ইউজার লগইন
কবিতা
আমার প্রথম পোস্ট
এবি'তে এটা আমার প্রথম পোস্ট। যেকোন ধরনের ব্লগেই এটা আমার প্রথম লেখা। অনেক আগে কবিতা লিখতাম। সেসব নিতান্তই শিশুতোষ কবিতা ছিলো। সেই খাতাটা আমার কাছে আছে। ইচ্ছা ছিলো সেই কবিতাগুলো এবি'র পাতায় লিখে রাখার। কিন্তু প্রথম পাতার মৃত্যূ এবং তারপর... পোস্টটা পড়ে আজ অনেকদিন পর একটা কবিতা'ই লিখতে ইচ্ছা হলো। আমি মৃত্যূ নিয়ে খুব বেশি ভাবাভাবি করি না। এটা নিয়ে ভেবে অভ্যস্তও নই। তবু ভাবতে বসে খুব অবাক হয়ে খেয়াল করলাম, কিভাবে মারা যেতে চাই সেটা আমি মনে মনে ঠিক করে রেখেছি।
---------------------------------------------------------
মৃত্যূ নিয়ে ভাবতে ভালো লাগে না।
হয়তো আরো অনেক দিন বাঁচার ইচ্ছা আছে আমার।
সবশেষে স্বাভাবিক মৃত্যূ বরণের সুযোগ
পেলেই আমি নিজেকে ধন্য ভাববো।
চাকার তলে পিষ্ট মাথা
উত্তপ্ত পিচের উপর ইতস্তত লেপ্টে থাকা মগজ
রাতের রেশম অন্ধকার
আজ সন্ধ্যায়, চায়ের কাপেরা অনেক বেশিই ব্যাস্ত ছিলো
হাতে-হাতে
ঠোঁটে-ঠোঁটে
স্পর্শে এবং অবহেলায়।
বহমান নদী, পথভুলে, নাগরিক যানজটে হারিয়েছিলো
জীবনের অনেকটা গান।
টেলিভিশনের রঙচঙে পর্দায়,
মুখোশের আড়ালে, শত শত চোখ, লোলুপ তাকিয়েছিলো
রেশমী কিংখাবে ছড়ানো ছিটানো তারাদের দিকে।
রাত নেমে আসে শহরের শরীরে
নদীর ভেজা বাতাসে
কুয়াশা ছোঁয়া নিঃশ্বাসে এবং প্রশ্বাসেও।
ক্লান্ত আমি,
অন্ধকারের রেশম রেশম আবেশে ভিজিয়ে নেই দু'টি পা।
ফুটপাথ
প্রথমত , ক্ষমা চেয়ে নিই , বেশ কিছুদিন বাদে ব্লগে আসার মার্জনীয় অপরাধের জন্য । দ্বিতীয়ত , এই উছিলায় ব্লগার বন্ধুদের সামনে পেশ করি এক বিশেষণহীন বস্তু (কবিতা ট্যাগ দিলাম , ভুল হল বোধ হয়) যাতে চোখ বোলালেও ক্ষতি নেই ।বস্তুটি নিম্মরূপ :
ভাবুকের
কামুকের
পাথুরের
শরীরী তেজী বুকের
গত বাঁধা রক্তের
আবেগী উষ্ণতা ,
রাতজাগা ঝিঝিদের
প্রহরী কুকুরদের
ধূর্ত শৃগালদের
বেমালুম নীরবতা ,
হৃদয়ের হিমালয় গলে
নেমে আসে ঐ
স্বগত কল্লোলে -
সকলে মিলেমিশে করে হৈ চৈ -
শীতের ফ্যাকাশে রাত ,
নাক ডাকা রাজপথ ,
কম্পমান ফুটপাখ
এবং
কুয়াশার শরীরী উত্তাপে উত্তপ্ত
মোমের মত
গলে পড়া শত শত
শতভাগ ফুটপাথ মানব !
নরকের কীট
একদা কি করে জানি
কিছু নরকের কীট
মর্ত্যে নেমে এলো !
পৃথিবীর সবচে উর্বর
মাটিতে করলো ঘর ।
তারপর---------
দিন মাস বছর—
কেটে গেল বহুদিন !
অতঃপর একদিন
বিবর্তনের স্বাভাবিক নিয়মে
ওদের দেহে
অঙ্গ প্রত্যঙ্গ গজালো
অবিকল মানুষের !
এবং
ওরা মিশে গেল মনূষ্য সমাজে !
কিন্তু-----------
মানুষ হলোনা !
নরকের যাবতীয় দূষণ
রয়ে গেল ওদের শিরায় ।
পৃ্থিবীর কোমল আলো-জলে
পরিশুদ্ধ হলোনা একটুও !
মননে শতভাগ ওরা
থেকে গেল নরকের কীট,
যদিও ওদের দাবি
ওরা নাকি রাজনীতিবিদ !
ছেড়ে দেয়া মানে হেরে যাওয়া নয়
ছেড়ে দেয়া মানে হেরে যাওয়া নয়
ফিরে আসা মানে পরাজয় নয়
চোখে যা দেখি
সবসময়, সত্যি কি তা হয়?
স্বপ্ন দেখা মানে ভালো ঘুম নয়
মনের যন্ত্রনা মনে ঠিকি বয়
পথ চলায় কাউকে
ভালো লাগলেই, কি প্রেম হয়?
একা থাকা মানে কিন্তু একাকীত্ব নয়
হৃদয়ের মাঝখানটি হয়তো পলিময়
নিজের সাথে থাকে
অস্তিত্ব, লোকে কেন একলা কয়?
আকাশজোড়া মেঘ মানে মন খারাপ নয়
নবধারা জলে কিসের আবার ভয়
বৃষ্টি ভেজা মন
পুড়িয়ে, উড়ে কি যায় অনুতাপের ক্ষয়?
ভুলে থাকা মানে ভুলে যাওয়া নয়
কিছু কিছু ক্ষত জীবনভর রয়
প্রতিদিনের অভ্যাসে
পরাজিত, সব গ্লানি কি হৃদয়ে সয়?
তানবীরা
১৩/১/২০১২
দাঁড়াই জলের অতলে
আকাশের নৃত্য; নৃত্যময় আকাশে নিত্য নতুন খবর আসে
জলদকণা সিঞ্চিত ও সঞ্চিত।
বারতা পাঠিয়েছে মেঘ জীবন থাকুক আমার সোল্লাসে
ঘ্রাণে মত্ত মাতাল মৌতাতে
পূর্ণিমা রাত সশব্দে থমকে
হাইহিল স্কার্টে নগ্ন উঠে উথলে সজীব কৈশোর কোলাহল
ওদিকে দাঁড়ায় এক মসলিন চাতক পাতক ইশারায়
বুকের কিনারায় সরু সরু মাস্তুল শাবল খর চালায়
রৌদ্র আকাশে ঝিরিঝিরি হাওয়া মৃদু বহে দু'কূল
ছন্দহারা বণিক কি নেবে বাকিতে তার ভুল?
আদিগন্ত আমি ছুটি মাঠে জোনাকি জ্বলানো পথে
অন্ধ আর্তনাদ ভাসাই প্লাবনে আঁধার মধ্যাহ্নের দেহে
প্রাণান্ত বাঁচতে দিই লম্ফ আরো গভীরে খাই খাবি
ডুবে মরা জলে দেখা মেলে আলোর অতলে দাঁড়াই আসি।
জোনাকীর অভিমানে পুড়ে যাওয়া গন্ধরাজ
*
ওয়ালেট ভর্তি অস্থিরতা নিয়ে ঘুরে বেড়ানো এদিক ওদিক
মাঝে মাঝে ছড়িয়ে রাখা টেবিলের বার্ণিশড সমতলে
অস্থিরতা বিলাস পালিত হলো আজ সারাদিন ধরে।
উইন্ডশীল্ড জুড়ে সারাক্ষণ ছবি এঁকে চলেছে
রাগী রাগী চেহারার বৃষ্টি সাপের দল।
উল্লিখিত উপাত্তটি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়
সাইনবোর্ড নিয়ে মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে পুলিশ এবং ওরা। তাই,
উড়ে গেছে পরিযায়ী বালিহাঁস
ঠোঁটে মেখে নিয়ে ধুলোবালি আর সবুজের গান।
সযত্নে সাজিয়ে রাখি ভঙ্গুর সময়ের ঘ্রাণ
আর, জোনাকীর অভিমানে পুড়ে যাওয়া একটা গন্ধরাজের ঝোপ।
জোনাকীর অভিমানে পুড়ে যাওয়া রজনীগন্ধা
*
ওয়ালেট ভর্তি অস্থিরতা নিয়ে ঘুরে বেড়ানো এদিক ওদিক
মাঝে মাঝে ছড়িয়ে রাখা টেবিলের বার্ণিশড সমতলে
অস্থিরতা বিলাস পালিত হলো আজ সারাদিন ধরে।
উইন্ডশীল্ড জুড়ে সারাক্ষণ ছবি এঁকে চলেছে
রাগী রাগী চেহারার বৃষ্টি সাপের দল।
উল্লিখিত উপাত্তটি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়
সাইনবোর্ড নিয়ে মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে পুলিশ এবং ওরা। তাই,
উড়ে গেছে পরিযায়ী বালিহাঁস
ঠোঁটে মেখে নিয়ে ধুলোবালি আর সবুজের গান।
সযত্নে সাজিয়ে রাখি ভঙ্গুর সময়ের ঘ্রাণ
আর, জোনাকীর অভিমানে পুড়ে যাওয়া একটা রজনীগন্ধার ঝোপ।
মা
তীব্র মাঘের যন্ত্রণা তবু ভালবাসার ওম
সাদা পালক ছুঁয়ে গেছে
আমার জন্মলগ্নে? নাকি জন্ম জন্মান্তরের
সাদা বালিহাঁস ছিলে মা?
তোমার সদ্য কৈশোর পেরুনো দুহাতে
ছোট্ট এ হাত ছুঁয়ে ছিলে তুমি?
পিদিমের আলোয় কেঁপেছিলে তুমি?
মনে নেই মা
কিছূই মনে নেই। ।
সাদা মোমবাতি, সাদা তুলো, খুব সাদা ভিজে ন্যাতা
অসংবৃত রাত্রিতে প্রথম আলো-
ছোট্ট হৃদপিন্ড দেখে কেঁদেছিলে তুমি?
নারীর বন্ধন ব্যাথায় হেসেছিলে তুমি?
মনে নেই মা
কিছূই মনে নেই ।
আজ আরো একবার
তোমার আঁচলে খুঁজে পেতে চাই
সাদা পালকের ওম
তোমার পাঁজর ছুঁয়ে হতে চাই
স্রোতস্বিণী ফেনীল চিৎকার। ।।
বৃষ্টিপাপ অথবা দৃষ্টিপাপ
*
উত্তুরে বাতাসে বৃষ্টিক্ষত ছড়িয়ে যায় ক্যান্সারের দ্রুততায়
টুপ টাপ টুপ টাপ টুপ
জলেদের ছন্দপতন জমা হয় নাগরিক পাপোষে।
অস্থির সন্ধ্যা, মুখ গুঁজে দেয় রাতের কনুইয়ের ভাঁজে
কপাল জুড়ে আলো ছড়াতে থাকা চাঁদের টিপটা বার বার ঢেকে যায়
মেঘেদের এলোচুলে।
বৃষ্টিপাপ অথবা দৃষ্টিপাপ আটকা পড়ে যায়
ছড়ানো ছিটানো স্পাইডার ওয়েবের শ্যেন প্রহরায়।
হাসির উচ্ছল পায়রা ওড়ে চতুর্দিকের কোলাহল সাথী করে
যেখানে কংক্রীট পথ, দু'হাত ছড়িয়ে থাকে আলিঙ্গনের আকাঙ্ক্ষায়।
অশান্ত গাড়িগুলো দ্রুতলয়ে দলে যায় পথের কোমলতা
তখন, বাড়ি ফেরার তাড়া জেগে ওঠে মহাশুন্যবাসী নক্ষত্রদের মাঝে।
বদলি বিষণ্ণতার শব্দ
*
চোখ দুটোতে কাজলের বদলে বিষণ্ণতা মাখা।
আয়নায় কি দেখেছিলে নিজেকে আজ?
চুলে চিরুনী বোলাবার সময়?
নয়তো পথে আসতে তাকিয়েছিলে কি কোনো চকচকে সারফেসে?
আমি জানি,
যতবারই তুমি নিজের প্রতিচ্ছবি দেখেছিলে,
ততবারই নিজেকে লুকিয়েছিলে নিজের কাছ থেকে।
কেন,
বিষণ্ণতার সাথে এমন লুকোচুরি খেলে যাওয়া?
নিজের সাথে নিজের মিথ্যাচার?
আমি বুঝিনা তোমাকে,
আসলে বুঝতে চাইনা।
শুধু জানি তোমার বিষণ্ণতা আমাকেও স্পর্শ করে।
কুয়াশা যেভাবে আলতো স্পর্শে জড়িয়ে থাকে হলদে খড়ের স্তুপ
ভিজিয়ে দেয় নিজের অশ্রুতে।
তোমার বিষণ্ণতাও আমাকে ঘিরে ফেলে মন খারাপের কুয়াশায়।
মাঠ ফেলে রেখে আসি পিছনে,
বিষণ্ণতা লেপ্টে নিয়ে আমার দু'চোখে।
আস্থার রেখা কে দেবে এঁকে
. . . . .
. . . . . .
. . . . . .
. . . . .
. . . . . . . . . . . .
. . . . . . . .
. . . .
. . . . . . .
. . . .
১. আছি জনসমুদ্রে ডুবে,
তবু কেউ নেই,
আমি একাকী চলেছি অথবা ভেঙেছি,
টুকরো করেছি,
ধুলোয় মিশিয়ে পথে নামিয়েছি
এই আমিকেই !
২. আমি চেনা অচেনার জটিল ধাঁধায়
ছেড়েছি আবার ধরেছি হাত,
আমি ঝড়ের তুমুল মেঘের কান্না
শুষে নিলাম এ দুই চোখে ।
আমি চিনেছি রাতি, চিনেছি সকাল,
চিনিনাই তবু একটাও হাত ।
আমি , আজো খুঁজি ফিরে শূণ্য হাতে
আস্থার রেখা কে দেবে এঁকে !!
ম্যাডোনা
হাসিগুলো সামলে রেখো ম্যাডোনা
ঝট করে হেসে ফেলো না ওর মত
আশ্চর্য ভালোবাসার ডালে সে রেখেছিলো মৌচাক
অবশেষে সব খেয়ে গেছে বাতাসের মৌমাছি।
অবশ্য তার মত কখনোই হাসতে পারবে না তুমি
ভেবে দেখো-পূর্ণিমা বা রোদ্দুর
দুটো কি এক হয় কখনো?
তাই টক-ঝাল কামের ট্যাটু যতই আঁক ঠোঁটে
জেনে রেখো, তোমার চেয়ে ওর হাসিই
আমার প্রিয় ডিনার।
(c)MNI, 30.12.11}
আজ এই দিন
এই শীতটা খুব ভালো, আত্মহত্যার উপযুক্ত সময়
খুব একটা কুয়াশা নেই
অথচ সকালে ঘাসের মাথায় শিশির জমে ঠিকই।
অতিথিরা এখনো আসেনি
জলে ডুব দেয়নি মাছের আশায়
আবেগের মত, প্রেমের মত
স্বেচ্ছাচারী উষ্ণতারা এখনো বিদায় নেয়নি
বুকের বাতাস থেকে।
এখনো পথে আগুন জ্বালায়নি কেউ
বাড়তি ঊমের আশায় হাত সেঁকে নেয়নি
এখনো কোন পুরাতন।
তাই আজ সন্ধ্যায় যদি
ওই পথে পড়ে থাকে বকুলের ফুল
একটা একটা করে কুড়িয়ে নেবো পেেকটে
আর নাতিশীতোষ্ণ চাঁদের দিকে তাকিয়ে বলবো
হাতের কাছে এখনা পড়ে আছে অনুভবের সুর, দেখো
আজ তোমার আত্মঘাতি হবার শ্রেষ্ঠ কাল।
{(c)MNI ২৯.১২.১১}
স্মৃতি কথা, স্পর্শ উপাখ্যান-১
তোমার সাথে স্পর্শের কোন স্মৃতি নেই।
তাই চোখ দুটোকে ওরা হিংসা করে বেশ
তোমার কথা শোনে কানদুটো সন্যাসে গ্যাছে
ঝলসে যাওয়া কানে শুনি না কিছুই আর।
তোমার সাথে আমার কোন স্পর্শ নেই।
একটু বেশিই তোমায় দেখার ছিল
আর একটু বেশি শোনার…
একটি কথা তোমায় বলার ছিল
বাকী রইল। থেকেই যাবে।