শ্রেষ্ঠত্তের দাবীদার ধর্মে নয় , কর্মে !
সামার শুরু হলেই নিউইয়র্কে শুরু হয় বিভিন্ন দেশের প্যারেড। আর এই প্যারেডগুলি বেশিরভাগ হয় ম্যানহাটানের ফিফথ এভিনিউতে। ফিফথ এভিনিউ হল ম্যানহাটানের সবচেয়ে দামী জায়গা। সবাই পারমিশন পায়না এখানে প্যারেড করার, শুধু প্রভাবশালী দেশগুলির প্যারেড দেখি এই এভিনিউতে।
আগে থেকে জানতাম না, জানলে আর গাড়ি চালিয়ে আজ ম্যানহাটানে না এসে বাসে ট্রেইনে আসতাম। ব্রীজ পার হয়ে শহরে ঢুকতেই অনেক বেশি বিশেষ পুলিশের উপস্থিতি দেখে ভাবলাম আবার কোথাও কোন সন্ত্রাসী হামলা হোলো কিনা !অমন কিছু হলেই পুরো শহর জুড়ে পুলিশি ততপরতা অনেক বেশি দেখা যায়। আমি যেই রুট ধরে সব সময় যাই, সেই সাইড রোডগুলি সব ব্লক করে রাখা, গাড়ি ঘুরিয়ে দিচ্ছে। মহা ঝামেলায় পড়লাম ! ভয়ে ভয়ে গাড়ির কাঁচ নামিয়ে পুলিশকে জিজ্ঞেস করলাম কেন রাস্তা বন্ধ, আবার কিছু হইসে নাকি? পুলিশটা হেসে উত্তর দিল, না কিছু হয় নাই , কিন্তু আজ "ইস্রায়েল ডে প্যারেড" হবে ফিফথ এভিনিউতে , আর তাই পুরো শহর জুড়ে ওদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা।
প্যারেড নিয়ে নয়, লিখতে চাই এই দেশে ইহুদীদের ক্ষমতা ,প্রভাব , ধর্মপালন ইত্যাদি নিয়ে যত টুকু আমি দেখেছি , জেনেছি খুব কাছ থেকে ওদের দেখে।
জার্মানির হলোকাস্টের পর অনেকেই ধারনা করেছিল এই ধর্মাবলম্বী মানুষেরা মনে হয় আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না, শেষ হয়ে যাবে ওরা বিভিন্ন দেশে শরনার্থী হয়ে থেকে। বৃটিশরা ওদের আলাদা দেশ করে দিলেও ওরা শরনার্থী হয়ে যেসব দেশে আবাসন নিলো সেখানেই ওদের শক্ত অর্থনৈতিক ভিত গড়ে তুললো। ইহুদীদের মত এত বিচক্ষন আর দুরদৃষ্টিসম্পর্ন মানুষ আর হয়না।
অর্থই সব কিছুর মুলে , তার সাথে প্রয়োজন শিক্ষা , আর এই দুইটাতেই ওরা সবচেয়ে এগিয়ে আছে অন্যদের তুলনায়।
সমগ্র আমেরিকায় ওদের জনসংখ্যা ৬ মিলিয়নের কিছু বেশি, মুসলমানদের সংখ্যাও এমনি। কিন্তু অর্থ বিত্ত, শিক্ষা, রাজনীতি, বিচক্ষনতায় মুসলমানরা ওদের ধারে কাছেও নাই।সমান পরিমান ভোটের মালিক হয়েও মুসলমানেরা নিজেদের স্বার্থপরতা আর ঠেলাঠেলির কারণে এই দেশের রাজনিতিতে বিন্দুমাত্র যায়গা করে নিতে পারে নাই , অন্যদিকে ইলেকশনের সময় আসলেই যত বড় রাজনিতিবিদ ই হোক না কেন ইহুদীদের সাথে তাল মিলিয়ে ওদের দাবী দাওয়া আদায়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওদের ইলেকশনে জয়ি হতে হয় , নইলেই ভরাডুবি।আজ আমেরিকার অর্থনিতি, রাজনিতী ইহুদীদের হাতে বন্দী। সব মহলেই ওদের প্রভাব এত বেশি যে ওদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে এই দেশের প্রেসিডেন্ট ও কিছু করতে পারেনা। আর তাইতো আরব বিশ্বের মুসলমান রা এত অর্থের মালিক হয়েও শুধুমাত্র নিজেদের ক্ষমতা, রাজতন্ত্র, ভোগ আর লালসা টিকিয়ে রাখার জন্য আমেরিকাকে অনেক বড় চাঁদা দেয় , আর তার বিনিময়ে মুস্লিম বিশ্বের জন্য কিছু ই আদায় করতে পারেনা। আর এজন্য আমি মোটেও দুঃখ পাইনা, কারণ আমি জানি মুসলমানরা এমনি স্বার্থপর আর বেঈমান, বরং বাহবা দেই ইহুদীদের বুদ্ধিমত্তা আর বিচক্ষনতাকে।
এই দেশে একটা কথা চালু আছে, "যদি জটিল রোগের কোন রোগীকে বাঁচাবার ইচ্ছা থাকে তাহলে ইহুদী ডাক্তারের কাছে যেতে হবে, আর যদি কেঊ মানুষ খুন করে বাঁচার কথা চিন্তা করে তাহলে ইহুদী লইয়ারের কাছে যেতে হবে।" কথাটা কিন্তু শুধুই প্রবাদ নয়, এটাই বাস্তব, কারণ সব ভাল ডাক্তার, শিক্ষক, উকিল তাদের বেশিরভাগ ই ইহুদী।
ইহুদীরা খুব সঙ্ঘবদ্ধ। ওরা অনেক দূর দৃষ্টি সম্পর্ন। ওদের ব্যবসাইক বুদ্ধি এতই প্রখর যে ওরা বুঝতে পারে কোথায় লাভ হবে আর কোথায় হবেনা। ওরা কখনই ছোট খাট কাজ করেনা, সব বড় প্রথিষ্ঠান গুলির কর্নধার হয় ওরাই। সব বড় রিয়েল এস্টেট এর মালিক ওরা। সব ভাল কলেজ ইউনিভার্সিটি, হস্পিটাল ওদের তৈরি এবং ওদের ডোনেশনে চলে। সব বড় টি,ভি চ্যানেল, মুভিস্টার, গায়ক গায়িকার ম্যানেজমেন্ট ওদের হাতে। আমেরিকার রাজনিতিতে ওরা যায়গা করে নিয়েছে, অনেক সিনেটর, কংগ্রেস ম্যান, গভর্নর, মেয়র ওদের। সব কিছুতেই ওরা। এবং এই জাতি একদিন সারা পৃথিবী কন্ট্রোল করবে, সেটা হয়ত আর বেশি দূরে নয়।
আমি কখনোই ধর্ম নিয়ে কথা বলতে চাইনা। আর আমি মুসলমান হলেও অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি কখনই বিদ্বেষ পোষন করিনা। যা কিছু ভাল আর সত্যি সেটা বলতে আমি দ্বিধা করিনা। কাছ থেকে দেখে ওদের সাথে মিশে, ব্যবসা করে ওদের ভাল করে জানার সুযোগ পেয়েছি। দেখেছি ওরা যেমন কৃপন আবার তেমনি দানশীল। এই দেশে এসে জানলাম সব বড় স্কুল কলেজ, ইউনিভার্সিটি, ভাল হাসপাতাল, পাব্লিক লাইব্রেরি, সব ওদের তৈরি। এসব দেখলে কেন ওদের প্রতি শ্রদ্ধা আসবেনা? আরো একটা কথা না উল্লেখ করলেই নয়, ওদের সাথে কাজ করলে ওরা যদি জানে আপনি নামায পড়েন, রোযা রাখেন, সেটা ওরা সন্মান করে এবং আপনাকে আপনার ধর্ম পালন করার সময় দিবে। এসব ব্যাপারে ওরা খুব ভাল।
নিজেদের ধর্ম পালনের ব্যাপারে ওরা খুব সিরিয়াস। ওরা এতই প্রভাবশালি যে ওদের সব বড় ধর্মিয় দিন গুলি সরকারি ছুটি হিসাবে পালন করা হয় এবং সেই দিন গুলিতে ওদের সব বড় ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে।
ইহুদিরা সাধারনত নিজের ধর্মের বাইরে বিয়ে করেনা। এই দেশের সাদা কালো সব মানুষ মনে মনে ওদের ঘৃনা করে কিন্তু মুখে কিছুই বলতে পারেনা কারণ ওদের ভিত অনেক শক্ত, বরং ওদের সবাই হুজুর হুজুর করে চলে। আর আরবের তেল প্রধান মুসলিম দেশগুলি'র এত পয়সা থাকা সত্তেও এখানে মুসলমান দের কোন শক্ত ভিত নাই। যেমন কর্ম তেমন ফল।





হুম!
এই ইহুদীদের কাছে তীহ্ প্রান্তরে আল্লাহ্ সোব্হানাতায়ালা মান্না ও সালোয়া নামক খাদ্য পাঠাতেন। কিন্তু তাদের ইচ্ছায় ও নাফরমানীর দরুন আল্লাহ্ তায়ালা এ বরকত তাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন।
শ্রেষ্ঠত্তের দাবীদার ধর্মে নয় , কর্মে @ ফেরাও বা দ্বিতীয় রামোসিস কর্মে শ্রেষ্ঠ থাকার পরও আল্লাহ্ তায়ালা মুসা(আঃ) কে কেন বিজয়ী করলেন?
রূপকথা দিয়ে জীবন চলে না মিয়া ভাই ........... মুসার নিজের হেডমতো ছিলো না তাই আল্লাহ্কে নিজের নাক বাচানোর জন্য ইনভলব হইতে হইছে, আর কি? আকামের মানুষ না হলে নবীগিরি করা ছাড়া আর কোন কাজ ছিলো না, মুসা বাবুনগরীর?
আপনি যে ইহুদিদের এত প্রশংসা করছেন। তাদের নবী কিন্তু মুসা (আঃ)।
মুসা (আঃ) কবে থেকে বাবু নগরী হলেন। আপনার নাম দেখে তো বুজার উপায় নেই আপনি কোন ধর্মের বা ধর্মে আদৌ বিশবাসী কি না?
আমার ধর্ম হলো মানবতা। নাম এমন ভাবে সিলেক্ট করছি যাতে বুঝতে না পারে কেউ, নইলেতো কল্লা নিয়ে নিবে
বেলজিয়ামের তথা ইউরোপের হীরার ব্যবসা পুরোটাই তাদের দখলে। বড়ো ব্যবসা সব তাদের। আর মুসলমানরা বেশির ভাগই ওয়েলফেয়ার মানি আর চুরি চামাড়ি ব্যবসায় আছেন। ইহুদিদের পরে আছে চায়নীজরা তারপর ভারতীয়রা। কারণ তাদের কেউই মুসলমান নন ............
যেমন কর্ম তেমন ফল।
আরবরা তেমন কিছু করে না। তারপরও তারা এত আরাম আয়েসে থাকে কেমনে?
আপাতত তেল আর গরীব শ্রমিকদের ঠকিয়ে খাচ্ছে তবে ভবিষ্যত ভবিষ্যতেই দেখা যাবে
জানিনা কেন, আমি আরবদের সহ্য করতে পারিনা। ধর্মীয় কারণে নয়। ওদের দেখলেই আমার মনে হয় ওরা খুব বর্বর আর অমানুষ। কাউকে আঘাত করে থাকলে ক্ষমা করবেন।
ইয়েস, একটা কারন খঁজে পেয়েছি, ওরা আমাদের মিস্কিন বলে ডাকে, তাই হয়ত।
মন্তব্য করুন