আমার নববর্ষ উদযাপন
পৃথিবীর তাবত বাঙালীর মতো আমিও বাংলা দিনপঞ্জিকার ধার ধারি না। তবে কিনা পহেলা বৈশাখ আসলে আর সবার মতো আমার মনেও বসন্তের মৃদু সমীরন বইতে শুরু করে। এইখানে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, ভরা বৈশাখে কেন বাসন্তী সমীরন? এর জন্য মূলত দায়ি গ্লোবাল ওয়ার্মিং। এই গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর যন্ত্রনায় এখন বসন্তে কালবৈশাখী আর বৈশাখে বসন্তের মৃদু হাওয়া। তাছাড়া আমি আবার পত্রিকাতে কবিতা ছাপানোর চেষ্টায় আছি। খবর পেলাম কবিতা টবিতা লিখলে নাকি সমগ্র নারী জাতি ভালবেসে ক্যামেরা উপহার দেয়। তো আমার কবিতার বিষয় আবার বসন্ত। এই বেলা বসন্তের কবিতা লিখে না পাঠাতে পারলে দেখা যাবে আবার বসন্তের সিজন পার হয়ে গেছে। সেই সুবাদে মনে সর্বদাই বসন্তের বায়ু চড়ে আছে।
সে যায় হোক আমরা ধান ভানতে শিব সঙ্গীত না গাই। চারিদিকে বৈশাখের ডামাডোল শুনে মনে প্রথমেই যে প্রশ্ন আসলো এইটা বাংলা কত নাম্বার সন। লজ্জায় কাউকে জিজ্ঞেসও করতে পারি না, সেক্ষেত্রে আমাকে আপামর বাঙালী জাতির কলঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত করার সমূহ সম্ভবনা বিদ্যমান। তাছাড়া যাকে জিজ্ঞাসা করব তারও লজ্জিত হবার ক্ষীণ সম্ভাবনা রয়েছে। আল্লাহ বলেছেন, "তুমি অপরের লজ্জা ঢাকিও, আমিও তোমাদিগের লজ্জা ঢাকিব", একেবারে মোক্ষম ডায়লগ। সুতরাং কোনরকম রিস্ক না নিয়ে গুগল সার্চ মারলাম। ইয়াহু, পাইছি এইটা ১৪১৭ বঙ্গাব্দ।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ছুটি নিয়েছিলাম। বছরের প্রথম দিন কাজ করলে সারা বছর কাজ করা লাগবে। আমি আর কোন কুসংস্কার না মানলেও এইটা খুব মানি। কাজ করতে আমার মোটেও ভাল্লাগে না। আগের দিন রাতে সবেধন নীলমনি একমাত্র পঞ্জাবিখানা ধুয়ে রেখেছিলাম, উদ্দেশ্য ওটা পরিধান করে পরদিন ভোর বেলা উদীচি শিল্পীগোষ্ঠির অনুষ্ঠানে সুন্দরী অবলোকন। পয়লা বৈশাখে ঘুম ভাঙল ভোর বারোটার সময়। উদীচির সুন্দরীরা ততক্ষণে উম্মে গায়েবুন হয়ে গেছে। মনটাই খারাপ হয়ে গেল। আরো মন খারাপ হল নাস্তা করার সময়। কত আশা ছিল পান্তা ইলিশ খাব। কিন্তু ইলিশ মাছ রাঁধতে পারি না বিধায় কর্ণফ্লেকস দিয়ে নাস্তা সারলাম। তারপর বসলাম মিস লংকা নিয়ে। এখানে অনেকেই কোন এক শ্রীলংকান রমনীর সাথে আমার সম্পর্কের কথা ভেবে বসতে পারেন। আমার ফুলের মত চরিত্রে কলঙ্কের কালিমা লেপনের অপচেষ্টা চালানোটাও বিচিত্র নয়। তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, মিস লংকা কোন নারী চরিত্র নয়। ইহা একটি পুরনো দিনের বাংলা সিনেমা। আমার জনৈক বন্ধু আমার বিশেষ অনুরোধে সমগ্র ঢাকা চষে বেড়িয়ে উক্ত সিনেমা খুঁজে বের করেছে। মিস লংকা অবলোকনের পর দেখি খাবার সময় হয়ে গেছে। নিদারুণ আলস্যে রান্না না করে পাউরুটি দিয়ে দুপুরের খাওয়া সারলাম। আমার বিছানার চাদর, বালিশের কভার, লেপের জামা, জানালার পর্দা ইত্যাদি বারো বচ্ছর ধোয়া হয়নি। ওগুলো লন্ড্রীতে নিয়ে গেলে লন্ড্রিওয়ালি আমাকে আজীবনের জন্য স্থায়ীভাবে বয়কট করতে পারে ভয়ে সব কিছু ডাস্ট বিনে ফেলে নতুন জিনিস লাগালাম। বছরের শুরুতে সব কিছু নতুন না হলে ভাল দেখায় না।
এই আর কি। ১লা বৈশাখ আমার একলা একলাই কাটলো।





আর কটাদিন সবুর করো রসুন বুনেছি , কবতেটা মনে আছে না বৎস ?
শুভ নববর্ষ
আর কত সবুর করিব
একলা না কাটলে আর কিয়ের ১লা বৈশাখ
বছরের প্রথম দিন পাউরুটি আর কর্ণফ্লেক্স খাইলেন ... এখন সারা বছর এই শুকনা খাবার গলা দিয়া ক্যাম্নে নামাবেন?
কি করিব? সবই কপাল
মানুর ১ লা বৈশাখ। ভাবলাম মিস লংকা রে পাইছ। একটা ছ্যাকা কাহিনঅ জানা যাবে। হলো না। আফসোস।
সবাইরে নিজের মত ভাবাটা ঠিক না
আরে! এইখানে আমি কেন? আমি তো ছ্যাঁকা খাই নাই।
আর তুসি যে বছরের প্রথম দিন পাউরুটি খাইলা, সারাবছর তো তাই খাইতে হইব। দ্রুত ব্যবস্থা কর। তুমি তো আবার কবি।
মানু, মন খারাপ করবেন না। সব নতুন বছর একদিন পুরনো হয়ে শেষ হয়ে যায়। সবই ভ্রান্ত ধারমা
এইটাতো আমিও জানি। কিন্তুক মন যে মানে না
মন খারাপের কিছু নাই, আবার পহেলা বৈশাখ আসবে , আবার মিস লংকা খুজবেন, না পাইলে কাচা লংকা চিবায়ে খাইবেন ।
বুড়া হইয়া গেলাম, আর কবে?
ভালোই কাটাইছেন কইতে হইবে ...
ভালো লাগলো... মজার লেখা
ধন্যবাদ
১লা বৈশাখ আমারও একলা একলাই কাটলো।
আহারে
মন্তব্য করুন