শারদীয় 'দেশ' ১৪১৮-কিছু কথা:অন্তরাল ও অন্যান্য
[ডিসক্লেইমার:
আমার বই পড়তে খুব ভাল লাগে।হোক গল্প বা উপন্যাস। নতুন বা পুরানো। বই হলেই হয়। মাঝে মাঝেই ভাবি একেকটা বই পড়ে তা নিয়ে আমার ভাবনা টা সবাইকে জানিয়ে দিই। সাহস পাইনা। ভাবি, আমি কে যে এত্ত ভাল বই নিয়ে কিছু বলব! লীনা আপার অসাধারণ গ্রন্থালোচনা আরো দমিয়ে দেয়। এত ভাল ভাবে গুছিয়ে লেখা,বুঝিয়ে লেখা অসম্ভব! আবার,এগুলি পড়তে পড়তে একটু একটু সাহস পাই। মনে হয়, নিজের কাছে নিজেকে কোন কিছুতেই তুচ্ছ ভাবার কোন মানে হয়না। যা ই লিখি, যতটুকই লিখি -চেষ্টা করতে ক্ষতি কি? তাই এই লেখা। বোদ্ধার দৃষ্টি নয়, নিতান্তই এক পাঠকের চোখে দেখা কিছু লেখা নিয়ে কথকতা।]
বেশ কয়েকদিন হ্ল, মাথায় কোন লেখা আসেনা। প্রত্যেকদিন ভাবি আজ একটা কিছু লিখব,কিছুতেই কিছু হয়না। তাই ভাবলাম আর সবাই যা লিখছে, তা নিয়েই বরং লিখি একটা কিছু।
প্রথমে ভাবছিলাম 'আনন্দমেলা' নিয়ে লিখব, খুলে দেখি শীর্ষেন্দু ছাড়া বলার মত কিছুই নেই। মতি নন্দী আর দুলেন্দ্র ভৌমিক কি লেখালেখি ছেড়েই দিল?!
শেষে শারদীয় দেশ নিয়ে বসলাম ভরদুপুরে।
পাতা উলটাতে উলটাতে একটা উপন্যাসে আটকে গেলাম। একটানে পড়ে শেষ করে উঠলাম। কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় এর 'অন্তরাল'। চেনা লেখকদের লেখনীর বাইরে নতুন একটা ভাল লাগা। মুহূর্তের অসতর্কতায় হাজারো জটিলতা। রাজনীতির কাছে হেরে যাওয়া পিতৃস্নেহ। অভ্যাসের সমঝোতায় নিস্তরঙ্গ মধ্যবিত্ত সংসার। অথবা, প্যাশনের নাট্যকারের জীবনে কাফকার মেটামরফসিস। আর সব ছাপিয়ে, এক কুমারী মেয়ের অন্তঃস্বত্বা থেকে মাতৃত্বের উপলদ্ধিতে জননীতে রূপান্তরের গল্প।
একটা পড়ে লোভ বেড়ে গেল। ভাবলাম, আজ 'দেশ' এর সাথেই কাটিয়ে দিব সারাদিন।
দুপুরে খেয়ে পড়লাম তমাল বন্দ্যোপাধ্যায় এর 'মায়াকাচ'। শুরুটাই একটু কেমন জানি। বাকিটাও টানেনি আর খুব একটা।
তার পর ধরলাম স্মরণজিত চক্রবর্তীর 'ফিঙে'। শুরুতেই কাহিনী অনুমান করতে পারলে পড়ার মজাটাই কমে যায়। ভুল বোঝাবুঝি, অনুতাপ বা ভালবাসার গল্প। সাথে কিছু চেনা অচেনা অনুভুতি। শেষ পর্যন্ত ধরে রাখলো বেশ। সাধারন একেকটা কাহিনী কখনো কখনো লেখার গুনে অসাধারণ হয়ে যায়।
বিকেলটা গেল এসবের ছুঁয়ে যাওয়া অনুভুতির স্পর্শে।
সন্ধ্যার পর ধরলাম সমরেশ। 'মুদ্রাভঙ্গ'। গতানুগতিক ধারার একটু বাইরে। পরকাল নিয়ে লেখকের চিন্তাধারা বেশ ভাল লাগল, যদি-ও কিছুটা অস্পষ্ট মনে হ্ল তা।
সবার শেষে পড়লাম। শীর্ষেন্দু'র 'ভুল করার পর'। সহজ, সরল, সুন্দর। যতটা না পড়ার, তারচাইতে বেশি অনুভুতির এক আখ্যান। বরাবরের মতই, রেশ রয়ে যায় অনেকটা সময়।
এটা পড়ে কেন জানি,কিছুদিন আগে পড়া অসাধারণ একটা ছোটগল্প মনে পড়ে গেল। রমানাথ রায়ের 'সুখ'। কিছু কিছু লেখা একদম মনের গভীরতম স্থানটা পর্যন্ত ছুঁয়ে দিয়ে যায়।
রাতে খাওয়ার পর বাকি যা কিছু ছিল,পড়লাম।
গল্প বলা যায় সবগুলিই বেশ ভাল। আলাদা করে বললে বলব প্রচেত গুপ্তের 'মানিব্যাগ'র কথা।
কবিতা আমি ভাল বুঝিনা।
তাও ভাল লেগেছে;
সুনীলের 'পাখির চোখে দেখা ৮',
টুকরো টুকরো অসাধারণ কিছু লাইন।
শঙ্খ ঘোষের 'আমি' আর
বিকাশ গায়েনের 'খোকাবাবু সমগ্র'।
আরো আছে ঠাকুরবাড়ি আর রবি বুড়োর অপ্রকাশিত কিছু চিঠি।
আর কী বলব। আমার 'দেশ' নিয়ে কথকতার এখানেই শেষ।
এ লেখা পড়ে আগ্রহ পেলে নিজেই নয় পড়ে দেখবেন খুঁজে পেলে।
ভাল থাকুন সবাই। অনেক ভাল। সবসময়। 





এইতো বেশ ভাল লিখেছেন। আপনার শারদীয় দেশ ১৪১৮ পড়ার অভিজ্ঞতা শুনে ভাল লেগেছে।
ধন্যবাদ..
শুভ কামনা। ভাল থাকুন, ভাল লিখুন।
অনেক ধন্যবাদ।
ভাল থাকুন, আপনি-ও।
আপনার এইটাইপের পড়াতে এক বস্তা হিংসা দিয়ে গেলাম।
চমৎকার লাগলো... আরো বিস্তারিত আশা করছি
লন
আসলে, আমার দৌড় এতটুকই। বিস্তারিত, আর কেউ লিখবে নে!
এত বই একদিনেই পড়ে ফেললেন!
এত কই দেখলেন ভাই?
মাত্র ৫টা উপন্যাস আর কয়েকটা গল্প কবিতা!
বাহ, শারদীয় দেশ সম্পর্কে পরিষ্কার একটা ধারনা পাওয়া গেল। আপনার ভাল লাগা মন্দ লাগা দিয়েই পড়ার সূচীপত্র ঠিক করব। ধন্যবাদ।
অনেক অনেক ধন্যবাদ, আপু।
প্রায় ভুলতে বসেছিলাম পড়তে ।আগ্রহ পাচ্ছি।সময় পেলেই হয় ?
সময় পাওয়া যায় ই না,
খুঁজে বের করে নিতে হয়।
একদিনেই পুরাটা পড়লেন?
হুম। মাঝে মাঝে একেকটা দিন আসে পুরানো নেশায় হারিয়ে যাই, বইপোকা হয়ে কেটে যায় সারা দিন।
পড়ার জন্য ধন্যবাদ, মাসুম ভাই।
লেখাটা পছন্দ হয়েছে।
লীনা আপু অসাধারণ সব গ্রন্থালোচনা লেখেন, কথা সত্য।
অনেক অনেক ধন্যবাদ, মীর ভাই।
আপনাকে তো আজকাল আগের মত দেখাই যায় না। ভাল আছেন তো?
নতুন একটা গল্প দেন না ভাই.,
একদিনে এতোগুলো লেখা পড়লে!!! আমারতো একটা ছোটগল্প পড়তেই পুরো দিন লাগে। সেরকম গল্প হলে চরিত্ররা সব মাথায় কিলবিল কিলবিল করে। মনে হয় আমি ওদের সাথেই আছি। ভাবি সারাক্ষণ তাহলে কেন এমন হলো, কেনো এমন হলো না ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি। ঘোরের মধ্যে থাকি, যাকে বলে
সাবাশ
অন্তরালে আমার অসাধারণ লাগছে
, রিসেন্টলি এত ভালো লাগে নাই আর কোন উপন্যাস পড়ে। দুই-তিনটা ছোট গল্প পড়ছি, কিন্তু তেমন আহামরি মনে হয় নাই
অন্তরালে আটকে না গেলে এই লেখাটা মনে হয় না লেখা হতো।
পড়ার জন্য ধন্যবাদ।ভাল থাকুন।
apnar lekha ta pore bes valo laglo.
just ekta information diy. Moti Nandi amader modhye ar nei. tai onar lekha
pabar somvabonao ar nei.
ধন্যবাদ।
লেখাটি লেখার সময় এক দুঃখজনক খবর টি আমার জানা ছিল না।
আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
মন্তব্য করুন