্য করুন