ইউজার লগইন

এবং ‘হেমলক সোসাইটি’ : আত্মহত্যা বিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টিতে কিছু কথকতা

মাঝে মাঝে হঠাৎ করেই এমন কিছু বিষয় জানার বা উপলদ্ধির সীমানায় এসে ধরা দেয় যে, নিমিষেই মনে মনে বেশ আউলে যেতে হয়। জানার চাইতে না জানার পরিধিটা অনেক ব্যাপক হওয়া সত্ত্বেও নিজের অনুভূতি গুলি কারও না কারও সাথে শেয়ার করতে ইচ্ছে হয়, অনেকটা বন্ধুদের সাথে নিয়মিত আড্ডার ফাঁকেই হঠাৎ বলে ফেলা কিছু ওজনদার বিষয়ের মতন। এমনই একটা অবস্থায় আজ এই লেখা।

লেখাটাকে মুভিরিভিউ বলা উচিত হবে কি না বুঝতে পারছি না। মুভির চাইতে মুভিটার উপজীব্য বিষয়টুকু নিয়েই যেখানে কিছু একটা বলতে বা লিখে বোঝাতে চাইছি! যা লিখব বলে ভাবছি এ নিয়ে অনেকের লেখাই হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে কিন্তু এবিতে মাসুম ভাই বা অন্য কারও বয়ানে এমন কিছু চোখে পড়েনি বলেই এই দুঃসাহস।

প্রায় বছরদেড়েকের পুরানো একটা ভারতীয় বাংলা মুভি দেখলাম আজ। 'অটোগ্রাফ' আর 'বাইশে শ্রাবণ' এর পর শ্রীজিত মুখার্জী'র তৃতীয় মুভি 'হেমলক সোসাইটি' , মুভিটা এখন পর্যন্ত না দেখে থাকলেও এর গানগুলির জন্যই হয়তো চেনা লাগবে অনেকের কাছেই।

হেমলক সোসাইটির কাজ হল আত্মহত্যায় আগ্রহী লোকদেরকে সফলভাবে আত্মহত্যার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান দান করে প্রশিক্ষিত করে তোলা। তিনদিনের ক্রাশ কোর্সে বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় আত্মহত্যার বিভিন্ন পদ্ধতির সম্পর্কে শিক্ষিত করে তোলা যেন আত্মহত্যার চেষ্টা ব্যার্থতায় পর্যবসিত না হয়। এটাই মূলত মুভিতে 'হেমলক সোসাইটি' মুভির উক্ত প্রতিষ্ঠানের মুখের উপরের মুখোস। আদতে যার উদ্দেশ্য পুরোই উল্টা! অর্থাৎ আত্মহত্যায় আগ্রহী মানুষজনদের নানা ভাবে এর নেতিবাচক প্রভাব গুলি বুঝিয়ে এই ভয়ংকর পথ থেকে ফিরিয়ে বেঁচে থাকার জয়গান গেয়ে যাওয়া।

পরমব্রতের অভিনয় আর অনুপমের মিউজিক বাদে 'হেমলক সোসাইটি' মুভিটাতে ভালো বলার মত খুব বেশি কিছু আছে বলে আমার কাছে মনে হয় নি। প্লট আর স্টোরিটেলিং-এ বড় ধরনের কিছু ঘাপলা না থাকলে মুভিটা আরও অনেক ভালো হতে পারতো।

যাই হোক, কথা সেটা না। আমার কাছে যে বিষয়টা সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে, একটি বানিজ্যক মুভিতে এই বিষয়টার উঠে আসা। দর্শকের মনে অন্তত একটা ভাবনার বীজ বুনে দেওয়ার চেষ্টা, একটা কিছু করার প্রেরনা সৃষ্টির প্রয়াস।

আত্মহত্যা বিষয়টাকে আমার কাছে বিশাল একটি সামাজিক ব্যাধি বলে মনে হয়। যদিও এটি প্রাথমিক ভাবে একটি ব্যাক্তিক সমস্যা কিন্তু পরবর্তীতে এর প্রভাব পরিবার হয়ে সমাজেই কিন্তু পড়ে। এ বিষয়ে কথা বলতে নিলেই একটা কমন বিতর্কের সৃষ্টি হয় যে কে এর জন্য বেশি দায়ি, পরিবার না সমাজ। আমি বলব অন্তত এই বিষয়ে কারোই দায়বদ্ধতা এড়াবার মত নয়।

নানা কারনেই একজন মানুষ জীবনযুদ্ধে হার মেনে এই ভয়ানক সিদ্ধান্তটা নিয়ে নিতে পারে, তার আসে পাশের কাছের মানুষজনই কেবল পারে এ সময়ে তার প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে। এবং এই সাহায্যটার বিস্তারে সারাদেশজুড়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই। হোক তা সরকারি, বেসরকারি বা ব্যাক্তিপর্যায়ে নেওয়া খুদ্রতম কোন উদ্যোগ।

স্ট্যাটিস্টিকের দিকে যাবো না। আমি আমার নিজের উপলদ্ধিতে যা বুঝি তা হল আমার নিজের বেড়ে উঠার দিনগুলিতে এমন নিউজ দেখলে যতটা ধাক্কা খেতাম, এখন আর তা লাগে না। সয়ে যাচ্ছে, এই ব্যাপারটাই বড় বেশি ভয়ের।

বছর খানেক আগে ফেসবুকে একটা গ্রুপ বা পেজ বোধহয় দেখেছিলাম কোন একটা পাবলিক পরীক্ষার আগে, সুইসাইডাল টেন্ডেন্সি আছে এমন ছাত্র ছাত্রীদের মানসিক একটা সাপোর্ট দেয়ার চেষ্টা। পড়ে আর চোখে পড়েনি, কোন ফলোআপও দেখি নি।

আমাদের মিডিয়া দিনে দিনে অনেক শক্তিশালি হয়ে উঠছে, স্মমিলিত ভাবে চাইলে ওঁদের পক্ষে হয়তো অনেক কিছুই করা সম্ভব। আমাদের বর্তমান মুভিইন্ডাস্ট্রি নিয়ে আশা করতে পারি না তাই কিছু বললাম না। কেউ যদি কিছু করে তাহলে তো ভালোই।

আর বর্তমানে এ বিষয়ে কাজ করছে এমন কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে থাকলে তাদের হয়ে কি একটু পাবলিসিটি আমরা করতে পারি না? অন্তত নিজেরা এ বিষয়ে একটু জানার চেষ্টা করে আশেপাশের মানুষদেরও জানানোর চেষ্টাটা কি করা অন্তত উচিত নয়?

আর আমরা নিজেরা নিজেরা অথবা অন্য কেউ এ নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি ব্লগস্ফিয়ারেও কি এ বিষয়ে সবাই মিলে একটা কিছু করা যেতে পারে না? ব্লগ এলায়েন্স যেহেতু এখন আছে ভালো কোন উদ্যোগে একসাথে সবাই কিছু একটা করার কাজটা শুরু করতে পারলে নিশ্চয়ই মন্দ হবে না।

এ বিষয়ে সকলের মতামত জানা এবং যথাযত আলোচনার প্রত্যাশা থাকলো।

অসুখটা এখনও হয়তো মহামারী পর্যায়ে যায় নি,
সচেতনতা সৃষ্টির এখনই হয়তো শ্রেষ্ঠ সময়।

আপাতত আমার কথা এটুকুই।
ভালো থাকুন সবাই, আর সবাইকে নিয়ে। হ্যাপি ব্লগিং।

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

সামছা আকিদা জাহান's picture


মুভিট দেখিনি। সাধারনত ৯ থেকে ১২ বছরের বাচ্চাদের মধ্যে ঘর পালানো র ইচ্ছা খুব বেড়ে যায়। এটা সব যুগেই হয়েছে। এই বয়স থেকেই মনজগতের গঠন। এই সময় অর্থাৎ টিন এজ খুব জটিল সময়। অকারনে বিষন্নতা থেকে উদ্ভট আচরন। যেমন ঘর পালানো, আত্মহত্যা, ড্রাগ নেয়া ইত্যাদি।কোন পথে যাবে তাও এসময়েই অনেকটা কাজ করে।যেমন অপরাধ জগতে নাকি স্বাভাবিক জগতে।
আত্মহত্যা প্রবনতা এই বয়সি দের থাকে প্রতি ১০ হাজারে ১ জনের এটা বাড়তে পারে এখন। তবে মেয়ে শিশু ইমোশনাল আঘাত ও কাল্পনিক তীব্র অস্বাভাবিক জগতের হাতছানি ছাড়া অত্মহত্যা করতে চায় না,কিন্তু ছেলেরা লজ্জাবোধ বা ইমোশনেই এই কাজটি করে। আরও আছে এর পর বয়স্কদের কথা। খুব ভাল পোস্ট। ডিটেইলস পরে আলোচিত হবে।

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


হু। আগে টিনেজারদের মাঝেই এই প্রবণতাটা বেশি দেখা যেত। ইদানিং বড়রাও এমনটা করছে দেখে ভয় হয়, বড়রাও এমন করলে ছোটদের বাঁচাবে কে?! Sad

তানবীরা's picture


আমার কাছে মুভিটা তেমন কিছু লাগেনি Sad(

ম্যাসেজটাও দিয়েছে ছ্যাবলামি করে Puzzled

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


কথা সত্য যে ছ্যাবলামি বেশি হয়ে গেছে।

কিন্তু তবুও তো এই বিষয়টা অন্তত ম্যাস পাবলিকের চোখের সামনে আনার চেষ্টা করা হইছে, এটাই বা কম কি?

আরাফাত শান্ত's picture


টিপ সই

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


Smile

সাগরিকা দাস's picture


আমি তানবীরা আপুর বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করতে পারলাম না। চলচ্চিত্রটি আমি কম করে হলেও চার থেকে পাঁচবারের বেশি দেখেছি। হয়তো পরিচালক একটি ঘটনার আবর্তে তথ্যটি দিতে চেয়েছে। কিন্তু সত্যি বিষয়টি খুব ভাবনার হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিচালক সাহেব যে বিষয়টি কে প্রাধান্য দিয়েছে, একটি নিরমল পরিবারের অভাব। আসলে কি তাই নয়? আত্মহত্যা হয়তো নানান দেশের মানুষ নানান ভাবনায় করে থাকে। আমেরিকায়, জাপান দুইদেশের আত্মহত্যার কারণ আলাদা হতে পারে। কিন্তু মানুষ কেন বেছে নেয়? সেটা কোন ছেলেমানুষি নয়। দয়া করে অন্যভাবে নেবেন না। একদম উড়িয়ে দেবার বিষয় নয় এটি। আমার ভাগ্য হয়েছে অনেক শ্রেণীর মানুষের সাথে কাজ করার। এনজিওতে কাজ করার ফলে অনেক মানুষের সাথে মিশবার সুযোগ হয়েছে। সেই আজ প্রায় আট বছর ধরে নিম্ন আয়ের মানুষ কিংবা বস্তির মানুষের সঙ্গে মিশে দেখেছি। কিংবা আমরা উপতলার মানুষ দেখবার সুযোগ হয়েছে। কেন মানুষ আত্মহত্যা করবার এমন সিদ্ধান্ত নেয়? আর সেই সিদ্ধান্তের পিছনে একটি পরিবার অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি অনেক গুলো কারণও সম্বলিত থাকে। সমাজ, দেশ, পরিবেশ আরও অনেক কিছু। যাই হোক, আঘাত করার জন্য আমি কথাটা বলিনি। আসলে জনসচেতনতা দরকার।

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


টিপ সই

শওকত মাসুম's picture


মুভিটার সেরা হচ্ছে এর গান। গানগুলোর জন্যই মুভিটার সাতখুন মাফ

১০

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


সহমত না হয়ে কোন উপায় নাই।
প্রত্যেকটা গানই চমৎকার, দুই/তিনটা তো পুরাই অসাধারন। Smile

১১

জেবীন's picture


হ্যা, মেসেজ ছিলো বেশ ভালো কিন্তু সেটা ডিলিভারি দেয়া হইছে স্থুল্ভাবে, কাহিনী ধরেই ফেলা গেলে মজা যায় চলে, এমনি হইছে মুভিটায়।

তবে হ্যা, গানগুলো পছন্দের

১২

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


কাহিনি ধরতে পারিনাই এমন ইন্ডিয়ান মুভি লাস্ট কবে দেখছি মনে পড়ে না! Tongue

১৩

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


টিপ সই

১৪

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


Smile

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture

নিজের সম্পর্কে

i love being my bro's bro..!

কী আর বলব..?

বলতে গেলে লাইফের তিন ভাগের এক ভাগ শেষ অথচ এখনো নিজের কাছেই নিজেকে অচেনা লাগে..!!

মাঝে মাঝে নিজেকে দুঃখবিলাসী মনে হয় আবার অকারন স্বপ্ন দেখতে-ও ভুল হয়না..নিজে হাসিখুশি থেকে অন্যদের হাসিখুশি রাখতে পছন্দ করি..ভাবি বড় হয়ে গেছি আবার কাজে কর্মে ছোট ছোট ভাব টা এখনো ঝেড়ে ফেলতে পারিনা..বেশ অভিমানী আর জিদ্দি but i love havin fun in anythin..লাইফে এক্সামগুলোর দরকার টা কী ভেবে পাইনা..ভালোবাসি গল্পের বই পড়তে,গান শুনে সময় কাটাতে আর কিছু কিছু সময় নিজের মত থাকতে..

আর কি বলব..?!

...here i am!!