ইউজার লগইন

বন্ধু

আমার লেখার বয়স হাতে গোনা যায়। বলা যায় মাত্র কয়দিন আগে ফেসবুকে রাসেল এর একটা লেখা পড়ে ওই লিঙ্ক থেকে এই ব্লগে আমার প্রবেশ। এর আগে সত্যি বলতে আমি আর কোন ব্লগ কখনো পড়ি নাই, লেখা তো দুরের কথা। এই ব্লগের সুন্দর মনের মানুষদের অদ্ভুত সব লেখা পড়ে শুধু মুগ্ধ নই, নিজেও কিছু লেখার সাহস পেলাম। যদিও খুব ভাল করে জানি আমার লেখা কিছুই হয়না, তবুও যখন কেউ সেটা পড়ে সুন্দর মন্তব্য করেন অদ্ভুত ভাল লাগে , অনেকটা ছেলের হাতে লাঠিওয়ালা চকোলেট দিলে যেমন খুশি হয় ঠিক তেমন। সত্যি !

যতই ব্যস্ত থাকি মোবাইল দিয়ে হলেও যখন তখন লগিন করে দেখি নতুন কে কি লিখল, নিমিশে পড়ে ফেলি। ভাল লাগে। রাসেল, আরাফাত শান্ত, তানভীরা, আহসান হাবীব, বিষন্ন বাউন্ডুলে আরো কতজন , কি অদ্ভুত সব সুন্দর বিষয় নিয়ে লিখেন, পড়ি , মুগ্ধ হইআর নিজে কিছু লেখার সাহস খুঁজি। অনেক ভুল ভাল লিখি। সবাই ক্ষমা করবেন প্লিজ।

আরাফাত শান্ত'র কয়দিন আগে বন্ধুদের নিয়ে লেখাটা পড়ে নিজের অনেক মধুর স্মৃতির কথা মনে পড়ে যায়। ইচ্ছা করছে লিখতে। কিন্তু সমস্যা হল যা কিছু লিখার জন্য মনে মনে ঠিক করি, লিখার সময় অনেক কিছুই আর মনে আসেনা, তাই গুছিয়ে ধারাবাহিক ভাবে লিখা হয়না। পোস্ট করার পর মনে হয় আহারে ওই কথাটা কেন লিখলাম না !

আমার লেখার একজন নিয়মিত পাঠক হল আমার জানের দোস্ত হামিদ। কিছু লিখেই ভাইবারে ওকে জিজ্ঞেস করি, পড়েছিস? কেমন হল? হামিদ কখনো বলে মোটামুটি, কখনো বলে হুম এই টাইপের উত্তর, মানে হইলো বেশি ভাল হয় নাই। হামিদকে দিয়েই শুরু করি। একসাথে নটরডেম কলেজে পড়লেও ভিন্ন সেকশনে ছিলাম , তেমন সখ্যতা হয় নাই।কলেজের অল্প সময় আর ছোট পরিসর থেকে ঢাকা ভার্সিটিতে ঢোকার পর যেন বিশাল সমুদ্রে পড়লাম। আমাদের ক্লাসে ছাত্র ছিল শ'এর উপর। বিভিন্ন কলেজের, বিভিন্ন জেলার সব মানুষ, সবাই আলাদা দল বেঁধে বসে, চলে। তখন নটরডেম থেকে আসা মুখ চেনা খুঁজে পেলাম পাঁচজন। আর আমরা ওই পাঁচজন একসাথে চলা আরম্ভ করলাম। আমাদের দলের নাম ও দিলাম " ফাইভ কিউজ"। আমরা ইন্রাজক

কাওকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছিলাম না , ভাবটা এমন যে আমরা ঢাকার সেরা কলেজ থেকে আসা, ভাল ইংরাজি জানি, ইংরাজিতে নোট করি, লিখি। এটা আবার অনেকের ইর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ালো, বিশেষ করে ঢাকা কলেজের ছেলেরা আমাদের দেখতে পারতো না। তখন ও হলে যাই নাই। মগবাজারে বাসা, ওখান থেকেই এসে ক্লাস করি, ক্লাসের পর যখন বাকীরা আজাইরা আড্ডাবাজি, রাজনীতি এসব করে আমরা তখন লাইব্রেরীতে যাই, নোট লিখি, শাহবাগে গিয়ে মৌলিতে স্যান্ডুইচ আর কফি খাই।

হামিদ থাকতো লাল বাগে। পুরনো আমলের বিশাল বাড়ি, অনেকটা রাজবাড়ির মত। প্রায় ক্লাস শেষে , ছুটির দিনে আমাদের আড্ডা হত হামিদের বাসায়। পুরান ঢাকায় থাকলেও হামিদের বাসায় ঢাকাইয়া চাল চলন বা ভাব কোনটাই ছিল না, বরং উলটা। ওরা শুদ্ধ কথা বলতো। ভিন্ন ধরনের মজার সব খাবার বানাতেন খালাম্মা। খালু ছিলেন খুব ই বন্ধু ভাবাপন্ন। সব সময় আমাদের সাথে কথা বলতেন, গল্প করতেন আর খালাম্মা পাঠাতেন ট্রে ভর্তি করে দুনিয়ার সব মজার খাবার যা আমি নিজের বাসা দূরে থাক , অন্য কোথায় ও জীবনে খাই নাই এর আগে। ওদের ছিল বাড়ির আঙ্গিনাতেই বোতামের ব্যবসা। হামিদ বাড়ির বড় ছেলে। কাজেই ওর সুযোগ সুবিধাও অনেক বেশি ছিল। পকেটে সব সময় ভাল টাকা পয়সা থাকতো, আর থাকতো বেন্সন এর প্যাকেট।
হামিদ তখন ই বেশ মোটা সোটা আর মুরুব্বিদের মত গম্ভীর ভাব নিয়ে চলতো। আর তখন থেকেই ওকে আমি আব্বা বলে ডাকতাম, আজ অবধি তাই ডাকি। পরবর্তিতে হামিদ আমার বিয়ের উকিল হইসিলো আর তাই ওর আব্বা খেতাব পার্মানেন্ট হয়ে গেলো আমার কাছে।

বাকিদের মধ্যে ছিল খোকা, আলি, আর শফিক। খোকা তখুনি এতই মোটা ছিল ওকে আমরা মামু বলে ডাকতাম সেটা ওর বাসায় ও সবাই জানতো, কারণ ওর বাসায় ফোন করে মুখ ফস্কে যদি জিজ্ঞেস করতাম মামু বাসায় আছে কিনা, ওরা খোকাকে ডেকে দিতো। তেজতরি বাজারের ছেলে মামু'র বাপ ছিল কন্ট্রাক্টর। অনেক বাড়িঘর ছিল ওদের। মামু অনেক গুলির ভাড়া কালেকশন করতো, আমাদের চাইনিজ খাবার আর বিদেশি পানীয়'র খরচ ওর উপর দিয়েই চলত প্রায় সময়।

তারপর ছিল আলি। মালিবাগের ছেলে। ফটোস্ট্যাট আর কনফেকশনারীর ব্যবসা ওদের পরিবারের। আমাদের সব নোট বিনে পয়সায় কপি করা আর ঠান্ডা কোক, কেক, আর ইগলু আইস্ক্রিম খেতে পয়সা লাগতো না। আহ কি শান্তি!

শফিক ছিল খিলগাঁও'র ছেলে। সব সময় ছেলে মানুষী করতো। খেলা ধুলার খুব ঝোঁক ছিল। ওকে

আমরা আন্ডার এইজ ডাকতাম।

সবশেষে আমি। মগবাজারের ছেলে। ঘরে মা নেই। দশ নম্বর সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা গেসিলেন আমাকে ৭ বছরের রেখে। বাসায় অনেক মানুষ। ভাইবোন, তার অপর চাচাতো ভাইয়েরাও ছিল। কাজেই ভার্সিতির মজা পাবার পর আর বাসায় ফিরতেও মন চাইতো না। প্রায় সময় মামু'র বাসায় ওর আলাদা ঘরে সারা রাত আড্ডা মেরে ঘুমিয়ে আবার সকালে ক্লাসে চলে যেতাম। খুব সামান্য হাত খরচ পেতাম যা আমার রিক্সা ভাড়ার পর সিগারেট কেনার পয়সাও হত না। বাসার বাজারের খরচ থেকে হাত সাফাই, বোনদের লুকানো তহবিল থেকে পটিয়ে ধার নেয়া যা কোন দিন শোধ হয় নাই, এভাবেই চলত।

তারপর এক সময় বাবাকে সাত পাঁচ বুঝিয়ে একদিন ব্যাগ গুছিয়ে আমি সুর্যসেন হলে এসে উঠলাম। ততদিনে হলে থাকা অনেকের সাথেই ভাল বন্ধুত্ব হয়ে গেছে, যদিও মাত্র কিছুদিন আগেই হলের ছেলেরা ঢাকা কলেজের ছেলেদের সাথে দল পাকিয়ে আমাদের আলাদা ভাব সাবের জন্য আমাদেরকে মাইর দেয়ার প্ল্যান করতেসিলো। যাইহোক, আমি হলে চলে আসায় আর মাইর খাইতে হয় নাই। উলটা আমাদের সবার আড্ডার প্রান কেন্দ্র হয়ে হয়ে সুর্যসেন হলের ৩১৬ নম্বর রুম।

চলবে।

পোস্টটি ৫ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

টুটুল's picture


আরে আপনেতো অনেক ভালো লেখেন...

ব্লগ হইলো নিজের ডাইরি... যার যা ইচ্ছা... কিছুটা শালীনতার মাঝে উপস্থাপন... আর কিছু না Smile

আমরা আমরাইতো... ধুমাইয়া লেইখা যান Smile

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


ভাল লাগলো, চলুক জীবনের গল্প...

আহসান হাবীব's picture


ভাইয়া রাসেল, আরাফাত শান্ত, তানভীরা, আহসান হাবীব, বিষন্ন বাউন্ডুলে আরো কতজন , কি অদ্ভুত সব সুন্দর বিষয় নিয়ে লিখেন, পড়ি , মুগ্ধ হইআর নিজে কিছু লেখার সাহস খুঁজি। অনেক ভুল ভাল লিখি। সবাই ক্ষমা করবেন প্লিজ।@
আমার নামটা দেখে কেমন ভাল লাগতে পারে আপনিই বুজেন। আমরা বন্ধু আমরা লেখব ভুল ভাল হবে। তানবীরা আপু আছে না শুধরিয়ে দিবে।
মামু কাকু আমাদের ও আছে। তবে আব্বাটা আপনার নতুন সংযোজন। ভাল লাগল।

তানবীরা's picture


আপনারতো বন্ধু ভাগ্য খুবই ভালো। খানা - পিনার কোন সমস্যাই নাই Tongue Big smile

টোকাই's picture


আসোলেও তাই Party

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.