ইউজার লগইন
কবিতা
এ কেমন চলে যাওয়া...

আজো শশীর রূপের টানে, গহন মনে হিয়ার সনে...
ভুলি আমি এহেন ক্ষণে-তব চন্দ্রপাণা কেমনে?
যেমতি ছিলে আমা পাশ - স্তব্ধ কোন বসন্ত রাশ,
চপলা দর্শী টুটেনা আশ, যেন বা কল্লোল – দোদুল কাশ!
হারায়ে নিশার শয়ন সবি একলা শিহরে মৌণ কবি...
তন্দ্রা ফেরায় সে কোন ছবি - যামিনীর নিশেষে যেমতি রবি!
আমা-তোমা সেই যে জানা, মানতো কি কভু মানা?
আজ কেন তায় দুঃখ আনা -“আশা”-র কেন ভাংছো ডানা!
যাবেই যদি একায় চলে, কেনইবা তবে আমা হলে?
ভালবাসার নিশার ছলে - মোর স্বপনে জেগেই রলে!
ভাবছি আমি নিশি-রাত, “ভালোবাসা”-য় এ কোন জাত...
দুখ নিয়েছি ভরে এ-হাত, কেমনে সহি বলো এ ঘাত!
বিচ্ছিন্ন পংক্তিগুলো
বাতাসের দেওয়াল তৈরী হয় অগোছালো নদীতীরে
স্পর্শপাপ বাঁচিয়ে বেড়ে ওঠা ফুলেরা
এলোমেলো হয়।
অস্ফুট আবেগ এবং শরীরের গান মিলেমিশে একাকার
কুয়াশাঘোর মাখা চোখ জুড়ে ছেঁড়াখোঁড়া ছবি
একই নিঃশ্বাসে মিশে থাকা অনাকাংখিত উত্তাপ
আর, অতৃপ্তির ছোপছোপ দাগ।
শিরোনামহীন সম্পর্কের দায় জুড়ে থাকে বর্তমানের সবটা
দৃশ্যতঃ ঘোরাক্রান্ত হই নানাবিধ সম্পর্কে
ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বাস্তবতা
ঘোর ঘোর ঘণঘোর...
________________________________________
ডিস্ক্লেইমার:- এই পঞ্চাশ শব্দের যন্ত্রণাটা বড়ই পেইনফুল 
সহজ পাঠ
(১)
জানি না।
জানলেও, মানি না
লাল, নীল, সবুজ যাই দেখি, মিশাই
সাদা আমার প্রিয়, সাদাতেই হারাই।
(২)
নিমন্ত্রণ পেয়েছিলাম একটা, একসময়
বন্ধ খামের গায়ে, ভুল অক্ষরে নাম আমার, বুঝিনি।
পাশাপাশি যিনি, ভুলের মাতমরত
তাকে দিয়ে বলেছিলাম, ‘আপনার জন্য”।
সেই শেষ, কিছু শুরুর আগেই।
(৩)
তোমাকে বলিনি কখনো ? লুকোচুরিতে আমার ভীষন ভয় !
এমনি এক কানামাছি খেলার ফাঁকে
হারিয়েছিলাম আমার শখের সোনালী ট্রয়।
(৪)
যতদূর যাও, থাক যেখানেই, যার কাছাকাছিই,
মনে রেখ, দুজনে বেশ পাশাপাশি, হেঁটে হেঁটে
রমনার এবাকে ওবাকে
বকুল কুড়িয়েছিলাম একদিন।
(৫)
যা লিখি, পাঠাই। নুপুর কিনেছি একটা জানাই
জানি, খুব যত্নে, গুছিয়ে,
প্রায় সবই একে একে সাজাও।
মাঝে মাঝেই এদিক সেদিক উলটে পালটে পড়,
চুল বাঁধ, ঠোঁট রাঙাও,
'বান' নেমেছে জীবনে
বান নেমেছে জীবনে
সন্ধ্যার আকাশে লাল রক্তিম আভা
আলো ছায়ার অন্যরকম মায়া।
নদীর কুলে কাশ বনে কাশফুলের মেলা,
ডিঙ্গী আর কোষা নৌকায় মাঝিদের হাঁকডাক।
দীঘল কাল কেশে ঢেউ খেলে নদীর মত
নীড়ে ফেরা পাখির দল থমকে যায়
তোমার হাসির শব্দে ,ঝর্না ভেবে ভুল করে।
লাজুকতা নিয়ে পাশাপাশি বসে থাক
সৌন্দর্যের এক অনন্য মূর্তি হয়ে ।
তোমার চোখে চোখ রেখে খুঁজে পেতে চাই
জীবনের সুখ প্রতি দিন ।
হায়রে নিয়তি , সব কেড়ে নিলে
বানের জলে ,ঘর-বাড়ী আর ফসলের মাঠ ।
কোথায় পাব ঠাই , স্বার্থপরে ঘেরা এই ধরা'য়
পরিশেষে ছুটে যাই তোমার পানে ।
ওমা একি হল তোমার , পড়নে লাল শাড়ী
হাতে কাঁচের চুড়ি , গলায় মুক্তার মালা।
এখানে ও বুঝি বান নেমেছে
নিঃস্ব করে দিয়ে আমায় নামায় পথের প'রে ।
বান নেমেছে জীবনে আমার এখানে সেখানে
বানের স্রোতে ভাসছি আমি ,জীবন পারাবারে।
এখন এই সময়, আমি ও তোমরা
অনেকদিন আকাশ ছুঁইনা,
হাঁটি নিঃশব্দে ছায়ায়। লুকিয়ে যতটুকু শিকড় ছড়ানো যায়, ছড়াই,
বাধা এলে গুটিয়ে ফেলি গন্তব্য, একে বেঁকে এগলি ওগলি পেরিয়ে খুব সাবধানে ফিরে আসি।
কখনো বা কেউ কিংবা দুজনে বসে খুনসুটিরত, নির্লজ্জ ভারী শব্দ সকল,
কোন কোনদিন দিব্যি কাউকে বলতে শুনি নিষিদ্ধ আহবান,
জমে জমে নীলে ছেঁয়েছে জমিন, তাকাই না।
ক্ষয়ে যাওয়া মেরুদন্ড নিয়ে হামাগুড়িতেও বড় কষ্ট আজ
ছোবল হানতেও ভুলে গেছি অনেকদিন কিংবা
আমার থেকেও বিষধর যে জন তাকে খেলতে দেখতেই ভাল লাগে আজকাল।
জল, সবুজ ছাপিয়ে যে লাল ছড়ায় পশ্চিমে,
তার কাছাকাছি হলেও,ও পাশে থাকলেও,
মাথা নিচু, চুপ, কোন কবিতা পড়ি না ।
মাঝে মাঝে এসবেও বড় ক্লান্ত,
পথ চলতে, মাটি খুড়তে বড়ই অস্বস্তি হয়
পায়ের বুড়ো আঙ্গুলে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মনে হয়,
বড্ড অচেনা কোন শ্বাপদের রক্তাক্ত নখর শান্ত কিছুটা,
স্থির সাময়িক
বড় কোন লক্ষ্যের জন্য।
প্রবাসের জীবন চিত্র
একাকী প্রতিদিন নির্ঘুম রাত কাটাই
দেশ-মাতা তোমায় হৃদয়ে রেখে,সেকেন্ড,মিনিট
ঘন্টা,দিন মাস বছর।একের পর এক।
বিশাল অট্রালিকায় করি বসবাস,পাচতারা হোটেলে
খাবার খাই,ফাস্টফুড,রসালো-বিদেশী চটকদার রান্না
। কই মাছের ঝোল আর হেলেঞ্চা শাকের স্বাদ
জিভে জল আনে ,তাই বিস্বাদ লাগে এখানে সব।
ব্যাস্ততা আর কোলাহল নিংড়ে ফেলে জীবনের সব ।
আম্রকাননের শীতল পবনের লোভ জাগে।
নাগরিক কোলাহলে পথ হারাই রাতের পর রাত।
হুট করে ঘুম ভেঙ্গে যায় , মনে পড়ে
মা তোমার স্নেহ মাখা সেই মমতার মুখ।
ভুলে থাকতে তোমায় আবার বীয়ারের পেগে
নিজেকে লুকাতে চাই একের পর এক ।রাত শেষে
ভোরের আহবান , নেই পাখির কিচির মিচির
নেই শিশির ভেজা ঘাসের চাদর । ব্যাস্ত আমি
ছুটে চলি । প্রবাস জীবনের ব্যাস্ত কোলাহল আর
চক বাঁধা জীবনের গণ্ডিতে । দিনের পর দিন
মাসের পর মাস, বছরের পর বছর
প্রবাসের জীবন চিত্র
প্রবাসের জীবন চিত্র
তৌহিদ উল্লাহ শাকিল
একাকী প্রতিদিন নির্ঘুম রাত কাটাই
দেশ-মাতা তোমায় হৃদয়ে রেখে,সেকেন্ড,মিনিট
ঘন্টা,দিন মাস বছর।একের পর এক।
বিশাল অট্রালিকায় করি বসবাস,পাচতারা হোটেলে
খাবার খাই,ফাস্টফুড,রসালো-বিদেশী চটকদার রান্না
। কই মাছের ঝোল আর হেলেঞ্চা শাকের স্বাদ
জিভে জল আনে ,তাই বিস্বাদ লাগে এখানে সব।
ব্যাস্ততা আর কোলাহল নিংড়ে ফেলে জীবনের সব ।
আম্রকাননের শীতল পবনের লোভ জাগে।
নাগরিক কোলাহলে পথ হারাই রাতের পর রাত।
হুট করে ঘুম ভেঙ্গে যায় , মনে পড়ে
মা তোমার স্নেহ মাখা সেই মমতার মুখ।
ভুলে থাকতে তোমায় আবার বীয়ারের পেগে
নিজেকে লুকাতে চাই একের পর এক ।রাত শেষে
ভোরের আহবান , নেই পাখির কিচির মিচির
নেই শিশির ভেজা ঘাসের চাদর । ব্যাস্ত আমি
ছুটে চলি । প্রবাস জীবনের ব্যাস্ত কোলাহল আর
চক বাঁধা জীবনের গণ্ডিতে । দিনের পর দিন
কিছু জীবনের কথা
কিছু জীবনের কথা
তৌহিদ উল্লাহ শাকিল
একটি মৃতদেহকে ছিঁড়ে খাচ্ছে শেয়াল শকুন
দেখতে কেমন দৃষ্টিকটু, বিশ্রী লাগে বলুন
নাগরিক সমাজে এটা বেমানান সবাই বলে
সকলে এসব ঘৃণা ভরে এড়িয়ে চলে।
রাস্তার পাশে ঝুপড়ি ঘরে যে থাকে
জীবন নিয়ে কত কল্পনার ছবি আকে।
প্রতিদিন সভ্য মানুষ তাকে ছিঁড়ে খায়
বিনিময়ে খাবারের জন্য কিছু টাকা পায়।
রাস্তায় পড়ে অনাহারী শিশু জোরে কাঁদে
তাকিয়ে হেথায় মধুবালা জীবনের সপ্ন বাধে
মাতৃত্তের জন্য হৃদয় হাহাকার করে উঠে
অস্পৃশ্য মুখ লুকায় তাকিয়ে শ্যামল মাঠে।
দাশ'বাবু সরকারি আমলা অনেক পয়সা তার
বৌ রেখে বাড়ীতে করেন সমুদ্র বিহার।
স্ত্রী-তার সুখ খোঁজে পায়না বিলাস অট্রালিকায়
পরিশেষে পা বাড়ায় অন্ধকারের অজানা নর্দমায়।
(১৪.০৯.২০১১।অপরাহ্ন ০১.২৮ । রিয়াদ । সৌদি আরব)
জেগে থাকা এবং বিবিধ...
*
জেগে থাকি, জেগে থাকি
অনিবার্য মৃত্যুর মতন জেগে থাকি।
মন বিবশ করা সৌন্দর্যের মতন জেগে থাকি।
হৃদয় বিদীর্ণ করা বেদনার মতন জেগে থাকি।
শিশুর প্রথম হাসির মতন জেগে থাকি।
ফেলে আসা অতীতের মতন জেগে থাকি।
ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে জেগে থাকি তারই প্রতীক্ষায়...
**
অন্ধ উইপোকা জানেনা জীবনের মানে
দিনভর বাসা বেঁধে যায় ধ্বংস হবার জন্য।
তেমনি তোমারও জানা নেই ভালোবাসার গান
চোখ বুজে আশ্রয় খুঁজে ফেরো কোমল হৃদয়ে।
***
সীমান্তে, কাঁটাতারের বেড়ায় বাঁধা পড়ে থাকে বিবিধ স্বপ্নাবলী,
সচরাচর বাঁধা পড়ে যাই ব্যাক্তিগত দুঃখের ঘেরটোপে।
স্বপ্নাবলী, সীমান্তে পৌছুবার আগেই আশ্রয় নেয় ক্লান্তি ও বাস্তবতার ওয়েস্ট বাস্কেটে।
****
চাঁদের ঝলমলে পোশাকে অভিজাত রাত
ঘৃণার দৃষ্টি ফেলে ফুটপাথে,
টুকরি বিছানায় গুটিসুটি মেরে থাকা নোঙরা জীবগুলোর পানে।
স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র
আজকাল নির্জনতা স্থির হয়ে থাকে মুখোমুখি বারান্দায়
যাবতীয় অভিমান জমে থাকে
ধুলো মাখা ঘড়িতে,
ক্যাকটাসের টবে,
জল শূন্য একুরিয়ামে...
অক্ষর বিহীন সাদা পাতায়...
অথচ,
দুপুরে প্রতিটি রোদ একটা ঘ্রাণ শুকে নেবার জন্য
অপেক্ষায় থাকতো... সাথে আমাকেও অপেক্ষায় রাখত
সাদা ব্লাউজের অমীমাংসিত কৌতূহলের উপর
কখনো সবুজে, কখনো নীলে... কিংবা
গোলাপি সুতা জড়ানো থাকতো..
মাঝে মাঝে
ছায়া ছায়া মেঘদের কারণে
বিজ্ঞাপন বিরতি ঘটতো
চুলেতে বাতাস দুলতো...
দোলাত আমার দৃশ লোক
স্নানের জল হবার সাহস দেখাতাম না
... তবে
ভীষণ তোয়ালে হতে ইচ্ছে করতো
সমস্ত দেহ থেকে ঝিল মিল রোদের ভেতর
ওপারের বারান্দায় ঝরে ঝরে পড়তো চিত্রনাট্য,
দাড়িয়ে দেখতাম
একটা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ।
আমরা সবাই বাঙ্গালী
উস্কুখুস্কু চুল পরনে ময়লা কাপড় চোপড় নিয়ে
আপিসের সামনে সারিবদ্ধ ভাবে ঠায় দাঁড়িয়ে।
নির্বিকার অভায়ব ,সুখ বিলীন হয়ে যাওয়া মুখের হাসি
মলিনতায় ছেয়ে আছে ।
থাকার জায়গা নাই, রান্নার কিচেন নেই
প্রতিদিন তবু কর্মের বিরাম নেই।ধুলি-মাখা
দেহ পরিষ্কারের জন্য গোসল খানা নেই,এসব অভিযোগের
দরবার নিয়ে দাড়িয়ে গুটিকয়েক প্রবাসী শ্রমিক।
আমি আপিসের কর্মচারী আমার ক্ষমতার
দৌড় সীমাবদ্ধতার মাঝে, তবু উঠে দাড়াই
তাদের কাছে শুধাই , একে একে সব বলে
কষ্টটা আমার বুকে ও বিধে সরু শলাকার মত।
প্রবাসে কষ্টে থাকে অনেকে এত কষ্টে
তা জানার বাইরে ছিল। ছুটি বড়কর্তার
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে,সব শুনে বলেকি?
কিছু রিয়াল দিয়ে দাও, বল সব হবে ।
বিনিময়ে তোমার সেলারী দ্বিগুণ হবে।
থমকে দাড়াই কিছু সময় , অনেক টাকার লোভ
না এভাবে চলতে দেবনা । এরা তো আমার ভাই
আমার দেশের সন্তান। এদের জন্য কিছু করা
আমার সবচেয়ে বড় কর্তব্য ।
এক জীবনের গল্প
এক জীবনের গল্প
তৌহিদ উল্লাহ শাকিল
ঘুমের জড়তা নিয়ে হয় নিত্যদিনের প্রভাত
পেটে খুধা নিয়ে একথালা পান্তা ভাত ।
সাতটা'য় মিলে কাজ সীমাহীন অনেক কষ্ট
ধুলোমাখা সেই শার্ট সপ্নগুলো হয় নষ্ট।
প্রতিদিন ঘামে ভেজা কষ্টের বিশ্রী গন্ধ
সমাজপতিরা হেঁটে যায় করে চোখ বন্ধ।
নিত্য দিনের এই খাটুনি বাঁচার জন্য
উপোস থাকলে কেউ দেয়না মোরে অন্ন।
পঙ্গু বাবা আর বোন সাথে মা-ভাই
তাকিয়ে থাকে কখন খাবার নিয়ে যাই।
যৌতূকের দাবি মেটাতে অক্ষম আমার বাবা
বোনের প্রতি নির্যাতনের নামে ভয়াল থাবা।
পঙ্গু বাবার মেলেনি মিলের পাওনা টাকা
লাভ কি শ্রমদিয়ে জীবন করে ফাঁকা ।
সৎভাবে বেঁচে থাকো সবাই চেঁচিয়ে বলে
এই জীবনকে কি বেঁচে থাকা বলে ?
সকাল থেকে সন্ধ্যা কাজে পার দিনটা
সুখ পেতে উসখুস করে বোকা মনটা ।
(০৬.০৯.২০১১ রিয়াদ সৌদি আরব । সকাল ১০টা )
দুই চামচ ভালবাসা!
***ইতি তোমার,'আমি'..***
..তবুও মনে রেখ।
নীলাকাশে চেয়ে..
বিকেল ছাদের হাওয়ায়;
উচ্ছাশে,
মেঘেদের সাথে ভেসে যাবে বলে..
দিবা রাত্রি,
ভর দুপুরে বৃষ্টি ভিজে..
বিষণ্ণতা সারাবেলা..
উষ্ণ জোছনা ছুঁয়ে,
আলো আঁধারির সাতকাহন..
আনমনে,
দুষ্টুমিতে আলতো হেসে..
কেউ একজন ছিল..
তোমায় ভালবেসে..।।
***প্রিয়তমেষু..[ভালবাসা কবিতা!]***
জেনো..
বৃষ্টি নয়,
আকাশ জুড়ে
বিষণ্ণতার নীল..
এলোমেলো যতোসব
স্বপ্ন আমার,
ভেঙ্গে পরে বারেবার..
বেদনার নীল হয়ে,
আকাশ ছুঁয়ে;
অশ্রু হয়ে ঝরে..
জেনো..
না বলা কথা যত,
কথকতা কত শত..
ভালবাসা,
হারায় ভাষা..
মেঘ হয়ে,
উদ্ভ্লান্ত -
ভেসে যায়..
তোমায় ভেবে..
জেনো,
দিনভর সোনালী রোদ্দুর..
বাতাসের গা'য়,
রুপোলি ডানার চীল..
এক পা দু'পা পথ,
অকারনে প্রিয়
ঘাসফুল..
গোধূঁলির লাজ রাঙা,
লাজ ভাঙ্গা আলো..
এটুকুই উপহার,
তোমার..আমার..
আমার না বলা কথা
আমি আর বৃষ্টি ছুয়ে দেখব না
অঝোর ধারায় আর কাদবে না আমার অশান্ত হৃদয়
আমি উন্মত্ত হবনা, হবো নিশাচর
রয়ে যাবো নিভৃতে সবার স্মৃতি চারণে।
গভীর রাতে যখন পৃথিবী ঘুমিয়ে যাবে
তখন আমি প্রলাপ করব না
শুধু অভিসম্পাত দিব নিজেকে
কেন ভুলতে পারিনা আজও তোমাকে।
কি বর্ষায়,কি শীতে, আমি তোমাকে তোমাকে যেতে চাই
পারছি না যে...
এ হৃদয় থেকে কবে তুমি মুছবে বল
আমি জ্বলছি...ভীষণ।
আমার ফুলের বাগানে এবার রাজ্যের জোনাকির আনাগোনা
সন্ধ্যা হলেই সেখানে আলোর মিছিল আসে
না আমি সেখানে যাবনা
আমি আলোর মিছিলের অন্তরালে অমাবস্যার সাথেই থাকবো
তবুও তোমাকে ভাববো না
তোমার জন্য সুখ ও চাইবো না
তোমাকে অভিসম্পাত ও করবো না।
অনেক হয়েছে, এবার আমি স্বপ্ন দেখবো
নিজেকে আমি নিজের দ্বারা সম্মোহিত করব
আমার বিধ্বস্ত নীলিমায় আবার সূর্য মুখ তুলে দাঁড়াবে
আর আমার কবিতা চলবে অবিরাম......... মধ্যরাতে।
বিপ্রতীপ সম্পর্কের জ্যামিতি
*
দেয়াল ঘেঁষে নেমে আসে বোকাটে রোদ,
সাময়িক শ্যাওলার ভেলভেটে আয়েশী হামাগুড়ি দিয়ে।
দেয়ালের ওপাশে থাকা বিষণ্ণ গাছটিও জেনেছে বোকাটে নেমে আসা গান।
বোঝেনি তারা,
বোকাটে গানের সুরটা লেখা হয়েছে বিষণ্ণ গাছটাকে ভেবেই।
শ্যাওলা বেছে নিয়েছে আধো আলো আধো ছায়ার সম্পর্ক,
সে ভাবতে পারেনি উজ্জ্বল রোদ তাকে দিতে পারে বৃক্ষের স্বাধীনতা।
বিষণ্ণ গাছটিও রয়ে গেছে দেয়ালের ওইপাশে, যেখানে ছিটেফোঁটা রোদ উঁকি মারে অনভ্যাসে।
রোদের সাধ্য ছিলো দেয়ালটাকে ভেঙ্গে ফেলে
বিষণ্ণ গাছটাকে আলিঙ্গনের,
তার মনের অশ্রুগুলোকে এক নিঃশ্বাসে পান করার,
দু’জন মিলেমিশে জীবনের গানে মেতে ওঠার।
বোকা রোদ,
বরাবরের অনভস্ততায় বাঁধা পড়ে রইলো দেয়ালের কার্ণিশে,
আর লিখতে থাকলো বিপ্রতীপ সম্পর্কের সংখ্যাতত্ত্ব।
।
।
_________________________________________________________
*আলসেমীর জং কাটানোর চেষ্টা