ইউজার লগইন
কবিতা
সে রাত
সে রাতে চন্দ্রমল্লিকায় কোন গন্ধ ছিল না
যেন লাশ কাটা ঘরে সাদা চাদরে মোড়া নিস্তব্ধতা
জোছনার কাফনে ঢাকা চাঁদ -
লোকালয়ে লোকালয়ে লোবানের মহোৎসব
মৃত ফুলেদের সাথে ছিল ফুলশয্যা।
সে রাতে বৃষ্টির উচ্ছাসে ছিল প্রিয় গান
পেখম ছড়ানো অতীত
মেথীর মাদকতায় আতরের ঘ্রাণ
করতলে মেহেদীর ঘা
হাজারো ফাটল ধরা জীবন সিড়ি।
সে রাতে অতন্দ্র প্রহরী চোখ রেখেছিল বাঁধি
জলে ভিজে স্বপ্নেরা চুড়াচুড়
আগুনে লেলিহান দেহমন
স্মৃতি পারাপার নদী ভাটার টানে
বয়ে চলে প্রতিমা বিসর্জনে ।
সে রাতে চাঁদ ছিল, ফুল ছিল
স্বপ্ন ছিল, অশ্রু ছিল
বৃষ্টি ছিল, আগুন ছিল
লাল বেনারসির কফিনে ছিল নিথর দেহ।
না-না / মুহাম্মাদ আমানুল্লাহ
এখন আঁধার, নিকষ আঁধার-শুনি শুধু হুতোম পেঁচার ডাক,
আড়মোড়া ভেঙ্গে দেশলাই খুঁজে সহজে অবাক... ... ...
আমার পৃথিবী নড়েনা চড়েনা কেমন আদিম বোকা
এখন চাঁদ তারা স্বপ্ন প্রেম কিছু নেই-
জানালার পাশে উড়েনা এখন একটি জোনাক পোকা।
না-না, এটাকিছু নয়-হয়তো ভূতের বাতি,
এটা কি সোনার ডিম;
এখনো গোখরো চরে বিষাক্ত ফণায় জমে পউষের হিম।
বসন্ত-যন্ত্রণা….নীলাঞ্জনা নীলা
**সুমনা যাকে আমি ভুলে যাই , কিন্তু ঋতু বসন্ত ভুলতে দেয়না**
সেই মূহুর্তে চোখ বন্ধ করি ।
অনুভূতির সব কয়টি দরোজা-জানালা লাগিয়ে দেই দ্রুততার সাথে
যেনো কিছুতেই ঝড়ের মাতমে ভেঙ্গে না পড়ে ওপরের ছাদ
ধূলো-বালিতে ভরে না যায় মস্তিষ্কের যন্ত্রপাতি ।
আবেগ আর বিশ্বাসে যেনো না পড়ে টান ,
একটুকুও যেনো কমতি না হয় প্রেমের ।
যদিও ইচ্ছে করে আদিম অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে মুখোশ পড়া মুখে
কিছুতেই পারিনা ।
তাইতো মনের ইচ্ছেগুলো কে অজ্ঞান করে রাখি ।
কোথায় আর থাকে !
চেতনানাশক ঔষধটা যে ভেঁজালে ভরা---
তোমাকে ভালোবাসার শাস্তি পাচ্ছে এই চোখ-অনুভূতি-মন-ইচ্ছে ।
অন্যদিকে তুমি নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছো এখানে-সেখানে ;
আর তোমার বুকে , চোখে , শরীরের সবখানে , মনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে আমিহীন কারুকাজ ।
হৃদয়ে নাকি ভালোবাসা থাকে , আর আমি প্রেম কে ধারণ করেছিলাম অস্তিত্ত্বে (মানে এই নিঃশ্বাসে )।
কেন এমন হয় ?
ডায়েরি ১
ভেতরটায় একটা জন্তু ডাকছে । একটানা অনবরত ; নীল মাছি ভরা মৃতদের মচ্ছবে । সমুদ্র সঙ্গমে চলে গেছে কয়েকটি নদী ; আর ফিরে আসবে না বলে ।
এদিকে শুকিয়ে কাঠ অই বদ্বীপ । বুনো অন্ধকার বিষণ্ণ করে দেয় তোমার পতিত জমিন ।তির তির করে কাপতে থাকে প্রথম বোতাম খোলার অস্থির উল্লাস । ঘাসের বুক থেকেই শুকিয়ে যায় শিশিরস্মৃতি ।তোমার চোখে ভর করে বিষ কন্যার দৃষ্টি ।
অস্থির হয়ে জন্ম নেয় মহাস্থানগড়ের ভোর । আর খিস্তি খেউরের ফুল্কি ছোটে ক্রমশ একটি কাকের মুখ থেকে ।
প্রবল পৌরুষ আর্তনাদ শোনা যায় সহর সভ্যতার। মিথস্ক্রিয়ায় জন্ম নেয় নতুন দুঃস্বপ্ন ।
এবার মনে হয় সময় হল নীলকণ্ঠ হবার ।
প্রতারণার কলম্বাস
হীরকরাজার সবুজদ্বীপে যাবনা যাবনা
ঠাকুরমার ঝুলি কক্ষোনো পড়বোনা
গোয়ালে গোরু, কুমারীত্ব লুপ্তপ্রায়
পতি পরম গুরু, রমণীর চরণতলায়৷
বাংলার বধুর মধুমাখা বুক ফাটিবে
পুরুষদের লালসায় ধর্ষিত হলেও
অকুমারীর দোষে নয়নে নীরব ভাষা
পুরুষের কৌমার্যের দাপট রীতিতে
দাসী রমণীর মুখ ফুটিবে না।।৷
ধর্মের মহিমাই মানবাত্মার উচ্চতান
আবার ধর্মই পৈশাচিকভাবে
পতিতের গলায় চাপে আসুরের পা
ইহাতে ধর্ম যন্ত্রেরই বা কী দোষ!
মাথার ওপরে ধর্মের দীর্ঘশ্বাস
আদতে শুধু প্রতারণার কলম্বাস
শকুনের মত দৃষ্টিহানা অপাঙ্গ
অন্তঃপুরে অর্থলোলুপ শরীরি-বিভঙ্গ।।।।৷
রহস্যের চোরাগলি (একদিন মায়াপুরী ভ্রমণ )-----------নীলাঞ্জনা নীলা
সুখের গালে চিমটি দিয়ে
ভালোবাসা শেখাবো তোমায়
তুমি কিভাবে যাবে ?
এখানে সীমিত পথ ।
আমার রোদ , বৃষ্টি আগলে রাখে
মায়াপুরী ।
কিছুদূর এগুলেই নিশ্চিন্তের শয্যা
ঠিক ওখানেই ঘুমুবে
উপত্যকার ছায়ায় ।
তারপর ,
স্নান হবে আমার শিশিরে ।
ভেঁজাবো তোমার মাটি
আলতো রোদে জড়াবো শরীর
আবীর হয়ে ।
এই এখানেই এখন
তোমার বসত - বাটি ----
প্রতি রাতে চাঁদের আলো
রেশমী শাল পড়ে উষ্ণ উত্তাপের
স্নিগ্ধতার গানে ঠোঁট নাড়াবে
তখনও কি ভাবনায়
আমি নেই ?
অন্ধকার রহস্যের পাঁজরে জন্ম নেয় যদি
তোমার শিশু ,
চলে যাবে ?
অসম্ভব !
তুমি যে ভালোবাসায় আটকে গেছো
গোপন চোখের চোরাবালিতে ।
ল্যুভেন - লা - ন্যুউভ , বেলজিয়াম
৩০ - ১২ - ০৯ ইং ।।
কাঁচের দেয়ালে সাজানো দৃশ্যাবলী
নয়টা নিতান্ত অবহেলা মিলেমিশে ঝগড়া করছিলো দরজার ওপাশে।
লক্ষী বেড়ালছানার মতো পায়েপায়ে হেঁটে এলো একরাশ ধ্বনি ও শব্দ
ধানমন্ডির লেকে ভেসে বেড়ানো টুকরো চাঁদের আলোরাও
ভীড় জমালো জানালার গ্রীলঘেঁষে।
স্তুপমেঘে রঙতুলির আঁচড় শেষে চোখ ফেরালেন উদাস শিল্পী,
জন্ম নিয়েছে ছবি, একই সাথে মৃত্যু নীল শিল্পীসত্ত্বা।
।।চুপ।।
বলতেই ভেঙে পড়লো আয়নায় সাজানো প্রতিফলন
একঝাঁক রোদের প্রজাপতি ডানা মেলে উড়ে গেলো বৃষ্টির হাত ধরে
ছায়ামাখা বিষাদ গানে মুখরিত হ'লো বনজ কিশোরের চোখ...
আমরা হেঁটেছিলাম বাতাসের বিপরীতে
আমরা হেঁটেছিলাম গন্তব্যহীন
আমাদের পায়ের নীচে সবুজ জমিন ।
আমরা রাখিনি হাত পরস্পরায়
তবু আমরাই ছুঁয়ে দেখি যুগলভাবে---
স্বপ্নহীন জীবন যেখানে থেমে আছে অনেককাল;
কবেকার স্মৃতিতে ।
আমরা কথা বলি,কোন কথাই হয় না তবু
চেয়ে দেখি স্বচ্ছ দিঘীর টলমলে জলে
গলে পড়ে সূর্যের সোনালী রশ্মি ।
তবু আমরা কিছুই দেখি না !
শুধু নীলসবুজ পাখিটা উড়ে গেলে 'পর
দীর্ঘশ্বাস ফেলি আর
চোখের কোণে জমে ওঠা শিশির বিন্দু ছুঁয়ে
দাঁড়িয়ে থাকি তেপান্তরের মাঠে
কি
ছু
ক্ষ
ণ
তারপর ফিরে আসি
"যে জীবন শালিকের,দোয়েলের " তাকে ফেলে
যে যার গন্তব্যে ।
হয়ে উঠি আবার নাগরিক ভারবাহী !
পাঠ করো দিন, পাঠ করো রাত-দুই
সকালে আমার ঘুম ভাঙলেও বালিশটা ঘুমিয়েই থাকে! আমার বালিশের অমরত্ব আছে
বালিশ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ও বেঁচে থাকে আর আমি বেঁচে থেকেও মরে আছি ঠাকুর!
এক ভোরবেলায় বনফুলের মায়ায়, পুড়েছিলাম চৈত্রপারের হাওয়ায়। আর বলেছিলাম 'সমস্ত না পাওয়া নিয়েছি দু'হাত ভরে দেখো হাতে আর জায়গা নেই!' মুখে কোন কথা নেই, আমার সকল কথা পুড়িয়ে পুড়িয়ে ডুবে যায় সূর্য হাত ঘড়িতে!
আমি পাঠ করি দিন; পাঠ করি রাত
দেখি নীল নীল অক্ষরের সন্তরণ
দেখি দৃশ্য থেকে আড়াল হয়ে যাওয়া
দেখিনা কখনও, কিভাবে আড়াল থেকে দৃশ্য হয়ে উঠেছিলে !
আহত বোধ কিংবা স্মরণ
আয়ূধ
হাজার হাজার নরম মাটির ঢেলা ভেঙ্গে শক্ত ইটের বাড়িগুলো বাইরে থেকে শক্ত-ই ভীষণ! ভেতরের পানিটুকু আগুনে পোড়ার পর মাটির আর্দ্রতা শত্রুজ্ঞানে প্রতারক ভাবে ইটের দেয়ালকে। বৃষ্টিভিজে শুকায় গায়ের লোশনমাখা কিংবা পেইন্টেড চামড়া, তরল অনুপ্রবাহ ভেতরের কিছুই নরম করতে পারে না; যদিও পঁচাগলা পানি কোনোমতে হয়তো চুঁইয়ে চুঁইয়ে নষ্ট করে দেয় দেয়ালের কার্যকারিতা।
প্রতারণা
আমি করেছি এক, করিয়েছে বহু ছলনার আকাঙ্ক্ষা, উপাধিতে হয়েছি ভরপুর। ভেতরের গাঁথুনিটুকু অটুট থাকলেও ইঞ্জিনিয়ারের কাছে তা বাতিল। ঘুমন্ত দিনগুলোর কাছে চোখের পানির লবণটুকু সঞ্চিত হয়ে আছে কেবল- অশ্রুটুকু বাস্পীভূত!
বোধি
তুমি অশ্ম হও, তব স্তুতির বিন্যাসে তুমি অংশুমালা !

এক স্নিগ্ধ বিকেল বেলার সতেজ আবেশে তোমাকে খুব করে মনে পড়ছে.. বিশুদ্ধ হিমেল হাওয়ার ঝাপটা যেন কতশত তরীর পাল উড়িয়ে দিয়ে এসে এখন আমার ব্যালকনিতে ঝরে পড়ছে তীব্র আবেগে.. তপ্ত মরুর বুকে অনুতপ্তের গ্লানি টেনে নিয়ে উদাস চিত্তে এদিক সেদিক উদ্ভ্রান্তের মত নিরবিচ্ছিন্ন বিচরণে নির্বিঘ্নে আর্তচিৎকার করে যেতে পারি এখন আমি অনেকটা ক্ষণ ধরে..
একটি প্রেমের কবিতা কষছি
একটি প্রেমের কবিতা কষছি মনে মনে
এমন হবে
যে ভালোবাসা - অন্ধ অথবা আলোকিত নয়
যে আবেগ - প্রকট কিংবা প্রচ্ছন্ন নয়
যে স্বপ্ন - ঘুমিয়ে নয় , জেগে জেগে ও নয়
যে বাস্তবতা - স্বপ্নহীন নয় , কুসুমাস্তীর্ণও নয় ।
আমি সেই প্রেমের কবিতা লিখতে যাচ্ছি
যে প্রেমে - দুই এক এ দুই নয় , এক হয় ।
যে প্রেমের সমীকরন তুমি ছাড়া সিদ্ধ নয়
যে প্রেমের স্বতস্ফূরণ তুমিহীনা সম্ভব নয়
যে প্রেমের অনুসঙ্গে তুমিই পুরো শব্দভান্ডার
সে প্রেমের কবিতা লেখা
আজ আর হলোনা আমার ।
কেন এসেছিলে
বসন্ত তুমি কেন এসেছিলে
কোকিলের কুহু ডাকে ,
মুকুলের ঘ্রাণে , শিমুলের ডালে ,
কাদাজল নদী বাঁকে ।
দাঁড়কাক এক উঠোনের কোনে
সারাদিন কাচ্ছিল আনমনে ।
কোথা থেকে উড়ে এসে হেসে ওঠে
কোকিল ধুরন্ধর ।
ভুলে যায় কাক মানায়না তার
কোকিলের মধুস্বর ।
একাকীত্ব এবং মুখোশ পড়া দুঃখ বিষয়ক
ধুয়ে ফেলি রক্তাভ পাপ, সবুজাভ পূণ্য।
এলোমেলো পদচিহ্ন পড়েছিলো যেই কার্ণিশে, একাকী;
সেখানে ধীরে ধীরে জমে উঠেছে শৈবাল কোরাস,
অশান্ত চড়ুইয়ের দল প্রতিদিন মেতেছে ঐকিক নিয়মের পাটিগণিতে।
সামাজিক বোধের জল থৈথৈ পুকুর
উপচে গেছে অসামাজিক সান্ধ্য আইনের পেয়ালাতে।
ঘুমন্ত নারীর স্বপ্ন
ছড়িয়ে পড়েছে বিচ্ছিন্ন পংক্তিমালায়
বইমেলার ধুলার আভরণ ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে
জড়িয়ে নিয়েছে নির্ভরতার সীসার দেয়াল, বিভ্রান্ত আচরণ।
রঞ্জন রশ্মি ভেদ করে গেলো
প্রথমতঃ কাপড়
তারপরে একে একে
ত্বক
পেশী
অস্থি
মজ্জা।
নিখুঁত ছবি ভেসে উঠলো সীসার দেয়াল ভেদ করে
অদৃশ্য অক্ষিগোলকের স্নায়ু তন্ত্রী জুড়ে।
বসন্তের উদাস হাওয়াসুলভ চপলতায় মসৃণ, ভেসে এলো কাগজের প্লেন
সুখে ও যাপিত জীবনের অন্দর মহল পেরিয়ে।
দুঃখেরা অস্থির, ছটফটিয়ে উঠলো ছদ্ম সিন্দুকের আলিঙ্গনে, হাসির মুখোশ পরে।
তুমিহীন
নিভু নিভু বিকেলের তুমিহীন এক আকাশ জুড়ে
মেঘের হতাশা , কবেকার শুকিয়ে যাওয়া অশ্রু , নীল নীল বেদনায় উড়ে যায় দুরের পাখি ।
তুমিহীন সাঁঝের আঁধার - ঝাপসা স্মৃতির এক ধুলিধূসর প্রেম উপাখ্যান ।
তারার রাত্রি জাগা , অহেতুক প্রলাপ গুনে গুনে রাতচোরা পাখির আহাজারি ।
উদাসী ভোরের প্রাণে বিদায়ী নিশিথ সঙ্গীত
ঝরে যায় শেফালির সাথে ।
তুমিহীন তপ্ত দুপুরে পথহারা পথিকের দীর্ঘশ্বাস , হঠাত্ দমকা হাওয়া কেঁদে ওঠে বৃষ্টি হয়ে ।