ইউজার লগইন
কবিতা
তুমি কিংবা তুই
"তোমাকে চায়"
রাত ১০:৩১, বুধবার ১৩-০৭-২০১১
মেঘলা রাতের জোছনা এবং জোনাকি মিলে
কলমিলতার ঘ্রাণে পাগল কাজল ঝিলে
ঘাসফরিংয়ের ডানায় উড়ি নিরবতায়
এসব কিছু কেবল যেন তোমাকে চায় ।
"তোর আবেশ"
10:47pm, Sat 21-05-2011
আজ আমার আকাশ জুড়ে ওড়েনি গাংচিল।
ফোঁটা জল তোলেনি ঢেউ, স্তব্ধ বিল-ঝিল।
ধোঁয়া ধোঁয়া বিকেল হঠাত্ তারায় ঝিলমিল।
তোর আবেশে আনাড়ি কবি খুঁজে অন্তমিল।
তন্দ্রার নগরে
তন্দ্রার ভেতরে স্তুপাকৃত তোমার নগর; সারি সারি রুগ্ন দেবদারু
ফুটপাথে বিছানো সঙ্গমরাত- আমি হেঁটে যাচ্ছি, হেঁটে যাচ্ছি-
চলে যাচ্ছি গোধূলি বৈভবে। অদৃষ্টের উপেক্ষার পরেও নিস্তব্ধতা থাকে।
রাত্রির পতঙ্গে চুমু খাবো, আকাশ থেকে লাল বারুদের ষড়যন্ত্র
নেমে আসলে। তোমার তন্দ্রার নগরে শীতার্ত গারগেল হবো দেখে নিও।
প্রতিমার নিচ দিয়ে
ঘাসের আদরে ভুলে যাই শরীরের ব্যাধি।
রুপান্তরের মধ্যে দিয়ে অরূপ ও রূপ।-
আমি বুঝি দাড়িয়ে বাঁশের কন্চি গুনি!দন্ডায়মান স্বরূপ।
আৎকে উঠি
ঠাকুর ঘরের দোর ঠেলে এই যে কে বের হয়ে এলো।লালা ঝরছে ঠোট বেয়ে।
প্রতিমার নিচ দিয়ে আবছা ইঁদুরপথ।
তারই মধ্যে দিয়ে এখন প্রবাহিত পূজারীর গোপন অশ্রুকণা।
ঘাসের আদরে ভুলে যাই দৈহিক আচরণ।
যে দেহ না হলে এই ভুলে যাওয়া হতো না।-
তার নামে না হয় থাকলো দু'কুড়ি চারটে প্রণাম।
আৎকে উঠি
নামের মানুষজন আমার নামের মুখোমুখি
কালি হাতে,
অনন্তকাল।
আমার সন্তানেরা
যখন আমি ভরপেট হাঁসের ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে
ঝরে পড়ি অবহেলিত খুদ কুঁড়োর মত
ঝলমলে কলম আমার
ভরন্ত প্রসব বেদনা নিয়ে তখন
গচ্ছিত ভ্রূণ ঢেলে দেয় পরিণত শব্দের প্যাঁচে ।
একেকটা বাঁকানো শব্দ; সুবর্ণলতার চেহারায়
কলমের জরায়ু থেকে বের হয় আশ্রয়ের পরিচিত ঘ্রাণে ।
কলম জগতের শ্রেষ্ঠ প্রসূতি !
ক্লিনিকের শুভ্র বিছানার মতো উষ্ণ কাগজে শুয়ে
আমার সন্তানেরা পিটপিট করে চায় ।
ফসলের বিস্ময়ে কেটে যায় নিষ্ফলা তান ।
আমি পিতৃত্বের চুমু এঁকে দিয়ে
কাঁচা অক্ষরের কানে কানে উচ্চারণ করি-
ভাঙ্গনের কঠিন আযান !
বাবা
আমি অনেক আগে শিশুতোষ কবিতা লিখতাম এবং সেই লেখাগুলো আমার কাছে বেশ যত্ন সহই সংরক্ষিত আছে। মাঝে মাঝে লেখাগুলো পড়ি এবং নিজের মনে হাসি। তবে হাসাটা মনে হয় ঠিক হচ্ছে না। কারণ একসময় আর কিছু না হলেও এসব লেখার 'চেষ্টা' করতাম। এখন তো তাও করি না। সুতরাং হাসলে হাসা উচিত আমার এখনকার অবস্থা দেখে। যাই হোক একবার বাবাকে নিয়ে লিখেছিলাম। কবিতাটা এখানে তুলে দিচ্ছি। আমার বাবা বেঁচে আছেন। যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। সময় সময় আমার আসলেই তার কথা ভীষণ মনে পড়ে। এটা নিতান্তই ছোট একটা ছেলের শিশুমনের আবেগ। কিন্তু ওই যে বললাম না, এখন তো আর লিখি না। লিখলে হয়তো এই কবিতাটা দেয়া লাগতো না। আরো ভালো কিছু দিতে পারতাম।
------------------------------
মনের স্মৃতির জানালা খুলে
তোমায় মনে পড়ে,
কোথায় তুমি লুকিয়ে আছো
আমায় একা ফেলে।
তোমার মতো প্রতিদিন কেউ
করে না আমায় শাসন,
মনে পড়ে তোমার বকানি-
তোমারই কথা ভীষণ।
ক্যান আসো ফিরে (খুলনার আঞ্চলিক ভাষায় লিখিত কবিতা)
হাত ধইরে মারো যদি টান
টাল খায় কলজের ঘর ।
ধুয়ে যায় মান আর অভিমান
কামনায় প্যাঁচ খায় কণ্ঠের স্বর ।
সুন্দরী ! কও দেহি শুনি,
তুমি যদি প্রেমই নিতি চাও;
চোখ দিয়ে যদি কিছু কই
লাল হয়ে ক্যান ফিরে যাও ?
ছুইটে চলে গাঙ্গের পানি,
এই দ্যাহো জুয়ার অই দ্যাহো ভাঁটা ।
তুমিও গাঙ্গের মত সই
আসার আগেই ধর হাঁটা ।
ভালবাসা না-ই যদি থাহে
তালি কও, ক্যান আসো ফিরে
আমারে মুছতি দেইহে চোখ,
ভীরু চোখি চুপচাপ ধীরে !
কাছিমের চুম্বন একচেটিয়া এবং
সাপের জিহ্বার মতো আকাশের বিদুৎচমক
তোমাকে পাল্টে দিল রাস্তা চেনার পাঠক্ষেত।
বিদ্যার বদলে তোমার রাস্তা গেল আলয়ের দিকে।
এবং তারপর অবিদ্যা অধিবিদ্যার পথ গিয়ে থামলো বাইজিদ বোস্তামির মাজার প্রাঙ্গনে।
সেখানে হলুদ অক্ষরে মেট্রাপলিটন সঙ্কেত বার্তা:
কচ্ছপে কামড়ে ধরলে মেঘ না ডাকা পর্যন্ত ছাড়ে না'
তোমার অধিবিদ্যাতে আগ্রহ নেই
মেঘ ডাকছে
তুমি পা চুবিয়ে ধরলে ।
তোমার জ্বালা বেড়ে গেল
কাছিমের চুম্বন একচেটিয়া এবং দীর্ঘতর।
২১ এর প্রার্থনা
ঈশ্বর আমরা ষোল কোটি বাঙ্গালী,
হাতে গোনা ক’জন বেজন্মা বাদে---সবাই
নতজানু তোমার দরবারে,------ কায়মনোবাক্যে
প্রার্থনা করি প্রভু !
তুমি আমাদের প্রার্থনা শোন !
এই দেশ, এই মাটি আর এই ফসলের মাঠ,
এদেশের আলো-বাতাস-জল আর সবুজ বনানী,
মেঘ-বৃষ্টি-রোদ আর ফুল-পাখি-গান,
সর্বোপরি এ দেশের মানুষ আর এই মৃত্তিকার সন্তান,
এসব তুমি রক্ষা করো প্রভু !
রাজনীতি নামের দুর্নীতির ক্রুঢ়তা থেকে,
রাজনীতিক নামের কীটদের হিংস্রতা থেকে,
ওদের বিষাক্ত নিঃশ্বাস থেকে ,
অহেতুক জেদাজেদির সর্বনাশ থেকে,
হরতাল আর গণতন্ত্রের গণযন্ত্রনা থেকে !
ঈশ্বর আমরা চাইনা, কেউই চায়না ---
আমাদের সন্তান মস্তান হোক !
চাইনা ঝাপ্টাবাজ বা চাঁদাবাজ হোক !
খুনি, ধর্ষক কিংবা নেশাখোর হোক !
অথচ ওরা ওই কথিত জন দরদীরা
নিজেদের সন্তান বিদেশে সড়িয়ে রেখে,
এক টিকিটে দুই ছবি
(প্রথম ছবি : একটি নামহীন কবিতা)
আমার যখন কলম খোলে না
বুকের ভেতর ঝিকিরমিকির নদীর রেখায়
বেলীফুলের বাতাস লাগেনা,
রাত তলানো কান্না জোটে না
টান হারিয়ে ঢিলে তালের একতারা এই
দেহের তারে ছন্দ মেলে না ।
নিকোটিনের আঁধার গুড়িয়ে
কাজল রেখায় অবহেলার সুরমা মেখে
নামতামুখর নূপুর বাজিয়ে
আসতে সাধি প্রসাদ সাজিয়ে
হয়তো তবে ভেতর থেকে ডুকরে ওঠা
পঙক্তি দেবে ঊষর ভিজিয়ে।
(২য় ছবি : একটি আবেদন)
অধম আশরাফুল আলম খুলনা থেকে স্বপ্নতরী নামের একটি ক্ষুদ্র মাসিক শিশুতোষ পত্রিকা সম্পাদনা করে ।
আগামী পাঁচ তারিখের ভেতর আপনাদের কাছ থেকে যে কোন ধরনের শিশুসাহিত্য কামনা করছি ।
লেখা মেইল করার ঠিকানা : shapnotori@gmail.com
তোমাকে ছাড়া বেঁচে থাকা
তোমার দীর্ঘ অনুপস্থিতি আমাকে
তোমাকে ছাড়া বেঁচে থাকা শিখিয়েছে
তোমার নির্দয় চলে যাওয়া আমাকে
চোখে জল নিয়ে মুখে হাসি দিয়েছে
হাত বাড়িয়ে তোমাকে ছুঁতে না পারার
বেদনা শীতল নিজেকে গোটানো দেখিয়েছে।
জানিয়েছে এভাবেও বেঁচে থাকা যায়
অসহ্য যন্ত্রনায় তোমার বুকে কাঁদতে না পেরে
শিখেছি কান্না কি করে গিলে ফেলতে হয়
জীবনের প্রতিটি আঘাত আমাকে আরো দৃঢ় করেছে
আজ আমি জানি জীবন কাটবে জীবনের নিয়মে
ভালবাসা হারিয়ে যাবে ভালবাসার নিয়মে
তারপরো অপ্রত্যাশিত কোন আশা মনে নিয়ে
রোজ সকালে আমি চোখ মেলি।
প্রতিদিন আমি পথ চলি।
তানবীরা
৩১/০১/২০১
তোমার জন্য কবিতা
তুমি যখন কবিতা লিখতে বললে,
শব্দগুলো নিজেরাই কবিতা হয়ে উঠলো ।
তুমি যখন ফুল হয়ে গেলে-
সৌরভগুলো সব তোমার হয়ে গেল ।
এ ফেরোমোন ডাকছে আমায়;
শেষ বিকেলে পথ হারানো হরিণীর মত।
শুধু তোমার জন্যই শাদা গাংচিলের ডানায় আনন্দ ভাসাই
আর ওমে খুজে নিই
পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনার ঘ্রান।
শুধু তোমার জন্যই
ভালোবাসি- না বলে ভালবাসাই হয়ে যাই ।
চুমু না চুমুক
ওষ্ঠে অধর লেপ্টে একটা চুমু দিতে গিয়েই
জিহ্বায় একটা লাগল দারুন ছ্যাঁকা ,
মুখটা হঠাত্ সরিয়ে নিতে গিয়েই
খেলাম একটা বিষম ভ্যাবাচেকা ।
সেই ওষ্ঠ বিমুখ ছিল বোধয় নিজেকে রাঙিয়ে ,
উষ্ণ ছোঁয়ার আবেগ বুকে নিয়ে
আমায় ডেকে ডেকে শেষে
অবহেলার রেশে
অভিমানে ফিরিয়ে তো দেবেনা !
তখন ওসব কিছুই মাথায় নেই
ওষ্ঠাধরে জুড়ে গেছে ডানা ।
উড়ে উড়ে নেশায় কেমন বুঁদ
চোখের পাতায় সপ্ন নীল হলুদ ।
হঠাত্ দুচোখ মেলে ধরি যেই
টগবগিয়ে উঠছে দেখি ধোঁয়া ।
ওষ্ঠে অধর ছুঁইয়ে দিতেই ছ্যাঁকা
বাপ রে বাপ !
ওষ্ঠ নয় , সে গরম চায়ের কাপ !
মাতৃভূমি
- - - - - - - -
- - - - -
- - -
- -
-
-
.
. .
. . . .
. . . . . .
. . . . . . . .
. . . . . . . . . . . .
. . . . . . . . . . . . . . . . .
কাজলা মেঘের আঁচল তলে
হাজার নদীর শুদ্ধ জলে
সিক্ত করে করুন ডাঙা ,
সে আমারই মাতৃভূমি ।
ছায়াঘেরা শ্যামল গহন
জুরায় তনু শীতল পবন
পাখপাখালীর কলগুঞ্জন
কোখায় গেলে পাবে তুমি !
রক্তে ভেজা পবিত্র মাটি ,
তারই উপর গতর খাটি
কৃষাণ ফলায় সোনার আঁটি
শ্রদ্ধায় বারে বারে নমি ।
আকুল করে এই বাংলার
স্নেহে ভরা শত উপাচার
মরণেও তাতে পাই যেন ঠাঁই
মাতৃভূমির চরণ চুমি । ।
১১/০৩/০৭
(অন্য কোখাও)
নওতো ছবি
শিল্পীর তুলি আঁকা নওতো ছবি,
শাশ্বত মৃত্তিকায় গড়া মানবী অয়ি !
তবুওকি চিরকাল র’বে ছবি হয়ে—
আমার জীবনে হে পাষাণ হৃদয়ী !
মোনালিসা নওতো গো ক্যানভাসে গড়া,
স্বরগের অস্পরী নও চাঁদ তারা !
কেন তবে মোনালিসা চাঁদিনীর মতো
হাসি দাও আলো দাও, দাওনা ধরা !
যদিও কবিতা তনু, কবিতাতো নও,
ফুল ওতো নও যে শুধু মূক হয়ে রও!
কেন তবে কবিতা বা কুসুমের মতো,
অনুভবে নাহি আসো সুবাস ছড়াও !
আনটাইটেল্ড রোমান্স
উত্সর্গ : শ্রদ্ধেয় তানবীরা আপুকে, আমার সব কবিতা যার মাথার উপর দিয়ে যায়।

শরমবতী বৌ এর মতো আড়াল নিলে কুসুম রঙের দিন
চক্ষু পোড়ায় জলের মতো নিবিড় সজল তোমার ঠোঁটের ঋন ।
কমলা পিঠের শ্যামলা তিল আর সর্বনেশে তোমার ছলাত্ বুক
চাঁদের মতো জোছনা দিয়ে ভাসিয়ে দেয় মনের জমিন টুক ।
তোমার কাছে বারুদ কাঠি, শুকনো হৃদয় রাস্তা ঘাটে খুব
আমার দারুন আদর মাখা বুক , তবু দিলে গভীর জলে ডুব।
আমার আছে নীল কলমে তরল হয়ে ধুসর রঙা দুখ
হিসেবপটু চতুর মেয়ে, সুখ খুঁজেছ, থাকুক তোমার সুখ।