ইউজার লগইন
কবিতা
নিশিকাব্য..[এলোমেলো কাব্যকথন]
রাত্রি নিঝুম,
চোখে নেই ঘুম..
ঘুমপরী আসেনিকো,
দেয়নিকো চুম..
পিচ ঢালা রাস্তায়,
আঁধারের আবাসন..
রাত্তিরে আলো খুঁজে,
একিতর প্রহসন..
ওই আঁধারে..
আলোর প্রহর;
কড়া নেড়ে যায়,
আমার দ্বারে..
আঁধার আকাশ;
মেঘে ঢেকে,
হায়..
নীরবতা সুর;
প্রানে,
গান গেয়ে যায়..
আমার আকাশ;
আমার থাকুক,
প্রিয় যত দুঃখ,
প্রিয় যত সুখ..
কবিতায় দয়িতাকে প্রথম আক্রমন ( সরাসরি )
কবিতায় দয়িতাকে প্রথম আক্রমন ( সরাসরি )
ঝাঁ ঝাঁ রোদ্দুরকে আমি বলি - কান্না দিয়ে ভিজাবো বিশ্বচরাচর ।
সে বিজলীর মতো চমকায় ।
নরম সান্ত্বনায়
টসটসে করমচা আঁচল খুলে ডাকে;
টি টি টরর টরর - মোরগের তরে
লাল মুরগির তাজা প্রেম
একান্তই আমার বিনোদনের ! -
মানবীর চেয়ে সে বেশি বেহিশেবি।
অবশেষে রক্তসন্ধ্যেয়
কতবেল গাছে চুয়ে পড়া আকাশকে বলি;
বলে দিও
বিকেলের খেলা দেখি না ;
নোনার দেশে বসে বাতাস ভরে ডাকি -
অন্তরা ! মাই হানি ! অর্গল খোলো !
শেষ ডাক
জীবনবোধের তিক্ত পাঁচন
গিলতে না চায় মন গহ্বর
সময় তোড়ে পাষাণ ভেঙে
গড়তে না চায় দেহ ভাস্বর ।
কী লাভ তাতে পূর্ণিমা রাতে
চাঁদখানি যদি দেখায় ভীষণ ,
অমাবস্যায় যদিনা ঘুচায়
আঁধার - নেইকো তার প্রয়োজন !
কেবলই জেনেছি ফুলে মৌমাছি
সানন্দে করে মধু লুন্ঠণ ,
ছিলোনা স্মরণে গোপনে কেমনে
যুগে যুগে ঘটে পরাগায়ন ।
সুঘ্রাণ বাতাসে যদি ভেসে আসে
খুঁজিনাই সে যে কোন বনফুল ,
নানান কর্মে ব্যস্ততা মাঝে
করে সে যদিও হৃদয় আকুল ।
রাতদুপুরে স্বর্গীয় সুরে
শ্যামের বাঁশিতে ডেকেছে আমায় ,
আমি ঘুম ঘোরে অলসতা ভরে
স্বপ্নে দেখি সে ফিরে চলে যায় ।
ঘুম ভাঙে যবে বনে কলরবে
শত ফুল কাঁদে আমায় ডেকে ,
সেথা যেতে গিয়ে পিছু উঁকি দিয়ে
ভুলি বাগানের দুটো ফুল দেখে ।
এমনি কত কী ডাকে দিবানিশি
কারে সাড়া দিই ভেবে পাইনাক ,
যাতে নেই সুধা তাতে পাই ক্ষুধা
মিছে অমৃত আমি চাইনাক !
অথচ যখন ডাকছে মরণ
সময়ের কাঁটা
সময়ের কাঁটা চলেছে অবিরত
সকলের অগোচরে
নিঃশেষ হয় ধীরে ধীরে
জীবনের আয়োজন যত ।
দুঃখসুখের অদ্ভুত সুরে সুরে
হারায় এ প্রাণ দূর তেপান্তরে
হারানো দিনের আকুল আর্তনাদে
সাড়া দিয়ে তাই সবাই মর্মাহত ।
যায় দিন যায় কত স্মৃতি পিছু ফেলে
নতুন আশার সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বেলে
নবীনকে বরে , যায় পুরাতনে ভুলে
বড় নিষ্ঠুর স্বার্থপরের মত ।
বাঁচার তাগিদে ব্যস্ত যে যার কাজে ,
আকাঙ্ক্ষার আকাশে মেঘের মাঝে
ফুরোলো জীবন তাই শঙ্কিত চিত্ত -
(তবু) সময়ের কাঁটা চলেছে অবিরত ।
লিখিনি তোমায় নিয়ে
লিখিনি তোমায় নিয়ে কবিতা কভু,
রচিনি গানের কলি আঁকিনি ছবি ।
হৃদয়ের একান্ত গোপন পরতে
যত কথা যত ব্যথা ঘুম পারিয়েছি ।
কত যে স্বপ্ন মোর তোমায় ঘিরে,
ও সব তোমায় আজো কহিনি সখী !
মনের মুকুরে নিতি ফোটে যে ছবিরা,
রঙ তুলিকায় আজো নিইনি আঁকি ।
তবু ও তোমায় নিয়ে মনো লতিকায়,
অহোরহো কত যে ফোটাই কুসুম ।
লাজুক কামনা রাঙা পিয়াসী অধর,
পেলব ও ঠোঁটে তব আঁকে নিতি চুম !
যদিও কিছুই আজো হয়নি বলা,
তবু তোমারই পথেই এ পথ চলা ।
একটি প্রেমের কবিতা এবং সামান্য হাবিজাবি
কবিতা লিখি। নিজের ইচ্ছেমতো । মাঝে মাঝে মানুষদের শুনাই । কেউ বলে ভালো । কেউ বলে ডিকশনারি ফুটা কইরা কবিতা লিকশে রে। যারা বড় কবি এইরকম মন্তব্যে তাদের কিছু আসে যায় না । আমি ক্ষুদ্র কবি । আমার ব্যাপক আসে যায় । মনে হয় এ যাবত লেখা সবকটা কবিতা পুড়িয়ে ফেলি ।
আমাদের অতি পরিচিত আর অতি আপন এক বুড়ো আছে না ? চিনতছেন না ? আরে ওই যে মুখ ভরতি জঙ্গল যে লোকটার ! আমি যখন ভয়ানক কাব্য হতাশায় ভুগি, তখন সে মনের ভেতরে এসে বিড়বিড় করতে থাকে -
কত লিখেছি কতদিন,
মনে মনে বলেছি - খুব ভালো ।
আজ পরম শত্রুর নামে
পারতেম যদি সেগুলো চালাতে
ক্ষুদ্র কোনো চরিত্র
কখনো কখনো মৃদু হাওয়া ছুয়ে যায় আমাকে, আমি অনুভব করি শীতল পরশ প্রতিটি শিহরণে। পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দর কিছুর রেন্কিং করলে এটা প্রথমেই থাকবে। আকাশটা মেঘলা, চারিদিকে তেমন গরম পড়েনি, রাস্তাটাও ফাকা। বোধ হয় এই নগর ঘুমিয়ে দেখছে অদ্ভুৎ এক
স্বপ্ন, আমি সেই স্বপ্নের ক্ষুদ্র কোনো চরিত্র!
কখনও কখনও একা এই আমি,
বড়ও অসহায় মনে হয় নিজেকে
চারিদিকে তাকিয়ে দেখি কত মানুষ আমার চারিধারে
তবু আজ কেন জানি বড়ও নিঃস্ব আমি
আমার বেদনা গুলো বলার মতো
কাউকেই খুজে পাইনা আমার পাশে,
বড় রাস্তার ফাঁকে ছোট্ট একটা অন্ধকার গলির মাঝে
মুখ থুবড়ে পরে থাকা সেই , একাকী কিশোর
যার মাঝে শত বেদনা লুইয়ে আছে
কিন্তু বলার মতো কেউ নাই,
হঠাৎ পাশে একটি ছায়া দেখে চমকে উঠে
এক জন এসেছে তাঁর সকল বেদনা
ভাগ করার জন্য !!!
সস্থির নিঃশ্বাসে নিজের কিছু অসহ্য বেদনার
সাথী করে নেয় সেই ছায়াটিকে
রাত্রি বাড়ে
রাত্রি বাড়ে চাঁদের হাসি বিলিয়ে তারায় তারায়
ঝিঝির ডাকে অবিরত সুরের মূর্ছনায়
ঘুম পাড়ানী মায়ের কোলে মৃদু মভতায়
ছোট্ট শিশু আচ্ছন্ন গভীর সুপ্ততায় ।
একে একে মুহূর্ত আর প্রহর যে ফুরোয়
স্তব্ধ চতুর্দিক , কেবল আমি জেগে রই ।
নির্বিঘ্নে ক্লান্তিতে কভু দুচোখ নুয়ে পড়ে ,
সকলের অলক্ষে কোন গহীন বনের পরে
রাত জাগা পাখি হঠাত্ কখন ডানা ঝাপটায় ,
রক্তবর্ণ চক্ষু ডলি , ঘুম কেটে যায় ।
রাত্রি বাড়ে , ফেলে আসা করুণ দিনের শেষে
আঁধারে অদৃশ্য কোন ভয়ংকর আবেশে
হারিয়ে বুঝি গেলাম কখন নিজের অজান্তে
অতৃপ্তির বাঁধন ভেঙে সময়ের ধুধু প্রান্তে ।
অসবর্ণ
সন্দেহের ফসলে ভরে গেছে অবিশ্বাসী কৃষকের মাঠ,
বিষণ্ন মাটি খুঁজে বেড়ায় আরেকটি ঘোর অমাবস্যার রাত;
যত কিছু রয়ে যাবে সুনির্মল দরজাটুকু করে হাট,
অঝোর ধারার কাব্যশব্দ ঘুমাবে সাথে নিয়ে বৃষ্টির ছাট।
পাইন বনের সুদীঘল মিছিলে একলা ঘুরে কদমের কাঠ,
দুটো নৌকার দড়ি থেকে হিম শব্দে তবে একটি ছাড়ে ঘাট;
বেশি হয়ে গেলে পুরনো পাতার বহর দিতে তো হয় ঝাট,
তাই বেলা শেষে নিজেকে লুকাতে যায় শ্রান্ত বালকের পাঠ।
ট্রাজেডির একমুঠো রিলিফ
ট্রাজেডির একমুঠো রিলিফ 01:32am, Wed 16 11 2011
আমি একা আর কেউ নয় , আর তুমি আসবে ? বলবে কিছু ? যাও সেদিন ভুলে ।
মনে রেখো এ এক নতুন নিশিকাব্য , যেখানে তোমাকে ফেরাবার নেই কোন মাত্রা ; অক্ষরবৃত্তেও তুমি বড় অনাবশ্যক ।
যাও ফিরে এক্ষণি তুমি ।
তোমাকে ডেকেছে আজ ট্রাজেডির একমুঠো রিলিফ . . . . . .
প্রথম লেখা তোমাকেই নিয়ে
নীলাঞ্জনা তুমি কোথায়...
আজ আমার তোমাকে খুবই প্রয়োজন...
ছোটবেলা থেকে মনে মনে তোমাকে নিয়ে কত কিছু ভাবতে ভাবতে আজ আমি পরিণত...
অনার্স শেষ, মাস্টার্স চলছে। এখনও কি তোমাকে পাবার সৌভাগ্য আমার হবে না...
ভালোবাসা বাসি মানুষদের দেখে আমি ক্লান্ত, তোমায় খুব দেখতে ইচ্ছে করে...
কেমন তুমি, জানি আমার জন্য অপেক্ষায় তুমিও অস্থির, তবু মন যে মানে না...
যেদিকে তাকাই শুধু মনে হয় এই বুঝি মনে হয় তুমি পেছন থেকে এসে আমার হাতটি ধরবে...
আমার সম্পুর্ন ভালোবাসা জমতে জমতে বরফ থেকে পাথর হতে চলল, তবুও...
আমি তোমাকেই পেলাম না...
মাগো তাকে বলো---
মাগো তাকে বলো যেন উঠোন খানি নিকিয়ে রাখে,
আমি তারই কাছে আসবো ফিরে এই কথাটি মনে রাখে ।
সকাল বেলার সোনা রোদের একটুখানি ধরে রাখে,
নিশিথ রাতে হাস্নুহেনার সুবাস বুকে ভরে রাখে ।
শরত প্রাতের শিশির কণা ডাগর চোখে জমিয়ে রাখে,
সাঁঝ রবিটার লাল টুক টুক লালিমাটা গালে মাখে ।
কাল বোশেখির উতল হাওয়ায় হদয় পরাণ জুড়িয়ে রাখে ।
আমি তারই কাছে আসবো আবার এই কথাটি মনে রাখে ।
মাগো তারে বলো যেন সাঁঝ প্রদীপটি জ্বেলে রাখে,
শীতল পাটি পরিপাটি সযতনে পেতে রাখে ।
মেঘলা দিনের ' রিম ঝিম ঝিম' বুকের খোপে লুকিয়ে রাখে,
'বউ কথা কও' বউ পাখিটির 'গোপন কথা' গোপন রাখে ।
আমি ফিরে এসে চাইব সবই এই কথাটি মনে রাখে ।
'প্রেম করা শিখিয়েছি-----'
‘প্রেম করা শিখিয়েছি-----‘
এ টি এম কাদের
প্রেম করা শিখিয়েছি তোকে যে আমি ।
চুপিসারে অভিসারে নিয়েছিও আমি,
তোর বুকে যে হৃদয় ধুক ধুক করে
কান পেতে শোন সেথাও রণিতেছি আমি ।
সেই তুই কি করে যে অন্যের হলি------- হায় অন্যের হলি !!!
(তোর) অধরে প্রথম চুমু এঁকেছি ও আমি,
(তোকে) শির শির শিহরণে জাগিয়েছি আমি,
তোর খোঁপায় প্রথম ফুল দিল যে অলি ,
স্বপ্নের সে রাজপুত্তুর সেও যে আমি ।
সেই তুই কি করে যে অন্যের হলি----- কি করে হলি !!!
(তোকে) মিলনের স্বর্গ সুখ দিয়েছি ও আমি,
বিরহের জ্বালা তাও দিয়েছি আমি,
তোর উচ্ছ্বল ছলছল ভরা যৌবনে
খোঁজে দেখ সেখানেও আমি শুধু আমি ।
সেই তুই কি করে যে অন্যের হলি ------ আহা অন্যের হলি !!!
ভালোবাসার বন্ধু আমার..
বন্ধু তুমি মনের ভুলে-ও যেয়োনাকো ভুলে বন্ধুকে,
রেখে দিও তারে দৃষ্টি মাঝে না’ই যদি দেখো দুই চোখে..
বন্ধু তুমি বন্ধুকে রেখো মনের কোণেতে আনমনে,
স্মৃতির পাতায়; ভবিষ্যতে, বর্তমানে – সব ক্ষনে..
বন্ধুকে কভূ ভুল বুঝোনাকো ভুল অভিমানে ভুল করে,
রাগ ভেঙ্গে সদা; দুঃখ মুছে তার, হাসি-খুশি রেখো মন ভরে..
বন্ধু জ়েনো গো; আজো বন্ধুর, বন্ধু বিহনে মন পোড়ে,
চোখের পাতা’য় মেঘ করে আর বর্ষা বিনে-ও জল ঝরে..
বন্ধুর পথে বন্ধু’র গানে তাল দিয়ে যেও সুরে,
ভালো থেকো তুমি; ভালোবাসা নিও, রও কাছে কী বা দূরে।।
শুধু তুমি
শুধু তুমি
এ টি এম কাদের
প্রত্যূষে ঘুম থেকে উঠে
দাঁত মাঝতে মাঝতে অবাক হয়ে দেখি
বেসিনের স্বচ্ছ গতরে তুমি ফোটে আছো !
আমার হাত থেমে যায় ! অপলক দেখতে থাকি—
তোমার শ্বেত-মুক্তো দাঁত, রক্তিম গাল, লাল গোলাপ ঠোঁট ।
আমার মুখ নেমে আসে, আমি ঝুঁকতে থাকি—ঝুঁকতে থাকি ।
‘ খুট ’ করে শব্দ হয় ।
দোর খুলে কেউ বেরিয়ে যায় বাথ রুম থেকে ।
সম্বিৎ ফিরে পাই । তাড়াহুড়ো ডুকে পড়ি ।
দরজার খিল এঁটে শাওয়ার ছেড়ে দিই ।
জলের শীতল পরশ ! আহা কি কোমল !
মনে হয় তুমিই গলে গলে তরল হয়ে
আমার সমস্ত অবয়বে আদর করছো !
আবেশে চোখ বুজে স্থির হয়ে থাকি !
আমি দাঁড়িয়ে থাকি---দাঁড়িয়ে থাকি !
‘টক টক’ দরজায় টোকা পড়ে ।
সহকর্মী কারো তাড়া ।
তোয়ালে দিয়ে গা মুছতে মুছতে হঠাৎ থমকে যাই !
অবাক বিস্ময়ে দেখি—দেয়ালে লাইফ সাইজের আয়নায়
ক্রমে তুমি পষ্ট হচ্ছো !
তোমার কুন্তল, কপাল, ভ্রু, চোখ, কান, নাক, কপোল,