ইউজার লগইন
কবিতা
শিংগী আপু / তুতুন ভাবী
শিংগী আপুর অনেক শিং,
তুতুন ভাবীর মোটে নাই,
রঙ্গ সভায় যান না ভাবী
পাছে শিংগী মারেন ঘাই ।
আপুর জ্বিবে--- কেউটের বিষ
খিস্তি খেউর অহর্নিশ,
ভাবীর শুধু ফোঁসফাঁস ।
নিত্য নতুন ছূতো করে
আপু সবই দখল করে,
ভাবী একটু নড়ে চড়ে
চেপে রাখেন দীর্ঘশ্বাস ।
আপুর জিদ--- সাতশো বিশ,
ভাবীর ও কিছু কমনা ।
তাইনে তাইনে রেষারেষি,
শীল-নোড়ার ঘষাঘষি,
মরিচ "গণের" প্রাণ নাশি,
বলেন, ' আমরা কিন্তু যম না' ।
কেউ কিন্তু কমনা,
খুণ ছাড়া 'পান' না,
ষোল কুঠি ছাগলের
গোস্ত্- ছাল তো মাগনা ।
অপার্থিব
আমাদের ছুঁয়ে থাকে রুপালী চাঁদ
আমাদের ছুঁয়ে থাকে জোছনার নিঁখুত বুনন,
আবছায়া সুখটুকু -
শুধু ছুঁয়ে থাকে আমাদের।
ছুঁয়ে থাকে লালপেড়ে অধরা বসন্ত
কুয়াশায় ভেজা ভেজা কষ্ট
অদ্ভুত এ আঁধার ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকে
ছুঁয়ে থাকে নিমিত্ত জীবন।
ছুঁয়ে যায় চমকানো মেঘ বিদ্যুৎ
ধমণী ছুঁয়ে শিরায় শিরায়
কি যেন আমাদের শুধু ছুঁয়ে যায়
ছুঁয়ে যায় আমৃত্যু হৃদয়।
আমাদের কেবলই ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকা
প্রাণের সাথে প্রাণ -
পার্থিব এই হাত শুধু একবার
ছুঁতে চায় অপার্থিব তোমায়।
ফুউ!
১| [১৭ জানুয়ারি ২০১১]
চারমিনারটা জ্বলে জ্বলে নি:শেষ হয়ে এলে,
বারুদে মোড়া শলাকা ধরাই সময় পোড়াবো বলে!
২| [৮ আগস্ট ২০১১/১৫ আগস্ট ২০১১]
ছাইদানীতে দুঃখ ঝরিয়ে সুখটান মারি আয়েশে
স্বপ্নের কুণ্ডলিরা পাক খেয়ে খেয়ে ভাসে
স্বপ্নেরা ভাসমান
স্বপ্নেরা অধরা
বুকের পাঁজরে কতক্ষণ আর বন্দী থাকবে ওরা!
যতক্ষণ জলন্ত শিখা ততক্ষণ সাধ
ততক্ষণ বেঁচে থাকার সুতীব্র আহলাদ
ততক্ষণে পুড়ে পুড়ে যায় সুখ
হাড়ে হাড়ে হাড় ততক্ষণে ক্ষয় হয়েছে খুব
হাওয়ার পিঠে সওয়ার ধোঁয়ার বাহন
আঙ্গুলের খাঁজে শেষাংশের অটুট এখনো বন্ধন
বৃত্ত মাঝে পুরে নেই শেষ দহন
আর একবার
এই শেষবার
তারপর•••
ফুউ•••!
স্বপ্নের ঘোরে
শুষ্ক বুকে দারুন খরা মরূদ্যানের মত
পাথরে জল সেচে মেঘমালা প্রানের নব সঞ্চার
দিন রাত অবিরত উম্মাতাল পারাবারের শব্দহীন গর্জন
প্রতীক্ষায় নতুন বীজ বুনি নিরাশার চরে।
ধূলির ঘূর্ণি ভেঙ্গে করে চূড় শিরা উপশিরা
বুকের পাঁজরে বেদনারা খেলা করে উল্লাসিত হয়ে
মস্তিষ্কের নিউরনে অচেনা কষ্টেরা উজ্জীবিত হয় পুনরায়।
রাতের আঁধারে ঘুমের শহরে সপ্নেরা উঁকি মারে
আমবশ্যার শশী বিহিন নিকষ আঁধারে
ডানে বামে হাতড়ে খুঁজি হারিয়ে যাওয়া
প্রিয়তমার উল্লাসিত মুখের কুৎসিত প্রতিচ্ছবি।
(২০.১০.২০১১ রিয়াদ ।সৌদি আরব)
বন্ধু এবং স্বপ্ন মালা
একটা সময় ছিল হাত বাড়ালেই তোর ছোঁয়া পেতাম
কত রাতদিন হাজারো স্বপ্নের বীজ বুনেছি রেলের সেই
পুলেরধারে বসে কিংবা আমাদের গায়ের মেঠো পথে ।
কত রাত কাটিয়েছি নির্ঘুম থেকে পাশাপাশি এক বিছানায়।
হেঁটেছি মাইলের পর মাইল হাতে রেখে হাত,অসহায় আর
দারিদ্রেরপাশে দাঁড়াব বলে চিরদিন।
আজ কোথায় বন্ধু তুই আর কোথায় আমি ।
আজ ও স্বপ্নের বীজ বুনি একাকী কেউ নেই সঙ্গী তোর মতন।
পাড়ার চায়ের দোকানে সস্তা চা সাথে টোস্ট বিস্কুট
আমার অনেক আছে তবে কেন আমি রোজ আসি এখানে,
জানিস শুধু তোর সৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য।আমি
ফুটপাতের চটপটি আর খাইনা বন্ধু ,কারন তুই বারন করতি খুব।
মিছিল মিটিং রাজনীতি তোর প্রিয় ছিল , সাহসী ছিলি
ক্ষমতালোভীর বুলেট কেড়ে নিল তোর প্রান কোন এক মিছিলে।
তোকে হারিয়ে আমার ক্ষত আজ ও শুকায়নি ,কিভাবে শুকাবে
আজো অনেক রক্ত ঝরে রাজপথে,হাজার মায়ের বুক খালি হয়।
স্বপ্নের খোঁয়ারিদোষ
স্বপ্নের খোঁয়ারি ভাঙ্গে একসময়
ভুল হয়ে যায় সুখ সৃতিগুলো
পরতে পরতে জমতে থাকে ধুলো
ইতিহাসের পথে জমতে থাকে নতুন ইতিহাস ।
একসময় থমকে দড়ায় সময়
নৈমিত্তিকটার ঘূর্ণাবর্তে আটকে যায় সব ।
অগণন লাশে ভরে যায় ইতিহাসপাঠ
ডোম ঘরে বসে থাকে শান্তি
অথর্ব আমরা বসে বসে দেখি
ক্রমশ নিজেদের মরে যাওয়া…
ইতিহাস লিখে চলে মৃত্যুর বিজয়গাথা
আমরা মরতেই থাকি ক্রমশ বুদ্ধি বিক্রির যুগে।
একজন মায়াবতীর জন্য
মায়াবতী তোকে দিলাম শূন্যের নৈশব্দ
নির্ঘুম চাঁদ, চন্দ্রসভার মেঘ
তোর সাথে হোক বন্ধন
হিমালয়ের কান্না-পবিত্র জল ছড়িয়ে পড়ুক
তুই ভিজে যা- ভিজুক তোর মন
আজন্ম শোকগুলো ধুয়ে যাক- উড়ুক গাংচিলের ডানায়
ঠাণ্ডা বাতাস লাগুক তোর চোখে
তুই শূন্য হ। জন্মান্তরের পাপ ধুয়ে যাক তোর
আবার জন্ম নে তুই এই জীবনেই
লালসাগুলো ঝলসে উঠুক তোর
তোকে তোর মতোই দেখুক সবাই
তোর মতোই তুই বেঁচে থাক
প্রতিটা অনুভবে মিশে থাক তুই।
এ যে তোরই জীবন।
তুই সুখী হ।
মৃত্যুহীন প্রাণ
১
ছুঁড়ে ফেলে দিই যাবতীয় ধর্ম গ্রন্থ সব
এই প্রথম জ্বালাই আমি আগুন
পশুতে মৃত্যু যদি কাছে আসে আমার
কী লাভ মিটিয়ে খোরাক তবে আত্মার।
২
ঘূর্ণায়মান আত্মা অস্থির হলো
কাতর স্বরে ইদিক ওদিক তাকালো
দূর মুক্ত শূন্যে উড়তে চাইলো
লাগাম টানা পঙ্গুত্ব বাধ সাধলো।
৩
ঝাঁঝালো উত্তরে ধোঁয়াশাচ্ছন্ন হলো সুবেহ সাদিক বেলা
গতর হতে খুলে গেল সব লেবাস
সাদা কালো সূতোলো দাঁড়ি ছুঁচো একেকটা
লুকিয়ে পড়ে এঁটেল মাটির গর্তে
তলোয়ার উঠে শূন্যে “আল্লাহু আকবর”
ভূ-তলে গড়ায় তান্ডব পাশবিক প্রবল
মূহুর্ত উন্মাদিত মানুষ এখনো নিয়ন্ত্রিত পশুর অধীন
কনে দেখা আলোয় দৃশ্য তুমি আঁধার মহাকাল হও লীন।
৪
নিয়ন্ত্রিত ভূমধ্যসাগরে বিস্বাদিত পীত রঙ জল
পায়ে বাঁধা শেকল খুলে
রাঙাহাত হাতকড়া লুটায় পাড়
কবিতা: বিষয়বস্তু মৃত্যু
বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল '৭১-এর নির্বাহী প্রযোজক তানভীর জাহিদ নয়ন, তার বন্ধু জামিল লিপু ও বন্ধুপত্নী আসমা আক্তার হীরা পুকুরে ডুবে মারা গেছেন। সঙ্গে থাকা সুবর্ণা সেঁজুতি টুসি (নয়নের স্ত্রী) বেঁচে গেছেন। কিছুদিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় অপার সম্ভাবনাময় চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ মারা গেলেন। পাশে থাকা স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ বেঁচে রইলেন। এই বেঁচে থাকা মানুষগুলোর কষ্ট অবর্ণনীয়। দেখলে চোখ ভিজে আসে। এই অনুভূতির নাম ভয়। এই অবস্থার নাম, নিজের আশপাশে এমন মত্যুর ছোবল কিভাবে সহ্য করবো- সে ভয়ের আঁকড়ে ধরা।
মৃত্যু কখন কিভাবে কার দরোজায় টোকা দেবে তা আমরা কেউ জানি না। এই একটা ঘটনা মানুষের আশপাশে মহাজাগতিক স্প্ল্যাশ-এর মতো আলোড়ন তৈরি করে। প্রতিনিয়ত সে ফোঁটাগুলো পড়ছে। পৃথিবী নামক পুকুরটিতে। যার দু'চারটা এসে ঝাপটা দিয়ে যায় আমার চোখে-মুখেও। মনে করিয়ে দিয়ে যায়- আজ না হোক, কাল আমিও চলে যাবো এখান থেকে।
এসো হে ভালবাসা
পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ঠাই, দৃষ্টির দূর নীলিমায়
প্রবাহমান সাগরের সীমাহীন উম্মাতাল টেউয়ের দোলা
শীতের বৃষ্টি ধারার মত চুপসে যাওয়া শীতল বাহুতে
কৃষ্ণচূড়ায় লালে রাঙিয়ে খোঁপা, শ্বেত শুভ্র কাশফুলের
ছোঁয়ায় শাড়ীর আঁচল কুড়ায় ধরনীর মৃত্তিকা ।
গোলাপের কলির মত প্রস্ফুটিত জীবন রেখা শ্রাবন
বাঁশরির সুরের খেলায় এপাড়া ওপাড়া ঘুরে বেড়ায়
অনেকটা মুক্ত বিহঙ্গের মত। ক্লান্ত পথিক আমি পথের
পর পথ। মুগ্ধ নয়নে অপলক তাকিয়ে থাকি অন্যরকম
স্নিগ্ধতা নিয়ে , পিরামিডের দেশের নির্বাক মমির মত।
নীলনদ বল কিংবা পদ্মার ঢেউ ভাসিয়ে দিয়েছে
তার অনন্ত স্রোতের ধারায় , শুষ্ক বুকে জেগে উঠে
ভালবাসার সবুজ দূর্বাঘাস। এবার তাকাই নিজের পানে
আর কত অবজ্ঞায় ঠেলে দেব হে ভালোবাসা তোমায়
এস মোর শুষ্ক বুকে হিমেল শীতের উষ্ণতা নিয়ে।
হারাতে হারাতে যতটুকু পেয়েছি, তার শেষও বুঝি আর রাখা গেল না
(ক)
যতীশ কে দেখেছি,
যতটুকু প্রশস্ত তার শরীর
প্রায় কাছাকাছি ঢোলটি নিয়ে চওড়া হাসিতে ভাসতে ভাসতে, ভাসাতে ভাসাতে
উৎসবে রং চড়াতে চলেছে।
এই দিনগুলোয়,
ঢাকের শব্দের রঙধনু মাখাতে মন্ডপে মন্ডপে আমরা যতীশের পাশেই,
যারা বন্ধু ছিলাম, লাড্ডু হাতে মুখ মিষ্টিতে ব্যকুল হতে হতে কখন যে রাত গভীর হয়ে যেতো !
কখনো শুনিনি জাত-অজাত, মুসলিম-হিন্দু,
কাঁধে কাঁধ মিলিযে কাঠের যে শিল্ডটা জিতে এনেছিলাম
এখনো তা সেলফে সাজানো, সাক্ষী দেবে সময়ের,
মাঝে মাঝে ছুঁয়ে দেখি, আনন্দে আত্মহারা হই।
যতীশ, তোর ঘুড়ি উড়ানো দেখে আমি এতটাই মোহিত যে,
ওটাই আমার ধ্যান হয়ে গেল এক সময়,
স্কুল ফাঁকি দিয়ে সুতোয় মান্জা মেরে নেমে পড়তাম
তোকেই বধ করতে।
বধ হতে কখনোই কষ্ট পেতে দেখেনি তোকে,
চুপিসারে হাসি হাসি মুখে লাটাই-সুতো গুটিয়ে ঠিক সরে পড়তি।
তোদের বাড়ীর পশ্টিমে ঢালু জমিটার পাশেই যে বুড়ো কড়ই গাছ শিকড় ছড়িয়ে,
তার উপর বসে কাঁচা আম খাওয়ার ধুম,
মাসিমা ঠিক নুন- মরিচ ডলে দিত, বলতো, নে কাঁচা আমে মাখিয়ে নে।
প্রায়ই মার্বেলের বয়্যামটা বের করে দিব্যি লেগে পড়তাম খেলতে,
ভালবাসাহীন
বুকের পাঁজরের উল্টো পাশে হৃদয় থাকে
মস্তিষ্কের অনুভূতির খোঁচা সেখানে বিঁধে যায় সহজে।
ভালোবাসাহীন অন্য মানুষ সবাই বলে আমায়
শুনি চুপ থাকি হাসি খোলা মনে , ভালবাসা কারে কয়
তারা ক'জনে জানে।আমার ছিল যা তা তো দিয়েছি
উজাড় করে কোন এক চন্দ্রিমা রাতে । যখন চাঁদ
রুপার চাদর বিছিয়ে ছিল ধরণীর বুকে।কেশে ভেসে আসা
বেলী ফুলের মিষ্টি সুভাসে অন্ধ মাতোয়ারা।
রাত দিন ক্লান্তিহীন সেই পথে রোজ ভাসাতাম ভেলা
চক্ষুর আড়াল হলে দগ্ধ আমার হৃদয় খুজে নিত তোমার
মায়াভরা অধরের হাসি। বৃষ্টির জলে কদম ফুল
দিতাম কুড়িয়ে , সহাস্য তোমায় মনে হত স্বর্গের অপ্সরী।
ঝিনুকের মালা গেঁথে হেসে যেতে আনমনে, দিনের শেষ প্রহরে।
গ্রামে কালবৈশাখী ঝড়ে সব তছনচ, বিধবা লাবন্য ঘরহারা
ব্যাস্তসময় আর অসহায়ের আর্ত চিৎকার আমি ছুটে
যাই অসহায় গৃহহারাদের কাছে ।পাশে দাড়াই কাঁচা বাশের
কঞ্চি দিয়ে ঘর বানাই। নববধূর সহাস্য অধর দেখে
তা - সিন
অনুগত সত্ত্বার ক্রন্দন,পরমানু সত্ত্বার ক্রন্দন-
কৃত আওয়াজ,নৃত্যরত আবহাওয়া
তরুমঠ,মেঠো ধুলো ,নোনা সাধের তট
রথ ধরে অবগুন্ঠিত ধারা,পদস্পর্শ তরঙ্গ
চুল,চাতক বেণীর বন্ধন;
ষড়ভঙ্গ চিৎ কলা ও জমিন।
মুক্ত তা-সিন হে পৃষ্ঠ;পাতাবাহারের আহার হয়ে দেখা দিতে দিতে চমৎকার চিৎকার শোনো।
জেনো,দাস আছে দরজার সাথে লেপ্টে
পাহারা প্রহারে বৃষ্টির তাপ
মুশকিল এগুনো;গুন গুন জলসার মুদ্রা
ক্রমাগত সৃষ্টির প্রহ্লাদ
পূর্ব ও পশ্চিম উত্তর দক্ষিণ অপঘাতহীন
ত্যাজ্য জলজকণা কিংবা বাষ্পীয় গতির আড়াল
সে তোমার কন্ঠের লন্ঠন ধ'রে গতিহীন জঙ্গী!
সঙ্গী;সেও বিভাজ্য গনিতের নীলাভ ছোবলে ধ্বংস
হংস ডানার আড়ালে অকৃতদ্বার প্রশান্ত প্রতিমা
বিয়োগ রোগে রাতদিন নিদ্রামগ্ন উঠনে নেমে এলো উলঙ্গ বর্ষা
অমাবশ্যা অমাবশ্যা বেশ্যার ভূষণ লঙ্গন করে খদ্দের সীমানা।
তা,অইরূপ বিক্রত কেচ্ছা শোনো পরের বাগান
শূন্যতা
বারবার গ্রাস করে অস্তিত্বহীনতার এক তমসাচ্ছন্ন বোধ।শামুকের খোলের ভিতর গুটানো মাংসপিন্ডকেই 'আমি' বলে ভ্রম হয়।এক কুয়াশামাখা আধো-অন্ধকার ভোরে আচমকা ভেসে আসা এক ঝলক বেলীর গন্ধে আচ্ছন্ন হতে হতে শূন্যতার কথা প্রবল মনে পড়ে।ডানায় তীব্র হাহাকার ছড়াতে ছড়াতে এক ঝাঁক শুভ্রবলাকা নিঃসীম আকাশের দিকে উড়ে যেতে যেতে বলে যায়--'শূন্যতার রং সাদা, কেবলই সাদা'।
জীবনতো বিনাশী নয়।সে শুধু নিজস্ব ভুল--অমৃত ঢেলেছি বিষের পাত্রে।দীর্ঘ শীতঘুমের পরে জেগে দেখি ঘরে-বাইরে আলো-আঁধারির দোলাচল।ঘরের অন্ধকারের সাথে পাল্লা দেয় জানালার বাইরের বীভৎস কালিমালিপ্ত কুয়াশার চাদর।
এই ধুলোবালি-ভীড়ের শহরে কেউ কারো বন্ধু নয়। এক নিঃসঙ্গ -বিবর্ণতাকে সংগী করে সকলেই নিমগ্ন আপন-কোঠরে।
রূপান্তরের সরল নিয়মে আমিও বদলে গেছি।'মেটাফরমসিস' এর তেলাপোকা।
আমিওতো মুখোশ খোঁজার প্রচন্ড অনুসন্ধিৎসায় মানুষের মুখ ভুলে গেছি।
জীবনের অনেক রঙ
![]()
জীবনে অনেক রঙের ছড়াছড়ি,সারাক্ষণ অভিনয়ে
বেলা হয় পার। কখনও দুষ্ট ছেলে কখনও যুবক
তরুণের পর একদিন পিতা, এরপর মায়ার সংসার
দিনের শেষে হাজারো ক্লান্তি ভরা একরাশ আঁধার।
পাড়ার চায়ের দোকান কিছু বখাটের দখলে
তাকিয়ে দেখি এ সমাজ ডুবে যায় অন্য গোধূলি বেলায়।
নেশার ছোবলে বাঁধা পড়া কিছু তরুন হেঁটে যায়
সভ্য সংস্কৃতি বহু আগেই পালিয়েছে শত লজ্জায়।
ভিনদেশী সভ্যতার চাপে আমি পরাজিত হই
চোখের নোনা জলে ভাসতে দেখি শিষ্টাচার।
তরুনী গুলো হেঁটে চলে উম্মাতাল বুক দুলিয়ে পাড়ায়
সম্ভ্রম লুকানোর বৃথা চেষ্টা করতে নাহি চায় ।
পরিবর্তনের ছোঁয়ায় সয়লাব সব, খালেক এখনো
দিনমজুরি করে সংসার চালায়। আলী কুঁজো পিঠে
আজও মোট বয়ে চলে। নিত্য নতুন গাড়ী হাকিয়ে