ইউজার লগইন
কবিতা
জল ছুঁই ছুঁই
(১)
ডুবে যেতে যেতে যতটুকু ভেসেছি
তার কাছাকাছি ঠিক এসে দাড়ালে,
হাতটিও বাড়ালে,
চেপে চুপে অবশিষ্ট ডুবিয়ে দিতে দিতে বললে,” ভালবাসবি, কখনো আর?”
আমি হাসতে হাসতে ডুবতে ডুবতে বললাম, “ভালবাসি তোমায়” ।
কি বিষ্ময়! তোমার চোখে তখন জল।
(২)
একটু স্থির হই, কাঁদি কখনো
হঠাৎই হাসি, যাই করি।
জল ছুঁই ছুঁই পাড়ে দাড়িয়ে বিষন্ন হই মাঝে মধ্যেই।
এতো কিছু, তারপরও,
তুমি যখন বললে ” তীর্থে যাবো, যাবে ?”
হেসেছি শুধু।
এখন আর আমাদের যেতে নেই।।
আহাজারী
ষ্টেশন রোডের জরাজীর্ণ পথের ধারে
খুপড়ি ঘরে বাস করে
এই দেশের জন্য জীবন বাজী রাখা
লড়াকু, এক পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা।
তক্ত পোষের দুর্গন্ধ রাস্তা পর্যন্ত পৌছায়
নাক সিটকিয়ে পথিক জায়গাটুকু পার হয়।
কেউ অশ্রাব্য গালি দেয় আজন্মা বলে , কেউ হনহনিয়ে চলে
ক্ষুধার তাড়নায় অভুক্ত তখন পঙ্গু যোদ্ধা ।
গতকাল পর্যন্ত মেয়েটাই ছিল সব
কোন দুর্বিত্তের দল উঠিয়ে নিয়ে গেছে তারে
কপালে মৃদু মৃদু ঘাম,ঘুমোট দুর্গন্ধে চারপাশ
শুধায় পথিকের তরে "দেখেছো বাপ মোর জুলেখারে"
কেউ থমকে দাঁড়ায় বিস্ময় নিয়ে , কেউ দ্রুত
পথচলে আপদ ভেবে।
নিঃস্ব মুক্তিযোদ্ধা আহাজারি করে
ষ্টেশন রোডের জরাজীর্ণ পথের ধারে।
ছোটদের নতুন পৃথিবী
ধরে নাও আজ পালটে গেল
এই পৃথিবীর নিয়ম,
ছোটদের আর মারছে না কেউ
বকছে না কেউ তেমন।
শিখছে ওরা হাতের শিল্প
প্রযুক্তি আর কাজ,
করছে যে আয় নিজের মত
হচ্ছে না আর ভার।
পড়ছে এখন নিজের টাকায়
দিচ্ছে না কেউ চাপ,
গবেষণায় শিক্ষা জ্ঞানে
পেরোচ্ছে তার ধাপ।
খুলছে অনেক বাচ্চা চালিত
সাহায্য কমিটি,
বাচ্চা সবাই ভাবনা করে
বানাচ্ছে সমিতি।
শিখছে নিতে দায়িত্ব ভার
বাড়ছে বুদ্ধিবৃত্তি,
দক্ষতা আর কর্মজ্ঞানে
হচ্ছে নতুন সৃষ্টি।
ছোটদের এই মজার জগৎ
কল্পনার এক মূর্তি,
তবুও যদি বাস্তবে আজ
ঘটতো এসব সত্যি?!!
এই শীতে উষ্ণপদ্য
উতল হাওয়া উড়িয়ে নিল কই আমাকে
উতল হাওয়ার আঁচল দোলে
আমারও যে পরাণ জ্বলে
বলি-
তোর আঁচলের খানেক ছায়া দে আমায় দে।
উতল হাওয়া শীতল হাতে দেয় ছুড়ে দেয়
বলে-
খানেক কেন, পুরো আঁচল নে বাবা নে।
প্রেমনির্বাণ
রাত্রীর পাপড়ি একটা একটা করে খুলুক
তোমার মত করে ঘাসফুলের স্পর্শ
ক্রমশ আলো হয়ে যাক রাতের অন্ধকার
একটা একটা করে নিঃসঙ্গতা পালিয়ে
চুম্বনগুলো জমুক একটা একটা করে
রাতজোনাকির ভয়ে আড়ষ্ট হোক তোমার ঠোঁট
হিমালয়ের বরফ জমিয়ে দিক
আর উত্তরের বাতাস ভাসিয়ে দিক তোমায়
আমি দিয়ে দিব তোমায় আমার উষ্ণতা
চুম্বনগুলো জমছে ক্রমশ
আমি আর তুমি ছাড়া কেউ না থাকার দিনে…
প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় আজ দুপুরে মরে গিয়েছিলাম
প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় আজ দুপুরে মরে গিয়েছিলাম।
চামড়াগুলো তেমনভাবে কুঁচকে যায় নি; নখ কিংবা চুলগুলো আরেকটু বেড়েছিল কিনা খেয়াল করি নি তখন
আমার ঘুমিয়ে পড়া দেহটিকে কেউ
উষ্ণতার পরশ দিতে চেয়েছিল কিনা-
জানতে জানতে আসল সময় পেরিয়ে গিয়েছিল;
শুধু আস্তে আস্তে টের পাচ্ছিলাম- গলিত ঠাণ্ডা লাভা জমতে শুরু করেছে ঠিক চামড়ার নিচে-
যেখানে জমা হয় রং ফর্সাকরী ময়েশ্চার ক্রিম।
প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় আজ দুপুরে মরে গিয়েছিলাম-
তখন যদিও হাতের নাগালে তিনটি কবিতা, একটি উপন্যাস এবং কয়েকটি প্রবন্ধের বই ছিল
ওগুলো ছুঁতেও ইচ্ছে করে নি,
মোটা কাপড়ের শাড়িটাকে শুধু গায়ের ওপরে তুলে দিয়েছিলাম।
কবিতার বইয়ের বদলে শাড়ি দিয়ে শীত নিবারণ বিপ্লবীদের শোভা পায় না-
ফলে দুপুরবেলাতেই মরে যেতে হয়েছিল।
প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় আজ দুপুরে মরে যেতে যেতে
সমাজ-রাজনীতি সব বাদ দিয়ে কেবল নিজের সুখটুকুর কথাই মনে হচ্ছিল।
কবিতা : মিথ্যা কবিতা
শীতে কাবু হয়ে আছে চারিদিক। একদম চারিদিক। মাঝে মাঝে মনটা এত খারাপ হয়ে থাকে! কোনো কারণ ছাড়াই। অজস্র চিন্তা ভীড় করে আসে মাথায়। ইচ্ছেই হয় না, সেসবের কোনোটা নিয়ে ভাবতে। খালি পালাই পালাই করতে থাকি। কিন্তু পালিয়ে আসলে যাবো কই? যেখানে যাই, পৃথিবী ধাওয়া করে। সে সবসময় হাতে একটা ইট নিয়ে প্রস্তুত। আমার মাথায় আঘাত করার জন্য। সেটাও কোনো কারণ ছাড়াই।
বন্ধুত্ব একটা দারুণ ব্যপার। ভালো বন্ধুরা আপনাকে কখনো অপ্রস্তুত হতে দেবে না। যদি কোনো কারণে তাদেরকে আপনার জন্য চূড়ান্ত অপ্রস্তুতও হতে হয়, তাও চেষ্টা করবে আপনাকে সেটা কোনোভাবে বুঝতে না দিতে। যদি আপনি কষ্ট পান? তখন যে ওদের আরো কষ্ট হয়। আমার কপালটা খুব ভালো। এমন বন্ধু আমার কোটি কোটি আছে। আছে আসলে দু'একজনই। কিন্তু তারা দু'একজনই কোটি কোটি মানুষের সমান।
তবু ওরা বাঁচতে চায়
ক্ষুধা রোগে শোকে যন্ত্রনা বুকে
অনাহারি কেঁদে মরে ধুকে ধুকে ।
দীনতার সাথে লড়ে যায় অসহায় -
তবু ওরা বাঁচতে চায় ।
সারাটা জীবন খেটে মরে তবু
কাটেনা দুঃখদুর্দশা কভু ।
রক্তপিয়াসী তবু খুন শুষে যায় ,
তবু ওরা বাঁচতে চায় ।
সাগরের নির্মম দেও দানা
বেদনার বালুচরে দেয় হানা ,
সব গ্রাস করে অভিশাপ রেখে যায় -
তবু ওরা বাঁচতে চায় ।
হাহাকারময় মনে সংশয় ।
বিধাতারে স্মরে ব্যাথা পরাজয়
সব ভুলে গিয়ে বুক বাঁধে আশায় -
তবু ওরা বাঁচতে চায় ।
জলাঞ্জলি
আমি ফেলে এসেছি সুদূর অতীতের স্বপ্নভঙ্গ রাতগুলো ।
যখন ক্লান্তির মলিন বুকে নিদ্রাতুর অলস করেছিলো ভর ,
থেকে থেকে মাদকতার তীব্র ঝাপটায় নুয়ে পড়ছিল একাগ্র সচেতন চোখের পাতা ।
জীবন সমস্যার দুঃসাধ্য সমাধান কখনোই হয়না সারা ।
অতিবাস্তবেও উদ্ভ্লান্ত স্বপ্নের হাত ধরে সজ্ঞানে বিপথে চালনা ।
গন্তব্য পিছু টানে বারে বারে , টের পাই , সাড়া দেয়ার সাহস থাকেনা ।
তবু আমি মুক্তির আকাশপথে মেঘ হয়ে উড়েছি ক্ষণকাল
আকাশের সীমানা ছাড়িয়ে যেতে চেয়েছি , পারিনি , মুহূর্তের আঘাতে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়েছি উদ্বাহু ধরণীর বুকে । সেখানে কোমল পলিতে একেবারে মিশে যেতে পারিনি , নদীতেও পাইনি কোনো ঠাঁই ,
শুধু বন্যার সাথে মিলে ভেসে গেছি কোন লোকালয়ে , বহুদূর বয়ে নিয়ে গেছি মাটির নিবিড় কিছু আবর্জনা ।
তবু সে বন্যার তোড়ে হয়তো ধ্বসে গেছে কারো কারো স্বপ্নের চার দেয়াল । তারাও আমার সাথে ভেসে যেতে চেয়েছিল বহুদূর ।
কিন্তু কি লাভ তাতে !
শীতে..[এলোমেলো কাব্যকথন]
শীতের আমেজ গায় জড়িয়ে,
শীতের অপেক্ষাতে..
দিন গুনে দিন,
যায় গড়িয়ে..
শীতে;
অসুখ যত নিত্যি মিতে..
চায় না যেতে ছেড়ে,
যদি বা যায়,
আসে-
আবার ফিরে ফিরে..
শীতে;
আলসেমি-তে পেয়ে বসে,
দিন ভর সব কাজে..
এমন সময় কলেজ-অফিস,
কার না লাগে বাজে..?!
শীতে;
একটু ব্যাথাই লাগে ভীষণ,
চক্ষে আনে জল..
হঠাৎ হাওয়ায় শিউরে উঠা,
এসব কেমন ছল..?!
শীতে;
রাত ভর ঘুম,
লেপের আরাম-
ভাপার ঘ্রাণে ভোর..
শিউলি ঝরা;
শিশির স্নাত ঘাসের মত-
খুনসুটি-তে;
মায়ের মুখে স্নিগ্ধ হাসি,
মিথ্যে বকায় উষ্ণ আদর..
কুয়াশার-ই চাঁদর ঢাকা;
রহস্যময় প্রকৃতি আর
ঝিরঝিরি রোঁদ,
আনন্দের-ই হাওয়া..
টুকরো যত ভালোলাগা,
তাদের তরে-
যন্ত্রণা সব ভোলার সনে,
শীতের-ই পথ চাওয়া..
বন্ধু
বোবা এই বুকে দুখের আগুন জ্বলে ।
যার প্রাণ কাঁদে সেই আগুন নিভাতে ,
দগ্ধ হয় নিজে - বন্ধু বুঝি তারে বলে !
নিঃসঙ্গ স্বপ্নভঙ্গ অন্ধকার রাতে
হাত ধরে সে আলোর পথে নিয়ে চলে ,
সুপ্তি ভেঙে জয়গান শোনায় প্রভাতে ।
তার লাগি রাজি ডুবতে অথই জলে ,
ভয়হীন , অকাতর মরণ আঘাতে ।
হে বন্ধু , জেনো তুমি কখনো একা নও ,
তোমাতে আমাতে কোনো রবেনা বিরহ ;
যত দূরে যাও তবু এ হৃদয়ে রও ,
প্রাণের অটুট বিশ্বাসে নেই সন্দেহ ।
ভুলনা আমায় , যদি চিরসাথী হও
প্রাণে ঠাঁই দিয়ো মোরে নাশ হলে দেহ ।
আগমনী...[এলোমেলো কাব্যকথন]
ঠাণ্ডা
হিম হিম বাতাসে,
কি সুখে মন যে হাসে..
ঝিরঝির মৃদু
হাওয়া,
শুকনো পাতার
উড়ে যাওয়া..
গায়ে কাঁটা
শিহরন,
প্রতিক্ষণ অকারন..
গা ভাসানো;
মন ভরানো,
অপার্থিব এক ঘোর..
মিষ্টি রোদের উষ্ণতাতে,
প্রাণ জুড়ানো ভোর..
আহা;
ক্ত্ত দিনের পর..
শীত বুঝি আজ-
ঘুমের শেষে;
আলসেমিতে দুষ্টু হেসে,
খুললো তার-ই দোর..
[সব্বাইকে আগমনী শীতের শুভেচ্ছা..
]
দূরাগত আশঙ্কা অজানা
উদ্দীপ্ত সূর্যতলে উদ্ভাসিতা
এক চাঁদের বিকিরণ
খাঁজ কাটা লাঙ্গলে
জোয়ার আসে শোণিতে
ঘর্মাক্ত শিহরণ
উজান বেয়ে চলতে থাকে
নদী ঝিকিমিকি
স্নায়ুবিক উত্তরণ দু-কূলে
লাফিয়ে নামে শিশু-বসত
ফসল-ফাল্গুনে কাঁপে গ্রীবা
ছড়ায়িত স্বর্ণালী আঙ্গিনা
আলতা পায়ে বাজে নূপুর
দূরাগত আশঙ্কা অজানা।
জীবন মরণ
ফুরালোনা সাধ যত , ফুরালো সময় ;
যাতনে শান্তির খোঁজে ছলনার সুরে
ফেলে আসা পথে সুখ রয়ে গেল দূরে ।
সমুখে যে মহাকালে হারাবার ভয় ;
জীবন মানে কি এ সহজ পরাজয় !
এজীবন রণ - মানবের হিততরে
জিনতে তারে দৃঢ় আশা রবে অন্তরে -
অপরে অর্পণ করে প্রীতি ও প্রণয় ।
বিধির চরণে দিয়ে আপনাকে সঁপে
সংশয় কাটে তাঁরে করলে স্মরণ ;
অনন্ত সুখের পথ ব্যাথা অভিশাপে
গড়ে সদা নরভক্তি করেন গ্রহণ ।
তাঁরি ডাকে একদিন লয়ে পূণ্যপাপে
যেতে হবে চিরতরে বরিতে মরণ ।
চিরায়ত ঘুম
এখনো অনেক রাত বাঁকি ,
চারিদিকে নিঝ্ঝুম নিরবতা ।
এরই মধ্যে স্বপ্নরাজ্যে পাড়ি জমিয়েছে অনেকেই ।
এদের কারো চোখে সোনালী স্বপ্ন ,
কারো কাছে তা আবার ধূসর বর্ণ ।
কারো কারো চোখে আবার রঙের বালাই নেই -
আছে আঁধার , কেবলই আঁধার ।
কারো কারো ঘুমহীন চোখ রক্তাক্ত লাল
সোনা বা রূপার কাঠি ছোঁয়ায়না কেউ তাদের পায় ।
ওরা নিঃশব্দে পাশ ফিরে বারবার ,
ঘুমোতে চেষ্টা করে - পারেনা ।
কেউ কেউ জেগে থাকে সারা রাত অভুক্ত পেটে
খোলা আকাশের নিচে জ্বলজ্বলে তারা গুনে গুনে ।
ওদের চোখে কোন ঘুম নেই , নেই কোনো স্বপ্নও ;
শুধু আছে দুমুঠো ভাতের স্বপ্নমাখা নীরব চাহনি ।
ওদের বুকফাটা আর্তনাদে
নিশাচর কুকুরগুলো বারবার ডেকে ওঠে ।
তবু ওপর তলার ঘুমন্ত বাবুবিবিদের কানে
সে আওয়াজ কখনো পৌঁছায়না , কখনো পৌঁছাতে পারে না ।
হয়ত এ রাত কেটে যাবে ,
ভোরের আলোতে মৃয়মান তারাগুলোও মিলিয়ে যাবে অচিরেই ;